Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - ত্রয়োদশ তথা অন্তিম ভাগ
    অবশেষে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অন্তিমভাগে এসে উপস্থিত হয়েছি। অন্তিমভাগ, কারণ এরপর আমাদের তৃতীয় পর্বে চলে যেতে হবে। লেখা কখনও শেষ হয় না। লেখা জোর করেই শেষ করতে হয়; সেসব আমরা আগেই আলোচনা করেছি।তবে গল্পগুলো শেষ করে যাওয়া প্রয়োজন কারণ এই পর্বের কিছু গল্প পরবর্তী ...
  • প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..
    'তারা' আসেন, বিলক্ষণ!ক্লাস নাইনযষ্ঠীর সন্ধ্যে। দুদিন আগে থেকে বাড়াবাড়ি জ্বর, ওষুধে একটু নেমেই আবার উর্ধপারা।সাথে তীব্র গলাব্যাথা, স্ট্রেপথ্রোট। আমি জ্বরে ঝিমিয়ে, মা পাশেই রান্নাঘরে গুড় জ্বাল দিচ্ছেন, দশমীর আপ্যায়ন-প্রস্তুতি, চিন্তিত বাবা বাইরের ...
  • জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান
    Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে, “…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন ...
  • 'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
    'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'ঝুমা সমাদ্দার।ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার ...
  • পাছে কবিতা না হয়...
    এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই ...
  • মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক
    আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় ...
  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?
    মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের ...
  • উন্নয়নের তলায় শহিদদের সমঝোতা
    আশা হয়, অনিতা দেবনাথরা বিরল বা ব্যতিক্রমী নন। কোচবিহার গ্রামপঞ্চায়েতের এই তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দলের বেআব্রু ভোট-লুঠ আর অগণতন্ত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই তামাশায় তাঁর তরফে কোনও উপস্থিতি থাকবে না। ভোট লড়লে অনিতা বখেরা পেতেন, সেলামি পেতেন, না-লড়ার জন্য ...
  • ইচ্ছাপত্র
    আমার ডায়াবেটিস নেই। শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে (যদি কখনো ধরা পড়েও বা, আমি আর প্যাথোলজিস্ট ছাড়া কাকপক্ষীতেও টের পাবে না বাওয়া হুঁ হুঁ! ) হ', ওজন কিঞ্চিত বেশী বটেক, ডাক্তারে বকা দিলে দুয়েক কেজি কমাইও বটে, কিঞ্চিত সম্মান না করলে চিকিচ্ছে করবে কেন!! (তারপর যে ...
  • হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    গরমের ছুটিটা বেশ মজা করে জাঁকিয়ে কাটানো যাবে ভেবে মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো সকাল থেকে। তার আগে বাবার হাত ধরে বাজার করতে যাওয়া। কিন্তু একি গঙ্গার ধারে এই বিশাল প্যান্ডেল...কি হবে এখানে? কেউ একজন সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে বলে গেল “মাষ্টারমশাই...বালীত...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সম্পর্ক ও সংজ্ঞা

Sarit Chatterjee

সম্পর্ক ও সংজ্ঞা
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

ছাদটা ছিল, যেন লক্ষ আলোর রোশনাইয়ে মোড়া শহরটার মাঝে এক অন্ধকার দ্বীপের মতো।
লক্ষ তারার ভিড়ে না-দেখা এক অন্ধকূপের মতো।
সূর্যজায়া সংজ্ঞার নিঃসাড় ভয়ের মতো।

রিমি হাতটা খুব সন্তর্পণে সরিয়ে নিতেই ফানুসটা সেখানেই ভেসে রইল কিছুক্ষণ। তারপর খুব ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করল। আর বাচ্চার মতো হাততালি দিয়ে উঠল রিমি।
ছাদের ওপর সতরঞ্চি পেতে উপুড় হয়ে শুয়ে কনুইয়ে ভর দিয়ে রিমিকে দেখছিল গোগোল। ওর বয়েস কত হবে? কুড়ি? একুশ? আচ্ছা, ও আমার কে হয়? দশমাস আগেও তো ওকে চিনতাম না। এখন মনে হয় কতকালের চেনা।

বিহার সীমান্তে সম্পূর্ণ অচেনা এক শহর। এই চিলেকোঠার ঘরটাই বাজেটে কুলিয়েছিল গোগোলের সেদিন। চেনাশোনা থাকা সত্তেও রিমির বাবা সেদিন ওর আপাদমস্তক জরিপ করে মাসে চারহাজার চেয়েছিলেন।

ঘটনাটা ঘটেছিল প্রায় দু'মাস পর। পাড়ার গলির মুখেই চারজন মিলে চেপে ধরেছিল রিমিকে। টেনে হিঁচড়ে ওকে মাটিতে পেড়ে ফেলেছিল ওরা, ছিঁড়ে ফেলেছিল অন্তর্বাস। অফিস ফেরতা গোগোল লড়ে গেছিল ওদের সাথে। জখম হয়েও পাল্লা দিয়েছিল চারজনের সাথে যতক্ষণ না লোকজন চলে এসে বাঁচিয়েছিল ওদের।

তারপর থেকেই সমীকরণটা পাল্টে গেছিল। কেমন যেন পাল্টে গেছিল ওদের ব্যবহার। মাঝেমধ্যেই কাতলার গাদাটা, মাংসের নলিটা, চলে আসত এই চিলেকোঠার ঘরে। গতমাসে রিমির জন্মদিনে একটা শাড়িও কিনে দিয়েছে গোগোল। গতকাল ওরা সবাই মিলে দিওয়ালির বাজি পুড়িয়েছে, ফানুস উড়িয়েছে এই ছাদেই।

আজকাল প্রয়োজন ছাড়াই টুকটাক ছাদে চলে আসে রিমি। গোগোল বোঝে এ শুধু নিছক কৌতূহল নয়। রিমি ডানাকাটা সুন্দরী না হলেও বেশ বুদ্ধিমতি, সুশ্রী। গোগোল ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নাহয়েও মাসে বিশহাজারের ওপর কামাচ্ছে, দেখতেও খারাপ না। মুস্কিলটা হলো অন্য জায়গায়। রিমির মায়ের মাসতুতো দাদার ছেলে গোগোল। যদিও কশ্মিনকালেও যাতায়াত নেই।

ফানুসটা যতক্ষণ দেখা যাচ্ছিল চোখ সরায় নি রিমি। শেষে, উত্তরের আকাশে ঝুপ করে মিলিয়ে গেল সেটা। রিমি চোখ নামিয়ে তাকায় গোগোলের দিকে। বলে, কী সুন্দর, না?
- অপূর্ব!
- একবারও তাকাও নি ওদিকে আর বলছ, অপূর্ব?
- তোমার কি মাথার পেছনেও একজোড়া চোখ আছে নাকি? গোগোল অবাক হয়ে উঠে বসে।
- হ্যাঁ, আছে।
- তা, কী দেখলে?
- দেখেছি যা দেখার।
- বাদ দাও তো! শোন, তোমাকে আমার কিছু বলার ছিল।
- আমারও। কিন্তু আগে উঠে দাঁড়াও।
- কেন?
- আঃ, দাঁড়াও না প্লিজ!

গোগোল দাঁড়াতেই ওর হাত ধরে আলোর দিকে টেনে আনে রিমি। গত দশমাসের আস্তানার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় ওর। আলোটা আড়াআড়ি ওদের মুখে পড়ছে।
- কী ব্যাপার! কপট ভয়ে প্রশ্ন করে গোগোল।
- ভয় পাচ্ছ?
- ভীষণ!
- তোমার কপালটা দেখব বলে টেনে আনলাম।
- আমার ... কপাল?
- হ্যাঁ।
- কেন?
- একটা প্রাচীন চাইনিজ প্রবাদ আছে জান তো? কারো প্রাণ বাঁচালে কিন্তু সারাটা জীবন তার দায়িত্ব নিতে হয়!
- অ! আমি কিন্তু ঘোর অ্যান্টি-কমিউনিস্ট।
- সেজন্যই তো কপালটা দেখতে চাইলাম!
- ধ্যেত্তেরি! আবার আমার কপালের ...
- আরে, কাল বলতে হবে না, 'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা, ..'?
- তু..তুমি আমায় ফোঁটা দেবে!
- দেব না? তুমি যে আমার মামাসতুতো দাদা!
- মামাসতুতো ..! মানে?
- মানে ওই মায়ের মাসতুতো ইয়ের ইয়ে আর কী ..
- তা বলে তুমি আমায় ভাইফোঁটা দেবে!
- ওমা! দেব না?
- না!
- তাহলে?

এক ঝটকায় রিমিকে ঘরের মধ্যে টেনে নেয় গোগোল। দু'হাতের মধ্যে ওর মুখটা ধরে ঠোঁট নামিয়ে আনে ওর ঠোঁটে।
কিছুক্ষণ পর প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে রিমি বলে, ইস্! ছাড়ো!
- এবার বুঝেছ?
- উঁহু। কী?
- এটা সত্যযুগ নয়। তোমার নাম যমুনা নয়, তোমার নাম রিমি। আর আমিও যম নই।
- না, তুমি ডাকাত সর্দার!

সিঁড়ির কাছে এক ছায়ামূর্তি কিছুক্ষণ হলো দাঁড়িয়েছিল। এখন ধীরগতিতে সে নেমে যায়। তার মনে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব, এক অদ্ভুত উচ্ছাস, কারণ, সেও যে নারী। ইতিহাস যে নারীকে কোনদিনই খুব বেশি সুযোগ দেয় নি।
না সংজ্ঞা'কে, না যমুনা'কে।

--০--

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন