Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লড়াকু ভীমরতি
    লড়াকু ভীমরতিঝুমা সমাদ্দার- কেমন লাগে ? এইবার ? পই পই করে বলেছিলুম , "ওরে ,আমায় জ্বালাসনি , আমায় জ্বালাসনি । রেগে গেলে কিন্তু আমি বাপের কুপুত্তুর ।" তা না, তেনারা নাকি আমায় টেষ্ট করে দেখবেন , আমি তাঁদের গাইদের গর্ভিনী করবার উপযুক্ত কি না !! হুঁঃ !! কী আমার ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # চার
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • ভূমিকম্পে বেরিয়ে আসে অজগর সাপ
    “আপনি কি স্বাধীনতা কী বুঝেন?”ভদ্রলোক আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটি করলেন।আমি বললাম, “বুঝব না কেন? স্বাধীনতা হচ্ছে নিজের মত থাকার বা কিছু করতে পারার সুযোগ।”ভদ্রলোক সামান্য হেসে ফেললেন। তিনি তার মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা কাঁচাপাকা দাড়ি হালকা চুলকাতে চুলকাতে ...
  • বিজাতীয় ভীমরতি
    বিজাতীয় ভীমরতি ( বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাবু' অবলম্বনে )ঝুমা সমাদ্দারজনমেজয় কহিলেন,হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলিযুগে রিয়্যালিটি শো নামে একপ্রকার জয়ঢাক পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। তাঁহারা কি প্রকার জয়ঢাক হইবেন এবং পৃথিবীতে আবির্ভুত হইয়া কি কার্য্য ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # তিন
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • সেনাবাহিনী ও মানবাধিকার
    বেশ কিছুদিন আগে গুরুচন্ডা৯ সাইটের একটা লেখার সূত্রে আলোচনা হচ্ছিল, সেনাবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে আমরা এত কিছু বলি, কিন্তু তারা নিজেরা কী পরিবেশে থাকেন, কী সমস্যার সামনে দাঁড়ান, তা কখনোই তেমনভাবে আলোচিত হয় না। সেনাবাহিনীতে (পুলিশ, বি এস এফ বা বিভিন্ন আধা ...
  • আমার আকাশ
    আমার আকাশঝুমা সমাদ্দারএক টুকরো আকাশ ছিল আমার । দূ..উ..রে , ওই যে মাঠ…. মাঠের ও পারে সেই যে গাছটা …. কি যেন নাম ছিল সে গাছটার ….কি জানি…. কোনো নাম ছিল কি গাছটার ? কোনোদিন জানতাম কি তার নাম ? ….না, জানতাম না বোধহয় । জানতে চাই-ই নি কোনো দিন…. ওটা তো আমার গাছ ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # দুই
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • অ-খাদ্য ভীমরতি
    অ-খাদ্য ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারযত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি ...
  • কারফিউ
    [এক-এগারোর (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) পর সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্ববধায়ক সরকার সারাদেশে বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করেছিল। এর দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছিল সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, দিনমজুরসহ সাধারণ জনতাকে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে সে সময়ের একটি ব্লগ নোট। ...

সম্পর্ক ও সংজ্ঞা

Sarit Chatterjee

সম্পর্ক ও সংজ্ঞা
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

ছাদটা ছিল, যেন লক্ষ আলোর রোশনাইয়ে মোড়া শহরটার মাঝে এক অন্ধকার দ্বীপের মতো।
লক্ষ তারার ভিড়ে না-দেখা এক অন্ধকূপের মতো।
সূর্যজায়া সংজ্ঞার নিঃসাড় ভয়ের মতো।

রিমি হাতটা খুব সন্তর্পণে সরিয়ে নিতেই ফানুসটা সেখানেই ভেসে রইল কিছুক্ষণ। তারপর খুব ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করল। আর বাচ্চার মতো হাততালি দিয়ে উঠল রিমি।
ছাদের ওপর সতরঞ্চি পেতে উপুড় হয়ে শুয়ে কনুইয়ে ভর দিয়ে রিমিকে দেখছিল গোগোল। ওর বয়েস কত হবে? কুড়ি? একুশ? আচ্ছা, ও আমার কে হয়? দশমাস আগেও তো ওকে চিনতাম না। এখন মনে হয় কতকালের চেনা।

বিহার সীমান্তে সম্পূর্ণ অচেনা এক শহর। এই চিলেকোঠার ঘরটাই বাজেটে কুলিয়েছিল গোগোলের সেদিন। চেনাশোনা থাকা সত্তেও রিমির বাবা সেদিন ওর আপাদমস্তক জরিপ করে মাসে চারহাজার চেয়েছিলেন।

ঘটনাটা ঘটেছিল প্রায় দু'মাস পর। পাড়ার গলির মুখেই চারজন মিলে চেপে ধরেছিল রিমিকে। টেনে হিঁচড়ে ওকে মাটিতে পেড়ে ফেলেছিল ওরা, ছিঁড়ে ফেলেছিল অন্তর্বাস। অফিস ফেরতা গোগোল লড়ে গেছিল ওদের সাথে। জখম হয়েও পাল্লা দিয়েছিল চারজনের সাথে যতক্ষণ না লোকজন চলে এসে বাঁচিয়েছিল ওদের।

তারপর থেকেই সমীকরণটা পাল্টে গেছিল। কেমন যেন পাল্টে গেছিল ওদের ব্যবহার। মাঝেমধ্যেই কাতলার গাদাটা, মাংসের নলিটা, চলে আসত এই চিলেকোঠার ঘরে। গতমাসে রিমির জন্মদিনে একটা শাড়িও কিনে দিয়েছে গোগোল। গতকাল ওরা সবাই মিলে দিওয়ালির বাজি পুড়িয়েছে, ফানুস উড়িয়েছে এই ছাদেই।

আজকাল প্রয়োজন ছাড়াই টুকটাক ছাদে চলে আসে রিমি। গোগোল বোঝে এ শুধু নিছক কৌতূহল নয়। রিমি ডানাকাটা সুন্দরী না হলেও বেশ বুদ্ধিমতি, সুশ্রী। গোগোল ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নাহয়েও মাসে বিশহাজারের ওপর কামাচ্ছে, দেখতেও খারাপ না। মুস্কিলটা হলো অন্য জায়গায়। রিমির মায়ের মাসতুতো দাদার ছেলে গোগোল। যদিও কশ্মিনকালেও যাতায়াত নেই।

ফানুসটা যতক্ষণ দেখা যাচ্ছিল চোখ সরায় নি রিমি। শেষে, উত্তরের আকাশে ঝুপ করে মিলিয়ে গেল সেটা। রিমি চোখ নামিয়ে তাকায় গোগোলের দিকে। বলে, কী সুন্দর, না?
- অপূর্ব!
- একবারও তাকাও নি ওদিকে আর বলছ, অপূর্ব?
- তোমার কি মাথার পেছনেও একজোড়া চোখ আছে নাকি? গোগোল অবাক হয়ে উঠে বসে।
- হ্যাঁ, আছে।
- তা, কী দেখলে?
- দেখেছি যা দেখার।
- বাদ দাও তো! শোন, তোমাকে আমার কিছু বলার ছিল।
- আমারও। কিন্তু আগে উঠে দাঁড়াও।
- কেন?
- আঃ, দাঁড়াও না প্লিজ!

গোগোল দাঁড়াতেই ওর হাত ধরে আলোর দিকে টেনে আনে রিমি। গত দশমাসের আস্তানার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় ওর। আলোটা আড়াআড়ি ওদের মুখে পড়ছে।
- কী ব্যাপার! কপট ভয়ে প্রশ্ন করে গোগোল।
- ভয় পাচ্ছ?
- ভীষণ!
- তোমার কপালটা দেখব বলে টেনে আনলাম।
- আমার ... কপাল?
- হ্যাঁ।
- কেন?
- একটা প্রাচীন চাইনিজ প্রবাদ আছে জান তো? কারো প্রাণ বাঁচালে কিন্তু সারাটা জীবন তার দায়িত্ব নিতে হয়!
- অ! আমি কিন্তু ঘোর অ্যান্টি-কমিউনিস্ট।
- সেজন্যই তো কপালটা দেখতে চাইলাম!
- ধ্যেত্তেরি! আবার আমার কপালের ...
- আরে, কাল বলতে হবে না, 'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা, ..'?
- তু..তুমি আমায় ফোঁটা দেবে!
- দেব না? তুমি যে আমার মামাসতুতো দাদা!
- মামাসতুতো ..! মানে?
- মানে ওই মায়ের মাসতুতো ইয়ের ইয়ে আর কী ..
- তা বলে তুমি আমায় ভাইফোঁটা দেবে!
- ওমা! দেব না?
- না!
- তাহলে?

এক ঝটকায় রিমিকে ঘরের মধ্যে টেনে নেয় গোগোল। দু'হাতের মধ্যে ওর মুখটা ধরে ঠোঁট নামিয়ে আনে ওর ঠোঁটে।
কিছুক্ষণ পর প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে রিমি বলে, ইস্! ছাড়ো!
- এবার বুঝেছ?
- উঁহু। কী?
- এটা সত্যযুগ নয়। তোমার নাম যমুনা নয়, তোমার নাম রিমি। আর আমিও যম নই।
- না, তুমি ডাকাত সর্দার!

সিঁড়ির কাছে এক ছায়ামূর্তি কিছুক্ষণ হলো দাঁড়িয়েছিল। এখন ধীরগতিতে সে নেমে যায়। তার মনে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব, এক অদ্ভুত উচ্ছাস, কারণ, সেও যে নারী। ইতিহাস যে নারীকে কোনদিনই খুব বেশি সুযোগ দেয় নি।
না সংজ্ঞা'কে, না যমুনা'কে।

--০--



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন