Ashoke Mukhopadhyay RSS feed

Ashoke Mukhopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

[গ] বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে কী বোঝায়

এপর্যন্ত পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বলতে বসে আমি স্রেফ ভূগোল আর ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কেন? বিজ্ঞান নিয়ে এখন অবধি একটাও কথা তো পাড়িনি। বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বিজ্ঞান-বোধ হয় নাকি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান যা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত—এই সব কথা তো বলছি না। বিজ্ঞান মানে সব কিছুকে যুক্তি তর্ক করে বিচার বিশ্লেষণ করে তবে গ্রহণ করতে হবে—সেই সব পুরনো কাসুন্দির কথা তুলছি না তো? ধান ভানতে বসে শিবের গীত গাইছি কেন?

সেই কথাই এবার বলব। তারও কারণ আছে।

বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে নিছক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষতা বা সপ্রতিভতা নয়। বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে হল বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তি, যুক্তিশীল মননচর্চা, বৈচারিক চিন্তাকৌশল। ব্যাপারটা এমন নয় যে শুধু বিজ্ঞানের ছাত্রদেরই বিজ্ঞান-মনস্ক হওয়া প্রয়োজন, অন্য বিষয়ের ছাত্রদের বিজ্ঞান-বোধ না থাকলেও চলবে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে পড়ি বা না পড়ি, শিক্ষকতা গবেষণা করি বা না করি, সবাইকেই সব কিছু বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তির আধারে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞান আর বৈজ্ঞানিক মানসিকতা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও দুটো ঠিক এক জিনিস নয়। একটা হলেই আর একটা হয় না। আপনা আপনি হয় না। একজন বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে, গবেষণা করে, চর্চা করে, ছাত্র পড়ায়—কিন্তু হাতের আঙুল ভর্তি আংটি; একটা হয়ত মঙ্গলকে ভয় দেখাচ্ছে, আর একটা হয়ত আবার ভাইরাস ব্যাকটিরিয়াদের শাসন করার কাজে ব্যস্ত, তৃতীয়টার উদ্দেশ্য কোনো জটিল মামলা জেতা, ইত্যাদি—এমন তো আকছারই দেখা যায়। যারা এইরকম আংটি পরে, ধাতুরত্ন ধারণ করে, তার পক্ষে তারা আবার কত বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেয়! বস্তুর উপর বস্তুর কি ক্রিয়া নেই? জীবাণুদের সম্পর্কে রসায়ন-শাস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র ধারণ করতে বলছে না? কিংবা, সব শেষে একখানা মোক্ষম প্রশ্ন, “বিজ্ঞান কি সব জানে?” আর অন্যরা জানুন বা না জানুন, বিজ্ঞানের লোকেরা তো জানেই—যে বিজ্ঞান এখনও সব জানে না, আর কখনও সব জানবে বলে মনে করে না। সুতরাং . . .

এমন অনেককেই দেখা যায়, যারা ভগবান মানে না কিন্তু যাদের ভূতের ভয় আছে। কিংবা তাদের হয়ত ভূত-প্রেতে ঘোর অবিশ্বাস, অথচ ছেলেমেয়ের কোনো সময় কঠিন অসুখ-বিসুখ হলে মা কালীর থানে বা রাস্তার মোড়ের শনিঠাকুরের বেদীতে দু টাকার বাতাসা মানত করে রাখে। আবার এমনও বহু লোক আছে, যাদের পড়াশুনো কলা বিভাগে, কিন্তু খাদ্যাখাদ্য বিচারে রান্নার উপকরণে ছেলেমেয়ের পোশাক বা স্বাস্থ্যের প্রশ্নে তারা অত্যন্ত যুক্তিশীল এবং বিজ্ঞান-মনস্ক।

ধরুন, বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে, কমপ্ল্যান খেলে একটি ছেলে বা মেয়ে দ্বিগুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে, লম্বা হবে। বহু লোক বিশ্বাস করছে। তারা বেশিরভাগ লক্ষই করছে না, যে স্কেল দিয়ে বৃদ্ধিটা দেখানো হচ্ছে, তাতে চার ফুট পর্যন্ত উচ্চতার মাপটা ফুটে দেখিয়ে বৃদ্ধির পরিমাপ দেখানো হচ্ছে সেন্টিমিটারে। কেন? এরকম স্কেল বাজারে হয় নাকি? কারোর উচ্চতা আপনি কি বলবেন চার ফুট পাঁচ সেন্টিমিটার? তার মানে বিজ্ঞাপনটায় গোলমাল আছে। বা কোনো গূঢ় মতলব আছে। কজন সাধারণ মানুষ এটা খেয়াল করেছে? এই ধরনের একটা সাধারণ চালাকি বোঝার জন্য কি বিজ্ঞান পড়ার বিশেষ দরকার আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অ্যাকাউন্টেন্সিতে অনার্স নিয়ে পড়লে এটা বোঝা যাবে না? বরং বাস্তবে আমরা দেখছি, বিজ্ঞানের ছাত্ররাও এটা ধরতে পারছে না। তাদেরও একটা বিরাট অংশ এই সব বিজ্ঞাপনী চালাকিতে ভিরমি খেয়ে যাচ্ছে। এবং লম্বা হওয়ার জন্য রোজ রোজ কমপ্ল্যান খাচ্ছে। অথবা তীক্ষ্ণবুদ্ধি পাওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করার জন্য অন্য কিছু খাচ্ছে। এই প্রশ্নটা তারা করছে না, স্বাস্থ্যবান হওয়া বা লম্বা হওয়ার যে জৈবিক প্রক্রিয়া, এই ধরনের কৌটোবন্দি খাদ্য বা পানীয় তার উপরে কীভাবে প্রভাব ফেলে। অথবা আদৌ ফেলতে পারে কিনা।

রাজশেখর বসু তাঁর একটি বৈজ্ঞানিক মনোভাব সংক্রান্ত প্রবন্ধে দেখিয়েছিলেন, বিজ্ঞাপনে কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঠকানো হয়। কোনো একটি মাথার তেলের কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনে লিখেছিল, “ইহাতে পারদ নাই।” যেন, অন্য সব প্রস্তুতকারকের তেলে ভেজাল হিসাবে পারদ থাকার কথা। আজ বেঁচে থাকলে তিনি দেখতে পেতেন, সেই সাবেকি কায়দাটা আজও মরেনি। আজ আবার কোনো এক তেল উৎপাদকের হয়ে একজন বিখ্যাত ফিল্মি নায়ক বলছেন, তাঁদের বিজ্ঞাপিত তেলে নাকি অ্যামোনিয়া নেই। এই রকম অসংখ্য বিজ্ঞাপনী চালাকি ধরতে না পারার পেছনেও আছে বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব।

[ঘ]
এবার কয়েকটা কাজের কথা পাড়া যাক।

বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

অবিশ্বাস, ভয়, কৌতূহল, সংশয়, প্রশ্ন, . . . ।

সে কি? কী বলছেন মশাই? এসব তো নেতিবাচক লক্ষণ।

ঠিক তাই। বিজ্ঞান-মনস্কদের যে লোকে নাস্তিক বলে জানেন নিশ্চয়ই। সেটা এই কারণেই বলে। সব ব্যাপারেই শুরুতে তারা খালি বলে—না, না, না, নাস্তি, নাস্তি, নাস্তি, . . .। এতে বিশ্বাস করতে পারছি না, ওটা বলতে ভয় পাচ্ছি পাছে ভুল প্রমাণ হয়ে যায়, অমুক তত্ত্বটায় ঘোরতর সন্দেহ আছে ঠিক হবে কিনা, . . ., ইত্যাদি। আর কেবলই বলেন, জানি না, খানিকটা জানা গেছে, অনেক কিছু এখনও জানায় বাকি আছে, অল্প অল্প করে জানা যাচ্ছে, এই রকম আর কি। সহজে কোনো প্রস্তাবে কিছুতেই হ্যাঁ বলতে পারেন না বিজ্ঞান জগতের লোকেরা। একেবারে বলেন না তা নয়, তবে না-এর তুলনায় হ্যাঁ-এর সংখ্যা খুব কম। মাইকেল ফ্যারাডে এক সময় একটা গড় হিসাবে বলেছিলেন, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দশটা প্রস্তাবের নটাতেই নাকি ওনারা না বলে দেন। একটাতে অতি কষ্টে হ্যাঁ বলেন। সায় দেবার ব্যাপারে বড্ড কিপটে। বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যান। দেখবেন, প্রতিটি ব্যাপারে খালি প্রশ্ন, প্রশ্নের পর প্রশ্ন। কী ভয়ানক সন্দেহবাতিক ভাবা যায় না। কারোর সঙ্গে কারোর ঝগড়াঝাঁটি আছে, ব্যাপারটা এমন নয় কিন্তু। হয়ত বাইরে গলায় গলায় ভাব। কিন্তু বিজ্ঞানের সমস্যা এলে, পরীক্ষার ফলাফলের কথা উঠলে অমনি তক্কাতক্কি শুরু হয়ে যায়। তাঁদের শুধু ভীষণ ভয়, পাছে কিছু একটা ভ্রান্ত তত্ত্ব সম্মেলনে গৃহীত হয়ে যায়।

তুলনায় একটা ধর্মের জলসায় গিয়ে দেখুন। কোনো একজন বড় ধার্মিক সাধুর বচনামৃত পাঠ করুন। বারবার কী দেখতে পাবেন? বিশ্বাস, নির্ভাবনা, নিঃসন্দেহ, নিস্তর্ক, মেনে নেবার আগ্রহ, . . . । যেমন এদেশে তেমনই ওদের দেশে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন বলতেন, “বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর”, লাতিনে ওরা বলত “Credo ut intelligam” (বিশ্বাস করলে তবেই আমি বুঝতে পারব)। এগুলো সবই হচ্ছে ইতিবাচক লক্ষণ। সব কিছুতেই হ্যাঁ বলবার ঝোঁক বা ইচ্ছা। এই জন্যই ধর্মে বিশ্বাসীদের লোকে আস্তিক বলে। তারা সব কিছু সহজে মেনে নেয়, বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ব্যাপারেই খুব একটা সন্দেহ হয় না, প্রশ্নও জাগে না। তাদের মনে কোনো কিছুই গভীরে গিয়ে জানার খুব একটা ইচ্ছা নেই। ধর্মগুরুরা আবার মানা করেও দেন। যেমন, রামকৃষ্ণ রূপক ছলে বলে দিয়েছিলেন, “বাগানে আম খেতে এয়েছ খেয়ে যাও; বাগানে কটা গাছ, গাছে কটা করে আম—এত খোঁজে তোমার দরকার কী?”

শিবদুর্গার তিনটি ছেলে মেয়ে স্বাভাবিক, কিন্তু গণেশের বেলায় হাতির মুন্ডু। তা-ই কোটি কোটি লোক দু তিন হাজার বছর ধরে মেনে এসেছে। সন্দেহ করেনি, প্রশ্নও তোলেনি। গণেশের একটা মাথা থাকা দরকার, আছে। তা হাতির না কিসের, অত খোঁজে দরকার কী বাপু আমাদের?

আচ্ছা, সে না হয় পুরা কালের কথা। কিন্তু এই সেদিন যে পাথরমূর্তি গণেশের শুঁড় দিয়ে দুধ পানের গল্প দেশময় ছড়িয়ে গেল, শুধু সাধারণ পিকলু-ন্যাবলা-পাচি নয়, বহু ডক্টরেট, অফিসার, ম্যানেজার, আইনজ্ঞ তথা ভিআইপি যে গ্লাশে দুধ আর হাতে চামচ নিয়ে রাস্তায় লম্বা লাইনে আম আদমিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়লেন, সারা দেশে কম বেশি বাহাত্তর লক্ষ লিটার দুধ মাটিতে খেল, তার পেছনেও তো সেই আদি অকৃত্রিম বিশ্বাস। প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই। মেনে নেবার কী অসীম আগ্রহ। প্রত্যকেরই বক্তব্য, গনেশের ধাতব বা পাথরের মূর্তি দুধ যদি না-ই খাবে, এত এত লোকে তাহলে ছুটে এল কেন? সকলেই কি বোকা?

বিজ্ঞান-মনস্কতা এই অন্ধ বিশ্বাসকেই বদলাতে চায়। আগেভাগেই বিশ্বাস না করে, প্রথমে প্রশ্ন কর, নানা দিক থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝবার চেষ্টা কর, সমস্ত সন্দেহ মোচন হলে তবে মানবে। তথ্য যুক্তি প্রমাণ ও প্রয়োগ—এই হল বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান চারটে স্তম্ভ। নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তব তথ্য যোগাড় কর, তার মধ্যে তুলনা করে হিসাবনিকাশ করে মাপজোক করে যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে মূল পরিঘটনাটিকে দেখার চেষ্টা কর। হাতে কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করা যায় কিনা দেখ। যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসছে তাকে কোন জায়গায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায় দেখ, অর্থাৎ, তাকে কাজে লাগানো যায় কিনা দেখ। তারপর সেই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ কর।

আমার অবশ্য মাঝে মাঝে মনে হয়, আস্তিক নাস্তিক শব্দ-জোড়ার অন্য রকম অর্থও থাকা সম্ভব। যে বিচারের ধারায় যুক্তিবুদ্ধি স্বভাবগতভাবে অস্তমিত হয়ে যায় তাই হল আস্তিক দর্শন। পক্ষান্তরে, যে ধরনের চিন্তাধারার মধ্যে যুক্তিতর্ক প্রমাণ ও প্রয়োগের বুদ্ধি আবশ্যিকভাবে ন্যস্ত রয়েছে, তাকে বলা হয় নাস্তিক দর্শন। এইভাবে ভাবলেই বা ক্ষতি কী?

[ঙ]
এই পার্থক্যটা ঠিকমতো বোঝার দরকার আছে। কেন না, অনেক সময়ই কিছু লোককে বলতে শুনি, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের নাকি কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ নাকি দুই তরফেরই কট্টরপন্থীদের মধ্যে। সত্যিকারের ধর্মের সারকথা যে মেনে চলে সে নাকি সত্য জানতে কখনও আপত্তি করে না, বরং জানতেই চায়। সত্যিকারের বড় বিজ্ঞানীদেরও নাকি ধর্মের প্রতি কোনো অসহিষ্ণুতা নেই, তাঁরা নাকি ধর্মকে বুঝতে চান, অনেকে নিজেরাই ধর্মপ্রাণ হয়ে থাকেন। ইত্যাদি।

এই বক্তব্যে আমার দ্বিবিধ আপত্তি আছে। আপত্তিটা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় গিয়ে নয়। যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ধর্মে বিশ্বাস করেন কিন্তু বিজ্ঞানের কাজটা বিজ্ঞানের নিয়মেই করেন, তাঁদের এই বিশ্বাস-আচরণের দ্বিভাজন (dichotomy) নিয়েই আমার আপত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিজ্ঞান চর্চা করা যায় না বলেই তাঁদের জোড়াতালি দিতে হয়। অক্ষয় কুমার দত্তের ফরমুলা অনুযায়ী বলতে পারি, জ্বর হলে আপনি মা কালীর নাম করতে পারেন, প্যারাসিটামল খেতে পারেন, আবার মা কালীর নাম নিতে নিতে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। জ্বর কমার হলে ওই ওষুধেই কমবে। মা কালীর নামের মাহাত্ম্যে নয়। বীজগণিতের সমীকরণের আকারে লিখলে কালীনামের ফলাফল শেষ অবধি শূন্যই হবে।

হ্যাঁ, এর মধ্যে ফরাসি যুক্তিবাদী দার্শনিক ভোলতেয়ারের সেই বিখ্যাত রসিকতারও ছাপ আছে। কে একজন তাঁকে বলেছিল, “আচ্ছা মশাই, মন্ত্র দিয়ে কি কাউকে মেরে ফেলা যায়?”

“যায়, অবশ্যই যায়। তবে সঙ্গে আর একটা জিনিসও লাগবে।”

“আর কী লাগবে?”

“তেমন কিছু নয়, উপযুক্ত পরিমাণে কিছুটা সেঁকো বিষ। তাহলে মন্ত্রের কাজ ভালো হবে।”

বিজ্ঞানের সাথে যে কোনো প্রকারের অন্ধ বিশ্বাসের একমাত্র এরকম “সেঁকো বিষ যুক্ত” সমন্বয়ই করা যায়। ধর্মের ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

সুতরাং, কোনো বড় বিজ্ঞানী হয়ত বলতে পারেন, অনেক কিছু জানার পরেও আমাদের এত জানতে বাকি যে জগতের রহস্য যেন আরও নিগূঢ় হয়ে উঠছে। জগতের এই শৃঙ্খলা, এত জটিলতা—এসবের ব্যাখ্যা হয় না একজন সুপারপাওয়ারের কথা ধরে না নিলে। তখনও আমাদের প্রশ্ন থেকেই যাবে, ধরে নিলেই কি সমস্ত রহস্যের ব্যাখ্যা হয়? সকলেই জানেন, হয় না। একটি বাস্তব পরিঘটনার পেছনে আর একটি কোনো আরও মৌলিক ও বাস্তব পরিঘটনাকে খুঁজে পেলে দ্বিতীয়টার সাহায্যে প্রথমটার ব্যাখ্যা হয়। মেঘ কীভাবে উৎপন্ন হয় জানলে বৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অন্যত্র সেই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হয়। কিন্তু ভগবান আমাদের বৃষ্টি দেন বললে নতুন কী জানা যায়? বৃষ্টি সম্পর্কে আমাদের এক দানাও জ্ঞান বাড়ে না। সেই জানা কাজেও লাগে না। যা জানি না, ঐশী শক্তি ঘটাচ্ছেন ধরে নিলেও তা অজানা এবং অধরাই থাকে। আবার অক্ষয় কুমারের ফরমুলায় বলতে হবে, জ্ঞানের জগতে একজন সুপারপাওয়ার আছে ধরে নেবার ফলও সেই শূন্যই। তবে আর তা ধরে নিয়ে কাম কী? অর্থাৎ, প্রশ্নটা ঝগড়ার নয়, ফলাফলের।

জ্ঞানের সাথে জ্ঞানের সমন্বয় হয়। জ্ঞানের সাথে অজ্ঞতার কোনো সমন্বয় হয় কি? হয় না বলেই বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় সম্ভব নয়। যুক্তিবাদের সাথে কুসংস্কারের সমন্বয় সম্ভব হয় না। একটা চাইলে আর একটাকে ছাড়তে হবেই। ধর্ম হিন্দুকে বলে, গোমাংস ভক্ষণ করিও না, উহাতে মহাপাপ; ধর্ম মুসলমানকে বলে, কদাচ ভুলিও না, শুয়রের মাংস ভয়ানক হারাম। আর খাদ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞান থেকে জানা যায়, রক্তচাপ হৃদরোগ ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদির সমস্যা না থাকলে বাল্য কৈশোর যৌবনে এই দুই (এবং আরও নানা) প্রকারের মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে শুধু ভালো নয়, অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অশিক্ষিত ধর্মান্ধ গোঁড়া হিন্দু-মুসলমানের কথা ছেড়ে দিন, শিক্ষিত উদার মনস্ক কতজন এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে আগ্রহী হবেন? বা আদৌ হয়ে থাকেন? এইভাবে দেখলে বোঝা যাবে, জীবনের সর্বক্ষেত্রেই বিজ্ঞান মনস্ক হতে চাইলে ধর্মমনস্কতাকে ছাড়িয়ে আসতে হবে। তা না হলে যেটা হবে সেটা আরও হাস্যকর। ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তাঁদের শিক্ষার মালমশলা কাজে লাগিয়ে সেই ধর্মান্ধতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করবেন। অশৌচ পালনের সাথে ব্যাক্টিরিয়া নিধন, দাড়ি রাখলে গালে মশার কামড়ের হাত থেকে অব্যাহতি, ইত্যাদি . . . ।

উল্টোটা তাঁরা কেউ করবেন না। কোনো বিজ্ঞানশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিই কখনও বলবেন না, অন্তত এযাবত আমি কাউকে বলতে শুনিনি, “আমাদের ঈশ্বর ভক্তির সঙ্গে আমরা কে কী খাই তার কোনোই সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর মুরগিও দিয়েছেন, কলাও দিয়েছেন; গরুও দিয়েছেন, লেটুস পাতাও তৈরি করেছেন; ফুলকপিও বানিয়েছেন, শুয়রও পয়দা করেছেন। যিনি আল্লাহ তিনিই ভগবান তিনিই তো গড। নামে ভিন্ন হলেও আসলে তো এক। তা না হলে দুনিয়ায় অনেক ভগবানের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত; সেটা সমস্ত ধর্মের পক্ষেই অস্বস্তিকর হয়ে যেত। সবই যখন সেই তাঁরই সৃষ্টি, তাঁর একটা জিনিস খেলে ভালো আর অন্য একটা খেলে দোষ হবে কেন? বিশেষ করে যখন এক ধর্মের নিষিদ্ধ খাদ্যগুলো অন্য ধর্মের ঈশ্বর বিশ্বাসীরা খেয়েদেয়ে দিব্যি হাজার হাজার বছর ধরে হজমও করেছে, টিকেও রয়েছে?” এইভাবে তাঁদের কেউ বলতে পারলে, ঈশ্বরব্যঞ্জনার কথাটা সত্য না হলেও একটা সমন্বয়ের আভাস অন্তত পাওয়া যেত। সেটুকুও আজ অবধি পাইনি।

আরও একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ দিই। ভারতে প্রতিবছর সাগরমেলায় বা প্রতি চার বছর অন্তর কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে যে পবিত্র গঙ্গাস্নান করে তাতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ব্যাপক পরিবেশ দুষণ হয়। এই অসংখ্য মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্য থেকে নদী সমুদ্র ও মেলার চারপাশের জল মাটি বায়ুর দীর্ঘমেয়াদি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যাপক দুর্ঘটনাটা ঘটে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়। আরবে যারা হজ করতে যায় তাদের ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। আজ পর্যন্ত কোনো একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষিত চিন্তাশীল মানুষকে বলতে শুনেছেন কি কেউ, “না, এরকম জমায়েত ভালো নয়। ব্যক্তি স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য—কোনোটার পক্ষেই ভালো নয়”? কেউ কি বলেছেন, “ভগবান বল, আল্লাহ বল তিনি সর্বত্র বিরাজমান; তাঁকে খুঁজতে বা পেতে এত ক্লেশ স্বীকার করে কোনো একটা বিশেষ জায়গাতেই বা যেতে হবে কেন? তুমি যেখানে আছ, সেখানেও তিনি আছেন। সেখানেই তাঁর পূজাপাঠ আরাধনা সেজদা কর”? আমার জানা নেই।

যদি ধর্মে বিশ্বাসী একজনও কেউ সাহস করে এসব কথা বলতে পারতেন, তাহলে বুঝতাম, সমন্বয়ের সামান্য হলেও সম্ভাবনা আছে। কিন্তু না। ধর্মে বিশ্বাসী কেউই তা বলতে পারেন না। পারেন না কেন না, তাঁরাও জানেন, শুধু একজন আপনভোলা ঈশ্বর নিয়ে ধর্ম হয় না। বাকি সমস্ত আচার বিচার প্রথা প্রকরণ গরু শুয়র টিকি দাড়ি আলতা সিঁদুর বোরখা মিলিয়েই ধর্ম। হিন্দুদের ক্ষেত্রে জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ি বজায় রেখেই ধর্ম। অন্তত বৃহত্তর জনসমষ্টির জন্য ধর্ম মানে তাই।

এই অবস্থায় বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করার একটাই মানে। তা হল, ধর্মবিশ্বাসীরা তাঁদের বিশ্বাস ও আচরণ থেকে এক চুলও নড়বেন না; বিজ্ঞান অনুরাগী যুক্তিবাদীদেরই তাঁদের জায়গা থেকে সরে আসতে হবে। মেনে নিতে হবে, হ্যাঁ, ধর্মে কিছু কিছু সত্য থাকলে থাকতেও পারে। ঈশ্বর বিশ্বাস থাকলে বিজ্ঞানের তো আর তেমন কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব আপাতত না হয় এরকম একটি প্রতিপাদ্যকে মেনে নেওয়াই যাক। আমার মনে হয়, বিজ্ঞানমনস্কতার তরফে এরকম ছাড় দেবার কোনো প্রয়োজন সপ্তদশ শতকে দকার্তের সময়ে থাকলেও আজ আর নেই। আমাদের পক্ষ থেকে এই সত্যটা স্পষ্ট উচ্চারণে বলতে পারা উচিৎ।

[চ]
পরিশেষে এ-ও দেখা দরকার, মানুষের জ্ঞান কোন রাস্তাতে বাড়ছে। যতদিন মানুষ শুধু ধর্মে গুরুতে মান্যগ্রন্থে বিশ্বাস করেছে ততদিন তার জ্ঞানের বিকাশ কতটা হয়েছে, আর যবে থেকে মানুষ জিজ্ঞাসার পথে, সংশয়ের পথে জানতে শুরু করেছে তখন থেকে তার জ্ঞানের বৃদ্ধি ও বিকাশের হার কী। এই তুলনায় গেলেই বোঝা যাবে কোনটা সত্যিকারের জানার পথ, আর কোন পথে হাঁটলে বিহারের ঘটনায় গিয়ে পৌঁছতে হবে। শুধু পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন গণিত জ্যামিতি জীববিদ্যা ভূতত্ত্ব নৃতত্ত্ব ইত্যাদি নয়, ইতিহাস ভূগোল পুরাতত্ত্ব ভাষাতত্ত্ব অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করে করে উত্তর খুঁজতে খুঁজতে, একের পর এক সন্দেহ নিরসন করতে করতে, মানুষ জানছে। মানুষের জ্ঞান সমৃদ্ধতর হচ্ছে। এই পথ ছেড়ে দেওয়ার মানে হল এযাবত যা জেনেছেন তাকে একটা গুদামঘরে ঢুকিয়ে দরজায় তালা মেরে চলে আসা।

আমাদের দেশের ছাত্রদেরও তাই প্রশ্ন করতে শেখাতে হবে। শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, ইতিহাস ভূগোলও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শেখাতে হবে। সূর্য চন্দ্রকেও চেনাতে হবে। দিক চেনাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই যেন দিকভ্রষ্ট হয়ে না যায়। ইতিহাসের শিক্ষককেও ক্লাশে সংশ্লিষ্ট ভূগোলের মানচিত্র নিয়ে ঢুকতে হবে। শিক্ষার মধ্যে আরও অনেক কিছু করতে হবে, করা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, শিক্ষার সমস্ত প্রকোষ্ঠেই বিজ্ঞানকে নিয়ে যেতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তিকে নিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান-মনস্কতা বৃদ্ধির আর কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই।

পুনশ্চ: এই প্রবন্ধে কোনো ধর্মবিশ্বাসীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত দেবার কোনো অভিপ্রায় ছিল না। তথাপি যদি কেউ আহত বোধ করেন তার জন্য আমি আমার অসহায়তা প্রকাশ করে রাখছি। বিহারের ঘটনাটি জানার পর ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে বিজ্ঞানমনস্কতার পক্ষ থেকে উপরোক্ত কথাগুলি উচ্চারণ না করে আমিও পারছিলাম না।


শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: sm

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

দেবব্রত বাবু অন্যায় তো কিছু লেখেন নি।বিজ্ঞান মনস্ক হওয়া এক জিনিস আর বিজ্ঞানের আধিপত্য নিরঙ্কুশ ভাবে মেনে নেওয়াও এক ধরণের ধর্মান্ধতা। বিজ্ঞানও ধর্মের মতো মানুষের জীবনে বহুবিধ ক্ষতি সাধন করেছে ও করে চলেছে।
এ নিয়ে বিস্তর ডিবেট ও হয়েছে। সারাৎসার একটাই,এটা বিজ্ঞানের দোষে নয়; বিজ্ঞান কে মানুষ কোনো পথে চালনা করবে তার ওপর নির্ভরশীল।
অর্থাৎ সেই এক কাসুন্দি; সমস্ত টাই নির্ভর করছে মানুষের শুভ বুদ্ধির ওপর।
এবার আসল প্রশ্ন; মানুষের শুভ বুদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে কেডা?
Avatar: avi

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

sm, অরবাইটোফ্রন্টাল আর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। :-)))
Avatar: ashoke mukhopadhyay

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

[১] আদিবাসীদের ধর্ম বলে যা বলা হয়, আমার মতে তা আসলে প্রাক্‌ধর্ম ম্যাজিক সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। ফলে পরবর্তীকালের বিকশিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সাথে তার অনেক পার্থক্য আছে। আবার তাদের এই ম্যাজিক সংস্কৃতিও এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই, (আরও অনেক কিছু সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক উপাদান সহ) চার পাশের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রভাব তার উপরও পড়ছে। তারও বিশ্বাস এবং আচারে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে আবার এই ম্যাজিক সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রকরণের যে অবশেষ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ভিত্তিক সমাজে থেকে গেছে, ধর্মের আশ্রয়ে এবং প্রশ্রয়ে সুরক্ষিত থেকেছে, তা থেকেই বেশিরভাগ কুসংস্কারের জন্ম হয়েছে। সুতরাং, আদিবাসীদের মধ্যেও তাদের ম্যাজিক সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত নানা রকম কুসংস্কারের জন্ম দেবে—এ প্রায় অবধারিত।

সামাজিক আন্দোলনে এমনিতেই বিভিন্ন জিনিস মিলে মিশে থাকে। নিয়ামগিরি রক্ষার আন্দোলনে আদিবাসীদের বিশ্বাস হয়ত কাজে লেগেছে। তার জন্য সেটাকে বিজ্ঞানসম্মত দাবি করার মানে নেই। আমার ধারণা, একটা সময় নিশ্চয়ই আসবে, যখন এই বিশ্বাসের ভিত্তিগুলিকেও দূর করতে হবে।

হিন্দু ধর্মের বেশিরভাগ উপকরণই এই প্রাক্‌ধর্মীয় ম্যাজিক সংস্কৃতির সাথে মিলেমিশে আছে। শিবের পূজার আচার প্রথার সাথে নিয়ামগিরি পূজার বিরাট কিছু ফারাক আছে বলে মনে হয় না। ধর্মীয় আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের পরিমাণ এতে খুবই কম। উর্বরতা-ক্রিয়ানুষ্ঠান (fertility cult), কুলকেতুত্ব (totemism), আঞ্চলিকতা (localism), ইত্যাদিই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

[২] বিজ্ঞানের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে আমার কাছে পরিষ্কার নয়। বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তির বিকল্প আর কোনো বিচার পদ্ধতি আছে কিনা—এ ব্যাপারে আমার খুবই (হয়ত অজ্ঞানতা বশত) সন্দেহ আছে। একই ভাবে সত্যের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, সৌজন্যের নির্বিচার দাপট, সততার একপেশে প্রভাব—ইত্যাদির কথাও বলা যেতে পারে। তাতে আমরা কতটা সংকীর্ণতা থেকে বেরতে পারি ভেবে দেখতে হবে। অন্তত, যাঁরা এইভাবে ভাবছেন, তাঁদের একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ পদ্ধতির আধিপত্যের বাইরে বেরিয়ে এসে অন্য কী রাস্তা আছে তা প্রদর্শন করে আলোচনা করলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হত।

Avatar: dc

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

বিজ্ঞানের নিরঙ্কুশ আধিপত্যর থেকে আমাদের বেরোতেই হবে। শুধু যুক্তিবাদী হলে চলবে না, হাফ মতো কুসংস্কারও মিশিয়ে নিতে হবে। আফটার অল বেচারা গণেশ দুধ না খেতে পেলে তো শুকিয়ে যাবে!
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

অশোক বাবু বলছেন “ বিজ্ঞানের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে আমার কাছে পরিষ্কার নয়। বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তির বিকল্প আর কোনো বিচার পদ্ধতি আছে কিনা—এ ব্যাপারে আমার খুবই (হয়ত অজ্ঞানতা বশত) সন্দেহ আছে। একই ভাবে সত্যের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, সৌজন্যের নির্বিচার দাপট, সততার একপেশে প্রভাব—ইত্যাদির কথাও বলা যেতে পারে। তাতে আমরা কতটা সংকীর্ণতা থেকে বেরতে পারি ভেবে দেখতে হবে। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করবার ক্ষমতা আমার কম ( অজ্ঞানতা বশত ) তাই সেই পল ফেয়েরাবেন্ডের “How to Defend Society Against Science” প্রবন্ধের কাউন্টার যুক্তির দিকটা দেখা যাক যাকে Nice শহরের গণ্যমান্য বিশিষ্ট শ্রোতা গন যাদের গড় বয়স 58 1/2. এই প্রবন্ধ টি পড়বার দায়ে প্লেনের টিকিটের পয়সা ফেরত দিতে বলেছিলেন - উদ্ধৃতি টি দীর্ঘ কিন্তু সুখপাঠ্য

“ I want to defend society and its inhabitants from all ideologies, science included. All ideologies must be seen in perspective. One must not take them too seriously. One must read them like fairytales which have lots of interesting things to say but which also contain wicked lies, or like ethical prescriptions which may be useful rules of thumb but which are deadly when followed to the letter.

এই প্রসঙ্গে পল ফেয়েরাবেন্ড একটা জেনারেল এবং একটি স্পেসিফিক যুক্তি সাজাচ্ছেন -থাকলো সেই সাধারণ ব্যখ্যাটি ঃ-
“ The general explanation is simple. Any ideology that breaks the hold a comprehensive system of thought has on the minds of men contributes to the liberation of man. Any ideology that makes man question inherited beliefs is an aid to enlightenment. A truth that reigns without checks and balances is a tyrant who must be overthrown, and any falsehood that can aid us in the over throw of this tyrant is to be welcomed. It follows that seventeenth- and eighteenth-century science indeed was an instrument of liberation and enlightenment. It does not follow that science is bound to remain such an instrument. There is nothing inherent in science or in any other ideology that makes it essentially liberating. Ideologies can deteriorate and become stupid religions. Look at Marxism. And that the science of today is very different from the science of 1650 is evident at the most superficial glance.

For example, consider the role science now plays in education. Scientific "facts"are taught at a very early age and in the very same manner in which religious "facts"were taught only a century ago. There is no attempt to waken the critical abilities of the pupil so that he may be able to see things in perspective. At the universities the situation is even worse, for indoctrination is here carried out in a much more systematic manner. Criticism is not entirely absent. Society, for example, and itsinstitutions, are criticised most severely and often most unfairly and this already at the elementary school level. But science is excepted from the criticism. In society at large the judgement of the scientist is received with the same reverence as the judgement of bishops and cardinals was accepted not too long ago. The move towards "demythologization," for example, is largely motivated by the wish to avoid any clash between Christianity and scientific ideas. If such a clash occurs, then science is certainly right and Christianity wrong. Pursue this investigation further and you will see that science has now become as oppressive as the ideologies it had once to fight. Do not be misled by the fact that today hardly anyone gets killed for joining a scientific heresy. This has nothing to do with science. It has something to do with the general quality of our civilization. Heretics in science are still made to suffer from the most severe sanctions this relatively tolerant civilization has to offer.

But-is this description not utterly unfair? Have I not presented the matter in a very distorted light by using tendentious and distorting terminology? Must we not describe the situation in a very different way? I have said that science has becomerigid, that it has ceased to be an instrument of change and liberation, without adding that it has found the truth, or a large part thereof. Considering this additional fact we realise, so the objection goes, that the rigidity of science is not due to human wilfulness. It lies in the nature of things. For once we have discovered thetruth_-what else can we do but follow it?

This trite reply is anything but original. It is used whenever an ideology wants to reinforce the faith of its followers. "Truth" is such a nicely neutral word. Nobody would deny that it is commendable to speak the truth and wicked to tell lies. Nobody would deny that_-and yet nobody knows what such an attitude amounts to. So it is easy to twist matters and to change allegiance to truth in one's everyday affairs into allegiance to the Truth of an ideology which is nothing but the dogmatic defense of that ideology.

অশোক বাবু বলছেন একই ভাবে সত্যের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, সৌজন্যের নির্বিচার দাপট, সততার একপেশে প্রভাব—ইত্যাদির কথাও বলা যেতে পারে। তাতে আমরা কতটা সংকীর্ণতা থেকে বেরতে পারি ভেবে দেখতে হবে। সম্ভবত সেক্ষেত্রে এই পল ফেয়েরাবেন্ডের প্রবন্ধের এই অংশটি ভেবে দেখবার মত “ And it is of course not true that we have to follow the truth. Human life is guided by many ideas. Truth is one of them. Freedom and mental independence are others. If Truth, as conceived by some ideologists, conflicts with freedom, then we have a choice. We may abandon freedom. But we may also abandon Truth. (Alternatively, we may adopt a more sophisticated idea of truth that no longer contradicts freedom; that was Hegel's solution.) My criticism of modern science is that it inhibits freedom of thought. If the reason is that it has found the truth and now follows it, then I would say that there are better things than first finding, and then following such a monster.”

পল ফেয়েরাবেন্ডের “How to Defend Society Against Science” পুরো প্রবন্ধটি ইন্টারনেটে উপলব্ধ ,যে কেউ পড়ে ফেলতে পারেন । যে কেন আধুনিক বিজ্ঞান inhibits freedom of thought ।
Avatar: amit

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে ______________
Avatar: Dilip

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

sm বাবু, আমি কিন্তু আদিবাসিদের সারল্য বা আন্তরিকতা নিয়ে কোন প্রস্ন তুলিনি । কিন্তু তাদের ধর্মও আর পাঁচটা ধর্মের মতই অবৈজ্ঞানিক । এটাই বলছি । তাদের অশিক্ষা তাদের উন্নতির পক্ষে বড় বাধা । তাদের সারল্য যদি কুসংস্কারে অন্ধ বিশ্বাস তইরি করে, সেটা কি ভাল ?
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

অশোকবাবু,

আপনার বিজ্ঞান মনস্কতার ওপর - দ্বিতীয় পর্ব পড়লাম ! - ভালো লাগছে এই কারনে যে , আপনি খুব সুন্দর যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারছেন ! - এর মধ্যে অনেক কিছু আমাদের জীবনে প্র্যাকটিস করেই থাকি ।

আসলে শিক্ষিত অনেকেই । কিন্তু সেই শিক্ষা আমরা বেশীরভাগ সময়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করি না ! - বিজ্ঞান মনস্কতার ওপর দুটো বই আমি আগেই পেয়েছিলাম - প্রবীর ঘোষের ! - মুস্কিল হচ্ছে - বহুল প্রচারিত মিডিয়াগুলো তাদের বিজ্ঞাপনের তাগিদে এসব প্রচার করতে দ্বিধা করে !

যাইহোক - আপনার এখানে লেখার পর্বগুলো যদি ছোট্ট বই আকারে বের করেন ও শারদীয়া মণ্ডপগুলো তে বিক্রি করতে পারেন - তাতে প্রকৃত উপকার হতে পারে ! - আরও লিখতে থাকুন !

মনোজ ভট্টাচার্য
Avatar: কিন্তু

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

"কিন্তু আগে তো জানতে হবে যে আলো বা সূর্য আছে। তবে তাকে দেখতে ঘরের থেকে বেরনোর প্রশ্ন।"
রঞ্জনবাবু, এ মানে ক্যাচ-২২ সিচুয়েশন । সূর্য আছে না জানলে ঘর থেকে বেরোব না, আবার ঘর থেকে বেরোব না বলে সূর্য আছে জানব না । :)
রামকৃষ্ণ জানা বলতে পড়ে জানা নয়, দেখে জানার কথা বলতেন ।

“অনেকে মনে করে, বই না পড়ে বুঝি জ্ঞান হয় না, বিদ্যা হয় না। কিন্তু পড়ার চেয়ে শুনা ভাল, শুনার চেয়ে দেখা ভাল। কাশীর বিষয় পড়া, কাশীর বিষয় শুনা, আর কাশীদর্শন অনেক তফাত।"

Avatar: ashoke mukhopadhyay

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

To Debabrata Chakraborty: ফেয়েরাব্যান্ড যা বলেছেন তা তাঁর মত। বক্তব্য। যুক্তি নয়। বিজ্ঞানকে তিনি একটি মতাদর্শ বলে মনে করেন। আরও অনেকেই করেন। তিনি আবার বিশেষ করে আধুনিক বিজ্ঞানের গায়ে এই রঙ চাপিয়েছেন। নিউটনীয় বলবিদ্যার সমান্তরাল আর কি বলবিদ্যা হতে পারে না দেখিয়ে নিউটনের তত্ত্বকে তাঁর মতবাদ বলা যায় না। আইনস্টাইনের তত্ত্বের ক্ষেত্রেও তাই। আলোসদৃশ গতিময় বস্তুর জন্য আপেক্ষিকতা-“মতবাদের” একটা বিকল্প মতবাদ প্রতিষ্ঠা না করে কী করে একে একটা মতবাদ বলা যায় আমার কাছে পরিষ্কার নয়। এইভাবে গণিতকেও মতবাদ বলতে হলে আরও দু একটা বিকল্প গাণিতিক পরিকাঠামো আছে বলে দেখাতে হবে।

সত্য স্বাধীনতা ইত্যাদির প্রশ্নে এসে তাই ফেয়েরাব্যান্ডও কার্যত থমকে গেছেন। সত্য আর স্বাধীনতার মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে কী করব, ভাবতে বলেছেন। কিন্তু সত্যকে একটা মতবাদ বলে তার কোনো বিকল্পের কথা ভাবতে বলতে পারেননি। স্বাধীনতার নিরঙ্কুশ আধিপত্য তো মেনেই নিয়েছেন। সততার প্রশ্নে বোধ হয় ঢোকেননি।

বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণের বিজ্ঞান-অতিরিক্ত বা বিজ্ঞান বহির্ভূত আর কোনো পদ্ধতি জানা থাকলে সেটা আমাকে শেখাতে হবে। বিজ্ঞানের আধিপত্য অস্বীকার করে, তথ্য যুক্তি প্রমাণ ও প্রয়োগের বাইরে গিয়ে, কীভাবে জানা যায়, দেখাতে হবে।

Avatar: কি জ্বালা

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

সায়েন্স আর স্টেটকে আলাদা করলে অ্যাটম বোমা কে ফেলবে ? পাখি ?
Avatar: Ranjan Roy

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

বিচারবাবুকে ধন্যাবাদ--শ্রীশ্রীকথামৃত'র লিং দেওয়ার জন্যে।
ইস্যু একটাইঃ ঠাকুর বিচারকে ছেড়ে দিয়ে ভক্তিমার্গের উপদেশ দিতেন কি না!

আমি আপনার কোট করা লিং থেকেই ঠাকুরের নিজের বক্তব্য তুলে দিচ্ছিঃ
“ভক্তিই সার। ঈশ্বরকে বিচার করে কে জানতে পারবে। আমার দরকার ভক্তি। তাঁর অনন্ত ঐশ্বর্য অত জানবার কি দরকার?
কেশব সেন শম্ভু মল্লিকের সঙ্গে এসেছিল, আমি তাকে বললাম, গাছের পাতাটি পর্যন্ত ঈশ্বরের ইচ্ছা ভিন্ন নড়ে না। স্বাধীন ইচ্ছা (রী িল্ল) কোথায়? সকলই ঈশ্বরাধীন।
মাস্টার -- বিদ্যাসাগর অভিমান করে বলেন, “ঈশ্বরকে ডাকবার আর কি দরকার! দেখ চেঙ্গিস খাঁ যখন লুটপাট আরম্ভ করলে তখন অনেক লোককে বন্দী করলে; ক্রমে প্রায় এক লক্ষ বন্দী জমে গেল। তখন সেনাপতিরা এসে বললে মহাশয়, এদের খাওয়াবে কে? সঙ্গে এদের রাখলে আমাদের বিপদ। কি করা যায়? ছেড়ে দিলেও বিপদ। তখন চেঙ্গিস খাঁ বললেন, তাহলে কি করা যায়। ওদের সব বধ কর। তাই কচাকচ করে কাটবার হুকুম হয়ে গেল। এই হত্যাকাণ্ড তো ঈশ্বর দেখলেন? কই একটু নিবারণ তো করলেন না। তা তিনি থাকেন থাকুন, আমার দরকার বোধ হচ্ছে না। আমার তো কোন উপকার হল না!”

শ্রীরামকৃষ্ণ -- ঈশ্বরের কার্য কি বুঝা যায়, তিনি কি উদ্দেশ্যে কি করেন? তিনি সৃষ্টি, পালন, সংহার সবই করছেন। তিনি কেন সংহার করছেন আমরা কি বুঝতে পারি? আমি বলি, মা, আমার বোঝবারও দরাকার নাই, তোমার পাদপদ্মে ভক্তি দিও। মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য এই ভক্তিলাভ। আর সব মা জানেন। বাগানে আম খেতে এসেছি; কত গাছ, কত ডাল, কত কোটি পাতা -- এ-সব বসে বসে হিসাব করবার আমার কি দরকার! আমি আম খাই, গাছপাতার হিসাবে আমার দরকার নাই।
শ্রীরামকৃষ্ণ -- বিদ্যাসাগরের পাণ্ডিত্য আছে, দয়া আছে, কিন্তু অর্ন্তদৃষ্টি নাই। অন্তরে সোনা চাপা আছে, যদি সেই সোনার সন্ধান পেত, এত বাহিরের কাজ যা কচ্ছে সে-সব কম পড়ে যেত;
(চৌধুরীর প্রতি) -- “পাণ্ডিত্য দ্বারা তাঁকে পাওয়া যায় না।


“আর তাঁর বিষয় কে বিচার করে বুঝবে? তাঁর পাদপদ্মে ভক্তি যাতে হয়, তাই সকলের করা উচিত।”
তোমার ফিলজফিতে (হিলোসোফ্য) কেবল হিসাব কিতাব করে! কেবল বিচার করে! ওতে তাঁকে পাওয়া যায় না।”
[অধরকে উপদেশ -- “বেশি বিচার করো না” ]


“বেশি বিচার করা ভাল নয়, মার পাদপদ্মে ভক্তি থাকলেই হল। বেশি বিচার করতে গেলে সব গুলিয়ে যায়।
“শুধু বিচার! থু! থু! -- কাজ নাই।

(ঠাকুর মুখামৃত ফেলিলেন।)


“কেন বিচার করে শুষ্ক হয়ে থাকব? যতক্ষণ ‘আমি তুমি’ আছে, ততক্ষণ যেন তাঁর পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি থাকে।”

শ্রীরামকৃষ্ণ (বৈদ্যনাথের প্রতি) -- তর্ক করা ভাল নয়; আপনি কি বল?


ছেলেটি যুবা পুরুষ -- শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন।

নবদ্বীপ -- ঘরে শাস্ত্র পড়ে। এ-দেশে বেদ একরকম পাওয়াই যেত না। মোক্ষমূলর ছাপালেন, তাই তবু লোকে পড়ছে।

[পাণ্ডিত্য ও শাস্ত্র -- শাস্ত্রের সার জেনে নিতে হয় ]

শ্রীরামকৃষ্ণ -- বেশি শাস্ত্র পড়াতে আরও হানি হয়।

“শাস্ত্রের সার জেনে নিতে হয়। তারপর আর গ্রন্থের কি দরকার!

“তাঁর কাণ্ড মানুষে কি বুঝবে? অনন্ত কাণ্ড! তাই আমি ও-সব বুঝতে আদপে চেষ্টা করি না। শুনে রেখেছি তাঁর সৃষ্টিতে সবই হতে পারে। তাই ও-সব চিন্তা না করে কেবল তাঁরই চিন্তা করি।
শ্রীরামকৃষ্ণ (বলরামের পিতার প্রতি) -- বই আর পড়ো না, তবে ভক্তিশাস্ত্র পড়ো যেমন শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত।
নরেন্দ্র -- “আর কাজ নাই জ্ঞানবিচারে, দে মা পাগল করে।” (মাস্টারের প্রতি) দেখুন, হ্যামিলটন্‌এ পড়লুম -- লিখছেন, “আ লেঅর্নেদ ইগ্নোরে ইস থে এন্দ ওফ হিলোসোফ্য অন্দ থে বেগিন্নিঙ্গ ওফ Rেলিগিওন।”

শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) -- এর মানে কি গা?


নরেন্দ্র -- ফিলসফি (দর্শনশাস্ত্র) পড়া শেষ হলে মানুষটা পণ্ডিতমূর্খ হয়ে দাঁড়ায়, তখন ধর্ম ধর্ম করে। তখন ধর্মের আরম্ভ হয়।

শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) -- ঠন্ক য়ৌ! ঠন্ক য়ৌ! (হাস্য)


“এ যা বললুম সব বিচারের কথা। ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা -- এই বিচার। সব স্বপ্নবৎ! বড় কঠিন পথ। এ-পথে তাঁর লীলা স্বপ্নবৎ, মিথ্যা হয়ে যায়। আবার ‘আমি’টাও উড়ে যায়। এ-পথে অবতারও মানে না। বড় কঠিন। এ-সব বিচারের কথা ভক্তদের বেশি শুনতে নাই।
ঠাকুর মণিকে বিচার করিতে বারণ করিয়াছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ (রাখালের প্রতি) -- বেশি বিচার করা ভাল না। আগে ঈশ্বর তারপর জগৎ -- তাঁকে লাভ করলে তাঁর জগতের বিষয়ও জানা যায়।

ঠাকুরের রাস্তায় ক্রন্দন -- “মা বিচার-বুদ্ধিতে বজ্রাঘাত দাও” -- ১৮৬৮ ]

(মণির প্রতি) -- “তাই তোমাকে বলছি, -- আর বিচার করো না। আমি ঝাউতলা থেকে উঠে যাচ্ছিলাম ওই কথা বলতে। বেশি বিচার করলে শেষে হানি হয়। শেষে হাজরার মতো হয়ে যাবে। আমি রাত্রে একলা রাস্তায় কেঁদে কেঁদে বেড়াতাম আর বলেছিলাম --

‘মা, বিচার-বুদ্ধিতে বজ্রাঘাত দাও।’

“বল, আর (বিচার) করবে না?”

মণি -- আজ্ঞা, না।

শ্রীরামকৃষ্ণ -- ভক্তিতেই সব পাওয়া যায়। যারা ব্রহ্মজ্ঞান চায়, যদি ভক্তির রাস্তা ধরে থাকে, তারা ব্রহ্মজ্ঞানও পাবে।

এটা শুধু আপনার দেওয়া চতুর্থ খন্ডের অংশ থেকে। বাকি চারখন্ডে একই পরিমাণে এই চিন্তাধারা প্রবাহমানঃ
বল আর বিচার করবে?
আর
‘মা, বিচার-বুদ্ধিতে বজ্রাঘাত দাও।

Avatar: Ranjan Roy

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

ডিঃ
নরেন্দ্রঃ‘“A learned ignorance is the end of Philosophy and the beginning of Religion.”

ঠাকুরঃ Thank you! Thank you!
Avatar: বিচার

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

বিচারের নানা অর্থ । এই দেখুন বিচার করতে বলছেন -
"বস্তু বিচার করবে। মেয়েমানুষের শরীরে কি আছে — রক্ত, মাংস, চর্বি, নাড়ীভুঁড়ি, কৃমি, মুত, বিষ্ঠা এইসব। সেই শরীরের উপর ভালবাসা কেন?"
পাঁচজনে ভাবের আবেগে যা নিয়ে মুগ্ধ হয়ে থাকে, তাকে প্রায় ডাক্তারের দৃষ্টিতে (প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা মনে করুন) কেটেছিঁড়ে দিলেন ।

আবার বিচার বলতে জ্ঞানযোগ বোঝাচ্ছেন যখন, তখন ডিসকারেজ করছেন । কেন ? না পথটা কঠিন ।

“ভক্তিযোগ জ্ঞানযোগ এ সবই পথ । যে পথ দিয়েই যাও তাকে পাবে। ভক্তির পথ সহজ পথ। জ্ঞান বিচারের পথ কঠিন পথ। "

আবার -
বিজয় -- যাঁরা বেদান্ত বিচার করেন, তাঁরাও তো তাঁকে পান?
শ্রীরামকৃষ্ণ -- হাঁ, বিচারপথেও তাঁকে পাওয়া যায়। একেই জ্ঞানযোগ বলে। বিচারপথ বড় কঠিন। ...কলিতে জীব অন্নগত প্রাণ, “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা” কেমন করে বোধ হবে? সে-বোধ দেহবুদ্ধি না গেলে হয় না। “আমি দেহ নই, আমি মন নই, চতুর্বিংশতি তত্ত্ব নই, আমি সুখ-দুঃখের অতীত, আমার রোগ, শোক, জরা, মৃত্যু কই?” -- এ-সব বোধ কলিতে হওয়া কঠিন। যতই বিচার কর, কোন্‌খান থেকে দেহাত্মবুদ্ধি এসে দেখা দেয়। অশ্বত্থগাছ এই কেটে দাও, মনে করলে মূলসুদ্ধ উঠে গেল। কিন্তু তার পরদিন সকালে দেখ, গাছের একটি ফেঁকড়ি দেখা দিয়েছে! দেহাভিমান যায় না। তাই ভক্তিযোগ কলির পক্ষে ভাল, সহজ।

আবার -
“বিচারপথে জ্ঞানযোগের পথে, তাঁকে পাওয়া যায়। কিন্তু এ-পথ বড় কঠিন। আমি শরীর নই, মন নই, বুদ্ধি নই। আমার রোগ নাই, শোক নাই, অশান্তি নাই; আমি সচ্চিদানন্দস্বরূপ, আমি সুখ-দুঃখের অতীত, আমি ইন্দ্রিয়ের বশ নই, এ-সব কথা মুখে বলা খুব সোজা। কাজে করা, ধারণা হওয়া বড় কঠিন। কাঁটাতে হাত কেটে যাচ্ছে, দরদর করে রক্ত পড়ছে, অথচ বলছি, কই কাঁটায় আমার হাত কাটে নাই, আমি বেশ আছি। এ-সব বলা সাজে না। আগে ওই কাঁটাকে জ্ঞানাগ্নিতে পোড়াতে হবে তো।”

কোথাও পৌঁছনোর অনেকগুলো রাস্তার মধ্যে যেটা সহজ মনে করছেন, সেটা ধরতে বলছেন । তা সে তো খুবই নর্মাল, না ? বিচার করেই দেখুন । :)

Avatar: Ekak

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আবার সেই রামকৃষ্ণ :(( সমস্ত আলোচনা ভোগে যায় এই এক বেকার হ্যাজ । বিজ্ঞানমনস্কতার আলোচনায় রামকৃষ্ণ ফ্রিশন আসেন কোদ্দিয়ে ?? আর কতবার কথামৃত পড়লে আপনাদের ঘিলু কাজ করবে ? রামকৃষ্ণ ধার্মিক বলে নন , ওই একই স্কুলে বেশ কিছু দার্শনিক ও আছেন , ওরা ওই যে বিচার বলেন ওটা বৈজ্ঞানিক বিচার না , অন্ধকার ঘরে সেফটিপিন খুঁজছেন নেতি নেতি করে , এর জন্যে আগে থেকে জানা দরকার সেফটিপিন এ হাত পড়লে ঠিক কেমনটি লাগে । এই বিচারের মডেলটা ফ্ল্যড বলেই এই ধারার দার্শনিক দের শেষবধি ডিভাইন রিভিলেশনের তত্ব আন্তে হয় , ফাঁক ভোরের জন্যে যে "তিনি বুঝিয়ে দেবেন " । এটা রামকৃষ্ণ বলে আলাদা কিছু নয় , দিস ইস এন ওল্ড থট মডেল এন্ড ইট বিহেভস লাইক দিস ।

এটা কোনোভাবেই সায়েন্স না । সায়েন্স বাবু কে জেনে নেতি নেতি করে না । টি এথ মোমেন্টে একটা জিনিস কে রিড করে এবং তাকে ক্লাসিফায়ার দিয়ে চিহ্নিত করে । তখন তার নাম টি ওয়ান । এবার এটা ইভোলিউট করতে থাকে । সে খানিকদূর যাওয়ার পর বাবু ও হতে পারে বাবুর বাঁদর ও হতে পারে । এই প্রসেস রিকার্সনটা বুঝুন । এখানে এত এত একাদেমিক্স এর প্রতিষ্ঠিত লোক রয়েছেন , অথচ সায়েন্টিফিক থট মডেল এর মধ্যে রামকৃষ্ণ ফৃষ্ণ এসে পড়লে সিরিয়াসলি মহা বিরক্তিকর লাগে । পাড়ায় দোকানে এরকম বাজে হ্যাজ হয় ।
Avatar: dc

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

হুঁ এই রামকৃষ্ণ হ্যাজ টা সত্যি বোরিং হয়ে উঠেছে। ভদ্রলোকের সাইকোলজিকাল প্রব্লেম ছিল, বিস্তর হ্যালুসিনেট করতেন। এখনকার দিনে হলে ওনার চিকিৎসা হতো, আগেকার দিনে বলে রামকৃষ্ণ হয়ে গেছেন। আর তো কোন কনট্রিবিউশান নেই।
Avatar: একক

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আর এই হয়েছে "ভক্তিমার্গ " আর "জ্ঞানমার্গ" !! বিজ্ঞানের আলোচনায় এসবের জায়গা কতটুকু ? ভক্তিমার্গ -জ্ঞানমার্গের মডেল টা ভুল না কিন্তু ওটা খাটে যখন ইন্টেনশনালি মডেল ডিসাইন করছেন একটা ফিক্সড ফোকাস কে সামনে রেখে । কিছু ভ্যালু বাইরে থেকে এম্বেড করছেন সিস্টেমে , সেটা দিয়ে শুরু করে , এবার সিস্টেম এক্সটার্নাল ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনফ্লিক্ট এর মধ্যে দিয়ে নলেজ বেস তৈরী করছে । এবার আপনি যদি বাইরের লোকটা না হয়ে নিজেকে একটা মাইক্রোচিপ ভাবেন তাহলে ওই প্রাইমারি এম্বেড গুলো কে ভক্তিমার্গ বলা যায় । দিস মডেল ওয়ার্কস হয়েন দেয়ার ইস এন ইন্তেন্সনাল থার্ড পার্টি ।

কিন্তু বিজ্ঞানের আলোচনার জায়গা এটা নয় । এই জন্যেই বারবার বলি বিজ্ঞানের কোনো খারাপ বা মহৎ উদ্দেশ্য নেই । রান্ডম সিকোয়েন্স এর নেচার অফ ইভলিউসনকে বিজ্ঞান বোঝার চেষ্টা করে । ব্যাস । কেও কোথাও কিছু এম্বেড করে যায়নি কারন কোনো ইন্টেনশন ও ছিলনা । এবার আপনি সিস্টেমটার মধ্যে বসে একটা সিস্টেম বাননোর সময় ভক্তি-জ্ঞান যা কিছু ব্যবহার করতে পারেন টুল হিসেবে । কিন্তু ওই পর্যন্তই । এর মানে আদৌ এই নয় যে কোনো এক অদৃশ্য হাওয়াকল এরকম কোনো টুল ইউস করে সব বানিয়েছে । এরকম কোনো লার্জ ইন্টেনশন যে নেই তার অনেক প্রমান আছে । সেগুলো পড়ুন বরং । ভুল ভাঙবে । নইলে বিজ্ঞানআলোচনা করে তার ওপর ভক্তির টমেটো স্যস মাখিয়ে ঘেঁটে বসে থাকবেন আর বিগায়্ন আশীর্বাদ না অভিশাপ রচনা লিখবেন পরীক্ষায় । বোগাস যত ।
Avatar: Ekak

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

হ্যালুসিনেট করেছিলেন কিনা জানিনা , ডাক্তার তো নোই , যা পড়েছি তাতে অনেকদিন আগেই এটা মনে হয়েছে : রামকৃষ্ণ ওয়াস এন এন্ড্রোইড ড্রীমিং অফ ইলেকট্রিক শীপস । হুইচ ইস ন্যাচারাল । এন্ড্রোইডরা তো তাদের চিপ লেভেল থেকে এভাবেই ভাববে ।

বিরক্ত লাগে ওনার মডেলকে বিজ্ঞানচেতনার সঙ্গে গোলালে । আরে রামকৃষ্ণকে কাজে লাগাতে চান তো কিছুক্ষন রামকৃষ্ণ মডেলের মধ্যে ঢুকে সব কিছু ভাবুন , বেশ গোল গোল সমাধানে পৌঁছন এবং কাজের সময় হলে আবার সেই জোব্বা ছেড়ে বেরিয়ে আসুন । মিটে গ্যালো । স্পিরিচুয়াল ফিকশন ওয়ার্ল্ডের মজা পাবেন । হরমোন লেভেল রিফ্রেশ হবে । এনারা না নিজেরা মজা পাচ্ছেন , না বাকিদের কাজের আলোচনা করতে দিচ্ছেন । আমি এখনো খঞ্জনি বাজিয়ে গান গাই মিশনে গেলে , তাইবলে বিজ্ঞানের আলোচনাকে তাই দিয়ে কেঁচে গণ্ডুষ করবো নাকী !
Avatar: যা বলেছেন

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

হ্যাঃ, এই হ্যালুসিনেট-ফিনেট জাস্ট মনগড়া থিওরি, বিজ্ঞানমনস্ক কেউ দুমদাম এসব লাগিয়ে দেন না ।
Avatar: aka

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

এই সিরিজটা ভালো হয়েছে। মানে মূল লেখাটা। লেখার নীচে আলোচনা নয়।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন