বাজে খবর RSS feed

বাজে খবরএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৬ (শেষ পর্ব)
    http://bigyan.org.in...
  • বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প
    *********বাউণ্ডুলে পিঁপড়ের গল্প*******মহারাজ গল্প টল্প লেখেন না, যা দেখেন তাই। তা আমার সাথে সেদিন এক মক্কেলের মুলাকাত হয়েছিলো, নচ্ছারটা যদিও আমায় নানান কু কথা বলেছে, তাও বন্ধুত্বের খাতিরের ওর কথা গুলো বলে গেলাম। 'এই শোন একটা গাড়ি আসছে বুঝলি একটু চমকাবি ...
  • ১৯৪৬, এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বছর
    সদ্য তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে।ফ্যাসিস্ট বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছে।পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগসন্ধিক্ষণ।পৃথিবী জুড়ে সব মানুষের বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। যারা যারা যুদ্ধে নিজের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তারাও এই বিভৎসতার শেষে হাপ ছেড়ে বেঁচেছে।সারা পৃথিবীর ...
  • যৌননির্যাতন সম্পর্কে কিছু কথা যা আমি বলতে চাই
    মিডিয়া ট্রায়ালের পর শুরু হয়েছে এক নতুন ফেনোমেনন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল। সবার কী সুন্দর বিচার, ফাঁসি, জেল, সব কিছুর নিদান দিয়ে দেন। নির্ভয়া কান্ডের পর গোটা ফেসবুক জুড়ে ফাঁসির জন্য কী প্রচণ্ড চিৎকার। শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, একটা গোটা জাত ফাঁসি চায়, ...
  • ডারউইন
    মশাদের জগতে একটা বেশ মজার ঘটনা ঘটে চলেছে। ধরুন প্রথম যখন মশা মারবার জন্যে মানুষ কোন কীটনাশক আবিষ্কার করলো। সেই সময় যত মশা ছিলো তার মধ্যে ৯৫% এর ওপর এই কীটনাশক কাজ করে। বাকি ৫% এর ওপর করে না। এবার কীটনাশক আবিষ্কারের আগে এই ৫%কে সেই ৯৫% এর সাথে প্রতিযোগীতা ...
  • রংচুগালা: বিপন্ন আদিবাসী উৎসব
    [ওই ছ্যাড়া তুই কই যাস, কালা গেঞ্জি গতরে?/ছেমড়ি তুই চিন্তা করিস না, আয়া পড়ুম দুপুরে/ হা রে রে, হা রে রে, হা রে রে…ভাবানুবাদ, গারো লোকসংগীত “রে রে”।]কিছুদিন আগে গারো (মান্দি) আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং আলাপচারিতায় জানাচ্ছিলেন, প্রায় ১২৫ বছর আগে গারোরা আদি ...
  • মুক্ত বাজার
    নরেন্দ্র মোদী নিশ্চয় খুশি হয়েছেন। হওয়ারই কথা। প্রধানমন্ত্রী’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ভারতবর্ষের ১০০ জন ধনকুবের’দের ক্রমাঙ্কে টানা দশ বছর শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন। গত বছরে, রেকর্ড হারে, ৬৭% সম্পত্তি বাড়িয়ে, আজ তিনি ৩৮০০ কোটি ডলারের মালিক। ...
  • আমরহস্য
    শহরে একজন বড় পীরের মাজার আছে তা আপনি জেনে থাকবেন, পীরের নাম শাহজালাল, আদি নিবাস ইয়ামন দেশ। তিনি এস্থলে এসেছিলেন এবং নানাবিদ লৌকিক অলৌকিক কাজকর্ম করে অত্র অঞ্চলে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। গত হয়েছেন তিনি অনেক আগেই, কিন্তু তার মাজার এখনো জাগ্রত। প্রতিদিন দূর ...
  • সিনেমার ডায়লগ নিয়ে দু চার কথা
    সাইলেন্ট সিনেমার যুগে বাস্টার কিটন বা চার্লি চ্যাপ্লিনের ম্যানারিজমের একটা বিশেষ আকর্ষন ছিল যেটা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। চোখে মুখের অভিব্যক্তি সংলাপের অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা করত। আর্লি সিনেমাতে ডায়লগ ছিল কমিক স্ট্রীপের মত। ইন্টারটাইটেল হিসাবে ...
  • সিঁদুর খেলা - অন্য চোখে
    সত্তরের দশকের উত্তর কলকাতার প্রান্তসীমায় তখনো মধ্যবিত্ততার ভরা জোয়ার. পুজোরা সব বারোয়ারি. তবু তখনো পুজোরা কর্পোরেট দুনিয়ার দাক্ষিণ্য পায় নি. পাড়ার লোকের অর্থ সাহায্যেই মা দুর্গা সেজে ওঠেন তখনো. প্যান্ডাল হপিং তখন শুরু হয়ে গেছে. পুজোর সময় তখনই মহঃ আলি ...

ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

বাজে খবর

আটই নভেম্বর রাতের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়াতে যে বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে, আমরা সেগুলো এখানে একত্র করে রাখলাম। এই সময়ের একটা দলিল হয়ে থাকুক লেখাগুলো।

========================================================

অথশৌচালয়গাথা
কনিষ্ক ভট্টাচার্য


মায়ামুক্ত

... তারপর তো সরকারের ঘর থেকে ‘অব তক ছপ্পন’ শতাংশ ডিএ কম পাওয়া বাবু, মুহম্মদ নরেন্দ্র বিন তুঘলক মোদীর ছাপ্পান্ন ইঞ্চির মুদ্রাবিপ্লব ঘোষণার চারদিন পরেই, পকেটে টান পড়ায় চলল ব্যাঙ্কের দিকে। এই চারদিন সে টিপে টিপে খরচ করেছে পয়সাকড়ি। মেট্রো থেকে নামলে যে পথ সে অটোতে যায়, এই চারদিন সে হেঁটে গিয়ে দেখেছে, আহা, আমার শহরের এই রাস্তাটি তো বেশ! সারাদিনে সিগারেটের সংখ্যা কমে গেছে অন্তত তিনতে, মানে পনের টাকা। প্রথম দুটো চা তেষ্টাকে বীর সন্ন্যাসীর মতো দুবগলে হাত গুঁজে, ‘নিতান্ত মায়া’ বলে ত্যাগ করে তৃতীয়বার কেটির দোকানে দাঁড়িয়েছে। আজ রোববার সে পকেটে একটিমাত্র একশ টাকা আর খানিক কুড়ি দশ নিয়ে, ব্যাগে সারা বাড়ি কাঁচিয়ে পাওয়া অচল সাতটি হাজার টাকা নিয়ে চলল ব্যাঙ্কের দিকে। সঙ্গে প্যান কার্ড, এটিএম কার্ড, এপিক কার্ড, পাশবুক এবং কলম, ওজনে টাকার থেকে এগুলোই বেশি।


ব্যাঙ্কে

উৎসব! উৎসব! কোথায় লাগে বাগবাজার কী কাশী বোস লেন কী চালতাবাগান। হোই হোথা অবধি লাইন। একটা অ্যাকাউন্টে জমার আরেকটা অচল নোট বদলানোর। এমাথা ওমাথা বার কয়েক হাঁটাহাঁটি করে বুঝতে পারল সে ব্যাপারটা। আরও একবার হেঁটে দেখল বদলানোর লাইন তুলনায় ছোটো। তারই পিছনে দাঁড়ালো সে। দেখে সবার হাতেই একটি করে ফর্ম যেটি নাকি জেরক্সের দোকানে একটি মাত্র টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র সোয়া দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে চার হাজার টাকা বদলাতে পারল সে। হাতে পেল একটি দুহাজারি নোট, একটি কুড়ি আর একটি দশের বান্ডিল। এখন কোনটা সে কীভাবে খরচ করবে, মোদী ন জানন্তি কুত মধ্যবিত্ত।


আশেপাশে

ব্যাঙ্কের চাতালের লোহার দরজা যেটা কিনা রাতেও বন্ধ হয় না আজ সেটা বন্ধ। তার ভিতরে টেবিল পেতে বসে আছে পাড়ায় এক দশক আগে আহূত এক ব্যবসায়ী। একবার এক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার, তখন সে দলের বাজার ছিল না এ রাজ্যে। আজ সে ব্যাঙ্কের চাতালে বসে, মুখে ‘ছাপ্পান্ন ইঞ্চি’ নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। পাড়ার কাকিমা জানতে চাইলেন, ‘হ্যাঁরে ওরগুলো সব কি এখনও সাদা হতে বাকি আছে নাকি? এখানে কী করছে ও?’ পাশ থেকে ফুচুদা বলল, ‘ তুমি ভাবছ কেন কাকিমা, ওর বেশির ভাগটাই কবে রিয়েল এস্টেটে লেগে গেছে। এই কদিনের যা আছে সেগুলো ওর কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে দুই করে। এক আশি ওকে দিলেই হবে।’ পাড়ার দাদা, যিনি পরিচিত প্রমোটার এক কম বয়সী দম্পতিকে বলছে, ‘তখন বলেছিলাম দিয়ে দাও। আমি তাহলে ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম, দিলে না।’ দম্পতির মুখ চুন। পতি বললে, ‘তখন ভেবেছিলাম আমাদের দুজনের অ্যাকাউন্টে ফেলে দেব। কিন্তু কোম্পানি তো আমার গলা পর্যন্ত ভরে দিয়েছে।’ জায়া বলল, ‘বাবা তো নিষেধ করেছে পুরোটা আমার অ্যাকাউন্টে ফেলতে। আপনি একটু দেখুন না দাদা কী করা যায়। আপনি পারবেন।’ প্রমোটর বলল, ‘আমারটা আমি কবে বাইপাস করে দিয়েছি।’


কাছে দূরে

ক্ষমতা হস্তান্তরের, থুড়ি দেশভাগের থুড়ি, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও গোটা উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্যের মধ্যে অসম আর ত্রিপুরা ছাড়া কোথাও ব্যঙ্কিং ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। মণিপুর সহ সেই রাজ্যগুলোয় গরিব মানুষ ছোটো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাজার ভাঙিয়ে ছশো আর পাঁচশ ভাঙিয়ে তিনশ পাচ্ছে। বাধ্য হচ্ছে নিতে নয়তো খাবার জুটবে না।

কাজের দিদি বাবুর বাড়িতে বাসন মাজতে গিয়ে শুনবে অধিনায়ক বলেছেন ‘মাত্র পঞ্চাশ দিন কষ্ট করুন’। বাড়ি গিয়ে ছেলে মেয়েকে বলবে ‘দেশের স্বার্থে পঞ্চাশ দিন ভাত জুটবে না, একটু কষ্ট কর বাছা।’ আর বাছা ‘আচ্ছে দিন’ বলে তালি বাজিয়ে নাচবে।

ভারতের মাত্র ৫৩% মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর মাত্র ৪৩% ব্যবহার হয়। ৩ কোটি মানুষের কোনও রকম কোনও পরিচয়পত্র নেই। ৮০% লেনদেন হয় সরাসরি টাকায়। ৮৬% শতাংশই ৫০০ আর হাজারের নোট।

আপনি এসব অঙ্ক টঙ্ক না কষে লাইনে দাঁড়ান। কষ্ট তো করতেই হবে, মে মাসের খর রোদে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছিলেন যে।


‘রাষ্ট্র মানি না নিজের ভাষাকে ভুলে’

এই ফাঁকে ২২টি জাতীয় ভাষাকে পাত্তা না দিয়ে ‘হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্তান’ এর এজেন্ডাকে চালিয়ে দিয়ে সব নতুন নোটে হিন্দি চালু করে দিল বিজেপি।


ইনি

ইনি নাকি একে তাকে ফোন করে বেড়াচ্ছেন। রাস্তায় নেমে লোক তাতাচ্ছেন। আর লোকে বলছে ‘চোরের মায়ের বড়ো গলা’।


উনি

আজ নাকি উনি বলেছেন ওঁকে ‘জ্যান্ত জ্বালিয়ে দিলেও সিদ্ধান্ত থেকে ফিরবেন না’। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কেন যে বার বার ‘জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া’র কথা মনে পরে কে জানে !

কাকতাল।

হিটলারও নাকি সভায় কাঁদত আমার সব দেশের জন্য বলে ।

"বক্তৃতা দিয়ে কাঁদিতে সভায়, গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এইবেলা ঢোকা। সেই তালে নিস তোর ফুঁটো ঘরটাও ছেয়ে ... " -- নজরুল। কখন যে কে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন!

ইংলিশ মিডিয়াম বলল ক্রাইং ক্রক ...


বিস্মৃতি

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক থেকে আপনার কষ্টার্জিত জমা টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেয়নি বহু কোম্পানি। একা রিলায়েন্সই ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি। বেদান্ত গ্রুপ ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি। এসার গ্রুপ যাদের গুচ্ছের চ্যানেল তাঁদের ১ লক্ষ ১ হাজার কোটি। আদানি ৯৬ হাজার ৩১ কোটি। এমন একশোর তালিকা ধরলে সে পরিমাণ টাকা হয় তাতে অর্থনীতি বদলে যেতে পারে।

৫৬ ইঞ্চিতে সেই দম নেই যে এঁদের ঘাড়ে ধরে আম আদমির টাকা আদায় করে।

পানামা পেপারের নামের তালিকার কথা ভুলে গেছেন তো ... একটু গুগলে নিন বরং।
৫৬ ইঞ্চিতে সেই দম নেই যে এঁদের ঘাড়ে ধরে আম আদমির টাকা আদায় করে।

সুইশ ব্যাঙ্কের থেকে ঘরে ধরে নিয়ে আসার গল্পটা। ওটা ভুলে গেছেন?
৫৬ ইঞ্চিতে সেই দম নেই যে এঁদের ঘাড়ে ধরে আম আদমির টাকা আদায় করে।

কর্পোরেট ট্যাক্স ছাড় সবচেয়ে বেশি পান এঁরাই।
৫৬ ইঞ্চিতে সেই দম নেই যে এঁদের ট্যাক্স ছাড় বন্ধ করে আদমির টাকা আদায় করে।

আর আম আদমির পকেটে ১৫ লক্ষ আসার কথা।
না না। ওটা ভুলে যান।

ওই একশ জনকে ধরলে যে ১৩০ কোটি খেলনা লাগত না। কিন্তু ওই একশ তিরিশ কোটি যে ভোট দেবে। তাই তাঁদের ল্যাজ মুচড়ে বোঝাতে হবে না, যে তিনি আছেন।


আ‘মোদী’ত মিডিয়া

১লা এপ্রিল গুজরাতের খবরের কাগজ 'আকিলা' জানিয়েছিল ৫০০ আর ১০০০ এর নোট বাতিল হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর দৈনিক জাগরণ একই খবর করে। ভারতের সমস্ত লিডিং নিউজ পেপারে ঘোষণার ৪ ঘণ্টার মধ্যে পেটিএমএর বিজ্ঞাপন ছাপা হতে শুরু করে। যদিও অন্তত চার দিন আগে না জমা পড়লে যে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা যায় না। আরও কাকতালীয় ফ্রি সিম জোগানো কোম্পানি ৩০ ডিসেম্বর অবধিই ফ্রি, তারপরে চার্জেবেল। যদ্দিন অবধি টাকা বদলানোর সময় আরকি।

আসলে ভাবতে বসলেই শৌচালয়। আপনার মাথায় কমোড বসিয়েছে আমোদীত মিডিয়া। প্রতি সকালে এক গেলাস জল খেয়েই স্বচ্ছ হচ্ছে ভারত। বিড়িও লাগছে না আজকাল।

======================================================================

ফিলিপ মোষ – ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

৫০০/১০০০ টাকার নোট বাতিলের মোদীজির এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে জেহাদি দিদি নাকি খুব ক্ষুব্ধ। শুনলাম উনি এর বিরুদ্ধে রেগে গিয়ে কবিতা লিখে ফেলেছেন। আমরা যারা দেশপ্রেমিক, সাময়িক অসুবিধে স্বীকার করেও আগামী উজ্জ্বল দিনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছি, তারা তো চুপ করে থাকতে পারি না। তাই আমিও মোদীজির এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে একটা কবিতা লিখলাম।

একদা শ্রী রামচন্দ্র গিয়াছিলেন বনে,
সার্জিকাল স্ট্রাইক হেনে দিতে পরের কালো ধনে
শ্রীরাম কহিলেন - 'সীতা, ও সীতা,
জিও সিমে ডাউনলোড করো মনুসংহিতা'
সীতা ডাকিলেন - 'লক্ষন, ভাই লক্ষন,
চারিপাশে চলিতেছে গোমাংস ভক্ষন'
লক্ষন কহেন - 'হনু, ও হনু,
বাহির করো দেখি তোমার ৫৬ ইঞ্চির নুনু'
হনু হাঁকেন - 'জাম্বু, ওরে জাম্বু,
অযাচারির পেছনে গুজিবো আমার এই সুবৃহৎ বাম্বু'
জাম্বু কহেন - 'রাখ তোর হাঁকডাক,
পাব্লিক তোরে কহিতেছে ফেকু খোরাক'
হনু বলেন - 'তবে কি উপায় মোর?
২০১৯ এই কি মোরে দেখাইবে এরা দোর?'
শ্রীরাম কহিলেন - 'কদাপি নহে মিত্রোঁ,
আগে একটু ঘুরিয়া আসো করাঁচি হইয়া হিথরো,
ইতি উতি চাহিয়া দেখো শান্ত করিয়া মন,
দেখিতে পাইবে অনেকেরই রইয়াছে কালো ধন।
লম্বা একটা লিস্ট বানিয়া ফিরিয়া আসো দেশে,
পালের গোদার নামটা একদম রেখে দেবে শেষে।'
হনু কহেন - 'যথা আজ্ঞা শ্রীরাম,
আমার ওষ্ঠে সর্বদাই রয়েছে আপনার নাম।
এতদুর এসেছি আজ কত লড়াই লড়ে,
তখন কি আর জানতাম এসব করতে হবে মোরে?
খুলেই বলি আপনাকে, আজ লুকানোর কিছু নাই
কালো ধনের মালিক হলো জাম্বু ও তার ভাই,
সুগ্রীব নাম যে তাহার, আমিই দিয়াছি লাই,
আমার জোরেই ধান্দাপানি তেল থেকে ওয়াইফাই।
সব জানিয়া করিয়া চলিয়াছি রোজ এই মহাপাপ,
নির্বাচনের খরচা কি যোগাইবে আপনার বাপ?
শ্রীরাম বলেন - 'এ কি কহিলে মিত্রোঁ?
সারা দেশে এই কি তবে রামরাজ্যের চিত্র?
হনু হাঁসেন, - 'শান্ত হোন শ্রীরাম,
চালাকি আর ফন্দি আঁটা, ইহাই তো মোর কাম।
এই মাটিতেই রামরাজ্য আনিবো তড়িঘড়ি,
দেশের বাজারে থাকিবে শুধু মুদ্রা আর কড়ি।
আজ রাতেই ঘোষনা হইবে, পাঁচশো হাজার বাতিল,
জনতা দেখিবে সর্ষেফুল আর চারিদিকে ঝিলমিল।
জাম্বু হাঁকেন - ব্রাভো, ব্রাদার, ব্রাভো!
আজ রাতেই তুমি আমি গোমূত্র খাবো।
সর্বাগ্রে চটপট সারিয়া ফেলি কিছু কাজ,
নাহলেই সুগ্রীবের মাথায় পড়িবে বাঁজ।
পাচশো হাজার যত ছিলো লুকাইয়া রাখা কাছে,
সোনা জমিতে লাগাইয়া দেওয়া ভালো আইডিয়া আছে'
হনু-জাম্বু হাত ধরিয়া শুরু করিলেন নৃত্য,
রামায়নের শেষ অধ্যায়ে সম্পুর্ন হইলো বৃত্ত।
শ্রীরাম, সীতা, লক্ষন রয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে,
পেছন হইতে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসে সে,
সুঢৌল দাড়ি, কুতকুতে চোখ, শরীরে গেরুয়া বসন,
সামনে এসেই চমকিয়ে দিয়ে দেখান শীর্ষাসন।
হাসিয়া কহেন - 'মাথা ধরিয়াছে শ্রীরাম?
কিপ কাম এন্ড এপ্লাই পতাঞ্জলী বাম'
--মিঠুন ভৌমিক

তোমার চাড্ডি যারে দাও তার পরিবারে দিও ব্যাংকার
তোমার সেবার মহান দুঃখে ভরে গেল কত ট্যাংকার
কান্নার জলে কৃষিকাজ হবে লাইনেই আছে যন্ত্র
সিয়াচেনে খাড়া সুবোধ সেনারা পার্লামেন্টে মন্ত্রী
দুর্গম পথে এগিয়ে চলেছে ভক্তেরা অতি শুদ্ধ
কালো টাকা সবি নিমেষে উধাও স্বচ্ছ ভারত মুগ্ধ
এটিএমে যত সুবিধেবাদীরা চিল্লায় দিবারাত্র
সিয়াচেন রাখে সুবোধ সেনারা ভুলিয়া ব্যক্তিস্বার্থ
তোমার চাড্ডি যারে দাও তার মগজেও সার্ফ এক্সেল
কাশ্মীর ভরা সন্ত্রাসবাদী উত্তর-পুবে নকশাল
শুন্ডিতে বোবা হাল্লায় খুন আচ্ছে দিনের সাক্ষ্য
সিয়াচেনে মরে সুবোধ সেনারা গরীবেরা অপদার্থ
তোমার চাড্ডি যারে দাও তার পতাকায় নেই রক্ত
জীবনমৃত্যু হেলায় ঠেলিয়া জাগিছে হিন্দু শক্তি
ব্যাঙ্কে ব্যাঙ্কে উড্ডীয়মান ইকোনমি নিউ হাইটে
সিয়াচেনে আছে সুবোধ সেনারা প্রধানমন্ত্রী ফ্লাই
আবার বছর দশ পরে
--সোমনাথ রায়

দীর্ঘ দশবছরের আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল যে নোট বাতিল প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক ছিল। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সমস্ত ব্যাংককে বলা হয়েছে গ্রাহকদের কাছে পুরোনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলি ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্য্যোপাধ্যায় এই রায় কে মা-টাকা-মানুষের জয় হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন কাল সারা দেশে ৫০০ দিবস ও পরশু ১০০০ দিবস পালিত হবে। বলাই বাহুল্য নোট প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ইচ্ছুক অনিচ্ছুক পার্থক্য করা হবে না।
--কৃশানু মজুমদার

কল্যাণী, কোন্নগর, হুগলী, ব্যান্ডেল, কলকাতা, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, নৈহাটি, বহরমপুর, খড়গপুর, কোলাঘাট – মোটামুটি ডাক্তারশূন্য। গ্রামের দিকে এমনিই তো ডাক্তার থাকেননা। হঠাত কেন হল এরকম?

আমাদের রিপোর্টাররা এই শহরগুলিতে গিয়ে ঘুরে ঘুরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানালেন অধিকাংশ ডাক্তার-ই বার দুয়েক মারা গিয়েছেন। কেউ কেউ অ্যারেস্টও হয়েছেন তারপর। কয়েকজন সুইসাইড করে সকালে চা খেতে খেতে খবরের কাগজে নিজের মৃত্যু-সংবাদ পড়ছেন। সমস্ত ডাক্তারদের বাড়িতে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট একসাথে রেড মেরেছে।

সূত্রের খবর গত দুই বছরে ইনকাম-ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট-এর সমস্ত শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন কোটি বেকার যুবককে চাকরি দিয়েছে সরকার। রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে একের পর এক সরকারী তকমা লাগানো সাদা টাটা সুমো, সাইরেন বাজাতে বাজাতে। সাধারণ মানুষ পথ ছেড়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার হাত বাড়িয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন সামনেই কোথায় ডাক্তারের বাড়ি। কোথাও বাগানে গাছের কোটরের মধ্যে থেকে, কোথাও সিমেন্টের মেঝে খুঁড়ে, কোথাও দেওয়াল আলমারির বইয়ের ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসছে পাঁচশ আর হাজার টাকার নোট। সারা ভারত জুড়ে চলছে ধর-পাকড়। বাড়ির মেয়েদের কান্নার শব্দ মিশে যাচ্ছে সাইরেনের আওয়াজে।

অন্য সূত্রে জানা যাচ্ছে বাজারে বিক্রিবাট্টা একটু কমেছে। কিন্তু খুব খুশি গামছা বিক্রেতারা। তাঁদের বিক্রি গত সাতদিনে বেড়ে গ্যাছে কয়েকগুণ। এরকমই একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গ্রেফতার হবার সময় মুখ ঢাকার জন্য গামছা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তাররা। বাঁকুড়ার গামছা বিক্রি হচ্ছে জোড়া দেড়শ টাকা দরে। বিক্রি বাড়তে চলেছে রজনীগন্ধা ফুল আর ধূপকাঠিরও। সময় বুঝে পুরোহিতরাও প্রণামী দ্বিগুণ করে দিয়েছেন।


--আশীষ দাস

কাল নোটে “টার্বোইলেক্ট্রিক” এফেক্টের ব্যাপারে পড়ে আরো একটু রিসার্চ করে জানতে পারলুম এই নোটে এরকম আরো অনেক ফিচারস রয়েছে। এগুলো এখনই জানানো হচ্ছেনা, আস্তে আস্তে মোদিজি দেশবাসীর সামনে আনবেন। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর থেকে জানা এই ফিচারস গুলো আর তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমি নীচে বর্ণনা করলুম।

১. কোয়ান্টাম মেকানিকাল টানেলিং:
--------------------------------------------------------------
টানেলিং হল এমন একটা কোয়ান্টাম মেকানিকাল ঘটনা যাতে একটা পার্টিকল ক্লাসিকাল কনভেনশনাল ফিজিক্সের রুলের এগেন্সটে গিয়ে একটা ব্যারিয়ার ভেদ করে যেতে পারে।

টানেলিং ব্যবহার করে নোট ট্রান্সপোর্ট করার সুবিধা আনা হচ্ছে। ধরুন আপনি বাড়ির বাইরে, টাকা ভিতরে। আপনি মোবাইলে অ্যাপ মারফত টাকার চিপে একটা সিগনাল পাঠালেই টাকা দেওয়াল ভেদ করে টানেলিং এর মাধ্যমে আপনার কাছে চলে আসবে। তবে ডাকাতরা এভাবে ব্যঙ্ক ডাকাতি করতে পারবেনা কারণ এই সিগনালে আপনায় বায়োমেট্রিক এমবেডেড থাকবে। আপনি ছাড়া কেউ টানেলিং অ্যাক্টিভেট করতে পারবেনা।

২. পিয়েজ্জোইলেকট্রিক এফেক্ট
------------------------------------------------------------------
পিয়েজ্জো ইলেকট্রিক এফেক্ট হল চাপ বা স্ট্রেস প্রযুক্ত হলে কোন বস্তুর রেজিস্ট্যান্স অর্থাৎ রোধের পরিবর্তনের ঘটনা।

এটা ব্যবহার করা হচ্ছে আপনার নোটকে সুরক্ষিত রাখতে। ধরুন কখনো আপনি নোটের উপর বসে পড়লেন (এটা বিপদজনক কারণ চিপ নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে) তাহলে নোটের উপর স্টেস বাড়ল। তাতে নোটের রোধ পরিবর্তিত হবে এবং চিপ এই পরিবর্তন ডিটেক্ট করে আপনার পাছায় মৃদু ইলেকট্রিক শক দিয়ে সাবধান করে দেবে। নোট ছিড়ে ফেলতে গেলেও একই ব্যাপার ঘটবে।

৩. কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট
-------------------------------------------------------------------
এটা একটু জটিল। খুব সহজে বললে দুটো পার্টিকলের কোয়ান্টাম স্টেট একটা আরেকটার উপর নির্ভরশীল হওয়ার ঘটনা। মানে এদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব থাকলেও এই ঘটনা ঘটতে পারে। পার্টিকল গুলোর একটার স্টেট চেঞ্জ হলে অন্যটারও হবে এরকম টাইপ আর কি।

এটা ব্যবহার করা হচ্ছে কালো টাকা ও ডাকাতি হওয়া টাকা বাতিলের কাজে। আমরা সবাই জেনে গেছি যে কোথাও কালো টাকা থাকলে সিগনাল চলে যাবে আইটি ডিপার্টমেন্টের কাছে। কিন্তু তারা সেটা রেইড করে খুঁজে বার করার আগেই যদি পাচার হয়ে যায়? তাই এই ব্যাবস্থা। আসলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে প্রতিটি নতুন নোটের একটা কোয়ান্টাম মেকানিকালি এনট্যাঙ্গলড কাউন্টার পার্ট আছে। এবার কোন নোট ডাকাতি হিলে বা কালো বলে ধরা গেলেই সেই কাউন্টার পার্টটা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। ব্যাস। সেই আসল নোটটাও পুড়ে যাবে।

৪. আর্টিফিশিয়াল ট্রান্সমিউটেশন ও নিউক্লিয়ার ফিশন
-----------------------------------------------------------------
আর্টিফিশিয়াল ট্রান্সমিউটেশন হলো কৃত্রিমভাবে একটি মৌলকে অন্য মৌলে পরিণত করা। নিউক্লিয়ার ফিশন মানে নিউক্লিয় বিভাজন বিক্রিয়া যার মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরী হয়।

জানা গেছে ডিআরডিও প্রচন্ড গবেষণা করে এক অত্যাধুনিক চিপ ডিজাইন করেছে যা দিয়ে কাগজের নোটে থাকা কার্বনের আর্টিফিশিয়াল ট্রান্সমিউটেশন ঘটিয়ে তাকে ইউরেনিয়াম ২৩৫ এ পরিণত করা সম্ভব। এবার টাইমার সেট করেদিলে চিপ থেকে থার্মাল নিউট্রন নিক্ষেপ করে এই ইউরেনিয়াম ২৩৫ এর নিউক্লিও বিভাজন ঘটিয়ে ছোটমাপের কিন্তু কার্যকরী নিউক্লিয় বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। আপাতত এই স্পেশাল এডিশন নোট শুধুমাত্র আর্মির জন্যই সংরক্ষিত বলে সূত্রের খবর। তবে ফেসবুক থেকে বাছাই করে কিছু প্রকৃত দেশপ্রেমিককে এই নোট দেওয়ার একটা প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। সেইজন্য এই স্ট্যাটাস লাইক ও শেয়ার করুন আপনার দেশপ্রেমের পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য এবং এই স্পেশাল এডিশন নোট পাবার জন্য।
--সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


শাজাহান ডুবেছিল
মমতাজমহলে
রাধা ডুব দিয়েছিল
যমুনাকি বগলে।
প্রেমে পড়ে ডুবেছিল
রানী ক্লিওপেট্রা
বৃষ্টিতে কলকাতা
হেদো এটসেটরা।
পানিপথে ডুবেছিল
সুলতান লোদি হায়
মানিপথে ডুবে গেল
নরেন্দ্র মোদি প্রায়

______________________________________________________
--সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


এটিএমে লোকারণ্য মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
নোট ভাবে আমি দেব, এটিএম আমি
হাসিমুখে চোখ মারে জনতা হারামি।
"আমি দেব রামদেব, আমি দেব মোদী"
পাবলিক ল্যাজ ধরে ওল্টাবে গদী।

________________________________________________________

--তাপস চক্রবর্তী

কে যে কিসে ডুবে যায়
হিসাব কে রাখে হায়।
ভেসে থাকা বড় দায়
স্থলচরও হাতড়ায়।
জলচর, খেচরও যে
কখনো তো ডুব দেয়।
ডুব দে রে মন কালী বলে
প্রসাদও যে ডুবে যায়।

______________________________________________________

--তাপস চক্রবর্তী

পাঁচশ হাজার বাতিল হয়েছে
হারিয়েছে সুখ- স্বপ্ন
বিছানা চাদরে আদর বিছিয়ে
বাতিল নোটের যত্ন।
নেতারা শুধুই টাকার কাঙাল
এটা কি কেবল মিথ
ঘরে বাইরে দেশে কি গ্লোবে
মানিই তাড়ায় শীত।

______________________________________________________

--রৌহীন ব্যানার্জী

এই দেখো নোটবই, নোট নেই এ হাতে
এই দেখো ভরা সব ব্যাঙ্কের খাতাতে
নেই কোন জালি নোট, কালো ধন নেই তো
দেশ তাই ছোটে ভাই সাঁ ই সাঁই এই তো
পকেটেতে টাকা নাই নাই পেলে হে রেশন
লাইনে দাঁড়িয়ে মরে ডিমনিটাইজেশন
বাজারে সবজি নেই তাতে কী বা আসে যায়
সব আছে প্লাস্টিকে গরীবেরা কার দায়?
কালো টাকা এই করে ওয়াপস এলো কি?
সন্ত্রাসবাদীদের কিছু ছেঁড়া গেলো কি?
প্রশ্নটা এই বেলা লিখে রাখি গুছিয়ে
জবাবটা জেনে নেব জেটলিকে খুঁচিয়ে।
অর্থনীতির ঢাক মেরেকেটে তাক তাক
ভিখিরীর কালো ধন মারা যদি যায় যাক।
কার নাম আম্বানি কাকে বলে আদানি
বলবে কি তোমরা তো ব্ল্যাক মানি চেনোনি।

___________________________________________________________

--অনীক চক্রবর্তী

বিপিনের কাছে ছিল পাঁচ ছ'টা চারানা
টিফিনে জমিয়ে রাখা, কারও থেকে ঝাড়া না
হেডস্যার কেড়ে নিয়ে হেসে বলে ব্যাটা শোন
কাল তোর কী হবে তা আজ খুব আননোন
এইটুকু কষ্ট তো করিতেই হইবেক
কাল থেকে টিফিনেতে লাড্ডু ও বাপু কেক
সক্কলে খেতে পাবি, আহা তার স্বাদ কী
শুনে তো বিপিন ভাবে মিছিমিছি কাঁদছি
তারপর দিন যায় হেডস্যার রিটায়ার্ড
সিলেবাসে লেখা থাকে তুমি কার, কে তোমার
সেসব পড়িয়ে যান বাকি সব স্যারেরা
কৃষ্ণের দাস আর আল্লার প্যারেরা

অনেক বছর বাদে একদিন দেখা যায়
ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা আছে গোটা গোটা বাংলায়
'আমার জমানো ছিল, কারও থেকে ঝাড়া না
নরেন ঝেড়েছে শালা সবকটা চারানা'

_________________________________________________________

--ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত

তুমি আসবে বলে, হে সাদা টাকা,
কত লোকে লাইনে দাঁড়ালো,
বুকের ছাতি ফুলে গেল কত হরিদাসের। তুমি আসবে বলে, হে সাদা টাকা, ফেসবুকে গেরুয়া রঙের মিত্ররা এলো
পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে।
তুমি আসবে বলে, হে সাদা টাকা, ছোটোলোকদের পেছন মারা হল। ডাক্তার ব্যবসায়ীদের কেস খাওয়ার গুজব রটলো যত্রতত্র। তুমি আসবে বলে, না খেয়ে থাকছে কত যে মানুষ। তুমি আসবে বলে, এটিমে আগামীর ভগ্নদশার কথা ভেবে একটানা আর্তনাদ করলো এক গোপুত্তর। তুমি আসবে বলে, হে সাদা টাকা অভিমানী সন্তান বাবামাকে দিয়ে দিলো তার লক্ষীর ভাঁড়।

_______________________________________________________________

--দেবরাজ গোস্বামী

তুমি এসেছিলে ব্যাঙ্কে, এ টি এমে আসো নি
তোমার ট্যাঁকেতে কালোধন কেন ঝেড়ে কাশো নি।
পকেটে ছিলনা মোটে ক্যাশ, গতর বাল্কি
সুইশ ব্যাঙ্কে জমা সব, ছিঁড়বে বাল কি?
তুমি এসেছিলে ব্যাঙ্কে, এ টি এমে আসো নি
তুমি কি মহান দেশকে আজ ভালবাসোনি !
মোদী যদি হয় গো ভরাট গাভীর ছানায়
চটে গেলে পাবলিক হঠাৎ তাকে কি মানায়?
তুমি এসেছিলে ব্যাঙ্কে, এ টি এমে আসো নি,
বত্রিশ পাটি কেলিয়ে কেন তুমি হাসো নি !
- কৃশানু

প্রশ্ন

ভগবান, তুমি যুগে যুগে vakt পাঠায়েছ বারে বারে
টাকাহীন সংসারে,
তারা বলে গেল "ক্যাশ ছাড়ো সবে, করো পেটিএম করো -
ট্যাঁক থেকে সব ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে ভরো '।
ফেসবুকে তারা, টুইটারে তারা, তবুও বাহির-দ্বারে
আজি দুর্দিনে ফিরানু তাদের ব্যর্থ নমস্কারে।
আমি-যে দেখেছি ক্যাশ ক্রাঞ্চ আজ কপট রাত্রিছায়ে
হেনেছে নিঃসহায়ে,
আমি-যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে
হক্কের টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্কে কাঁদে।
আমি-যে দেখিনু কালাধন-ওয়ালা জেট নিয়ে যায় ছুটে,
নেই যার কিছু মরিছে তারাই নিষ্ফল মাথা কুটে।
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, পার্স বড়োনোট হারা,
দই মেরে গেলো কারা?
লুঠ করে নিল যাহার যা ছিল, ফাঁকা গরীবের থালা,
তাই তো তোমায় শুধাই, ও চায়-ওলা। --
যাহারা তোমার ছাপাইছে ছবি, ভরিয়াছে তব ঝোলা,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বলেছো 'শালা!'?
- পরিমল ভট্টাচার্য

হাকিম সিং-এর আশ্চর্য দাওয়াখানা

‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ কথাটা শুনলেই আমার হাকিম সিং-এর কথা মনে পড়ে। আমাদের ছেলেবেলায় শহরতলির হিন্দিভাষী মিলবস্তি এলাকায় খাটালের পাশে গজিয়ে উঠত হাকিম সিং-এর অস্থায়ী শ্রীহনুমান দাওয়াখানা। চটের জ্যালজেলে তাঁবু, ভেতরে একটি বেঞ্চি, স্যালাইনের স্ট্যান্ড, টিনের বেসিন, বাঁশের ডগায় বাঁধা ব্যাটারির মাইক, আর একটি ক্যানভাসে আঁকা একদিকে হনুমানজী আরেকদিকে কার্বঙ্কল, একজিমা, হার্নিয়া, গ্যাংগ্রিন, পোলিও ইত্যাদি রোগের বীভৎস সব ছবি। গোটা দুই ক্ষুর, ব্লেড, কাঁচি আর নানান কিসিমের কিছু শিশি বোতল নিয়ে হাকিম সিং অনেকটা যেন দন কিহোতের মতো লড়াই করত অর্শ, ভগন্দর, নালি ঘা, কানপাকা, সফেদমোতি, একশিরা, উদুরি, বাগাপোস, কিচকটেঁট ইত্যাদি বিচ্ছিরি সব রোগের সঙ্গে। (এর মধ্যে বেশ কিছু রোগ আসলে যে ঠিক কী সেটা আর জানা হয়ে ওঠেনি, বড়দের জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি কখনো।)

দন কিহোতের মতো হাকিম সিং-এরও একজন স্যাঞ্চো পাঞ্ঝা ছিল, এক তিন ফুটিয়া বামন। সে মাইকে ক্যানভাসিং করে লোক জড়ো করত আর বাকি সময় রেকর্ড বাজাতো –
রাম দূত অতুলিত বাল ধামা
অঞ্জনা-পুত্র পবন সূত নামা
জয় হনুমান জ্ঞানগুণসাগর
জয় কপিশ তিহুঁ লোক উজাগর ।।

হাকিম সিংকে দেখতে কেমন ছিল? কপালে লাল তিলক, চওড়া গালপাট্টা – গল্পের রঘু ডাকাতকে ছমাস কড়া রোদে ফেলে রাখলে কিসমিস কিম্বা আমসির মতো শুকিয়ে গিয়ে যেমন চেহারা হবে, অনেকটা সেইরকম। কিন্তু ওই শিরাওঠা চিমসে বুকের ছাতি নিয়ে খুব গর্ব ছিল হাকিম সিং-এর। দুপুরবেলায় তাঁবুর বাইরে ছাতিতে দলাইমলাই করে তেল মাখাতো বামন স্যাঞ্চো। এছাড়া রঘু ডাকাতের মতোই বাজখাঁই, ঈষৎ নাসিকাশ্রয়ী, গলা ছিল হাকিমের। ওই গলায় মাইক হাতে নিয়ে যখন সে বস্তির বিমার মজদুর ভাইয়োঁদের আহ্বান করত, ওর চিমসে গালের ওপর ইয়া গালপাট্টা খাড়া হয়ে উঠত যেন ভারতীয় সংবিধানের ওপর মৌলিক অধিকারের মতো।

হাকিম সিং-এর চিকিৎসার একটা বাঁধা তরিকা ছিল। যেকোনো প্রকার রোগ নিয়ে রোগী তাঁবুর চটের পর্দা ঠেলে ঢুকলেই হাকিম হাঁক পাড়ত - সুই চড়া দো! অম্নি স্যাঞ্চো রোগীকে বেঞ্চিতে শুইয়ে প্যাট করে হাতে স্যালাইনের ছুঁচ ফুটিয়ে গলায় ঢেলে দিত একটা গেরুয়া রঙের মিকচার। স্যালাইনের ঝুলন্ত বোতল নল ইত্যাদি দেখে রোগী ও তার পরিবারের যুগপৎ সম্ভ্রম ভীতি জাগ্রত হয়ে উঠত। এরপর ব্লেড হাতে নিয়ে শুরু হত হাকিম সিং-এর সার্জিকাল স্ট্রাইক।

হ্যাঁ, সার্জিকাল স্ট্রাইকই, কারণ যেটা হত তাকে ঠিক অপারেশান বলা যাবে না। অপারেশানের আগে যে ন্যুনতম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি লাগে, সেসবের বালাই ছিল না। কারবাঙ্কল কাটা হয়েছে, গলগল করে রক্তে ভেসে যাচ্ছে, এদিকে স্যাঞ্চো ছুটেছে গজ তুলো কিনতে, এমন হামেশাই ঘটত।
দুর্মুখেরা বলত হাকিম সিং নাকি আগে কসাই ছিল, খাসির নলি কেটে হাত পাকিয়েছে। তার সত্যমিথ্যা জানা যায় না, তবে একবার নাকি একটা কঠিন নালি ঘায়ের মুখ কাটার পর স্যাঞ্চোকে মাংসের দোকানে ছুরি আনতে পাঠিয়েছিল। যত গভীর নালি, তত লম্বা ক্ষুর ওর কাছে ছিল না।

সার্জিকাল স্ট্রাইকের ঠেলায় পেশেন্ট যখন যন্ত্রণায় প্রবল চিৎকার করত, পেশেন্ট পার্টি অনুযোগ করত, তখন হাকিম মোলায়েম স্বরে বলত - এতদিন ধরে পুষে রাখা রোগ, একটু কষ্ট তো হবেই। সেরে গেলে দেখবে আরাম পাবে, সুদিন আসবে।

এসব সান্ত্বনা সত্ত্বেও রোগীর তীক্ষ্ণ আর্তনাদ তাঁবুর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে, বাইরে লাইনে রোগীরা ভড়কে গেলে, স্যাঞ্চো মাইক বাজিয়ে দিত -
ভূত পিশাচ নিকট নাহি আবে
মহাবীর জব নাম শুনাবে
জয় হনুমান জ্ঞানগুণ সাগর
জয় কপিশ তিহুঁ লোক উজাগর ।।

অপারেশান সাকসেসফুল বাট দি পেশেন্ট ডায়েড - এতটা না হলেও হাকিম সিং-এর সার্জিকাল স্ট্রাইকে কিছু কিছু কোল্যাটারাল ড্যামেজ হত। মানে হয়তো ছানি (সফেদ মোতি) নিখুঁত কাটা হয়েছে, কিন্তু সেইসঙ্গে চোখের দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে; কিম্বা হাইড্রোসিল নিপুণ ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেইসঙ্গে নাশবন্দীও হয়ে গিয়েছে - এইরকম খুবই হত। ভাঙা হাড় সেটিঙের পঞ্চাশ দিন পর প্লাস্টার কাটলে দেখা যেত হাত পায়ের মতো আকার নিয়েছে, কিম্বা পা হাতের মতো। কিন্তু ততদিনে হাকিম সিংকে আর ধরা যেত না, খালপাড়ের অস্থায়ী দাওয়াখানা ভ্যানিশ।

তবু বছর কয়েক পরে আবার কোনোদিন খাটালের পাশে দেখা যেত সেই তাঁবু, সেই ক্যানভাসে আঁকা ছবি, সেই রোগীর লাইন। বাঁশের ডগায় বাঁধা মাইকে বাজছে -

সব সুখ লায়ে তুমহারি শরণা
তুম হি রক্‌শক্‌ কাহু কো ডর না
জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর
জয় কপিশ তিহুঁ লোক উজাগর।।
- কৃশানু

জনমেজয় কহিলেন, মিত্র! আপনি কহিলেন যে, কলিযুগে ভক্ত নামে এক প্রকার মনুষ্যেরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। তাঁহারা কি প্রকার মনুষ্য হইবেন এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া কি কার্য্য করিবেন, তাহা শুনিতে বড় কৌতূহল জন্মিতেছে। আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণন করুন।

বৈশম্পায়ন কহিলেন, হে নরবর! আমি সেই বিচিত্রবুদ্ধি, ফেসবুককুশলী ভক্তগণকে আখ্যাত করিব, আপনি শ্রবণ করুন। আমি সেই আইফোনঅলঙ্কৃত, ওলাবাহিত, ট্রোলপ্রিয় ভক্তদিগের চরিত্র কীর্ত্তিত(sic.) করিতেছি, আপনি শ্রবণ করুন। হে রাজন্, যাঁহারা ব্র্যান্ডাবৃত, মোবাইলহস্ত, গেরুয়াচাড্ডিপরিহিত, এবং মহাজ্ঞানী , তাঁহারাই ভক্ত। যাঁহারা বাক্যে অজেয়, রাষ্ট্রভাষাপারদর্শী, মাতৃভাষাঅপটু, তাঁহারাই ভক্ত। মহারাজ! এমন অনেক মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ভক্ত জন্মিবেন যে, তাঁহারা মাতৃভাষায় বাক্যালাপে অসমর্থ হইবেন। যাঁহাদিগের দশেন্দ্রিয় অপ্রকৃতস্থ, অতএব পরিশুদ্ধ, যাঁহাদিগের রসনেন্দ্রিয় কেবল গোমূত্রসেবনে পবিত্র, তাঁহারাই ভক্ত। যাঁহাদিগের চরণ মাংসাস্থিবিহীন শুষ্ক কাষ্ঠের ন্যায় হইলেও এটিএমের সম্মুখে দৃশ্যমান;-হস্ত দুর্ব্বল(sic.) হইলেও পেটিএমকরণে সুপটু;-চর্ম্ম(sic.) কোমল হইলেও পতঞ্জলিনির্ম্মিত(sic.) দ্রব্যবিশেষের প্রহারসহিষ্ণু; যাঁহাদিগের ইন্দ্রিয়মাত্রেরই ঐরূপ প্রশংসা করা যাইতে পারে, তাঁহারাই ভক্ত। যাঁহারা বিনা উদ্দেশ্যে ফোটোশপ করিবেন, ধরিয়া ফেলিলে দেশদ্রোহী বলিবেন, খিস্তি করিয়া পাকিস্তানে পাঠাইবেন, তাঁহারাই ভক্ত।

মহারাজ! ভক্ত শব্দ নানার্থ হইবে। যাঁহারা কলিযুগে ভারতবর্ষে রাজ্যাভিষিক্ত হইয়া, বিজেপি নামে খ্যাত হইবেন, তাঁহাদিগের নিকট “ভক্ত” অর্থে কর্মী বুঝাইবে। মুসলমানদিগের নিকটে “ভক্ত” শব্দে বিদ্বেষী বুঝাইবে। দলিতের নিকট “ভক্ত” অর্থে উচ্চবর্ণ বুঝাইবে। এ সকল হইতে পৃথক্, কেবল ভক্তজন্মনির্ব্বাহাভিলাষী(sic.) কতকগুলিন(sic.) মনুষ্য জন্মিবেন। আমি কেবল তাঁহাদিগেরই গুণকীর্ত্তন(sic.) করিতেছি। যিনি বিপরীতার্থ করিবেন, তাঁহার এই মহাভারত শ্রবণ নিষ্ফল হইবে। তিনি গোবরজন্ম গ্রহণ করিয়া ভক্তদিগের ভক্ষ্য হইবেন।

হে নরাধিপ! ভক্তগণ দ্বিতীয় অগস্ত্যের ন্যায় সমুদ্ররূপী গোদুগ্ধ শোষণ করিবেন, স্ফটিক পাত্র ইঁহাদিগের গণ্ডূষ। ইঁহারা বক্সী-র আজ্ঞাবহ হইবেন। “সীমান্ত” এবং “সেনা” নামক দুইটি কীওয়ার্ড হস্তগত করিয়া রাত্রি দিন ইঁহারা ফেসবুকে দাপাইয়া বেড়াইবেন। ইঁহাদিগের যেমন মুখে মোদী, তেমন হৃদয়েও মোদী অধিষ্ঠান করিবেন। এবং রাত্রি তৃতীয় প্রহর পর্য্যন্ত ইঁহারা মোদীনামে নৃত্য করিবেন। আলোচিত সঙ্গীতে এবং কাব্যেও মোদী থাকিবেন। তথায় তিনি “হড়হড়” এবং “ঘড়ঘড়” রূপে পূজিত হইবেন। ইঁহাদিগের খাদ্যাভাসে রামদেব বিরাজ করিবেন। গোবর ইঁহারা নিত্য ভক্ষণ করিবেন-ভদ্রতা করিয়া সেই দুর্ধর্ষ প্রোডাক্টের নাম রাখিবেন, “পতঞ্জলি”। ইঁহারা সিয়াচেনে এবং কার্গিলে নিত্য বিরাজমান থাকিবেন – মনে মনে। কেহ প্রথম রাত্রে কার্গিল, শেষ রাত্রে সিয়াচেন পাহারা দিবেন, কেহ তদ্বিপরীত করিবেন। সূর্য্যদেব(sic.) ইঁহাদিগকে দেখিতে পাইবেন না। কেবল আদানি-আম্বানিদিগকে ইঁহারা পূজা করিবেন। নগদ টাকার নাম দিবেন “জিওমানি”।

হে নরশ্রেষ্ঠ! যিনি কাব্যরসাদিতে বঞ্চিত, সঙ্গীতে দগ্ধ কোকিলাহারী, যাঁহার পাণ্ডিত্য শৈশবাভ্যস্ত গ্রন্থগত, যিনি আপনাকে অনন্তজ্ঞানী বিবেচনা করিবেন, তিনিই ভক্ত। যিনি শতকষ্টেও গভর্নমেন্টকে অভ্রান্ত বলিয়া জানিবেন, তিনিই ভক্ত। হে কুরুকুলভূষণ! বিষ্ণুর সহিত এই ভক্তদিগের বিশেষ সাদৃশ্য হইবে। বিষ্ণুর ন্যায় ইঁহাদিগেরও দশ অবতার-যথা, আদানি, আম্বানি, মালিয়া, চেতন, রামদেব, মোহনদাস, শ্রী শ্রী রভিশঙ্কর, অজয়, অমিতাভ ও অর্ণব। ইঁহারা সকল অবতারেই সাধারণ মানুষকে টুপি পরাইবেন।

মহারাজ! পুনশ্চ শ্রবণ করুন। যাঁহার বাক্য মনোমধ্যে এক, কথনে দশ, লিখনে শত এবং কলহে সহস্র তিনিই ভক্ত। যাঁহার বল হস্তে একগুণ, মুখে দশগুণ, পৃষ্ঠে শতগুণ এবং কার্য্যকালে অদৃশ্য, তিনিই ভক্ত। যাঁহার বুদ্ধি বাল্যে পুস্তকমধ্যে এবং যৌবনে হোয়াটসঅ্যাপ মধ্যে, তিনিই ভক্ত। যাঁহার ইষ্টদেবতা রামদেব, হিরো অনুপম খের, বেদ ‘টু স্টেটস’ এবং তীর্থস্থান গুজরাট, তিনিই ভক্ত। যিনি আমেরিকায় ট্রাম্পযজ্ঞ এবং ভারতে মোদীযজ্ঞ করিবেন তিনিই ভক্ত। যাঁহার তর্ককালে ডেটায় ঘৃণা এবং কথোপকথনকালে যুক্তিতে ঘৃণা, তিনিই ভক্ত। যাঁহার যত্ন কেবল পরিচ্ছদে, তৎপরতা কেবল ফেসবুকে, ভক্তি কেবল সাভারকর বা গডসেতে, এবং রাগ কেবল সদ্‌গ্রন্থের উপর, নিঃসন্দেহে তিনিই ভক্ত।

হে নরনাথ! আমি যাঁহাদিগের কথা বলিলাম, তাঁহাদিগের মনে মনে বিশ্বাস জন্মিবে যে, আমরা ফেসবুক টুইটার করিয়া, ফোটোশপ অবলম্বন করিয়া এবং গো-সেবা করিয়া ভারতবর্ষের পুনরুদ্ধার করিব।

জনমেজয় কহিলেন, হে মিত্র! ভক্তদিগের জয় হউক, আপনি অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করুন।


Avatar: সিকি

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

অহো!
Avatar: de

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

দারুণ! দারুণ!
Avatar: s

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

সময়ের দলিলে শুধু খিল্লি সংগ্রহ কেন? পলিটিকাল স্টেটমেন্ট দেবার ইচ্ছে?
Avatar: pi

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

শুধু খিল্লি Kঅই? ধারাবিবরণী আর বুলবুল্বুলভাজাও আছে তো। টইএর লিস্টেই আছে।
Avatar: s

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

আমি শুধু এই লেখাটার কথাই বলছিলাম। শুধু অ্যান্টি বিজেপি বা অ্যান্টি মোদী খিল্লি সংকলন করলে সেটাকে সময়ের দলিল না বলে রাজনৈতিক বক্তব্যই বলা উচিৎ।
কেননা উল্টো দিকেও অসংখ্য খিল্লি আছে যা ইচ্ছাকৃত ভাবে রাখা হয় নি।
Avatar: ইচ্ছাকৃত

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

এই রে ! এবার s কে চাড্ডি বলা হবে
Avatar: anichchakrito

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

আর আপনাকে বলা হবে ছুপা চাড্ডি বা ক্লোসেট চাড্ডি। সুধাবর্ষণ শুরু হলো বলে। রা না রা।
Avatar: সিকি

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

ফর আ চেঞ্জ চাড্ডি না বলে পাঁঠা বললে খুশি হবেন?
Avatar: nitishkumar

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

Avatar: pi

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

Avatar: বোকা

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

WhatsApp এ পেলাম।

সংগৃহীত
###
রবি ঠাকুরের কাছে ক্ষমা চেয়ে ...

♨♨♨♨ অমল ও চাওআলা ♨♨♨♨

চাওআলা = চায়ে― চায়ে― লিকার চায়ে, দুধ চায়ে!

অমল = চাওআলা, চাওআলা, ও চাওআলা!

চাওআলা = ডাকছ কেন? চা খাবে?

অমল = কেমন করে খাবো! আমার তো খুচরো পয়সা নেই! একটাই ২০০০এর নোট। তুমি খুচরো দেবে?

চাওআলা = কেমন ছেলে তুমি। খুচরো নেই তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন?

অমল = আমি যদি সবার মতন এটিএম আর ব্যাঙ্কে গিয়ে লাইন দিতে পারতুম!

চাওআলা = আচ্ছা তোমার কাছে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড আছে? তোমার পেটিএম নেই! তাহলে একটা দুধ চায়ের সাথে এক ভাঁড় লিকার ফ্রী পেতে!

অমল = একটা পুরনো ৫০০টাকার নোট আছে, ওটা নেবে?

চাওআলা = না বাবু ওটা কালোধন। ওটা নিতে পারবো না।

অমল = তুমি যে কত দূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ শুনে আমার মন কেমন করছে। ঠিক যেত তুমি আমার 'মন কি বাত' বলে যাচ্ছো।

চাওআলা = (চায়ের চুলা সহ কেটলি নামাইয়া) , মিত্রোঁ.., তুমি এখানে বসে কী করছ?

অমল = কবিরাজ আমাকে বেরোতে বারণ করেছে, বলেছে সুদিন এলে তবেই বের হবি। তাই আমি সারাদিন এইখেনেই বসে থাকি।

চাওআলা = আহা মিত্রোঁ, তোমার কী হয়েছে? কোন ডাক্তারি পরীক্ষা করাওনি?

অমল = আমি জানি নে। আমি তো ফোটোশপ শিখি নি, তাই আমি এক্স-রে রিপোর্ট দেখে বুঝতে পারি নে আমার কী হয়েছে। চাওআলা, তুমি কোথা থেকে আসছ?

চাওআলা = আমাদের গ্রাম থেকে আসছি।

অমল = তোমাদের গ্রাম? অনে―ক দূরে তোমাদের গ্রাম?

চাওআলা = দিল্লিতে আমার একটা ঘর আছে বটে, তবে সেখানে এখন যাইনা। আমাদের আদি গ্রাম সেই গুজরাটে। সবরমতি নদীর ধারে।

অমল = গুজরাটের গ্রাম ― সবরমতি নদী― কী জানি,হয়তো তোমাদের গ্রাম দেখেছি― কবে সে আমার মনে পড়ে না।

চাওআলা = তুমি দেখেছ? গুজরাটে গিয়েছিলে নাকি?

অমল = না, কোনোদিন যাই নি। কিন্তু আমার মনে হয় যেন আমি দেখেছি। তোমাদের গ্রামে গডসের মন্দির আছে না?

চাওআলা = ঠিক বলেছ বাবা।

অমল = তোমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে ট্রেন লাইন গেছে না? একবার ট্রেনে কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।

চাওআলা = কী আশ্চর্য! ঠিক বলছ।

অমল = তোমাদের গ্রামের লোকেদের মধ্যে একবার দাঙ্গা লেগেছিল না?

চাওআলা = বা! বা! ঠিক কথা। তুমি নিশ্চয় কোনোদিন সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলে!

অমল = সত্যি বলছি চাওআলা, আমি একদিনও যাই নি। কবিরাজ যেদিন আমাকে বাইরে যেতে বলবে সেদিন তুমি নিয়ে যাবে তোমাদের গ্রামে?

চাওআলা = যাব বই কি বাবা, খুব নিয়ে যাব! তবে আমি তো বেশিরভাগ সময় বিদেশে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করি, তাই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না!

অমল = আমাকে তোমার মতো ঐরকম চা বেচতে শিখিয়ে দিয়ো। আমিও দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করবো।

চাওআলা = মরে যাই! চা বেচতে যাবে কেন বাবা। এত এত পুঁথি পড়ে তুমি পণ্ডিত হয়ে উঠবে।

অমল = না, না, আমি কক্‌খনো পণ্ডিত হব না। আমি তোমার মতন দূর দূর দেশে গিয়ে চা বিক্রি করে বেড়াবো! কী রকম করে তুমি বল, মিত্রোঁ....চায়ে চায়ে গরম চায়ে। আমাকে সুরটা শিখিয়ে দাও।

চাওআলা = ওরে পাগল! এ সুরও শেখা অতো সহজ নয়! এর জন্য ৫৬ইন্চি ছাতি দরকার।

অমল = না, না, ও আমার শুনতে খুব ভালো লাগে। ঐ রাস্তার মোড় থেকে ঐ গাছের সারির মধ্যে দিয়ে যখন তোমার ডাক আসছিল, আমার মন তোলপাড় হচ্ছিল― যেন মনের মধ্যে সার্জিক্যাল স্টাইক হচ্ছিল!

চাওআলা = বাবা, এক ভাঁড় লিকার চা তুমি খাও।

অমল = আমার তো পয়সা নেই।

চাওআলা = না না না না― পয়সার কথা বোলো না। তুমি তো আমার মিত্রোঁ! আর আমি মিত্রোঁদের কাছে থেকে পয়সা নিই না। আমার কতো মিত্রোঁকে তো আমি হাজার হাজার কোটি টাকার চা বিনে পয়সায় খাওয়াই।

অমল = তোমার কি অনেক দেরি হয়ে গেল?

চাওআলা = কিচ্ছু দেরি হননি মিত্রোঁ, আমার কোনো লোকসান হয় নি। আমি এর দাম ঠিক অন্যদের ঘাড় থেকে তুলে নেব। এখন একটু জানালার কাছে এসো তো!

অমল = জানালার কাছে কেন?

চাওয়ালা = চায়ের কাপ হাতে তোমার সাথে একটা সেলফি তুলবো। আর ছবিতে যেহেতু জানালা থাকবে তাই এটাকে 'উইনডো-শপিং' বলে দিব্যি বাজারে চালাতে পারবো।

- অরিন্দম।।
Avatar: robu

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

যিনি লিখেছেন:
https://www.facebook.com/arindamsblog/?fref=nf
Avatar: Jhuma Samadder

Re: ডিমানিটাইজেশনঃ ফক্কুড়িসমূহ

কড়া কড়ি ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার

- হ্যাঁ গো , শুনচো , এগবারটি বাজারে যেতে হবে যে। দুটি থাঙ্কুনি পাতা এনে দাও দিকি বাজার থেকে ।
-কি কইলা ? মুই এহন যামু থাঙ্কুনি পাতা লাওনের লাইগ্যা ? ক্যান ,শুনি ? দাস-দাসী'রা সব গ্যেসে কই ?
-কোতায় আবার যাবে ? সব ছুটি নে বাড়ি গেচে গো, বাড়ি।
-সে কি? তুমি তাদের সুটি দিলা ক্যান ?
- দেবে না কি করবে শুনি ? কি কম্মটিই যে করে বসেচো । তাদের ঘরে সব ছোট ছোট ছেলেপুলে নেই ? বুড়ো বাপ-মা নেই ? কত আর উপোস দেবে তারা, শুনি ? সবার ঘরেই তো দু'-চাট্টে কালো কড়ি রয়েচে কষ্টেসৃষ্টে জমানো । তা সে গুলোকে জমা কত্তে হবে নে ? নতুন করে কড়ির ব্যাবস্তা কত্তে হবে নে ? আর তাদের কি আর সব কলকেতা শওরে বাড়ি ? তাদের তো আবার কম করে তিন মাইল হেঁটে, তারপর নৌকোয় , তারপর বাসে গে তবে না তারা কোষালয়ে পৌঁচবে, তারওপর আবার চার ঘন্টা লাইন দে কালোকড়িগুনো জমা করবে , তারপর আবার লোকজন ধরে করে ফরম ভরবে , তবে তো সাদা কড়ি'র স্বপ্ন। সেও তো আবার লটারী । এত কান্ড করেও তারা কড়ি'র ব্যাবস্তা কত্তে পারবে কি না, ভগমান জানে।
এ দিগে আমার ঘরেও তো খোকার জ্বর আজ তিনদিন হোলো । ঘরের খোঁজ তো তোমায় রাকতে হয় নে । তাকে ডাগতার দ্যাকাতো পাচ্চিনি কো , ওষুদ আনতে পাচ্চিনি । বাচা আমার তিন দিন ধরে কিচ্চুটি মুকে তুলতে পাচ্চে নে, আজ এগটু থাঙ্কুনি পাতার ঝোল দে দুটি ভাত দেব মনে করিচি ।
- দ্যাখো গিন্নী , বেশী কথা কবা না । মেয়েমানুষ , মেয়েমানুষের মতন থাহ । যত্ত সিডিশাস টক । কান খুইল্যা শুইন্যা রাইখ্যো , আমি যা করসি , জনগনের ভালার লাইগ্যাই করসি । অ..অ..ল ফর দেয়ার বেনিফিট । হ্যারা বুঝতাসে না । তুমিও সেই তালে নাইচ্যা আর ম্যালা ফ্যাসফ্যাস কইরো না। মেয়েমানুষ কয় কি আর সাধে ? সব হাঁটুতে বুদ্দি । বলদাছাতা যত । ইকোনমিক্স বুঝে না , পলিটিক্স বুঝে না। বিরোধী পার্টির তালে তালে নাচতাসে ।
কত কত সমঝদার, কত মহা মহা ব্যক্তি আমার এই কামের লাইগ্যা আমারে বাহাদুরি দিতাসে , হ্যারা বুঝি কিসুই বুঝে না ? দ্যাশের লাইগ্যা হ্যারা সক্কলেই ঠ্যালাঠেলি কইরা, ওই কি কয় না, “কেবা আগে প্রাণ করিবেক দান-" না কি য্যানো, তাই করতাসে , আর এই দেশদ্রোহীগুলা , ক্যাবল আমার বদনাম করার লাইগ্যা উইঠ্যা পইড়া লাগসে ।
- হ্যাঁ, লোকে তো বলবেই । না বললেই তো আবার সক্কলে বলবে , “ও..ই , ওর নিশ্চয়ই বস্তা বস্তা কালো কড়ি রয়েচে , তাই রাজামশাইর দুন্নাম কচ্চে ।" সেই ভয়েই বলচে । সে ছাড়া, সক্কলেই তো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ কত্তে পেরে ভারী খুশী হয়েচে। সেই সুকে হিংসে দিয়ে আলুভাতে ভাত মেকে, সোনা মুক করে খেয়ে নিচ্চে। যেসব গরিবে মচ্চে , মরুক। ওগুলো থেকেই বা দেশের কি উবগার কচ্চে ।
আর মহা মহা যে সব লোক , ও সব ভালো ভালো কতা বলচে, তারা তো খেয়েদেয়ে দিব্য রয়েচে , বড় দোকানে যেয়ে কার্ড দিয়ে জিনিসপত্তর নিয়ে আসচে । তাই ও কতা বলতে পাচ্চে ।
থাকত অজপাড়াগাঁয়ে , কার্ড-মার্ডের নামও শোনেনি কেউ কোনোক্কালে , দোকান-বাজার খাঁ খাঁ কচ্চে , নিজের খেতের দুটি আলু-মূলো তুলে বিক্রি করে চাট্টি চাল কিনবে মনে করিচিল, সেও হয়তো হোলো নি , ঘরে বাচ্চাদের উপোসী মুক, শুকনো মুকে ঘুরে বেড়াচ্চে বুড়ি মা কিম্বা থাকত ঘরের লোক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পড়ে, কিম্বা হয়তো দুদিন বাদে মেয়ের বিয়ে , বহু কষ্টে কিচু যোগাড় করেচিল কতদিন বসে , সব নষ্ট হয়ে গেল । তবেই বুজত তারা , ক্যামোন লাগে । কষ্ট হচ্চে আমার রোগা ছেলের অসহায় মুকের দিকে চাইলে , অসুদ নেই , পথ্যি নেই । সেটুকু বললেই তো অমনি বলবে , হয় 'কালো কড়ির মালিক’, নয় 'দেশদ্রোহী' ।
আরে বাপু, একএক্কানা ঘর নিয়েই তবেই তো দেশ হয়। ঘরে ঘরে হাহাকার, দেশ কপচাচ্চে। ঘরের গরীব মায়ের সামনে থেকে ছেলের ভাতের থালাখানা কেড়ে নে দেশ দেকাচ্চো? হাসপাতালে মায়ের কাতর চোকের সামনে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকা অসহায় ছেলে'কে দেশ দেকাচ্চো ? অতই যদি দরদ , লোকের কড়ি নে গাদা গাদা বেতন দে গোয়েন্দা-পাহারাদার পুষচ ক্যানো তবে , শুনি ?
- সে সব কি আমার তোমার কাছে শেখা লাগবে , নাহি এহন ? কি মনে করসো কি তুমি ? আমি চেষ্টা করতাসি না, সব ঠিক কইরা ফ্যালানোর ? এই দুইটা দিন মানুষের একটু কষ্ট হবে ঠিকেই । তারপর দেখবা, সব সোনার দ্যাশ । তোমার খোকা সোনার বিসানায় বইয়া সোনার সামচ দিয়া পরমান্ন খাইবে । মানুষের অসুখ করলে ইঞ্জেকসন লওন লাগে না ? এ ও ঠিক তাই । এখন একটু কষ্ট হবে , পরে দ্যাখবা সব অসুখ সাইরা গ্যাসে গিয়া । দ্যাখবা একটা মাছিরও পালাইতে দিমু না কইয়া দিলাম।
- ওই মাছিই ধত্তে পারবে তুমি। বড় বড় বাজপাকি সব তোমার নাকের ডগা দিয়ে পালিয়ে যাবে , এই বলে রাকলুম । আর দুটো দিন ? সে তো সেই কঅব্বে বলেচিলে ।
আর শোন, আমাকে 'অসুক সেরে যাবে' ‘অসুক সেরে যাবে' বলে ডিস্টিল ওয়াটারের ইঞ্জেকশন দে মন ভোলানোর চেষ্টা করবে নে , বলে দিলুম । চোক কান খোলা রাকলে বেশ বোজা যায় , ওতে রোগ সারে নে ।
আর একন চেষ্টা কোচ্চো ? তা চেষ্টাটা আগে কত্তে কি হয়েচিল , শুনি ? একন বলচো, তোমার কড়ি বানানোর পর খ্যাল হয়েচে , কড়ি বেরোনোর মেশিনের থালাখান ছোট ? মেপে ন্যাও নি ক্যানো আগে ? এই তোমার করিৎকম্মা মন্ত্রী- সান্ত্রী ?
এ্যাকোন বলচো, বড় কড়ি ভাঙানোর মতোন খুজরো নেই দেশে । তবে কি বড় বড় কড়ি দে লোকের মন ভোলাবে ভেবেচিলে ? ভেবেচিলে -“নে কড়ি চেয়েচিস, কড়ি নে । কোতায় খুজরো করবি তার আমি কি জানি ?” - তাই না ?
আমাদের গেরামে এ্যাগটা গল্প আচে জানো তো, দুই বউ-ঝি ভোরবেলায় মাঠে গ্যাচে , ইয়ে কত্তে আর কি । তা এগধারে বসে কাজ সাচ্চে, এমন সময় এগ ব্যাটাচেলে সে পত দিয়ে যাবে , যেতে পাচ্চে নে কো । শেষে গলা খাঁকারি দেচে । তা শুনে একজন বউ অন্যরে ডেকে বলে উটেচে, “ওলো , এগটু পাদলা করে হা*স , মিনসের গলায় লেগেচে।" তোমারও হয়েচে সেই দশা । এগটু পাদলা করে হা*লে হোতো নি ?
যাগ্গে , আমার বাপু অত কিচু বোজবার দরকার নেই । আমাকে থাঙ্কুনিপাতা ক'টা এনে দে কেতাথ্থ কর দিকি একন । বুড়ি মাসিও দুটি নগদ কড়ি পাক ।
- নগদ কড়ি ? নগদ কড়ি কিসের ? নগদ কড়ি না। এই দ্যাহো , এই আমি বাজারে যাইতাসি হউউস কইরা, এই আমি থাঙ্কুনি পাতা লইয়া ফিইরা আমু এক মিনিটের ভিতর ,স্রেফ ক্রেডিট কার্ড দিয়া , দ্যাখবা । হুঁঃ , কি জিনিস এ্যাকখান ! 'থাঙ্কুনি পাতা' 'থাঙ্কুনি পাতা' কইরা মাথা খাইতাসে।
- যা বলেচো। দেশে'র ভাবনায় ঘুম হয় নে , দেশে'র সাদারণ মানুষের কত খোঁজই রাকো । যাও , ক্রেডিট কার্ড দে বুড়ি মাসির কাচ থেকে থাঙ্কুনি পাতা নে এসো দিকি ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন