Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...
  • দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ
    আউটলুকের প্রাক্তন এডিটর, কৃষ্ণ প্রসাদ গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭) একটি লেখা (https://www.faceboo...

ঠাণ্ডা গোস্ত্

Sarit Chatterjee

ঠান্ডা গোস্ত*
(সাদাত হাসান মান্টো)
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুঅনুবাদ

কলবন্ত্ কৌরকে একঝলক দেখলেই আগে শরীরটা নজরে পড়ে। গুরুনিতম্বিনী। পীনোন্নত পয়োধর। ওপরের ঠোঁটে হালকা লোমশ রেখা। আগুনে চোখদুটোয় দৃঢ়তার ছাপ।

ঈশ্বর সিংএর দীঘল শরীরটা ঘরে ঢুকতেই কলবন্ত্ দরজার আগলটা তুলে দেয়। স্বামীর চোখে চোখ রেখে সে গরজে ওঠে, ঈশ্বর সাঁই? কোথায় ছিলে এই আট দিন? আবার শহরে গেছিলে, না?

- না!, থমথমে মুখে কৃপণটা খুলে রাখতে রাখতে জানায় ঈশ্বর।

- লুঠের মাল আমায় দেখাতে চাও না, না? বেইমান! যুগলশৃঙ্গ প্রতি শ্বাসে হাপরের মত ওঠানামা করে।

- আরে না রে কলবন্ত্! তোর মাথার দিব্যি! ঈশ্বরের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। পাগড়ির পরত খুলতে থাকে।

- তাহলে কোথায় ছিলে এ কদিন? সেদিন রাতে, - আমায়, - আমায় ওই গয়নাগুলো পরিয়ে, - কত আদর করছিলে! হঠাৎ বিছানা ছেড়ে উঠে জামাকাপড় পরে বেরিয়ে গেলে! কেন, কোথায় যাচ্ছ, কিচ্ছু না বলেই! কী হয়েছে আমায় বল না জানি!

বৌয়ের মুখে সোহাগের ডাক শুনে ঈশ্বর হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ায়। দুহাতে কোমরটা জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নেয়। আদরে আদরে ভরিয়ে তোলে কলবন্তের শরীর। দুহাতে পিষে ফেলতে থাকে। তৃষ্ণায় অধীর কলবন্তের শরীরও সে ডাকে সাড়া দেয়। তার শরীরের উষ্ণতা, তার অস্ফুট শীৎকার ঈশ্বরকে যেন পাগল করে দেয়।

কিন্তু চরম মুহূর্তে ঈশ্বর ফের শিথিল হয়ে পড়ে; শত চেষ্টাতেও তার পৌরুষ কলবন্তের চাহিদা মেটাতে পারে না।

এক ধাক্কায় ঈশ্বরকে ছিটকে ফেলে রাগে অপমানে জ্বলে ওঠে কামোন্মাদ বাঘিনী -- কোন বেশ্যার সাথে শুয়েছিলি মাদার----? যে তোকে চুষে নিঙড়ে নিয়েছে!!

কোন জবাব দেয় না ঈশ্বর, শুধু বিছানায় শুয়ে হাঁপাতে থাকে।

এক হাতে একটা তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে ধরে কলবন্ত এবার চিৎকার করে ওঠে - কে ছিল ওই আবাগীর বেটি? বল, কে ছিল?

ঈশ্বর কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই কৃপাণটা তুলে নিয়ে আবার শাসিয়ে ওঠে সে - ভুলে যাস না, আমিও সর্দারনী, জবাব না দিলে তোকে আজ আমি টুকরো টুকরো করে ফেলব! গুরুর নামে শপথ করে বল, এর পেছনে কোনও মেয়েছেলে ছিল কি না?

দুচোখ বন্ধ করে জ্বরো রুগীর মত কাঁপতে কাঁপতে সম্মতিতে মাথা নাড়ে ঈশ্বর।

মূহুর্তে হিংস্র বাঘিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মরদের ওপর আর দেহের সর্বশক্তিতে কৃাণটা গেঁথে দেয় তার গলায়। দুহাতে চুলগুলোকে মুঠোয় ধরে অকথ্য গালাগাল করতে থাকে সেই অজানা প্রতিদ্বন্দ্বীকে। ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্তের ধারায় ভিজতে থাকে দুজনে।

- অব যানে ভি দে কলবন্তে! বস্ কর!

বহুকষ্টে ঈশ্বর বলতে থাকে - রায়ট লাগার পর আমিও - সবার মত মেতে উঠেছিলাম ---; যা পেয়েছি সবকিছুইতো তোকে এনে দিয়েছি ---; শুধু আট দিন আগে --- বাড়িটাতে ছজন, না - সাতজন ছিল; --- এই কৃপান দিয়েই ছটা মুসলমানকে শেষ করে --- , হঠাৎ, - হঠাৎ সেই মেয়েটাকে দেখি! বছর ষোল হবে, --- কি অপূর্ব সুন্দর দেখতে! ঠিক পুতুলের মত! --- ভাবলাম, একে একবার অন্তত ভোগ করবই --- কাঁধে ফেলে দৌড়চ্ছি ---, খালের ধারে, ঝোপগুলোর পেছনে শুইয়ে দিলাম --- কোন আদর-টাদর করি নি, - সোজা -- সোজা যা করার তাই করলাম --- কিন্তু ---

- কী? কিন্তু কী ঈশ্বর সাঁই?

রক্তেরাঙা হাতটা ঝাপসা চোখে এগিয়ে দেয় ঈশ্বর - কলবন্তে! মেয়েটার শরীরটা বরফের মত ঠান্ডা ছিল রে -- বরফের মত ঠান্ডা!! -- আগেই মরে গেছিল ------

কলবন্তের হাতের মধ্যে ধরা রক্তমাখা হাতটাও ততক্ষণে --- সেই বরফের মতই ঠান্ডা মেরে গেছিল।

*সাদাত হাসান মানটোর 'ঠন্ডা গোস্ত'/'ठंडा गोश्त' অবলম্বনে।




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন