রাণা আলম RSS feed

রাণা আলম এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

এবং আফস্পা...

রাণা আলম

(লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)

২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫৩ জন মহিলাকে বারংবার ধর্ষন করে ভারতীয় সৈন্যবাহিনী।অনেকের মতে ধর্ষিতের সংখ্যাটা ১০০ ছাড়াবে। একটা গ্রাম পুরো ধ্বংস হয়ে যায়।
অভিযুক্তদের কোনো বিচার হয়নি কারণ ওখানে আফস্পা জারী ছিল। কিছুদিন আগে কুপওয়াড়া জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার দীর্ঘ নীরবতা ভেঙ্গে জানিয়েছেন যে তাকে সেময় হুমকি দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি মুখ না খোলেন।
২০০৪ সালে মণিপুরে থাংজম মনোরমা দেবী নামের ৩২ বছরের এক মহিলাকে আসাম রাইফেলসের সৈন্যরা তুলে নিয়ে যায়।ধর্ষণ ও অত্যাচারের পর তাকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি।কারণ ওখানে আফস্পা জারী ছিল।
আফস্পা জিনিসটা ঠিক কি,মানে বেগুন ভাজায় লাগে নাকি শীতে ত্বক ভালো রাখে তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় আছে।অতএব মূল বক্তব্যে আসার আগে এট্টু হিস্টরি বকে নিই।
১৯৫১ সাল নাগাদ নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল স্বাধীন নাগাল্যান্ডের পক্ষে দাবী তোলে।১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনও তারা বয়কট করে।সরকারী স্কুল কলেজ অফিস বয়কট শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পার্বত্য এলাকায় আসাম রাইফেলস কে মোতায়েন করা হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল সমান্তরাল সরকার গঠন করে। আর্মিকে বাড়তি ক্ষমতা দিতে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদের আমলে The Armed Forces (Assam and Manipur) Special Powers Ordinance ঘোষণা করা হয় ১৯৫৮ সালে।ওই বছরই ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা আফস্পা ঘোষিত হয়।
মূলত উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির জন্য এই ড্রাকোনিয়ান বা দানবীয় আইন ঘোষিত হলেও পরবর্তীকালে কাশ্মীরেও এই আইন জারী হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।কি আছে এই আইনে?
এই আইন অনুযায়ী আর্মি যে কাউকে যখন তখন শুধুমাত্র সন্দেহের বশে গ্রেপ্তার করতে পারে।বিনা বিচারে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখতে পারে।কারুর বাড়িতে বিনা অনুমতিতে ঢুকতে এবং তল্লাসি চালাতে পারে। পাঁচ জনের জমায়েতকে বিপদজনক মনে করলে অনায়াসে গুলি চালিয়ে কোতল করতে পারে। এবং এই আইনে সরকারী অনুমতি ছাড়া কোনো অভিযুক্ত আর্মি পার্সোনালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়না।
ভারত সরকার যখন আইনটা চালু করে তখন সরকারী তরফে জানানো হয়েছিল যে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এটা নেহাতই একটা সাময়িক পদক্ষেপ। যতদ্রুত সম্ভব এই আইন প্রত্যাহার করা হবে।কিন্তু উত্তরপূর্ব ভারতে আর কাশ্মীরে এত বছরেও কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি? নাকি আইনটা রাখাই হয়েছে তথাকথিত রাষ্ট্রীয় দখলদারি বজায় রাখতে?
আফস্পা চালু হয়েছিল উপদ্রুত এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে।অবশ্য,গণভোটে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিলের স্বাধীনতার দাবী তোলাটা যে ভারত রাষ্ট্রটির কাছে উপদ্রবের সামিল সেটাও জানা গেছে এই সুবাদে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি মানবাধিকারের তোয়াক্কা করেনা।আফস্পার সুবাদে আর্মি’র সাথে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির কোনো পার্থক্য থাকছেনা।কারণ উভয়ক্ষেত্রেই নাগরিকদের কোনো অধিকার রক্ষিত হচ্ছেনা।
বলা হয়েছে যে পাঁচজনের জমায়েতকে বিপদজনক মনে করলে আর্মি গুলি চালাতে পারে। অর্থাৎ, পাঁচজন অস্ত্র নিয়ে জমায়েত হল নাকি নিরস্ত্রভাবে নেহাতই শান্তিপূর্ণ জমায়েত হল তা বিচার্য নয়।বিচার্য হচ্ছে যে আর্মি মনে করছে কিনা।আর্মি মনে করলেই গুলি চলবে এবং কোতল হবে। এবং যদি পরে প্রমাণীত হয় যে নিহতরা নেহাতই নিরীহ এবং অসামরিক ব্যক্তি ছিল,তাতেও আর্মির অভিযুক্তদের কোনো সাজা হবেনা।কারণ সরকার সাধারণ কোর্টে তার বিচারের অনুমতি দেবেনা।
২০০০ সালের ২০ মার্চ অনন্তনাগ জেলার ছত্তিসিংপোরাতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকধারীদের হাতে ৩৬ জন শিখ নিহত হন।সেসময় বিল্ট ক্লিন্টন ভারতে এসেছিলেন।ভারত লস্কর এ তোইবা কে দায়ী করে। অনেকে আঙ্গুল তোলেন সরকারী জঙ্গীদের দিকে। পারভিন স্বামী’র ‘দ্য ম্যাসাকার অব ছত্তিসিংপোরা’তে এই সরকারী জঙ্গী হওয়ার কিছু স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যতে।খুন কারা করেছিল সেটা কাশ্মীরের অনেক ঘটনার মতন আজও প্রমাণিত হয়নি।সেনাবাহিনী ২৩-২৪ শে মার্চ পান্সেহালথানের তিনটি গ্রাম থেকে ১৭ জনকে তুলে নিয়ে যায়।পাঁচ জনকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়।সামরিক বাহিনী দাবী করে যে তারা পাঁচ পাকিস্তানি জঙ্গীকে হত্যা করেছে। তেসরা এপ্রিল বিক্ষোভ মিছিলে সিআরপিএফ আর এসওজি’র গুলি চালানোতে আটজন নিহত হন।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে জানা যায় যে ভুয়ো সংঘর্ষে নিহতরা আদতে স্থানীয় অসামরিক ব্যক্তি,বিদেশি জঙ্গী নন।২০০২ সালের মার্চ মাসে দেখা গেলো যে শ্রীনগরের মেডিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের প্রধানের যোগসাজশে ডিএনএ নমুনায় কারচুপি করা হয়েছিল।যে সতেরো জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিহত পাঁচজন তাদের মধ্যেই ছিল।নভেম্বরে বিচারপতি জিএ কুচে কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৩ সালে সিবিআই দায়িত্ব নেয়।২০০৬ সালে সিবিআই জানায় যে সামরিক বাহিনী ওই পাঁচ জনকে ভুয়ো সংঘর্ষে খুন করেছে এবং নিহতদের বিরুদ্ধে কোনো জঙ্গী কার্যকলাপের প্রমাণ নেই।সামরিক বাহিনীর পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১২০বি (অপরাধমূলক চক্রান্ত),৩৪২(অন্যায়ভাবে আটকে রাখা),৩৬৪ (হত্যার জন্য অপহরণ),৩০২ (হত্যা) এবং ২০১ ( প্রমাণ লোপাট) ধারায় অভিযুক্ত করে।
পরেরটা বেশ সোজা গপ্পো।সেনাবাহিনী সুপ্রিম কোর্টে যায়।২০১২ সালে সেনা আইনের ১২৫ ধারায় সেনাকেই বিচারের ভার দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৪ই মার্চ জম্মু স্থিত ১৬কর্পসের ব্রিগেডিয়ার অ্যাডজুট্যান্ট শ্রীনগরের প্রধান জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে রিপোর্ট দাখিল করেন তাতে তারা নিজেদের অভিযুক্ত সেনাদের কোনো দোষ পান নি।
কেস ক্লোজড।
এই আফস্পা আদতে যত না বেশি জরুরী পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তৈরী হয়েছে তার থেকে বেশি হয়েছে ‘ভারতীকরণ’ এর জন্য।যে বা যারা এই নিয়ন্ত্রিত ভারতীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তাদের বিরুদ্ধেই এই কালা আইন চালু হয়েছে।মণিপুর-কাশ্মীর এখানেই একসুতোয় গাঁথা পড়ছে। মুশকিল হচ্ছে যে সামরিক দমন পীড়ন দিয়েই যদি কোনো আন্দোলনকে শেষ করা যেত তাহলে অ্যাদ্দিনে তো নকশালরাও ইতিহাস হয়ে যেত।যায়নি তার মূল কারণ আন্দোলনের মূল প্রশ্নগুলো,খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের অধিকার আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক।
আফস্পা’র ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল যে উপদ্রুত এলাকাতে এই আইন জারী হবে।এবং কোনটা উপদ্রুত এলাকা হবে সেটা ঠিক করবে সরকার।আসামে কাছাড়,হাইলাকান্দি আর করিমগঞ্জে যখন আফস্পা জারী হয় তখন সেখানে উপদ্রুত পরিস্থিতির কোনো লক্ষণ ছিলনা।নিতান্তই সরকারী প্রয়োজনে সেখানে আফস্পা ঘোষিত হয়।এবং এ বছরের খবর আসামে আফস্পা মেয়াদকাল আরও একবছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
আফস্পা পরবর্তী সময়ে একাধিক কমিশন আফস্পা বাতিল বা সংশোধনের দাবী তুলেছে।এ প্রসঙ্গে বীরাপ্পা মইলি’র নেতৃত্বাধীন অ্যাডমিন্সট্রেটিভ রিফর্মস কমিটি বা ২০০৪-০৫ সালে জাস্টিস জীবন রেড্ডি কমিটি’র নাম করা যায়।প্রসঙ্গত জীবন রেড্ডি কমিটি শুধুমাত্র উত্তর পূর্ব ভারত নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং সেখানে তিনি স্পষ্টতই আফস্পা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।
কিন্তু শুনছে টা কে? ভারত রাষ্ট্র আপাতত বহুস্বর শুনতে চাইছেনা তাই বিরোধীদের এভাবেই দমন করা হচ্ছে।
২০০৯ সালের ৩০শে মে।কাশ্মীরের সোপিয়ানে নীলোফার আর আসিয়া নামের দুটি মেয়ের দেহ পাওয়া যায়।দেহ পাওয়া যায় সামরিকভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে।মানুষ প্রতিবাদে নামে।সন্দেহের তীর ছিল সামরিক বাহিণীর প্রতি।বিচারের নামে প্রহসন হয়।
সোনি সোরি’র কথা মনে আছে? ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলার সেই আদিবাসী শিক্ষিকা।নকশাল যোগাযোগ সন্দেহে যাকে পুলিশ লক আপে সাংঘাতিক অত্যাচার করা হয়েছিল।যার যৌনাঙ্গে পাথরকুচি ঢুকিয়ে দিয়েছিল পুলিশ বীরেরা।
বিচার টিচার বাদ দিন।অত্যাচারের হোতা পুলিশ সুপার অংকিত গর্গ কে রাষ্ট্রপতি পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আরেকটা তথ্য জানিয়ে রাখি, ২০০৭ সালে অগাস্ট মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম জেলার ভাকাপল্লি গ্রামে গ্রেহাউন্ড বাহিনী ১১ জন মহিলাকে ধর্ষণ করে। হাইকোর্ট হয়ে কেস আপাতত সুপ্রিম কোর্টে। প্রবল পরাক্রান্ত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই অসহায় মহিলারা কতটা বিচার পাবেন তা সময়ই বলবে।
যেখানে আফস্পা জারী থাকে সেখানে আর্মি প্রায় ভগবানের সমান ক্ষমতা পায়।সেখানকার নাগরিকরা পদানত হয়ে বাস করতে বাধ্য হয় যেহেতু আফস্পাতে তাদের কোনো আইনী রক্ষা কবচ থাকেনা।
২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে International People’s Tribunal on Human Rights and Justice in Indian-administered Kashmir একটা বিবৃতি জারী করে যাতে বলা হয় যে কাশ্মীরে ৫৫টি গ্রাম জুড়ে ২৭০০ কবরে ২৯৪৩ টি বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে। কাশ্মীরেই ২০১১ সালের অগাস্ট মাসে স্টেট হিউম্যান রাইটস কমিশন কুপওয়াড়া,বারামূলা আর বান্দিপুর জেলায় অজস্র গণকবরের কথা বলে।এইসব কবরে পাওয়া লাশগুলো বেওয়ারিশ এবং ক্ষতবিক্ষত।কমিশন কাশ্মীরে আর্মির হাতে নিখোঁজ মানুষদের তালিকা অনুসারে পাওয়া লাশগুলোর ডিএনএ টেস্টের দাবী জানায়।বলাবাহুল্য,রাষ্ট্র এর অনুমতি দেয়নি।

আফস্পা যেখানে জারী আছে সেখানে এরকম অসংখ্য খুন,নির্যাতন আর ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে সামরিক বাহিনীর দিকে।এবং উল্লেখ্যভাবে প্রায় কোনো অভিযুক্তেরই শাস্তি হয়নি এই আফস্পা’র দৌলতে।


Laura Schuurmans ২০১২ সালে The International Council for Human Development & Kashmir Council EU এর এক রিপোর্টে কাশ্মীরে এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরেছেন। এই রিপোর্টেই পাচ্ছি তালিব হুসেইন এর কথা যাকে আর্মি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর চোখ বেঁধে চেনাব নদীতে ফেলে দিয়েছিল।সালটা ১৯৯৬।ফেলে দেওয়ার পর আর্মি গুলি চালায়।তালিব হুসেইন কোনোরকমে বেঁচে যান।তালিব হুসেইনের জবানীতে জানা যায় একইভাবে আরো তিনজনকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

কাশ্মীরে আর্মি জোর করে স্থানীয় লোকেদের দিয়েই তাদের হাতে খুন হওয়া মানুষদের কবর দেওয়ায়। এরকমই এক হতভাগ্য হলেন আটা মুহাম্মদ।তিনি তার বক্তব্যে জানিয়েছেন,
“the bodies I have buried appear in my nightmares, each in graphic, gruesome detail .I have been terrorized by this task that was forced upon me. My nights are tormented and I cannot sleep, the bodies and graves appear and reappear in my dreams. My heart is weak from this labour. I have tried to remember all this...the sound of the earth as I covered the graves...bodies and faces that were mutilated...mothers who would never find their sons. My memory is an obligation. My memory is my contribution. I am tired, I am so very tired”

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঠিক পরে কাশ্মীরে দুজন বাঙালি শ্রমিককে জঙ্গী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। খাগড়াগড়ের সাথে কাশ্মীরের যোগ মিদিয়ার হেড লাইন হয় ।কিছুদিন পরে খবরের এক কনে বেরোয় যে অভিযুক্ত দুজন কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে কোনো জঙ্গী কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবং উল্লেখ্য যে এই খবরটা মিডিয়ার হেড লাইন হয়নি।
যেমন খবরে আসেনি যে কিভাবে এই দুজনের ওপরে নির্মম অত্যাচার হয়েছে।অবশ্যি এরা তো নিছকই প্রান্তিক মানুষ।মিডিয়ার ফুটেজ পাওয়ার অযোগ্য।

এবং বক্তব্যটা এখানেই থেমে যাচ্ছে।এই অত্যাচারিত মানুষগুলো তথাকথিত ‘মূল ভারতীয় ধারা’র মধ্যে পড়েন না। সেহেতু রাষ্ট্র অখন্ড ভারতীয়ত্বের স্বার্থে অনায়াসেই এদের উপরে অত্যাচার করতে পারে।খুন করতে পারে।মেয়েদের ধর্ষণ করে লোপাট করতে পারে।ভারতীয় অখন্ডতার স্বার্থে সব মাফ।

মণিপুরের মায়েরা নগ্ন হয়ে আসাম রাইফেলসের ক্যাম্পের সামনে গিয়েছিলেন মনোরমা হত্যার প্রতিবাদে।ইরম শর্মিলা চানু আফস্পা প্রত্যাহারের দাবীতে দীর্ঘকাল অনশন করছেন।

রাষ্ট্রের কোনো হেলদোল নেই।প্রান্তিক কটা মানুষ কিসের দাবীতে মরলো কি ধর্ষিত হল তা জেনে আমাদের কি হবে? দিব্যি সব ভুলে ভালো আছি সার।

খালি কি রাষ্ট্রেরই আয়না দরকার? আমাদের নয়?



Avatar: সিকি

Re: এবং আফস্পা...

খুব দরকারী আর সময়োচিত লেখা। ধন্যবাদ, রাণা।
Avatar: b

Re: এবং আফস্পা...

রাজ্য সরকারের কিছু ক্ষমতা আছে কি আফস্পার ব্যাপারে? এই খবরটা পড়ে সেরকমই মনে হয়েছিলোঃ
http://timesofindia.indiatimes.com/city/guwahati/after-26-years-assam-
may-lift-afspa-in-some-areas/articleshow/58542987.cms





আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন