Shakti kar bhowmik RSS feed

পরীক্ষা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাৎসরিক লটারী
    মূল গল্প – শার্লি জ্যাকসনভাবানুবাদ- ঋতম ঘোষাল "Absurdity is what I like most in life, and there's humor in struggling in ignorance. If you saw a man repeatedly running into a wall until he was a bloody pulp, after a while it would make you laugh because ...
  • যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব ভুলে গেছি)
    নিজের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে আমার কোনোকালেই সংশয় ছিলনা। বাথরুম থেকে ক্যান্টিন, সর্বত্রই আমার রাসভনন্দিত কন্ঠের অবাধ বিচরণ ছিল।প্রখর আত্মবিশ্বাসে মৌলিক সুরে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতুম।তবে যেদিন ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে বেনারস থেকে আগত আমার সহপাঠীটি আমার গানের ...
  • রেজারেকশান
    রেজারেকশানসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পব্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে বাসু এতক্ষণ একা একা বসে অনেককিছুই ভাবছিল। আজ লেনিনের জন্মদিন। একটা সময় ছিল ওঁর নাম শুনলেও উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দিত। আজ অবশ্য চারদিকে শোনা যায় কত লক্ষ মানুষের নাকি নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-১মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাধারণ মানুষ বাস ধরার জন্যে ছোটে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে ফাস্ট বোলার নিমেষে ছুটে আসে সামনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের পেছনের তিনটে উইকেটকে ফেলে দিতে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাইকেল চালানো মেয়েটার হাতে প্রথম ...
  • আমিঃ গুরমেহর কৌর
    দিল্লি ইউনিভার্সিটির শান্তিকামী ছাত্রী গুরমেহর কৌরের ওপর কুৎসিত অনলাইন আক্রমণ চালিয়েছিল বিজেপি এবং এবিভিপির পয়সা দিয়ে পোষা ট্রোলের দল। উপর্যুপরি আঘাতের অভিঘাত সইতে না পেরে গুরমেহর চলে গিয়েছিল সবার চোখের আড়ালে, কিছুদিনের জন্য। আস্তে আস্তে সে স্বাভাবিক ...
  • মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হেফাজতে ইসলামের একের পর এক মৌলবাদি দাবীর সামনে ক্রমাগত আত্মসমর্পণ করছেন। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক শুধু তীব্রই হচ্ছে না, তা সংখ্যাগুরু আধিপত্যর দিকে এক বিপজ্জনক বাঁক নিচ্ছে। ভারতে মোদি সরকারের রাষ্ট্র সমর্থিত ...
  • নববর্ষ কথা
    খ্রিস্টীয় ৬২২ সালে হজরত মহম্মদ মক্কা থেকে ইয়াথ্রিব বা মদিনায় যান। সেই বছর থেকে শুরু হয় ইসলামিক বর্ষপঞ্জী ‘হিজরি’। হিজরি সন ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। হিজরি ৯৬৩-র মহরম মাসকে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস ধরে শুরু হয় ‘ তারিখ ই ইলাহি’, যে ...
  • পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কেমন আছেন ?
    মুসলিমদের কাজকর্মের চালচিত্রপশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অবস্থা শীর্ষক যে খসড়া রিপোর্টটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে আমরা দেখেছি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে গরিষ্ঠ অংশটি, গোটা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দিন মজুর হিসেবে জীবিকা অর্জন করতে বাধ্য হন। ৪৭.০৪ শতাংশ মানুষ ...
  • ধর্মনিরপেক্ষতাঃ তোষণের রাজনীতি?
    না, অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না। নিরপেক্ষ বলে কিছু হয় না। পক্ষ নিতে হবে বললে একটু কেমন কেমন শোনাচ্ছে – এ মা ছি ছি? তাহলে ওর একটা ভদ্র নাম দিন – বলুন অবস্থান। এবারে একটু ভালো লাগছে তো? তাহলে অবস্থান নিতেই হবে কেন, সেই বিষয়ে আলোচনায় আসি।মানুষ হিসাবে আমার ...
  • শত্রু যুদ্ধে জয়লাভ করলেও লড়তে হবে
    মালদা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুকুরিয়া থানার অন্তগর্ত গোবরজনা এলাকায় অবস্থিত গোবরজনার প্রাচীন কালী মন্দির। অষ্টাদশ শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির বিরুদ্ধে লড়বার সময়ে এক রাতে ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরাণী কালিন্দ্রী নদী দিয়ে নৌকা করে ডাকাতি করতে ...

মুড়ীর টিন

Shakti kar bhowmik

সোনার মতো উজ্জ্বল হলুদ আঙ্গুলে লাল টুকটুকে চাটনী বিন্দু বিন্দু লেগে আছে যেন মাদার ফুলের পাপড়ির ছেঁড়া কুচি। অঞ্জনের চোখ ফিরতে চায় না। এই চাটনি অন্যরকম, টকটকে লাল লঙ্কার ঝালে রান্না শুঁটকিমাছের শুকনো শুকনো একটা আইটেম, পাহাড়ী পথের হোটেল গুলোর ডেলিকেসি ,অন্য সব খাবারের সঙ্গে ফ্রী, যার যেটুকু চাই। অঞ্জন অনিচ্ছাসত্বেও চোখ ফিরিয়ে নিলো। ভদ্রতা তার মজ্জায়। ডেভিড আর একটু চেয়ে নিল। সাম্পারীকে হোটেলের বৃদ্ধ পরিবেষক সাধলো -- নিতায়নি গো মাই একটু, ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো লাল সবুজ পাছড়া আর সবুজ কাঁচের ঝোলা দুলের সহজ সুন্দরী।
লংতরাই এর পাকদন্ডী পেরোচ্ছে, বনদেবীর মন্দিরে সামান্য পুজো দিয়ে বাস এগোচ্ছে, স্টেট ট্রাস্পোর্ট নয়, মুড়ীর টিন বাস। ভেতরে মুড়ীর মতো চেপে চুপে যাত্রী ঢোকায় তাই এই বাস গুলোর স্থানীয় এই নাম। বেসরকারী বাস। আঠারোমূড়ার লাল ধুলো আর প্রথম ফাগুনের তাপে সবাই অল্পবিস্তর নাজেহাল। পাহাড় ঘন সবুজ, দুধলি লতার সাদা ফুল। মাঝেমাঝে বেগুনি জারুল, হলুদ সোঁদাল- এখানে নাম বান্দরের লাঠি, কৃষ্ণচূড়ার সময় হয়নি, চৈত্র আসুক তারপরে বড়মূড়া লালে লাল হবে। চম্প্রেন বাজিয়ে লেবঙ্গবুমানি নাচ হবে, বৈশাখে গ্রাম পরিক্রমায় বেরোবেন সোনার দেবতা গড়িয়া, শাদা কুরচি ফুল আর লাল হলুদে পাহাড় কাল বৈশাখী নাচ নাচবে। এখন সবুজ পাহাড় মাঝেমাঝেই অগ্নিভ। জুমের আগুন, জঙ্গলের ছাই মাটিকে উর্বরা করবে, পাহাড়ের ঢালে সোনালি চুলের ভুট্টা, লাঙ্গল না দেয়া জুমের সুগন্ধ চাউল আরো কতো সব্জী নিয়ে বর্ষীয়সী আদিবাসী মেয়েরা শহরে যাবেন বাড়ীর গৃহিনীদের সঙ্গে বইনারী পাততে - সই হবে জাতি আর উপজাতি মেয়েরা, এরা দেবে শাক, তাজা সব্জী; না, বেচাকেনা নয়, উপহার; ওরা হয়তো দেবে উজ্জ্বল রঙ্গিন ছাপা শাড়ী বা আর কিছু। ডেভিডের ঠাকুরমা বুধলক্ষ্মীকে তার ঠাকুরমার বইনারী একটা কৃষ্ণ ঠাকুর এর পট দিয়েছিল কবে, বুড়ী এখনো সেটাকে টাটকা তাজা খুম্পুই ফুল দিয়ে পুজো করে। দাদু-ঠাকুরমা কনভার্ট হয়নি। সাম্পারীর অসুখ হলে গেল নভেম্বরে - চৌদ্দদেবতা বাড়ীর বুড়া দেবতার কাছে মানত করল, ত্রিপুরেশ্বরী কালিবাড়ীতে মানত করল। ডেভিডের একজাম থাকলে কৃষ্ণ ঠাকুরের পায়ের ফুল মাথায় ছুঁইয়ে তবে শান্তি। বাবা হয়তো বলে, আমরার গড এখন যীশু। আ্মরা এখন খৃষ্টান, তুমি কি যে কর। বুড়ী তর্ক জুড়ে দেয়, কৃষ্ণ আমরার পুরান ঠাকুর কতদিন আগের চেনা। আরে পুলা ভগবানের জাত কিতারে? খিরিস্তান আর হিন্দু। সরল অক্ষরজ্ঞানহীন বৃদ্ধা এতো বোঝে না। ডেভিড সদ্যোপরিচিত আঞ্জনকে ঠাকুরমার গল্প বলতে গিয়ে হেসে ফেলে। ঘেঁষাঘেষি করে এতক্ষন বসেছে আলাপ হবে না? দুজনে এটা সেটা নিয়ে কথা বলছে। সাম্পারী খেয়াল করছে বাঙ্গালী তরুণটি একটু আড় চোখে তাকাচ্ছে কি? আরে না নিজেরই ভুল হচ্ছে। আপন মনেই লজ্জা পেলো। দামছড়া প্রাইমারী স্কুলের নুতন টীচার রোজালিন জমাতীয়া - ডাকনাম তার সাম্পারী -- চাঁপা ফুল।




আঠারোমুড়ার পাকদন্ডীর বাঁক খুব প্রখর। বৌটি সাব্রুমের,নদীর ওপারের, বাংলাদেশের রামগড়ে বাপের বাড়ী। বর পানিসাগরে পুলিশ। সঙ্গে শাশুড়ী, ওরা জানেনা কি পোস্ট। বৌ-বেচারি বমি করে ফেলেছে, চাপতে পারেনি। কন্ডাক্টার ঝাঁঝিয়ে উঠতে শাশুড়ী মুখের পান সামলে নোয়াখালির ডায়ালেক্টে দুকথা শুনিয়ে দিলো, কণ্ডাক্টার সিলেটীতে তীব্রতর প্রতিবাদ জানালো। - আরে আপনারা থামুন না--হীরাছড়া চাবাগানের ম্যানেজার,শিলিগুড়ির তরুন, যেই না বলা-, ফাজিল চালাক ড্রাইভার ঘাড় ঘুরিয়ে - কেডারে কেলু ছাড়ে ? - অতি ভদ্র রহমান সাহেব অপমানিত, চুপ। কেলু মানে কল্কাত্তাই ভাষা। গত বছর কলকাতার বাসে কুমিল্লার ভাষা বলাতে ওখানকার লোকের চাপা হাসির জ্বালা ভোলেনি সে। পালটা নিলো। কন্ডাক্টার এবার টিকিট দিচ্ছে, টাকা নিচ্ছে। দুরপাল্লা কিন্তু বেসরকারী বাসে গাড়ী চলাকালীনই টিকিট দেয়া হয়। 'মামা টিকিট করত নি?' আহত আত্মসম্মানে সদ্যোযুবক ডেভিডের ফরসা রঙ লাল হয়ে ওঠে। এই মামা সম্বোধন আর বিকৃত বাংলা শিক্ষিত অশিক্ষিত উপজাতি মানুষকে জেনেবুঝেই আঘাত করে। সাম্পারী চোখের অনুনয়ে ভাইটিকে শান্ত হতে ইশারা করে, রাস্তা ঘাটে ঝগড়া করা কি ঠিক? অঞ্জন সাম্পারীর চোখে এবার নিজের দুঃখিত দৃষ্টি মেলে ধরতে ভোলেনা।




প্রচন্ড জোরে ব্রেক কশে ড্রাইভার। ঠাসাঠাসি ভীড় - এ ওর গায়ে টাল খেয়ে পড়ে। আতঙ্ক, ঈষ্টমন্ত্র উচ্চারন - কি হোল? আঠারোমূড়ার আটত্রিশ মাইল, এলাকা ভালো নয়। গত বছর ডিসেম্বরে উগ্রপন্থীর আক্রমনে প্রাণহানি অঙ্গহানি কম হয়নি, তবে কি? সামনে এস্কর্ট গাড়ী থেমে গেল কেন? আধ ঘন্টা মতো কেটে গেল নির্বাক আতঙ্কে। ওমা ,এস্কর্ট বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত অফিসার কি বলছেন? সঙ্গে এরা কে? একটু বিধ্বস্ত কিন্তু দুটি সাজানো মাখনে গড়া মধুর মানুষ-মানুষী? কি ব্যাপার?
হিন্দীভাষী সেনা জোয়ানের কথায় বোঝা গেল - এরা মণিপুরী বর -বৌ, আজই ধলশ্বরের বিশাখার সঙ্গে বিদ্যানগরের পঞ্চমজিতের বিয়ে হয়েছে। মণিপুরীদের প্রথা বিয়ের দিনেই বরযাত্রীরা বর-বৌ নিয়ে বরের বাড়ী যাত্রা করে। সংখ্যাগুরু মণিপুরীরা পরম বৈষ্ণব, বিয়েবাড়ীতে মাংস তো নয়ই ।এঁটো কাঁটা কিছুই হয় না। খই মুড়কি মিষ্টি ফলাহার, সংক্ষিপ্ত শাস্ত্রাচার, নাচ গান। স্বভাব-শিল্পী জাতি। বরকনের গলায় বকুল-চাঁপা আর পচাপাতা নামে অতি সুগন্ধী পাতার মালা মলিন হলেও এখনো গাড়ীর ভীড়ে ঠাসা গুমোট আবহ গন্ধ-বিধুর করে তুলেছে। আর্মি অফিসার যতদূর সম্ভব সহজবোধ্য করেই বলেন, জীপ গাড়ীতে বর-বৌ সহ বরযাত্রীরা ফিরছিলেন, ঘোর বনান্ধকার পাহাড়ে গাড়ী বিগড়ে বিপত্তি, বুনো হাতি, উগ্র মানুষ, লোভী ডাকাত সবই ভয়ের ।
অস্থানে যন্ত্র বিকল হয়ে মহা সমস্যা, নূতন বৌ নিয়ে নিরীহ বরযাত্রীদল আথান্তরে, কাছেই কোনও রিয়াংপল্লীতে হজাগিরি নাচের আসর ছিল, -- উপজাতি সমাজে অসাম্য কম, পানে ভোজনে নারী পুরুষে ভেদাভেদ নেইই বলতে গেলে, তারা কোনভাবে টের পেয়ে ,সাহয্যে এগিয়ে এসেছেন, ভুট্টা পোড়া দিয়ে আপ্যায়ন করেছে। কয়েকজন পুরুষ মহিলা ভয় না করে এস্কর্ট গাড়ীকে থামিয়েছে, ভাগ্যিস উগ্রপন্থী ভেবে সেনা এদেরকেই কিছু করে বসেনি। রাতের আঁধারে স্বভাবতই এস্কর্ট অতি সতর্। যাক সে কথা, অন্য সবাইকে বিভিন্ন গাড়ীতে বসিয়ে এখন বর-বৌ কে এই মুড়ীর টিনেই একটু বসার জায়গা করে দিতে হবে।
-কেনে হইত না,কেনে হইত না, অতজনের জেগা হইলে এই দুই জনেরও হইবোনা নি। কন্ডাক্টার অমায়িক, বাকীরাও তো অমানুষ নয় সানন্দে রাজি। অঞ্জন ,ডেভিড দাঁড়িয়েই যেতে সম্মত। সাম্পারী নুতন বৌ বিশাখাকে হাত ধর বসায়। আতঙ্কে, বিপর্যয়ে থরথর দুটি হাত, কতই বয়েস, সদ্য পিতৃগৃহ ছেড়ে এসেছে, সাব্রুমের বৌটি খেয়াল করে প্রায় মুছে যাওয়া লাল কুমকুমের টিপটির তলায় নাকের ওপর নিপুন আঁকা রসকলিটি -- বৃন্দাবনের তিলক মাটি। তাড়াতাড়ি নিজের একটি ভেল্ভেট টিপ বিশাখার ঘামভেজা কপালে পরিয়ে দিলো গভীর মমতায়। অঞ্জন এবার রড ধরে দাঁড়ায় সাম্পারীর মুখোমুখি। এক্টু হাসি মেয়েটির মুখেও, দেখা কি গেল? আর দেরী নয়, চলুক চলুক - লাইনে আরো কতো যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী গাড়ী দাঁড়িয়ে - এই রাস্তাই ছোট্ট রাজ্যটির জীবন রেখা।
কুমারঘাটের কম্পাউন্ডারবাবু অঞ্জন সরকারের বুকের মাঝে কেন কি আনন্দ আর সংশয় মিলেমিশে ধাই ধপাধপ তবলা বাজে, ডেভিডের গলায় আবার ক্রশ, তবে এমন কি আর অসম্ভব স্বপ্ন সেবার বৈশাখে চক্রবর্তী কাকুর ছেলের সঙ্গে শাক্যমুনি মগের মেয়ের বিয়ে হোলো, দুদিন গন্ডগোল কানাকানি তারপর সব ঠিকঠাক -- এই লালসবুজ পছড়ায় ঘেরা কোমর,সবুজ কাঁচের চুড়িতে রিনিঠিনি দুটি হাত যে সাবধানী পানিসাগর প্রাইমারীর দিদিমনির তার মনের কি কোন গুঞ্জন উঠলো? -- কে জানে। রহমান একটু সরে বললেন বসুন না ভাই, সীট একদম সাম্পারীর পাশে, পরিষ্কার তাকিয়ে সাম্পারী হাতটি মেলে ধরে -- প্লীজ -। উলু-উলু-উলু --- জোকার দেউ গো গাড়ীত নুতন বৌ -, সাব্রুমের শাশুড়ি-বৌ মার শুভ হুলুধ্বনি। সেই কন্ডাক্টার এখন প্রফুল্ল বদন, হাঁড়ি হাতে নিজের বাচ্চাদের বরাদ্দ বিখ্যাত মাতাবাড়ীর প্যাড়া এগিয়ে দেয় সবাইকার হাতে নূতন বর-বৌ যাচ্ছে বাবদে মিষ্টিমুখ, কর্তব্য না?
মুড়ীর টিন এগিয়ে চলে জীবনরেখায়। নূতন বর-বৌ, পুরণো দিনের লোকাচার আর নূতন দিনের ডেভিড তার দিদি রোজালিন, কুমারঘাটের অঞ্জন হীরাছড়ার আমিনুল রহমান --- কেউ থেমে যাবার জন্য পথে নামেনি তো। চলুক চলুক ,পাইলট, স্টার্ট দেইন।
দূরে চলুক হজাগিরি নাচ, আগেও যেমন চলেছে।


Avatar: b

Re: মুড়ীর টিন

দারুণ লাগলো। ছবির মতন সহজ।
Avatar: Abhyu

Re: মুড়ীর টিন

ভালো লাগল।
Avatar: i

Re: মুড়ীর টিন

খুব ভালো লাগল।
যদি ধৃষ্টতা মার্জনা করেন তো বলি-শেষ লাইন ক'টি নিয়ে সামান্য খুঁতখুঁতানি পড়তে গিয়ে। একটু বুঝিয়ে বলা হয়ে গেল না? আর একটু নির্মম এডিটিং করা সম্ভব কি?
Avatar: kumu

Re: মুড়ীর টিন

শক্তির লেখা ফলো করি,এখানে ও অন্য জায়গায়।
খুব চমৎকার বর্ণনা,মায়া জড়ানো,সংহত।
শক্তি,সারাক্ষণ লিখুন।
Avatar: Rabaahuta

Re: মুড়ীর টিন

ফেসবুক থেকে কপি করে দিলাম

'হ্যাঁ,আমি ও বুঝতে পারছি একটু কঠিন সম্মার্জন দরকার ছিলো ।ঠিকই বলেছেন ,আমি ব্লগে লেখা শুরু করে ও কি একটা ভুল করে এইখানে চলে এলাম ।যিনি বলেছেন শেষটা একটু নির্মম হলে ভালো হোত তিনি খুব ঠিক বলেছেন'
Avatar: de

Re: মুড়ীর টিন

এতো ন্যাচারাল! খুবই সুন্দর!
Avatar: Atoz

Re: মুড়ীর টিন

কী ভালো যে লাগলো ! কেমন মায়াবী, ঘোরলাগা ! অপূর্ব !
Avatar: i

Re: মুড়ীর টিন

রবাহুতো,
শেষটায় নির্মম হতে বলি নাই, নির্মম এডিটিং এর কথা বলেছিলাম।

তাঁকে ছোটাই এর প্রণাম জানিয়ে দেবেন।
Avatar: i

Re: মুড়ীর টিন

*রবাহুত

হুতো হুতো করে লেখেন সবাই-আমারও তাই জগাখিচুড়ি হয়ে গেল।
Avatar: Rabaahuta

Re: মুড়ীর টিন

ঃD

হ্যা (মোবাইলে চন্দ্রবিন্দু নেই) ছোটাইদি, সেটা বোঝা গেছে (মানে আমার সঙ্গে এটা নিয়ে কথা হয়েছে কিনা তাই জানি)।
বান্গ্লা কিবোর্ড সামলাতে গিয়ে ভাব প্রকাশে গন্ডগোল হয়ে গেছে বোধয় ঃ)

আর বলছি কি, লীলা মজুমদারের সেই কে যেন অন্ক স্যারের গন্জনায় অভিমান করেছিল, 'ওহে বলেন কেন, আমরা কি লোক?', তা আমি অবশ্য লোকই, সে বহুকাল হয়ে গেল, তবে আমাকে আপনি না বললেও চলে আরকিঃ)

আর সবাইকে মতামতের জন্যে বকলমে ধন্যবাদ!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন