San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পুঁটিকাহিনী ৯- মাতা-কন্যা সংবাদ
    মাতৃদেবীকে পুঁটিরাণী বিলক্ষণ বুঝিয়া চলে। প্রবল ব্যাক্তিত্বময়ী এবং সর্বকর্মনিপুণা মাতৃদেবী পুঁটিকে বেশ চাপে ফেলিয়া দেন যখন তখন। মাতার অভিযোগ মিথ্যা নহে- ফাঁকিবাজ পুঁটিরাণী কী প্রকারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইত বা একাধিক দপ্তরে কী প্রকারে তাহার কর্মসংস্থান হইল, ...
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...

পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

San Gita


পিউকে মনে আছে তো আপনাদের? পিউ এক ছুটির দিন বিকেলে পুঁটির বাড়ির খাটে বসে জমিয়ে গল্প ধরল। "জানো তো কাকু, আমার না খুব ইচ্ছে আমার শ্বশুর ডাক্তার হোক!" ঘরে পিন পড়লেও শোনা যায়, এমন নীরবতা নেমে এল। নব্বইয়ের দশকে কোন উনিশ বছরের মেয়ে যে বন্ধুর বাবার সামনে নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে গল্প করতে পারে, এটাই যেন ঠিক বিশ্বাস করে ওঠা যাচ্ছে না। খাটের মাঝখানে পিউ আর তাকে ঘিরে পুঁটিরা চারজন বসে। প্রত্যেকের চোখ গোলগোল, যেন কি আশ্চর্য ঘটনা ঘটে যাচ্ছে ঘরের মধ্যে। পিউ কিন্তু অবলীলায় বলে যাচ্ছে "আমি হব বাড়ির বড় বউ, অনেকগুলো দেওর-ননদ থাকবে আমার। আমি গিয়ে এক এক করে সবার বিয়ে দেব। কী দায়িত্ব! কেনাকাটা, যোগাড়যন্তর তো আছেই, শ্বশুরমশাইয়ের গাড়ি নিয়ে নেমন্তন্নও তো করতে যেতে হবে।"

পুঁটির বাবা ততক্ষণে একটু ধাতস্থ হয়েছেন, বললেন "আর তোর বর? সে কী করবে?" "সে করবে কিছু একটা চাকরি-বাকরি! রোজ সন্ধ্যেবেলা এক বড় ঠোঙায় আলুর চপ, বেগুনী, পেঁয়াজী এসব নিয়ে ফিরবে। তখন আমি সবার জন্য মুড়ি মাখব। খুব আড্ডা হবে!" বাবাও কম যেতেন না কোনদিনই, সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন "ভারী মজা তো! বুড়ো শ্বশুর পুরো সংসার টানবে আর তোর বরের শুধু বেগুনী-ফুলুরীর খরচ?"

কিন্তু ঐসব জাগতিক ব্যাপার কবেই বা পিউকে দমিয়ে রাখতে পেরেছে? সে উল্টে কাকুকে দাবড়ানি দিয়ে বলে "ছাড়ো তো ঐ হিসেবনিকেশ! শোনো না, তারপর আমার একটা মেয়ে হবে।" পুঁটি এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল ঠিকই, এখন যেন বিষম খেল। এবার মা বলে ওঠেন "আর যদি ছেলে হয়?"

ফোঁস করে ওঠে পিউ "না, না, ছেলে হলে চলবে না, আমার মেয়েই চাই।" এতক্ষণে পুঁটি একটু সাহস সঞ্চয় করে মিনমিন করে বলে ওঠে "যদি ছেলেই হয়, কী করবি তখন?" "কী আর করব!! একদম যত্ন নেব না। মেয়ে হলে লা মার্টসে পড়াব, ছেলে হলে কর্পোরেশান স্কুলে। ওতো এমনিতেও গুন্ডা হবে, ওমনিতেও। নাম রাখব আমার কপাল চক্রবর্তী!" (মনোযোগী পাঠক-পাঠিকা এইখানে পুঁটিকে খপ করে ধরে বলবেন- "চক্কোত্তি এল কোত্থেকে হে? পিউ তো ছিল চাটুজ্যে!
কি ভাবো আমাদের? অমনোযোগী? নাকি সব ভুলে গেছি?" তবে তো গুহ্য কথাটা বলতেই হয়। আপনাদের কুশল চক্কোত্তিকে মনে আছে? সেই যে "সোনার কেল্লা"-র ছোট্ট মুকুল! বড় হয়ে টিভিতে অভিনয় করছিলেন। তিনি পিউয়ের দীর্ঘদিনের ব্যথা। ঐ চোখ আর ঐ পাউটের জন্য পিউ জীবন বাজি রাখতে রাজি ছিল। হেন্স, "আমার কপাল চক্কোত্তি"!)
--------------------------------------------------------------------------------------

সেবার পুজোয় টুকটাক বৃষ্টি লেগেই ছিল। নবমীতে তো সকাল থেকে আকাশের ক্যানভাসে কালোকালো পোঁচ! বিকেল থেকে পুরো ঝরঝর মুখর বাদলদিন, কে বলবে শরৎকাল? মাঝেমাঝে ছোটছোট ব্রেক ছিল যদিও। পুঁটি তো ড্যাম বোর বাড়িতে বসে। তো চালাও পানসি পিউয়ের বাড়ি। গিয়ে দেখে বাড়ি ভর্তি, পিউয়ের দুই পিসির পরিবার এসেছে, সব ভাই- বোনেরা মিলে বেরোবে বলে বড় গাড়ি বলা আছে, কিন্তু এদিকে আকাশের মতিগতি তো মোটেই সুবিধের নয়!

সবাই চিন্তা করছে কী করা হবে - আদৌ কি বেরোনো হবে নাকি গাড়ি পত্রপাঠ ফেরৎ দেওয়া হবে তাই নিয়ে..ওদিকে পুঁটি দেখে কি পিউ মাঝেমাঝেই কোথায় যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই আছে, এই নেই। তক্কে তক্কে থাকল পুঁটি। পরেরবার যেই পিউকে দেখা গেল, তার থেকে আর চোখ সরাল না। খানিক বাদে সে আবার গুটিগুটি রওনা হচ্ছে দেখেই পিছু নিল। ছাদের দিকে যাচ্ছে পিউ। ওকে উঠে যেতে দিল পুঁটি, তারপর সেও পা টিপে টিপে উঠল ছাদে।

ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পিউ প্রথমে স্কার্টটা কোমর থেকে গুটিয়ে গুটিয়ে খুব ছোট করল, জামার হাতা টেনেটুনে বেশ ওপরের দিকে তুলল আর জামার গলার দিকের দু-তিনটে বোতাম খুলে দিল। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে শুরু করল নাচ!

বেশ খানিকক্ষণ দেখার পর আর ধৈর্য ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ল পুঁটির পক্ষে। পিউয়ের সামনে গিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল সে- "কী হচ্ছে শুনি এসব? এখানে এসে নাচছিস কেন? আর জামাকাপড়েরই বা এমন দশা কেন?" "আস্তে বল না! আরে, আমি ইন্দ্রদেবকে নাচ দেখাচ্ছিলাম। যদি উনি আমার নাচ দেখে সন্তুষ্ট হয়ে বৃষ্টিটা থামিয়ে দ্যান! কিন্তু উনি তো ওখানে উর্বশী, মেনকা, রম্ভা- এদের নাচ দেখেন, তাদের জামাকাপড় কত কম থাকে তো জানিসই, তাই আমার জামাকাপড়ও একটু কমিয়ে দিলাম আরকি!" দ্বিধাহীন, সপাট উত্তর পিউয়ের!

©sangitaghoshdastidar


Avatar: AS

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

দারুণ দারুণ !!!!! এক টা পর্বের পর পরের পর্বের জন্য দেরী যে সয় না
Avatar: Mou

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

অসাধারণ। আমি অনেকদিন পর এতো ঝরঝরে লেখা পড়লাম। সত্যি বলতে কি খুব একটা এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে বাসিনি।কিন্তু আপনি এক নিস্বাসে পরিয়ে ছাড়লেন।
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

এসব শুনলে লেখা সার্থক মনে হয়! ধন্যবাদ!
Avatar: swati

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

বাঃ খুব ভালো লেখা। পিউ , পুঁটিকে বেশ দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

পরের পর্ব এসে গেছে তো।
Avatar: শেখ মোঃ তরিকুল ইসরাম

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

সেই রকম ভাই। পুঁটিকাহিনী ৫ পরে তো হাসি থামে না। আর এটাতো আরো অসাধারন।
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

আর ১, ২, ৩- সেগুলো ভাল নয়?
Avatar: Suhasini

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

সব গুলো ভালো, বড্ড ভালো। তাড়াতাড়ি দিও আবার, কেমন?

Avatar: de

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

পিউ ভারী ভালো আর মিষ্টি!
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

আর তোমাদের পুঁটি? সে ভালো নয় কো?
Avatar: de

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

পুঁটি তো নিজেদের লোক - সে তো ভালোই হবে -
স্বজনপোষণ! ঃ))
Avatar: San Gita

Re: পুঁটিকাহিনী 8 - পিউকাহিনী বলাই ভাল

লাভিউ দে। এই দুনিয়ায় সকল ভালো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন