রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................
  • ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা
    ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, ...
  • সতী
    সতী : প্রথম পর্বপ্রসেনজিৎ বসুমেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

রৌহিন

গত তিনদিন ধরে ফেসবুকের আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই অমোঘ বানী – অমর্ত্য সেন বলেছেন তালাকের ফলে মাত্র ১.৩% মুসলিম মহিলা বিচ্ছিন্না এবং ক্ষতিগ্রস্ত, অতএব তিন তালাক কোন সমস্যাই নয়। অমর্ত্য বামপন্থী (পড়ুন বামৈস্লামিক) বুদ্ধিজীবি বলেই এমন অসংবেদী কথা বলতে পারেন। এতেই প্রমাণ হল বামেরা কেবল মুসলিম তোষণকেই ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝেন। তারা সিউডো সেকুলার। ইত্যাদি, প্রভৃতি।
প্রথমে একটু বিষয়টা বোঝা প্রয়োজন। কতটা সত্যি, কতটা জল, ইত্যাদি। ঘটনা হল প্রাতীচী ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই স্টাডি লিঙ্কটি নেই। সেটা সম্ভবত: প্রাতীচীরই গাফিলতি – ওএবসাইটটি আপডেটেড নয়। অতএব আমাদের ভরসা এ বিষয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। http://m.timesofindia.com/city/kolkata/Death-not-talaq-does-them-part-
in-Bengal/articleshow/55934400.cms

এই রিপোর্ট ফার্স্ট হ্যান্ড নয় কিন্তু কয়েকটা ব্যপার এখান থেকে বোঝাই যায়। প্রথমত: প্রাতীচী ট্রাস্ট শুধু তার অবজার্ভেশনটুকু প্রকাশ করেছেন – নিরীক্ষার ফলাফল। এটা সমস্যা কি না এ নিয়ে বক্তব্য রাখেননি। রেখে থাকলে সেটা এমনিতেও পদ্ধতিগত ভুল ধরা হত কারণ এই ধরণের সমীক্ষা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয় – তা করাও হয় না। দ্বিতীয়ত:, অমর্ত্য এ বিষয়ে আদৌ কিছু বলেনি, তার সংস্থা একটা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে মাত্র। এটাকে অমর্ত্যর বক্তব্য বলে প্রচার করলে এরপর থেকে দিলীপ ঘোষের কথাও মোদীর বক্তব্য হিসাবে প্রচার পেতে পারে। তৃতীয়ত:, ১.৩% র হিসাব কোন ডেটা সেটে সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষার বাইরেও একটা বিরাট বড় সমাজ আছে। তাতে মুসলমান বলে একটা সম্প্রদায় আছে। গরীব বলেও একটা সম্প্রদায় আছে। তাদের নিয়ে শহুরে বাবুদের, শাইনিং পরহিতাকাঙখী মধ্যবিত্তদের, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগুরু সমাজের বিপুল পরিমাণ মাথাব্যথাও আছে। তিন তালাকের ফলে গরীব মুসলমান নারী কত কষ্টে আছে সে কথা ভেবে কয়েক পুকুর জল এদের চোখ দিয়ে গড়িয়েও গেছে। তা সেই সমাজকে আমরা কে কে দেখেছি কাছ থেকে? আমার নিজের দেখা খুব কম – আমি সমাজসেবক কোনদিন ছিলাম না – বিপ্লবী হবার শৌখিন মজদুরির শখও বহুদিন হল ঘুঁচেছে। তবে আমাদের পৈতৃক বাড়ি, যা এককালে গন্ডগ্রামই ছিল এখন কালের চাকায় চড়ে মফস্বলের দোরগোড়ায় উপনীত, সেখানে আমাদের বাড়ির পরেই শুরু হয় মুসলমান পাড়া। চেনা খুব সহজ। পাকা রাস্তা এবং ইলেক্ট্রিকের পোল, এখনো, আমাদের বাড়িতে এসেই শেষ হয়ে যায়। আগে মুসলমান পল্লী। গরীব মুসলমান পরিবার সব। আর কাজের সূত্রে কিছু গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ফিরে দেখা কিছু পরিবার। তাদের দুয়েকজনের ঘরে পাত পেড়ে খেতেও হয়েছে কখনো সখনো বাধ্য হয়ে। আমার ভদরলোকি উঁচু নাক সিঁটকে রেখে। তা এটুকুই চেনা জানা। তালাকপ্রাপ্তা কারোর সাথে আলাপ হয়নি। নির্যাতিতা অসহায় নারী অনেক দেখেছি। এগুলো তথ্য হিসাবে অকিঞ্চিৎকর।
গুণীজনেরা বলবেন এত সারকাজম লেখার মান নষ্ট করে – এতটার প্রয়োজন ছিল না। আমার মতে ছিল। ছিল কারণ শাইনিং মধ্যবিত্ত এবং হিন্দুত্ববাদীদের এই হঠাৎ করে তালাক দরদী হয়ে ওঠায় আমি নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা আদৌ দেখতে পাচ্ছি না। এটা নেহাৎই একটা রাজনৈতিক বক্তব্য, কারণ তাদের নিজেদের মহিলাদের জন্য এভাবে তাদের প্রাণ কাঁদে না। তাদের ঘরে এখনো “পরম্পরা”র নামে, “ভারতীয় সংস্কৃতি”র নামে নারী নির্যাতনের চাষ। এবং এই অছিলায় তিন তালাকের বিরোধিতা করার নামে একই সাথে একটু ইসলামকে গালিও দেওয়া গেল আবার অভিন্ন দেওয়ানী আইনের হয়ে একটু দালালীও করে নেওয়া গেল। চালনি বলে ছুঁচকে ---
বামপন্থীদের এই প্রসঙ্গে কী অবস্থান, এটা এই মুহুর্তে বেশ জটিল প্রশ্ন। কারণ বামপন্থী কারা, বামপন্থাই বা সঠিক কোনটা, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ধন্ধ অব্যাহত। আমি আমার মত করে বামপন্থার সংজ্ঞা স্থির করেছি এবং সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি নিজেকে বাম বলে মনে করি। অতএব এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থানটুকু বলব যা আমার ধারণানুযায়ী বামপন্থার বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় অন্য কোন বামপন্থী নাই নিতে পারেন।
১। তিন তালাক প্রথা সমর্থন করিনা। কারণ তা বর্তমান রূপে লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়, নারীবিরোধী। এই প্রথার পরিবর্তন চাই। যে মুসলিম মহিলারা এবং তাঁদের যেসব সহযোগীরা এজন্য মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং ভারতীয় আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করি।
২। অভিন্ন দেওয়ানি আইন সমর্থন করিনা। কারন ভারতীয় আইন বর্তমান রূপে প্রচুর অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নিজেই লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। এই আইনের আমূল সংস্কার না হওয়া অবধি অভিন্ন দেওয়ানী আইন আসলে হিন্দু আইনই। তা সমদর্শী নয়।
৩। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি এক্ট, ম্যারেড উওম্যান এক্ট – এগুলির বিলুপ্তি চাই। পরিবর্তে এগুলির নতুন বিকল্প চাই যারা আধুনিক আইন ব্যবস্থা ও জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
৪। আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা বা সালিশী সভার বিলুপ্তি চাইনা। কিন্তু সেই সভায় কোন বহিরাগতের কোনরকম প্রভাব থাকা চলবে না। কৌমের বাইরের কারো বিচার সালিশী সভায় চলবে না।
৫। সমাজের সমস্ত স্তরে সব রকম লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অন্ত চাই। শুধু নারীর ওপর নির্যাতন নয়, সমকামী, রূপান্তরকামী, রূপান্তরিত, উভকামী, হিজড়া, ইত্যাদিদের প্রতি সহমর্মী এবং সমতাপূর্ণ আইন চাই।
এগুলো আমার চাওয়া – আমার মতে বামপন্থী হিসাবে। অবস্থান। সংখ্যাগুরুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। শাইনিং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে। আমার দেশের মানুষের পক্ষে।

8 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 101 -- 120
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আমার বক্তব্য অভিন্ন দেওয়ানী আইন আগে হোক, তারপরে দরকার মতো বদলানো তো হবেই। আগে সব কিছু সর্বজনগ্রাহ্য হোক তারপরে বদলাবো এটা আমার কাছে সমুদ্রের ঢেউ থামলে সাঁতার কাটতে নামার মতো মনে হয়।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ও তো বাপের বাড়ি চলে গেছল এবং মহিলা সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল; মহিলা সমিতি কোনো হেল্প করতে পারেনি, বলেছে মারধোর করলে যদি গায়ে মারের দাগ থাকত তবে তারা হেল্প করবে। কিন্তু বর তো কেনোদিনো ওর গায়ে হাত তোলেনি।
আইনে কোনো ফাঁক নেই।
Avatar: Atoz

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এক্কেবারে প্রতিটি নাগরিকের জন্য হওয়া দরকার, ধর্ম যাই হোক, এথনিসিটি যাই হোক। নাহলে ওইরকম যা খুশি তাই করে তারপরে অন্য ধর্মে বা অন্য জাতিগোষ্ঠীতে পালিয়ে যাবার কেস হবে। অথবা উল্টোটা, সুবিধেমতন অন্য ধর্ম ধর্মান্তরিত হয়ে তারপরে নিজের ইচ্ছেমতন চালাও পানসী বেলঘড়িয়া। টোটাল কেওস।

ভাবুন একবার, একজন সাঁওতাল(প্লেসহোল্ডার , অন্য যেকোনো আদিবাসী নৃগোষ্ঠী হতে পারে) মেয়ে, সে স্কুলে যাচ্ছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে, দারুণ ভালো ফল করছে। দেশের মিডিয়া তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে। অথচ তার থাকতে হচ্ছে অন্য একটা আইনের মধ্যে, যেখানে হয়তো সেই আইন অনুসারেই তার আর পড়ার অধিকার নেই, সেই মুহূর্তেই তাকে কোনো সর্দারের তৃতীয়া স্ত্রী হয়ে যেতে হবে। পুরো জিনিসটার মধ্যে ভয়ংকর একটা নিরাপত্তাহীনতা নেই কি? সে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের উজ্জ্বল এক নাগরিক হয়েও দেশের আইনের সহায়তা নিতে পারছে না! কারণ সে জন্মেছে এক আদিবাসী নৃগোষ্ঠীতে! এটা তো কী ভয়ংকর অসাম্য !
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মামলা মোকদ্দমা যে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকে, তার পেছনে করাপশান রয়েছে তো। মনে করুন মিস্টার ক একটা মামলা করেছে মিস্টার খ এর বিরুদ্ধে, প্রপার্টি ডিসপিউট কি ভাড়াটে-বাড়িওয়ালার কেস। এখন মিস্টার খ এর যদি কেসটা ঝুলিয়ে রেখে দিলে আখেরে সুবিধা হয় তো সে নিম্নলিখিত পথে চলতে পারে।
১) কোর্টের শমন ফিরিয়ে দিল, শমনবাহককে চা খাইয়ে।
২) একমাস পরে ফের শমন এলে ঐ ১)
৩) লোয়ার কোর্টে গরমের ছুটি কি পুজোর ছুটি পড়া অবধি শমনের ডেলিভারি আটকে গেল
৪) একমাস পরে কোর্ট খুললে এরপরে শমন আর ফিরবে না, লেপ্টে দিয়ে যাবে, মামলার একটা তারিখ পড়বে, সেদিন হাজিরা দরকার
৫) একজন উকিল ধরে মিস্টার খ এখন মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেই আবার মিনিমাম তিন মাস পিছিয়ে গেল প্রথম শুনানির তারিখ
৬) কোর্টের ভেতরে গিয়ে পেশকারকে চা খাওয়ালে ফাইল আরো তলায় চলে যাবে, আরো ছমাসের জন্য নিশ্চিন্ত
৭) এর মধ্যে এক বছর কেটে যাবে অর্থাৎ আরো একটা করে পুজো ও গরমের ছুটির পরে মুনসেফ কোর্টে ধরা যাক মামলা উঠল, তখন প্রথমেই স্টে অর্ডার পাস করিয়ে নিতে হয়, আরো তিন মাসের জন্য নিশ্চিন্ত
৮) এখন ৬) ও ৫) এর কম্বিনেশনে খেলতে থাকলে ঠিকঠাক শুনানি হতে হতে প্রায় বছর দেড় দুই কেটে যাবে
৯) শুনানিতে খ এর বিরুদ্ধে রায় গেলে আপিল হবে হায়ার কোর্টে (পক্ষে রায় গেলে বাদিপক্ষ আপিল করবে, অর্থাৎ আপিল হবেই) সেখানেও লোয়ার কোর্টের খেলাটা খেলতে হবে, এবং মজা হচ্ছে যে এখানে মামলার তারিখ আরো বেশি দেরি করে করে পড়বে
১০) এই করতে করতে আরো দেড় দু বছর, চাইলে শুনানির দিন অসুখের অভিনয় করা যেতে পারে ( কমন প্র্যাক্টিস)
১১) এবারেও ধরে নিচ্ছি খ হেরে গেল (জিতলে বাদিপক্ষ আপিল করবে), এখন সে আপিল করবে হাইকোর্টে
১২) এখন প্রথম শুনানির তারিখ ঠেকিয়ে পিছিয়ে দিতে পারলেই তিন বছর অবধি ঐ একই খেলা খেলতে অসুবিধে নেই। হাইকোর্টের পেশকারেরাও চা খেতে অভ্যস্থ।
১৩) এখন বাদিপক্ষের উকিল কে, সেটা ভেতর থেকে জেনে নিতে হবে। তাকে খুশি করতে পারলে, সেই উকিলই ক এর কেস এমন করে ঝুলিয়ে রাখবে যে তারিখ পে তারিখ চলতে থাকবে।
১৪) এই বছরগুলোর মধ্যে ক বা খ এর মধ্যে যদি কেউ মারা যায়, এবং তার লিগ্যাল সাকসেসর যদি কেস চালিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তবে আবার লোয়ার কোর্ট থেকে শুরু করা হবে।

ডিভোর্সের মামলায় একপক্ষ মারা গেলে, রায় যেহেতু বেরোয় নি, তাই জীবিত ব্যক্তি মৃতের লিগ্যাল সাকসেসর।
Avatar: b

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অন্য জাতিগোষ্ঠীতে কিভাবে পালিয়ে যাবো? মানে আমি এই আপারকাস্ট হিন্দু বাঙালী পুরুষ আমি কি এফিডেফিট করে রিয়াং হতে পারি?
Avatar: Atoz

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

খ্রীষ্টান বা মুসলিম হয়ে যেতে পারেন যেমন কিনা করেছিল আমাদের মধু । ঃ-)
Avatar: b

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ধর্মান্তরিত। তার মানে অন্য জাতিগোষ্ঠী নয়।

Avatar: cm

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আপনারা কবীরদাকে ভুলে গেলেন?
Avatar: b

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আরেকটা মনে হল। ধরুন আমি অ্যাথেইস্ট। ধর্ম মানি না। সেক্ষেত্রে আমার সাকসেশন কি হিশেবে হবে?
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

একজন অ্যাথেইস্টের ক্রিমেশান কীভাবে হবে? সব অ্যাথেইস্ট মরণোত্তর দেহদান করবে কি? যদি তা না হয়, তাহলে ক্রিমেশানের ব্যাপারটা জানতে হবে। মুসলমানদের মত কবর, নাকি খৃষ্টানদের মত কফিনে ভরে কবরে, নাকি হিন্দু শিখদের মত পোড়ানো হবে, বা জীবজন্তু পাখি দিয়ে খাইয়ে?
ভ্যালিড প্রশ্ন।
ডেথ সার্চিফিকেটে কী লেখা থাকবে? কেউ জানেন?
Avatar: যাব্বাবা

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ডেথ সার্টিফিকেটে কি ক্রিমেশনের পদ্ধতিও লেখা থাকে নাকি?

অ্যাথেইস্টরা মৃত্যুর পরে তার শরীর নিয়ে কী করা হবে তাই নিয়ে চিন্তা করে না। কবর দেওয়া হল কি চিতায় পোড়ানো হল কি দান করা হল, তাতে তাদের ছেঁড়া যায়।
Avatar: sm

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সরকারি ডেথ সার্টিফিকেট এ রিলিজিওন বাঞ্চনীয় নয়। ইউ কের কথা বলছি। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেট তার নাম,বয়স ,প্লেস অফ ডেথ এঁবং কস অফ ডেথ উল্লেখ থাকে মাত্র। যদি ব্যক্তি বা তার রিলেটিভ কিছু ইচ্ছে না প্রকাশ করে থাকে তাহলে সরকারি নিয়মে ক্রিমেশন হয়ে যাবে।
যদি ইচ্ছে প্রকাশ করে থাকে তাহলে ইচ্ছে মতো ক্রিমেশন,বেরি,কবর, চিল শকুন খাওয়া ইত্যাদি সম্পন্ন করা হবে।
ভারতে আত্মীয়রা যা চাইবে তাই হবে। নয়তো সরকার তার ধর্ম পরিচয় অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে সাহায্য করবে।
এথেয়িস্ট হলে সরকার যা মনে চায়, সেটাই করবে সম্ভবত ।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ভারতের কথা হচ্ছে। একজন ব্যক্তি যিনি অ্যাথেইস্ট নাম আলি আহমেদ, চাইলেন মৃত্যুর পর শ্মশানে শব দাহ করা হবে, সেক্ষেত্রে কী রকম হবে জানতে চাইছি। রেগে যাবেন না প্লিজ, জাস্ট কৌতুহল।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অ্যাথেইস্টরা মৃত্যুর পরে দেহ নিয়ে কী করা হবে সে নিয়ে চিন্তা করে না এটা কীভাবে জানা গেল? সব অ্যাথেইস্ট একইরকম চিন্তা করে এমন কোন গাইডলাইন আছে কি!
Avatar: গাইডলাইন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অ্যাথেইজম কিছু সরকার স্বীকৃত বিলিফ সিস্টেম নয় যে ধর্মের পথ অনুসরণ করে সবাই এই বিষয়ে চিন্তা করবে। মৃত্যুর পরে নিজের দেহটাকে নিয়ে যার যেমন চিন্তা আছে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর সাথে অ্যাথেইজমের কোনও সম্পর্ক নেই। সাধারণভাবে মরার পরে ক্রিমেশনের পদ্ধতি নিয়ে যে চিন্তা করে তার অ্যাথেইজম নিয়ে হাল্কা চিন্তা থেকে যায়। আলি মহম্মদ নামে অ্যাথেইস্ট যদি চান মৃত্যুর পরে তাঁর শবদেহ দাহ করা হবে, সেটা তিনি চাইতেই পারেন। এই অবধি কুনও তক্কো নাই। কিন্তু এটা একান্তই তাঁর চাওয়া। মৃত্যুর পরে তো আর তিনি দেখতে যাচ্ছেন না যে শবদেহ সত্যিই পোড়ানো হল কি মেডিকেল কলেজে দান করা হল কি কবর দেওয়া হল। ওগুলো তাঁর শবদেহ নিয়ে যারা বেঁচে রইল তাদের চিন্তাভাবনাবিশ্বাসের ব্যাপার। আলি মহম্মদের কিছুই যায় আসে না।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

যায় তো আসে না, সেসব বুঝলাম, কিন্তু আসল কথাটার উত্তর পাচ্ছি না। শবদেহ আদৌ দাহ করা যাবে কি? সে ব্যাপারে কী নিয়ম সেটা জানতে চাচ্ছি।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এই যেমন মৃত্যুর পরে শবদেহ নিয়ে কী হবে তা নিয়ে জীবিত ব্যক্তির কোন কিছু করবার নেই, সাকসেশনের ক্ষেত্রেও তাই। মরবার পরে সম্পত্তি নিয়ে কে কী করবে তা নিয়ে বক্তব্য থাকবে কেন?
Avatar: cm

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মরার ব্যাপারটা আমরা এখনো সে ভাবে নিতে শিখিনি। গোটাটাই প্ল্যানড ইভেন্ট হতে পারে। ঐ ভুগে ভুগে মরা নয়, শান্তিতে ডাক্তারের সাহায্যে মরা এবং তারপর মৃতদেহের সদগতি।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অনেকে কবরের জমি কিনে রাখে। যাদের পোড়ানোর ট্র্যাডিশন তাদের মেন্টালিটি অন্যরকম।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

তিন তালাক থেকে আদিবাসী ঘুরে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি হয়ে মৃতদেহের সদগতি চলে এসেছে। এবার জীবন যখন শুকায়ে যায় গানের লিং দেওয়া যাবে?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 101 -- 120


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন