রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জবা ফুল গাছ সংশ্লিষ্ট গল্প
    সেদিন সন্ধ্যায় দেখলাম একটা লোক গেইটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। বয়স আনুমানিক পঞ্চাশের উপরে। মাথায় পাকা চুল, পরনে সাধারণ পোষাক। আমার দিকে চোখ পড়তেই লোকটি এগিয়ে এলো।আমি বারান্দায় ছিলাম। নেমে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কাকে চাচ্ছেন?লোকটি নরম কন্ঠে বলল, আমি আপনাদের কয়েক ...
  • আবার কাঠুয়া
    ধর্ষণের মামলায় ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের মুখ বন্ধ খাম পেশ করা হল আদালতে। একটা বেশ বড় খাম। তাতে থাকার কথা চারটে ছোট ছোট খামে খুন হয়ে যাওয়া মেয়েটির চুলের নমুনা। ঘটনাস্থল থেকে সিট ওই নমুনাগুলো সংগ্রহ করেছিল। সেগুলোর ডি এন এ পরীক্ষাও করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ...
  • ওই মালতীলতা দোলে
    ২আহাদে আহমদ হইলমানুষে সাঁই জন্ম নিললালন মহা ফ্যারে পড়ল সিরাজ সাঁইজির অন্ত না পাওয়ায়।এক মনে জমিতে লাঙল দিচ্ছিল আলিম সেখ। দুটি জবরজঙ্গী কালো মোষ আর লোহার লাঙল। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। আজকাল আর কেউ কাঠের লাঙল ব্যবহার করে না। তার অনেক দাম। একটু দূরে আলিম সেখের ...
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

রৌহিন

সিঙ্গুরের রায় বেরোনোর পর থেকে চারদিকে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের জমির অধিগ্রহন অবৈধ ছিল এবং হাজার একর জমিই তার মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে আগামী বারো সপ্তাহের মধ্যে। পক্ষে, বিপক্ষে, এখন যারা পক্ষে আছেন তাদের মধ্যে কয়জন ডিগবাজি খেয়েছেন, সত্যিই এই রায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করল না লাভ – এসব নানা প্রশ্নে, নানা দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, নানা পথে আলোচনা চলেছে।। আমি এই আলোচনায় বেশী অংশ নিই নি – কারণ আমার কিছু ভাবার ছিল। ইন্সট্যান্ট রিয়াকশন দিতে পারিনি। নিজেকে জাস্টিফাই করার দরকার হয়েছিল। আমি কোনদিকে, নিজেও সংশয়ে ছিলাম। তারপর মাঝে বাউ এর একটা পোস্টে লিখলাম, “আগে যারা শিল্প চলে গেল বলে কেঁদেছিল, যাদের অনেকেই এখন সিপিএমকে তেড়ে গাল দিচ্ছেন – তাদের মধ্যে আমিও একজন – এই ওপেন ফোরামে স্বীকৃত ও লজ্জিত হলাম” বলে। কিন্তু মনে হয়েছিল, তারপরেও কিছু বলার থেকে গেল। সেটা এবার বলি।
প্রসঙ্গতঃ এই বলাটা শুধু সিঙ্গুর প্রসঙ্গে নয় – বা বলা ভালো সিঙ্গুর প্রসঙ্গে আদৌ নয় – ওটা উপলক্ষ মাত্র। আমার বক্তব্য আমার নিজের একটা জার্নি বিষয়ে – গত ছয় / সাত বছরের। যে সময়টার আগে পর্যন্ত সিঙ্গুর প্রশ্নে বুদ্ধবাবুকে সমর্থন এবং তীব্র মমতা বিরোধিতা করে গেছি নির্দ্বিধায়। এবং যে সময়টার পরে, মমতার সমর্থক হয়ে না গিয়েও, বুদ্ধবাবুর সমর্থকও আর থাকতে পারিনি। গত ছয় সাত বছরে কিছু ক্ষেত্রে যে আমূল পালটি খেয়েছি, এটা তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবতঃ।
যখন তৃণমূল আন্দোলন করছে, ধর্ণা দিচ্ছে, এবং আমরা তাদের রাজনীতির সমালোচনা করছি, তখন যে কটা বিষয়ে খুব জোর দিয়েছিলাম –
প্রথমতঃ, বিশ্বাস করেছিলাম, এখানেই এই শিল্পের সেরা জায়গা – অন্যত্র, বাঁকুড়া বীরভূমের অনাবাদী জমি কিংবা হাওড়ায় বন্ধ কারখানার জমি উপযুক্ত নয়, কারণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার এসব জায়গায় নেই – এসব না দিলে শিল্পপতিরা শিল্প করতে আসবেন না। কী করে বিশ্বাস করেছিলাম তা জানিনা, বোধ হয় বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম বলেই করেছিলাম।
দ্বিতীয়তঃ বিশ্বাস করেছিলাম, সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানা পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প মাণচিত্রে উপরের দিকে এনে দেবে। এই বিশ্বাস করায় বিশ্বাস করুন, সিপিএমের চেয়ে তৃণমূলের কৃতিত্ব বেশী – তারা এত তীব্র বিরোধিতা না করলে এটা হওয়া যে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে এঁটে বসত না।
তৃতীয়তঃ মেনে নিয়েছিলাম যে কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। "নিয়েছিলাম"। অতীতকাল।
চতুর্থতঃ বিশ্বাস করেছিলাম যে চাষীদের যে ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট ভালো – দেশের সেরা প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটা
এবারে, ওই সমর্থন করা কালীন যে দুটো বিষয় খুব ভাবিয়েছিল, যাকে আমরা বিশ্লেষণের ভাষায় এনোমালি বলি, তাদের কথা বলি –
প্রথমতঃ, আশেপাশে যাদেরকে চিনি, ভদ্রলোক, চিন্তাভাবনা করেন, তারা সবাই প্রায় দেখেছি এ ব্যপারে বুদ্ধবাবুর সমর্থক, মমতাকে বিধ্বংসী রাজনীতির কারবারী বলছেন, অথচ সেই লোকসভা ভোট থেকেই শুরু হল তৃণমূলের জয়জয়কার। এই ভোটগুলো তাহলে কারা দিচ্ছে? এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পুরোটাই কি রিগিং, নাকি আমি এত মানুষের সঙ্গে কথা বলেও এই সংখ্যাগরিষ্ঠকে চিনিই না? এই প্রশ্নটা বারে বারে হন্ট করেছে।
দ্বিতীয়তঃ তিনটে নাম। মমতার “বুদ্ধিজীবি সেলে” এমনিতে যারা ছিলেন বা আছেন, তারা অধিকাংশই মিডিওকার – কেন স্রোতে ভাসছেন, তার সহজ ব্যখ্যা হয়। ব্যখ্যা পাইনি তিনজনের ক্ষেত্রে – মহাশ্বেতা দেবী, মেধা পাটেকর আর কবীর সুমন। এঁদের কারোই কিছু প্রমাণ করার ছিল না – কিছু তেমন পাবারও না – তা সত্ত্বেও ওই অবস্থান মঞ্চে এরা কেন? এমনও তো নয় যে এঁদের জোর করে ধরে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনজনেই বেশ এক্টিভ – কেন?
কিন্তু এই দুটো এনোমালি উপেক্ষা করেই সমর্থন জারি ছিল। তাহলে গত তিন চার বছরে কী এমন ঘটল? যার জেরে পালটে গেল আমার সমর্থন, দৃষ্টিভঙ্গী? ঘটল – আমার জীবনে। আমার বৌদ্ধিক চর্চায়। যার জন্য শুরুতেই বলেছি – সিঙ্গুর এখানে উপলক্ষ মাত্র – এই বক্তব্য আসলে আমার ব্যক্তিগত জার্ণি বিষয়ক। গত ছয় সাত বছরে আমার মননের জগতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্ভবতঃ গুরুচন্ডালীতে যোগদান। এখানে এসেছিলাম কিছু নামের টানে – আর নিজেকে একটু জাহির করব ভেবে। কিন্তু এখানে আরো অনেককে পেলাম – যাদের সামনে জাহির করা দূরে থাক, নিজেকে নেহাৎ ই চুণোপুঁটিতুল্য বলে চিনে নিতে সময় লাগলো না। এখান থেকে পেতে লাগলাম নতুন দৃষ্টিভঙ্গী – বহুত্ববাদের নতুন ব্যখ্যা। সেই সঙ্গে আরো দু-একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা – এই সময়কালে আমি ভারতের দু-তিনটি বিশেষ অঞ্চলকে কাছ থেকে চিনলাম – ওড়িশা, ত্রিপুরা এবং ছত্তিশগড়। আর এই সময়েই পড়ে ফেলা কিছু আন্তর্জাতিক সাহিত্য - যা নতুন করে চিনতে শেখালো আমার চারিদিকটাকে। এই কাছ থেকে দেখা, এবং তার সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গীর, এপ্রোচের পরিবর্তন আমার ভাবনায় প্রভাব ফেলতে শুরু করল। আগের ভাবনার এনোমালিগুলো বড় হতে হতে আর উপেক্ষণীয় রইল না।
প্রথম এনোমালি – সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে চিনি কি না – ক্রমশঃ নিশ্চিত বোঝা গেল, সত্যিই চিনতাম না। ততদিন অবধি যাদের বক্তব্য মূল্যবান মনে করেছি, এবং যাদের বক্তব্য টিভিতে বা কাগজে বিদগ্ধদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখেছি – তারা সবাই মূলতঃ মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের প্রতিভূ। এর আগে যখন ছাত্রাবস্থায় বা প্রথম যৌবনে বামপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে গরীব মানুষের মধ্যে গিয়ে থেকেছি, কাজ করেছি, তখন নিজের অজান্তেই, পরিবার এবং শিক্ষার প্রভাবে, তাদের সংগে একটা দূরত্ব থেকেই গেছিল। অর্থাৎ এরা গরীব গুর্বো মানুষ, আমাদের এদের জন্য কিছু করা উচিৎ - নইলে বেচারাদের কী হবে এরকম একটা মানসিকতা। ঠিক প্রকটভাবে এরকমটাই নয় – কিন্তু প্রচ্ছন্নভাবে যে এরকমটাই ছিল, সেটা তখন না বুঝলেও এখন দিব্যি বুঝি। আর এই দূরত্বটার কারণেই তাদের কোনদিন ঠিকমতো চিনিনি আমি, আমরা। মধ্যবিত্ত বামপন্থী কর্মীরা। সিপিএম / ডি ওয়াই এফ আই / এস এফ আই এর “ক্যাডার”রা। নব্বই এর দশক এবং তার পরের। কারণ তখন সেই পারস্পেক্টিভ আমাদের ছিলনা – যা পেয়েছি গুরুচন্ডালী এবং তার বিভিন্ন চিন্তকের সূত্রে। সব রকম মতবাদের চিন্তকেরাই এর মধ্যে আছেন – বাম, অতি বাম, মধ্য, দক্ষিণ, চরম দক্ষিণ।
আর দ্বিতীয় খটকা – ওই তিনটে নাম। এরা কিন্তু কেউ নিজেদের কাজের বাইরে যাননি – অস্বাভাবিক কিছু করেননি। মেধা নর্মদায় যা করেছেন, মহাশ্বেতা পুরুলিয়ায়, সুমন তার গানে – এখানে সেই ধারাবাহিকতাই তাঁরা বজায় রেখেছেন (কবীর সুমন নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে – কিন্তু ক্রনোলজিকালি, সুমনের পদস্খলন এর অনেক পরের ঘটনা)। তারা সেই সব মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যাদের জমি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের “উন্নয়নে”র চাকার তলায় চাপা পড়েছেন। আমরা তখন বুঝেছিলাম, নিজেদের মগজ বন্ধক রেখেই বুঝেছিলাম এটা আসলে তাদের “ভালো”র জন্যই – কারণ তখনো ভাবতাম তাদের ভালো আমরা ছাড়া কে-ই বা করবে।
তাহলে দাঁড়ালো কি? সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে তখন সমর্থন করতাম, এখন করছি না। কেন করছি না? কারণ এখন আমার কাছে বিষয়টা অন্য পরিপ্রেক্ষিতে ধরা দিয়েছে। এখন আমি আর মনে করি না, সিঙ্গুরের (বা নন্দীগ্রাম, বা হরিপুর, বা দান্তেওয়াড়া, বস্তার, কালাহান্ডি, রায়পুর, বালুরঘাট এবং এবং এবং --) মানুষের ভালো বা মন্দ করা আমাদের দায়ীত্ব। সেটা তাদের দায়ীত্ব, এবং সে দায়ীত্ব নিতে তারা যথেষ্ট সক্ষম, যদি বাইরে থেকে অবিরত নাক গলানো বন্ধ করা হয়। সিঙ্গুরের জমি, অধিগ্রহণের আগে তিন ফসলী ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে – এই জমিতে কারখানা করার কোন জাস্টিফিকেশন দেখি না। হয়তো যে সব অংশে কন্সট্রাকশন হয়ে গিয়েছিল, জমি সংস্কার করলেও তারা আর আগের মত উর্বর থাকবে না (আমি কৃষিবিদ নই – সঠিক জানি না), তবুও এ জমি চাষীদের ফেরৎ পেতে দেখে আমি খুশী। তাঁরা যথেষ্ট কুশলী এবং পরিশ্রমী – আজ না হলেও কয়েক বছর পরে ওই জমি আবার তার আগের চরিত্র ফিরে পাবে বলেই আমার ধারণা।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ণ দরকার আছে বলে মনে করি কি না? শিল্পায়ণ হলে কর্মসংস্থান হবে, বেকার যুবক যুবতীরা কাজ পাবে, রাজ্যের মেধা ভিনরাজ্যে পাড়ি দেবে না – এগুলি চাই কি চাই না? ছয় বছর আগে হলে নির্দ্বিধায় বলতাম হ্যাঁ চাই এসব। এখন আর বলতে পারিনা ততটা জোরে। কারণ, যারা এসব বলেন, তারা প্রায় সবাই একটা ভাসা ভাসা ধারণা থেকে কথাগুলো বলেন। শিল্পায়ণ হলে কী ধরণের কর্মসংস্থান কতটা হবে তার পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই । যাদের আছে, তারা জোর দিয়ে বলতে পারেন না, সেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের কী সম্পর্ক? কেন কৃষিজমিতেই শিল্প হতে হবে? কেন বন্ধ কারখানার জমি অধিগ্রহণ করে নতুন শিল্প করা যাবে না? কেন বাঁকুড়া পুরুলিয়া অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত অনুর্বর, পতিত জমিতে শিল্প হবে না এবং তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা হবে না? এবং সব শেষে আরেকটা প্রশ্ন ছোট্ট করে রেখে যাই – “মেধা ভিন রাজ্যে চলে গেলে” ক্ষতি কি? মেধা মানে তো প্রকৃত মেধাবী নিয়ে মাথা ঘামানো হচ্ছে না – এখানে “মেধা” বলতে সেই মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকের পাশ করা ছেলেমেয়েদের কথা বলা হচ্ছে। তারা পাশ করেছে, ভালো চাকরি করবে বলে – যেখানে পাবে, সেখানেই যাবে। যেখানে যাবে সেখানকার অন্ন ধ্বংস করে আয়েশ করবে – কেউ কেউ লোকদেখানো চ্যারিটি করবে। এরা বাড়ির ভাত খেতে পেলো কি না, তাতে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের, অবশিষ্ট ভারতের কী যায় আসে?
বস্তার থেকে রায়পুরে দেখেছি, কালাহান্ডি থেকে ভূবনেশ্বরে দেখেছি, সোনাই থেকে আগরতলায় দেখেছি, কাঁথি থেকে কলকাতায় দেখেছি – কিভাবে “উন্নয়নে”র নামে সর্বত্র নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষকে উৎখাত করে, তাদের পেশা থেকে, জীবনযাত্রা থেকে, সংস্কৃতি থেকে উচ্ছেদ করে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আরো আরো প্রান্তে – যাতে সুবিধাভোগী শ্রেণীর জন্য আরো সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়। তা তাদের প্রাণের মূল্যেই হোক না কেন। এই দেখার পর আর সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে শাইনিং পশ্চিমবঙ্গের কোন কথা বিশ্বাস করিনা। সিঙ্গুর রায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয় নি – কৃষিজীবি দরিদ্র মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে। বামপন্থী আন্দোলনকে দিশা দেখিয়েছে – আয়রনিকালি হলেও।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 101 -- 120
Avatar:  Alcyoneus

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

বড় দোকানে দেয় না। কিন্তু মুদির দোকান, মিষ্টির দোকান, বাজার - পাতলা প্যাকেটের মূল সোর্স এইগুলো।
Avatar: Ekak

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

হ্যা , একদম । দুনিয়ার নন ডিগ্রেডেবল ফ্লোটিং মেটেরিয়াল ।কিছু বাদ নেই । সে নরক দেখেছি । জাস্ট অবিশ্বাস্য ।
Avatar: sch

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আসল কি দরকার জানেন তো একক - শহরের মানুষকে একটু ভালোবাসতে হবে - মানে ওই গানে গল্পে কবতায় ফেসবুকে ভালোবাসা না - প্রতিদিনের জীবনে ভালোবাসা। ময়লাগুলো রাস্তার ধারে ডাম্প করার বদলে একটা নির্ডীশট জায়গায় ফেলা - অবাধে বিল্ডিং মেটিরিয়াল রাস্তার ধারে জমিয়ে না রাখা ...
এ ভালোবাসা আগামী পঞ্চাশ বছরে আসবে বলে আশা দেখি না। আমরা আসলে সবাই নিজেকে শুধু ভালোবাসি।
Avatar:  Alcyoneus

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ওহ্‌, এসব নিয়ে বাচ্চাবয়সে প্রচুর ক্যাম্পেন ট্যাম্পেন করে হাল ছেড়ে দিয়েছি।
Avatar: cm

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আপনারা একটু অন্যরকম ভাবুন, আমরা ঐ জীবনটাকেই উপভোগ করি। ঐ জলে, কাদায় মাখামাখি হয়ে অদম্য জীবনের আনন্দে বাঁচি।
Avatar: Ranjan Roy

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

মেশিনে নোংরা পরিষ্কার করার ব্যাপারটা অনেক কাজে দিয়েছে। রাস্তায় আবর্জনার পাহাড় আগের মত চোখে পড়ে না।
ত্রিফলা আলো ( দুর্নীতিসমেত) বহু জায়গা আলোকিত করেছে। নাকতলা আর নর্থে বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ এর কথা বলছি।
গঙ্গার পাড় বাঁধানো হয়েছে। বাঙ্গুরে বি-ব্লকে ( কবি নীরেন চক্কোত্তির পাড়া) আমার কাকিমার বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরে বর্ষার সময় অন্ততঃ তিনবার ঘরে জল ঢুকে খাট বিছানা চেয়ার টেবিল ভাসত। উনি উঠে ফার্স্ট ফ্লোরে মামার ফ্ল্যাটে চলে যেতেন কয়েকদিনের জন্যে।
খাবার জল বড় বড় জেরিকেন এ করে রিকশাকে বেশি পয়সা দিয়ে পৌঁছইয়ে দড়ি বেঁধে দোতলায় তুলতে হত।
পরে জল সরলে ঘরে নোংরা কাদা ব্যাং কেঁচো পরিষ্কার করে দেয়াল রঙ করানো--সে কহতব্য নয়।
গত কয়েকবছর ধরে জল জমছে না। রাস্তায়ও জমা জল দু-আড়াই ঘন্টায় নেমে যাচ্ছে। আজও ফোন করে জানলাম--অবনতি হয় নি। এর কারণ , কাকিমার মতে (উনি এখনও কমিটেড সিপিএম ভোটার) আগের বারের স্থানীয় তৃণমূলী কাউন্সিলর মৃগাংক বলে ভদ্রলোক। দাঁড়িয়ে থেকে নালা সংস্কার করিয়েছেন। পাড়ায় খুব পপুলার। কিন্তু এটা বোধয় মহিলা কন্স্টিট্যুয়েন্সি হওয়ায় গতবার এখান থেকে নমিনেশন দেওয়া হয় নি।
বেড়েছে গুন্ডামি , বেড়েছে তোলা বাজি।

ব্রতীন,
উন্নয়ন অনেক বড় শব্দ। বেঙ্গল মিট ও সিঙ্গাপুর হিট হওয়ার ফলে আদৌ কোন নতুন বিনিয়োগ এসেছে কি? কোন ডেটা আছে?

Avatar: avi

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

তখন ২০১০-১১। হাসপাতালের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে প্রচুর সচেতনতা প্রোগ্রাম শুরু হল। দফায় দফায় ছাত্র, জুনিয়র ডাক্তার, সিনিয়ার ডাক্তার, নার্স সবার আলাদা আলাদা ক্লাস, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি হল। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নীল, হলুদ, কালো রঙের লিটারবিন বসলো, কোনটায় কী কী জিনিস ফেলা হবে তার সচিত্র নির্দেশনামা দেওয়ালে টাঙানো হল, ইঞ্জেকশন নিডল গ্রাইন্ডার মেশিন বসলো সর্বত্র। হেবি দরদ দিয়ে সবাই কাজ করতে লাগলো। হসপিটাল ওয়েস্টের প্রপার সেগ্রেগেশন শুরু হওয়ায় সবাই আনন্দিত।
তারপর একদিন বিকেলে পুঁটিরামে কচুরি খেয়ে কলেজ স্ট্রীট এক নম্বর গেট দিয়ে ঢুকছি। ওখানে দরজার পাশেই পুরনো ভ্যাট ছিল, সকালে ট্রাক এসে আংশিক খালি করত রোজ। এখন ওখানে সেই ভ্যাট আর নেই। যাই হোক, দেখলাম মেডিসিন আর কার্ডিওলজি বিভাগের সেগ্রেগেটেড তিনরঙা বস্তা ভরে জিনিস নিয়ে এলেন গুটি তিনেক কর্মী। তারপর পরপর সবকটি ভ্যাটে উজাড় করে দেওয়া হল। সেগ্রেগেশনের সাড়ে আড়াইটা বেজে গেল। ঘটনাটি বিক্ষিপ্ত হলেই ভালো, হয়তো বাকি সাফাইকর্মীদের ট্রেইন করা হয়েছিল, ওই কজনই জানতেন না, বা মানেন নি, কিন্তু আমরা স্রেফ হাঁ হয়ে গেলাম।
Avatar: sch

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

অভি ওয়েস্ট সেগ্রিগেশানটা শুধু হস্পিটাল ওয়েস্ত না - সব সলিড ওয়েস্টেই দরকার ভীষণ। সেটা হয়না বলেই এতবড়ো শহরের সলিড ওয়েস্টের বিশাল সমস্যা।
আর রঞ্জন-দা অই ময়লা তোলার জন্যে দরকার ছিল লো হাইট ট্রাক - কেনা হয়েছে কম্প্যাকট্র। যেখানে সলিড ওয়াশটের ঘনত্ব ২০০-২৫০ কেজি /কিউবিক মিটার সেখানে কম্প্যাকট্র ট্র্যাক খুব কাজের - কিন্তু কল্কাতায় এই ঘনত্ব ৪০০-৪৫০ কেজি/কিউম। অনেক বেশী টাকায়, জিনিস কেনা হয়েছে। দুটোর দামের ফারাক দেখে নেবেন গুগল করে
Avatar: Ranjan Roy

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

sch,
আমি একজন লে-ম্যান। এসব কিছুই জানি না। সাধারণ চোখে এবং লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যা ইম্প্রেশন হল লিখেছি। এখানে আপনারা যা বলবেন ( স্পেশালিস্ট নলেজ) মেনে নেব। সিরিয়াসলি; আলসে মানুষ --কেন গুগল করব?ঃ))
সত্যিই এখানে আলোচনা শুনে অনেক কিছু শর্টকাটে জেনে নিই। এটা কম পাওনা নয়।
আর যদি করাপশনের কথা রিসোর্স মিসইউজ বা লিকেজ এর কথা বলেন তো--! সবাই দেখতেই পাচ্ছেন।
Avatar: sch

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

রঞ্জন-দা এইসব কেনা কেনির বিভাগের একজন আমার পুরোনো কলেজের - তাকে প্রশ্নটা করেছিলাম - কি বেসিসে কেনা হল ? চুপ করে থেকে বলল "এত কৌতুহল দেখাস না" - উন্নতি হচ্ছে - তবে যে উন্নতির দাম ১০ টাকা সেটা ৫০ টাকা বলে দেখানো হচ্ছে। ও কে - তাই সই
Avatar: Ranjan Roy

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

যা তা!
লুঠ পড়েছে লুঠের বাজার, লুঠে নে রে তোরা কেস!
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

একটু আগে ভাবলে না গা!!
১০ টাকার জিনিসের জন্য ৫০ টাকা দিতে আগে রাজী হলে এই টইটারই তো সৃষ্টি হত না!!
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ছাগোলগুলোকে নিয়ে আর পারা গেলনা।
Avatar: এলেবেলে

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

এলেবেলে বোধায় "কারখানা বন্ধের জন্য আন্দোলন" আর "ক্ষতিপূরন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন" গুলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছুক ঃ)

আমার পোস্ট ১ ও ২ দিয়ে শুরু হয়েছে । তাতে "ক্ষতিপূরন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন" শব্দগুলো সম্ভবত নেই । কোনও একজনের ঘাড়ে বন্দুকটি রেখে নিজেদের অপদার্থতা ঢাকার অক্ষম চেষ্টার বিরুদ্ধে কিছু বলার চেষ্টা করেছি । মমতা বলেন “We would like work at the factory to start from tomorrow as we are for industry and the ancillary units too”. এটা কারখানা বন্ধ করার জন্য বলা বুঝি ?

কয়েকটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন । কোনও একজনও দিতে পারেন, সমবেতভাবেও দিতে পারেন । উত্তরগুলো পেলে কিছু ভুল ভাঙবে ।
১. সব কিছুই যখন ঠিকঠাক ছিল তো নিরুপম সেন ‘there was no possibility of altering the land map’ –এর গোঁ ধরে থাকলেন না কেন ?
২. হঠাৎ গোপাল গান্ধীর চরণে প্রণিপাত করতে হল কেন ?
৩. ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের নেত্রীটিকে তো মাননীয় সাংসদ প্রদর্শিত রাস্তায় চুলের মুঠি ধরে কালীঘাটে পাঠানো যেত । তা না করে প্রথমে ধর্না আন্দোলনের নৌটঙ্কিবাজি সহ্য করা এবং পরে রাজভবনে তাঁকে ডাকা হল কেন ?
৪. “After two rounds of discussion between chief minister Buddhadeb Bhattcharjee and Trinamool Congress chairperson Mamata Banerjee, the government late on Sunday evening agreed to return land to some 2,200 farmers who had not sold their land willingly for the project and have not collected compensation.” যে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক নিয়ে সিপিয়েমের ব্যঙ্গের অন্ত ছিলনা তারা হঠাৎ ২২০০ অনিচ্ছুক চাষির কথা মেনে নিল কেন ?
৫. ২২০০ চাষি গড়ে মোটামুটি ১০-১১ কাঠা জমি দিলে জমির পরিমাণ ৪০০ একর হয় । সেটা খোদ সরকার মেনে নিচ্ছে আর মমতা সেই একই পরিমাণ জমি ফেরত চাইলে তা কারখানা বিরোধী হবে কেন ?
৬. ‘মমতা সমাধান সূত্র হিসেবে কারখানার উল্টোদিকের জমিতে অ্যান্সিলারি ইউনিট সরানোর প্রস্তাব দেন’ । সেটা মেনে নিয়ে তো কারখানা করা যেত, সেটা হল না কেন ?
৭. রাজভবনে সিধান্ত হয় — “The government has taken the decision to respond to the demands of those farmers who have not received compensation, by means of land to be provided ‘maximum’ within the project area and the rest in adjacent area as early as possible”. প্রোজেক্ট এরিয়া থেকে যে ম্যাক্সিমাম জমি ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সে জমি তো কারও না কারও নামে বরাদ্দ হত । তারা কোথায় যেত ? সেক্ষেত্রে মমতা কী এমন ফালতু প্রস্তাব দিয়েছিলেন ?
৮. ‘ম্যাক্সিমাম’ শব্দটা নিয়ে এত জলঘোলা করা হল কেন ? ঠিক কতটা জমি কারখানা থেকে দেওয়া যাবে তা স্পষ্ট করে বলা হল না কেন ?
৯. রবি ভট্‌চাযরা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যে রিপোর্ট পেশ করলেন তাকে পাত্তা দেওয়া হল না কেন ?
১০. আপনি আমাকে ডাকবেন, নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করিয়ে নেবেন এবং তারপর কাঁচকলা দেখাবেন আর আমি এক্কাদোক্কা খেলব ?
১১. ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যদি এতই সদিচ্ছা ছিল তো সেটা ২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে না দিয়ে দু’বছর আগে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যেত । টাটারা চলে যাওয়ার দিন পনেরো আগে এ দরদ উথলে উঠল কেন ?

‘মমতা ৬০০ দিনের প্রস্তাব কাকে দিয়েছিলেন সেটার লিংক পেলে একটু ভালো হয়’
‘মমতা-প্রস্তাবিত’ অর্থে মমতা সরকারের কাউকে প্রস্তাব দিচ্ছেন কেবলমাত্র এমনটাই হয় কিনা জানিনা তবুও লিংকটা রইল
http://www.business-standard.com/article/companies/team-spotted-307-va
cant-acres-trinamool-108091501053_1.html


ইয়ে মানে আমি এখনও এটাকে সিঙ্গুরের টই-ই ভাবছি ! এলেবেলে বলেই কি !!
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

বাপরে এগুলো তো খুবই কঠিন কঠিন প্রশ্ন দেখছি! আমি একটারও উত্তর দিতে পারলাম না।
Avatar: sm

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

উল্লেখ্য, গতকালই মিউনিখে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল সংস্থা বিএমডব্লুর সদর দফতরে গিয়েছিল শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল৷ সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যে অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়৷ প্রতিনিধিদলকে বিএমডব্লুর গাড়ি তৈরির কারখানাও ঘুরিয়ে দেখানো হয়৷ দেখা যায়, পৃথিবীবিখ্যাত সংস্থার কারখানাটি মাত্র ১২৪ একর জমির উপর অবস্থিত৷ সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যায়, গাড়ি তৈরির কারখানার জন্য ১০০০ একর জমির দরকার নেই৷
http://www.sangbadpratidin.in/mamata-invites-tata-to-bengal/#.V9DaxqKG
Oo4

এটা দারুন খবর দিয়েছে তো! এতো জমি কেন লাগছিলো আর বুদ্ধবাবু র সরকার এক্সট্রা 400 একর কেন দিতে গেলো- এতো চরম রহস্য!
Avatar: কুমড়োপটাশ

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

জার্মানী ছোটো সাইজের দেশ। অত জমি কোত্থেকে পাবে?
Avatar: sch

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ওই লেভেলের ওটোমেশান করলে তো এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশান হবে না। লাভ কি হবে? স্কেলিটন স্কিলড স্টাফে প্ল্যান্ট চ্লবে। আর ইউনিউন হবে কি করে? INTUC কি করবে? দোলা সেন সুব্রত ইরেলিভ্যান্ট হয়ে যাবে ত
Avatar: Ranjan Roy

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

এলেবেলের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পিটি দিতে পারবেন এবং পাল্টা লিং দেবেন-- এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার!
নইলে?
রইলে,
বুঝে নাও এ সকল "ঢপের কেত্তন"।
সজল চক্ষে কর অশ্রু বিসর্জন।
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

RR
কেন ব্যক্তিগত স্তরে নামিয়ে আনছেন আলোচনাটাকে?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 101 -- 120


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন