Prativa Sarker RSS feed

Prativa Sarkerএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

এবারের নারীদিবস

Prativa Sarker

One who says 'hm' will be jailed
One who asks 'why'? will be exiled.

লিখেছিলেন তামিল কবি ভারথী।
আমাদের দেশের অবস্থা তো এখন এইরকমই। তবু না লিখে পারছি না কাল রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশ আপনি নিতেই পারেন, কিন্তু আমাকে দয়া করে ট্যাগ করবেন না। আলপনা দেওয়া খুব পছন্দ করি,বিশেষ করে আদিবাসী গ্রামের আলপনা। কিন্তু কাল সেরকম প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেব না। কারণ কালকের দিনটা মেয়েদের ললিতকলায় পারদর্শিতা দেখাবার দিন নয়। রন্ধন বিদ্যায় নৈপুণ্য দেখাবারও নয়। হেভি ডিস্কাউন্টে জুয়েলারি, শাড়ি বা অন্য ভোগ্য খরিদ করে নিজের তথাকথিত নারীত্ব প্রমাণেরও নয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস স্মরণ ও শপথ নেবার দিন। যাঁরা কর্মসচল আর সমাজের পচাগলা ঘায়ে মলম লাগিয়ে তার নিরাময় চেয়েছেন তাদের স্মরণ আর তাঁদের আরধ্ব কাজকে পরিণতি দেবার শপথ নেবার দিন এই ৮ই মার্চ। আমরা যেন তার সম্মান রাখতে পারি।

এই দিনটির একেবারে জন্মকথা বলে চুপ করি। ১৮৬৩ সালের এক হতভাগীর নির্মম পরিণতি চোখ টেনেছিল মহামতি মার্ক্সের। ক্যাপিটালে এই সম্বন্ধে লেখেন তিনি। আর তখন থেকে মেয়েদের সমস্যা নিয়ে যে ভাবনা চিন্তার পরিবর্তন সূচিত হয় তাইই পরিণতি পায় পরবর্তী কালে বিশ্বজোড়া নারী দিবস পালনে।
কুড়ি বছরের মেরী স্রেফ অতি খাটুনিতে মারা পড়েছিল। অভিজাত নারীর পোশাক বানাবার কারখানায় সময়মত ডেলিভারি দেবার তাগিদে তাকে খাটতে হতো গড়ে সাড়ে ষোলো ঘন্টা, সীজনে নাগাড়ে ত্রিশ ঘন্টা ! হ্যাঁ, তার পরম দয়ালু মালিক তাকে জাগিয়ে রাখবার জন্য তাকে চা,কফি, শেরি, পোর্টের সাপ্লাই দিয়ে যেতেন। ত্রিশ জনের বেশি মেয়ে গাদাগাদি করে যে ঘরে কাজ করতো তাতে নিশ্বাস নেবার মত হাওয়া ঢুকতো না। তো এক শুক্কুরবার মেরী অসুখে পড়লো আর রোববার তার প্রাণপাখী ফুড়ুৎ হলো। মালিক ভদ্রমহোদয়া নিশ্বাস ফেলে বাঁচলেন কারণ ওর মধ্যেই মেরী হাতের কাজটুকু শেষ করেই গেছে।
পরদিন সক্কাল সক্কাল লন্ডনের সব কাগজে ফলাও করে মেরীর কথা ছাপা হল "Death from simple over-work" এই রকম শিরোনামে।

তো এই হলোগে এক্কেবারে গোড়ার কথা। এত কষ্টের মধ্য দিয়ে যে দিনের জন্ম তাকে কি কোন ডিসকাউন্ট, তা যতই বড় মাপের হোক না কেন, সার্থক করতে পারে ?

তবে এই নারী দিবসে আমার একখান দাবী আছে। "মেয়েলি" দাবী 😁।
একজন নারী হিসেবে, মা হিসেবে আমার সন্তানের ওপর আমার অধিকারই শেষকথা। আমার এক সন্তানের রক্ত খেয়ে, তার স্বপ্নকে চুরচুর করে দিয়ে চিরকালের মতো কেড়ে নিয়েছে রাষ্ট্র ! রহিত ভেমুলা!
এই হতভাগ্য মা এখন ফেরত চায় তার গুম হয়ে যাওয়া আর এক ছেলেকে। নাজীব। নাজীবকে ফেরত দাও রাষ্ট্রদানব। আমার নারীদিবস পালন সার্থক হোক।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন