Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................
  • ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা
    ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, ...
  • সতী
    সতী : প্রথম পর্বপ্রসেনজিৎ বসুমেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ট্রিনিটি

Sarit Chatterjee

ট্রিনিটি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো।

একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত মাঠ। দূরে গগনচুম্বী পর্বতমালা। মাঝে গিরিখাতে বয়ে চলা সর্পিল সুললিত পয়স্বিনী।

হাতপা ছড়িয়ে বসেছিল সিড, মানে আমাদের সিদ্ধার্থ। পিকুদার কথাগুলো শুনে পুরোনো সেই বুক ধড়ফড় আবার শুরু হয়ে গেছে।
পিকুদা, একটা স্ট্রবেরি আইসক্রিমের কাপ থেকে একচামচ মুখে দিয়ে আয়েসে চোখ বন্ধ করে বললেন, কোনটা বুঝলি না?
: ওই যে বললে না, আগে সব কামনা বাসনা পরিপূর্ণরূপে মেটাতে হবে, তারপরই মোক্ষলাভ সম্ভব।
: ভুলটা কী বলেছি? শালা রাজার ব্যাটা ছিলিস, জম্ম থেকে চব্বচোষ্যলেহ্যপেয় ধ্বংস করে তারপর লুম্বিনী থেকে পালিয়ে গিয়ে সাধু হয়ে গেলি। সবাইকে বলে বেড়ালি, সবই মায়া! মায়ার অর্থ দুঃখ, আর তাই সব ছেড়েথুয়ে লিভ লাইক আ হার্মিট! ব্যাটা হামবাগ!
: আর তুমি যেটা বলছ, সেটা ঠিক? সারাজীবন শুধু খাও দাও আর বগল বাজাও?
: অফ কোর্স! দেখগে যা আজও সবাই তাই করছে। তবে তোর মতো নেতা হতে পারিনি, সেটা সত্যি।
: তবে! আজও আমার কত্ত ফলোয়ার! এ'পিকু'রাসকে আজ ক'জন মনে রেখেছে?

আইসক্রিমের কাপটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে প্রাচীন গ্রিকভাষায় কিছুক্ষণ বিড়বিড় করলেন এপিকিউরাস। তারপর হঠাৎ খ্যা খ্যা করে হেসে বলে উঠলেন, তা' সত্যি বলেছিস। আজকাল ফলোয়ারের সংখ্যাই হলো গিয়ে শেষ কথা। তবে তোর একখান কম্পিটিটর আছে। প্রচুর ফলোয়ার!
: কে! মহম্মদ?
: নাহ! ও তো আল্লার রিপ্রেজেন্টেটিভ। যীশুও তাই। আরেকজন আছে।
: কে?
: দাঁড়া, ডাকছি। রবিন! ও ভাই রবিন!

সাঁ করে একটা তির উড়ে এসে আইসক্রিমের কাপটায় লাগল। দীর্ঘ চেহারার এক যুবক ধনুকহাতে বাঁপাশের ফুলে ভরা পলাশগাছটার আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। কাপটা তুলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে তিরটা তূণীরে ফেরত রাখতে রাখতে পিকুদার দিকে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে সে বলল, কতবার বলেছি খুড়ো যেখানে সেখানে নোংরা ফেলবে না! ডাকো ক্যান?
: থাকতিস তো জঙ্গলে! অত দেমাক কিসের রে? তা তথা, একে চেনো?
: না তো!
: চিনে রাখো! পৃথিবীর প্রথম বামপন্থী। দ্য ফার্স্ট কমিউনিস্ট!
: কই, নাম শুনিনি তো! এর এতো ফলোয়ার?
: শুনেছ শুনেছ, বুঝতে পারোনি। শেরউড জঙ্গলে থাকত। বেসিকালি ডাকাতি করত। তবে বড়লোকদের থেকে ঝেড়ে গরীবদের বিলিয়ে দিত। কী, তাই তো, রবিন?

রবিন হুড জবাব দিল না। ততক্ষণে সে তার আইফোন সেভেনে ফেসবুক দেখতে ব্যস্ত। এত এত নোটিফিকেশান! উফ্! পাগল করে দেয় এরা!

২৬০৫২০১৭

2 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন