San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভালোবাসা পেলে
    যেতে পাই না আসতে পাই নাকাঁপন লাগে তাইচুল্লীর কাছে গত গ্রীষ্মেরগল্প বলতে যাই...... নেহাৎ কিছুই নেই এখন, না তাতে আক্ষেপ করছি না। বরং জানি এই না-থাকাটা অনেক জরুরী। একটা কাদার তাল, একটা সাদা পাতা, বেশ একটা মিনিট চল্লিশের নির্ঝঞ্ঝাট অবকাশের তুলনা কমই আছে। কিছু ...
  • সুমনা এবং...
    চার বছরের শিশুর সহপাঠীর উপর ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। খবরটা শুনে বারবার মনে হচ্ছিলো ক্লাস ফোর হলেও ব্যাপারটা কি বিশ্বাস করতে পারা যায়!ছোটবেলা থেকে প্রচুর অল্পবয়সে পেছোনপাকা ছেলে দেখেছি। কামড়ে দেওয়া, জামাকাপড় টেনে খুলে দেওয়া, অনুসন্ধিৎসু হয়ে ...
  • বেশ্যাদ্বার
    বেশ্যাদ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)প্রসেনজিৎ বসু"কেন !? কেন এখন সমুদ্রলঙ্ঘন আর সম্ভব নয় ঋক্ষরাজ ?" রাম ও হনুমানের যৌথ প্রশ্নে জাম্বুবান বলতে শুরু করেন -- "প্রভু রঘুবীর ! অবধান করুন। দেবীপূজার লগ্ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আপনার বিজয়কামনায় দেবগণও নিজ-নিজ লোকে ...
  • লড়িয়ে দেবেন না, প্লিজ
    পদ্মাবতী ডিবেটের সূত্রে একটা কথা চার পাশে শোনা যাচ্ছে, যে এ সব পদ্মাবতী ইত্যাদি দেশের আসল ইস্যু নয়। এই মুহূর্তে দিল্লির কৃষক বিক্ষোভটাই দেশের সমস্যা, সেখান থেকে নজর ঘোরাতেই রাষ্ট্র ও মিডিয়া পদ্মাবতীর মত উল্টোপাল্টা ফিল্মি ইস্যু বানানোর কারসাজি করছে। আমি ...
  • আজকের নাটক -পদ্মাবতী
    পরের পর নাটক আসতেই থাকে আজকাল। গল্প সাধারণ, একটা জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠ অংশের অহংকে সুড়সুড়ি দেওয়া প্লট। তাদের বোঝান যে বাকিরা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা লুঠতরাজ করে তোমাদের লাট করে দিয়েছিল, আজই সময় হয়েছে বদলা নিয়ে নাও, নয়ত কাল আবার ওরা তোমাদের শেষ করে দেবে। এই নাটক ...
  • বেশ্যাদ্বার
    বেশ্যাদ্বার (প্রথম পর্ব)প্রসেনজিৎ বসুরামচন্দ্র দুর্গাপুজো করছেন। রাবণবধের জন্য। বানরসেনা নানা জায়গা থেকে পুজোর বিপুল সামগ্রী জোগাড় করে এনেছে। রঘুবীর পুজো শুরু করেছেন। ষষ্ঠীর বোধন হয়ে গেছে। চলছে সপ্তমীর মহাস্নান। দেবীস্বরূপা সুসজ্জিতা নবপত্রিকাকে একেকটি ...
  • অন্য পদ্মাবতী
    রাজা দেবপালের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে রানা রতন সিংয়ের পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ রাজপুরীতে পঁহুছানোমাত্র সমগ্র চিতোরনগরীতে যেন অন্ধকার নামিয়া আসিল। হায়, এক্ষণে কে চিতোরের গরিমা রক্ষা করিবে? কেই বা চিতোরমহিষী পদ্মাবতীকে শত্রুর কলুষ স্পর্শ হইতে বাঁচাইবে? ...
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...

পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

San Gita


মাতৃদেবীকে পুঁটিরাণী বিলক্ষণ বুঝিয়া চলে। প্রবল ব্যাক্তিত্বময়ী এবং সর্বকর্মনিপুণা মাতৃদেবী পুঁটিকে বেশ চাপে ফেলিয়া দেন যখন তখন। মাতার অভিযোগ মিথ্যা নহে- ফাঁকিবাজ পুঁটিরাণী কী প্রকারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইত বা একাধিক দপ্তরে কী প্রকারে তাহার কর্মসংস্থান হইল, এই সবের ব্যাখ্যা আজও মাতার যুক্তিবুদ্ধির বাহিরে। এখন পরিণত বয়সেও পুঁটি সাংসারিক কর্মে নিতান্তই অপটু, সন্তানাদি মানুষ করায় তাহার অদক্ষতার সীমাপরিসীমা নাই, তাহার ঘরদোর ছবির মত একেবারেই নহে, তাহার দ্বাদশবর্ষীয় পুত্র মাতার চক্ষুর দিকে চাহিয়া পরবর্তী কার্যকলাপ পরিকল্পনা করা দূরস্থান, তুড়ি মারিয়া নিজ মাতার সিদ্ধান্ত উড়াইয়া দেয়, পুঁটিরাণী নিরুপায় হইয়া কাঁদিতে বসে, পুঁটির পরিচারিকাগণ মন্দ নহে, তবে তাহারা যাহা পারে করে, পুঁটি তাহার নাতিউচ্চ নাসিকা উহাদের কার্যে গলাইতে যায় না, যাহা পাইতেছে তাহাতেই সে মহা সন্তুষ্ট, যে সময় পুত্র ও পরিবারের পিছনে ব্যয় করিলে সোনার সংসার হইতে পারিত, সেই মূল্যবান সময় পুঁটি নিজের খামখেয়ালীপনায় অপচয় করে, পুত্র উচ্ছন্নে যাইতে বসিয়াছে, পুঁটি অপ্রয়োজনীয় বস্তুসামগ্রী, খাদ্যদ্রব্য এবং পরিধেয় কিনিয়া বাড়ি বোঝাই করিতেছে, অথচ সেগুলির কোনরূপ যত্ন নাই, শীর্ণকায় পুত্রকে নানারূপ সুস্বাদু রান্না করিয়া খাওয়ায় না, একবাক্যে কী করিয়া যে পুঁটি অর্থহীন দিনাতিপাত করিতেছে, তাহা ভাবিলে মাতার রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হইয়া পড়ে, পুঁটি তাঁহার আত্মজা কিনা ঘোর সন্দেহ হইতে থাকে।

মাতা নিজকন্যার গুণপনার কাহিনী কন্যাসহ চারিপার্শ্বের কাহাকেও বলিতে কার্পণ্য করেন নাই কোনদিন, তথাপি পুঁটি অবিচল, মাতার জামাতা সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা, পুঁটির শ্বশ্রূমাতা মোটের উপর সন্তুষ্ট। তদুপরি, মাতার বাক্যের উত্তরে অর্বাচীন, উদ্ধত পুঁটি বলিয়া থাকে যে, থালা-চামচ গুণিয়া-গাঁথিয়া রাখিবার জন্য তাহার জন্ম হয় নাই, শ্বশ্রূমাতা বধূর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং শ্বশ্রূমাতার পুত্র পুঁটিকে আরো অধিক দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করিতে উৎসাহ দিয়া থাকে বলিয়া শোনা যায়। দেখিয়া শুনিয়া মাতার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাইল, ইহাই ঘোর কলিকালের লক্ষণ!

পুঁটির পক্ষে একমাত্র স্বস্তি এই যে, পিতা অকারণেই চিরকাল কন্যাগর্বে মহা গর্বিত এবং মাতার মতে, পিতা জগৎসংসারে পুঁটি অপেক্ষা অধিকতর অচল। প্রত্যহ মাতার নিকট তাঁহার অপটুতা নবনবরূপে ধরা দিতেছে। ফলতঃ, পিতাকে লইয়া মাতা এতই ব্যতিব্যস্ত যে চক্ষুর অন্তরালে থাকিয়া পুঁটি যে আরো কত বিশৃংখল হইল, নিয়মিত সেই সন্ধান লওয়া তাঁহার পক্ষে সম্ভব হইয়া উঠে না।

অপরদিকে, পুঁটি শ্বশ্রূমাতার বেজায় ভক্ত হইয়া উঠিয়াছে, মাতার নিকট কোন এক সময় কথাপ্রসঙ্গে বলিয়াছে যে, শ্বশ্রূমাতা তাহার জীবনচর্যায় কোন অভিযোগ তোলেন না, তাহার সকল চপলতায় প্রবল প্রশ্রয় দেন, বিপণী হইতে প্রত্যাবর্তনের কালে পুঁটির হস্তে রাশিকৃত সম্ভার দেখিয়া ভ্রূকুঞ্চন তো করেনই না, কী পরিমাণ অর্থনাশ হইল, জানিতে চান না পর্যন্ত! শুনিয়া মাতা অভিমানী হইয়া পড়িলেন- তাঁহার মনে হইল যে, পুঁটি মাতৃস্নেহের অবশেষে এই প্রতিদান দিল, মাতার কার্যে এখন সে খুঁৎ দেখিতে পায়, শ্বশ্রূমাতার স্নেহে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করিয়া নিজমাতাকে পর করিতে চায়। হায়!! পুঁটি এই বিশ্লেষণের কিছুই জানিল না! মাতা স্থির করিলেন যে, তিনি কন্যার প্রতি কর্তব্য অবশ্যই করিবেন, কিন্তু তাহার কোন কার্যে আর বিচলিত হইবেন না, কন্যার নিকট কোন কিছুর মূল্য জানিতে চাইবেন না। নূতন গৃহক্রয়ের কালে মাতা সর্বপ্রকার সাহায্য করিলেও গৃহের মূল্য জানিতে চাহিলেন না, নানা ব্যস্ততায় তাহা পুঁটির নজর এড়াইয়া গেল। কিন্তু গোল একটা বাঁধিল। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন কেহ কেহ মাতার নিকট নূতন গৃহের মূল্য কীরূপ জানিতে চাহিলে মাতা বলিতে পারিলেন না এবং জানিয়াও বলিতেছেন না এই অভিযোগে অভিযুক্ত হইলেন। মাতা ক্ষুণ্ন হইলেন বৈকি!

আশার কথা এই যে, গৃহসন্ধানহেতু পুঁটির একা একা নগরের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত চষিয়া বেড়ানো, এমনকি প্রয়োজনে মধ্যস্থ ব্যক্তিবর্গের দ্বিচক্রযানে চড়িয়া বসিয়া দৌড়াদৌড়ি দেখিয়া মাতার সেই পুরাতন সন্দেহের কিঞ্চিৎ নিরসন হইয়াছে। তবে মাতার ধারণা, নূতন গৃহে থাকিবার কালে পুঁটি "সংসার" কথাটির অর্থ সম্যক বুঝিবে। কার্যকালে দেখা গেল, তাঁহার ধারণাই সত্য। পুঁটি পরপর বাড়ির দলিল, একখানি বারোহাজারী চেক ও নিজ প্যানকার্ড হারাইল ও সেই কাঁদুনিতে চারিপার্শ্বের লোককে অস্থির করিয়া তুলিল। নিজ ভবিষ্যৎবাণী মিলিলেও মাতা কন্যার দুরবস্থায় অনেক চেষ্টা করিয়াও খুশী হইতে পারিলেন না। কী করিয়া পুনরায় সেগুলি পাওয়া যায়, তাহা লইয়া বিস্তর জলঘোলার পর একে একে তাহারা গৃহে স্ব-স্ব-স্থানে পুনরাবিস্কৃত হইল। পুঁটি নিজেই চমৎকৃত হইয়া গেল। সকলে কহিল, পুঁটি বড়ই কর্মনিপুণা, তাহারা পূর্বেই জানিতেন যে, উহার কিছু হারাইতেই পারে না। মাতা মনের রাগ মনে চাপিয়া চুপ করিয়া রহিলেন।

আজকাল মাতা আর কন্যার কুকীর্তির সংবাদ পান না, নিশ্চয় কন্যা জামাতাকে টিপুনি দিয়া রাখিয়াছে! জামাতা বাবাজীবন ভাল ছেলে, তবে কিনা সাংসারিক কার্যে পুঁটিরই কাছাকাছি। কাজেই স্ত্রীকে তিরস্কারও খুব একটা করিতে পারে না। সময় পাইলেই গোঁজামিলের সংসারে তালা লাগাইয়া বাক্স-প্যাঁটরা বাঁধিয়া পুঁটি অ্যান্ড কোং ঘুরিতে বাহির হইয়া পড়ে, পুত্রের ভবিষ্যৎচিন্তা বা টাকাপয়সার চিন্তা উহাদের বিন্দুমাত্র আছে বলিয়া মনে হয় না। আবার কিছু ছানাপোনা যোগাড় করিয়া নাটক ইত্যাদি করানোতেও পুঁটির প্রবল আগ্রহ!! ঘরের খাইয়া বনের মোষ তাড়ানো আর কাহাকে বলে!

সম্প্রতি মাতার কানে আসিয়াছে, পুঁটির 'কাব্য'রোগ দেখা দিয়াছে। সময় পাইলেই এখন সে দুই-চার ছত্র লিখিয়া নেয়। বাল্যকাল হইতে এযাবৎকালের নানা স্মৃতির উপর রঙ চড়াইয়া সে যা লেখে, কিছুসংখ্যক বন্ধু তাহাদের অবসরকালে নাকি সেগুলি পড়িয়াও থাকে। কর্মক্ষেত্রের সকল কার্য সমাধা করিয়া যতটুকু সময় উদ্বৃত্ত হয়, তাহা যে সংসার এবং পুত্রের জন্য অপ্রতুল, তাহা জানিয়াও পুঁটি কি ভ্রমবশতঃ এই সকল উঞ্ছবৃত্তিতে মাতিয়া আছে, তাহা মাতার পরিণত মস্তিষ্কের পক্ষেও বোঝা দুঃসাধ্য! মাতা মনে মনে কন্যার মুন্ডপাত করিতে করিতে পুঁটির মুখমন্ডলে রোমের সম্রাট নীরোর ছবি দেখিতে পান, আর আপনারা, পাঠককুল? কী দেখেন আপনারা?

©sangitaghoshdastidar


Avatar: কান্তি

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

এই রচনা পাঠান্তে আমি একান্ত ভাবে কামনা করিতেছি, পুঁটির উদ্যত কলম হইতে আরো, আরো এইরূপ রক্ত পলাশ ঝরিয়া পড়ুক।
Avatar: a

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

সাধু সাধু বলে ঠিক পরিত্রিপ্তি হয় না, বলতে ইচ্ছা করে নাজুক
Avatar: avi

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

ক্যাবাত, এনকোর, নাজুক, সোনার কীবোর্ড, মেডেল দেব, তনখা বঢ় জায়েগা তুমহারি, সাধু সাধু।
Avatar: সিকি

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

তুললাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন