dd RSS feed

Sudip Guptaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...
  • দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ
    আউটলুকের প্রাক্তন এডিটর, কৃষ্ণ প্রসাদ গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭) একটি লেখা (https://www.faceboo...
  • ছোটবেলার পুজো
    আয়োজন বড় জরুরী। এই যে পুজোর আগের আয়োজন, মাঠে প্যান্ডেলের বাঁশ, রেডিওতে পুজোর অ্যাড, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউমার্কেট হয়ে পাড়ার দোকানগুলোয় মানুষের গুঁতোগুঁতি, ফাঁকা জংলা মাঠে কাশ ফুল, এসব আয়োজন করে দিয়েছে পুজোর। এখন বৃষ্টি আসুক না আসুক কিচ্ছু আসে যায়না, ...
  • কল্প
    ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনী মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত- হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর- সেই সব ...

অ্যাটম গল্প

dd

অ্যাটম গল্প ১
*******************************
ট্রামে বসে সামনে দিকে তাকাতেই দেখি সামনের সীটের মাঝ বয়েসী ভদ্রলোক কেমন অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ট্যারা ? ট্যারা না কি? না তো।

আমি মুখ ফিরিয়ে নেই। আবার চোখাচোখি হয়। ভদ্রলোকও অপ্রতিভ ভাবে চোখ নামিয়ে নেয়। আমার অস্বস্তি হয়। আমি নিজেও তো ভুঁড়ো এক প্রবৃদ্ধ। কোনো সুকুমার বালক নই যে কোনো পেডোফিলিক আমার দিকে তাকাবে। চোখে চাটবে।

আবার চোখাচোখি হয়। ঐ, সেই হাঁ করেই চেয়ে আছে। তাহলে হতে পারে আমাকে কোনো চেনা লোকের মতন লাগছে। বা সত্যিই চেনা। আমি চিনতে পারছি না। কিন্তু এনার দৃষ্টিটা কেমন একটানা, পলকহীন। ইন্টেন্স বলা যায়। আমি আড় চোখে একবার দেখি - নাঃ,আদৌ চেনা ঠকেছে না। কিন্তু ভদ্রলোক সেই রকমই হাঁ করে আমাকে দেখছেন।

এ তো বড়োই বিরক্তিকর। ভাবতেই দেখি ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে এগোলেন। ফাঁকা ট্রাম। আমিও দরজার গা ঘেঁষে লেডিস সীটেই বসে। যাক, ব্যাটা নেমে যাচ্ছে। ভালো ভালো।

ঠিক নামবার আগে হঠাৎ ভদ্রলোক মুখ ঝুঁকিয়ে আমার কানে কানে বলেন, "আপনি রাতের বেলাতে যে অলৌকিক বাজনা শোনেন, শোনেন তো? জানেন, আমিও সেই বাজনা শুনি।
নিমেষে মনে পড়ে যায়। সেই আট দশ বছর বয়স থেকেই রাতের বেলা ঘুম ভাঙলে স্পষ্ট শুনতাম দূরে খুব দূরে কোনো অর্কেস্ট্রা র মতন বাজনা বাজছে। কখনো সখনো কোনো অজানা ভাষার কোরাস গান।রাতের হাওয়ায় ভেসে ভেসে আসে। কাছে আসে, মিলিয়ে যায়। তারপর অনেকদিন শুনিনি। এখন এই বয়সে এসে আবার ঘুম ভেঙে গেলে শুনি সেই বৃন্দ বাদন। কোরাসে গান গাইছে অনেকে। অস্পষ্ট। আবছা। হয়ে যায়।আবার শুনি। ঘুমিয়ে পড়ি।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেশ করতে যাই"কিন্তু, আপনি জানলেন কী ভাবে?' কিন্তু সেই উত্তর আর পাওয়ার সুযোগ হোল না। দ্রুত ভদ্রলোক ট্রাম থেকে নেমে মুহূর্ত্তে মিলিয়ে গেলেন।

আফশোষ। একবারই সুযোগ এলো জীবনে। কাউকেই কখনো বলি নিএই বাজনার কথা। এই অলৌকিক বাজনা আরো রহস্যে ডুবে গেলো।

অ্যাটম গল্প – ২
**************************
সে আমার ভাগ্নে যখন ছ সাত বছর বয়স, তখন সবে টিভি এসেছে কলকাতায়। সেই বাচ্চা তখন টিভির সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচাতো, ভাবতো টিভির ভিতরে একটা লোক আছে সেইই কথাটথা বলছে। টিভির লোকের কথা সে যেমন শুনতে পাচ্ছে তো ওর চেঁচানিও টিভির ভিতরের ছোট্টো মানুষটা শুনতে পাবে। হা হা হা।

তো আমার মার কাছে শুনেছি ঐ রকম বয়েসে আমিও রেডিওর কাছে অমন চেঁচাতাম। না কি রেডিওর ভিতরের ছোট্টো মানুষগুলো আমার কথা শুনতে পাবে।হি হি হি।

আর সেই ভাগ্নেও এখন মাঝ বয়সী। তার দুটো ছেলে। তারাও কি অমনি ছেলে মানুষী করে? আর আমিও তো বুড়ো ভাম। স্ট্রোক হয়ে পড়ে আছি হাঁসপাতালে। নট নড়ন চরণ নট কিচ্ছু। চারদিকে তার আর নল। ছুঁচ। মনিটর বিপ বিপ করে চলে, আলো জ্বলে। কিছু শুনতে পারি,কিছু দেখতে পাই। কিছু টের পাই। সামান্য কিছু।

ঐমাথার কাছে এক মনিটর মেশিন থেকে এইট্টুকুনি মানুষটা বেরিয়ে এলো। তার মুখ দেখতে পাই না।এ তো আমার সেই ছেলেবেলার রেডিওর ছোট্টো মানুষের মতন। স্বপ্নের মতন - খুব চেনা কিন্তু বুঝতে পারি না কে। পাশ ফিরলে আর দেখা যায় না। "তুমি কি টু ডাইমেনশনাল" আমি তাকে প্রশ্ন করি। সে হেসেই অস্থির। নেচে কুঁদে বেরায়। এ যেন এক খেলা। ই সি জি মেশিনের ভিতরের এই ছোট্টো মানুষটাও কি একটা বাচ্চা না কি? আমি যেমন বাচ্চা ছিলাম অনেক অনেকদিন আগে।

সে খুব হুটোপুটি করে। আমায় বলে, ও মানুষ, ও মানুষ, দ্যাখো কেমন জ্বলজ্বল করছে আলো গুলো। আর কিরি কিরি কিরি কিরি করে পাতায় পাতায় কি সব এঁকে যাচ্ছে। পাহাড়ের মতন। উঁচু আর নীচু। তার আর উৎসাহের শেষ নেই।

আর আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে "অ্যাই, অ্যাই লোকটা।ঐ যাঃ। আলোগুলো কিরম করছে দ্যাখো। আর দ্যাখো ঐ স্ক্রীনে উঁচু উঁচু পাহাড় গুলো কিরম ঘুমিয়ে পড়ছে। সব স্ট্রেট লাইনের মতন। লাইনটা আর উঠছে না তো। তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? অ্যাই'। ।।।।।।।।।।।।

অ্যাটম গল্প – ৩
***************************

টুম্পা তখন দশ। আর ঋতু ছিলো হেমন্ত।কালিংপং থেকে অল্প দূরের এক ডাক বাংলো হচ্ছে অকূস্থল। সময় তখন সকাল দশটা। এই তো পটভূমি।

টুম্পা একা নয়,দুটো কুকুর। লোমোশ। খুব হাসি খুসী। গতকাল বাংলোতে আসতেই টুম্পার সাথে একেবারে গলায় গলায় ভাব হয়ে গেলো। চৌকিদারকে জিজ্ঞেশ করেছিলো নাম কী কুকুরদুটোর, তো সে ঠোঁট উল্টে বললো ডগি মগি কিছু হবে। আজ বিকেলেই তো চলে যাবে টুম্পারা কিন্তু তা হোক, নাম ছাড়া বন্ধু হয় না কি? টুম্পা নাম দিলো গোল্ডি আর চেকার। দেখুন, কুকুরের নাম একটু ইংরেজী ঘেঁষা হলেই শুনতে ভালো লাগে।

মা বললো বেশীদূর যাস না যেনো, কম্পাউন্ডের মধ্যেই থাকবি। আর বাবা বললো দেখিস, পিছন দিকটায় বেশ খাদের মতন, ও দিকটায় যাবি না।

তো টুম্পা গোল্ডি আর চেকার। তিনজনের ফুর্ত্তির অন্ত নেই। নাচতে নাচতে চলে তিনজনে। একজনের বিনুনী ছটফট তো দুজনের ল্যাজ টিংবিং। আর নীল আকাশ, শরতের মেঘ আর হু হা হাওয়ায় পায়ের নীচে ঘাসে কিলিবিলি খেয়ে যায়। ঢেউ ওঠে। আর রোদ তো নয় যেনো মাখন।দুধারে বড় বড় আবলুশ গাছে, ঝুপসী অন্ধকার। আর ঘন ঝোঁপ।

যখন খুব হুল্লোর চলছে তিনজনে, এ ওর ঘাড়ে পড়ছে দাপিয়ে তখনই টুম্পার মনে হল কেউ যেন ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কে? কোথায়? গাছের পাতায় শন শন আওয়াজ। বুনো ফুলের ঝোঁপে ঝির ঝির শব্দ। কেউ তো নেই।

কিন্তু ছিলো। টুম্পা ঠিক বুঝল। কেউ তাকিয়ে আছে। অকারনে তার বুক ধুক পুক করে ওঠে। দেখে গোল্ডি আর চেকারও কেমন নিথর দাঁড়িয়ে আছে। কেউ তাকিয়ে আছে। কুকুর দুটোও কি কিছু শুনতে পেলো? ভয় পেয়েছে কিছুতে? কী দেখে তারা? এক দৃষ্টিতে তারা বড় গাছটার আধো অন্ধকার গুঁড়ির দিকে চেয়ে আছে। টুম্পা চেষ্টা করেও নড়তে পারে না আর তখনই খেয়াল হয় আর তো হাওয়া বইছে না। কোথাও কোনো শব্দ নেই। একেবারে জমাট নিস্তব্ধ। একটা ভয় তাকে ছেয়ে ফেলে। সেই গাছ কি টুম্পাকে ডাকে? বলে আয় আয়।

কথাও বলতে পারে না টুম্পা। তার গলা বুঁজে যায়। না চাইলেও তাকে যেতে হবে ঐ গাছটার কাছেই। সে স্পষ্ট টের পায় অনেকগুলো চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে আর অনেকগুলো হাত তাকে ইসারায় ডাকছে। আয় আয়। দেখে না কিন্তু টের পায়।

সে এক পা দু পা করে হাঁটতে যেতেই গোল্ডির উপরে পড়ে যায়। না কি গোল্ডি ঠিক ওর পায়ের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলো? দু জনে মিলে হুড়মুড়িয়ে গড়িয়ে যেতেই যাদু শেষ হয়, চেকার ঘৌ ঘৌ করে চেঁচিয়ে ওঠে। আবার হাওয়া বয় - ধামাল। আর ডাল পালার থেকে শন শন শব্দ হয়। ঘাসে ঘাসে ঢেউ আর ঝির ঝিরে আওয়াজ।

তিনজনেই ছুটে ফিরে আসে বাংলোতে। ঠিক ঢুকবার মুখেই চেকার একেবারে মানুষের গলায় বলে - আজ খুব বেঁচে গেলি রে, মেয়ে। আর তখুনি দুই কুকুরে উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে চলে যায় বাংলোর বাইরে।

বিকেল বেলায় জীপে উঠবার সময় আর দেখতে পেলো না ওদের। "ঐ কুকুর দুটো কোথায়? ডগি মগি?" টুম্পা প্রশ্ন করে চৌকিদারকে। সে উত্তর দেয় না, খুব বিষাদ ভরে টুম্পার দিকে তাকিয়ে শুধু মাথা নাড়ে।







Avatar: দ

Re: অ্যাটম গল্প

৩নং টা বেশ দিব্বি লাগল
Avatar: Du

Re: অ্যাটম গল্প

ভালো লাগলো।
Avatar: dd

Re: অ্যাটম গল্প

বাহ


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন