Alpana Mondal RSS feed

Alpana Mondalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা ▶️ভুবন মাঝি নাকি আত্মহত্যা করেছিল। ভুবন মাঝি কি আত্মহত্যা করেছিল? ভুবন মাঝি কি সত্যি মরে গেছে?'তুমি বেধবা হইছ বলে কি আমি নাও বাওয়া ছেড়ে দেব?' গভীরতম রাতটিতে লক্ষ্মী বাগদিকে এই ছিল ভুবনের কথা।'তোমাকে আমি কী দিয়া বাঁধি বলত?' লক্ষ্মী কোমরের ...
  • আমার না-ছোঁওয়া প্রেম
    অমরদার সবজি দোকানে নোনা ধরা দেওয়ালে দক্ষিণেশ্বরের মা কালীর ছবির পাশেই থাকতো রামকৃষ্ণ, সারদা মা, মিঠুন, ব্রুসলি, অমিতাভ আর তার পাশেই এক সুন্দর মহিলার মিষ্টি হাসি মুখের ছবি। যেন ঠিক ওপাড়ার বুলিদি। এর আগে তো ছবিটা দোকানে দেখিনি। ওই ছবিটা কার গো? জিজ্ঞেস ...
  • রিফিউজিদের ঠিকানা হয় না
    যুদ্ধবিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অসংখ্য মানুষ রিফিউজি হয়ে যান প্রতিবছর। তারা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরেন একটা ঠিকানার খোঁজে।আদতে রিফিউজিদের কি কোন ঠিকানা হয়? কোথাও তাদের সন্তান সন্ততিদের লোকে কোথাও মোহাজির বলে না তো? কিংবা কোথাও হয়তো পিঠের কাঁটাতারের দাগ খোঁজে। ...
  • নাটকঃ বিণির্মান
    এক্ট-১দৃশ্য-১সময় রাত। বেডরুম। বিছানায় দুইটি মানুষ। তারা স্বামী ও স্ত্রী। স্বামীটির নাম হাসান। স্ত্রী’টির নাম অবন্তী। তাদের বয়স ত্রিশের নিচে। তারা বেশ রোমান্টিক আবহে কথাবার্তা বলছে।অবন্তীঃ আজ আপা ফোন দিয়েছিল। কাল তার বাসায় দাওয়াত দিয়েছে।হাসানঃ ...
  • একা হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশ বছর
    “আমার চারপাশে ঘন অন্ধকার। নিকষ কালো অন্ধকার। আমি দাঁড়িয়ে আছি একটি আলোকিত বৃত্তের মাঝখানে। পরিক্রমা করে চলেছি একটি উজ্জ্বলতম পটভূমি। আমি জানি, স্থির জানি, এই আলো, উজ্জ্বলতা কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়। সেই আলো যে কোন মুহূর্তে নিভে যেতে পারে। আমাকে নিক্ষেপ করতে ...
  • আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা
    ঘটনা এক:তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছি। কলেজের জেরক্স সেন্টারে নোটস জেরক্স করতে গেছি। বকবক করা স্বভাব আমার। অতএব খুব কম সময়েই আলাপ করে ফেললাম সেন্টার দাদার সঙ্গে। বেশ খানিকক্ষণ গল্পের পরে দাদা নাম জিজ্ঞাসা করলো। নাম শুনে প্রতিক্রিয়া ছিলো “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় ...
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জমে থাকা কথামালা ......

Alpana Mondal


আমি আলপনা সেই ছোটবেলা থেকে ভদ্রলোকের কি ভাবে আমাদের দেখে তা হাড়ে হাড়ে জানি । কাজের লোকেরা যেন মানুষ নয় -তাঁদের সারাবছর একটা বা দুটি ফ্রকেই জীবন কাটানোর কথা । এক কাপ চায়ে দুটো বাসী রুটি ডুবিয়ে সকালের খাওয়া । বেলা তিনটে তে বেঁচে যাওয়া ডাল তরকারী দিয়ে দুপুরের খাওয়া । বড় লোকেদের একটুতেই হাঁচি কাশি সর্দি পেট খারাপ হতেই পারে আর আমাদের সারা বছর টাটা স্টিলের মত মজবুত থাকার কথা , আমাদের আবার পেটব্যাথা,মাথাব্যাথা জ্বর হয় কি করে ? আসলে এইসব কাজ ফাঁকি দেওয়ার বাহানা ।

টিকিয়াপাড়ার জয়সোয়াল পরিবারের রান্নাঘরের পাশেই একটা স্কুল ছিল ,রান্না ঘরের জানলা দিয়ে সকালের প্রার্থনা ,উচ্চ সূরে নামতা ,মাস্টারের বেতের শব্দ ,পড়াশুনা প্রায় সবই শোনা যেত -আমি তখন গ্যাসের টেবিল হাতে পাইনা ,একটা টুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হত কেটলি নামানো ,রুটি করা ইত্যাদি কাজে । সকাল দশটা বাজলেই আমি আর রান্নাঘর থেকে নড়তাম না । কান খাড়া করে শুনতাম স্কুলের প্রার্থনা , নামতা ,পড়াশুনা মানে যতদূর শোনা যায় -আর মুখস্ত করতাম মনে মনে । বৌদি ডাকলে খুব রাগ হত ,ডাকার আর সময় নেই -সবে ৯ ঘরের নামতা শুনছিলাম । আমার তো আর ছাত্রবন্ধু কেনা হয়ে ওঠেনি তাই পাশের স্কুলের পড়ানো শুনে শুনে শেখার চেষ্টা করতাম । একদিন মালিক লক্ষ করলেন -আলপনা সকাল দশটা থেকে রান্নাঘরে টুলের ওপর দাঁড়িয়ে জানলার ধারে করেটা কি ? আমি তখন ওদের সাথেই স্কুলের প্রার্থনা গাইছি । দাদা’র হয়ত মনে হল আচ্ছা আমাদের মেয়েটা রোজ সকালে ড্রেস পড়ে স্কুলে যায় ,আলপনাই তাকে স্কুলের জন্য রেডি করে ,ন্যাকামো করলে চড় থাপ্পড়ও লাগায় -তা এই বয়েসে তারও তো স্কুলে যাওয়ার কথা আর দুপুরের দিকে এমন কোন বাড়ির কাজও তো থাকেনা । দাদা একদিন আমার বই খাতা স্কুলের ব্যাগ এমনকি একটা ড্রেসও কিনে আনলেন ।

আমি আনন্দে ভেসে যাচ্ছি -আমিও পড়ব ।জানলা দিয়ে নয় ক্লাসে বসে সকলের সাথে একসাথে পড়াশুনা শিখবো । সারা সন্ধে বেলা পূরানো খবরের কাগজ দিয়ে বই খাতা সব যত্ন করে মলাট দিলাম ,চুলে কষে তেল লাগালাম কালকে বেণী করতে হবেনা ? পর দিন দাদা আমায় স্কুলে ভর্তি করে দিলেন । সরকারী স্কুল মাইনে বোধহয় কিছুই ছিলোনা -আমি কি আনন্দে স্কুলে যেতে শুরু করলাম । এদিকে বৌদির মুখ ভার -কাজের লোকের আবার পড়াশুনা কি , তাকে নিয়ে এত আদিখ্যেতা কেন ,ভাগ্যিস আমি ছোট ছিলাম নয়ত আমাকে নিয়ে হয়ত অন্য সন্দেহ দানা বাঁধত । এক সপ্তাহ বোধ হয় ঠিক ঠাক স্কুলে গিয়েছিলেম তার পর থেকেই শুরু হোল অত্যাচার । দাদা দোকানে’র জন্য বেড়িয়ে গেলে আমি যখন স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হতাম তখনই বৌদি ব্যাগ কেড়ে নিয়ে আলমারিতে তুলে রেখে আমাকে দোকানে পাঠাতো এটা সেটা আলতু ফালতু জিনিষ কিনতে -আমি একছুটে দোকান করে বাড়িতে এলে আবার অন্য কাজ - এক কাপ চা বানিয়ে আনত ,চিনি কম দিবি -স্কুলে প্রথম ক্লাস ,দ্বিতীয় ক্লাস এই করে টিফিনের ঘণ্টা পড়ে যেত আমার স্কুল ব্যাগ আর আলমারি থেকে বেরতোনা । দাদাকে আমি কোনদিন বলিনি ,আমার আর স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি কেন । একবার বলেছিলাম আমার পড়াশুনা ভালো লাগেনা -বৌদিও তো আমার মালিক তার নামে নালিশ তো করা উচিৎ নয় বলুন ।

কয়েকদিন যাবত কিছু ঘটনায় আবার সেই ১৭ বছর আগেকার ঘটনা মনে পড়ে গেল -আমি তো আর কাজ ফাঁকি দিয়ে স্কুলে যেতাম না ,বি এ ,এম এ পাশ করবারও কোন স্বপ্ন ছিলোনা , একটু স্কুলে যেতে দিলে কি এমন ক্ষতি হত -আসলে বড় লোকেরা এরকমই তাঁরা আমাদের মত ছোটলোকদের সামান্য উন্নতি ,একটু সুখ সহ্য করতে পারেনা । আমরা লেবার মানুষ তো নই । ২৯ সে নভেম্বর ২০১৬ সাল থেকে আমি লোকের বাড়ি বাসুন মাজা ,রান্না করবার কাজ ছেড়ে দিয়েছি , নূতন কাজ শিখেছি আমাকে একজন উৎসাহ দিয়েছেন , স্বপ্ন দেখিয়েছেন ,হাত ধরে পাঁক থেকে বেরোনার রাস্তা দেখিয়েছেন ,ট্রেনিং দিয়েছেন এমনকি কিছু আর্থিক সাহায্যও করেছেন । আমি আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও সেই কাজে জুটেছি । নিজের কাজ , নিজের স্বাধীনতা , নিজের মত করে চিন্তা করে সকলকে সাথে নিয়ে একসাথে বড় হওয়ার , কিছু করবার স্বপ্ন । কিন্তু সেই উন্নতি ,সেই স্বপ্ন যে অনেকের পছন্দ নয় তা আমি বুঝিনি । আমি কেন মলিন চুড়িদার না পড়ে জিনস পরি , প্লাস্টিকের চটির বদলে সস্তার বাটার জুতো ? আমার বাবার অসুখ হলে কেন আমি একটু বড় হাসপাতালে দেখাতে যাই , ওভারটাইম করে রাত হয়ে গেলে কেন আমাকে মাঝে মাঝে গাড়ি করে স্টেসানে ছেড়ে দেওয়া হয় । আমি কি আসলে কাজ করি না অফিসে নোংরামি , না পেটে ব্যাথা হওয়ার অজুহাতে অফিস কাটি । আমাকে কেন এত সুবিধা দেওয়া হয় ? ২ তারিখে মাস মাইনে কেন পাই ? আমাদের তো এগুলো প্রাপ্যই নয় -বাবার বা নিজের অসুখ হলে সরকারী হাসপাতাল বা হাতুড়ে ডাক্তার ছেড়ে অরবিন্দ সেবা কেন্দ্র কেন ? এত শত প্রশ্ন যে শিক্ষিত সভ্য মানুষের মনে মনে জমে থাকতে পারে সেই বিষয়ে আমার কোন ধারনাই ছিলোনা ।

আসলে সেই যুগ যুগান্ত থেকে আমাদের মত ছোটলোকেরা যদি একটু ভালো থাকার চেষ্টা করে , সমস্ত ঘেন্না’র জবাবে তাঁদের জেদ যদি আমাদের মত মানুষদের বিন্দুমাত্র উন্নতি ঘটায় ভদ্রলোকেরা সেই উন্নতি কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারেনা । ছেলে হলে হয় অসৎ পথে রোজগার করেছে আর মেয়ে হলে তো কথাই নেই নিশ্চয়ই বাবু ধরেছে । সেই প্রশ্ন জমতে জমতে দু একদিন আগে হটাৎ ফেটে পড়ল -আমাকে যিনি উৎসাহ দিয়ে ,প্রশ্রয় দিয়ে নূতন জগতের পথে নিয়ে এসেছেন তার পরিবার বিনা কারনে , বিনা প্ররোচনায় আমার কাজের জায়গায় এসে চূড়ান্ত চিৎকার সমেত অপমান শুরু করলেন । ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয়না যার মধ্যে অন্যতম । আমি অনেকক্ষণ ধৈর্য রেখেছি কিন্তু রাগে অপমানে মাথা যখন ছিঁড়ে যাচ্ছে আমিও দু চার কথা বলেছি -হয়ত আমার অন্যায় হয়েছে তিনি আমার বয়েসে বড় ,আমার অত্যন্ত প্রিয় ,শ্রদ্ধার মানুষের স্ত্রী ,তাকে আমিও সন্মান করি কিন্তু কি করব বলুন ? সেই ছোটবেলা থেকে অপমান সহ্য করতে করতে আর ক্ষমতা নেই এখন আর আমি কাউকে ভয় করিনা ,মুখ বুজে চুপ করে কিল খাওয়ার দিন শেষ । আমি যদি কোন অন্যায় করি মেনে নেব কিন্তু অকারণে অপমান আর সহ্য করবোনা । আমরা এখন সেই কোণঠাসা বিড়ালের দল যে আত্মরক্ষায় বাঘের টুঁটি কামড়ে ধরতে ভয় পায়না ।

এই লেখা প্রকাশ হওয়ার পরে হয়ত আমার কাজ চলে যেতে পারে । আমার সদ্য দেখা স্বপ্ন চুরমার হয়ে যেতে পারে -কেননা সত্য সহ্য করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয় । হয়ত আমায় আবার বাসুন মাজা ,লোকের বাড়ি কাজ করার জগতে ফিরে যেতে হবে -অশিক্ষিত আমি তো আর কোন কাজ জানিনা । কিন্তু কি করব বলুন বারবার ভাবি শিক্ষিত ভদ্রলোক মানুষেরা নিশ্চয়ই মানসিক ভাবে উদার হবেন -কিন্তু বারবার দেখি স্কুল কলেজের পড়া মানুষকে মানুষ বানায়না , বরং শিক্ষার গর্ব তাঁদের আত্মার মাপ ছোট করে দেয় ।

আমরা ছোটলোক ,অশিক্ষিতের দল আপনাদের সাথে আমাদের হাজার মাইলের ফারাক ইহজন্মে আর মেটার নয় ।

শেয়ার করুন


Avatar: kihobejene

Re: জমে থাকা কথামালা ......

prarthona kori apnar shopno ta jeno na bhaange ... r shopno dekte thakun thik beriye ashben ...
Avatar: Suhasini

Re: জমে থাকা কথামালা ......

আল্পনা, তোমার লেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এই লেখাটা পড়ে খারাপ লাগল তোমার জন্য। সমস্যা জটিল, তবে কিনা কোনও বাধাই অলংঘনীয় নয়। আরও একটা নতুন প্যাটার্ন তৈরী হোক বরং।
Avatar: de

Re: জমে থাকা কথামালা ......

আলপনা, খারাপ লাগলো লেখাটা পড়ে। জানিনা কিভাবে, তবুও যদি কোন সাহায্য দরকার হয় জানাবেন।
Avatar: 0

Re: জমে থাকা কথামালা ......

"...বারবার দেখি স্কুল কলেজের পড়া মানুষকে মানুষ বানায়না , বরং শিক্ষার গর্ব তাঁদের আত্মার মাপ ছোট করে দেয়..."
Avatar: Alpana Mondal

Re: জমে থাকা কথামালা ......

একটা কথা - আমাকে 'আপনি' বলবেন না । আর আমার অভ্যেস আছে -স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার । যিনি আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ,হাত ধরে পাঁক থেকে বেরোনার রাস্তা দেখিয়েছেন ,ট্রেনিং দিয়েছেন আর্থিক সাহায্য করেছেন ,লিখতে শিখিয়েছেন তিনি এখনো আমার পাশে আছেন -তাকে দেখে আমার এখনো বিশ্বাস অটুট আছে -সব মানুষ সমান নন ।
Avatar: শেসে

Re: জমে থাকা কথামালা ......

আলপনা তোমার স্বপ্ন সফল হবে আর কলমও সচল
থাকবে | তোমার জীবনকথা যিনি তোমাকে লিখতে শিখিয়েছেন, তাঁকেও আমার সশ্রদ্ধ অভিবাদন | পারিবারিক প্রতিকুলতাকে অতিক্রম করে তিনি এখনো তোমার পাশে আছেন এইটা জানার পর তাঁর সম্পর্কে আমারো শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেল | বুঝলাম মল, মূত্র আর বীর্য ত্যাগের বাইরে আরো কিছু ত্যাগ করার মানুষরা এখনো বেঁচে আছেন |
Avatar: Titir

Re: জমে থাকা কথামালা ......

এ বড় শক্ত লড়াই। বারবার হার না মেনে এগিলে চলো নতুন পথে। তোমার স্বপ্ন সফল হোক এই প্রার্থনা করি।
Avatar: Du

Re: জমে থাকা কথামালা ......

দুই ক্ষেত্রেই মহিলারাই বাধার সৃষ্টি করলেন আরেকজনের একটু উন্নতির পথে -'নিজে মেয়ে হয়ে লজ্জিত হলাম দেখে।
Avatar: Arijit Kundu

Re: জমে থাকা কথামালা ......

alpona.. tomar sathe jogajog korte chai.. tomar thikana kimba phone number janale upokrito hobo...
Avatar: তথাগতা

Re: জমে থাকা কথামালা ......

প্রথম ঝগড়া পিসির সাথে হয়েছিল যখন তখন আমি কেবল বছর ১০। আমার জন্মের প্রায় পর পরই বাবার বদলি হয় দার্জিলিং। আমার জ্ঞান হয় 'নিউক্লিয়ার পরিবার এ', নেপালি দাজু - বাজে - বা, পাশের বাড়ির ঝা কাকু, রাস্তা দিয়ে যাওয়া নানা রং এর লক এর মাঝে। বাবা সরকারি চাকুরে, তবে আমার স্কুল জাবার বয়সে স্কুল এ ভরতি করার তাকা ছিল না। বাড়িতে মাসের বেশির ভাগ টা সময় খিচুড়ি - ই হত। আমি অবিশ্যি জানতাম না যে ওই আবস্থাকে নিম্নমধ্যবিত্ত মতন কিছু একটা বলে। পাহাড়ে জিনিস এর দাম বেশী... তার ওপর বাবা তখন তার 'নিউক্লিয়ার পরিবার' চালান না কেবল, আমার দাদু - ঠাম্মা - পিসি -কাকুরাও তাঁর আয় এর ওপর নির্ভরশীল। যাহোক, জা বলছিলাম। তা দার্জিলিং এর বড় হওয়া আমাকে খুব একটা ভেদ-বিভেদ শেখায় নি। পরে বুঝেছি, নানা মানুষ এর সাথে মিশে, আর খানিক কষ্ট কাছ থেকে দেখে বাবা মাও খানিক বদলেছিলেন বলেই আমার শেখা টা অমন হয়েছিল। তা দার্জিলিং থেকে ফিরে কোচবিহার এ। টানাটানির সংসারেও বাড়িতে এক কাজের দিদি আসত। কোন একদিন পিসি ব্যস্ত থাকায় আমায় মুড়ি দিতে ব্লা হয় তাঁকে। আর আমার দারজিলিং-এর ছোঁয়া লাগা মা 'কাজের মাসির থালা' তে না দিয়ে কাঁসার বাটি তে ঢেলে দেয়। আর যেই না সে বাটি দিতে যাব... পিসি তারস্বরে চিৎকার। লাথি মেলে ফেলে দিলে বাটি!!! এবং শুরু হল আমার মা ও আমায় ধিক্কার জানানো। ঝটকা কাটিয়ে বুঝে উঠতে য়ামার প্রথম 'বড়দের মুখে মুখে কথা' শুরু হল। পিসি আরও ঝাঁঝিয়ে ওঠা অবস্থায় বাবা বাড়ি ঢোকে। সেই থেকে বহু বছর বাবা ও পিসির কথা বন্ধ ছিল। আর মা ঝগড়ার ফাঁকে শান্তিদি কে মুড়ি দিতে গেলে সে না নিয়ে চুপচাপ ফিরে যায়। আমি ও মা পরের দিন গিয়েছহিলাম শান্তিদির বাড়ি। দিদি অনেক পরে আমরা যখন শিলিগুড়ি তে আমাদের সাথে দেখা করতে আসে। তবে কোচবিহার এর বাড়ি আর যান নি। এমন আরও অনেক কিছু দেখেছি... খানিকটা এপার আর ওপার এর মাঝামাঝি থেকে। কেবল দারিদ্র্য নয়... উত্তর ভারতের গ্রাম এর স্কুল এ পড়িয়ে বেড়াচ্ছি যখন দেখেছি কিভাবে জাত হিসেবে গলি আলাদা... গ্রাম এর মেয়েদের বেশী পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে 'ধর্ষণ বা মেরে ফেলার' হুমকিও এসেছে অনেক। এই লেখা পড়ে একরাশ হতাশা যা ডিঙিয়ে রোজ 'আজ হয়ত কিছু করতে পারব' গুলি আবার একসাথে জমে উঠল!!! ভাল মানুষ পেয়েছি অনেক... তবে তারা বড্ড বিচ্ছিন্ন... আর তাই হয়ত একা লড়ে যাচ্ছেন আপনার মতন। আপনার লেখার শেষ এর ভয়টা দানা বেঁধে থাকল। ঠিক যেমন ভয় জমে আছে গত বছর ৯ এ ভর্তি করে আসা কাজল কে তাঁর বাড়ির লোক আবার ছাড়িয়ে আনল কিনা! আশার কিছু থাকলে থাকল আপনার লেখা ওই 'অপমান না সহ্য করা' টুকু। ওইটাই ভরসা। আশা করি এ লেখা জীবন এর বাঁক আবার ঘুরিয়ে দেয় নি!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন