San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...
  • রক্তকরবী, অল্প কথায়
    মানুষের স্বতস্ফুর্ততা যখন মরে যায় তখন যন্ত্রে আর মানুষে তফাত থাকে কই! একটা ঘোর মেক্যানিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে আবর্তিত হয় তার দৈনিক যাপন, বাকি সমাজের সাথে সম্পর্ক হয় অ্যালগোরিদিমিক্যাল। কাজের সূত্রে সে কথা বলে আবার ঢুকে যায় নিজের মৃত চামড়ার খোলসে।ঠিক যেন এই ...
  • একাত্তরের দিন গুলি
    কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা ঢাকার রাস্তায় কণিকা নামের একটা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে। আসলে আমরা খুঁজছিলাম একটা ফেলে আসা সময়কে। একটা পরিবারকে। যে বাড়িটা আসলে ব্লাইন্ড লেনের এক্কেবারে শেষ সীমায়। যে বাড়ির গলি আঁধার রাতে ভারী হয়েছিল পাকিস্তানী ...
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...
  • A room for Two
    Courtesy: American Beauty It was a room for two. No one else.They walked around the house with half-closed eyes of indolence and jolted upon each other. He recoiled in insecurity and then the skin of the woman, soft as a red rose, let out a perfume that ...
  • মিতাকে কেউ মারেনি
    ২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি- ২
    আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে বেঁধে রেখেছ তুমিমায়া নামক মোহিনী বিষে...অনেক দিন পরে আবার দেখা। সেই পরিচিত মুখের ফ্রেস্কো। তখন কলেজ স্ট্রিট মোড়ে সন্ধ্যে নামছে। আমি ছিলাম রাস্তার এপারে। সে ওপারে মোহিনিমোহনের সামনে। জিন্স টিশার্টের ওপর আবার নীল হাফ জ্যাকেট। দেখেই ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

San Gita

পুঁটির বিয়ের আগে শাশুড়িমা বললেন যে, ওবাড়ি গিয়ে পুঁটিকে কাজকম্মো বিশেষ করতে হবে না। ওমা! তাও আবার হয় নাকি! গিয়ে কিন্তু দেখা গেল, সত্যিই তাই। পুঁটি সপ্তাভর আপিস করে আর সপ্তাহান্তে মাসতুতো-মামাতো দেওর-ননদ জুটিয়ে দিনভর আড্ডা- অন্তাক্ষরী-তাস খেলা এ সব করে। শখের রান্না বা ঘর গোছানো এসব করতে ইচ্ছে হলে করে, আর কিছু না। যা করে, তার আবার বিস্তর প্রশংসা পায়! শান্ত পরিবারটি হইচইবাজ পুঁটিকে পেয়ে বেশ খুশি হয়ে উঠল।

শাশুড়িমা যেমন ভালোমানুষ, তেমন কর্মঠ। তাঁর সাথে ঘরের কাজ করার জন্য দুই বোন আছে। ছোট বোন শীলাদি, তখন বছর ৩৬-৩৭, সকালে আর বিকেলে এসে ঘরদোর ঝাঁটপাট দেওয়া, বাসন মাজা এ সব করে আর বড় বোন পারুলদি, অনেকটাই বড়, তখনই পঞ্চাশের ওপর, সারাদিন থাকে, রাঁধে, বাড়ে, অন্য কাজও করে, সন্ধ্যেবেলা বাড়ি যায়- পারুলদির ভাষায় সে "ভোদির হেল (হেল্প) টানে"। ও! বলা হয়নি তো সে পুঁটিকে ডাকে "ভৌ"(বৌ), পুঁটির শাশুড়িমাকে "ভোদি"(ভোদি) আর শ্বশুরমশাইকে নির্ভুল "দাদা", তবে বেশি পুলকিত হলে মাঝেমাঝে "দোস্তিভাই"ও ডাকে বইকি- ঘোষদস্তিদার থেকে কিভাবে এই ডাকে উপনীত হয়েছিল, সে একমাত্র পারুলদিই জানত! এছাড়া বাড়ির দুই ছেলেমেয়েকে নাম ধরেই ডাকত পারুলদি- ওদের অনেক ছোট থেকে চেনে, পুঁটির কত্তামশাই তো বিয়ে করতে যাবার সময় সব বড়োদের সাথে পারুলদিকেও প্রণাম করে গিয়েছিল।

পারুলদির অফুরান প্রাণশক্তি। যেমনে তার শরীরে উদ্যম, তেমনই তার গলায় জোর। ফলপাকুড় চুরি করতে আসা বাচ্চাপার্টিদের পিলে চমকে দেওয়ার জন্য পারুলদির একটা "কে রে?" হাঁকই যথেষ্ট। আবার চোখের নিমেষে খাবার রেডি করে দেওয়া বা ভারী লেপতোষক টেনে ছাদে নিয়ে রোদে দেওয়া তার বাঁ হাতের খেল।

দুপুরে খাওয়ার পর মাটিতে মাদুরটি বিছিয়ে আধশোয়া হয়ে টিভিতে বাংলা সিনেমা চালায় পারুলদি। যত অখাদ্য সিনেমা, ততই তার আমোদ বেশি। নায়িকার দুঃখে সে এক্কেবারে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে হেঁচকি তুলতে থাকে, আবার নায়ক যখন ভিলেনকে পেটায়, তখন উত্তেজনায় উঠে বসে "মার, মার!" বলে নিজের বাঁ হাতের তেলোয় ডান হাত দিয়ে ঘুঁষি মারে, বাকিরা তার ঐ মারমুখী চেহারা দেখে কোথায় পালাবে ভেবে পায় না তখন!

তার গল্পের ঝুলিতেও অনেক গল্প- কে যেন বিয়ের আগে খুব রোগা ছিল, বিয়ের পরে খুব "টল ফিগার" হয়েছে, ভ্যাবাগঙ্গারাম পুঁটি বুঝতে পারছে না দেখে দুপাশে হাত ছড়িয়ে কতটা "টল" অর্থাৎ আয়তনবৃদ্ধি হয়েছে বুঝিয়ে দেয় পারুলদি।

তারপর ধরুন যেবার পাড়ার সবাই মিলে তারকেশ্বর যাওয়া হয়েছিল- আগে থেকে ঘর "ভোক" করাই ছিল, ফলে কোন অসুবিধাই হয়নি।

একবার পাড়ায় মারুতি ভ্যানে করে বেডশীট, বেডকভার এ সব বিক্রি করতে এল। পারুলদি দেখা গেল খুবই আপ্লুত, তাদের পাড়াতেও নাকি এরা গতকাল বিক্কিরি করতে গিয়েছিল, অনেকে কিনেছে, বেশ ভালো- "এট্টা চাদরে নয়ডা গিট"। আপনারা কে কী বুঝলেন জানিনা, বোকাবুদ্ধু পুঁটি বুঝল যে এরা শুধু বাঁধনি চাদর বেচে। কিন্তু দুজন দুদিকে ধরে যে চাদরটা দেখাচ্ছে, দোতলার বারান্দা দিয়ে দেখে তো সেটাকে কোনমতেই বাঁধনি মনে হচ্ছে না। তবে? পারুলদির কথায় কান পাতে আবার "পেন দেসে, চিরুনি দেসে, আয়না ... " ও হরি!! একটা চাদরের সাথে ওরা ন'টা করে গিফ্ট দিচ্ছে তবে!!

পুঁটির পুত্তুর আসার পর তার সাথেও খুব খেলা করত পারুলদি। খাওয়ায় প্রচন্ড অনাগ্রহী শিশুকে দিনের বেলা টিকটিকি দেখিয়ে " আয়, আয়, আয়, আয়, টি টি টি টি, ভাত খাইয়া যা" আর সন্ধ্যেবেলা চাঁদকে ডেকে
"আয় চাঁদ লড়িয়া
ভাত দিমু বাড়িয়া
রাংগা সুতার কাপড় দিম
খাটের তলায় হুতি দিম
দুধ খাবার বাটি দিম
সোনার কপালে চাঁদ টি দিয়া যা"
করে মনোরঞ্জন করায় কোন ক্লান্তি ছিল না পারুলদির।

ছেলেদের ছোটবেলাতেই স্বামীকে হারিয়েছে পারুলদি, কিন্তু হেরে যায়নি এক দিনের জন্যেও। লোকের বাড়িতে কাজ করে একফালি জমি কিনেছে, হোক না কলোনীতে, চায়ের দোকান দিয়েছে, বাড়িও তুলেছে কষ্টেসৃষ্টে। বড়ছেলে, বড়বৌমা আর নিজে মিলে চায়ের দোকানটা চালাত আর ছোট ছেলে ড্রাইভিং শিখে ট্যাক্সি চালাত।

ভোর চারটেয় উঠে দোকানের জল ভরা, উনোন ধরানো দিয়ে দিন শুরু হত পারুলদির, তারপর সারাদিন ধরে দফায় দফায় রুটি, ডিমসেদ্ধ, টোষ্ট, ঘুগনি, বেগুনী, আলুর চপ, তড়কা, ডিম কষা আর একশো দফা চা করতে করতে রাত এগারোটায় দিন শেষ হত। বড় মায়া ছিল ঐ চিলতে দোকানটার ওপর। কিন্তু একবার কী নিয়ে যেন জোর ঝামেলা বাঁধল মা-ছেলেতে। ছেলে-বৌমা মায়ের দোকানে ঢোকাই ঘুচিয়ে দিল। আবার লোকের বাড়িতে কাজে লাগতে হল পারুলদিকে।

পুঁটিদের রান্নাঘরের জানলা থেকে ওদের চায়ের দোকানটা দিব্যি দেখা যায়। রান্না করতে করতে কখনও কখনও অন্যমনস্ক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে পারুলদি। কখনও বা চায়ের দোকানের ভাষা উঠে আসে মুখে, হঠাৎ এসে যাওয়া এক-আধজন অতিথির জন্য নিজেদের ৫ কাপ চা থেকে "পাইল" করে আরো ১ কাপ চা বাড়িয়ে দেয় সে।

চায়ের সাথে আরো যে সব খাবারদাবার বানিয়ে বিক্কিরি করত পারুলদি, সেই পদগুলো বড় ভাল রাঁধত। একবার বললেই খুশী হয়ে বানিয়ে ফেলত সেসব। সেই মুচমুচে বেগুনী, ঝালঝাল ডিমকষা আজও যেন মুখে লেগে আছে পুঁটির।

কয়েক বছর পরে একসময় মায়েপোয়ে আবার ভাব হয়ে যায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে, পারুলদি পুঁটিদের বাড়ির গন্ডি ছাড়িয়ে আবার পুরনো দোকানে পা রাখে। কিন্তু আসাযাওয়ার পথে দেখা হলে "ভৌ"-এর আর বাড়ির বাকিদের খবর নিতে ভোলে না এখনও।

©sangitaghoshdastidar

শেয়ার করুন


Avatar: kihobejene

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

khub bhalo laglo ... aro aro likhun ...
Avatar: Kallol

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

ছোটোবেলা ফিরিয়ে দিলেন - এরা সবাই আমার ভীষণ চেনা, শীলা-দি, পারুল-দি আর সেই শান্ত পল্লীশ্রী, এক লহমায় কয়েক দশক পিছিয়ে গেলাম
Avatar: San gita

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

আপনি কি সিংহ বাড়ির আত্মীয়?
Avatar: Kallol

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

পরমাত্মীয় বলতে পারেন - আমার মামাবাড়ী
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

হু, ঠিকই চিনেছি আপনাকে। ডাকনামটাই যদিও শুনেছি বেশি।
Avatar: Kallol

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

পৃথিবী সত্যিই খুব ছোট্ট জায়্গা ঃ-)
Avatar: pi

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

ভাল লাগল পারুলদির গল্প।

'খাটের তলায় হুতি দিম' মানে কী ? শুতে দেওয়া ?
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

হ্যাঁ। আচ্ছা, বলো দেখি চাঁদের কি জায়গা কম পড়িয়াছে যে খাটের তলায় শোয়ার লোভে নেমে আসবে?
Avatar: pi

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

সেটাই। খাটের উপরে শুতে দেবার, পাশবালিশ দেবার অফার দিলে তাও মনে হয় চাঁদ ভেবে দেখতে পারত।
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব

পুঁটিও সেকথাই বলত পারুলদিকে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন