Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বইয়ের গ্রাম ভিলার
    মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি মহাবলেশ্বর হিলস্টেশান হিসেবে বিখ্যাত, বিখ্যাত এর স্ট্রবেরী চাষের জন্যও। বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা লাভ হয় শুধু এই অঞ্চলে উৎপাদিত স্ট্রবেরী বিক্রি করে। দাক্ষিণাত্যের বিখ্যাত কৃষ্ণা নদীর উৎসও এই মহাবলেশ্বর অঞ্চল। সারাবছর পর্যটকের ...
  • আমার সোহিনী আর বাবার বউ
    সবচেয়ে ভোরে উঠে একটা মোক্ষম জিনিশ টের পাই। শালা, য-ফলাতেই মেয়েদের কাঁখতল দেখি আমার নির্ঘাৎ ঘোর অসুখ করেছে। এবং, রোগটা অস্বস্তির। এ যৌনব্যাধির একটা স্পেসিফিক নাম নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু তজ্জন্যে মাকুন্দ ডাক্তারের মদত নেব না। কেননা রোগটা আমারই। অন্য কারো ...
  • নকশার উল্টো পিঠ
    আমার দিদার ছিল গোটা চারেক ভালো শাড়ী। একটা বিয়ের বেনারসী, একটা গরদ, মাঝবয়েসে বেনারস বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে কেনা একটা কড়িয়াল বেনারসী, এছাড়া শেষের দিকে তসরও হয়েছিল। মায়ের প্রথম দামী শাড়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন হস্তশিল্প মেলা থেকে কেনা দুধে আলতা রঙের একটা ...
  • আরও একটি ভ্রমণ কাহিনী - কুমায়ুনে চারদিন
    প্রাককথনযেমন আর পাঁচটা বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়, কোথায় যাওয়া হবে, তারিখ, ফেরা কবে, কতদূর যাব এইসব টালবাহানা চলে, এবারেও ঠিক তাই ছিল। তা, সেই পর্ব মিটে যায় ভালোয় ভালোয়। আরও একটা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন থাকে, তবু তার বাইরেও অনেকটা অনিশ্চয়তা থাকে, ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...

অ-খাদ্য ভীমরতি

Jhuma Samadder






অ-খাদ্য ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার

যত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি দেওয়া হচ্ছে বলে কথা , তারও আবার কত না বাহানা ! আরে বাবা , চাকরি করতে এসেছিস , জমিয়ে বসে বিরিয়ানি খেতে থোড়াই না এসেছিস ! মাইনে পাবি , কাজ করবি । কি খেতে পেলি, ক'ঘন্টা ঘুমোতে পেলি, ঠান্ডায় নাকি গরমে মরতে বসেছিলি, অত খতিয়ান শোনাবার দরকারটা কি শুনি ? তোরা কাজ করবি ,যুদ্ধু করবি, গোলাগুলি খাবি ,মাইনে পাবি । অত কথা কিসের ? তোদের কোনো কিছুতেই মন ওঠে না ।
এই যে তোদের নামে 'দেশপ্রমে'র প্যাকেজিং হচ্ছে , এ-ও তো তোদের উপরি, বাপু । দেখ তো কত কত গান, কত কত ইউটিউব ভিডিও বানাচ্ছি আমরা তোদের জয়গান করে , এতোতেও পেট ভরে না তোদের , না ? পেট ভরাবার জন্য কেবল তরকা-রুটিই চাই ? অদ্ভুত !
তা শুধুই কি তোরা ? এই যে দেখ , এই ইন্ডিয়ান রেলওয়ে , এদের নিয়েও কি কম ভিডিও বানিয়েছি আমরা ? কেমন গর্ব করে , বুক ফুলিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সকলে জয়গান করে । কেউ কি একবারও বলেছে , ‘লোকো পাইলটে'র ওইটুকু বসার সিট , যেখানে একটা বেড়ালও ঠিকমত শুয়ে থাকতে পারে না, সেখানে লোকগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে ডিউটি করে । গার্ড, শান্টার, অ্যাসিসট্যান্ট, শীতের রাতে জেগে , গরমে দুপুরের রোদে পুড়ে , বর্ষায় , ও হ্যাঁ , বর্ষায় আবার ইঞ্জিনের চালের ফুটো দিয়ে জলও পড়ে আবার মাথার উপর (ন্যাচারাল সাওয়ার , স্নান করে না তো ভূতগুলো ! বলে নাকি , সময় পায় না, যত্ত বাহানা , তাই বাধ্য হয়েই আর কি - ),লিটার লিটার খাওয়ার জল নিজেদের বয়ে নিয়ে যেতে হয়, এমনকি প্রাকৃতিক ডাক এলে জলের বোতল নিয়ে মাঠে যেতে হয় , অথবা গাংম্যানগুলোর কথাই ধর না , সদা সর্বদা জান-প্রাণ এক করে খাটছে , তবু কি কেউ কিছু বলেছে কোনোদিন ? কভ্ভি নেহী । দেশের জন্য সব জান কবুল ।
তারপর দেখ , এই যে কর্পোরেশনের ময়লা পরিস্কার করার লোকগুলো , তাদের না দিয়েছি আমরা একটা মাস্ক, না একটা গ্লাভস, না একটা জুতো , ওরা কেউ কিছু বলেছে ? কেমন সোনামুখ করে হাত দিয়ে দিব্যি ময়লা পরিস্কার করে চলেছে । আমরা দেব-ই বা কোত্থেকে ? আমরা গরিব নই ? আর ওরা করবে না-ই বা কেন ? ওরা ছোটলোক নয় ? ওরা চাকরি করতে আসেনি ? মাইনে পাচ্ছে , তাই করছে ।
কিম্বা এই শীতে, গরমে , বর্ষায় রাস্তায় দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশের কথাই ধর না , কেউ কখনও বলেছে , "আর যে পারছি না বাপু , এবার এট্টু বসি । কোমরখানা ধরে গেছে ।” কিম্বা , “ বড্ড গরম , এট্টু জল পাই কোথায় ?” বলে নি । চাকরি করতে গেলে এ সব বাহানা চলে কখনও ?
না করে যাবেই -বা কোথায় ? দেশে চাকরির যা আকাল সে কি আর জানে না কেউ ? আমরা যেমন রাখব তেমন না থেকে করবেই -বা কি ? আমরা যদি আট ঘন্টার জায়গায় বারো ঘন্টা বলি , কি আঠারো ঘন্টা , করবেই , করতেই হবে । তেমন না পোষায় চলে যা , ছেড়ে দে চাকরি । বাপু, ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না । কত কত লম্বা লম্বা ডিগ্রিওলা লোকেরাই পায়ে পড়ে যাবে এখনই ।
ভারী একজন হিং টিং ছট কি একখানা ভিডিও দেখিয়ে লোক ক্ষেপাতে লেগে পড়ল । আরে , বুদ্ধুগুলো এখনও জানে না, ওর এই 'ডাল-রুটি' ভিডিও হাতিয়ার করেই আমরা কেমন দেশপ্রেমের 'চিকেন বার্গার' প্যাকেজিং করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব , দেখে নিও একবার ।



Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

এপার ওপার সবখানেই একই, কাকের প্রাণ ওষ্ঠাগত, আর দেশপ্রেমের প্যাকেজং!
Avatar: de

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

সার্ভিস সেক্টরের লোকজনকে মানুষ না মনে করে যন্ত্র মনে করার অভ্যেস হয়ে গেছে সবার!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন