Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

হার্টলেস

Sarit Chatterjee

হার্টলেস
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

মানসীর খোলা বুকদুটো অনিমেষের চোখের জলে ভেসে যাচ্ছিল। অরগ্যাজম ব্যাপারটা যে প্রায় পুরোটাই মানসিক ব্যাপার।
তিনবছর আগে দু'জনে এই সময়টুকু শুধু বরাদ্দ করে রেখেছিল। হলে হবে, নাহলে অ্যাডপশন।
ডাঃ কৌস্তভ মিত্রের ফার্টিলিটি সেন্টারের আট বাই আটের ঘরটার মেঝেতে কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ল অনিমেষ। কাউন্ট নর্মাল কিন্তু নব্বই পারসেন্ট ইমমোটাইল। বাকি দশ শতাংশকে নিয়ে আজ তিনবছরে বার তিরিশ চেষ্টা করেছে ওরা। কিন্তু ...
: হবে না মানসী।
: আরেকটু চেষ্টা কর। আমি মুখে করে ...
: না! আমার নিজের প্রতি ঘেন্না লাগে মানসী। একজন অক্ষম পুরুষ ...
: তুমি মোটেই অক্ষম নয়। তুমি আজও আমায় ..., এই পরিবেশে এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক অনি!
: সব বুঝি মানসী ... তবু ... অসহ্য লাগে ...
: তুমি আমার কথাটাও ভাব, কী রকম যন্ত্রণা হয় অতক্ষণ ওভাবে পা ফাঁক করে শুয়ে থাকতে .., আমি এবার বলেছি কোনো মাইল্ড অ্যানেস্থেশিয়া দিতে।
: লেট আস গো ফর অ্যাডপশন .., আমি আর পারছি না!
: ওক্কে। আজই শেষবার। কিন্তু আরেকবার চেষ্টা কর প্লিজ। আমার মন আজ কেন জানি বলছে .., এস, কাছে এস লক্ষীটি। জাস্ট রিল্যাক্স, যা করার আমায় করতে দাও .., কাম অন অনি!

প্রতিবার মানসীর খুব ব্যথা লাগে। জরায়ুর মধ্যে যখন ক্যাথেটারটা ঢোকান ডাঃ মিত্র, অসম্ভব ক্র্যাম্প হয়ে যায় তলপেটে। কিন্তু আর্টিফিসিয়াল ইনসেমিনেশানের লক্ষ্যই তো শুক্রানুকে ডিম্বানুর যতটা কাছে সম্ভব পৌঁছে দেওয়া।
: আজ প্লিজ অবশ করে করবেন স্যর।
: ঠিক আছে। আমি ফেন্টানিল ইঞ্জেকশন দিয়ে দিচ্ছি মানসী। ইউ উডন্ট ফিল আ থিংগ।
: অজ্ঞান হয়ে যাব?
: না, তবে একটা ঘোরের মধ্যে থাকবে কিছুক্ষণ।

মানসী দেখছিল গোলাপী সোয়েটার পরা পুতুলটাকে। শুইয়ে দিলেই চোখ বন্ধ করে ফেলে। আজ কিন্তু চোখদুটো খুলে পিটপিট করে তাকাল ও মানসীর দিকে। চোখের বাদামী তারাদুটো অসম্ভব বড়। লাল টুকটুকে ঠোঁটদুটো। হঠাৎ কী সুন্দরভাবে হেসে উঠল ও। ফোকলা মুখে হঠাৎ বলে উঠল দিয়া, মাম্মা!

দিয়ার একবছরের জন্মদিনে ডাঃ মিত্রকে ওরা অনেক করে বলেছিল আসতে। কাজ শেষ করে ওদের বৈষ্ণবঘাটার ফ্ল্যাটবাড়িটার সামনে ওর গাড়িটা যখন এসে দাঁড়াল তখন রাত প্রায় সাড়ে ন'টা। ড্রাইভার ছেলেটা ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, কতক্ষণ লাগবে স্যর?

কৌস্তভ মিত্র জবাব দিল না। মাথাটা কেমন যেন ব্যথা করছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা ওয়েট স্লাইডটা ... হান্ড্রেড পারসেন্ট ইম্মোটাইল ... অল অফ দেম।
টেবিলের ওপর শোওয়া মানসীর মুখে একটা অদ্ভূত হাসি। ওষুধের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
কাজটা সম্পূর্ণ আন-এথিকাল হবে। হোক। আমি শুধু ডাক্তার না। আমি ঈশ্বরের দূত।
ফ্রিজারের দরজাটা খুলে শুধু কালো ডট দেওয়া একটা শিশি বার করল কৌস্তব।

রিয়ার-ভিউ মিররে ছেলেটা দেখছিল কৌস্তভ মিত্রের চোখদুটো। বাদামী তারাগুলো কী যেন খুঁজছিল বাড়িটার দেওয়াল ভেদ করে।
: কী হলো স্যর? যাবেন না?
: না তণ্ময়! বাড়ি চল।
কুয়াশার মধ্যে মিলিয়ে গেল গাড়িটা।

০৪০১২০১৭


Avatar: Sourav Bhattacharya

Re: হার্টলেস

great writing
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: হার্টলেস

খুব ভাল লিখেছেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন