Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...
  • যোজনগন্ধা
    ভূমিকা এই উপন্যাসের শুরু জানতে গেলে সময়ের স্রোতকে বলতে হবেএকটু উল্টোবাগে চলো। আইন করে নীল চাষ বন্ধ হয়েছে সদ্য সদ্য। তার কিছু আগের থেকে এ উপন্যাসের কুশীলবদের পথচলা শুরু। সুন্দরবন লাগোয়া ভবানীপুর গ্রামে রামতনু মুখার্জ্জীর পারবারিক প্রথা পুত্রবধূর প্রথম ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য"মা " এই শব্দ টার সাথে, আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজম একজনের মা ,তখন আমাদের নামের আগে একটা লড়াকু শব্দ দেয়াই যায়। আমরা একটা নিরস্ত্র যুদ্ধ করি।সকাল থেকে রাত।কাউকে ছোট করছিনা,মা মাত্রই তাই করেন বিশেষ করে যদি কর্মরতা ...
  • ভাসানের গল্প এবং
    ভাইফোঁটার স্মৃতির জোয়ারে চাপা পরে গেল ভাসানের গল্প. আমার ছোটবেলার সিঁথির গায়ে তখনো নকশাল আমলের দগদগে ঘা. বাঙ্গাল উদ্বাস্তুর সর্বহারানোর শেষে ফিরে-দাঁড়ানোর লড়াইতে সঙ্গী এপার বাংলার বিভিন্ন জেলার থেকে আসা মানুষেরা. কলকাতায় উড়তে থাকা সোনার টুকরো খপ করে ধরে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নগরকাকের গল্প

Muradul islam

নগরকাকের গল্প


শামসোজ্জোহা বাসায় এসেই খবর পেয়েছে তার স্ত্রী ও কন্যা একসাথে কাক হয়ে উড়ে গেছে। এটি কোন ভালো খবর না। খারাপ খবর। খারাপ খবরে শামসোজ্জোহার মন খারাপ হল। সে একহাতে জ্বলন্ত সিগারেট রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল কী করা যায়।

দূরে শাহজালাল(র) এর দরগার মসজিদের উচু মিনারে নিচের রাস্তার দিকে তাকিয়ে বসেছিল এক নগরকাক। তারও মন খারাপ । তার মন খারাপের কারণ জানতে যেতে হবে একটু দূর...কিছু আগের ঘটনায়......

শহরের কাকদের তখন জমজমাট অবস্থা। এখানে সেখানে সব খানে প্রচুর কাক। কাকদের সম্মিলিত উড্ডয়নে মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় আকাশ কালো হয়ে যেত। একেবারে কুচকুচে কালো। সূর্যের আলো আসার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

তখন নগরবাসীরা নিজ নিজ ঘরে বৈদ্যতিক বাতি জ্বালাত। জিন্দাবাজার পয়েন্টস্ত দোকানপাট গুলো রাত্রিকালীন যেসব বাতির আলোতে আলোকজ্জ্বল হয়ে উঠে সেসব বাতিতে আলোকিত হয়ে উঠত। লোকেরা বলত, আইজ তাড়াতাড়ি রাইত অই গেল।

কেউ কেউ বলত, গ্লোবাল ওয়ার্মিং।

তখনকার কথা। সেই সময়ে আব্দুল মজিদের বাড়ির পাশের ডোবার লাগোয়া ছোট তালগাছের গর্তে কয়েকটি মাছরাঙা বাসা বেধেছিল। আব্দুল মজিদ যেতে আসতে মাছরাঙাদের দেখত এবং ভাবত এরা এখানে কী করে।

একদিন আব্দুল মজিদ ভোরবেলা উঠে ডোবার ধারে গিয়েছিল কোন একটা কাজে। তখন তার চোখে পড়ে মাছরাঙাদের বাসা। সে বাসাটি ভেঙে ফেলে এবং তিনটি মাছরাঙা ধরে এনে তার বউকে বলে, তেল দিয়া ভাইজা ফেলো।

আব্দুল মজিদের বউ বলে, পাখি ভাজা গুনার কাজ।

আব্দুল মজিদ বলে, এরা বদ পাখি। বদ পাখি মানুষ খাবে না তো কী করবে।

আব্দুল মজিদের বউ এবং আব্দুল মজিদের কথা কাটাকাটি হয় পনেরো মিনিট। তারপর কোন একটা কারণে আব্দুল মজিদের বউ পাখিগুলো ভাজতে রাজি হয়। কারণটা এখানে অপ্রাসঙ্গিক এবং এতে পাঠকের মনে হতে পারে আব্দুল মজিদ একজন নারী নির্যাতক, সেই কারণে কারণটি উহ্য থাকল।

পাখি ভাজার পর আব্দুল মজিদের সামনে যখন আনা হল তখন দেখা গেল কুচকুচে কালো তিনটি বস্তু পড়ে আছে।

দেখতেই ঘেন্না লাগে এমন। কিন্তু যেহেতু এটি পাখির মাংস এবং যেহেতু বউয়ের সাথে এর জন্য কথা কাটাকাটি করতে হয়েছে তাই এর একটু অংশ ভেঙে মুখে দিল আব্দুল মজিদ। তারপর থেকে আব্দুল মজিদ একটি কালো কুচকুচে নগরকাকে পরিণত হয় এবং শহরের যাবতীয় কাকেরা দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন শহরে মাত্র কাক ছিল একটাই। এবং সে আব্দুল মজিদ।

আব্দুল মজিদ উচু উচু বিল্ডিং এর ছাদে, মসজিদের মিনারে বসে থাকত রাস্তার দিকে তাকিয়ে। সারাদিন সারারাত সঙ্গীহীন কাটিয়ে সে করুণ সুরে ডাকত। তার ডাক নগরের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিহত হয়ে, অজস্র কর্ণকুহর পরিভ্রমণ করে হারিয়ে যেত বেশিরভাগ সময়। খুব কম সময় কেউ একজন তার ডাক লক্ষ্য করে উপরে তাকাত, সামান্য চোখের সাহায্যে খোঁজাখোজি করে আবিষ্কার করত উচু তে, খুব উচুতে মায়াবি চোখ নিয়ে বসে আছে এক নগরকাক।

এই গেল আব্দুল মজিদ তথা মাজারের মসজিদের মিনারে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকা নগরকাকের কথা।

বাকী রইল শামসোজ্জোহার স্ত্রী ও কন্যার কাহিনী। সেই কাহিনীর সাথে নিশ্চয়ই আব্দুল মজিদের কোন সংশ্রব আছে। কারণ গণিতের হিসাব মতে শহরে তখন কাকের সংখ্যা তিনঃ

আব্দুল মজিদ
শামসোজ্জোহার স্ত্রী
শামসোজ্জোহার কন্যা

এই তিন কাকের প্রধান কাক আব্দুল মজিদ। অতএব, বাকী দুই কাকের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এবং যেহেতু আর কোন সূত্রে শামসোজ্জোহার স্ত্রী কন্যার কাক হওয়ার কাহিনী জানা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, যেহেতু শামসোজ্জোহা সিগারেট হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে মন খারাপ নিয়ে অতএব, গল্পের মূল কাহিনী জানতে অবশ্যই নগরের প্রধান কাক আব্দুল মজিদের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।।

আব্দুল মজিদের দিকে লক্ষ রাখতে গিয়েই প্রথম আবিষ্কৃত হয় আব্দুল মজিদ দিনের সব সময় উচু উচু বিল্ডিংয়ের ছাদে বা মসজিদের মিনারে বসে থাকে না। সে দুপুরবেলা, যখন আকাশে সূর্য প্রবল উত্তাপে আসীন, তখন আব্দুল মজিদকে কোন উচু বিল্ডিং বা মিনারে বসে থাকতে দেখা যায় না। তখন সে একা একা ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়ায়। মানুষের ঘর বাড়ির আশেপাশে। মানুষের কাছাকাছি।

মানুষেরা কাক দেখে কিছু মনে করে না। তারা বুঝতে পারে না শহরে তখন মাত্র একটাই কাক। তারা মনে করে কাকের সংখ্যা অনেক কমেছে তবে কমলেও মোটামোটি সংখ্যায় তারা আছে। এছাড়া মানুষের এত সময় কোথায় কাকশুমারী করার।

অতএব, আব্দুল মজিদ তাদের কাছে গেলেও কেউ আগ্রহ নিয়ে তাকাত না।বিকেলে আবার যখন রোদ পড়ে যেত তখন আব্দুল মজিদ উচু বিল্ডিং বা মিনারের ছাদে বসে থাকত।





স্ত্রী ও কন্যা হারিয়ে শামসোজ্জোহা হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। এই তাকানোই হয়ত তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। অথবা হতে পারে তা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সঠিক কাজ, কেননা ভুল এবং সঠিকতা একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।

শামসোজ্জোহা আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথম লক্ষ করে আকাশ আসলে সুন্দর। একটু পর পর পরিবর্তন হয়। আকাশের সৌন্দর্য পুরনো হয় না। সে তখন একদৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে এমন মুগ্ধ হয়ে আকাশ দেখছিল যে সে তার চোখের পাতাও ফেলছিল না। তার কালো চোখের মণিতে প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল এক গুচ্ছ নীল আকাশ।

সে চোখের মণির প্রতিবিম্বিত অংশেই প্রথম দেখা যায় দুটি কালো কাক উড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিকার আকাশে তাকিয়ে দেখা গেল কোন কাক নেই। শামসোজ্জোহার চোখের মণিতে কাক কীভাবে এল তা গল্পের মূল চিন্তার বিষয়ে পরিণত হওয়ার পর এক অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাড় করানো হয়, হয়ত শামসোজ্জোহা তার স্ত্রী এবং কন্যাকে অত্যধিক ভালোবাসত, তাদের কাক হয়ে যাওয়ায় সে মনে অনেক দুঃখ পেয়েছে, তার মনের ভিতরের আকাশে তাই ঘোরপাক খাচ্ছে তার স্ত্রী ও কন্যা, কিন্তু যেহেতু তারা এখন কাক হয়ে গেছে তাই তাদের মানুষ ছবির পরিবর্তে কাক ছবিই ভেসে উঠছে।

এই ব্যাখ্যা অবৈজ্ঞানিক এবং অযৌক্তিক হলেও এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু পাওয়া না যাওয়ার বদৌলতে এটিই স্থির থাকল।

এই যখন অবস্থা ছিল তখন শহরের প্রধান কাক আব্দুল মজিদকে ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়ে আসতে দেখা গেল। সে শামসোজ্জোহার মাথার চারপাশে চক্রাকারে ঘুরতে লাগল এবং তারস্বরে কা কা বলে চেঁচাতে লাগল।

তবুও শামসোজ্জোহার মোহ ভাঙল না। সে মন্ত্রমুগ্ধের মত আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। তখন নগরের প্রধান কাক আব্দুল মজিদ শামসোজ্জোহার নাকের উপর বসল। নাকের উপর, ধারালো নখের উপর ভর করে বসে সে শামসোজ্জোহার কালো চোখের দিকে ঘাড় কাত করে তাকিয়ে দেখল ওখানে নীল আকাশ দেখা যায়।

প্রধান নগরকাক আব্দুল মজিদ মনোযোগ দিয়ে তাকাতেই দেখতে পেল শামসোজ্জোহার চোখের আকাশে কাক উড়ছে। সঙ্গীবিহীন কাক আব্দুল মজিদের কালো চোখ আনন্দে চকচক করে উঠল। সে কোন কিছু না ভেবে শামসোজ্জোহার চোখে ঠোকর দিয়ে কাকগুলোকে মুক্ত করে দিতে চাইল।

শামসোজ্জোহার চোখ মুহুর্তেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল, রক্তাক্ত হয়ে উঠল প্রধান নগরকাক আব্দুল মজিদের কালো ঠোট।

রক্তের লাল রঙে বিচলিত আব্দুল মজিদ লাফ দিয়ে সরে গেল। শূন্যে ভাসতে ভাসতে শামসোজ্জোহার চক্ষুহীন কোঠরে কয়েকবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সে উড়াল দিল আকাশে।

চোখহীন শামসোজ্জোহা ঠিক আগের মতই আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। বোঝা গেল, চোখ থাকা না থাকায় তার কোন সমস্যা হচ্ছে না।

এরপর থেকে নগরে দেখা যেত তিনটি কাক একসাথে ঘুরছে।



54 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: নগরকাকের গল্প

দারুণ লাগল।একদম অন্যরকম ভাবনা, লেখা। আবারও পড়ব।
Avatar: T

Re: নগরকাকের গল্প

ভালো লেগেছে।
Avatar: d

Re: নগরকাকের গল্প

বাহ ভালো


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন