Arijit Guha RSS feed

Arijit Guhaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

টুকরোটাকরা_৫

Arijit Guha

'শো ম্যান অফ দ্যা মিলেনিয়াম' এমনি এমনি হওয়া যায় না।সব তো আর হরলিক্স নয় যে লোকে রাজ কাপুরকে এমনি এমনি খাবে।রাজ কাপুর নিজেও হয়ত জানতেন না সিনেমার প্রতি তার দায়বদ্ধতা কোন জায়গায় নিয়ে গেছেন উনি।সেটা যারা তার সাথে কাজ করেছে তারাই বলতে পারে।তার লিপে কেউ যদি প্লে ব্যাক করেন তাহলে সেই শিল্পীর রিহার্সালের সময়টা পুরোটা থেকে গানটা তুলতেন এবং গান গাওয়ার সময় গায়ক কিভাবে অঙ্গভঙ্গি করেন সেগুলো খুব খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতেন।এরপর গানটা যখন সিনেমায় ব্যাবহার করা হত তখন ঠিক সেই ভাবেই গানের সাথে এক্সপ্রেশনগুলো দিতেন যেগুলো গায়ক গান গাওয়ার সময় দিয়েছিলেন।
মেরা নাম জোকার সিনেমায় এ ভাই জারা দেখ কে চলো গানটা রিহার্সাল থেকে শুরু করে ফাইনাল টেক অবদি রাজ কাপুর পুরো সময়টা মান্না দের সাথে সাথে লেপ্টে থেকেছেন।যখনই সময় পেয়েছেন রাজ কাপুর বলছেন মান্না দে কে, 'দাদা এক জন জোকারের লাইফ খুন দুঃখের।তার হাসি দেখে লোকে হাসে তার বোকামি দেখে লোকে।হাসে এমনকি সে যখন দুঃখ পায় তখনো তার দুঃখ দেখে লোকে হাসে।আপনি গানটি এমনভাবে গান যাতে পথচলতি লোকে তার পাশের লোকের দিকে তাকিয়ে বলতে পারে 'এ ভাই জারা দেখ কে চলো'।প্রসঙ্গত রাজ কাপুরের এই কথার অনেক বছর পরে হাল আমলের একজন ছোট পর্দার কমেডি পারফর্মার একই কথা একটু অন্য ভাবে বলে একটা ঘটনার কথা বলেছিলেন।বলছিলেন লোকে।আমাদের কি ভাবে আমরা ভেবে পাই না।বন্ধুর বাবা মারা যাওয়ার পর বন্ধুর সাথে শ্মশানঘাটে যাওয়াতে ওখানে লোকজন ওনাকে ঘিরে ধরে বলছে দাদা কিছু একটা মজার জিনিস করে দেখান।তো যাই হোক, মান্না দে গানটার যেদিন ফাইনাল রেকর্ডিং করছেন সেদিন উনি দেখছেন রাজ কাপুর কাচের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে গানটার সাথে লিপ মিলিয়ে নেচে নেচে অভিনয় করে চলেছেন।গানটার অসাধারণ পিকচারাইজেশন মনে আছে নিশ্চয়ই।লাগা চুনরি মে দাগ গানটার লিপ মেলানো দেখে মান্না দে পর্যন্ত নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেন নি যে গানটা উনি গেয়েছেন না রাজসাহেব।

লতা মঙ্গেশকর সাধারণত সব গানই একবার টেক করতেন এবং একবারেই ওকে হত।সত্যম শিবম সুন্দরম গানটা যখন গাওয়া হল, সেটা প্রথমবারে ওকে হল।সবাই শুনে লতাজির খুব প্রশংসাও করলেন খুব ভালো হয়েছে বলে।রাজকাপুর শুনেই একবারে নাকচ করে দিলেন।অন্য কোনো পরিচালক হলে হয়ত লতাজিকে কিছুই বলতে পারতেন না।কিন্তু রাজকাপুর অন্য ধরনের লোক।লতাজিকে এরপর ডেকে বললেন ওটা একটা দশ বারো বছরের মেয়ের গলায় গান।তোমাকেও ওরকম ভাবেই গাইতে হবে।
শিল্পীরা ঠিকই শিল্পীদের বোঝে।ওই কথা শোনার পর লতা মঙ্গেশকর দশ বছরের পদ্মিনী কোলাপুরিকে ডেকে তার সাথে অনেকক্ষণ ধরে নানান গল্প করে গেলেন।তারপর যখন গানটা গাইলেন কেউ বুঝতেও পারল না যে সত্যি ওটা কোন বাচ্চা মেয়ে গায় নি।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন