সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...
  • অনুপ্রদান
    শিক্ষাক্ষেত্রে তোলাবাজিতে অনিয়ম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত গত কিছুদিনে কলেজে ভর্তি নিয়ে তোলাবাজি তথা অনুদান নিয়ে অভিযোগের সামনে নানা মহল থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পরে রাজ্য সরকার।শিক্ষামন্ত্রী এদিন ...
  • গুজবের সংসার
    গুজব নিয়ে সেই মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চারটা লাশ আর চারজন ধর্ষণের গুজব কি গুজব ছিল না? এত বড় একটা মিথ্যাচার, যার কারনে কত কি হয়ে যেতে পারত, এই জনপথের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারত অথচ রসিকতার ছলে এই মিথ্যাচার কে হালকা করে দেওয়া হল। ছাত্রলীগ যে ...
  • মহামূর্খের দল
    মূল গল্প : আইজ্যাক আসিমভরাইগেল গ্রহের যে দীর্ঘজীবী প্রজাতির হাতে এই গ্যালাক্সির নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণের ভার, সে পরম্পরায় নারন হল গিয়ে চতুর্থজন ।দুটো খাতা আছে ওনার কাছে । একটা হচ্ছে প্রকাণ্ড জাবদা খাতা, আর অন্যটা তার চেয়ে অনেকটা ছোট । গ্যালাক্সির সমস্ত ...
  • মানুষ মানুষের জন্য?
    স্মৃতির পটে জীবনের ছবি যে আঁকে সে শুধু রঙ তুলি বুলিয়ে ছবিই আঁকে, অবিকল নকল করা তার কাজ নয়। আগেরটা পরে, পরেরটা পরে সাজাতে তার একটুও বাঁধেনা। আরো অনেক সত্যের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতির আরম্ভেই এই ধ্রুব সত্য মনে করিয়ে দিয়েছেন। কথাটা মনে রেখেই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অশোকাষ্টমী

Shakti kar bhowmik

আজকে কেন জানিনা ঊনকোটি পাহাড়ের কথা খুব মনে পড়ছে। নিজেদের পুরোনো জীবনের কথাও। ১৯৬৯ কি ৭০সাল। সদ্য শিক্ষকতায় ঢুকেছি। কোথায় আমার বাড়ী কোথায় ভদ্রার বাড়ী। ছোট্ট শহর কৈলাশহর। সংস্কৃতিমনষ্ক রক্ষণশীল সমাজ। আমাদের বয়স তখন কম, দেখায় আরো কম। সহকর্মীরা ভালবাসেন, হেডমিস্ট্রেসের আমরা প্রিয়পাত্রী ছিলাম। স্কুলের সব কটি ক্লাসের মেয়েরা পিকনিকে আমাদের নিয়ে যেতে চায় আমরাও সাগ্রহে যাই। ঊনকোটিতে নিরামিষ খাওয়াই প্রথা; আমরা একদিন সর্ষেবাটা দিয়ে রান্না করা ডিম নিয়ে গেছিলাম, কেউ বাধা দেয়নি। তখন পাহাড়ে কেউ থাকতোও না; কিছু দিন পর একটি দরিদ্র পরিবার কুঁড়েঘর বেঁধে থাকতে শুরু করে, আরো পরে পান্ডার ভূমিকা নেয়। আমি আর ভদ্রা সবার সঙ্গে যাই, কখনো দেখি অন্য পিকনিক পার্টি আছে, কখনো দেখি তীর্থকামী মানুষেরা স্নান করে স্রোত জলে একটু দুর্বা দুটো সাদা ফুল কি জবাফুল ভাসিয়ে দেয়। আমি আর ভদ্রা মাঝে মাঝে একটু হালুয়া কি ঘুগনী নিয়ে একাও যাই। ভয় করে না, কোনদিন ভয়ের কারণও হয়নি কিছু। খবরের কাগজে তখন এখনকার মতো এতো খারাপ খবর উঠতো না, টিভি তো ছিলোই না। আমরাও পৃথিবীর অন্ধকার নিয়ে অবহিত ছিলাম না।
অনেকটা পথ জীপ থেকে নেমে পাহাড়ে উঠতাম। সবুজ পাহাড় ঘিরে স্বচ্ছ জলধারা, কখনো প্রপাত কখনো ঝর্ণা কখনো ছলছলে নদীনীর। সবুজে সাদা জল বিন্দুর নকশা। আঁকা বাঁকা শুঁড়িপথ, প্রাগৈতিহাসিক কিছু সিঁড়ি। তখনও রেলিং এর বাঁধন ছিলো না। একদম আদিম সৌন্দর্য। এখানে ওখানে ছাড়ানো সম্পূর্ন অসম্পূর্ণ আর ভাঙ্গা কিছু প্রস্তর মূর্তি। লোকে বলে এক কোটির একটা কম তাই ঊনকোটি। এতো ছিলো না মনে হয়। গল্প আছে কালু কামার নামের এক ভাষ্কর এক রাত্রি র মধ্যে কোটি মূর্তি নির্মাণে আদিষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু কাকের ডাকে ভোর হয়ে গেছে ভেবে একটি নির্মাণে অসমর্থ হয়েছিলেন। পাথুরে প্রমাণ নেই। ইতিহাস মিথ নির্ভর। কেউ বলেন শৈব তীর্থ, কেউ বলেন বৌদ্ধ যুগে আত্মগোপনকারী হিন্দুশিল্পীদের সৃষ্টি, কেউ আবার বলেন হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থানে আত্মগোপনকারী বৌদ্ধদের তীর্থ। আবার প্রধান মূর্তি কটিতে দুর্গা গণেশের আদল ক্ষয়িষ্ণু পাথরে চোখে পড়ে মনে হয়।

সে যাই হোক ,জলের মঞ্জিরে ঝিনিঝিনি বাজনা, সবুজ শাখা প্রশাখার ফাঁকে চুঁইয়ে পড়ে সূর্য্যের আলো। বনের পথে আঁধার আলোয় আলিম্পন। পাথর জল ছুঁয়ে থাকে সবুজ পাতা জলে ভেসে যায়। চাঁপার সুগন্ধ বাতাসে। বনের তীর্থ বন সাজে বর্ণিল, বনফুলে সুবাসিত।
দোকান পাট পূজামন্ত্র কিছু নেই। সেই ত্রিপুরায় দুর্গা পূজা ছাড়া সমারোহপূর্ণ পূজা ক্লাবে বা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে হয় না বললেই চলে। লক্ষ্মী পুজো বিপদনাশিনী সত্যনারায়ণ, গড়িয়া দেবতার পুজো হয় প্রসাদ হয়। গ্রামের পথে দেখা যায় এক ঠাকুর - অর্ধেক নীল অর্ধেক শাদা অর্ধেক নারী অর্ধেক পুরুষ, নাম তাঁর পরমেশ্বর। প্রসাদটি ভারী স্বাদু, চালের গুঁড়ো আর কি মিশিয়ে তৈরী একটি নাড়ু। আর আছেন সুবচনী ঠাকরুন - বইনপুত কোলে লইয়া লোকের বাড়ী একটু তেল মেগে বেড়ান। লোকের বেশি টাকাও নেই বাজনা বাদ্যির ধুম ও নেই। পাঁচালি আছে গান আছে নাচও।
এখন বাসন্তী পুজো। উদয়পুরে জগন্নাথ দীঘির পাড়ে কবেকার প্রাচীন মন্দিরে কবেকার পুরোনো কাঠের প্রতিমা, নিরিবিলিতে পূজিত হচ্ছেন। আগরতলা দুর্গা বাড়ীতে সুদর্শন রাজপুরোহিত আশোক পাতা আহুতি দিচ্ছেন হোমের আগুনে, আজ না অশোকাষ্টমী!
কেন মনে পড়লো এতো কথা? কালকে যে চিরশ্রী কৈলাশহর থেকে ফিরতে শুনেছে অনেক বাজনা, অনেকে প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছেন। ওই কথায় আমারও মনে হোল ঊনকোটির জলে এখনো কি জলের নূপুর বেজে চলেছে রুনু রুনু রুনু?

শেয়ার করুন


Avatar: kumu

Re: অশোকাষ্টমী

খুউব সুন্দর,মায়াময় ছবি।
আরও লিখুন।
Avatar: শঙ্খ

Re: অশোকাষ্টমী

বাহ। ভারি ভালো লাগলো
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: অশোকাষ্টমী

শক্তি,

পুজোর গন্ধ পেলে যেমন পুরুত ঠাকুরের দেখা মেলে - তেমনি আমারও একটু আশা হয়েছিল - বোধয় উনকটি পাহাড়ের গল্পটা বলবেন ! - সেটা একটু বললে ভালো লাগবে !

মনোজ
Avatar: Lama

Re: অশোকাষ্টমী

মনোজদা, এইটা দেখতে পারেন

https://en.wikipedia.org/wiki/Unakoti
Avatar: sujata ganguly

Re: অশোকাষ্টমী

বাহ ! খুব ভালো লাগলো !
Avatar: Du

Re: অশোকাষ্টমী

খুব সুন্দর । ঊনকোটি সেরকমই থাকুক আশা করি।
Avatar: কল্লোল

Re: অশোকাষ্টমী

না না উইকি না। আপনার শোনা ঊণকোটির গল্প শুনতে চাই। আপনি ওখানে ছিলেন, নিশ্চই শুনেছেন। সে গল্প শোনান।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন