Arijit Guha RSS feed

Arijit Guhaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তারার আলোর আগুন
    তারার আলো নাকি স্নিগ্ধ হয়, কাল তাহলে কেন জ্বলে মরল বারো, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরো সত্তর জন! তবু মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। আজও রাস্তায় পড়ে এক স্বাস্থ্যবান শ্যামলা যুবক, শেষবারের মতো ডানহাতটা একটু নড়ল। কিছু বলতে চাইল কি ? চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা সশস্ত্র ...
  • 'হারানো সজারু'
    ১এক বৃষ্টির দিনে উল্কাপটাশ বাড়ির পাশের নালা দিয়ে একটি সজারুছানাকে ধেইধেই করে সাঁতার কেটে যেতে দেখেছিল। দেখামাত্রই তার মনে স্বজাতিপ্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ববোধ দারুণভাবে জেগে উঠল এবং সে ছানাটিকে খপ করে তুলে টপ করে নিজের ইস্কুল ব্যাগের মধ্যে পুরে ফেলল। এটিকে সে ...
  • সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - ত্রয়োদশ তথা অন্তিম ভাগ
    অবশেষে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অন্তিমভাগে এসে উপস্থিত হয়েছি। অন্তিমভাগ, কারণ এরপর আমাদের তৃতীয় পর্বে চলে যেতে হবে। লেখা কখনও শেষ হয় না। লেখা জোর করেই শেষ করতে হয়; সেসব আমরা আগেই আলোচনা করেছি।তবে গল্পগুলো শেষ করে যাওয়া প্রয়োজন কারণ এই পর্বের কিছু গল্প পরবর্তী ...
  • প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..
    'তারা' আসেন, বিলক্ষণ!ক্লাস নাইনযষ্ঠীর সন্ধ্যে। দুদিন আগে থেকে বাড়াবাড়ি জ্বর, ওষুধে একটু নেমেই আবার উর্ধপারা।সাথে তীব্র গলাব্যাথা, স্ট্রেপথ্রোট। আমি জ্বরে ঝিমিয়ে, মা পাশেই রান্নাঘরে গুড় জ্বাল দিচ্ছেন, দশমীর আপ্যায়ন-প্রস্তুতি, চিন্তিত বাবা বাইরের ...
  • জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান
    Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে, “…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন ...
  • 'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
    'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'ঝুমা সমাদ্দার।ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার ...
  • পাছে কবিতা না হয়...
    এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই ...
  • মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক
    আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় ...
  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?
    মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের ...
  • উন্নয়নের তলায় শহিদদের সমঝোতা
    আশা হয়, অনিতা দেবনাথরা বিরল বা ব্যতিক্রমী নন। কোচবিহার গ্রামপঞ্চায়েতের এই তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দলের বেআব্রু ভোট-লুঠ আর অগণতন্ত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই তামাশায় তাঁর তরফে কোনও উপস্থিতি থাকবে না। ভোট লড়লে অনিতা বখেরা পেতেন, সেলামি পেতেন, না-লড়ার জন্য ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

টুকরোটাকরা ৬

Arijit Guha

১৯৫১ সালে অশোক কুমারের আহ্বানে সারা দিয়ে বম্বে টকিজের ব্যানারে নিউ থিয়েটার্স ছেড়ে বিমল রায় তার ইউনিটের একাংশ নিয়ে বম্বে চলেছেন হিন্দি সিনেমা বানাবেন বলে।ইউনিটের সদস্যরা হচ্ছেন প্রধান সহকারী অসিত সেন,এডিটর হৃষিকেশ মুখার্জি, পল মহেন্দ্র, চিত্রনাট্যকার এবং সহকারী নবেন্দু ঘোষ।হ্যা, এনারা প্রত্যেকেই পরে বলিউড কাঁপানো এক একজন নামী শিল্পী হবেন, কিন্তু তখন কেউই তাদের চেনে না।
বম্বেতে তাদের স্থান হয় বনবিহার নামের একটা তিনতলা বাড়ির একদম ওপরের ফ্ল্যাটে।সেই সময়কার পশ্চিম বাংলার বিখ্যাত সুন্দরী অভিনেত্রী সুমিত্রাদেবী নিতীন বসুর পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের নৌকাডুবিতে অভিনয় করার জন্য বম্বে টকিজে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।শুটিং শেষ হওয়ার পর সুমিত্রাদেবীকে থাকার যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল সেটা খালিই পরে ছিল।সেই খালি ফ্ল্যাটেই থাকতে এলেন অসিত সেন হৃষিকেশ মুখার্জি নবেন্দু ঘোষ আর পল মহেন্দ্র।পল মহেন্দ্রর শালা থাকতেন বম্বেতে।তার সাহায্যে কয়েকদিন বাদেই অন্য একটা ফ্ল্যাট খুঁজে পেলেন যেখানে উনি ওনার পরিবার নিয়ে থাকবেন।কেউ তখনো বম্বে টকিজ থেকে মাহিনা পান নি।পল মহেন্দ্রর শালা তাকে সেলামির টাকা ধার হিসেবে দিয়েছেন বলে উনি নিজের ফ্ল্যাট জোগাড় করতে পেরেছেন।যেদিন পল মহেন্দ্র চলে যাবেন সেদিন নবেন্দু ঘোষকে ডেকে বললেন, 'দাদা এক বাত বোলু,আপ কেয়া ছুপ ছুপকে আপকে বিবিকা ফটো দেখতে হ্যায়?'
নবেন্দু ঘোষ জিজ্ঞাসা করলেন কৌন বোলা?
উস দিন অসিত বাবু নে হৃষি বাবু কো বোল রাহা থা কে আপ দেখতে হ্যায়, লেকিন আপ কিসিকো মেরা নাম নেহি বোলিয়েগা।
নবেন্দু ঘোষ জিজ্ঞাসা করলেন, তো হৃষি বাবু নে কেয়া বোলা সুনকে?
হৃষি বাবু মুসকুরাতে হুয়ে বোলা বেচারা নবেন্দু।

পল মহেন্দ্র ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গেছেন।তিনজনে থাকেন এখন।একদিন অসিত সেন বললেন আমাকে একটু বেরোতে হবে।বিমল দা ডেকেছেন।বলে বেরিয়ে গেলেন উনি।
নবেন্দু ঘোষ কদিন ধরেই তক্কে তক্কে রয়েছেন দুজনে লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের স্ত্রীদের ছবি দেখে কিনা ধরার জন্য।অসিত সেন বেরিয়ে যাওয়ার পর নবেন্দু ঘোষ নিজের বিছানায় মটকা মেরে শুয়ে রয়েছেন।আড় চোখে দেখলেন হৃষিকেশ মুখার্জি একটা বই পড়ছেন আর মাঝে মাঝে উদাস হয়ে তাকাচ্ছেন।বইয়ের পাতা আর উল্টোচ্ছে না।তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলেন নবেন্দু ঘোষ।কি পড়ছেন হৃষিবাবু বলে হুড়মুড়িয়ে হৃষিকেশ বাবুর ঘাড়ের কাছে চলে এলেন নবেন্দু ঘোষ।বইয়ের পাতার মাঝে দুটো ছবি ঢাকা দিতে দিতে বললেন না না একটু ছেলে মেয়েদের ছবি দেখছিলাম।
ও আচ্ছা।আর ছেলে মেয়েদের ছবির পাশে ওটা বুঝি ছেলে মেয়েদের মায়ের ছবি।
হৃষিকেশ মুখার্জি একটু লজ্জা লজ্জা গলায় বললেন হ্যা।
নবেন্দু ঘোষ বললেন আপনিও তো দেখছি আমার মত বেচারা।
হৃষিকেশ মুখার্জি তখন নবেন্দু ঘোষকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনাকে কেউ কিছু বলেছে?
নবেন্দু ঘোষ বললেন, আমি কারো নাম করব না।
হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন পলটা কিছু বলেছে না?
নবেন্দু ঘোষ মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন।হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন সেদিন অসিত বলছিল..
হ্যা,আমি নাকি আমার বৌয়ের ছবি দেখি লুকিয়ে লুকিয়ে।হৃষিকেশ মুখার্জিকে শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠলেন নবেন্দু ঘোষ।দাদা আমাকে সাহায্য করুন এবার।ওই অসিতটাকে ধরতে হবে।
ঠিক বলেছেন।আমরা দুজনেই ধরা পড়ে গেছি।এবার অসিতের পালা।

এরপর একদিন অসিত সেন নিজের ঘরে সিনেমার স্ক্রিপ্ট বিছানায় রেখে একহাতে পেন আরেক হাতে একটা পোষ্ট কার্ড ফটো নিয়ে ফটোটাকে মনোযোগ দিয়ে দেখে যাচ্ছে।হৃষিকেশ।মুখার্জি ইশারা করে নবেন্দু ঘোষকে ডেকে নিয়ে অসিত সেনকে বলেন 'কোন নায়িকার ছবি দেখছিস রে'
অসিত সেন বলেন, আরে দূর,নায়িকা কেন হবে।আমার স্ত্রীর ছবি দেখছি।
এই কথা বলতেই সাথে সাথে নবেন্দু ঘোষ অসিত সেনের সামনে গিয়ে বললেন, যাক আরেক বেচারাকেও খুঁজে পাওয়া গেল।
অসিত সেন সবই বুঝতে পারাতে তিনজনেই জোরে হেসে উঠলেন।
অসিত সেন বলে উঠলেন, আমরা তিন দিওয়ানা।
পাশ থেকে হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন, একটা ভালো সিনেমার নাম হতে পারে কিন্তু।

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন