Arijit Guha RSS feed

Arijit Guhaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

টুকরোটাকরা_৫

Arijit Guha

'শো ম্যান অফ দ্যা মিলেনিয়াম' এমনি এমনি হওয়া যায় না।সব তো আর হরলিক্স নয় যে লোকে রাজ কাপুরকে এমনি এমনি খাবে।রাজ কাপুর নিজেও হয়ত জানতেন না সিনেমার প্রতি তার দায়বদ্ধতা কোন জায়গায় নিয়ে গেছেন উনি।সেটা যারা তার সাথে কাজ করেছে তারাই বলতে পারে।তার লিপে কেউ যদি প্লে ব্যাক করেন তাহলে সেই শিল্পীর রিহার্সালের সময়টা পুরোটা থেকে গানটা তুলতেন এবং গান গাওয়ার সময় গায়ক কিভাবে অঙ্গভঙ্গি করেন সেগুলো খুব খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতেন।এরপর গানটা যখন সিনেমায় ব্যাবহার করা হত তখন ঠিক সেই ভাবেই গানের সাথে এক্সপ্রেশনগুলো দিতেন যেগুলো গায়ক গান গাওয়ার সময় দিয়েছিলেন।
মেরা নাম জোকার সিনেমায় এ ভাই জারা দেখ কে চলো গানটা রিহার্সাল থেকে শুরু করে ফাইনাল টেক অবদি রাজ কাপুর পুরো সময়টা মান্না দের সাথে সাথে লেপ্টে থেকেছেন।যখনই সময় পেয়েছেন রাজ কাপুর বলছেন মান্না দে কে, 'দাদা এক জন জোকারের লাইফ খুন দুঃখের।তার হাসি দেখে লোকে হাসে তার বোকামি দেখে লোকে।হাসে এমনকি সে যখন দুঃখ পায় তখনো তার দুঃখ দেখে লোকে হাসে।আপনি গানটি এমনভাবে গান যাতে পথচলতি লোকে তার পাশের লোকের দিকে তাকিয়ে বলতে পারে 'এ ভাই জারা দেখ কে চলো'।প্রসঙ্গত রাজ কাপুরের এই কথার অনেক বছর পরে হাল আমলের একজন ছোট পর্দার কমেডি পারফর্মার একই কথা একটু অন্য ভাবে বলে একটা ঘটনার কথা বলেছিলেন।বলছিলেন লোকে।আমাদের কি ভাবে আমরা ভেবে পাই না।বন্ধুর বাবা মারা যাওয়ার পর বন্ধুর সাথে শ্মশানঘাটে যাওয়াতে ওখানে লোকজন ওনাকে ঘিরে ধরে বলছে দাদা কিছু একটা মজার জিনিস করে দেখান।তো যাই হোক, মান্না দে গানটার যেদিন ফাইনাল রেকর্ডিং করছেন সেদিন উনি দেখছেন রাজ কাপুর কাচের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে গানটার সাথে লিপ মিলিয়ে নেচে নেচে অভিনয় করে চলেছেন।গানটার অসাধারণ পিকচারাইজেশন মনে আছে নিশ্চয়ই।লাগা চুনরি মে দাগ গানটার লিপ মেলানো দেখে মান্না দে পর্যন্ত নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেন নি যে গানটা উনি গেয়েছেন না রাজসাহেব।

লতা মঙ্গেশকর সাধারণত সব গানই একবার টেক করতেন এবং একবারেই ওকে হত।সত্যম শিবম সুন্দরম গানটা যখন গাওয়া হল, সেটা প্রথমবারে ওকে হল।সবাই শুনে লতাজির খুব প্রশংসাও করলেন খুব ভালো হয়েছে বলে।রাজকাপুর শুনেই একবারে নাকচ করে দিলেন।অন্য কোনো পরিচালক হলে হয়ত লতাজিকে কিছুই বলতে পারতেন না।কিন্তু রাজকাপুর অন্য ধরনের লোক।লতাজিকে এরপর ডেকে বললেন ওটা একটা দশ বারো বছরের মেয়ের গলায় গান।তোমাকেও ওরকম ভাবেই গাইতে হবে।
শিল্পীরা ঠিকই শিল্পীদের বোঝে।ওই কথা শোনার পর লতা মঙ্গেশকর দশ বছরের পদ্মিনী কোলাপুরিকে ডেকে তার সাথে অনেকক্ষণ ধরে নানান গল্প করে গেলেন।তারপর যখন গানটা গাইলেন কেউ বুঝতেও পারল না যে সত্যি ওটা কোন বাচ্চা মেয়ে গায় নি।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন