San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

San Gita


মাতৃদেবীকে পুঁটিরাণী বিলক্ষণ বুঝিয়া চলে। প্রবল ব্যাক্তিত্বময়ী এবং সর্বকর্মনিপুণা মাতৃদেবী পুঁটিকে বেশ চাপে ফেলিয়া দেন যখন তখন। মাতার অভিযোগ মিথ্যা নহে- ফাঁকিবাজ পুঁটিরাণী কী প্রকারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইত বা একাধিক দপ্তরে কী প্রকারে তাহার কর্মসংস্থান হইল, এই সবের ব্যাখ্যা আজও মাতার যুক্তিবুদ্ধির বাহিরে। এখন পরিণত বয়সেও পুঁটি সাংসারিক কর্মে নিতান্তই অপটু, সন্তানাদি মানুষ করায় তাহার অদক্ষতার সীমাপরিসীমা নাই, তাহার ঘরদোর ছবির মত একেবারেই নহে, তাহার দ্বাদশবর্ষীয় পুত্র মাতার চক্ষুর দিকে চাহিয়া পরবর্তী কার্যকলাপ পরিকল্পনা করা দূরস্থান, তুড়ি মারিয়া নিজ মাতার সিদ্ধান্ত উড়াইয়া দেয়, পুঁটিরাণী নিরুপায় হইয়া কাঁদিতে বসে, পুঁটির পরিচারিকাগণ মন্দ নহে, তবে তাহারা যাহা পারে করে, পুঁটি তাহার নাতিউচ্চ নাসিকা উহাদের কার্যে গলাইতে যায় না, যাহা পাইতেছে তাহাতেই সে মহা সন্তুষ্ট, যে সময় পুত্র ও পরিবারের পিছনে ব্যয় করিলে সোনার সংসার হইতে পারিত, সেই মূল্যবান সময় পুঁটি নিজের খামখেয়ালীপনায় অপচয় করে, পুত্র উচ্ছন্নে যাইতে বসিয়াছে, পুঁটি অপ্রয়োজনীয় বস্তুসামগ্রী, খাদ্যদ্রব্য এবং পরিধেয় কিনিয়া বাড়ি বোঝাই করিতেছে, অথচ সেগুলির কোনরূপ যত্ন নাই, শীর্ণকায় পুত্রকে নানারূপ সুস্বাদু রান্না করিয়া খাওয়ায় না, একবাক্যে কী করিয়া যে পুঁটি অর্থহীন দিনাতিপাত করিতেছে, তাহা ভাবিলে মাতার রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হইয়া পড়ে, পুঁটি তাঁহার আত্মজা কিনা ঘোর সন্দেহ হইতে থাকে।

মাতা নিজকন্যার গুণপনার কাহিনী কন্যাসহ চারিপার্শ্বের কাহাকেও বলিতে কার্পণ্য করেন নাই কোনদিন, তথাপি পুঁটি অবিচল, মাতার জামাতা সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা, পুঁটির শ্বশ্রূমাতা মোটের উপর সন্তুষ্ট। তদুপরি, মাতার বাক্যের উত্তরে অর্বাচীন, উদ্ধত পুঁটি বলিয়া থাকে যে, থালা-চামচ গুণিয়া-গাঁথিয়া রাখিবার জন্য তাহার জন্ম হয় নাই, শ্বশ্রূমাতা বধূর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং শ্বশ্রূমাতার পুত্র পুঁটিকে আরো অধিক দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করিতে উৎসাহ দিয়া থাকে বলিয়া শোনা যায়। দেখিয়া শুনিয়া মাতার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাইল, ইহাই ঘোর কলিকালের লক্ষণ!

পুঁটির পক্ষে একমাত্র স্বস্তি এই যে, পিতা অকারণেই চিরকাল কন্যাগর্বে মহা গর্বিত এবং মাতার মতে, পিতা জগৎসংসারে পুঁটি অপেক্ষা অধিকতর অচল। প্রত্যহ মাতার নিকট তাঁহার অপটুতা নবনবরূপে ধরা দিতেছে। ফলতঃ, পিতাকে লইয়া মাতা এতই ব্যতিব্যস্ত যে চক্ষুর অন্তরালে থাকিয়া পুঁটি যে আরো কত বিশৃংখল হইল, নিয়মিত সেই সন্ধান লওয়া তাঁহার পক্ষে সম্ভব হইয়া উঠে না।

অপরদিকে, পুঁটি শ্বশ্রূমাতার বেজায় ভক্ত হইয়া উঠিয়াছে, মাতার নিকট কোন এক সময় কথাপ্রসঙ্গে বলিয়াছে যে, শ্বশ্রূমাতা তাহার জীবনচর্যায় কোন অভিযোগ তোলেন না, তাহার সকল চপলতায় প্রবল প্রশ্রয় দেন, বিপণী হইতে প্রত্যাবর্তনের কালে পুঁটির হস্তে রাশিকৃত সম্ভার দেখিয়া ভ্রূকুঞ্চন তো করেনই না, কী পরিমাণ অর্থনাশ হইল, জানিতে চান না পর্যন্ত! শুনিয়া মাতা অভিমানী হইয়া পড়িলেন- তাঁহার মনে হইল যে, পুঁটি মাতৃস্নেহের অবশেষে এই প্রতিদান দিল, মাতার কার্যে এখন সে খুঁৎ দেখিতে পায়, শ্বশ্রূমাতার স্নেহে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করিয়া নিজমাতাকে পর করিতে চায়। হায়!! পুঁটি এই বিশ্লেষণের কিছুই জানিল না! মাতা স্থির করিলেন যে, তিনি কন্যার প্রতি কর্তব্য অবশ্যই করিবেন, কিন্তু তাহার কোন কার্যে আর বিচলিত হইবেন না, কন্যার নিকট কোন কিছুর মূল্য জানিতে চাইবেন না। নূতন গৃহক্রয়ের কালে মাতা সর্বপ্রকার সাহায্য করিলেও গৃহের মূল্য জানিতে চাহিলেন না, নানা ব্যস্ততায় তাহা পুঁটির নজর এড়াইয়া গেল। কিন্তু গোল একটা বাঁধিল। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন কেহ কেহ মাতার নিকট নূতন গৃহের মূল্য কীরূপ জানিতে চাহিলে মাতা বলিতে পারিলেন না এবং জানিয়াও বলিতেছেন না এই অভিযোগে অভিযুক্ত হইলেন। মাতা ক্ষুণ্ন হইলেন বৈকি!

আশার কথা এই যে, গৃহসন্ধানহেতু পুঁটির একা একা নগরের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত চষিয়া বেড়ানো, এমনকি প্রয়োজনে মধ্যস্থ ব্যক্তিবর্গের দ্বিচক্রযানে চড়িয়া বসিয়া দৌড়াদৌড়ি দেখিয়া মাতার সেই পুরাতন সন্দেহের কিঞ্চিৎ নিরসন হইয়াছে। তবে মাতার ধারণা, নূতন গৃহে থাকিবার কালে পুঁটি "সংসার" কথাটির অর্থ সম্যক বুঝিবে। কার্যকালে দেখা গেল, তাঁহার ধারণাই সত্য। পুঁটি পরপর বাড়ির দলিল, একখানি বারোহাজারী চেক ও নিজ প্যানকার্ড হারাইল ও সেই কাঁদুনিতে চারিপার্শ্বের লোককে অস্থির করিয়া তুলিল। নিজ ভবিষ্যৎবাণী মিলিলেও মাতা কন্যার দুরবস্থায় অনেক চেষ্টা করিয়াও খুশী হইতে পারিলেন না। কী করিয়া পুনরায় সেগুলি পাওয়া যায়, তাহা লইয়া বিস্তর জলঘোলার পর একে একে তাহারা গৃহে স্ব-স্ব-স্থানে পুনরাবিস্কৃত হইল। পুঁটি নিজেই চমৎকৃত হইয়া গেল। সকলে কহিল, পুঁটি বড়ই কর্মনিপুণা, তাহারা পূর্বেই জানিতেন যে, উহার কিছু হারাইতেই পারে না। মাতা মনের রাগ মনে চাপিয়া চুপ করিয়া রহিলেন।

আজকাল মাতা আর কন্যার কুকীর্তির সংবাদ পান না, নিশ্চয় কন্যা জামাতাকে টিপুনি দিয়া রাখিয়াছে! জামাতা বাবাজীবন ভাল ছেলে, তবে কিনা সাংসারিক কার্যে পুঁটিরই কাছাকাছি। কাজেই স্ত্রীকে তিরস্কারও খুব একটা করিতে পারে না। সময় পাইলেই গোঁজামিলের সংসারে তালা লাগাইয়া বাক্স-প্যাঁটরা বাঁধিয়া পুঁটি অ্যান্ড কোং ঘুরিতে বাহির হইয়া পড়ে, পুত্রের ভবিষ্যৎচিন্তা বা টাকাপয়সার চিন্তা উহাদের বিন্দুমাত্র আছে বলিয়া মনে হয় না। আবার কিছু ছানাপোনা যোগাড় করিয়া নাটক ইত্যাদি করানোতেও পুঁটির প্রবল আগ্রহ!! ঘরের খাইয়া বনের মোষ তাড়ানো আর কাহাকে বলে!

সম্প্রতি মাতার কানে আসিয়াছে, পুঁটির 'কাব্য'রোগ দেখা দিয়াছে। সময় পাইলেই এখন সে দুই-চার ছত্র লিখিয়া নেয়। বাল্যকাল হইতে এযাবৎকালের নানা স্মৃতির উপর রঙ চড়াইয়া সে যা লেখে, কিছুসংখ্যক বন্ধু তাহাদের অবসরকালে নাকি সেগুলি পড়িয়াও থাকে। কর্মক্ষেত্রের সকল কার্য সমাধা করিয়া যতটুকু সময় উদ্বৃত্ত হয়, তাহা যে সংসার এবং পুত্রের জন্য অপ্রতুল, তাহা জানিয়াও পুঁটি কি ভ্রমবশতঃ এই সকল উঞ্ছবৃত্তিতে মাতিয়া আছে, তাহা মাতার পরিণত মস্তিষ্কের পক্ষেও বোঝা দুঃসাধ্য! মাতা মনে মনে কন্যার মুন্ডপাত করিতে করিতে পুঁটির মুখমন্ডলে রোমের সম্রাট নীরোর ছবি দেখিতে পান, আর আপনারা, পাঠককুল? কী দেখেন আপনারা?

©sangitaghoshdastidar


Avatar: কান্তি

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

এই রচনা পাঠান্তে আমি একান্ত ভাবে কামনা করিতেছি, পুঁটির উদ্যত কলম হইতে আরো, আরো এইরূপ রক্ত পলাশ ঝরিয়া পড়ুক।
Avatar: a

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

সাধু সাধু বলে ঠিক পরিত্রিপ্তি হয় না, বলতে ইচ্ছা করে নাজুক
Avatar: avi

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

ক্যাবাত, এনকোর, নাজুক, সোনার কীবোর্ড, মেডেল দেব, তনখা বঢ় জায়েগা তুমহারি, সাধু সাধু।
Avatar: সিকি

Re: পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ

তুললাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন