সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সুরের ভুবনে
    সুরের ভুবনেসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পদশইঞ্চির স্কার্টটা হাঁটুর চার আঙুল ওপরেই শেষ হয়ে গেছে। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল পরমার। কোনরকমে হাঁটুতে হাঁটু চেপে মেক-আপ রুমে দাঁড়িয়েছিল সে। দীপ্তি ওকে বোঝাচ্ছিল।: দ্যাখ, আমাদের কাছে এই একটাই মূলধন, আমাদের গান। এই ...
  • আমেরিকা, আমি এসে গেছি
    আমেরিকা, আমি এসে গেছিআসলে কী --------------অ্যাকচ...
  • আতঙ্কিত ভীমরতি
    আতঙ্কিত ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারপরিস্কার দেখতে পাচ্ছি দু' দু'খানা ইন্ডিয়া। দেশের ভিতর দেশ ।একখানা দেশ শপিংমলে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ঢেঁকিছাঁটা চাল ( না হে , দিশী নাম নয় , নাম তার ‘ব্রাউন রাইস’), কিউয়ি-স্ট্রবেরীর মতো সাত-বাসী বিদেশী ফল(গাছ-পাকা পেয়ারা-কামরাঙায় ...
  • হালাল বইমেলায় হঠাৎ~
    অফিস থেকে দুঘণ্টা আগে ছাড়া পেয়েই ছুট। ঠিক দুবছর পর একুশের বইমেলায়। বলবেন, কেন? সে এক মেলা উত্তর, না হয় এইবেলা থাক। আপাত কারণ একটাই, অভিজিৎ নাই!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই মধুর কেন্টিনের কথা মনে পড়ে। অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেখানে ...
  • নিলামওয়ালা ছ'আনা
    নিলামওয়ালা ছ'আনাসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্পপাঁচতারা হোটেলটাকে হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল সুদর্শন ছিপছিপে লম্বা ছেলেটা। আইপিএল-এর অকশান হবে এই হোটেলেই দুদিন পর। তারকাদের পাশাপাশিই সেদিন ভাগ্যনির্ণয় হবে ওর মতো কয়েকজন প্রায় নাম না জানা খেলোয়াড়ের। পাঁচতারায় ঢোকার ...
  • এক যে ছিল
    ১অমাবস্যা-পূর্ণিমা নয়, বছরের এপ্রিল-মে মাস এলেই জয়েন্টের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়ে হরেরাম। গত তিন বছর ধরে এটি হচ্ছে। ক্রনিক রোগ বাঁধলো নাকি! হরেরামের চিন্তা হয়। অথচ চিকিৎসার তো কোনো ত্রুটি নেই। ...
  • পিরীতি রীতি
    পিরীতি রীতিঝুমা সমাদ্দার- কি বইলছিস রে , সহর যাক্যে ইসব তু কি সিখ্যে আইসেছিস , বট্যে ? একদিন চগ্লেট দিব্যে , একদিন পুত্যুল দিব্যে, একদিন কিস কইরব্যেক, একদিন জড়াইঞঁ ধইরব্যেক - ই কি ইনিস্টলমিন পিরিতি 'ট হইঞঁছ্যে ন' কি ? সাত দিন ধইরে ই সব কইরব্যে , আর ...
  • নগরকাকের গল্প
    নগরকাকের গল্প১শামসোজ্জোহা বাসায় এসেই খবর পেয়েছে তার স্ত্রী ও কন্যা একসাথে কাক হয়ে উড়ে গেছে। এটি কোন ভালো খবর না। খারাপ খবর। খারাপ খবরে শামসোজ্জোহার মন খারাপ হল। সে একহাতে জ্বলন্ত সিগারেট রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল কী করা যায়।দূরে শাহজালাল(র) এর ...
  • পরিস্থিতি
    হিঞ্জেওয়াড়ি ফেজ - ৩ : রাত ৯.৩০----------------...
  • বাংলা ভাষার উৎস সন্ধানে অস্ট্রো এশিয়াটিকের দিকে ফিরুন
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী ভাষার অবদান। আমরা আর্য থেকে উদ্ভূত হয়ে বিভিন্ন মিশ্রণের মধ্যে দিয়ে আজকের চেহারায় এসেছি, এরকম না বলে আমরা অস্ট্রো এশিয়াটিক গোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত হয়ে বিভিন্ন ...

বিজ্ঞানের দর্শন: মানবেন্দ্রনাথ রায় # তিন

Ashoke Mukhopadhyay

[৬] কিছু অন্য প্রশ্ন

উপরে বর্তমান প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমরা বিশ শতকে পদার্থবিজ্ঞানের নতুন সমস্যাগুলির কিছু কিছু বিষয়ে এম এন রায়ের বক্তব্য নিয়ে যতটুকু আলোচনা করলাম তাতে বোধ হয় এটা বোঝানো সম্ভব হয়েছে যে আলোচ্য বিষয়ে তিনি অনেক মূল্যবান কথা আমাদের উপহার দিয়েছেন। এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি সমস্যা নিয়ে তিনি তাঁর পূর্বোল্লেখিত বইগুলোতে বিশ্লেষণ করেছেন, এবং সমকালীন সময়ের বিচারে তাদের যথেষ্ট যথাযথ সমাধান দেবার প্রয়াস করেছেন। যেমন, বিজ্ঞানের প্রেক্ষিত থেকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা উপস্থিতির প্রশ্ন

আরও পড়ুন...

শিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশে

Sumeru Mukhopadhyay

মা গো আমায় ছুটি দিতে বল, সকাল থেকে ভ্যারেণ্ডা ভেজেছি যে মেলা। বিপি হাই, হ্যালো বলছে টালমাটাল সবুজ পথ। এখন কোথাও সকাল কোথাও রাত, গেঁটে বাত, আর এইসব নিয়েই উড়ালপুল, তার নীচে যেমন সংসার। প্রচুর আলো জ্বলছিল সারারাত, সাঁইসাঁই রকেট, চুমুক জুড়ে ছিল তুবড়ি, হাতুড়ি ও কাস্তে, এইভাবে একখানা ছাদ ঘুরে আসতে কলম্বাসের আর কতক্ষণ সময় লাগে। কতগুলো পাতা, বইখানা ফরফর করছিল টেবেলে, পাখাও যেমন ঘুরছে, মাছ নিয়ে গেছে চিলে। আমাদের গল্পের ঈ উঠে চলে গেল, মেঝে জুড়ে ছড়ান নিফার, সীতা যে কোথায় চলে যান, দেবা ন জানন্তি । জবার ডাল

আরও পড়ুন...

হৃৎপিণ্ড

Sarit Chatterjee

হৃৎপিণ্ড
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ভৌতিক অণুগল্প

ডাঃ সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়, চিফ সাইকিয়াট্রিস্ট, প্যারাসাইকোলজিস্ট ও অ্যাসাইলাম সুপার। যেমন কাজ পাগল লোক তেমনি দোর্দণ্ড প্রতাপ।
আজ যদিও নিউ ইয়ার, তাও দোতলার রাউন্ডে ঢুকছেন রাত এগারোটায়। ফ্লোর ইনচার্জ রাখাল ছুটে আসে।
- কাকে দেখবেন স্যার?
- চার আর সাত নম্বর। ওদের কন্ডিশন কদিন হল ডিটোরিয়েট করছে। আজ থেকে দুবার করে কাউন্সেলিং করব।

চার নম্বর ঘরে, অরুণিমা সেন, ৫৫। এককালে নামকরা অভিনেত্রী ছিলেন। ঘরে ঢুকতেই ফ্যাসফ্যাসে গলায় বল

আরও পড়ুন...

দু’হাজার চুরাশী

Salil Biswas

বহুদিন আগে লেখা। এখন লিখলে এই কথাগুলোই লিখতাম। কিচ্ছু তো পাল্টায়নি। নাম ইংরেজিতে লিখেছিলাম : An Infernal Tragedy

সমস্ত দিন পরীক্ষার হলে পাহারাদারী করিয়া এবং কতিপয় অসাধু বালকের সহিত বচসা করিয়া সন্ধ্যাবেলা ক্লান্ত দেহে বাড়ী ফিরিয়াছি। চা জলখাবার খাওয়া হইয়া গিয়াছে। সবেমাত্র আরামকেদারায় গা এলাইয়াছি, হঠাৎ দেখিলাম, ঘরের দেওয়াল চতুষ্টয় অতি দ্রুত পিছনে হটিয়া গেল, সম্মুখের টেবিল চেয়ার বইপত্র সমস্ত কিছু কাঁপিতে কাঁপিতে অদৃশ্য হইল। দুই চক্ষে অন্ধকার দেখিলাম। শরীরে কোন অনুভূতি নাই, কেবল প্রচণ্ড এক শ

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞানের দর্শন: মানবেন্দ্রনাথ রায় # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

[৩] প্রত্যক্ষবাদ নয়

তবে শুরুতেই একটা কথা বলে নেওয়া দরকার।

মানবেন্দ্রনাথ রায় যদি সরলরৈখিক ভাষায় বস্তুবাদের সাধারণ সুপরিচিত সিদ্ধান্তগুলি পর পর বলে যেতেন তাহলে আজ আমাদের কাছে তার কোনোরকম গুরুত্বই থাকত না। তা তিনি করেননি। বরং আমরা দেখব, তিনি বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে সেই সময়ের সব চেয়ে বিপজ্জনক প্রবণতার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং বিজ্ঞানের দর্শন আলোচনার গোড়াতেই সেকথা বলে নিয়েছিলেন। বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলিকে যে আর আগেকার মতো ধ্রুপদী ভাববাদের সপক্ষে কাজে লাগানো যায় না, এ কথা বিশ শতকের যে

আরও পড়ুন...

দেশভাগ এবং জিন্নার অপ্রতিহত উত্থানের পেছনে কংগ্রেসের ভুল রাজনীতি কতটা সক্রিয় ছিল ?

souvik ghoshal

মুসলিম সমাজের অবিসংবাদী নেতা হিসেবে উঠে আসায় জিন্নার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। কংগ্রেসের ভেতরের মুসলিম নেতৃত্ব যেমন একদিকে ছিলেন, তেমনি অন্যদিকে ছিলেন কংগ্রেসের বাইরের বিভিন্ন মুসলিম নেতা, যেমন বাংলায় কৃষক প্রজা পার্টির ফজলুল হক, পাঞ্জাবের ইউনিয়নিস্ট পার্টির সিকান্দর হায়াত খাঁ, সিন্ধুপ্রদেশে আল্লা বক্স, উত্তরপ্রদেশে খালিকুজ্জমান। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে খালিকুজ্জমান জিন্নার শিবিরে যোগ দেন। পরবর্তীকালে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা কংগ্রেসের অনাগ্রহে ব্যর্থ হবার পর ফজলুল হক জিন্নার দিকে সরে যান

আরও পড়ুন...

মৃগদাব

Indrani

সুখ বলতে সুপর্ণার চোখে একটা ছবি ভাসত -সে ছবির কতখানি সত্য কতখানি মনগড়া না কি পুরোটাই স্বপ্ন -সুপর্ণা জানে না। সুখ ভাবলে কোথাও যেন কিরকির শব্দ করে প্রজেক্টর চালু হয়ে যেত আর সুপর্ণা একটা সাদা কালো ভিডিও ক্লিপ দেখতে পেত- চোখের একদম সামনে। সুপর্ণা দেখত একটা চওড়া রাস্তা-নতুন সব ঘরদোর তৈরি হচ্ছে একদিকে-পাঁজা পাঁজা ইঁট, সিমেন্ট , বালি, স্টোনচিপসের ঢিপি, ভারা বেঁধে কাজ , অন্যদিকে অজস্র কাশফুল আর মহালয়ার আগের দিন বেলা দশটা নাগাদ মা বাবা আর সুপর্ণা রিকশা করে যাচ্ছে। সে ছবিতে রোদ চড়া নয়-নীল আকাশ ; আর সেই আ

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞানের দর্শন: মানবেন্দ্রনাথ রায়#এক

Ashoke Mukhopadhyay

[১] উপেক্ষিত নায়ক

মানবেন্দ্রনাথ রায় (১৮৮৭-১৯৫৪) বিংশ শতাব্দের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও দার্শনিক। প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো, মৃত্যুর ষাট বছর পরে শুধু নয়, অনেক আগে থেকেই তাঁর সম্পর্কে আমরা, একালের প্রগতি শিবিরের লোকেরা, খুব ভালো করে জানি না। নামটা হয়ত অনেকেরই জানা রয়েছে। কিন্তু তাঁর চিন্তা ও কর্মের সাথে আমাদের পরিচয় প্রায় নেই বললেই চলে। কিংবা বলা ভালো, পরিচয় রাখার চেষ্টাও কোথাও নেই।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আমি যতটা যা জানি তা সংক্ষেপে এইরকম: তিনি তাঁর বিপ্লবী জীবন শুরু ক

আরও পড়ুন...

এস-আই রাবণ

Sarit Chatterjee

এস-আই রাবণ
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্প

সাব-ইনস্পেকটর রাবণ।
কড়েয়া থানার এই সদা হাস্যময় বেঁটেখাটো টাকমাথা ভুঁড়িওলা লোকটার নাম যে বেটাই রাবণ রেখে থাকুক তার রসবোধের বাহবা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। পোশাকি নাম ঘনশ্যাম মোদক, যদিও আইজি সাহেব থেকে কনস্টেবল সুমন্ত্র আর ওঁর শালাবাবু থেকে বটগাছের নিচে ভোলেবাবার পেসাদ বেচে যে নিধিকান্ত, সবার কাছেই তিনি ওই রাবণ নামেই যারপরনাই উৎসাহের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন।

তবে, একটা মিল ছিল। ত্রেতাযুগের রাক্ষসরাজের হাসি যদিও স্বকর্ণে আজকের কেউ শোনে নি

আরও পড়ুন...

মিতার সুবিচার চাই

শারদ্বত

মিতাকে আমি ভাল করে চিনতাম না। আমিও, ওরই মত, যাদবপুরে বাংলা পড়তাম। ক্লাস করে ফেরার সময় সিঁড়িতে দেখা হত কখনো-সখনো। একই ব্যাচ, একই বিভাগ, বিষয়ও এক, কিন্তু এরকম হয়েই থাকে, আমার বন্ধুমহল আর ওর বন্ধুমহল আলাদা ছিল। আলাপ হয়েছিল রি-ইউনিয়নে। আমার ওপর দায়িত্ব পড়েছিল ডিপার্টমেন্ট সাজানোর, আর আমাকে সাহায্য করার জন্য ছিল আরো দশ-বারোজন, তাদের মধ্যে মিতাও ছিল। টানা চার-পাঁচদিন শোলা কেটে রঙ করে আঠা দিয়ে ঘর সাজাতে সাজাতে রি-ইউনিয়নের আগের দিন খুব ক্লান্ত হয়ে ও বলেছিল, ‘এত খাটলাম, কিছু খাওয়াবি না?’ অগত্যা সবাই মিলে

আরও পড়ুন...

পুজোর চিঠি/ পর্ব 4

Atanu Sanpui

।।।নবমীর চিঠি।।।
বিয়াস,
তখন পুজোর সকাল হতো ঢাকের শব্দে নিয়মিত। ঢাকিরা ঘুরতো পাড়ায়। ওই ঢাকের শব্দেই আমি বা আমার মতো আরও অনেকের ঘুম ভাঙতো। আর ঘুম ভাঙলেই আমার প্রথম কাজ হতো ফোন করে তোমায় ঘুম থেকে তোলা। তোমার ঘুম জড়ানো গলা না শুনলে যে আমার সকাল হতো না। যদিও তার ঘণ্টা তিনেক আগেই হয়তো আমাদের ফোনালাপ বন্ধ হয়েছে। হ্যাঁ। তখন আমরা সবে মোবাইল ফোন পেয়েছি। তাই রাতভর ফোনে গল্প করতাম। কত কথা যে জমে থাকতো, সে সব হয়তো কোনওদিন বলাই হতো না, যদি না মোবাইল ফোন থাকতো। তখন পাড়ার ফোনবুথটা উঠে গিয়েছে। আর ল্যা

আরও পড়ুন...

পুজোর চিঠি/ পর্ব 3

Atanu Sanpui

।।।অষ্টমীর চিঠি।।।

বিয়াস,
সে অষ্টমী ছিল চরম নাটকীয়। না। অষ্টমীতে নাটক ছিল না। তবে নাটকের ফাইনাল রিহার্সাল ছিল। আর যত কান্ড সেই ফাইনাল রিহার্সালে। শেষ মুহূর্তে নাটক ভেস্তে যায় আর কী! ঠিক হয়েছিল সেবার পাড়ায় বড়দের নাটকটা সত্যিই বড়দের হবে। বেছে নেওয়া হল মনোজ মিত্র-র 'দম্পতি'। কিন্তু শুরুতেই গোল বাধল। এক বয়স্ক দম্পতি আর এক সদ্য বিবাহিত দম্পতির গল্প। বৃদ্ধ দম্পতি পাওয়া গেল। কিন্তু তরুণ দম্পতির কী হবে! বর না হয় আমি হলাম। কিন্তু বউ সাজবে কে? ওই সব সংলাপ..পাড়ার মধ্যে ওই রকম রোল করতে কেউ

আরও পড়ুন...

পুজোর চিঠি/ পর্ব 2

Atanu Sanpui

।।।সপ্তমীর চিঠি।।।

বিয়াস,
মেঘের আড়ালে মেঘ, তার আড়ালে আর একটা মেঘ.. দেখেছো কখনও? বলতে পারো তাদের মধ্যে দূরত্ব ঠিক কতোটা? বছর ঘুরে আসে শারদীয়া সপ্তমী তিথি। আর আমি হিসেব করতে বসি, ঠিক কতগুলো জীবনের ওপারে রয়ে গিয়েছে তোমার আমার রঙমিলান্তি সপ্তমীগুলো। সাংবাদিকদের পুজোর ছুটি হয় না। এক বা দুদিন তাও যদি হয়, ষোলশ কিলোমিটার দূরে বাড়ি ফেরার জন্য হপ্তাখানেকের ছুটি.. অসম্ভব। সে বার আমি জানুয়ারি থেকে উইকলি অফ ছাড়া আর কোনও ছুটি নেইনি। আর বসকে জানিয়েছিলাম, পুজোয় দিন দশেকের ছুটি চাইই চাই। তবু শে

আরও পড়ুন...

পুজোর চিঠি/ পর্ব 1

Atanu Sanpui

।।।ষষ্ঠীর চিঠি।।।

বিয়াস,
সেলফি স্টিক দিয়ে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা আমার নেই, তুমি জানো। আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে যাওয়া পেজার আর ফ্লপির সময়ের পুজোর মধ্যে দিয়েই আমি তোমাকে আমাকে খুঁজে পাই। গত বছর সেই মন খুঁড়ে পাওয়া কিছু মুহূর্ত পুজোর দিনগুলোয় তোমায় দিতে চেয়েছিলাম। যে পুজো আজ আর আমরা যাপন করি না। সে পুজোর হদিশ নিতে গেলে নিজেকে জাতিস্মর মনে হয়। তখন চতুর্থী থেকে ঠাকুর দেখা শুরু হত না। বরং উল্টোটা হত। ষষ্ঠী সকালেও পুজো আসছে পুজো আসছে .. রেশ রয়ে যেত। পুজোর জমানো নতুন জামার বদলে আগের বার

আরও পড়ুন...

আর্য সমস্যাঃ পর্ব ২

Swarnendu Sil

(পর্ব ১ এর পর )

কালচারাল আর্যঃ

দ্বিতীয় সম্ভাব্য উত্তরটা হতে পারে আর্যদের ডিফাইন করা একটা কালচার ( মানে কিছু স্পেসিফিক কালচারাল বৈশিষ্ট্য) দিয়ে। কিন্তু এইটা কি আমরা প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান কালচার দিয়ে করতে পারি? মানে সেই থেকে ডিরাইভড কোন একটা কালচারকে আর্য কালচার বলব, এটা কি পারি?
এতে দুটো মুশকিল, এক হল প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান কালচার সম্পর্কে আমরা আদৌ জানব কিকরে? ভাষাটার অস্তিত্ব লজিকালি ডিরাইভ করেছি ( এখনো করিনি, আপাতত ধরে নিতে বলেছিলাম, আরও কিছুক্ষণ ধরে থাকুন ), কিন্তু আদ

আরও পড়ুন...

মেয়ে

Soumyadeep Bandyopadhyay



১)
কিছুতেই কলকাতা যেতে চাইছিল না টুকি ওরফে শ্যামলী রাহা | স্কুলের স্যারের বলা চোখ বড় বড় করে দেওয়া ইতিহাসের গল্প , বিশ্বাস দাদুদের বাড়ির পিছনের জঙ্গলে টিয়াবাচ্ছার তদারকি , পুকুরে ডুব সাঁতার দিয়ে হাঁসেদের সাথে ছোটাছুটি , দামোদরের পারে মাঝে মাঝেই চড়ুইভাতি এহেন জরুরী কাজ ছেড়ে ট্রেনে করে শহরে যাবে কোন মুখ্যু ? তাও আবার এক আধ বেলার জন্য ঘুরতে যাওয়া নয় ওখানেই থাকা | ওর দু ক্লাস উঁচুতে পড়া পুতুল দু বার গেছে কলকাতায় , কালিঘাটে পুজো দেবার জন্য | ওর কলকাতা যাবার কথা শুনে চোখ কপালে তুলে বলেছি

আরও পড়ুন...

আর্য-সমস্যাঃ পর্ব ১

Swarnendu Sil

শুরুর কথাঃ

অনেকদিন থেকেই নানা আলোচনায়, কথাবার্তায় তথাকথিত Aryan debate নিয়ে কিছু লেখার কথা উঠে আসছিল... বিষয়টা এমনিতেই বিশাল এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি... তার ওপর হনুমানদের চিৎকারে আমাদের মত সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কনফিউশন-ধোঁয়াশা তৈরি করছে খানিক... সেই জায়গা থেকেই বিষয়টাকে ধরার চেষ্টা... মূল লক্ষ শুধু এখনকার অ্যাকাডেমিক কন্সেন্সাস বলাই নয়, বরং সেগুলোর যুক্তিগুলোও বোঝা... এবং এর জন্যে স্বাভাবিকভাবেই হিস্টোরিয়ানদের অ্যাকাউন্ট এর ওপর নির্ভর না করে প্রাইমারি ফিল্ডগুলোর এক্সপার্টদের, যেমন ফি

আরও পড়ুন...

দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

Swarnendu Sil

দুর্গাপুজোর মাঝে কিছু অদ্ভুত পোস্ট চোখে পড়ল ফেসবুকে... এক ধরণের কাউন্টার-প্রোপাগ্যান্ডা... মহিষাসুর 'অসুর' নামের কোন আদিবাসী উপজাতির লোককথার এক রাজা... যাকে সাদাচামড়ার ( implying, depending on the context, উচ্চবর্ণের বা ইন্দো-ইউরোপীয় ) দুর্গা কৌশলে হত্যা করে... আর তাই দুর্গাপুজো তাদের কাছে শোকের দিন...

এমন পোস্ট অবশ্য এবছরই প্রথম নয়, এর আগেও 'হুদুর-দুর্গা' ইত্যাদি নিয়ে লেখালিখি চোখে পড়েছে...

যাই হোক, ইতিহাস বিকৃতি এই হনুমানদের ভারতবর্ষে একরকম গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে বা গেছে বলা চলে.

আরও পড়ুন...

আমার ভাই মানব

বিপ্লব রহমান

আমার বড় ভাই মানব নকশাল আমলের বিপ্লবী ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় ভাষানীর কাগমারী সম্মেলন করেছিলেন। সাতের দশকে সব ছেড়ে তিনি পপ সম্রাট আজম খানের গানের দলে যোগ দেন।

এখনো চোখ বুজলে সেই ভাইকে দেখি, লম্বা চুল দাড়ি, নোংরা বেল বটম প্যান্ট, রঙচঙ শার্ট, সিগারেট ফুকতে ফুকতে গিটার বাজিয়ে গাইছেন- রেল লাইনের ওই বস্তিতে!...

সেই ভাই বড় হতে হতে, দূরাগত হতে হতে, অনেক বছর আরব দেশে, প্রায় বেদুইন! বয়স ৫৫ পেরিয়েছে। ...

হঠাত টেলিফোন - দুবাই হসপিটালে আমার ভাই মানব কোমায় আছেন! তার ব্রেইন স্ট্রোক কর

আরও পড়ুন...

বৃত্ত

Tathagata Dasmjumder

১)
এখন
সকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে।
"গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"
ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।
"আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ডাক্তার বলেছে প্রায় একলাখ টাকা লাগবে, কিছুতেই জোগাড় করতে পারছিলামনা। আজ বাথরুমে বারটা পড়ে থাকতে দেখো ঈমান নড়ে গেছিল"
"ঈমান? তুই কি মুসলমান নাকিরে? তোর নাম তো জয়া, ও, বুঝতে পেরেছি, সেজন্যই তো নেমকহারামী করলি"
"আম

আরও পড়ুন...

পৃথিবী এবং পরিবেশ নিয়ে কিছু অসংলগ্ন বিলাপ

priyak mitra



"মানুষ যে মাটিকে কাঁদাল


লুট করে মাটির জীবন


সে মাটি শুভেচ্ছা পাঠাল


ঘাসের সবুজে প্রাণপণ"


-কবীর সুমন


টি এস এলিয়ট এপ্রিলকে বলেছিলেন ক্রুয়েলেস্ট মান্থ,আর নাসার সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস হল 'হটেস্ট মান্থ এভার', অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম মাস।
এরকম একটি ঘটনায় চমকে গেছেন তাবৎ বিজ্ঞানীকুল। জার্মান আবহাওয়াবিদ স্টেফান রাহমস্টর্ফ বলেছেন এইমুহূর্তে আমরা সকলেই রয়েছ

আরও পড়ুন...

পৃথিবী এবং পরিবেশ নিয়ে কিছু অসংলগ্ন বিলাপ

priyak mitra



"মানুষ যে মাটিকে কাঁদাল


লুট করে মাটির জীবন


সে মাটি শুভেচ্ছা পাঠাল


ঘাসের সবুজে প্রাণপণ"


-কবীর সুমন


টি এস এলিয়ট এপ্রিলকে বলেছিলেন ক্রুয়েলেস্ট মান্থ,আর নাসার সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস হল 'হটেস্ট মান্থ এভার', অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম মাস।
এরকম একটি ঘটনায় চমকে গেছেন তাবৎ বিজ্ঞানীকুল। জার্মান আবহাওয়াবিদ স্টেফান রাহমস্টর্ফ বলেছেন এইমুহূর্তে আমরা সকলেই রয়েছ

আরও পড়ুন...

অ্যান এপিকিউরিয়ান ট্র্যাজেডি

Sarit Chatterjee

অ্যান এপিকিউরিয়ান ট্র্যাজেডি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

- আপনি যা ঠিক করার তা তো করেই ফেলেছেন; তবু বলতে বলেছেন যখন তখন দু'কথা বলেই ফেলি, কী বলেন স্যর? কিন্তু নিখাদ সত্য সহ্য করার মতো বুকের পাটা আপনার আছে তো, ধর্মাবতার?
মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। মৃত্যু মানেই তো - সব কিছুর ইতি, শেষ। আর সত্যি বলতে কী, জীবনকে আমি খুবই ভালোবাসি।
ভালো লাগার কত কী আছে এই পৃথিবীতে, তাকিয়ে দেখুন একবার। যেমন ধরুন, ফুল।
কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার সময়

আরও পড়ুন...

দেশ, যুদ্ধ ইত্যাদি

Tathagata Dasmjumder

এক যে ছিল দেশ, যদিও দেশের শাসক বিদেশী, তবুও দেশের বাসিন্দারা বেশ মিলেমিশে থাকত। হঠাৎ কি হল, বিদেশীর যখন সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করে দিল, তখনই কিছু বাসিন্দার মনে হল তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছেনা। ব্যস আর কি চাই, তারা নতুন দেশ দাবি করে ফেলল। নতুন দলের সবাই মিলে দেশের একটা অংশকে আলাদা দেশ হিসেবে পরিচালনা করতে লাগল। কিন্তু মুশকিল হল সীমান্ত নিয়ে, তুমুল ঝগড়া লাগল সীমান্তের লাইনটা ঠিক কোথায় হবে তা নিয়ে, ব্যস যুদ্ধ শুরু। প্রথমেই নতুন দেশের সৈন্যরা পুরনো দেশের একজন নিরীহ বাসিন্দাকে মেরে ফেলল, পুর

আরও পড়ুন...

স্যামসন

Binary

ইস্টবেঙ্গল , ব্রাজিল আর যখন ক্রিকেট-এ উৎসাহ ছিল , তখনকার ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল ছাড়া , কোনো খেলোয়াড়ি যুদ্ধে , আমি সব সময় দুর্বল দলের পক্ষে। ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আমি সব সময় মহমেডান স্পোর্টিং কে সাপোর্ট করে এসেছি , কলকাতার ফুটবল-এ। অথবা টালিগঞ্জ অগ্রগামী , বা খিদিরপুর স্পোর্টিং। কোনো এক ফিফা বিশ্বকাপে , ক্যামেরুন কে খুব সাপোর্ট দিয়েছিলাম। নাদাল বা ফেডেরার কোনো অনামী দুর্বল , ৱ্যাঙ্কিন-এ যোজন দুরে-র কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোর্টে নামলে , মনে প্রাণে চাই দুর্বল অনামী খেলুড়ে-ই জিতুক। এই ব্যাপারটা সুধু

আরও পড়ুন...

মৌলিক নিষাদ

রৌহিন

“এই এক আশ্চর্য সময়।
যখন আশ্চর্য বলে কোন কিছু নেই।
যখন নদীতে জল আছে কি না আছে
কেউ তা জানে না।
পিতামহ, আমি এক আশ্চর্য সময়ে বেঁচে আছি।
যখন আকাশে আলো নেই,
যখন মাটিতে আলো নেই,
যখন সন্দেহ জাগে, যাবতীয় আলোকিত ইচ্ছার উপরে
রেখেছে নিষ্ঠুর হাত পৃথিবীর মৌলিক নিষাদ – এই ভয় ।”
হ্যাঁ ভয়। আমার সন্ততির জন্য। আমার নিজের জন্য। প্রিয়জনদের জন্য। অপ্রিয়জনদের জন্যও। ভয় ছাড়া আর কী অনুভব করতে বা পারি? যখন আমার চারিদিকে পরিচিত অপরিচিত অসংখ্য মানুষ, বন্ধু-স্বজন সকলকে দেখি এক অদ্ভুত উন্ম

আরও পড়ুন...