Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অন্য পদ্মাবতী
    রাজা দেবপালের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে রানা রতন সিংয়ের পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ রাজপুরীতে পঁহুছানোমাত্র সমগ্র চিতোরনগরীতে যেন অন্ধকার নামিয়া আসিল। হায়, এক্ষণে কে চিতোরের গরিমা রক্ষা করিবে? কেই বা চিতোরমহিষী পদ্মাবতীকে শত্রুর কলুষ স্পর্শ হইতে বাঁচাইবে? ...
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...
  • রুশ বিপ্লবের ইতিহাস
    রুশ বিপ্লবের ইতিহাসরাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকেই বলা হয় রুশ বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ সময়পর্বের মধ্যে এই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্বটি সংগঠিত হয়েছিল।অবশ্য দুনিয়া কাঁপানো এই দশ ...
  • হিজিবিজি
    শীত আসছে....মানে কোলকাতার শীত আর কি। কোলকাতার বাইরে সব্বাই শুনে যাকে খিল্লি করে সেই শীত। অবশ্য কোলকাতার সব কিছু নিয়েই তো তামাশা চলে আজকাল, গরীব আত্মীয় বড়লোকের ড্রয়িংরুমে যেমন। তাও কাঁথার আরামের মতোই কোলকাতার মায়া জড়িয়ে রাখে, বড় মায়া হে এ শহর ছাড়িয়ে মাঠ ...
  • আমার কালী....... আমিও কালী
    কালী ঠাকুরে আমার খুব ভয়। গলায় মুন্ডমালা,হাতে একটা কাটা মুন্ডু থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে, একটা হাড় জিরজিরে শেয়াল তা চেটে চেটে খাচ্ছে, হাতে খাঁড়া, কালো কুস্টি, এলো চুল,উলঙ্গ দেহ, সেই ছোট বেলায় মন্ডপে দেখে এমন ভয় পেয়েছিলাম সেই ভয় আমার আজও যায়নি। আর আমার এই কালী ...

ঠাণ্ডা গোস্ত্

Sarit Chatterjee

ঠান্ডা গোস্ত*
(সাদাত হাসান মান্টো)
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুঅনুবাদ

কলবন্ত্ কৌরকে একঝলক দেখলেই আগে শরীরটা নজরে পড়ে। গুরুনিতম্বিনী। পীনোন্নত পয়োধর। ওপরের ঠোঁটে হালকা লোমশ রেখা। আগুনে চোখদুটোয় দৃঢ়তার ছাপ।

ঈশ্বর সিংএর দীঘল শরীরটা ঘরে ঢুকতেই কলবন্ত্ দরজার আগলটা তুলে দেয়। স্বামীর চোখে চোখ রেখে সে গরজে ওঠে, ঈশ্বর সাঁই? কোথায় ছিলে এই আট দিন? আবার শহরে গেছিলে, না?

- না!, থমথমে মুখে কৃপণটা খুলে রাখতে রাখতে জানায় ঈশ্বর।

- লুঠের মাল আমায় দেখাতে চাও না, না? বেইমান! যুগলশৃঙ্গ প্রতি শ্বাসে হাপরের মত ওঠানামা করে।

- আরে না রে কলবন্ত্! তোর মাথার দিব্যি! ঈশ্বরের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। পাগড়ির পরত খুলতে থাকে।

- তাহলে কোথায় ছিলে এ কদিন? সেদিন রাতে, - আমায়, - আমায় ওই গয়নাগুলো পরিয়ে, - কত আদর করছিলে! হঠাৎ বিছানা ছেড়ে উঠে জামাকাপড় পরে বেরিয়ে গেলে! কেন, কোথায় যাচ্ছ, কিচ্ছু না বলেই! কী হয়েছে আমায় বল না জানি!

বৌয়ের মুখে সোহাগের ডাক শুনে ঈশ্বর হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ায়। দুহাতে কোমরটা জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নেয়। আদরে আদরে ভরিয়ে তোলে কলবন্তের শরীর। দুহাতে পিষে ফেলতে থাকে। তৃষ্ণায় অধীর কলবন্তের শরীরও সে ডাকে সাড়া দেয়। তার শরীরের উষ্ণতা, তার অস্ফুট শীৎকার ঈশ্বরকে যেন পাগল করে দেয়।

কিন্তু চরম মুহূর্তে ঈশ্বর ফের শিথিল হয়ে পড়ে; শত চেষ্টাতেও তার পৌরুষ কলবন্তের চাহিদা মেটাতে পারে না।

এক ধাক্কায় ঈশ্বরকে ছিটকে ফেলে রাগে অপমানে জ্বলে ওঠে কামোন্মাদ বাঘিনী -- কোন বেশ্যার সাথে শুয়েছিলি মাদার----? যে তোকে চুষে নিঙড়ে নিয়েছে!!

কোন জবাব দেয় না ঈশ্বর, শুধু বিছানায় শুয়ে হাঁপাতে থাকে।

এক হাতে একটা তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে ধরে কলবন্ত এবার চিৎকার করে ওঠে - কে ছিল ওই আবাগীর বেটি? বল, কে ছিল?

ঈশ্বর কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই কৃপাণটা তুলে নিয়ে আবার শাসিয়ে ওঠে সে - ভুলে যাস না, আমিও সর্দারনী, জবাব না দিলে তোকে আজ আমি টুকরো টুকরো করে ফেলব! গুরুর নামে শপথ করে বল, এর পেছনে কোনও মেয়েছেলে ছিল কি না?

দুচোখ বন্ধ করে জ্বরো রুগীর মত কাঁপতে কাঁপতে সম্মতিতে মাথা নাড়ে ঈশ্বর।

মূহুর্তে হিংস্র বাঘিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মরদের ওপর আর দেহের সর্বশক্তিতে কৃাণটা গেঁথে দেয় তার গলায়। দুহাতে চুলগুলোকে মুঠোয় ধরে অকথ্য গালাগাল করতে থাকে সেই অজানা প্রতিদ্বন্দ্বীকে। ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্তের ধারায় ভিজতে থাকে দুজনে।

- অব যানে ভি দে কলবন্তে! বস্ কর!

বহুকষ্টে ঈশ্বর বলতে থাকে - রায়ট লাগার পর আমিও - সবার মত মেতে উঠেছিলাম ---; যা পেয়েছি সবকিছুইতো তোকে এনে দিয়েছি ---; শুধু আট দিন আগে --- বাড়িটাতে ছজন, না - সাতজন ছিল; --- এই কৃপান দিয়েই ছটা মুসলমানকে শেষ করে --- , হঠাৎ, - হঠাৎ সেই মেয়েটাকে দেখি! বছর ষোল হবে, --- কি অপূর্ব সুন্দর দেখতে! ঠিক পুতুলের মত! --- ভাবলাম, একে একবার অন্তত ভোগ করবই --- কাঁধে ফেলে দৌড়চ্ছি ---, খালের ধারে, ঝোপগুলোর পেছনে শুইয়ে দিলাম --- কোন আদর-টাদর করি নি, - সোজা -- সোজা যা করার তাই করলাম --- কিন্তু ---

- কী? কিন্তু কী ঈশ্বর সাঁই?

রক্তেরাঙা হাতটা ঝাপসা চোখে এগিয়ে দেয় ঈশ্বর - কলবন্তে! মেয়েটার শরীরটা বরফের মত ঠান্ডা ছিল রে -- বরফের মত ঠান্ডা!! -- আগেই মরে গেছিল ------

কলবন্তের হাতের মধ্যে ধরা রক্তমাখা হাতটাও ততক্ষণে --- সেই বরফের মতই ঠান্ডা মেরে গেছিল।

*সাদাত হাসান মানটোর 'ঠন্ডা গোস্ত'/'ठंडा गोश्त' অবলম্বনে।




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন