বিপ্লব রহমান RSS feed

বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • খাপছাড়া স্মৃতিকথা
    খাপছাড়া স্মৃতিকথাঝুমা সমাদ্দারজানালার ধারে ভ্যাবলা হয়ে বসে ছিলাম , কোথা থেকে যেন বেরিয়ে এলো একটা 'মন' , অনর্গল বলে যেতে লাগল-গরমের রাত্তিরে খাওয়া দাওয়ার পর সেই যে বাড়ির পেছনের রাস্তাটা ধরে যখন হাঁটতে বেরোতিস ,সেই যে রে ,যেখানে পুষ্পাদের বাড়ির বড় বট গাছটা ...
  • চম
    চমসিরিয়ে লিওন - ২০১৬, ১ ডিসেম্বর************...
  • সম্পর্ক
    চিরকালই আমার মনে হয়েছে মৃত্যু কোন সীমারেখা, ভেদাভেদের পরোয়া করেনা। আর যে মৃত তার ওপর এই পৃথিবীর কোন লেনদেন, সম্পর্ক,লিঙ্গ,ধর্ম, সমাজ সংস্কৃতির কোন নিয়ম খাটে না। কারণ সে আর কোথাও নেই। আঙুলের ফাঁকে গলে পড়া জল যেমন, শুধু স্মৃতির আর্দ্রতা অনুভব করা যায়। এমন ...
  • অমৃতকুম্ভের সন্ধানে'
    অমৃতকুম্ভের সন্ধানে' ঝুমা সমাদ্দার ১"বিরিয়ানি ? সেটা কি বস্তু হে দেবরাজ ?" "আরে, 'পলান্ন' রে, 'পলান্ন', পুরনো বোতলে নতুন মদ ।"ইন্দ্রের রাজসভায় মেনকার প্রশ্ন শুনে শুরুতেই এক দাবড়ানিতে থামিয়ে দিলেন দেবাদিদেব মহাদেব । অমনি ...
  • ম্যাচ পয়েন্ট
    ম্যাচ পয়েন্টসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প: খবরদার, টাচ করবে না তুমি আমাকে!ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে তুতুল। সুন্দর মুখটা রাগে অভিমানে কাশ্মিরি আপেলের মতো লাল হয়ে আছে। পলাশ কিছুক্ষণ নিজের মনেই হাসল। তারপর জোর করে তুতলকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, রাগটা কি আমার ওপর, ...
  • সুরের ভুবনে
    সুরের ভুবনেসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পদশইঞ্চির স্কার্টটা হাঁটুর চার আঙুল ওপরেই শেষ হয়ে গেছে। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল পরমার। কোনরকমে হাঁটুতে হাঁটু চেপে মেক-আপ রুমে দাঁড়িয়েছিল সে। দীপ্তি ওকে বোঝাচ্ছিল।: দ্যাখ, আমাদের কাছে এই একটাই মূলধন, আমাদের গান। এই ...
  • আমেরিকা, আমি এসে গেছি
    আমেরিকা, আমি এসে গেছিআসলে কী --------------অ্যাকচ...
  • আতঙ্কিত ভীমরতি
    আতঙ্কিত ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারপরিস্কার দেখতে পাচ্ছি দু' দু'খানা ইন্ডিয়া। দেশের ভিতর দেশ ।একখানা দেশ শপিংমলে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ঢেঁকিছাঁটা চাল ( না হে , দিশী নাম নয় , নাম তার ‘ব্রাউন রাইস’), কিউয়ি-স্ট্রবেরীর মতো সাত-বাসী বিদেশী ফল(গাছ-পাকা পেয়ারা-কামরাঙায় ...
  • হালাল বইমেলায় হঠাৎ~
    অফিস থেকে দুঘণ্টা আগে ছাড়া পেয়েই ছুট। ঠিক দুবছর পর একুশের বইমেলায়। বলবেন, কেন? সে এক মেলা উত্তর, না হয় এইবেলা থাক। আপাত কারণ একটাই, অভিজিৎ নাই!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই মধুর কেন্টিনের কথা মনে পড়ে। অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেখানে ...
  • নিলামওয়ালা ছ'আনা
    নিলামওয়ালা ছ'আনাসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্পপাঁচতারা হোটেলটাকে হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল সুদর্শন ছিপছিপে লম্বা ছেলেটা। আইপিএল-এর অকশান হবে এই হোটেলেই দুদিন পর। তারকাদের পাশাপাশিই সেদিন ভাগ্যনির্ণয় হবে ওর মতো কয়েকজন প্রায় নাম না জানা খেলোয়াড়ের। পাঁচতারায় ঢোকার ...

প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

বিপ্লব রহমান

কর্ণফুলীর কান্না, মধুপুরে মিশে গেছে, চলেশ রিছিলের তাজা রক্তে….’-

এমনই শাণিত কথামালা আর সুর-ঝংকার নিয়ে সারাদেশে পাহাড় থেকে সমতলে ছুটে বেড়াচ্ছে আদিবাসীর গানের দল ‘মাদল’। যেখানেই আদিবাসীর ওপর জুলুম চলে, সেখানেই সংগ্রামী গণসংগীত নিয়ে হাজির হয় এই গানের দল। ‘জেগে উঠুক মানবতার জয়োগান’ — এই হচ্ছে তাদের ‘মাদলের’ আহ্বান।

এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় ‘মাদলের’ তরুণেরা বলেন, গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে আমরা দেখাতে চাই নতুন দিনের স্বপ্ন।

‘মাদলের’ একাধিক কনসার্টের ফাঁকে ফাঁকে টুকরো কথায় জানা গেল, অভিনব এ গানের দলে রয়েছেন ভিন্ন ভাষাভাষী চাকমা, গারো, মারমা, বম ও সিং জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি তাঁরা নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গানও পরিবেশন করেন।

‘মাদলের’ শিল্পীরা এখন উদ্যোগ নিয়েছেন হারিয়ে যেতে বসা আদিম সুরের গানগুলো সংগ্রহের। পরে তাঁরা এগুলো আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে নতুন করে পরিবেশন করবেন। বলা ভালো, দেশে এ ধরনের গানের দল এটিই প্রথম। তবে বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজ নিজ ভাষার অসংখ্য গানের দল।

বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় রয়েছে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, সিং, কোল, মাহতো, কড়াসহ প্রায় ৩৮টি আদিবাসীর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের বেশির ভাগেরই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘মাদল’ নামের এক ধরনের ঢোল। সেখান থেকেই এ গানের দলের নামকরণ। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে বাস করে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

পাহাড়ের আদিবাসীর বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিজু (চাকমা), বৈসুক (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), বিষু (তঞ্চঙ্গ্যা) অথবা গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’তেও এরই মধ্যে গান গেয়ে সাড়া ফেলেছেন ‘মাদলের’ শিল্পীরা। মে দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ নানা জাতীয় দিবসেও গণসংগীত পরিবেশন করেন তাঁরা।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে মাদল হাজির ছিল গান নিয়ে। আবার ২০১৪ সালে একজন ওঁরাও নেত্রী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষুদ্রজাতির ৬৫ কিলোমিটার পদযাত্রায় গানে গানে প্রেরণা জুগিয়েছে মাদল। বছর সাতেক ধরে এভাবেই তারা অংশ নিয়েছে শতাধিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে।

ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমেও সাড়া ফেলেছে মাদলের গান। বেশির ভাগ গানই তাদের নিজেদের লেখা। সুরারোপ করাটাও একান্তই নিজের।

‘মাদলের’ যাত্রা সম্পর্কে এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী শ্যাম সাগর মানখিন এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমরা কয়েকজন আদিবাসী সংগীত শিল্পী ‘উদীচী’ সাংস্কৃতিক দলে যোগ দিই। ‘সমগীত’ নামে আরেকটি গণসংগীত দলের সঙ্গেও ছিল আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সেটি ২০০৯ সালের নভেম্বরের কথা। সেখান থেকেই আমরা ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্রজাতির ছাত্ররা জড়ো হয়ে ‘মাদল’ সংগঠনটি গড়ে তুলি। আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, গারো সংগঠন চানচিয়াসহ (চিন্তা) বিভিন্ন সংগঠনের সূত্রে ক্রমেই আমরা ছড়িয়ে পড়ি ক্যাম্পাসের বাইরেও। প্রথমে বৃহত্তর রাজশাহীতে, পরে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আমরা গান পরিবেশন করতে থাকি।…

‘মাদলের’ আরেক প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ সিং এই লেখককে বলেন, প্রথম দিকে রিটন চাকমা, পিন্টু ম্রং, মানিক সরেন প্রমুখ যুক্ত হন আমাদের সঙ্গে। আদিবাসী গবেষক পাভেল পার্থ আমাদের প্রেরণা দেন। এমনও দিন গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমাদের গানের অনুশীলনের জন্য বসার জায়গা ছিল না। ধীরে ধীরে আমাদের অবস্থান তৈরি করতে হচ্ছে। এখনো রাজশাহী, ঢাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের শিল্পীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করেন বলে কোনো একটি অনুষ্ঠানের আগে সবাই ঢাকায় জড়ো হলেও অনুশীলনের যথেষ্ট সময় পান না। স্থানাভাবও আছে।…

মাদলের ড্রাম ও কাজন বাদক আন্তনী রেমাও জানালেন একসঙ্গে অনুশীলনে প্রতিবন্ধকতার কথা।

মাদল সম্পর্কে শ্যাম সাগর আরো বলেন, আদিবাসীর শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদ করাই আমাদের লক্ষ্য। আর গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আদর্শিক সংগ্রামটিকে আমরা এই ব্যান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই। পাশাপাশি মাদলকে টিকিয়ে রাখতে আমরা চাই বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে।

এদিকে আদিবাসী নেতারাও মাদল সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, মাদলের গানগুলো শোষিত আদিবাসীকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। গান গেয়ে তারা সৃষ্টি করেছে জগরণের এক নতুন ধারা।…

একনজরে ‘মাদল’ কর্মীরা : শ্যাম সাগর মানখিন (প্রধান কণ্ঠশিল্পী), হরেন্দ্রনাথ সিং (মাদল), রিটন চাকমা (গিটার), জেনসন আমলাই (লিড গিটার), অন্তুর স্কু (বেস গিটার), সায়ন মাংসাং (আড়বাঁশি), আন্তনী রেমা (ড্রাম, কাজন ও বঙ্গো) এবং যোয়েল চাকমা (ফটোগ্রাফি)।
---
*লেখার শিরোনামটি গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদের গানের একটি লাইন থেকে নেওয়া।



Avatar: pi

Re: প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

আরে বাহ।
বেশ কিছু গানও ইউটিউবে খুঁজে শুনে ফেললাম ! বেশ ভাল লাগল।
এমনিতে বাংলাদেশে গণসঙ্গীতের চল কীরকম ছিল, এর আগে ?
আদিবাসীদের নিজেদের ব্যাণ্ড এদেশে কত কী আছে জানিনা। মিজোরামে আছে জানি।
এনাদের সব গানই নিজেদের লেখা ? আদিবাসীদের নিজেদের গান কিছু করেন না ?


https://www.youtube.com/watch?v=ZbhVxt1Y8TA


https://www.youtube.com/watch?v=4B-5ODpV6Js
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

পাই,

আপনার বিনীত পাঠ ও মন্তব্যে জন্য ধন্যবাদ। ইউটিউবের লিংকগুলো এই লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গণ সংগীতের ধারা খুব শক্তিশালী ছিল। আন্দোলনের ধারায় এটি আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠবে নিশ্চয়ই।

"মাদল" শিল্পী গোষ্ঠির সব গান নিজেদেরই লেখা। আর তারা শুধু বাংলায় নয়, বিভিন্ন আদিবাসীর ভাষাতেই গান করেন। প্রাচীণ আদিবাসী লোক সংগীতের গানও তুলে নিয়ে এসেছেন তারা।

এপারে বড় জনগোষ্ঠি আদিবাসীদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব গানের দল রয়েছে, যেমন, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারোদের রয়েছে বেশ কিছু গানের দল। এসব গান ইউটিউবে তো বটেই ছড়িছে পড়েছে কনসার্ট ও বিভিন্ন গানের অ্যালবামে। ...তবে সবই গণসংগীত নয়। প্রকৃতি-প্রেম-বিরহ-উৎসব, সবই আছে এসব গানে। আছে প্রাচীন আদিবাসী লোক সংগীতও।




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন