Ashoke Mukhopadhyay RSS feed

Ashoke Mukhopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

[গ] বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে কী বোঝায়

এপর্যন্ত পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বলতে বসে আমি স্রেফ ভূগোল আর ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কেন? বিজ্ঞান নিয়ে এখন অবধি একটাও কথা তো পাড়িনি। বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বিজ্ঞান-বোধ হয় নাকি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান যা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত—এই সব কথা তো বলছি না। বিজ্ঞান মানে সব কিছুকে যুক্তি তর্ক করে বিচার বিশ্লেষণ করে তবে গ্রহণ করতে হবে—সেই সব পুরনো কাসুন্দির কথা তুলছি না তো? ধান ভানতে বসে শিবের গীত গাইছি কেন?

সেই কথাই এবার বলব। তারও কারণ আছে।

বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে নিছক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষতা বা সপ্রতিভতা নয়। বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে হল বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তি, যুক্তিশীল মননচর্চা, বৈচারিক চিন্তাকৌশল। ব্যাপারটা এমন নয় যে শুধু বিজ্ঞানের ছাত্রদেরই বিজ্ঞান-মনস্ক হওয়া প্রয়োজন, অন্য বিষয়ের ছাত্রদের বিজ্ঞান-বোধ না থাকলেও চলবে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে পড়ি বা না পড়ি, শিক্ষকতা গবেষণা করি বা না করি, সবাইকেই সব কিছু বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তির আধারে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞান আর বৈজ্ঞানিক মানসিকতা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও দুটো ঠিক এক জিনিস নয়। একটা হলেই আর একটা হয় না। আপনা আপনি হয় না। একজন বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে, গবেষণা করে, চর্চা করে, ছাত্র পড়ায়—কিন্তু হাতের আঙুল ভর্তি আংটি; একটা হয়ত মঙ্গলকে ভয় দেখাচ্ছে, আর একটা হয়ত আবার ভাইরাস ব্যাকটিরিয়াদের শাসন করার কাজে ব্যস্ত, তৃতীয়টার উদ্দেশ্য কোনো জটিল মামলা জেতা, ইত্যাদি—এমন তো আকছারই দেখা যায়। যারা এইরকম আংটি পরে, ধাতুরত্ন ধারণ করে, তার পক্ষে তারা আবার কত বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেয়! বস্তুর উপর বস্তুর কি ক্রিয়া নেই? জীবাণুদের সম্পর্কে রসায়ন-শাস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র ধারণ করতে বলছে না? কিংবা, সব শেষে একখানা মোক্ষম প্রশ্ন, “বিজ্ঞান কি সব জানে?” আর অন্যরা জানুন বা না জানুন, বিজ্ঞানের লোকেরা তো জানেই—যে বিজ্ঞান এখনও সব জানে না, আর কখনও সব জানবে বলে মনে করে না। সুতরাং . . .

এমন অনেককেই দেখা যায়, যারা ভগবান মানে না কিন্তু যাদের ভূতের ভয় আছে। কিংবা তাদের হয়ত ভূত-প্রেতে ঘোর অবিশ্বাস, অথচ ছেলেমেয়ের কোনো সময় কঠিন অসুখ-বিসুখ হলে মা কালীর থানে বা রাস্তার মোড়ের শনিঠাকুরের বেদীতে দু টাকার বাতাসা মানত করে রাখে। আবার এমনও বহু লোক আছে, যাদের পড়াশুনো কলা বিভাগে, কিন্তু খাদ্যাখাদ্য বিচারে রান্নার উপকরণে ছেলেমেয়ের পোশাক বা স্বাস্থ্যের প্রশ্নে তারা অত্যন্ত যুক্তিশীল এবং বিজ্ঞান-মনস্ক।

ধরুন, বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে, কমপ্ল্যান খেলে একটি ছেলে বা মেয়ে দ্বিগুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে, লম্বা হবে। বহু লোক বিশ্বাস করছে। তারা বেশিরভাগ লক্ষই করছে না, যে স্কেল দিয়ে বৃদ্ধিটা দেখানো হচ্ছে, তাতে চার ফুট পর্যন্ত উচ্চতার মাপটা ফুটে দেখিয়ে বৃদ্ধির পরিমাপ দেখানো হচ্ছে সেন্টিমিটারে। কেন? এরকম স্কেল বাজারে হয় নাকি? কারোর উচ্চতা আপনি কি বলবেন চার ফুট পাঁচ সেন্টিমিটার? তার মানে বিজ্ঞাপনটায় গোলমাল আছে। বা কোনো গূঢ় মতলব আছে। কজন সাধারণ মানুষ এটা খেয়াল করেছে? এই ধরনের একটা সাধারণ চালাকি বোঝার জন্য কি বিজ্ঞান পড়ার বিশেষ দরকার আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অ্যাকাউন্টেন্সিতে অনার্স নিয়ে পড়লে এটা বোঝা যাবে না? বরং বাস্তবে আমরা দেখছি, বিজ্ঞানের ছাত্ররাও এটা ধরতে পারছে না। তাদেরও একটা বিরাট অংশ এই সব বিজ্ঞাপনী চালাকিতে ভিরমি খেয়ে যাচ্ছে। এবং লম্বা হওয়ার জন্য রোজ রোজ কমপ্ল্যান খাচ্ছে। অথবা তীক্ষ্ণবুদ্ধি পাওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করার জন্য অন্য কিছু খাচ্ছে। এই প্রশ্নটা তারা করছে না, স্বাস্থ্যবান হওয়া বা লম্বা হওয়ার যে জৈবিক প্রক্রিয়া, এই ধরনের কৌটোবন্দি খাদ্য বা পানীয় তার উপরে কীভাবে প্রভাব ফেলে। অথবা আদৌ ফেলতে পারে কিনা।

রাজশেখর বসু তাঁর একটি বৈজ্ঞানিক মনোভাব সংক্রান্ত প্রবন্ধে দেখিয়েছিলেন, বিজ্ঞাপনে কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঠকানো হয়। কোনো একটি মাথার তেলের কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনে লিখেছিল, “ইহাতে পারদ নাই।” যেন, অন্য সব প্রস্তুতকারকের তেলে ভেজাল হিসাবে পারদ থাকার কথা। আজ বেঁচে থাকলে তিনি দেখতে পেতেন, সেই সাবেকি কায়দাটা আজও মরেনি। আজ আবার কোনো এক তেল উৎপাদকের হয়ে একজন বিখ্যাত ফিল্মি নায়ক বলছেন, তাঁদের বিজ্ঞাপিত তেলে নাকি অ্যামোনিয়া নেই। এই রকম অসংখ্য বিজ্ঞাপনী চালাকি ধরতে না পারার পেছনেও আছে বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব।

[ঘ]
এবার কয়েকটা কাজের কথা পাড়া যাক।

বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

অবিশ্বাস, ভয়, কৌতূহল, সংশয়, প্রশ্ন, . . . ।

সে কি? কী বলছেন মশাই? এসব তো নেতিবাচক লক্ষণ।

ঠিক তাই। বিজ্ঞান-মনস্কদের যে লোকে নাস্তিক বলে জানেন নিশ্চয়ই। সেটা এই কারণেই বলে। সব ব্যাপারেই শুরুতে তারা খালি বলে—না, না, না, নাস্তি, নাস্তি, নাস্তি, . . .। এতে বিশ্বাস করতে পারছি না, ওটা বলতে ভয় পাচ্ছি পাছে ভুল প্রমাণ হয়ে যায়, অমুক তত্ত্বটায় ঘোরতর সন্দেহ আছে ঠিক হবে কিনা, . . ., ইত্যাদি। আর কেবলই বলেন, জানি না, খানিকটা জানা গেছে, অনেক কিছু এখনও জানায় বাকি আছে, অল্প অল্প করে জানা যাচ্ছে, এই রকম আর কি। সহজে কোনো প্রস্তাবে কিছুতেই হ্যাঁ বলতে পারেন না বিজ্ঞান জগতের লোকেরা। একেবারে বলেন না তা নয়, তবে না-এর তুলনায় হ্যাঁ-এর সংখ্যা খুব কম। মাইকেল ফ্যারাডে এক সময় একটা গড় হিসাবে বলেছিলেন, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দশটা প্রস্তাবের নটাতেই নাকি ওনারা না বলে দেন। একটাতে অতি কষ্টে হ্যাঁ বলেন। সায় দেবার ব্যাপারে বড্ড কিপটে। বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যান। দেখবেন, প্রতিটি ব্যাপারে খালি প্রশ্ন, প্রশ্নের পর প্রশ্ন। কী ভয়ানক সন্দেহবাতিক ভাবা যায় না। কারোর সঙ্গে কারোর ঝগড়াঝাঁটি আছে, ব্যাপারটা এমন নয় কিন্তু। হয়ত বাইরে গলায় গলায় ভাব। কিন্তু বিজ্ঞানের সমস্যা এলে, পরীক্ষার ফলাফলের কথা উঠলে অমনি তক্কাতক্কি শুরু হয়ে যায়। তাঁদের শুধু ভীষণ ভয়, পাছে কিছু একটা ভ্রান্ত তত্ত্ব সম্মেলনে গৃহীত হয়ে যায়।

তুলনায় একটা ধর্মের জলসায় গিয়ে দেখুন। কোনো একজন বড় ধার্মিক সাধুর বচনামৃত পাঠ করুন। বারবার কী দেখতে পাবেন? বিশ্বাস, নির্ভাবনা, নিঃসন্দেহ, নিস্তর্ক, মেনে নেবার আগ্রহ, . . . । যেমন এদেশে তেমনই ওদের দেশে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন বলতেন, “বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর”, লাতিনে ওরা বলত “Credo ut intelligam” (বিশ্বাস করলে তবেই আমি বুঝতে পারব)। এগুলো সবই হচ্ছে ইতিবাচক লক্ষণ। সব কিছুতেই হ্যাঁ বলবার ঝোঁক বা ইচ্ছা। এই জন্যই ধর্মে বিশ্বাসীদের লোকে আস্তিক বলে। তারা সব কিছু সহজে মেনে নেয়, বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ব্যাপারেই খুব একটা সন্দেহ হয় না, প্রশ্নও জাগে না। তাদের মনে কোনো কিছুই গভীরে গিয়ে জানার খুব একটা ইচ্ছা নেই। ধর্মগুরুরা আবার মানা করেও দেন। যেমন, রামকৃষ্ণ রূপক ছলে বলে দিয়েছিলেন, “বাগানে আম খেতে এয়েছ খেয়ে যাও; বাগানে কটা গাছ, গাছে কটা করে আম—এত খোঁজে তোমার দরকার কী?”

শিবদুর্গার তিনটি ছেলে মেয়ে স্বাভাবিক, কিন্তু গণেশের বেলায় হাতির মুন্ডু। তা-ই কোটি কোটি লোক দু তিন হাজার বছর ধরে মেনে এসেছে। সন্দেহ করেনি, প্রশ্নও তোলেনি। গণেশের একটা মাথা থাকা দরকার, আছে। তা হাতির না কিসের, অত খোঁজে দরকার কী বাপু আমাদের?

আচ্ছা, সে না হয় পুরা কালের কথা। কিন্তু এই সেদিন যে পাথরমূর্তি গণেশের শুঁড় দিয়ে দুধ পানের গল্প দেশময় ছড়িয়ে গেল, শুধু সাধারণ পিকলু-ন্যাবলা-পাচি নয়, বহু ডক্টরেট, অফিসার, ম্যানেজার, আইনজ্ঞ তথা ভিআইপি যে গ্লাশে দুধ আর হাতে চামচ নিয়ে রাস্তায় লম্বা লাইনে আম আদমিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়লেন, সারা দেশে কম বেশি বাহাত্তর লক্ষ লিটার দুধ মাটিতে খেল, তার পেছনেও তো সেই আদি অকৃত্রিম বিশ্বাস। প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই। মেনে নেবার কী অসীম আগ্রহ। প্রত্যকেরই বক্তব্য, গনেশের ধাতব বা পাথরের মূর্তি দুধ যদি না-ই খাবে, এত এত লোকে তাহলে ছুটে এল কেন? সকলেই কি বোকা?

বিজ্ঞান-মনস্কতা এই অন্ধ বিশ্বাসকেই বদলাতে চায়। আগেভাগেই বিশ্বাস না করে, প্রথমে প্রশ্ন কর, নানা দিক থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝবার চেষ্টা কর, সমস্ত সন্দেহ মোচন হলে তবে মানবে। তথ্য যুক্তি প্রমাণ ও প্রয়োগ—এই হল বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান চারটে স্তম্ভ। নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তব তথ্য যোগাড় কর, তার মধ্যে তুলনা করে হিসাবনিকাশ করে মাপজোক করে যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে মূল পরিঘটনাটিকে দেখার চেষ্টা কর। হাতে কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করা যায় কিনা দেখ। যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসছে তাকে কোন জায়গায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায় দেখ, অর্থাৎ, তাকে কাজে লাগানো যায় কিনা দেখ। তারপর সেই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ কর।

আমার অবশ্য মাঝে মাঝে মনে হয়, আস্তিক নাস্তিক শব্দ-জোড়ার অন্য রকম অর্থও থাকা সম্ভব। যে বিচারের ধারায় যুক্তিবুদ্ধি স্বভাবগতভাবে অস্তমিত হয়ে যায় তাই হল আস্তিক দর্শন। পক্ষান্তরে, যে ধরনের চিন্তাধারার মধ্যে যুক্তিতর্ক প্রমাণ ও প্রয়োগের বুদ্ধি আবশ্যিকভাবে ন্যস্ত রয়েছে, তাকে বলা হয় নাস্তিক দর্শন। এইভাবে ভাবলেই বা ক্ষতি কী?

[ঙ]
এই পার্থক্যটা ঠিকমতো বোঝার দরকার আছে। কেন না, অনেক সময়ই কিছু লোককে বলতে শুনি, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের নাকি কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ নাকি দুই তরফেরই কট্টরপন্থীদের মধ্যে। সত্যিকারের ধর্মের সারকথা যে মেনে চলে সে নাকি সত্য জানতে কখনও আপত্তি করে না, বরং জানতেই চায়। সত্যিকারের বড় বিজ্ঞানীদেরও নাকি ধর্মের প্রতি কোনো অসহিষ্ণুতা নেই, তাঁরা নাকি ধর্মকে বুঝতে চান, অনেকে নিজেরাই ধর্মপ্রাণ হয়ে থাকেন। ইত্যাদি।

এই বক্তব্যে আমার দ্বিবিধ আপত্তি আছে। আপত্তিটা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় গিয়ে নয়। যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ধর্মে বিশ্বাস করেন কিন্তু বিজ্ঞানের কাজটা বিজ্ঞানের নিয়মেই করেন, তাঁদের এই বিশ্বাস-আচরণের দ্বিভাজন (dichotomy) নিয়েই আমার আপত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিজ্ঞান চর্চা করা যায় না বলেই তাঁদের জোড়াতালি দিতে হয়। অক্ষয় কুমার দত্তের ফরমুলা অনুযায়ী বলতে পারি, জ্বর হলে আপনি মা কালীর নাম করতে পারেন, প্যারাসিটামল খেতে পারেন, আবার মা কালীর নাম নিতে নিতে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। জ্বর কমার হলে ওই ওষুধেই কমবে। মা কালীর নামের মাহাত্ম্যে নয়। বীজগণিতের সমীকরণের আকারে লিখলে কালীনামের ফলাফল শেষ অবধি শূন্যই হবে।

হ্যাঁ, এর মধ্যে ফরাসি যুক্তিবাদী দার্শনিক ভোলতেয়ারের সেই বিখ্যাত রসিকতারও ছাপ আছে। কে একজন তাঁকে বলেছিল, “আচ্ছা মশাই, মন্ত্র দিয়ে কি কাউকে মেরে ফেলা যায়?”

“যায়, অবশ্যই যায়। তবে সঙ্গে আর একটা জিনিসও লাগবে।”

“আর কী লাগবে?”

“তেমন কিছু নয়, উপযুক্ত পরিমাণে কিছুটা সেঁকো বিষ। তাহলে মন্ত্রের কাজ ভালো হবে।”

বিজ্ঞানের সাথে যে কোনো প্রকারের অন্ধ বিশ্বাসের একমাত্র এরকম “সেঁকো বিষ যুক্ত” সমন্বয়ই করা যায়। ধর্মের ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

সুতরাং, কোনো বড় বিজ্ঞানী হয়ত বলতে পারেন, অনেক কিছু জানার পরেও আমাদের এত জানতে বাকি যে জগতের রহস্য যেন আরও নিগূঢ় হয়ে উঠছে। জগতের এই শৃঙ্খলা, এত জটিলতা—এসবের ব্যাখ্যা হয় না একজন সুপারপাওয়ারের কথা ধরে না নিলে। তখনও আমাদের প্রশ্ন থেকেই যাবে, ধরে নিলেই কি সমস্ত রহস্যের ব্যাখ্যা হয়? সকলেই জানেন, হয় না। একটি বাস্তব পরিঘটনার পেছনে আর একটি কোনো আরও মৌলিক ও বাস্তব পরিঘটনাকে খুঁজে পেলে দ্বিতীয়টার সাহায্যে প্রথমটার ব্যাখ্যা হয়। মেঘ কীভাবে উৎপন্ন হয় জানলে বৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অন্যত্র সেই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হয়। কিন্তু ভগবান আমাদের বৃষ্টি দেন বললে নতুন কী জানা যায়? বৃষ্টি সম্পর্কে আমাদের এক দানাও জ্ঞান বাড়ে না। সেই জানা কাজেও লাগে না। যা জানি না, ঐশী শক্তি ঘটাচ্ছেন ধরে নিলেও তা অজানা এবং অধরাই থাকে। আবার অক্ষয় কুমারের ফরমুলায় বলতে হবে, জ্ঞানের জগতে একজন সুপারপাওয়ার আছে ধরে নেবার ফলও সেই শূন্যই। তবে আর তা ধরে নিয়ে কাম কী? অর্থাৎ, প্রশ্নটা ঝগড়ার নয়, ফলাফলের।

জ্ঞানের সাথে জ্ঞানের সমন্বয় হয়। জ্ঞানের সাথে অজ্ঞতার কোনো সমন্বয় হয় কি? হয় না বলেই বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় সম্ভব নয়। যুক্তিবাদের সাথে কুসংস্কারের সমন্বয় সম্ভব হয় না। একটা চাইলে আর একটাকে ছাড়তে হবেই। ধর্ম হিন্দুকে বলে, গোমাংস ভক্ষণ করিও না, উহাতে মহাপাপ; ধর্ম মুসলমানকে বলে, কদাচ ভুলিও না, শুয়রের মাংস ভয়ানক হারাম। আর খাদ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞান থেকে জানা যায়, রক্তচাপ হৃদরোগ ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদির সমস্যা না থাকলে বাল্য কৈশোর যৌবনে এই দুই (এবং আরও নানা) প্রকারের মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে শুধু ভালো নয়, অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অশিক্ষিত ধর্মান্ধ গোঁড়া হিন্দু-মুসলমানের কথা ছেড়ে দিন, শিক্ষিত উদার মনস্ক কতজন এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে আগ্রহী হবেন? বা আদৌ হয়ে থাকেন? এইভাবে দেখলে বোঝা যাবে, জীবনের সর্বক্ষেত্রেই বিজ্ঞান মনস্ক হতে চাইলে ধর্মমনস্কতাকে ছাড়িয়ে আসতে হবে। তা না হলে যেটা হবে সেটা আরও হাস্যকর। ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তাঁদের শিক্ষার মালমশলা কাজে লাগিয়ে সেই ধর্মান্ধতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করবেন। অশৌচ পালনের সাথে ব্যাক্টিরিয়া নিধন, দাড়ি রাখলে গালে মশার কামড়ের হাত থেকে অব্যাহতি, ইত্যাদি . . . ।

উল্টোটা তাঁরা কেউ করবেন না। কোনো বিজ্ঞানশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিই কখনও বলবেন না, অন্তত এযাবত আমি কাউকে বলতে শুনিনি, “আমাদের ঈশ্বর ভক্তির সঙ্গে আমরা কে কী খাই তার কোনোই সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর মুরগিও দিয়েছেন, কলাও দিয়েছেন; গরুও দিয়েছেন, লেটুস পাতাও তৈরি করেছেন; ফুলকপিও বানিয়েছেন, শুয়রও পয়দা করেছেন। যিনি আল্লাহ তিনিই ভগবান তিনিই তো গড। নামে ভিন্ন হলেও আসলে তো এক। তা না হলে দুনিয়ায় অনেক ভগবানের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত; সেটা সমস্ত ধর্মের পক্ষেই অস্বস্তিকর হয়ে যেত। সবই যখন সেই তাঁরই সৃষ্টি, তাঁর একটা জিনিস খেলে ভালো আর অন্য একটা খেলে দোষ হবে কেন? বিশেষ করে যখন এক ধর্মের নিষিদ্ধ খাদ্যগুলো অন্য ধর্মের ঈশ্বর বিশ্বাসীরা খেয়েদেয়ে দিব্যি হাজার হাজার বছর ধরে হজমও করেছে, টিকেও রয়েছে?” এইভাবে তাঁদের কেউ বলতে পারলে, ঈশ্বরব্যঞ্জনার কথাটা সত্য না হলেও একটা সমন্বয়ের আভাস অন্তত পাওয়া যেত। সেটুকুও আজ অবধি পাইনি।

আরও একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ দিই। ভারতে প্রতিবছর সাগরমেলায় বা প্রতি চার বছর অন্তর কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে যে পবিত্র গঙ্গাস্নান করে তাতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ব্যাপক পরিবেশ দুষণ হয়। এই অসংখ্য মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্য থেকে নদী সমুদ্র ও মেলার চারপাশের জল মাটি বায়ুর দীর্ঘমেয়াদি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যাপক দুর্ঘটনাটা ঘটে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়। আরবে যারা হজ করতে যায় তাদের ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। আজ পর্যন্ত কোনো একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষিত চিন্তাশীল মানুষকে বলতে শুনেছেন কি কেউ, “না, এরকম জমায়েত ভালো নয়। ব্যক্তি স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য—কোনোটার পক্ষেই ভালো নয়”? কেউ কি বলেছেন, “ভগবান বল, আল্লাহ বল তিনি সর্বত্র বিরাজমান; তাঁকে খুঁজতে বা পেতে এত ক্লেশ স্বীকার করে কোনো একটা বিশেষ জায়গাতেই বা যেতে হবে কেন? তুমি যেখানে আছ, সেখানেও তিনি আছেন। সেখানেই তাঁর পূজাপাঠ আরাধনা সেজদা কর”? আমার জানা নেই।

যদি ধর্মে বিশ্বাসী একজনও কেউ সাহস করে এসব কথা বলতে পারতেন, তাহলে বুঝতাম, সমন্বয়ের সামান্য হলেও সম্ভাবনা আছে। কিন্তু না। ধর্মে বিশ্বাসী কেউই তা বলতে পারেন না। পারেন না কেন না, তাঁরাও জানেন, শুধু একজন আপনভোলা ঈশ্বর নিয়ে ধর্ম হয় না। বাকি সমস্ত আচার বিচার প্রথা প্রকরণ গরু শুয়র টিকি দাড়ি আলতা সিঁদুর বোরখা মিলিয়েই ধর্ম। হিন্দুদের ক্ষেত্রে জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ি বজায় রেখেই ধর্ম। অন্তত বৃহত্তর জনসমষ্টির জন্য ধর্ম মানে তাই।

এই অবস্থায় বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করার একটাই মানে। তা হল, ধর্মবিশ্বাসীরা তাঁদের বিশ্বাস ও আচরণ থেকে এক চুলও নড়বেন না; বিজ্ঞান অনুরাগী যুক্তিবাদীদেরই তাঁদের জায়গা থেকে সরে আসতে হবে। মেনে নিতে হবে, হ্যাঁ, ধর্মে কিছু কিছু সত্য থাকলে থাকতেও পারে। ঈশ্বর বিশ্বাস থাকলে বিজ্ঞানের তো আর তেমন কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব আপাতত না হয় এরকম একটি প্রতিপাদ্যকে মেনে নেওয়াই যাক। আমার মনে হয়, বিজ্ঞানমনস্কতার তরফে এরকম ছাড় দেবার কোনো প্রয়োজন সপ্তদশ শতকে দকার্তের সময়ে থাকলেও আজ আর নেই। আমাদের পক্ষ থেকে এই সত্যটা স্পষ্ট উচ্চারণে বলতে পারা উচিৎ।

[চ]
পরিশেষে এ-ও দেখা দরকার, মানুষের জ্ঞান কোন রাস্তাতে বাড়ছে। যতদিন মানুষ শুধু ধর্মে গুরুতে মান্যগ্রন্থে বিশ্বাস করেছে ততদিন তার জ্ঞানের বিকাশ কতটা হয়েছে, আর যবে থেকে মানুষ জিজ্ঞাসার পথে, সংশয়ের পথে জানতে শুরু করেছে তখন থেকে তার জ্ঞানের বৃদ্ধি ও বিকাশের হার কী। এই তুলনায় গেলেই বোঝা যাবে কোনটা সত্যিকারের জানার পথ, আর কোন পথে হাঁটলে বিহারের ঘটনায় গিয়ে পৌঁছতে হবে। শুধু পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন গণিত জ্যামিতি জীববিদ্যা ভূতত্ত্ব নৃতত্ত্ব ইত্যাদি নয়, ইতিহাস ভূগোল পুরাতত্ত্ব ভাষাতত্ত্ব অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করে করে উত্তর খুঁজতে খুঁজতে, একের পর এক সন্দেহ নিরসন করতে করতে, মানুষ জানছে। মানুষের জ্ঞান সমৃদ্ধতর হচ্ছে। এই পথ ছেড়ে দেওয়ার মানে হল এযাবত যা জেনেছেন তাকে একটা গুদামঘরে ঢুকিয়ে দরজায় তালা মেরে চলে আসা।

আমাদের দেশের ছাত্রদেরও তাই প্রশ্ন করতে শেখাতে হবে। শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, ইতিহাস ভূগোলও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শেখাতে হবে। সূর্য চন্দ্রকেও চেনাতে হবে। দিক চেনাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই যেন দিকভ্রষ্ট হয়ে না যায়। ইতিহাসের শিক্ষককেও ক্লাশে সংশ্লিষ্ট ভূগোলের মানচিত্র নিয়ে ঢুকতে হবে। শিক্ষার মধ্যে আরও অনেক কিছু করতে হবে, করা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, শিক্ষার সমস্ত প্রকোষ্ঠেই বিজ্ঞানকে নিয়ে যেতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তিকে নিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান-মনস্কতা বৃদ্ধির আর কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই।

পুনশ্চ: এই প্রবন্ধে কোনো ধর্মবিশ্বাসীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত দেবার কোনো অভিপ্রায় ছিল না। তথাপি যদি কেউ আহত বোধ করেন তার জন্য আমি আমার অসহায়তা প্রকাশ করে রাখছি। বিহারের ঘটনাটি জানার পর ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে বিজ্ঞানমনস্কতার পক্ষ থেকে উপরোক্ত কথাগুলি উচ্চারণ না করে আমিও পারছিলাম না।


280 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 61 -- 80
Avatar: Abhyu

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

রামকৃষ্ণ প্রসঙ্গেঃ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের লোকও তো পরীক্ষা করে দেখেছেন - পুরোটাই হ্যালুসিনেশন নাও হতে পারে।
Avatar: avi

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

সে নাই হতে পারে। তবে বিশ শতকের আগে এই হ্যালু ইত্যাদি জিনিসপত্রের স্ট্রাকচারড অ্যাপ্রোচ তৈরিই হয় নি। ফলে ডা. সরকারের এই বাবদ পরীক্ষার সেরকম ভ্যালু নেই, যদি আদৌ করে থাকেন। অবশ্যই, একইভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ কিছুই করা যায় না। :-)
Avatar: Ekak

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

হ্যালু বা হ্যালু নয় মাত্র এইদুটো চয়েস ক্যানো ? ভক্তিবাদ কেমন পয়জনিং দেখুন , বিশ্বাসী হোক বা অবিস্বাসী , প্রমান করার চেষ্টা করেন রামকৃষ্ণ ভগবান কে দেখেছিলেন বা না দেখেননি , হ্যালুতে ভুগেছিলেন ।

নো ওয়ান ডেয়ারথিঙ্ক যে রামকৃষ্ণ ভেবে চিনতে ঠান্ডা মাথায় একটা গপ্পো দিয়েছিলেন । 'দেখেছি " কেও বলেনি অনেকদিন , অথচ ডিভাইন রিভিলেশন না থাকলে ভক্তির মডেল দাঁড়ায়না , তো রামকৃষ্ণ যুগধর্ম বুঝে , ঠান্ডা মাথায় এই মারাত্মক ঢপটি দেন । এটাও তো একটা সম্ভাবনা। কোনো একজন লোক যাঁর উপস্থিত বুধধি বেশ চরুবরু , গ্রহণযোগ্যতা আছে , শুধু ডিরি নেই বলে ভক্তির মডেল টা কেও খাচ্ছেনা , টুক করে ঐখানে "দেখেছি " বলে দিলেই হু হু বাকি স্ট্রাকচার দাঁড়িয়ে যায় । এতো মারাত্মক জিনিস । শুধু রামকৃষ্ণ কেন বহু "অবতার " এটা করেছেন বলেই মনে মনে হয় । এবং বেশ করেছেন । আমি ওনাদের গরু বা অসুস্থ্য ভাবার চে বুধ্ধিমান ভাবতে বেশি পছন্দ করবো । এবং শুধু একটা জায়গায় ঢপ দিয়ে বাকি সমস্তক্ষেত্রে ইন্টিগ্রিটি মেন্টেন করার যে স্যালভেশন সেটাই কিন্তু রামকৃষ্ণ কে রামকৃষ্ণ বা ক্রাইস্ট কে ক্রাইস্ট করেছে । ক্রাইস্ট আদৌ রাতের অন্ধকারে বাগানে কিছু শুনেছিলেন , না মনে হয়েছিল এইভাবে গপ্পো সাজালে পর পর অত্যাচার আস্তে থাকবে এবং তার মধ্যে দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেলে একটা মডেল দাঁড়িয়ে যাবে । এটাই আমার অনেক গ্রহণযোগ্য লাগে ।
Avatar: ধুত্তোর

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আপনারাও যেমন ! গিরিশ ঘোষ ভাল অভিনয় করতেন, পুরু রাজা তেড়ে যুদ্ধ করতেন, রামক্রিষ্ণ ভগবান দেখতেন - এ সবের সঙ্গে বিজ্ঞানের কি ?
গুরু দেখি রামক্রিষ্ণের নামে পাগল ! অশোকবাবু একটি ঢিল ছুঁড়ে দিলেন, ব্যস লাও জলঘোলা । ভ্যাজর ভ্যাজর ভ্যাজর ।
Avatar: Abhyu

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আরেকটা ডিরোজিও টই?
Avatar: Atoz

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

বুদ্ধের গল্পই বা কী এমন আলাদা? ঐ যে বোধিলাভের রাত্রে মার মার করে "মার" তেড়ে এলো, তিনি তাদের পরাজিত করে বোধি পেলেন, এসব চমৎকার চমৎকার জিনিস না থাকলে তেমন কিছু হত?
ঃ-)
Avatar: Abhyu

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

হ্যাঁ এ নিয়ে তো দাড়িদাদু গানও লিখে গেছেন - আমি মারের সাগর পাড়ি দেব। যদিও কেউ কেউ বলে এটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষণপদ্ধতি নিয়ে লেখা।
Avatar: পুরোটা

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

দেখেছি, তোকেও দেখাতে পারি ।
Avatar: ranjan roy

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

অভ্যু,
ঃ)))।
পুরোটা,
দেখাও।
Avatar: একক

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

ওটা তো নাক কাটা সাধুর গপ্প । বুদ্ধিমান লোক নিজেই হিন্ট দিয়ে গেছেন । আপনাকেও "দেখালে" কাল থেকে রেপ্লিকেট করবেন :)
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

অশোক বাবু বলছেন " ফেয়েরাব্যান্ড যা বলেছেন তা তাঁর মত। বক্তব্য। যুক্তি নয়। বিজ্ঞানকে তিনি একটি মতাদর্শ বলে মনে করেন। “ To defenders of science, like Karl Popper, the claim that science itself might be prey to distortion, prejudice and ideology is anathema. "

" নিউটনীয় বলবিদ্যার সমান্তরাল আর কি বলবিদ্যা হতে পারে না দেখিয়ে নিউটনের তত্ত্বকে তাঁর মতবাদ বলা যায় না। আইনস্টাইনের তত্ত্বের ক্ষেত্রেও তাই। আলোসদৃশ গতিময় বস্তুর জন্য আপেক্ষিকতা-“মতবাদের” একটা বিকল্প মতবাদ প্রতিষ্ঠা না করে কী করে একে একটা মতবাদ বলা যায় আমার কাছে পরিষ্কার নয়। " এ বিষয়ে “ that all forms of knowledge, including scientific knowledge, are ‘ideological’ in the sense that there is no neutral, objective body of knowledge that is not infected by the purpose-relative concepts of a group of inquirers.” ঠিক এই কারনেই একে মানে বিজ্ঞান , গীতা , কুরান এবং মার্ক্সবাদ কে একটা মতবাদ বলা যায়

আর যাদের বিজ্ঞান আলোচনায় রামকৃষ্ণ মহা হ্যাজ বা ভুল ভাল কমপ্যারিসন বলে মনে হচ্ছে তাদের কে ফেয়ারবেন্ড মূলত অশিক্ষিত বলেছেন ।

“Our well-conditioned materialistic contemporaries are liable to burst with excitement over events such as the moonshots, the double helix, nonequilibrium thermodynamics. But let us look at the matter from a different point of view, and it becomes a ridiculous exercise in futility. It needed millions of dollars, thousands of well-trained assistants, years of hard work to enable some inarticulate and rather limited contemporaries to perform a few graceless hops in a place nobody in his right mind would think of visiting – a dried out, airless, hot stone. But mystics, using only their minds, travelled across the celestial spheres to God himself whom they viewed in his splendour receiving strength for continuing their lives and enlightenment for themselves and their fellow men. It is only the illiteracy of the general public and of their stern trainers that makes them reject such comparisons without further ado. A free society does not object to such an attitude but it will not permit it to become a basic ideology either.” (P. Feyerabend, Science In A Free Society, Verso/NLB 1982, p.31). পুনরায় " All ideologies must be seen in perspective. One must not take them too seriously." বিজ্ঞান কে অত সিরিয়াসলি নিয়ে জীবনের একমাত্র এবং বেসিক মতাদর্শ হিসাবে ধরে নেওয়ার মত যুক্তি সঙ্গত কোন কারন নেই , অন্তত ফ্রি সোসাইটিতে তো নেইই - তবে কুসংস্কার দূর করতে থাকলে আপত্তিরও কিছু নেই ।
Avatar: Atoz

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আরে!!!! স্থবির এর সত্যদা!!!! তিনি তো সূর্যে যেতেন! যোগ এর দ্বারা!
ঃ-)

Avatar: Atoz

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

স্থবির জিগ্গেস করেছিল, "সূর্যটা কীরকম, সত্যদা?"
সত্যদা বললেন, "ওহ্হ্হ, সে একেবারে জবাকুসুমসঙ্কাশং। " ঃ-)
আরো বল্লেন পুরাকালে সূর্যে যাবার খুব চল ছিল। এই যে সূর্যসিদ্ধান্তের মতন বই যে লেখা হয়েছে, সে কি এমনি এমনি? সূর্যে গিয়ে গিয়েই তো!
ঃ-)
Avatar: ঈশান

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

এত রামকেষ্ট টেষ্ট দরকার কেন বুঝছিনা।

ধরুন, আমার বয়স দশ। ইশকুলে গিয়ে বললাম, 'এই সূর্য জিনিসটা রোজ ওঠে আর নামে কিকরে? চাকা লাগানো আছে নাকি?' শুনে মাস্টার বললেন, 'ধুর বোকা সূর্য ওঠে আর নামেনা। পৃথিবী নিজের চারদিকে বাঁই বাঁই করে ঘোরে। তাই ওরকম লাগে'। আমি জিগালাম 'কিকরে জানা গেল?' মাস্টার বললেন, 'বিজ্ঞান বলেছে।' বলে চাট্টি যুক্তি দিয়ে সৌরকেন্দ্রিক মডেলটা আমাকে বুঝিয়ে দিলেন। আমি সেটা 'বুঝে' নিলাম, এবং 'বিজ্ঞান বলেছে' বলে সারাজীবন ধ্রুবসত্য হিসেবে বিশ্বাস করলাম। এবং কেসি পালকে প্যাঁক দিলাম।

এবার ফ্ল্যাশ ব্যাক। সন ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ। ধরুন আমার বয়স তখনও দশ। ইশকুলে গিয়ে বললাম, 'এই সূর্য জিনিসটা রোজ ওঠে আর নামে কিকরে? চাকা লাগানো আছে নাকি?' শুনে মাস্টার বললেন,'ধুর বোকা চাকা লাগানো থাকবে কেন, পৃথিবীর চারদিকে নানারকম গোলক আছে, তাতে গ্রহ নক্ষত্রগুলো ফিট করা আছে। গোলকগুলো বোঁবোঁ করে ঘোরে'। আমি জিগালাম 'কিকরে জানা গেল?' মাস্টার বললেন, 'পবিত্র গ্রন্থে ওরকম লেখা আছে'। বলে টলেমির মডেলটা চাট্টি যুক্তি দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন। আমি সেটা 'বুঝে' নিলাম। এবং 'পবিত্র গ্রন্থে আছে' বলে পরবর্তী ছশো বছর ধ্রুবসত্য বলে বিশ্বাস করলাম। এবং এ নিয়ে কেউ ট্যাঁফোঁ করলে তাকে ধরে জ্বালিয়ে দিলাম (যদিও সর্বক্ষেত্রেই জ্বালানো হত এমন না)।

এই দুটো অ্যাপ্রোচে বিশেষ তফাত নেই। ওই ফিজিকালি জ্বালিয়ে দেওয়াটা বাদ দিলে। অসহিষ্ণুতার অভিযোগ উঠতেই পারে, সেটা আলাদা প্রসঙ্গ। কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে খুব আলাদা কিছু না। চিরকালই 'পর্যবেক্ষণ -- হাইপোথিসিস -- থিয়োরি' মডেলে জ্ঞান চর্চা চলেছে। থিয়োরিকে প্রাণপনে রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে। একেবারেই না করা গেলে জ্ঞানচর্চায় প্যারাডাইম শিফট এসেছে। এইভাবেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে ফসল ফলানো হয়েছে। ব্রিড করার টেকনিক আবিষ্কার হয়েছে। সৌরকেন্দ্রিক/পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেল বেরিয়েছে। এমনকি ঈশ্বরের উদ্ভবও, আন্দাজ করা যায়, এইভাবেই। ওরকম পরেও হয়েছে, যেমন ধরুন ইথার, বা এখনকার চতুর্থ মাত্রা, বা কোয়ান্টাম আনসার্টেন্টি।

তফাত একেবারে নেই তা নয়। একটা আগেই বললাম। তবু আরেক্বারও লিখি। ১। চিন্তা বদলে শারীরিক হিংস্রতা এখন অনেক কম। ২। এখন পরিবর্তন অনেক দ্রুত। ৩। এখন 'পবিত্র গ্রন্থ' এবং যাজকদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যাদেরকে আমরা যথাক্রমে 'বিজ্ঞান' ও 'এক্সপার্ট' বলি। আগে 'জ্ঞানচর্চা' ব্যাপারটা এক জীবনে একটা লোকের পক্ষে সমস্ত শাখাতেই করা সম্ভব ছিল। এখন আর সেটা সম্ভব না। ফলে 'এক্সপার্ট'রা অপরিহার্য। এবং সার্মনের গুরুত্ব বেড়েছে।

এর মধ্যে, ১ এবং ২, এটা ব্যক্তিগতভাবে আমি পজিটিভ মনে করি। এর উপরেই ব্যক্তি, বাকস্বাধীনতা এই স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে, বা উল্টো করে বললে এই স্তম্ভগুলো তৈরি হয়েছে বলেই ১,২ আছে। ৩ টা আবার আমার বেশ অ্যালার্মিং লাগে। ব্যক্তিগতভাবে। ধরুন, দুশো বছর আগে একটা ফাঁকা জায়গায় আমার কোনো পূর্বপুরুষকে ছেড়ে দিলে তিনি খেয়ে পরে বাঁচতে পারতেন (বহু জায়গার মানুষ এখনও পারে)। বেঁচে থাকার সাধারণ জ্ঞান তাঁদের আয়ত্ত্ব ছিল। কিন্তু আমাকে একটা দ্বীপে ছেড়ে দিলে আমি বোধহয় মরেই যাব। কারণ, জীবনযাপনের সমস্ত 'জ্ঞান'এর জন্যই আমি এক্সপার্ট মুখাপেক্ষী। কোনটা কিভাবে হয় খতিয়ে দেখিনা, দেখার সময়ও নেই, এক্সপার্টের কথাই ধ্রুবসত্য বলে মেনে নিই। আমিও একটা খুব ছোটো ক্ষেত্রে এক্সপার্ট। কিন্তু বাকি এক্সপার্টরা না থাকলে সেটার আলাদা কোনো মূল্য নেই। যাজক এবং পবিত্র গ্রন্থের এই সংখ্যাবৃদ্ধি, এ খুবই অস্বস্তিকর লাগে।

এই তিনটে পরিবর্তন আমি দেখতে পাই (অবশ্যই মৌলিক দাবী না)। কিন্তু জ্ঞানচর্চার 'পর্যবেক্ষণ -- হাইপোথিসিস -- থিয়োরি' মডেলে গত দুহাজার বছরে সংস্কার, ধর্ম বা বিজ্ঞানের জমানায় অ্যাপ্রোচে আর কোনো বদল হয়েছে বলে তো মনে হয়না।
Avatar: cm

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

অল্পকথায় বৈজ্ঞানিক মতবাদ গতিশীল (ডাইনামিক) ধর্মীয় মতবাদ স্থির।
Avatar: ঈশান

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

নাঃ ওটা মিথ। স্থিতিজাড্য বেশি, এইটা হয়তো বলা গেলেও যেতে পারে। আর অসহিষ্ঞুতা। সেটাও সার্বজনীন কিনা সন্দেহ।
Avatar: cm

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

ধর্মের দিকে ঝোঁক লক্ষ্য করছি, ভাল।
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

না দুটো মডেলের তফাত আছে। সেটাই পপারের দাবী। প্রথম মডেল তার বেসিক অ্যাসাম্পশন সমেত বিবিধ ভৌত ব্যাপারগুলোর কনসিস্টেন্ট ব্যাখ্যা দেয়।

দ্বিতীয় মডেলটি ভৌত ব্যাপারগুলোর যে ব্যাখ্যাগুলো দেয় সেটা একে অপরের সাথে কনসিস্টেন্ট নয়।
Avatar: PT

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

"প্রমাণ" বলে একটা শব্দ ও তার প্রয়োগ আছে। ধর্ম বলে বিশ্বাস দিয়ে শুরু করতে আর বিজ্ঞান শেখায় প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে। তাই গ্যালিলীও প্রশ্ন করেন।
তাই কেসিপালও ফিরে আসতে পারেন বৈকি!! কিন্তু "প্রমাণ" দেখাতে হবে তো।
Avatar: ঈশান

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

পপারের দাবীতে সমস্যা একটাই। "বিবিধ ভৌত ব্যাপারগুলোর কনসিস্টেন্ট ব্যাখ্যা" -- এই "বিবিধ" ব্যাপারটার সীমারেখাটা অস্পষ্ট। মানে তিনটে ব্যাপার হলে বিবিধ এবং কনসিস্টেন্ট হবে, না নটা হলে, এর কোনো মাপকাঠি নেই। যেকোনো মডেলেই সাধারণভাবে কিছু ইনকসিস্টেন্সি দেখা যায়। বিগ ব্যাং থেকে ডারউইন সবেতেই আছে। আজকে দেখতে না পেলেও কাল দেখা যাবে, এরকম। সেইজন্যই কাজকম্মো চলতেই থাকে।

এর অ্যাকচুয়ালি খুব ইন্টারেস্টিং উদাহরণ আছে লিবনিৎস বনাম নিউটন বিতর্কে। মহাকর্ষ তত্ত্বে স্লাইট ইনকনিস্টেন্সি ছিল, উভয়েই সেটাকে নিয়ে গুচ্ছের বক্তব্য পেশ করেছিলেন। নিউটন বলেছিলেন, ওটাই অর্থাৎ ইনকনসিস্টেন্সিটাই ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের প্রমাণ, ঈশ্বর হাত দেন বলেই ওটা মিটে যায়। আর লিবনিৎস বলেছিলেন, ঈশ্বর এমন সৃষ্টি করতেই পারেননা, যা নিখুঁত না। :-)

এর মানে এই না, যে, বিজ্ঞানমনস্কতা বস্তুটাকেই আমি উড়িয়ে দিচ্ছি। আমার কাছে ওটার মানে হল সমানে প্রশ্ন করে যাওয়া। অন্য নামে ডাকলেও কিছু যায় আসেনা, যেমন নেতি-নেতি পদ্ধতিও বলতে পারেন। আমার বক্তব্য হল বস্তুটা বিংশ শতাব্দীর সম্পত্তি না। আর বিংশ শতকেও ওটার খুব যথাযথ ব্যবহার হয়েছে এমন না।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 61 -- 80


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন