San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রেড ওয়ার ও ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কিছু সাধারণ আলোচনা
    বর্তমানে আলোচনায় আসা সব খবরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিলিয়ন ডলার মূল্যের উপর কঠিন শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে, যাদের মধ্যে ডিশ ওয়াশার থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফট টায়ার সবই আছে। চায়না অনেক দিন ধরেই এই হুমকির মুখে ...
  • নারীবাদ নিয়ে ইমরান খানের বক্তব্য ও নারীবাদে মাতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক
    সম্প্রতি একটা খবর পড়লাম। পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ এর নেতা ও পাকিস্তান দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান বলেছেন, তিনি পশ্চিমাদের থেকে আমদানি করা নারীবাদ সমর্থন করেন না। তার নারীবাদকে সমর্থন না করবার কারণও তিনি জানান, তার মতে নারীবাদ মাতৃত্বের মর্যাদাকে ছোট ...
  • রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....
    ইপ্সিতা বলল, রিভিউ লেখ। আমি বললাম, আমি কি সিনেমা বুঝি নাকি? ইপ্সিতা বলল, যা দেখে ভাল লাগল তাই লেখ। আমি বললাম, তবে তাই হোক।সিনেমা র নাম, রেনবো জেলি। ইউটিউবে ট্রেলার দেখেই বড্ড ভাল লাগল। তাই রিলিজ করার পরের দিনই আমার চারবছুরের কন্যে সহ আমি হলমুখী।টাইটেল ...
  • বর্ষা ও খিচুড়ি
    বর্ষাকাল। তিনদিন ধরে ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। আমাদেরও ইস্কুল টিস্কুল বন্ধ। রাস্তায় এক হাঁটু জল। মায়েরও আজ অফিস যাওয়ার উপায় নেই। কি মজা। যদিও পুরোনো বাড়ির ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, ঘরের মেঝেতে ড্যাম্প, জামাকাপড় না শুকিয়ে স্যাঁতস্যাঁত করছে, কিন্তু তাতে আমাদের ...
  • বিজ্ঞাপনের কল
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • বিশ্বাস, পরিবর্তন ও আয়ার্ল্যান্ড
    সম্প্রতি আয়ার্ল্যান্ডে আইনসিদ্ধ হল গর্ভপাত । যদিও এ সিদ্ধান্তকে এখনও অপেক্ষা করতে হবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য, তবু সকলেই নিশ্চিত যে, সে কেবল সময়ের অপেক্ষা । এ সিদ্ধান্ত সমর্থিত হয়েছে ৬৬.৪ শতাংশ ভোটে । গত ২৫ মে (২০১৮) এ ব্যাপারে আইরিশ সংসদের ...
  • মব জাস্টিস-মব লিঞ্চিং এর সংস্কৃতি ও কিছু সমাজ-মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
    (আজকে এখানে "জুনেদ-এর চিঠিঃ ঈদের নতুন পোশাকে" আর্টিকেলটি পড়তে গিয়ে একটা নতুন টার্মের সাথে পরিচিত হলাম - "মব লিঞ্চিং এর সংস্কৃতি"। এটা কেবল একটা নতুন টার্মই নয়, একটি নতুন কনসার্নও, তাই এটা নিয়ে লেখা...)মব লিঞ্চিং এর ব্যাপারটা এখন আমরা প্রায়ই শুনি। ...
  • বিশ্ব যখন নিদ্রামগন
    প্রত্যেকটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়া কিছু দিন থাকে, থাকে রাত, যার পর আর কিছুতেই নিজের পূর্বসত্বার কাছে ফিরতে পারা যায় না, ওটাই বোধহয় নিজঅস্ত্বিত্বের 'রেস্টোর পয়েন্ট' হয়ে দাঁড়ায় সর্বশক্তিমান প্রোগ্রামারের মর্জিমাফিক।25শে সেপ্টেম্বর, 1992 রাত আনুমানিক পৌনে ...
  • শিক্ষায় সমস্যা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন
    (সম্প্রতি গুরুচণ্ডালির ফেইসবুক গ্রুপে Gour Adhikary বাবুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা পড়লাম। বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি সেখানে। এরমধ্যে কয়েকটি প্রশ্নকে সাজিয়ে লিখলে এরকম হয়, "যারা ফেইল করে, তারা কেন সামান্য পাশ মার্ক জোগাড় করতে পারে ...
  • পরবাসে পরিযায়ী
    আজকে ভারতে চাঁদরাত। অনেকটা দূরে বসে আমি ভাবছি কি হচ্ছে আমার বাড়িতে, আমার পাড়াতে। প্রতিবারের মতো এবারেও নিশ্চয়ই সুন্দর করে সাজিয়েছে পুরো শহরটা। আমাদের বাড়ির সামনের ক্লাবে সার সার দিয়ে বসে আলুকাবলি, আচার, ফুচকা, আইসক্রীম এবং আরো কতকি খাবারের স্টল! আমি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

San Gita


একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ কথাও থাকত অনেক। পুঁটির মা-বাবা তাড়াতাড়ি জানলা, দরজা বন্ধ করে দিতেন তখন, রেডিওতে গান চালিয়ে দিতেন। ওদের দু'বোনের তাই ঝগড়ার স্মৃতি থাকলেও বাজে কথা শেখা হয় নি ওখানে।

তবে বাড়িতে আরো তিনটে ছোট ছেলেমেয়ে ছিল, খুব জমিয়ে খেলত ওরা সবাই মিলে। গরমের ছুটি হোক বা শীতের ছুটি, পুজোর ছুটি বা পরীক্ষা শেষের ছুটি, পুঁটিরা গামছা দিয়ে মাথায় মস্ত মস্ত খোঁপা বেঁধে দিদিমণি সেজে পুতুলদের পড়াতে বসত। তবে ওরা কিনা পড়ত আদি মহাকালী পাঠশালায় আর পুঁটি সাদা ফ্রক পড়া সিস্টারদের ইস্কুলে, তাই পুঁটিকেই সব সময় ইংরাজী পড়াতে দিত জলসা আর মিতা। সোনাবুড়ো আর পুঁটির বোন তো নিতান্তই ছোট তখন, কাজেই দুধভাত। তাছাড়া ওরা নিজেরাই তো মুখ্খু, ওরা আবার পড়াবে কি!! খোঁপা বাঁধলে বোনু আর সোনাবুড়োকে কেমন দেখাবে ভেবেই পুঁটি হেসে গড়াগড়ি! আর শুধু কি পড়ানো? পুতুলদের জন্য কুট্টি কুট্টি খাতা বানানো, তাতে মলাট দেওয়া, তারপর ধরুন তাতে ওদের ক্লাসওয়ার্ক আর হোমওয়ার্ক দেওয়া- কাজ কি কম! তারপর সেই ক্লাসওয়ার্ক আর হোমওয়ার্ক করবে কে শুনি? ওরা বুঝি লিখতে পারে? খাতা দেখতেও তো হয় সবশেষে।

বাড়িটা অনেক পুরোনো, প্লাস্টার চটে গেছে কোথাও কোথাও, ইঁট দেখা যায়, দু'সারি ইঁটের মাঝখানের সুড়কি ঝরে পড়ে অহরহ, আবার সেই সুড়কি থেকে ছোট্ট ছোট্ট চারাগাছ মাথা বের করে পুঁটিদের দেখে হাসে। ওরা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সুড়কি বের করে তাই দিয়ে ভাত ডাল রান্না করে, গাছের পাতার মাছভাজা, মাছের ঝোল আর পাতাগুলোর মাঝখান থেকে সরু সরু ডাঁটিতে যে গুঁড়ো গুঁড়ো ডিম লেগে থাকে, তাই দিয়ে পোস্তর বড়া। গুছিয়ে খেতে দেয় সবাইকে।

থালা, গ্লাস, উনুন, হাতা, খুন্তি সব কেনা হয়েছে চড়কের মেলা থেকে। আর সাদা ধবধবে গোঁফ-দাড়িওয়ালা মাথা-নাড়া বুড়ো দাদুও। আর ঐ যে কাঁচের চোঙের মধ্যে রঙ-বেরঙের চুড়ির টুকরো ভরা, প্রত্যেকবার ঘোরানোর সাথে সাথে নতুন নতুন রঙমেলান্তি আঁকিবুকি- "ওটার নাম কী মা?" বাপ রে!! ক্যালাইডোস্কোপ! এই সুন্দর জিনিসটার এতো খটোমটো নাম!! পুঁটি বরং এর নাম দিল "ঝিলমিল"।

শুধু দিদিমণি-দিদিমণি আর রান্নাবাটি নয়, আরো অনেক কিছু খেলত ওরা। কুমিরডাঙা, লুকোচুরি, রুমালচোর, চোখে রুমাল বেঁধে 'কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছো', আরও কত কি! বাড়িটায় চরিদিকে ঘুরিয়ে ঘর আর মাঝখানে ফাঁকা চাতাল। বৃষ্টি নামলে একসাথে কচ্চিৎ কদাচিৎ ঝুপ্পুস ভেজে সবকটা বাচ্চা ঐ চাতালে। দোতলায় চারিদিকে নয়, একদিকে একসারি ঘর, তিনদিকে ছাদ- অনেক খেলার জায়গা।

দোতলায় একটা ঘর সবসময় তালা দেওয়া থাকে, জলসা চুপিচুপি ওকে বলেছে ওটা মিতার মায়ের মানে ওদের একমাত্র পিসির ঘর। পিসি মরে গেছে বলে ঠাম কাউক্কে ওঘর খুলতে দেয় না। মাঝেমাঝে নিজে খুলে পরিষ্কার করে, তখন একটুও কাঁদে কিনা পুঁটির খুব জানতে ইচ্ছে করে। ঠাম খুব মোটা আর খুব রাগী কিনা!! সদর দরজা বন্ধ আছে কিনা, জল বেশী খরচা হচ্ছে কিনা এরকম হাজার খুঁটিনাটিতে তার খুব নজর। সারাক্ষণ সবার সাথে খিটখিট করে বেড়াচ্ছে, শুধু মা-মরা নাতনী মিতাকে খুব একটা বকতে পারে না।

অদ্ভুত অদ্ভুত নামের মাসিরা থাকে এই পাড়ায়। পুঁটির মা আর মাসির এদের সাথে এত ভাব হয়ে যায় যে এদের সবাইকে পুঁটিরা মাসি ডাকে। একটা বাড়ি বাদ দিয়ে একটা মস্ত বাড়িতে থাকে পতান মাসি, তার বাবা আর মা। পতানমাসিকে দেখলেই মনে হয় অনেক বয়স, ওর বাবা-মাও খুব বয়স্ক, কিন্তু এখনও বিয়ে হয়নি পতানমাসির। সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে যখন দুদিকে লম্বা বিনুনি বাঁধে পতানমাসি। পাড়ার কাকিমারা বলে পতান মাসিকে ভেটকি মাছের মত দেখতে, পুঁটি শুনেছে! বেশ মোটাসোটা, এত বড় মুখ আর পুরু উল্টোনো ঠোঁটে লাগে বটে ওরকমই। ইস! কী বাজে কথা ভাবছে পুঁটি! সিস্টার বলেছেন যখন কোন অন্যায় করবে বা খারাপ কথা ভাববে, কেউ দেখুক আর না দেখুক, কেউ জানুক আর না জানুক, গড ঠিক জানতে পারবেন। শুনলেই কেমন বুক দুরদুর করে ওঠে পুঁটির! খারাপ কাজ না করুক, কখনও সখনও একটা-আধটা খারাপ কথা মনে আসে না, তা কি আর হলপ করে বলা যায় নাকি?

তারপর আছে চুনমুনমাসি, যার নাম শুনলেই মনে হয় খুব আদুরে। সত্যি খুব আদুরে আদুরে ধবধবে ফর্সা পুতুলের মত দেখতে চুনমুনমাসিকে, টুকটুকে গোলাপী ঠোঁট নেড়ে কথা বলে যখন, কী মিষ্টি যে লাগে!! এই মেয়ের এই নামই মানায়, ভাল নাম 'চিন্ময়ী' মোট্টেও মানায় না। চুনমুনমাসির ভাই ৪-৫টা বাড়ি পরের ঐ যে দুটো মাসি আছে, ওদের মধ্যে ছোট বোনটিকে নাকি বিয়ে করবে। ঐ মাসিদুটোর বাড়িতেই মুনিয়ারা থাকে। ওদের ঘরে অনেক বই, আর বইয়ের খুব যত্ন ওদের। প্রত্যেক বইতে মলাট দিয়ে নম্বর দেওয়া আছে, কেউ বই ধার নিলে ওরা তার নাম আর কত নম্বর বই নিল, টুকে রাখে ডাইরিতে। ওদের রুশদেশের উপকথা আছে, পুঁটির খুব খুব ভালো লেগেছে ঐ বইটা, ঐ গল্পগুলো- গোলরুটি, সীম বীচি, হলদে-ঝুঁটি মোরগটি এরকম কি দারুণ দারুণ গল্প! বাকি বইগুলো বাদ দিলেও শুদ্ধু ঐ একটা বইয়ের জন্যই তো খুব হিংসে পুঁটির মুনিয়ার ওপর, কিন্তু তবু পুঁটি মায়ের কাছে বায়না করে না।

মাসির সবচেয়ে বেশী বন্ধু বুকুমাসি। ওরা মাকে খুব সাহায্যও করে। যখন পুঁটিদের কাজের মাসি থাকে না বা দেশে যায়, মাসিও কোন কারণে আসতে পারে না, বুকুমাসির মা আর বুকুমাসি মিলে বোনুকে রেখে দেয় নিজেদের কাছে, মা নিশ্চিন্তে অফিস যেতে পারে। আর ঐ দিদা যে কি ভালো রান্না করে! রীতিমত বাটি আসা-যাওয়া হয় দু'বাড়িতে। অথচ জলসার মা অখাদ্য রান্না পাঠালে লুকিয়ে লুকিয়ে সেটা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। মা-মাসিদের, আর সর্বোপরি পুঁটির দিদার হাতের রান্নার সর্বত্র খুব সুনাম কিনা! তবে জলসার মা, বাড়ির বড়বৌ (একমাত্র বৌ ও, বাকি ৩ ভাইএর বিয়ের বয়েস পেরিয়ে গেছে তবু বিয়েই হয়নি), যাকে ঠামের দেখাদেখি জলসা, মিতা, সোনাবুড়ো সবাই বৌমা ডাকে, সে মানুষটা রাঁধতে না পারলেও ভারী ভালো- জলসার বাবা-কাকারা আর ঠাম মিলে তাকে খুব হেনস্থা করে দিনরাত।

পুঁটিদেরও ঠাম আর তার চার ছেলে বেশ নিচু চোখে দেখে। অথচ পিতৃপুরুষের বাড়িতে থাকার মধ্যে আনন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা ছাড়া আর কোন গৌরব তো ওদের থাকার কথা নয়! ওদের নিজেদের তো অকর্মণ্যই বলা যায়, কিন্তু হম্বিতম্বি কত! ওরা না লেখাপড়ায়, না চাকরি-বাকরিতে, না আচারব্যবহারে, না রূপে, না অন্য কোন গুণে এতটুকু উল্লেখযোগ্য!

তবে এপাড়ার সবচেয়ে ভালো বাড়ি হল মাঠের পাশে তুলিদিদিদের বাড়ি। তুলিদিদির মা মধুছন্দা কাকিমা পাড়ার কুচোদের নিয়ে নিজের খরচায় রবীন্দ্রজয়ন্তী করান। একটা নৃত্যনাট্য আর একটা নাটক হয় প্রত্যেকবার। এছাড়া খুচরো নাচ, গান, কবিতা-আবৃত্তি কেউ যদি করতে চায় তো করতে পারে। কাকিমা আর তুলিদিদি খুব ভালো নাচে, তুলিদিদির জ্যেঠতুতো দুই দিদি খুব ভালো গান গায়, সাথে অন্য কুচোরা তো আছেই। রিহার্সালে কাকিমার দিকে, তুলিদিদির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে পুঁটি। কী গুণী ওরা, কী ঠান্ডা-ঠান্ডা, আরামের ওদের বাড়িটা! রিহার্সাল খুব ভালো লাগে পুঁটির। মিতা-জলসাদের অবশ্য বাড়ি থেকে ওসব করতে দেয় না। পুঁটি যেবার খ্যাতির বিড়ম্বনা নাটকে উঁচু করে খোঁপা বেঁধে, গাছকোমরে শাড়ী পরে, ছোট্ট কপালের মাঝখানে একটাকার সাইজের এত্তবড় টিপ পরে দজ্জাল বৌ সাজল, বোনু সেবার কেজি ওয়ানে পড়ে। তবু সে ছোট্ট ধুতি-গেঞ্জি পরে, নকল গোঁফ আর মস্ত আঁচিল লাগিয়ে চাকর সাজল, একটাই কথা ছিল ওর মুখে "বাবু, চা"।

পুঁটির মা-বাবার ওপর অনেক দায়িত্ব, দু'জনেই পিতৃহীন আর পরিবারের বড়, মামা-কাকা-মাসি-পিসিরা কেউ পড়ছে, কেউ চাকরির চেষ্টা করছে, দু'দিকে দুই পরিবারই পুঁটির মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল। তাও কষ্টেসৃষ্টে একটা জমি কেনেন ওরা। ঠিক ওর পাশ দিয়ে নাকি বাইপাস নামে বিরাট রাস্তা হবে। বাড়ির কাজেও হাত দেওয়া হয়। বোনু এখন কেজিতে পড়ে, কিন্তু খুব টকটক করে কথা বলে। দু'জনে মিলে এখন একটা নতুন খেলা খেলে ওরা, নতুন বাড়ি নতুন বাড়ি খেলা। "নতুন বাড়িতে বেশ আমগাছ, কলাগাছ, জামরুলগাছ, লিচুগাছ সব থাকবে আমাদের, আর থাকবে ফ্রিজ, ঠিক আছে বোনু?" "হ্যাঁ রে দিভাই"। মায়ের মামাবাড়িতে যেমন অনেক গাছ আছে, ওরা গেলে বড় কোন গাছের ছায়ায় দোলনা টাঙিয়ে দেওয়া হয় ওদের জন্য, ওরা অমন একটা বাড়ির স্বপ্ন দেখে। "গাছের আম-লিচুগুলো ফ্রীজে রাখা আছে তো? এতক্ষণে খুব ঠান্ডা হয়েছে, বল বোনু? কেটে দাও না গো, রামুদা!!" কল্পনার ফলের যেমন স্বাদ, কল্পনার রামুদাও তেমন ভালোমানুষটি। তারিয়ে তারিয়ে ওরা গাছের ফল খায়। এই খেলায় জলসা-মিতা-সোনাবুড়োকে নেয় না ওরা। বাবা-মাকেও বাড়িটা কেমন হচ্ছে না হচ্ছে কিচ্ছুটি জিগ্যেস করে না, শুধু দমবন্ধ-করা উত্তেজনায় অপেক্ষা করে নতুন বাড়িটার জন্য। জলসারা বুঝবে না, ঐ বাড়িটা শুধুই পুঁটির আর বোনুর!

©sangitaghoshdastidar

শেয়ার করুন


Avatar: bidhan sarani

Re: পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

আদি মহাকালী পাঠশালা, মানে কৈলাশ বোস স্ট্রীট? সিস্টারদের ইস্কুলটা কি সেন্ট মার্গারেট নাকি হোলি চাইল্ড?
Avatar: শিবাংশু

Re: পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

পুরো ছবি। বাহ...
Avatar: de

Re: পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

সত্যিই ছবি -
কেমন নেশা হয়ে যাচ্চে পুঁটিকাহিনী পড়ার -
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

হোলি চাইল্ড।
Avatar: Du

Re: পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!

ঝিলমিল নামটাতেই কেমন ছবি, বলো?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন