Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জবা ফুল গাছ সংশ্লিষ্ট গল্প
    সেদিন সন্ধ্যায় দেখলাম একটা লোক গেইটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। বয়স আনুমানিক পঞ্চাশের উপরে। মাথায় পাকা চুল, পরনে সাধারণ পোষাক। আমার দিকে চোখ পড়তেই লোকটি এগিয়ে এলো।আমি বারান্দায় ছিলাম। নেমে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কাকে চাচ্ছেন?লোকটি নরম কন্ঠে বলল, আমি আপনাদের কয়েক ...
  • আবার কাঠুয়া
    ধর্ষণের মামলায় ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের মুখ বন্ধ খাম পেশ করা হল আদালতে। একটা বেশ বড় খাম। তাতে থাকার কথা চারটে ছোট ছোট খামে খুন হয়ে যাওয়া মেয়েটির চুলের নমুনা। ঘটনাস্থল থেকে সিট ওই নমুনাগুলো সংগ্রহ করেছিল। সেগুলোর ডি এন এ পরীক্ষাও করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ...
  • ওই মালতীলতা দোলে
    ২আহাদে আহমদ হইলমানুষে সাঁই জন্ম নিললালন মহা ফ্যারে পড়ল সিরাজ সাঁইজির অন্ত না পাওয়ায়।এক মনে জমিতে লাঙল দিচ্ছিল আলিম সেখ। দুটি জবরজঙ্গী কালো মোষ আর লোহার লাঙল। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। আজকাল আর কেউ কাঠের লাঙল ব্যবহার করে না। তার অনেক দাম। একটু দূরে আলিম সেখের ...
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ট্রিনিটি

Sarit Chatterjee

ট্রিনিটি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো।

একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত মাঠ। দূরে গগনচুম্বী পর্বতমালা। মাঝে গিরিখাতে বয়ে চলা সর্পিল সুললিত পয়স্বিনী।

হাতপা ছড়িয়ে বসেছিল সিড, মানে আমাদের সিদ্ধার্থ। পিকুদার কথাগুলো শুনে পুরোনো সেই বুক ধড়ফড় আবার শুরু হয়ে গেছে।
পিকুদা, একটা স্ট্রবেরি আইসক্রিমের কাপ থেকে একচামচ মুখে দিয়ে আয়েসে চোখ বন্ধ করে বললেন, কোনটা বুঝলি না?
: ওই যে বললে না, আগে সব কামনা বাসনা পরিপূর্ণরূপে মেটাতে হবে, তারপরই মোক্ষলাভ সম্ভব।
: ভুলটা কী বলেছি? শালা রাজার ব্যাটা ছিলিস, জম্ম থেকে চব্বচোষ্যলেহ্যপেয় ধ্বংস করে তারপর লুম্বিনী থেকে পালিয়ে গিয়ে সাধু হয়ে গেলি। সবাইকে বলে বেড়ালি, সবই মায়া! মায়ার অর্থ দুঃখ, আর তাই সব ছেড়েথুয়ে লিভ লাইক আ হার্মিট! ব্যাটা হামবাগ!
: আর তুমি যেটা বলছ, সেটা ঠিক? সারাজীবন শুধু খাও দাও আর বগল বাজাও?
: অফ কোর্স! দেখগে যা আজও সবাই তাই করছে। তবে তোর মতো নেতা হতে পারিনি, সেটা সত্যি।
: তবে! আজও আমার কত্ত ফলোয়ার! এ'পিকু'রাসকে আজ ক'জন মনে রেখেছে?

আইসক্রিমের কাপটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে প্রাচীন গ্রিকভাষায় কিছুক্ষণ বিড়বিড় করলেন এপিকিউরাস। তারপর হঠাৎ খ্যা খ্যা করে হেসে বলে উঠলেন, তা' সত্যি বলেছিস। আজকাল ফলোয়ারের সংখ্যাই হলো গিয়ে শেষ কথা। তবে তোর একখান কম্পিটিটর আছে। প্রচুর ফলোয়ার!
: কে! মহম্মদ?
: নাহ! ও তো আল্লার রিপ্রেজেন্টেটিভ। যীশুও তাই। আরেকজন আছে।
: কে?
: দাঁড়া, ডাকছি। রবিন! ও ভাই রবিন!

সাঁ করে একটা তির উড়ে এসে আইসক্রিমের কাপটায় লাগল। দীর্ঘ চেহারার এক যুবক ধনুকহাতে বাঁপাশের ফুলে ভরা পলাশগাছটার আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। কাপটা তুলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে তিরটা তূণীরে ফেরত রাখতে রাখতে পিকুদার দিকে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে সে বলল, কতবার বলেছি খুড়ো যেখানে সেখানে নোংরা ফেলবে না! ডাকো ক্যান?
: থাকতিস তো জঙ্গলে! অত দেমাক কিসের রে? তা তথা, একে চেনো?
: না তো!
: চিনে রাখো! পৃথিবীর প্রথম বামপন্থী। দ্য ফার্স্ট কমিউনিস্ট!
: কই, নাম শুনিনি তো! এর এতো ফলোয়ার?
: শুনেছ শুনেছ, বুঝতে পারোনি। শেরউড জঙ্গলে থাকত। বেসিকালি ডাকাতি করত। তবে বড়লোকদের থেকে ঝেড়ে গরীবদের বিলিয়ে দিত। কী, তাই তো, রবিন?

রবিন হুড জবাব দিল না। ততক্ষণে সে তার আইফোন সেভেনে ফেসবুক দেখতে ব্যস্ত। এত এত নোটিফিকেশান! উফ্! পাগল করে দেয় এরা!

২৬০৫২০১৭

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন