Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#2
    [৩] যাদুবিদ্যা ও ধর্মপৃথিবীর সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই প্রথম যুগে এই ম্যাজিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কেন? আসুন, এবার আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখি। সমাজ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা যাবে, ধর্মের উদ্ভবের সময়কালের সাথে এই যাদুবিদ্যার আর্থসামাজিক ...
  • আমার বাবার বাড়ি
    আমাদের যাদের বয়েস স্বাধীনতার বয়েসের পাশাপাশি তারা ছোটবেলায় প্রায়ই একটা অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম, দেশ কই? উত্তরে যে দেশের নাম বলার রীতি ছিলো যেমন ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী সব ছিলো ভারতের ম্যাপের বাইরে সবুজ এলাকায়। আবার সদ্যস্বাধীন দেশে আমরা খুব ...
  • পরীবালার দিনকাল
    ১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1
    আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। ...
  • আমার বাবা আজিজ মেহের
    আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ...
  • উপনিষদ মহারাজ
    একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)******************...
  • চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল
    চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর ...
  • আগরতলা নাকি বানভাসি
    আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো ...
  • ভূতের_গল্প
    পর্ব এক"মদন, বাবা আমার ঘরে আয়। আর গাছে গাছে খেলে না বাবা। এক্ষুনি ভোর হয়ে যাবে। সুয্যি ঠাকুর উঠল বলে।"মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে মদনভূত একটু থমকাল। তারপর নারকেলগাছটার মাথা থেকে সুড়ুৎ করে নেমে এল নীচে। মায়ের দিকে তাকিয়ে মুলোর মত বিরাট বিরাট দাঁত বার করে ...
  • এমাজনের পেঁপে
    একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা ...

গরু ও মানুষের বিবরণ

Muradul islam

সেই সময়ের গল্পটা আপনাদের আজ বলা প্রয়োজন, কারণ আজ হয়ত সেই সময়ের চেয়ে পূর্বের বা পরের একটা সময়, যখন আপনি এই গল্পটা পড়ছেন, এটিকে আপনার ভুল বুঝার যথেষ্ট অবকাশ আছে, কারণ লিখিত বক্তব্য লিখিতই এবং তা যেসব বক্তব্য তৈরি করে ক্ষেত্রবিশেষে তা এতই স্বাধীন হয়ে যায় যে সৃষ্টিকর্তার প্রয়োগ করা অর্থের বাইরে গিয়ে নিজে নিজেই নানা অর্থ তৈরি করে, নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়;

আমার আশঙ্কা হচ্ছে গল্পটি হয়ত আপনাদের কাছে বিশ্বসযোগ্য মনে হবে না, হয়ত আপনারা মনে করবেন এটা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ন কষ্টকল্পনা বা অন্য কিছু; এগুলি আমার আশংকা, আরো ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নানা আশংকা রয়েছে, তার একটি কারণ হলো আমি আপনাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, ফলে এখানে লিখিত বাক্যগুলি আপনাদের বুঝার জগতে কেমন আন্দোলন তৈরি করবে, সে সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা পাওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব নয়, ফলত আমার এই গল্প বর্ণনা তথা লিখে যাওয়া হচ্ছে অন্ধকার কোন কক্ষে ঢিল ছোঁড়া, আশংকা হয় সেখানে হয়ত বসে আছেন নিঃশব্দে কোন মাননীয় ভূত;

গল্পটির শুরু একটি গরুকে নিয়ে, গরু অতি অবশ্যই একটি রাজনৈতিক বিষয় এতদঞ্চলে, এখানে হিন্দুধর্মের লোকেরা গরুকে দেবতারূপে ভক্তি করেন আর মুসলমানেরা গরুকে ভক্তিভরে আহার করে থাকেন, আর ম্রো’রা তাদের ধর্মীয় উৎসবের দিনে গরুকে হত্যা করেন কারণ তাদের বিশ্বাস দেবতা থুরাই তাদেরকে ধর্মের বানী লিখে দিয়েছিলেন কলাপাতায় করে এবং তা নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিল একটি গরুর উপরে, পথিমধ্যে গরুটি ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে আর খেয়ে ফেলে সে কলাপাতাটি, ফলে ম্রো’রা চিরকালের জন্য তাদের ধর্মগ্রন্থ হারিয়ে ফেলেন আর এরই প্রতিশোধমূলক তাদের ধর্মোৎসবের প্রথা গরুকে হত্যার, এই হত্যার মাধ্যমে তারা পুরনো ব্যথা ভোলেন, কে জানে হয়ত এটা হতে পারে পার্সিয়ান মেসেঞ্জার সিন্ড্রোম, হয়ত থুরাই তাদের কোন ধর্মগ্রন্থই দেন নি, ফলে তাদের রাগ গিয়ে পড়ে বাহক গরুটির উপরে, যেমন প্রাচীন পারস্যের রাজাদের কাছে খারাপ খবর নিয়ে গেলে দূতের কপালে জুটত মৃত্যুদণ্ড; অথবা স্কেইপগট হাইপোথিসিস যা দার্শনিক রেনে জিরার্দের আলোচনার এক মূল স্তম্ভ, পৃথিবীর ইতিহাসে কালে কালে এমন হয়েছে, যখন কোন এলাকায় দেখা গেছে কোন দূর্যোগ বা দূর্ভিক্ষ, যখন নেমে এসেছে খারাপ সময় তখন ঐ জনপদের মানুষ একজন দোষী ব্যক্তি বের করেছে এবং তাকে হত্যা করে পরিত্রাণ পেতে চেয়েছে সেই খারাপ সময় হতে; ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক জায়গায় তা হয়েছে মানুষ, অনেক জায়গায় অন্য কোন প্রাণী, পরবর্তীতে এই নিয়েই তারা তৈরি করেছে মিথ তথা পুরানকাহিনী; এখানে সব প্রাণীদেরই আমি ব্যক্তি বলছি, একে ভুল হিসেবে ধরে নেবেন না, আমি সচেতনভাবেই বলছি এবং এতে কোন ভুল নেই;

গল্প বলতে শুরু করে বিভিন্ন অযথা কথা বলছি এমন অনেকের মনে হতে পারে এ পর্যন্ত পড়ে, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এই ভূমিকাটি দরকার ছিল, কারণ পাঠকের মনে থাকা প্রয়োজন যে পৃথিবীতে তিনি বাস করেন তা বড় অদ্ভুত এবং এই বিষয়টি মনে থাকা এই গল্প পাঠের জন্য অতীব দরকারি, এবং তা হলেই কেবল এই গল্পটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে; এবং পাঠক তার খোলা মন নিয়ে গল্পটি গ্রহণ করতে পারবেন, কারণ এই বিপুলা ধরণী, এখানে কত কিছু যে আছে তার শেষ নেই, এখানে সবই সম্ভব এবং সত্য ও মিথ্যা এখানে এত নিবিড়ভাবে এবং বহুমুখী রূপ নিয়ে অবস্থান করে যে একটাকে ছাড়া আরেকটার চলে না, আর হঠাৎ কখনো, কোন এক মোক্ষম সুযোগে খামচি দিয়ে একটাকে ধরে ফেললেও শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না হাতের মুঠির ভেতরে কে আছে!

শহরে রোদ পড়ে এসেছিল সেদিন, একটি দারুণ আবহাওয়া, শহর জমজমাট, এখানে সেখানে মানুষ, নানা ধরনের গাড়ি, মানুষজনের বিচিত্র বেশভূষা এবং প্রযুক্তিগত যে উন্নয়ন তা বিশ বছর আগেও প্রায় কল্পনা করা যেত না; উন্নত সব যোগাযোগ যন্ত্র সবার হাতে হাতে, তা দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায় পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে; রাস্তাঘাট দোকানপাট সব ঝকঝকে তকতকে; মানুষজন খুবই ব্যস্ত এবং তারা আসলে ঠিক কী নিয়ে ব্যস্ত তার সব বর্ণনা করা সম্ভব না, তবে যখন কসাইখানা থেকে গরুটি বের হয়ে সোজা রাস্তায় গুরুগম্ভীর মেজাজে হেঁটে যেতে লাগল তখন দেখা গেল উৎসাহী জনতার ভীড়; তারা প্রথমে ভ্রু কুঞ্চিত করে গরুটি দেখল এবং গরুটি পাত্তাও দিল না, তার বড় চোখ দু’টি সোজা সামনের দিকে রেখে এগিয়ে যেতে লাগল ট্রাফিক সিগনাল না মেনেই; একথা নিশ্চিত করেই বলা যায় এমন ঘটনা যদি আজ থেকে বিশ বছর আগে হতো তাহলে তেমন কোন ব্যাপারই ছিল না, তখন রাস্তায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ থাকত, ওরা তখন গরুটির ব্যাপারে একটা হেস্থনেস্থ করেই ফেলত; কিন্তু এখন যখন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নেই এবং চলমান গাড়িগুলিতে চালকও নেই ফলে গরুটির রাস্তা দিয়ে গুরুগম্ভীর চলাফেরা এক অনাবশ্যক জটিলতা তৈরি করে ফেলল, কারণ গাড়িগুলি থেমে গেছে, এর কারণ হলো চালকবিহীন গাড়ি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে নিকট দূরত্বে যদি কোন প্রাণীর উপস্থিতি টের পায় তাহলে সে নিজে নিজেই থেমে যায়, এটা কেমন করে করা হলো আমি তা বলতে পারব না, হয়ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহার করা হয়েছে এইসব গাড়িদের নির্মানে; তাই তারা থেমে গিয়েছিল এবং তাদের এই থেমে যাওয়া যানযটের সৃষ্টি করল আর গাড়িগুলির ভেতরে অবস্থানকারী মানুষেরা অবাক হলো কারণ তারা এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়নি স্মরণকালে; ড্রোনচালিত কিছু ক্যামেরা উড়ে উড়ে এসে গরুটির ছবি তুলতে লাগল আর ভিডিও করতে লাগল এবং এগুলি সরাসরি চলে যেতে লাগল টিভি মিডিয়ায়; আর তা দেখতে দেখতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিইও মিসেস চৌধুরী তার বিশাল নিতম্বটি চেয়ারে রাখতে রাখতে বললেন, ‘ইন্টারেস্টিং বিষয়’, অনেকদিন পরে টিভিতে কোন একটি নিউজ দেখে তিনি কোন কিছু উচ্চারণ করলেন;

কী কারণে গরুটির মেজাজ বিগড়ে গিয়েছিল তা বলা যায় না, মিসেস চৌধুরীর উক্তি তার কান পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল একথা জোর দিয়ে বলা যায় না, যদিও সে মিসেস চৌধুরীর অফিস কক্ষ থেকে তেপান্ন হাত দূরে ছিল মাত্র; এমন হতে পারে উড়ন্ত ড্রোনগুলি তার মেজাজ খারাপ করে দিয়েছিল বা অন্য কোন কারণও হতে পারে, গরুটি হঠাৎ তার সামনের পেছনের গাড়িগুলিকে গুঁতাতে শুরু করল, আর যেসব আধুনিক মানুষগুলি শপিং মল থেকে ব্যাগ হাতে বের হচ্ছিলেন তারা দৌঁড়াতে লাগলো, এমনভাবে দৌড়াতে লাগল যেন সে বুলফাইটের এক উন্মত্ত ষাঁড় কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দেখে একথা নিশ্চিতরূপেই বলা যায় সে কোন ষাঁড় নয়, সে একটি স্ত্রী গরু;

মানুষেরা হঠাৎ করে যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল অল্পক্ষণের জন্য এবং অতঃপর তারা যে যেদিকে পারলো ছুটতে লাগল, যেন রবার্ট ক্লাইভ দৌড়াচ্ছেন পলাশীর যুদ্ধে নবার সিরাজের সৈন্যদের অথবা কোন রাগী মা জালি বেত হাতে তার দুষ্ট সন্তানদের বেদম প্রহারের অভিপ্রায়ে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, ছেলেরা কিছু একটা করেছে, হয়ত ইস্কুল কামাই বা অন্য কিছু, নিশ্চিত করে বলা যায় না, গরুটির দৌঁড়ানোর সঙ্গে রাগী মা’য়ের তুলনাটি যুৎসই হয় বেশী, কারণ এই মানব সন্তানেরা দিনে দুইবার গ্লাসে করে, এবং কয়েকবার আরো নানাবিদ খাদ্যের সঙ্গে গরুর দুগ্ধ পান করে, আর দুগ্ধ দেন যিনি তিনিই তো মা, ফলে এই যুক্তিতে গরুটি একরকম মা’ই ছিল শহরের এইসব লোকদের, যদিও তারা কখনোই তা স্বীকার করবে না, তথাপি এখানে যে অবস্থাটির বর্ণনা চলছে, গরুটি তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল কতিপয় মানবসন্তানদের, এর সঙ্গে পুর্ণ বর্ণনা দিতে গিয়েই এই মা এবং দুগ্ধ বিষয়ের অবতারানা এখানে; মা এবং দুগ্ধ অতি অবশ্যই জগতের দুই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, মায়ের মধ্যে যে দুগ্ধ আসে তা কেবল তার সন্তানের জন্যই, গরু কিংবা মানুষ মা, ব্যক্তিটি যেই হোন না কেন, ফলে সন্তানের অধিকারই দুগ্ধে বেশী থাকার কথা; যে গরুটি আজ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে, শহরবাসীদের গুঁতিয়ে বেড়াচ্ছে, সে সর্বপ্রথম মা হয়েছিল আজ থেকে পাঁচ বছর আগে; কিন্তু আশ্চর্জনক ঠেকতে পারে অনেকের কাছে সে তার কোন সন্তানকে দেখতেও পারে নি, তাদের দুগ্ধ দান তো দূরের কথা;


সে রোগগ্রস্থ, তার গায়ে বাসা বেঁধেছে নানা প্রকার রোগ, যে দুগ্ধ উৎপন্নকারী খামারে তার জন্ম, জন্মের এক বছর পরেই তার শরীরে কৃত্রিমভাবে পুরুষ গরুর সিমেন প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়েছিল, যাতে সে গর্ভবতী হয় এবং সেই খামারেই সে দুগ্ধ উৎপাদন করে গেছে এবং সেখান থেকেই গত তিনদিন আগে তাকে শহরের বিখ্যাত কসাইখানা বজলু এন্ড সনস এ স্থানান্তরিত করা হয়, উদ্দেশ্য তাকে হত্যা করা এবং তার গায়ের মাংস বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরার হেঁসেলে যাবার কথা ছিল এবং তার গায়ের চামড়া যাবার কথা ছিল একটি অত্যাধুনিক ট্যানারিতে, সেখান থেকে লবন ও নানাবিদ দ্রব্যের সঙ্গে মিশে প্রক্রিয়াজাত হয়ে সেই চামড়া যেত জুতা তৈরি কারক একটি প্রতিষ্ঠানে, তারা খুবই উৎকৃষ্ট জুতা বানায়, সেসব জুতা পরে হাঁটেন শহরের লোকজন, তাদের দেখতে দারুণ লাগে বলে তারা মনে করেন, নগরের স্থানে স্থানে সুদৃশ্য পায়ে চামড়ার দামী জুতা পরা নানা স্ত্রীলোকের ছবি আপনারা দেখে থাকবেন, এবং লক্ষ করলে এইসব বিলবোর্ডের আশেপাশে এমন ব্যক্তিদেরও আপনারা পাবেন যারা বিলবোর্ডের ছবিটির পা দেখতে দেখতে গভীর ফুটফেটিশে ডুবে আছেন, নগরের লোকদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল, পুরুষদের মধ্যে সুদৃশ্য পায়ের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে বলে বিরাট প্রতিবেদন ছেপেছিল মাস ছয়েক আগে একটি অগ্রগন্য অভিজাত ফ্যাশন পত্রিকা, এবং এরপরেই প্রায় সব ধরনের মিডিয়া এতে উঠেপড়ে লেগেছে, আর সুদৃশ্য জুতার ব্যবসা হু হু করে বেড়ে চলেছে আর একই হারে মানুষের মধ্যে বেড়ে যাচ্ছে সুন্দর পায়ের প্রতি আকর্ষণ, কিন্তু এখানেও এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না এই আকর্ষ্ণ এমনিতেই বেড়েছে না মিডিয়ার অত্যধিক প্রচারণার জন্য বেড়ে যাচ্ছে, কারণ এটা একটি ধারণা যে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় অন্যের আকাঙ্ক্ষাকে অনুকরণ করার মধ্য দিয়ে, বেশী লোক যেটাকে চাইছে তাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠে, এটাকে ঘিরেই প্রতিযোগীতা তৈরি হয়, যেমন আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে শহরের পুরুষদের মধ্যে বিরাট নিতম্বের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল, তখন রাস্তাঘাটে নানাবিদ বিলবোর্ডের ছবিতে দেখা যেত বড় নিতম্বওয়ালা মহিলাদের ছবি, এমনকী টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনেও নিতম্বকে সামনে আনা হত, একই বিজ্ঞাপন যদি এখন কেউ দেখেন তবে তার অদ্ভুত লাগবে, তিনি ভাববেন, ‘এটা কী, নিতম্বের সঙ্গে টুথপেস্টের কী সম্পর্ক!’ কিন্তু তখন ব্যাপারটা কার্যকরী ছিল, কারণ নিতম্ব যখন একচেটিয়াভাবে সমাজের মধ্যে জনপ্রিয়, তখন নিতম্বওয়ালা কোন নারী যা বলবে বিজ্ঞাপনে তাতে লোকের বেশী কনভিন্স হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, এমন বলে থাকেন বিজ্ঞাপন বিশারদেরা, যাইহোক, এখন আর নিতম্বের দিন নেই, অফিসের চেয়ারে বসে বসে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে গিয়ে মিসেস চৌধুরী যখন বিজ্ঞাপনে জুতা ও পা দেখেন তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন, কারণ তার পা আরো সুন্দর করার বয়েস আর নেই, প্লাস্টিক সার্জারি করা যেত কিন্তু তাতে তিনি আর আগ্রহ পান, নিতম্বের জনপ্রিয়তার যুগে নিজের নিতম্ব বাড়িয়েছিলেন প্লাস্টিক সার্জারি করে, কিন্তু তাও ভুল হয়েছিল বলে এখন তিনি মনে করেন, হঠাৎ একদিন আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে এই উপলব্ধি আসে তার, যাদের আকর্ষণের জন্য তিনি কাজটি করেছিলেন তাদের আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন তা ঠিক আছে, কিন্তু তারা কেউই তার সঙ্গে রয় নি, এবং তিনি এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন যে মানব সম্পর্কগুলি জটিল হয় আর তাতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের মত আরো কিছু রহস্যময় জিনিস কাজ করে;

মিসেস চৌধুরীর দুই ছেলে, তাদের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয় না অনেকদিন, প্রায় তেরো বছর হবে, তবে কিছুদিন পর পর তারা ভিডিওচ্যাটে তার খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করেছে, মিসেস চৌধুরী তার বড় ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা অনুভব করেন, ছেলেটি একটি বাজে মামলায় জড়িয়ে গেছে তার এক্স হতে যাওয়া স্ত্রী’র সঙ্গে; বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় অল্প বিস্তর আলাপও হচ্ছে, তার ছেলে একটি রোবটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং এই কারণ দেখিয়েই ছেলের বউ মামলা টুকে দেয় আদালতে, মিসেস চৌধুরী মামলা-মোকদ্দমার কিছু বোঝেন না, তাই তার দুশ্চিন্তা যেন বাড়তে চায়; তার স্বামী শাফাক চৌধুরী থাকলে ভালো হত এমন কখনো কখনো ভাবেন মিসেস চৌধুরী, কিন্তু এ চিন্তাকে তিনি বেশী বাড়তে দেন না, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন তার স্বামী থাকলেও খুব একটা উপকার হত না, বরং অপকারই হত; স্বামীকে খুন করানোর জন্য মিসেস চৌধুরীর মধ্যে কোন রকম অপরাধবোধ কাজ করত না;

যেমন সারা শহরের লোকদের গুঁতিয়ে বেড়ানোর জন্য গরুটির মধ্যেও অপরাধবোধের লেশমাত্রও দেখা যাচ্ছিল না, দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে পড়ে গেল অনেক মানুষ, সিঁড়ি দিয়ে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে পড়ে রইল কেউ, কেউ গরুর শিং এর গুঁতা খেয়ে শূন্যে ভাসতে ভাসতে ছিঁটকে পড়ল; তাদের দেখেই মনে হল এদের কয়েকটি হাড়গোড় ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে গেছে, এইসব গোলমাল খুবই দ্রুত হল, এবং যেহেতু এমন অবস্থা এর আগে হয় নি, আর কেউ কখনো ভাবেও নি এমন কিছু হবে তাই প্রশাসন ভেবে উঠতে পারছিল না কী করবে; অবিশ্বাস্য হলেও সত্য প্রথমে ভাবা হয়েছিল হয়ত এই গরুটি গরু নয়, হয়ত এটি অন্য কিছু, ভীনগ্রহবাসী কোন প্রাণী, কিন্তু পরে ড্রোন থেকে প্রাপ্ত ছবিগুলি বিশ্লেষনের পর নিশ্চিত হওয়া গেল এটি গরুই, বজলু এন্ড সনস্‌ থেকে মিডিয়ায় জানানো হলো যে গরুটি তাদের কসাইখানা থেকেই পালিয়েছে, আর নগরের প্রশাসন পড়ে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঝামেলায়; যদিও নিশ্চিত হওয়া গেছে গরুটি সাধারণ একটি গরুই তবুও এখন একে সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করতে হবে, কারণ মিডিয়াতে শক্তিশালী ভাবে গরুটির খবর চলে গেছে, এরই মধ্যে মোরাল দার্শনিকেরা, পশু অধিকার রক্ষাকর্মীরা তাদের বক্তব্য প্রদান করা শুরু করেছেন, তাই যেনতেন ভাবে গরুটাকে ধরা যাবে না, এবং খুব সহজে এর হাত থেকে নিঃস্কৃতি মিলবে না;


নগরের প্রশাসনিক বিভাগের উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষ গরুটির আক্রমণাত্মক আচরণে একরকম খুশিই হলেন, কারণ এতেই কেবল গরুটিকে নিধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পন্থা অবলম্বন করার ন্যায্যতা তৈরি হয়, অন্যথায় নানা জন নানা কথা বলবে; তবে গরুটি যে ধরনের তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছিল তাতে সব লোকই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, এ কেমন গরু, এমন করছে কেন, জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং করা হয় গরুদের তা আজ থেকে নয়, অনেক আগে থেকে, হরমোন এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় তাদের উপর, অনেক পশুবিজ্ঞানী বলছেন এসবের কারণেই এই গরুটি এমন আচরণ করছে, হয়ত কোনভাবে এগুলি গরুটির মধ্যে বড় কোন পরিবর্তন এনে তাকে হিংস্র করে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা জোর দাবী জানাচ্ছেন এই গরুকে যেন কোন ক্রমেই ক্রসফায়ারে হত্যা করা না হয়, তারা এটি নিয়ে গবেষণা করতে চান; এখানে তাদের ক্রসফায়ার শব্দটি ব্যবহার ঠিক হলো কী না কে জানে, ক্রসফায়ারের অর্থ যদি এমন হয় অপরাধী গুলি ছুঁড়বে আর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুঁড়বে, তাহলে যে অর্থ দাঁড়ায় তা কোনমতেই হবে না কারণ গরুটির পিস্তল ব্যবহার করার ক্ষমতা নেই, ফলে আক্ষরিক গুলি ছোড়াছোড়ি অর্থে বিজ্ঞানীরা ঠিক শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে মনে হয় না;

যাই হোক, একজন বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এই গরু’র হিংসাত্মক আচরণ সম্পর্কে বললেন, ‘গরুর ভেতরে তার গরুত্বের জন্য এক ধরনের ঘৃ্ণা জমা হতে থাকে, কখনো যদি এই ঘৃণা কাজ করা শুরু করে তাহলে গরুটি রক্তের জন্য হিংস্র হয়ে উঠে’; তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণত গরুর প্রকৃতি, মানুষের প্রকৃতি অনেকটা নদীর মত, নদীতে স্তরে স্তরে পলি পড়ে, তেমনি গরু ও মানুষের স্মৃতি স্তরে স্তরে জমা হয়, একস্তরের উপর অন্যস্তর, আরো স্তর পড়লে তারা নিচের স্তরগুলির কথা আস্তে আস্তে ভুলে যেতে থাকে, কিন্তু কখনো কোন কারণে, কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বের স্মৃতিতে আন্দোলন শুরু হতে পারে, যেন নদীতে কোন মাছ হঠাৎ পলির স্তরগুলি ভেদ করে নিচে চলে গেল আর গা ঝাড়া দিতে লাগে, তখন নিচের স্তরের স্মৃতিও ভেসে উঠে, মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি যন্ত্রণা দেয়, আপনারা যারা মানুষ আছেন তারা হয়ত ব্যাপারটা প্রত্যক্ষ করে থাকবেন, গরুর ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ভিন্ন, গরুরা বেশী ভুলে যায় এবং তাদের ভেতরকার স্মৃতিতে জমা ঘৃনাগুলি কার্যকর হবার সুযোগ পায় না, এই গরুর ক্ষেত্রে সেই ঘৃণাটি কার্যকর হয়ে গেছে কোনভাবে, তাই সে এখন রক্তের জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে, কারণ সে বুঝতে পেরেছে এই মানুষই তার এমন জীবনের অন্য দায়ী;’

মিসেস চৌধুরী আগ্রহ নিয়ে গরুটির ব্যাপারে টিভিতে প্রচার হতে থাকা খবরটি দেখলেন, সারা শহরে যানযট লেগে গেছে, তার বাসায় যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু সে চিন্তা বাদ দিয়ে তিনি তার অফিস কক্ষে বসে ল্যাপটপের মনিটরের দিকে তাকিয়ে রইলেন, গরুটির এই ঘটনায় তার অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছে, তার মনে হচ্ছে তার স্বামী শাফাক চৌধুরীর কথা, যিনি মদ্যপ আর অতিরিক্ত পরনারী আসক্ত ছিলেন এবং নিজে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে তিনি তাকে খুন করান, আজ গরুর ঘটনাটির প্রতিক্রিয়ায় তার ঐ ঘটনা মনে পড়ার কারণ নেই, ঘটনাটি হয়েছে প্রায় আট বছর হয়ে গেল, তিনি বেশ ভুলেই ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই আজ প্রথম তিনি অপরাধবোধ অনুভব করতে লাগলেন অল্প অল্প, আর কে না জানে এসব জিনিস বিশাল হবার আগে অল্প অল্প রূপেই শুরু হয়, যেমন হয়ত গরুটির মনে ঘৃণা ফোঁটায় ফোঁটায় জমা হয়েছিল, মিসেস চৌধুরী ভাবছেন আর দেখছেন লাইভ কী হচ্ছে গরুটির সঙ্গে;

গরুটি শহরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেই চলেছে, বেশ ক’জন মানুষ মারা গেছেন এবং কতৃপক্ষ অত্যাধুনিক সোয়াত টিম পাঠিয়েছে গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছে সব, দেখাল কালো পোষাকের সামরিক বাহিনী বেশ ক’টা গুলি করল গরুটিকে লক্ষ্য করে, বিশাল শপিং মলের সামনে গরুটি পড়ে গেল এবং কোনরকম নড়াচড়া ছাড়াই মারা গেল সে...


Avatar: T

Re: গরু ও মানুষের বিবরণ

তুমুল
Avatar: দ

Re: গরু ও মানুষের বিবরণ

বাহ বাহ বাহ বাহ


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন