Arijit Guha RSS feed

Arijit Guhaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আরও একটি ভ্রমণ কাহিনী - কুমায়ুনে চারদিন
    প্রাককথনযেমন আর পাঁচটা বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়, কোথায় যাওয়া হবে, তারিখ, ফেরা কবে, কতদূর যাব এইসব টালবাহানা চলে, এবারেও ঠিক তাই ছিল। তা, সেই পর্ব মিটে যায় ভালোয় ভালোয়। আরও একটা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন থাকে, তবু তার বাইরেও অনেকটা অনিশ্চয়তা থাকে, ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...
  • #বাহামণিরগল্প
    অনেক অনেক দূরে শাল বনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটা লাল মাটির পথ ছিল আর পথের শেষে ছোট্ট একটা গ্রাম। সেই গ্রামে একটা ছোট্ট মেয়ের বাড়ি। জানি এ পর্যন্ত পড়েই আপনারা ভুরু কুঁচকে ভাবছেন, এ আর নতুন কথা কি? পথের শেষে গ্রাম থাকবেই আর সে গ্রামে যে একটা না একটা মেয়ে ...
  • হেতিমগঞ্জ বাজার
    নিলয় সেইদিন আমাদের আইসা বলে যে বিজনপুর নামে একটা জায়গা আছে এবং সেখানে অতি অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটে গেছে, একটি মেয়ে আচানক মাছে পরিণত হইছে। তাও পুরা মাছ না, অর্ধেক মাছ। আমাদের জীবন সমান্তরালে বইতে থাকা নদীর প্রবাহ বিশেষ, এতে কোন বিরাট ঢেউ কিংবা উথাল পাতাল ...
  • জলধরবাবুর ভগ্নাংশ
    ম্যাঘে ম্যাঘে ব্যালা গড়িয়ে আসে। নয় নয় করেও পঞ্চাশের ধাক্কা বয়েস হতে চলল জলধরবাবুর। তবে আজকাল পঞ্চাশ-টঞ্চাশ নস্যি। পঁচাশি-নব্বই পার করে দিচ্ছে লোকে হাসতে হাসতে। এ তো আর শরৎবাবুর আমলের নাটক-নবেল নয় যে চল্লিশ পেরোলেই পুরুষমানুষ সুযোগ্য ছেলের হাতে সংসারের ...

টুকরোটাকরা ৬

Arijit Guha

১৯৫১ সালে অশোক কুমারের আহ্বানে সারা দিয়ে বম্বে টকিজের ব্যানারে নিউ থিয়েটার্স ছেড়ে বিমল রায় তার ইউনিটের একাংশ নিয়ে বম্বে চলেছেন হিন্দি সিনেমা বানাবেন বলে।ইউনিটের সদস্যরা হচ্ছেন প্রধান সহকারী অসিত সেন,এডিটর হৃষিকেশ মুখার্জি, পল মহেন্দ্র, চিত্রনাট্যকার এবং সহকারী নবেন্দু ঘোষ।হ্যা, এনারা প্রত্যেকেই পরে বলিউড কাঁপানো এক একজন নামী শিল্পী হবেন, কিন্তু তখন কেউই তাদের চেনে না।
বম্বেতে তাদের স্থান হয় বনবিহার নামের একটা তিনতলা বাড়ির একদম ওপরের ফ্ল্যাটে।সেই সময়কার পশ্চিম বাংলার বিখ্যাত সুন্দরী অভিনেত্রী সুমিত্রাদেবী নিতীন বসুর পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের নৌকাডুবিতে অভিনয় করার জন্য বম্বে টকিজে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।শুটিং শেষ হওয়ার পর সুমিত্রাদেবীকে থাকার যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল সেটা খালিই পরে ছিল।সেই খালি ফ্ল্যাটেই থাকতে এলেন অসিত সেন হৃষিকেশ মুখার্জি নবেন্দু ঘোষ আর পল মহেন্দ্র।পল মহেন্দ্রর শালা থাকতেন বম্বেতে।তার সাহায্যে কয়েকদিন বাদেই অন্য একটা ফ্ল্যাট খুঁজে পেলেন যেখানে উনি ওনার পরিবার নিয়ে থাকবেন।কেউ তখনো বম্বে টকিজ থেকে মাহিনা পান নি।পল মহেন্দ্রর শালা তাকে সেলামির টাকা ধার হিসেবে দিয়েছেন বলে উনি নিজের ফ্ল্যাট জোগাড় করতে পেরেছেন।যেদিন পল মহেন্দ্র চলে যাবেন সেদিন নবেন্দু ঘোষকে ডেকে বললেন, 'দাদা এক বাত বোলু,আপ কেয়া ছুপ ছুপকে আপকে বিবিকা ফটো দেখতে হ্যায়?'
নবেন্দু ঘোষ জিজ্ঞাসা করলেন কৌন বোলা?
উস দিন অসিত বাবু নে হৃষি বাবু কো বোল রাহা থা কে আপ দেখতে হ্যায়, লেকিন আপ কিসিকো মেরা নাম নেহি বোলিয়েগা।
নবেন্দু ঘোষ জিজ্ঞাসা করলেন, তো হৃষি বাবু নে কেয়া বোলা সুনকে?
হৃষি বাবু মুসকুরাতে হুয়ে বোলা বেচারা নবেন্দু।

পল মহেন্দ্র ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গেছেন।তিনজনে থাকেন এখন।একদিন অসিত সেন বললেন আমাকে একটু বেরোতে হবে।বিমল দা ডেকেছেন।বলে বেরিয়ে গেলেন উনি।
নবেন্দু ঘোষ কদিন ধরেই তক্কে তক্কে রয়েছেন দুজনে লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের স্ত্রীদের ছবি দেখে কিনা ধরার জন্য।অসিত সেন বেরিয়ে যাওয়ার পর নবেন্দু ঘোষ নিজের বিছানায় মটকা মেরে শুয়ে রয়েছেন।আড় চোখে দেখলেন হৃষিকেশ মুখার্জি একটা বই পড়ছেন আর মাঝে মাঝে উদাস হয়ে তাকাচ্ছেন।বইয়ের পাতা আর উল্টোচ্ছে না।তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলেন নবেন্দু ঘোষ।কি পড়ছেন হৃষিবাবু বলে হুড়মুড়িয়ে হৃষিকেশ বাবুর ঘাড়ের কাছে চলে এলেন নবেন্দু ঘোষ।বইয়ের পাতার মাঝে দুটো ছবি ঢাকা দিতে দিতে বললেন না না একটু ছেলে মেয়েদের ছবি দেখছিলাম।
ও আচ্ছা।আর ছেলে মেয়েদের ছবির পাশে ওটা বুঝি ছেলে মেয়েদের মায়ের ছবি।
হৃষিকেশ মুখার্জি একটু লজ্জা লজ্জা গলায় বললেন হ্যা।
নবেন্দু ঘোষ বললেন আপনিও তো দেখছি আমার মত বেচারা।
হৃষিকেশ মুখার্জি তখন নবেন্দু ঘোষকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনাকে কেউ কিছু বলেছে?
নবেন্দু ঘোষ বললেন, আমি কারো নাম করব না।
হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন পলটা কিছু বলেছে না?
নবেন্দু ঘোষ মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন।হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন সেদিন অসিত বলছিল..
হ্যা,আমি নাকি আমার বৌয়ের ছবি দেখি লুকিয়ে লুকিয়ে।হৃষিকেশ মুখার্জিকে শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠলেন নবেন্দু ঘোষ।দাদা আমাকে সাহায্য করুন এবার।ওই অসিতটাকে ধরতে হবে।
ঠিক বলেছেন।আমরা দুজনেই ধরা পড়ে গেছি।এবার অসিতের পালা।

এরপর একদিন অসিত সেন নিজের ঘরে সিনেমার স্ক্রিপ্ট বিছানায় রেখে একহাতে পেন আরেক হাতে একটা পোষ্ট কার্ড ফটো নিয়ে ফটোটাকে মনোযোগ দিয়ে দেখে যাচ্ছে।হৃষিকেশ।মুখার্জি ইশারা করে নবেন্দু ঘোষকে ডেকে নিয়ে অসিত সেনকে বলেন 'কোন নায়িকার ছবি দেখছিস রে'
অসিত সেন বলেন, আরে দূর,নায়িকা কেন হবে।আমার স্ত্রীর ছবি দেখছি।
এই কথা বলতেই সাথে সাথে নবেন্দু ঘোষ অসিত সেনের সামনে গিয়ে বললেন, যাক আরেক বেচারাকেও খুঁজে পাওয়া গেল।
অসিত সেন সবই বুঝতে পারাতে তিনজনেই জোরে হেসে উঠলেন।
অসিত সেন বলে উঠলেন, আমরা তিন দিওয়ানা।
পাশ থেকে হৃষিকেশ মুখার্জি বললেন, একটা ভালো সিনেমার নাম হতে পারে কিন্তু।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন