রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

রৌহিন

গত তিনদিন ধরে ফেসবুকের আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই অমোঘ বানী – অমর্ত্য সেন বলেছেন তালাকের ফলে মাত্র ১.৩% মুসলিম মহিলা বিচ্ছিন্না এবং ক্ষতিগ্রস্ত, অতএব তিন তালাক কোন সমস্যাই নয়। অমর্ত্য বামপন্থী (পড়ুন বামৈস্লামিক) বুদ্ধিজীবি বলেই এমন অসংবেদী কথা বলতে পারেন। এতেই প্রমাণ হল বামেরা কেবল মুসলিম তোষণকেই ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝেন। তারা সিউডো সেকুলার। ইত্যাদি, প্রভৃতি।
প্রথমে একটু বিষয়টা বোঝা প্রয়োজন। কতটা সত্যি, কতটা জল, ইত্যাদি। ঘটনা হল প্রাতীচী ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই স্টাডি লিঙ্কটি নেই। সেটা সম্ভবত: প্রাতীচীরই গাফিলতি – ওএবসাইটটি আপডেটেড নয়। অতএব আমাদের ভরসা এ বিষয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। http://m.timesofindia.com/city/kolkata/Death-not-talaq-does-them-part-
in-Bengal/articleshow/55934400.cms

এই রিপোর্ট ফার্স্ট হ্যান্ড নয় কিন্তু কয়েকটা ব্যপার এখান থেকে বোঝাই যায়। প্রথমত: প্রাতীচী ট্রাস্ট শুধু তার অবজার্ভেশনটুকু প্রকাশ করেছেন – নিরীক্ষার ফলাফল। এটা সমস্যা কি না এ নিয়ে বক্তব্য রাখেননি। রেখে থাকলে সেটা এমনিতেও পদ্ধতিগত ভুল ধরা হত কারণ এই ধরণের সমীক্ষা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয় – তা করাও হয় না। দ্বিতীয়ত:, অমর্ত্য এ বিষয়ে আদৌ কিছু বলেনি, তার সংস্থা একটা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে মাত্র। এটাকে অমর্ত্যর বক্তব্য বলে প্রচার করলে এরপর থেকে দিলীপ ঘোষের কথাও মোদীর বক্তব্য হিসাবে প্রচার পেতে পারে। তৃতীয়ত:, ১.৩% র হিসাব কোন ডেটা সেটে সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষার বাইরেও একটা বিরাট বড় সমাজ আছে। তাতে মুসলমান বলে একটা সম্প্রদায় আছে। গরীব বলেও একটা সম্প্রদায় আছে। তাদের নিয়ে শহুরে বাবুদের, শাইনিং পরহিতাকাঙখী মধ্যবিত্তদের, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগুরু সমাজের বিপুল পরিমাণ মাথাব্যথাও আছে। তিন তালাকের ফলে গরীব মুসলমান নারী কত কষ্টে আছে সে কথা ভেবে কয়েক পুকুর জল এদের চোখ দিয়ে গড়িয়েও গেছে। তা সেই সমাজকে আমরা কে কে দেখেছি কাছ থেকে? আমার নিজের দেখা খুব কম – আমি সমাজসেবক কোনদিন ছিলাম না – বিপ্লবী হবার শৌখিন মজদুরির শখও বহুদিন হল ঘুঁচেছে। তবে আমাদের পৈতৃক বাড়ি, যা এককালে গন্ডগ্রামই ছিল এখন কালের চাকায় চড়ে মফস্বলের দোরগোড়ায় উপনীত, সেখানে আমাদের বাড়ির পরেই শুরু হয় মুসলমান পাড়া। চেনা খুব সহজ। পাকা রাস্তা এবং ইলেক্ট্রিকের পোল, এখনো, আমাদের বাড়িতে এসেই শেষ হয়ে যায়। আগে মুসলমান পল্লী। গরীব মুসলমান পরিবার সব। আর কাজের সূত্রে কিছু গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ফিরে দেখা কিছু পরিবার। তাদের দুয়েকজনের ঘরে পাত পেড়ে খেতেও হয়েছে কখনো সখনো বাধ্য হয়ে। আমার ভদরলোকি উঁচু নাক সিঁটকে রেখে। তা এটুকুই চেনা জানা। তালাকপ্রাপ্তা কারোর সাথে আলাপ হয়নি। নির্যাতিতা অসহায় নারী অনেক দেখেছি। এগুলো তথ্য হিসাবে অকিঞ্চিৎকর।
গুণীজনেরা বলবেন এত সারকাজম লেখার মান নষ্ট করে – এতটার প্রয়োজন ছিল না। আমার মতে ছিল। ছিল কারণ শাইনিং মধ্যবিত্ত এবং হিন্দুত্ববাদীদের এই হঠাৎ করে তালাক দরদী হয়ে ওঠায় আমি নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা আদৌ দেখতে পাচ্ছি না। এটা নেহাৎই একটা রাজনৈতিক বক্তব্য, কারণ তাদের নিজেদের মহিলাদের জন্য এভাবে তাদের প্রাণ কাঁদে না। তাদের ঘরে এখনো “পরম্পরা”র নামে, “ভারতীয় সংস্কৃতি”র নামে নারী নির্যাতনের চাষ। এবং এই অছিলায় তিন তালাকের বিরোধিতা করার নামে একই সাথে একটু ইসলামকে গালিও দেওয়া গেল আবার অভিন্ন দেওয়ানী আইনের হয়ে একটু দালালীও করে নেওয়া গেল। চালনি বলে ছুঁচকে ---
বামপন্থীদের এই প্রসঙ্গে কী অবস্থান, এটা এই মুহুর্তে বেশ জটিল প্রশ্ন। কারণ বামপন্থী কারা, বামপন্থাই বা সঠিক কোনটা, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ধন্ধ অব্যাহত। আমি আমার মত করে বামপন্থার সংজ্ঞা স্থির করেছি এবং সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি নিজেকে বাম বলে মনে করি। অতএব এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থানটুকু বলব যা আমার ধারণানুযায়ী বামপন্থার বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় অন্য কোন বামপন্থী নাই নিতে পারেন।
১। তিন তালাক প্রথা সমর্থন করিনা। কারণ তা বর্তমান রূপে লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়, নারীবিরোধী। এই প্রথার পরিবর্তন চাই। যে মুসলিম মহিলারা এবং তাঁদের যেসব সহযোগীরা এজন্য মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং ভারতীয় আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করি।
২। অভিন্ন দেওয়ানি আইন সমর্থন করিনা। কারন ভারতীয় আইন বর্তমান রূপে প্রচুর অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নিজেই লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। এই আইনের আমূল সংস্কার না হওয়া অবধি অভিন্ন দেওয়ানী আইন আসলে হিন্দু আইনই। তা সমদর্শী নয়।
৩। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি এক্ট, ম্যারেড উওম্যান এক্ট – এগুলির বিলুপ্তি চাই। পরিবর্তে এগুলির নতুন বিকল্প চাই যারা আধুনিক আইন ব্যবস্থা ও জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
৪। আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা বা সালিশী সভার বিলুপ্তি চাইনা। কিন্তু সেই সভায় কোন বহিরাগতের কোনরকম প্রভাব থাকা চলবে না। কৌমের বাইরের কারো বিচার সালিশী সভায় চলবে না।
৫। সমাজের সমস্ত স্তরে সব রকম লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অন্ত চাই। শুধু নারীর ওপর নির্যাতন নয়, সমকামী, রূপান্তরকামী, রূপান্তরিত, উভকামী, হিজড়া, ইত্যাদিদের প্রতি সহমর্মী এবং সমতাপূর্ণ আইন চাই।
এগুলো আমার চাওয়া – আমার মতে বামপন্থী হিসাবে। অবস্থান। সংখ্যাগুরুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। শাইনিং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে। আমার দেশের মানুষের পক্ষে।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 81 -- 100
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

হ্যাঁ।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

দুটো বিয়ে করলে জেল হয়? এটা জানতাম না।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

"দুই" স্ত্রীর একজন অভিযোগ করলেই চলবে। কেউ অভিযোগ না করলে "আমার বেডরুমে তুমি উঁকি মারার কে" কেস।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আমার এক পিশেমশাই পলিগ্যামি করেছিল, তার স্ত্রী ও কন্যা বর্তমান থাকা অবস্থায় সে বিয়ে করে। তখন ভারত জাস্ট স্বাধীন হয়েছে। আমার সেই পিসিমা সেকেন্ড ওয়াইফ এবং পিসেমশাই তার প্রথম বিয়ে লুকিয়ে এটা করেছিল। ব্যাপারটা জানতে পেরে পিসিমার বাবা ও মামা তাড়াতাড়ি বিয়েটা কাগজে কলমে নথিভূক্ত করে ফেলে। আগের বিয়ের নথিকরণ না থাকায় সেটা নাল অ্যান্ড ভয়েড হয়ে যায়। কিন্তু পিশেমশায়ের প্রথম বউয়ের নাম তার চাকরির জায়গায় নথিভূক্ত ছিল। ফলে প্রথম বউ অভিযোগ করায় পিশেমশাই ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের পাইলটের চাকরি খোয়ায়, যদিও প্রথম বৌ ও কন্যাকে টোটাল ত্যাগ করে। তারপর সে আনন্দ পাবলিশার্স গ্রুপে চাকরি করত। কিন্তু তার পলিগ্যামির অভ্যাস বজায় ছিল। পিসিমা সব সইত, দুটো ছেলেমেয়ে জন্মায় এই বিয়ের ফলে। পিসিমা চোখে খুব কম দেখত বলে অনেক কিছুই জানত না। মেয়ের বিয়ে হয় অ্যামেরিকায় ১৯৬৬/৬৭ নাগাদ। পিসতুতো দিদি পিসিমাকে অ্যামেরিকায় নিয়ে গিয়ে চোখের অপারেশন করিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনে। সত্তরের দশকের শেষের দিকের ঘটনা। পিসিমা কোলকাতায় ফিরে দেখে পলিগ্যামি হয়ে চলেছে। এবারের স্ত্রী একজন ফরাসী তরুণী। পিসতুতো দাদার এর আগেই বিয়ে হয়ে গেছল। পিসিমা এবার পিশেমশাইকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং শান্তিতে বসবাস করতে থাকে ছমাস অ্যামেরিকায় মেয়ের কাছে, ছমাস কোলকাতায় নিজের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে।
Avatar: cm

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ডিডিভারতীতে মৌশিকি এক খোজের পরে একটা সিরিয়াল হয়, হরি মির্চি লাল মির্চি সেই দুই বিয়ের কেস। এরকম না দেখানই বাঞ্ছনীয়।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

টিভি সিরিয়ালে কী না দেখায়।
আমার ইস্কুলের ক্লাসমেট প্রেম করে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করল। পাড়ার ছেলে পাশাপাশি বাড়ি। বিয়ের পঁচিশ বছর পরে ওদের একমাত্র মেয়ের বিয়ের ঠিক আগে জানতে ও পারল যে ওর বরের বেশ কিছুকাল যাবদ আরেকটা বিয়ে হয়েছে। সবাই জানে, এমনকি ওর মেয়ের জানত বাপের এই কীর্তির কথা, কিন্তু ও দুঃখ পাবে বলে ওকে কেউ জানায় নি। ও পাশের বাড়িতে নিজের বাপের বাড়িতে চলে গেল। এখন ওর বর তার দ্বিতীয় বৌকে ওর পুরোনো বেডরুমে নিয়ে এসেছে। দুবেলা রাস্তায় বেরোলেই মুখোমুখি দেখা হচ্ছে। ডিভোর্স ও হয়নি।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এইটাই হিন্দু বাড়ি হলে পুলিশ কেস করতে পারত। মুসলমান বলে কিছু করতে পারল না। অভিন্ন দেওয়ানী বিধি এই জন্যেই চাই।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সেটাই। যার কাছের লোকের বা নিজের হয়, সেই বোঝে।
মোটকথা একটা অভিন্ন আইন দরকার। সংশোধন করবার দরকার তো হবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। তখন অভিন্ন আইনের সংশোধন হবে।
Avatar: cm

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সবই যদি ঠেকে শিখতে হয় তাহলে সমস্যাজনক। ভুক্তভোগী নন এমন অনেকেই অভিন্ন আইনকেই সমর্থন করবেন।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এবং সেই জন্যেই -- ওমুক আদিবাসীদের তো বারো বছরে বিয়ে হয় - হতে দেওয়া হোক, তুসুক আদিবাসীদের রীতিই হল প্রথম বিয়ের দশ বছর পর আরেকটা বিয়ে করা আর কন্যাপণ দেওয়া - এই হেরিটেজে হস্তক্ষেপ চলবে না, এই জাতীয় কথা আমি সমর্থন করি না।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আরেকটা জিনিস হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা। বছরের পর বছর কেস ঝুলে থাকে আদালতে। দুটোই এক্সট্রিম। কোথাও নিমেষে তিন তালাক তো কোথাও তারিখ পে তারিখ।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

ইয়েস। এক থেকে তিন মাসে ডিসিশন হতে হবে। পোষাচ্ছে না বাপু? ডিভোর্স করে তারপর পরের বিয়েটা করো আর নিয়মমতো খোরপোষ দাও অ্যাজ অ্যাপ্লিকেবল। দুএক মাসে ডিসিশন হলে সেটা সবার পক্ষেই ভালো হয়।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

দীর্ঘসূত্রিতার ভয়ে লোকে একেবারে উপায়ান্তর না থাকলে কোর্টের দ্বারস্থ হতে চায় না। কিংবা কারোকে ঝুলিয়ে দেবার অভিসন্ধি থাকলেও এরকম কেস ঠুকে দাও। নিষ্পত্তি হতে হতে দশবারো বছর আরামসে কেটে যাবে।
আউট অফ দ্য কোর্ট সেটলমেন্ট হয়। আবার মহিলা সমিতি আছে। তারাও সেরকম কাজে আসে না।
কোর্ট অতীব জটিল জায়গা এবং করাপশানের আড়ৎ। এগুলো যদি কিছুটাও বদলায় ভালোর দিকেই বদলাবে। অবস্থা এতটাই বাজে যে এনি চেঞ্জ উইল বি অ্যা পজিটিব চেঞ্জ।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

হুম, তবে কথাটা বোধ হয় দীর্ঘসূত্রতা।
Avatar: দ

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

'এইটাই হিন্দু বাড়ী হলে পুলিশ কেস করতে পারত' কিন্তু বি-এর মাস্টারমশাই হেডমাস্টার হয়ে গেলেন কিন্তু পুলিশ কেস করল না।
পুলিশের এমত 'পারা' লইয়া আমরা কী করিব!
এমন পুলিশ কি আমরা চাহিয়াছিলাম?
Avatar: b

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সুও মোটো কেস করতে পারে না। অভিযোগ করলে কেস করতে পারত । এটাই অভ্যু বলছে

(এটা কি ক্রিমিন্যাল অফেন্স? নইলে পুলিশের কেস করার কথা আসছে কেন? আমিও দেখলাম জেল এর কথা লিখেছি)।
Avatar: সিকি

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আপনারা ভুলে যাচ্ছেন আমার নিজেরই দু খানা বিয়ে। :)
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

হ্যাঁ যে ভদ্রমহিলা বরের অন্য বিয়ে আছে শুনে বাপের বাড়ি চলে আসেন, তিনি সম্ভব্তঃ পুলিশে কমপ্লেন করতেন - এইটাই বলতে চেয়েছিলাম। পুলিশ নিজে কেস করত না, মেয়ের বাড়ি প্রসিকিউট করতে পারত।
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

"ইয়েস। এক থেকে তিন মাসে ডিসিশন হতে হবে।" - কিভাবে হবে? ভারতীয় জুডিশিয়ারির রেকর্ড প্রতি দশটা কেসে অন্ততঃ একটা দশ বছরের বেশি ঝুলে আছে। কী হলে কী হতে পারত আলোচনা সেই নিয়ে নয় - বর্তমান ব্যবস্থায় কি হতে পারে তাই নিয়ে। বর্তমান অবস্থায় দেওয়ানী আইন "অভিন্ন" হবার মত যথেষ্ট যোগ্য নয়, তাই চাইনা - এটাই বক্তব্য। আলাদা আলাদা জাতীগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা আইন - এতটা এক্সট্রীম তো এখন নয় বিষয়টা - কিছু ক্ষেত্রে আলাদা আইন বলবৎ আছে। সেই ইমপ্যারিটি দূর করতে হলে বিকল্পটাকে যথেষ্ট যুক্তিপূর্ণ হতে হবে। এখন তা নয়।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 81 -- 100


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন