souvik ghoshal RSS feed

souvik ghoshalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বইয়ের গ্রাম ভিলার
    মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি মহাবলেশ্বর হিলস্টেশান হিসেবে বিখ্যাত, বিখ্যাত এর স্ট্রবেরী চাষের জন্যও। বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা লাভ হয় শুধু এই অঞ্চলে উৎপাদিত স্ট্রবেরী বিক্রি করে। দাক্ষিণাত্যের বিখ্যাত কৃষ্ণা নদীর উৎসও এই মহাবলেশ্বর অঞ্চল। সারাবছর পর্যটকের ...
  • আমার সোহিনী আর বাবার বউ
    সবচেয়ে ভোরে উঠে একটা মোক্ষম জিনিশ টের পাই। শালা, য-ফলাতেই মেয়েদের কাঁখতল দেখি আমার নির্ঘাৎ ঘোর অসুখ করেছে। এবং, রোগটা অস্বস্তির। এ যৌনব্যাধির একটা স্পেসিফিক নাম নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু তজ্জন্যে মাকুন্দ ডাক্তারের মদত নেব না। কেননা রোগটা আমারই। অন্য কারো ...
  • নকশার উল্টো পিঠ
    আমার দিদার ছিল গোটা চারেক ভালো শাড়ী। একটা বিয়ের বেনারসী, একটা গরদ, মাঝবয়েসে বেনারস বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে কেনা একটা কড়িয়াল বেনারসী, এছাড়া শেষের দিকে তসরও হয়েছিল। মায়ের প্রথম দামী শাড়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন হস্তশিল্প মেলা থেকে কেনা দুধে আলতা রঙের একটা ...
  • আরও একটি ভ্রমণ কাহিনী - কুমায়ুনে চারদিন
    প্রাককথনযেমন আর পাঁচটা বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়, কোথায় যাওয়া হবে, তারিখ, ফেরা কবে, কতদূর যাব এইসব টালবাহানা চলে, এবারেও ঠিক তাই ছিল। তা, সেই পর্ব মিটে যায় ভালোয় ভালোয়। আরও একটা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন থাকে, তবু তার বাইরেও অনেকটা অনিশ্চয়তা থাকে, ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...

মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

souvik ghoshal

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হেফাজতে ইসলামের একের পর এক মৌলবাদি দাবীর সামনে ক্রমাগত আত্মসমর্পণ করছেন। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক শুধু তীব্রই হচ্ছে না, তা সংখ্যাগুরু আধিপত্যর দিকে এক বিপজ্জনক বাঁক নিচ্ছে। ভারতে মোদি সরকারের রাষ্ট্র সমর্থিত সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকতার নানা বিপজ্জনক প্রবণতা সামনে আসছে। বাংলাদেশে তারই এক অন্য ভয়াবহ সংস্করণ আমরা প্রত্যক্ষ করছি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে।
শাহবাগ আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্লগার মুক্তচিন্তকদের হত্যার পর্ব চলতে থাকে। এর পর শুরু হয় অ-মুসলিম ধর্মযাজকদের হত্যাকাণ্ড। কখনো কোনও বৌদ্ধ শ্রমণকে,কখনো খ্রীষ্টান যাজককে, কখনো কোনও হিন্দু পুরোহিতকে খুন করা হয়। কখনো আবার ‘সহি মুসলিম’ বলে গণ্য করতে না চাওয়া সুফী সাধককে।
এই হত্যাকাণ্ডগুলি যখন ঘটছে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন,‘মুক্তচিন্তার নামে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া বিকৃত রুচি ও নোংরা রুচির পরিচয়’। পাশাপাশি তিনি এ ধরনের লেখালেখির কারণে হামলার শিকার হলে তার দায় সরকার নেবে না বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রীর তরফে এই ধরনের কথা খুনীদেরই প্রকাশ্যে উষ্কানি দেয় বলে অনেকে অভিযোগ করে বলেন - এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় সরকার মুক্তচিন্তার প্রকাশে যত্নবান তো নয়ই,এমনকী মুক্তচিন্তকদের প্রাণ রক্ষার্থেও তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। এ ধরনের একের পর এক ঘটনা বাংলাদেশকে ক্রমেই আরো অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। সমালোচকদের এই আশঙ্কা আজ সত্যে পরিণত হচ্ছে।
বস্তুতপক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনাবলী থেকে স্পষ্ট হেফাজতে ইসলামের নানা সাম্প্রদায়িক দাবির কাছে শেখ হাসিনা ধারাবাহিক আত্মসমর্পণ করে চলেছেন এবং মৌলবাদী শক্তি এর মধ্যে দিয়ে দেশজোড়া তাদের শক্তিকে ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে।
সাম্প্রতিক কালে হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে,এই নিয়ে বিতর্ক ও আলোড়নের রেশ কাটতে না কাটতেই জোরালো বিতর্ক দেখা দেয় সুপ্রিমকোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রশ্নে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান – ‘মুসলমানরা স্থাপত্যকলা ও শিল্পকলার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপনপূর্বক আমাদের জাতীয় মন ও মানসে বিজাতীয় কৃষ্টির অনুপ্রবেশ আমরা বরদাস্ত করব না। ... কারা, কী উদ্দেশ্যে এটি করার সুযোগ পেলো কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা চেতনার পরিপন্থি গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বোচ্চ স্থান সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কথিত ন্যায়ের প্রতীক নগ্ন-অশ্লীল দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন হচ্ছে চরম ধৃষ্টতা এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অবমাননা। গ্রিক দেবীর মূর্তি নয়, মুসলমানদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হলো মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামে মূর্তি স্থাপন হারাম’।

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অবিলম্বে এই মূর্তি অপসারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৌহিদি জনতার ক্ষোভ প্রশমিত করতে হবে। অন্যথায় ধর্মপরায়ন জনগণের সমর্থন হারালে এবং তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে আপনারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

হেফাজতের এই দাবির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিবেকী সমাজ তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হেফাজতের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি মেনে ইতিমধ্যে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ভাস্কর্য অপসারণের দাবি মেনে নিলে সারা দেশের সব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলবে তারা। হেফাজতের এই দাবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এখানে আপসের কোনো জায়গা নেই। কেননা, হেফাজত এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল হেফাজতের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এদের স্পর্ধা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। হেফাজত যে প্রশ্রয় পেয়েছে, তা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির দৃঢ় হাতে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা তো মূর্তি না, এটা তো স্কাল্পচার (ভাস্কর্য)।
আর এখানে দেখানো হয়েছে তিনটা জিনিস। একটা হলো দাঁড়িপাল্লা, ন্যায়বিচারের একটা সূচক। আর হাতে একটা তলোয়ার। দণ্ড বা শাস্তির সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তলোয়ার। তৃতীয়ত, চোখটা বাঁধা। অর্থাৎ একদম নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই বিচারের নিরপেক্ষতা তুলে ধরা হয় এই স্কাল্পচার দিয়েই।’ হেফাজতের দাবির প্রতি কান দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হুমকির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও বিচারব্যবস্থার প্রতি হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ভাস্কর্যকে মূর্তি বা প্রতিমা বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক এবং নির্জলা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এই ভাস্কর্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু দেশের উচ্চতর আদালতে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা এইসমস্ত যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হেফাজতে ইসলামের মৌলবাদী দাবির কাছে মাথা নত করেন। হেফাজতের নেতা আহমদ শফিসহ আলেমদের নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি অপসারণের জন্য তোলা হেফাজতের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। হাসিনা সরকারের হেফাজতের সামনে আত্মসমর্পণ প্রবণতা ভালোভাবে বোঝা যায় পাঠ্যপুস্তক সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলির মধ্যে দিয়ে।
সাধারণ শিক্ষার মূল পাঠ্যবইগুলোকে মাদ্রাসা শিক্ষার বৈশিষ্ট্য উপযোগী করতে গিয়ে বইগুলোর আঙ্গিক ও মৌলিক কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ছবিটি বাদ দেওয়া হয়। সরিয়ে ফেলতে হয় লালন শাহের ‘মানবধর্ম’ কবিতা। বাদ পড়ে বিপ্রদাশ বড়ুয়া ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গদ্য,জ্ঞানদাশের পদ্যসহ আরও কিছু বিষয়।
বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা এবং পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজি বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় স্টিয়ারিং কমিটি। তৃতীয় শ্রেণীর আমার বাংলা বই-এর প্রচ্ছদ চিত্রে এক কিশোর হাফপ্যান্ট পরে নৌকা বাইছে, নৌকায় বসে এক কিশোরী শাপলা ফুল তুলছে। মাদ্রাসার বইয়ে এই প্রচ্ছদ পরিবর্তন করে কিশোরকে পায়জামা পরানো হবে। কিশোরীর মাথায় হিজাব দেওয়া হবে, তার হাফ হাতা জামাটি ফুল হাতা করা হবে।
অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে একটি পদ্যের শিরোনাম ‘মানবধর্ম’। এটি লালন শাহের লেখা। প্রথম লাইন হচ্ছে, ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।’ কবিতা পাঠের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এই পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে সক্ষম হবে যে, ধর্ম বা সম্প্রদায়গত পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড়। শিক্ষার্থীরা জাত-পাত বা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা মিথ্যে গর্ব করা থেকে বিরত থাকবে।’ মাদ্রাসা বিশেষজ্ঞ কমিটি এই কবিতার পরিবর্তে কবি ফররুখ আহমদের পদ্য ‘মেঘ বৃষ্টি আলোর দেশে’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দেয়। স্টিয়ারিং কমিটি ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়বে বিপ্রদাশ বড়ুয়ার গদ্য ‘মংডুর পথে’। বিশেষজ্ঞ কমিটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওই লেখাটি পড়তে দিতে চায় না। তারা মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ‘মদিনার পথে’ লেখাটি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ অনুমোদন করেছে স্টিয়ারিং কমিটি।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, পরিমার্জন কমিটি অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গদ্যটির শিরোনাম পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। তারা ‘ভূত’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘তৈলচিত্রের আছর’ নামকরণের প্রস্তাব করে। নবম-দশম শ্রেণীর একটি পদ্যের শিরোনাম ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু’। এটি লিখেছেন জ্ঞানদাশ। এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি মুহাম্মদ সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ পদ্যটি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। পরিমার্জন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছিনের মহাসচিব শাব্বির আহমেদ মোমতাজি বলেন, যেসব বিষয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ আন্দোলন যে ভরসা জাগিয়েছিল, এসব ঘটনা আশঙ্কা তৈরি করে, ক্রমশই তার বিপরীতে এক মৌলবাদী রাষ্ট্র হবার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।



Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

"আওয়ামী মুসলিম লীগ" থেকে আওয়ামী লীগ এখন "আওয়ামী হেফাজত লীগ" এর পথে। এরই মধ্যে দুর্জন দাবি তুলেছেন, হাইকোর্ট থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরিয়ে সেখানে বিশালাকায় তেঁতুলের মূর্তি প্রতিস্থাপনের!

পাকিস্তান জিন্দাবাদ! :পি
Avatar: Du

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

ইসলামে মহিলা শাসকের বিরুদ্ধে কিছু বলা নেই?
Avatar: Ekak

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

বলার দরকার কী। ওপারে হাসিনা,এপারে মমতা ইসলামের হেপাজত কর্ছেন যতদিন।
Avatar: s

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রিঅ্যাম্বেল।

BISMILLAH-AR-RAHMAN-AR-RAHIM

(In the name of Allah, the Beneficient, the Merciful)/

In the name of the Creator, the Merciful.]

PREAMBLE

We, the people of Bangladesh, having proclaimed our independence on the 26th day of March, 1971 and through 2[ a historic struggle for national liberation], established the independent, sovereign People's Republic of Bangladesh;

3[ Pledging that the high ideals of nationalism, socialism, democracy and secularism, which inspired our heroic people to dedicate themselves to, and our brave martyrs to sacrifice their lives in, the national liberation struggle, shall be the fundamental principles of the Constitution;]

Further pledging that it shall be a fundamental aim of the State to realise through the democratic process a socialist society, free from exploitation a society in which the rule of law, fundamental human rights and freedom, equality and justice, political, economic and social, will be secured for all citizens;

Affirming that it is our sacred duty to safeguard, protect and defend this Constitution and to maintain its supremacy as the embodiment of the will of the people of Bangladesh so that we may prosper in freedom and may make our full contribution towards international peace and co operation in keeping with the progressive aspirations of mankind;

In our Constituent Assembly, this eighteenth day of Kartick, 1379 B.S., corresponding to the fourth day of November, 1972 A.D., do hereby adopt, enact and give to ourselves this Constitution.
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/pdf_part.php?id=367
এখানে তো বাংলাদেশকে secular বা দর্মনিরপেক্ষ করার প্রস্তাব/ সংকল্প আছে। তাহলে সরকার কেন মুসলমান ধর্মীয়/ মৌলবাদী গোষ্ঠীর কথা বিবেচনার মধ্যে আনছে?
------------
২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্লগার মুক্তচিন্তকদের হত্যার পর্ব চলতে থাকে
---------------
এবং হত্যাগুলোর কিনারাও হয় না ঠিকমতো। তাও তো এরা মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলো বলে তাদের টার্গেট হয়েছে। ওদিকে সাধারণ হিন্দু নাগরিকরা ২০১৫ র বহু বহু বছর আগে থেকে স্রেফ খুন হয়ে গেছে (বিশেষ আলোচনা প্রতিবাদ ছড়াই)। ১৯৪১ য়ে হিন্দু জনসংখ্যা ২৮% ছিল, দেশভাগের পর ১৯৫১ তে তা ২২% য়ে এসে দাঁড়ায়। এর পরবর্তী ৬০ বছরে ২০১১ সালে জনসংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৮.৫% য়ে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Hinduism_in_Bangladesh#Bangladesh_Libera
tion_and_1971_Bangladesh_atrocities_.281971.29

Avatar: }8X

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

কিন্তু 'এটা কি হঠাৎ হোল? নাকি, দীর্ঘদিন লালিত পালিত কিছু সুপ্ত চিন্তাভাবনার এখন প্রস্ফুটন হচ্ছে বা বিকাশ হচ্ছে; বীজটা ছিল আগের থেকেই'।

জানতে ইচ্ছে করছে। খুব তীব্রভাবেই।

এক কালে এ পাতায় লেখালেখি করা ওপার বাংলার এক কিশোর প্রতিবেদক তারেক ওরফে কন্‌ফুকে পেলে জিজ্ঞাসা করতাম।
Avatar: তির্যক নীল

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

যে সংবিধান “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লেখা দিয়ে শুরু হলো, সেটা আবার সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ হয় কি করে?

Avatar: de

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

হাসিনা বেশ আশা জাগিয়ে শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
Avatar: aka

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

এসব নেহাতই বিরোধী পক্ষের প্রচার, গুজবে কান দিয়েন না।
Avatar: সৌভিক

Re: মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ

একটা বিষয় তো পরিস্কার যে বাংলাদেশের সংবিধানে পৃথিবীর আরো অনেক সংবিধানের মতোই কিছু মৌলিক কনট্রাডিকশন আছে। এখানে অনেকেই সেকুলার ও আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার মধ্যে সঙ্গত কনট্রাডিকশন খুঁজে পেয়েছেন।
ভারতের সংবিধানেও বাক স্বাধীনতার অধিকার যেমন আছে, তেমনি তা কেড়ে নেওয়ার বিভিন্ন কথাও আছে। আইন সংবিধান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তো বটেই, সাধারণভাবে এসব নিয়ে অবহিত মানুষজন, এগুলো নানা জায়গায় নানাভাবে বলেছেন।
সংবিধান বদলের লড়াই একটা বড় লড়াই। সেটা একবারে হয় না। ক্ষমতাসীন বুর্জোয়াদেরই জিএসটি আনার জন্য, অভিন্ন বাজার তৈরির জন্য কত কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। আর প্রগতিশীল বদল আনা তো অনেক বড় লড়াই দাবী করে। তার আগের দৈন্যন্দিন লড়াইগুলি তীব্র ও ধারাবাহিক করে তোলাই এই জয়ের প্রাকশর্ত।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন