রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

রৌহিন

সিঙ্গুরের রায় বেরোনোর পর থেকে চারদিকে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের জমির অধিগ্রহন অবৈধ ছিল এবং হাজার একর জমিই তার মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে আগামী বারো সপ্তাহের মধ্যে। পক্ষে, বিপক্ষে, এখন যারা পক্ষে আছেন তাদের মধ্যে কয়জন ডিগবাজি খেয়েছেন, সত্যিই এই রায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করল না লাভ – এসব নানা প্রশ্নে, নানা দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, নানা পথে আলোচনা চলেছে।। আমি এই আলোচনায় বেশী অংশ নিই নি – কারণ আমার কিছু ভাবার ছিল। ইন্সট্যান্ট রিয়াকশন দিতে পারিনি। নিজেকে জাস্টিফাই করার দরকার হয়েছিল। আমি কোনদিকে, নিজেও সংশয়ে ছিলাম। তারপর মাঝে বাউ এর একটা পোস্টে লিখলাম, “আগে যারা শিল্প চলে গেল বলে কেঁদেছিল, যাদের অনেকেই এখন সিপিএমকে তেড়ে গাল দিচ্ছেন – তাদের মধ্যে আমিও একজন – এই ওপেন ফোরামে স্বীকৃত ও লজ্জিত হলাম” বলে। কিন্তু মনে হয়েছিল, তারপরেও কিছু বলার থেকে গেল। সেটা এবার বলি।
প্রসঙ্গতঃ এই বলাটা শুধু সিঙ্গুর প্রসঙ্গে নয় – বা বলা ভালো সিঙ্গুর প্রসঙ্গে আদৌ নয় – ওটা উপলক্ষ মাত্র। আমার বক্তব্য আমার নিজের একটা জার্নি বিষয়ে – গত ছয় / সাত বছরের। যে সময়টার আগে পর্যন্ত সিঙ্গুর প্রশ্নে বুদ্ধবাবুকে সমর্থন এবং তীব্র মমতা বিরোধিতা করে গেছি নির্দ্বিধায়। এবং যে সময়টার পরে, মমতার সমর্থক হয়ে না গিয়েও, বুদ্ধবাবুর সমর্থকও আর থাকতে পারিনি। গত ছয় সাত বছরে কিছু ক্ষেত্রে যে আমূল পালটি খেয়েছি, এটা তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবতঃ।
যখন তৃণমূল আন্দোলন করছে, ধর্ণা দিচ্ছে, এবং আমরা তাদের রাজনীতির সমালোচনা করছি, তখন যে কটা বিষয়ে খুব জোর দিয়েছিলাম –
প্রথমতঃ, বিশ্বাস করেছিলাম, এখানেই এই শিল্পের সেরা জায়গা – অন্যত্র, বাঁকুড়া বীরভূমের অনাবাদী জমি কিংবা হাওড়ায় বন্ধ কারখানার জমি উপযুক্ত নয়, কারণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার এসব জায়গায় নেই – এসব না দিলে শিল্পপতিরা শিল্প করতে আসবেন না। কী করে বিশ্বাস করেছিলাম তা জানিনা, বোধ হয় বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম বলেই করেছিলাম।
দ্বিতীয়তঃ বিশ্বাস করেছিলাম, সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানা পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প মাণচিত্রে উপরের দিকে এনে দেবে। এই বিশ্বাস করায় বিশ্বাস করুন, সিপিএমের চেয়ে তৃণমূলের কৃতিত্ব বেশী – তারা এত তীব্র বিরোধিতা না করলে এটা হওয়া যে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে এঁটে বসত না।
তৃতীয়তঃ মেনে নিয়েছিলাম যে কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। "নিয়েছিলাম"। অতীতকাল।
চতুর্থতঃ বিশ্বাস করেছিলাম যে চাষীদের যে ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট ভালো – দেশের সেরা প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটা
এবারে, ওই সমর্থন করা কালীন যে দুটো বিষয় খুব ভাবিয়েছিল, যাকে আমরা বিশ্লেষণের ভাষায় এনোমালি বলি, তাদের কথা বলি –
প্রথমতঃ, আশেপাশে যাদেরকে চিনি, ভদ্রলোক, চিন্তাভাবনা করেন, তারা সবাই প্রায় দেখেছি এ ব্যপারে বুদ্ধবাবুর সমর্থক, মমতাকে বিধ্বংসী রাজনীতির কারবারী বলছেন, অথচ সেই লোকসভা ভোট থেকেই শুরু হল তৃণমূলের জয়জয়কার। এই ভোটগুলো তাহলে কারা দিচ্ছে? এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পুরোটাই কি রিগিং, নাকি আমি এত মানুষের সঙ্গে কথা বলেও এই সংখ্যাগরিষ্ঠকে চিনিই না? এই প্রশ্নটা বারে বারে হন্ট করেছে।
দ্বিতীয়তঃ তিনটে নাম। মমতার “বুদ্ধিজীবি সেলে” এমনিতে যারা ছিলেন বা আছেন, তারা অধিকাংশই মিডিওকার – কেন স্রোতে ভাসছেন, তার সহজ ব্যখ্যা হয়। ব্যখ্যা পাইনি তিনজনের ক্ষেত্রে – মহাশ্বেতা দেবী, মেধা পাটেকর আর কবীর সুমন। এঁদের কারোই কিছু প্রমাণ করার ছিল না – কিছু তেমন পাবারও না – তা সত্ত্বেও ওই অবস্থান মঞ্চে এরা কেন? এমনও তো নয় যে এঁদের জোর করে ধরে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনজনেই বেশ এক্টিভ – কেন?
কিন্তু এই দুটো এনোমালি উপেক্ষা করেই সমর্থন জারি ছিল। তাহলে গত তিন চার বছরে কী এমন ঘটল? যার জেরে পালটে গেল আমার সমর্থন, দৃষ্টিভঙ্গী? ঘটল – আমার জীবনে। আমার বৌদ্ধিক চর্চায়। যার জন্য শুরুতেই বলেছি – সিঙ্গুর এখানে উপলক্ষ মাত্র – এই বক্তব্য আসলে আমার ব্যক্তিগত জার্ণি বিষয়ক। গত ছয় সাত বছরে আমার মননের জগতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্ভবতঃ গুরুচন্ডালীতে যোগদান। এখানে এসেছিলাম কিছু নামের টানে – আর নিজেকে একটু জাহির করব ভেবে। কিন্তু এখানে আরো অনেককে পেলাম – যাদের সামনে জাহির করা দূরে থাক, নিজেকে নেহাৎ ই চুণোপুঁটিতুল্য বলে চিনে নিতে সময় লাগলো না। এখান থেকে পেতে লাগলাম নতুন দৃষ্টিভঙ্গী – বহুত্ববাদের নতুন ব্যখ্যা। সেই সঙ্গে আরো দু-একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা – এই সময়কালে আমি ভারতের দু-তিনটি বিশেষ অঞ্চলকে কাছ থেকে চিনলাম – ওড়িশা, ত্রিপুরা এবং ছত্তিশগড়। আর এই সময়েই পড়ে ফেলা কিছু আন্তর্জাতিক সাহিত্য - যা নতুন করে চিনতে শেখালো আমার চারিদিকটাকে। এই কাছ থেকে দেখা, এবং তার সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গীর, এপ্রোচের পরিবর্তন আমার ভাবনায় প্রভাব ফেলতে শুরু করল। আগের ভাবনার এনোমালিগুলো বড় হতে হতে আর উপেক্ষণীয় রইল না।
প্রথম এনোমালি – সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে চিনি কি না – ক্রমশঃ নিশ্চিত বোঝা গেল, সত্যিই চিনতাম না। ততদিন অবধি যাদের বক্তব্য মূল্যবান মনে করেছি, এবং যাদের বক্তব্য টিভিতে বা কাগজে বিদগ্ধদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখেছি – তারা সবাই মূলতঃ মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের প্রতিভূ। এর আগে যখন ছাত্রাবস্থায় বা প্রথম যৌবনে বামপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে গরীব মানুষের মধ্যে গিয়ে থেকেছি, কাজ করেছি, তখন নিজের অজান্তেই, পরিবার এবং শিক্ষার প্রভাবে, তাদের সংগে একটা দূরত্ব থেকেই গেছিল। অর্থাৎ এরা গরীব গুর্বো মানুষ, আমাদের এদের জন্য কিছু করা উচিৎ - নইলে বেচারাদের কী হবে এরকম একটা মানসিকতা। ঠিক প্রকটভাবে এরকমটাই নয় – কিন্তু প্রচ্ছন্নভাবে যে এরকমটাই ছিল, সেটা তখন না বুঝলেও এখন দিব্যি বুঝি। আর এই দূরত্বটার কারণেই তাদের কোনদিন ঠিকমতো চিনিনি আমি, আমরা। মধ্যবিত্ত বামপন্থী কর্মীরা। সিপিএম / ডি ওয়াই এফ আই / এস এফ আই এর “ক্যাডার”রা। নব্বই এর দশক এবং তার পরের। কারণ তখন সেই পারস্পেক্টিভ আমাদের ছিলনা – যা পেয়েছি গুরুচন্ডালী এবং তার বিভিন্ন চিন্তকের সূত্রে। সব রকম মতবাদের চিন্তকেরাই এর মধ্যে আছেন – বাম, অতি বাম, মধ্য, দক্ষিণ, চরম দক্ষিণ।
আর দ্বিতীয় খটকা – ওই তিনটে নাম। এরা কিন্তু কেউ নিজেদের কাজের বাইরে যাননি – অস্বাভাবিক কিছু করেননি। মেধা নর্মদায় যা করেছেন, মহাশ্বেতা পুরুলিয়ায়, সুমন তার গানে – এখানে সেই ধারাবাহিকতাই তাঁরা বজায় রেখেছেন (কবীর সুমন নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে – কিন্তু ক্রনোলজিকালি, সুমনের পদস্খলন এর অনেক পরের ঘটনা)। তারা সেই সব মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যাদের জমি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের “উন্নয়নে”র চাকার তলায় চাপা পড়েছেন। আমরা তখন বুঝেছিলাম, নিজেদের মগজ বন্ধক রেখেই বুঝেছিলাম এটা আসলে তাদের “ভালো”র জন্যই – কারণ তখনো ভাবতাম তাদের ভালো আমরা ছাড়া কে-ই বা করবে।
তাহলে দাঁড়ালো কি? সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে তখন সমর্থন করতাম, এখন করছি না। কেন করছি না? কারণ এখন আমার কাছে বিষয়টা অন্য পরিপ্রেক্ষিতে ধরা দিয়েছে। এখন আমি আর মনে করি না, সিঙ্গুরের (বা নন্দীগ্রাম, বা হরিপুর, বা দান্তেওয়াড়া, বস্তার, কালাহান্ডি, রায়পুর, বালুরঘাট এবং এবং এবং --) মানুষের ভালো বা মন্দ করা আমাদের দায়ীত্ব। সেটা তাদের দায়ীত্ব, এবং সে দায়ীত্ব নিতে তারা যথেষ্ট সক্ষম, যদি বাইরে থেকে অবিরত নাক গলানো বন্ধ করা হয়। সিঙ্গুরের জমি, অধিগ্রহণের আগে তিন ফসলী ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে – এই জমিতে কারখানা করার কোন জাস্টিফিকেশন দেখি না। হয়তো যে সব অংশে কন্সট্রাকশন হয়ে গিয়েছিল, জমি সংস্কার করলেও তারা আর আগের মত উর্বর থাকবে না (আমি কৃষিবিদ নই – সঠিক জানি না), তবুও এ জমি চাষীদের ফেরৎ পেতে দেখে আমি খুশী। তাঁরা যথেষ্ট কুশলী এবং পরিশ্রমী – আজ না হলেও কয়েক বছর পরে ওই জমি আবার তার আগের চরিত্র ফিরে পাবে বলেই আমার ধারণা।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ণ দরকার আছে বলে মনে করি কি না? শিল্পায়ণ হলে কর্মসংস্থান হবে, বেকার যুবক যুবতীরা কাজ পাবে, রাজ্যের মেধা ভিনরাজ্যে পাড়ি দেবে না – এগুলি চাই কি চাই না? ছয় বছর আগে হলে নির্দ্বিধায় বলতাম হ্যাঁ চাই এসব। এখন আর বলতে পারিনা ততটা জোরে। কারণ, যারা এসব বলেন, তারা প্রায় সবাই একটা ভাসা ভাসা ধারণা থেকে কথাগুলো বলেন। শিল্পায়ণ হলে কী ধরণের কর্মসংস্থান কতটা হবে তার পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই । যাদের আছে, তারা জোর দিয়ে বলতে পারেন না, সেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের কী সম্পর্ক? কেন কৃষিজমিতেই শিল্প হতে হবে? কেন বন্ধ কারখানার জমি অধিগ্রহণ করে নতুন শিল্প করা যাবে না? কেন বাঁকুড়া পুরুলিয়া অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত অনুর্বর, পতিত জমিতে শিল্প হবে না এবং তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা হবে না? এবং সব শেষে আরেকটা প্রশ্ন ছোট্ট করে রেখে যাই – “মেধা ভিন রাজ্যে চলে গেলে” ক্ষতি কি? মেধা মানে তো প্রকৃত মেধাবী নিয়ে মাথা ঘামানো হচ্ছে না – এখানে “মেধা” বলতে সেই মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকের পাশ করা ছেলেমেয়েদের কথা বলা হচ্ছে। তারা পাশ করেছে, ভালো চাকরি করবে বলে – যেখানে পাবে, সেখানেই যাবে। যেখানে যাবে সেখানকার অন্ন ধ্বংস করে আয়েশ করবে – কেউ কেউ লোকদেখানো চ্যারিটি করবে। এরা বাড়ির ভাত খেতে পেলো কি না, তাতে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের, অবশিষ্ট ভারতের কী যায় আসে?
বস্তার থেকে রায়পুরে দেখেছি, কালাহান্ডি থেকে ভূবনেশ্বরে দেখেছি, সোনাই থেকে আগরতলায় দেখেছি, কাঁথি থেকে কলকাতায় দেখেছি – কিভাবে “উন্নয়নে”র নামে সর্বত্র নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষকে উৎখাত করে, তাদের পেশা থেকে, জীবনযাত্রা থেকে, সংস্কৃতি থেকে উচ্ছেদ করে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আরো আরো প্রান্তে – যাতে সুবিধাভোগী শ্রেণীর জন্য আরো সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়। তা তাদের প্রাণের মূল্যেই হোক না কেন। এই দেখার পর আর সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে শাইনিং পশ্চিমবঙ্গের কোন কথা বিশ্বাস করিনা। সিঙ্গুর রায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয় নি – কৃষিজীবি দরিদ্র মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে। বামপন্থী আন্দোলনকে দিশা দেখিয়েছে – আয়রনিকালি হলেও।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

হ্যাঁ, সানন্দে একর প্রতি 48.56 লাখ দেওয়া হয়েছিল। তবে সানন্দ এর কৃষিজমি আর সিঙ্গুরের কৃষিজমির ডাইরেক্ট কম্পেয়ার করা যায় কিনা জানিনা, যদিও সেটা বড়ো প্রশ্ন না। বড়ো প্রশ্ন হলো সিঙ্গুরে ক্ষতিপূরন বাড়ানোর জন্য নেগোসিয়েশান হয়েছিল কিনা।

সানন্দে যেটা হয়েছিলঃ Raubha Vaghela, president of Sanand Industrial Association, helped villagers get a good price. He said, “The farmers had initially demanded Rs 1,500 per sq mt, or Rs 60.7 lakh per acre. GIDC, however, found the price too steep. During the second round of talks, they sought Rs 48.56 lakh per acre. The GIDC offered a price of Rs 900 per sq mt, or Rs 36.42 lakh per acre. However, the villagers were dissatisfied. Finally, the deal was struck at Rs 1,200 per sq mt.”

এই নেগোসিয়েশান জরুরি ছিল এইজন্যও যে সানন্দের চাষীরা কিন্তু বেশী কমপেনসেশান পেয়েও অন্য জায়গায় জমি কিনতে চেয়েছেন বা ভবিষ্যতে কি হবে সেই নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। এটা আন্ডারস্ট্যান্ডেবল, কারন মানুষ স্বভাবতই অনিশ্চয়তা ভয় পায়, নতুন জীবিকায় যেতে ভয় পায়। তো সিঙ্গুরে চাষীদের এই অনিশ্চয়তা আরও খুঁচিয়ে তোলা হয়েছিল। বেশী ক্ষতিপূরন দেয়ানোর বদলে তাঁদের আরও বেশী করে ভয় পাওয়ানো হয়েছিল।
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

"বড়ো প্রশ্ন হলো সিঙ্গুরে ক্ষতিপূরন বাড়ানোর জন্য নেগোসিয়েশান হয়েছিল কিনা"

বোতিনের থেকে জার্গন ধার করে বলি সেটা বাংলা হয়নি। মমতার আন্দোলনের উদ্দেশ্য একমাত্র ছিল কারখানা বন্ধ করা। কোন সন্দেহই নেই তাতে। কিন্তু যেটা বুঝিনি বুদ্ধ-নিরুপম জুটি (পুরো ওয়াকার-ওয়াসিম জুটি মাইরি) নিজে থেকে রিভাইসড কম্পেনসেশন প্যাকেজ ঘোষণা করল না কেন? মমতা বা অতিবদ অতিবাম কারোর আন্দোলন থেকেই হাওয়া বেরিয়ে যেতে এক মুহূর্ত লাগত না।

ঐ যে বললাম, লুরুতে সরকারি গাইন্ডেন্স ভ্যালু অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের প্যাকেজে রাস্তা বানানোর জমি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু বর্ধিত প্যাকেজে মেট্রোর জমি অধিগ্রহণে কোন সমস্যাই হচ্ছে না। তা, হঠাৎ করে শিল্প করব বলে লাফাব এদিকে পার্স খুলতে আঁতে লাগে, ফলস্বরূপ যা হবার তাই হয়েছে।
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

অর্পন, এখানে কিছুটা দ্বিমত আছে। বুদ্ধ-নিরূপম প্যাকেজ বাড়ানোর কথা একেবারে ঘোষনা করেনি তা নয়। বুদ্ধবাবু বোধায় একবার ১০% না কতো যেন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাছাড়া যদ্দুর মনে পড়ে মমতাকে দুয়েকবার বোধায় ডেকেওছিলেন প্যাকেজ নিয়ে নেগোসিয়েশানের জন্য। মমতা স্বাভাবিকভাবেই তাতে সাড়া দেননি, কারন তদ্দিনে উনি বুঝে গেছেন যে আন্দোলন চালিয়ে গেলে ওনার বেশী লাভ। আরেকটা দিক আছে। সানন্দে দেখুন, ভিলেজারদের হেল্প করা হয়েছিল যাতে তাঁরা বেশী দাম পান। আর সিঙ্গুরে সিপিআইএমেল আর বাঙ্গুর হাসপাতাল সমবায় (নামটা ভুলে গেছি, কিন্তু এরকমই উদ্ভট একটা কমিটি) আর আরও অনেকগুলো দল মিলে ওখানেই বিপ্লব এনে ফেলেছিলেন, ফলে ওনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টাটাবাবুদের তাড়ানো যাতে ক্যাপিটালিজমের পরাজয় ওখানেই ঘোষনা করা যায় (মাইরি বলছি, সিপিআইএমেল না কারা যেন ক্যাপিটালিজম হ্যান ত্যান নিয়ে ইউসুয়াল ভাট বকতেন)। কাজেই নেগোসিয়েশানের পরিস্থিতিটাই তৈরি করতে দেওয়া হয়নি।
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

একটা তথ্য এখন সামনে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের জন্য, সেটা হলো বুদ্ধবাবুর ক্যাবিনেট হঠাত করে জমির পরিমান ৬০০ থেকে ১০০০ করে দিয়েছিল। এখানে কিছু একটা জালি আছে, কোর্ট যদি চায় তো সেটা বেরোবে নচেৎ নয়। এই ঘাপলাটা যদি না হতো তাহলে কিন্তু সিঙ্গুরে শিল্প বানানোর ডিসিশান খুব একটা ভুল ছিল মনে হয়না। নেগোসিয়েসান করা, ক্ষতিপূরনের দর বাড়ানো, বেটার প্যাকেজ দেওয়া এসবই করা যেত।
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

১৮ লাখের ১০% আর কত হয়? বাদামও তো ভাজা হয় না।

আর মমতাকে ডাকার কোন দরকারই ছিল না বাজারদর অনুযায়ী সরকার থেকে নতুন ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেই তো হত। কিন্তু সেই সময়, মনে করে দেখুন কমরেড, নিরুপমবাউ সবকিছুই ট্রেড সিক্রেট বলে এড়িয়ে যেতেন। স্বাভাবিকভাবেই জনমতে সন্দেহ দানা বাঁধে যে বেশ কিছু ঘাপলা সরকার থেকে হয়েছে যেগুলো চাপা দিতে উনি সর্বদাই সচেষ্ট।

(সাধে বলেছি ওয়াকার-ওয়াসিম জুটি? রিভার্স সুইং অনেকদিন শুধু ওদেশেই গুপ্ত বিদ্যা ছিল, বাকিদের আয়ত্ত করতে সময় লেগেছে)
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

তৎকালীন বাজারদরের একটা হদিস ওই রেডিফের লিংকেই দেওয়া আছে। সেটা ওই ৫০ লাখের কাছাকাছিই দাঁড়ায়। আর সানন্দের জমির উর্বরতা মোটেও সিঙ্গুরের কাছাকাছি আসে না।
Avatar: সিকি

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

এখন নেট ঘাঁটার সময় নেই, কিন্তু আবছা মনে পড়ছে রাজ্যপাল যখন ডেকেছিলেন মমতা বুদ্ধ দু তরফকেই, বুদ্ধ প্রপোজাল দিয়েছিলেন কমপেনসেশন বাড়ানোর, আর মমতা গোঁ জারি রেখেছিলেন ৪০০ একর ফেরত নেবার জন্য। ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচ করে নি, মিটিং বিফল হয়েছিল।
Avatar: pinaki

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আরও যে কারণে সানন্দ আর সিঙ্গুরে তুলনা হয় না সেটা মনে হয় চাষের ওপর সরাসরি আর পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল লোকের সংখ্যা। শহুরে মধ্যবিত্ত সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রামকে ইন্টার্প্রেট করার সময় প্রথম যে ভুলটা করে - সেটা হল - এই দুক্ষেত্রেই আন্দোলনটা মূলতঃ তৈরী হয়েছে নিচুতলা থেকে চাপে। ওপর থেকে মমতা বা অন্য কেউ কিছু প্ল্যান বানিয়ে লোককে খাইয়েছে - এরকম নয়।
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ওরে বাবা ১০% কম না বেশী সে নিয়ে মন্তব্য করিনি। আর কমরেড অর্পন নিশ্চয়ই জানেন যে নেগোসিয়েশানের বেসিক শর্ত হলো যে বায়ার কম দর দেয়, সেলার বেশী দর দেয়, মাঝামাঝি মিট হয় ঃ)

আর হ্যাঁ সেসময়ে টাটাদের সাথে সরকারের গুপ্ত নেগোসিয়েশান কি কি হয়েছিল সেসব "ট্রেড সিক্রেট" অবশ্যই ফাঁস হওয়া উচিত। এই চারশো একর বাড়ানোর জন্য কারুর পকেট ভারী হয়েছিল কিনা সেটাও প্রকাশ্যে আসা উচিত। তবে সেসব আর জানা যাবে বলে মনে হয়না।
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

না, ওপরতলা থেকে মমতা প্ল্যান বানিয়ে খাইয়েছে এটা আমারও মনে হয়না। যেকোন সফল রাজনীতিকের মতোই মমতা সুযোগ চিনতে পেরেছিলেন। যখন দেখেছিলেন নীচু তলায় অসন্তোষ আছে (যেটা সানন্দেও ছিল, বেশীরভাগ জায়গাতেই থাকে) তখন তিনি সেই অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালতে শুরু করেন, যত্ন করে ওখানকার সাধারন মানুষের ভয়ভীতিগুলোকে ম্যাগনিফাই করতে শুরু করেন, ওনার দলের লোকেরা সেগুলো খোঁচাতে শুরু করে। অবশ্যই বুদ্ধবাবুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে বিরাট ব্যার্থতা ছিল এই আন্দোলনকে মোকাবিলা করতে না পারা।
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

সবচেয়ে বড় ভুল ছিল প্রোজেক্ট ইনিশিয়েশনের সময়। ঠিকমত স্টেকহোল্ডার অ্যানালিসিস না করা (বা বলা ভালো করতে না চাওয়া)। আর স্টেকহোল্ডার মানে শুধু সিঙ্গুরের জমিদাতা বা জমির ওপর নির্ভরশীল কম্যুনিটি শুধু নয়, সিঙ্গুরের লোকাল কৃষক সভাও তার মধ্যে পড়বে।
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

স্টেক হোল্ডার অ্যানালিসিস!!

পিএম পি করা প্রজেক্ট ম্যানেজার বাবা!!😂😂
Avatar: h

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ইন্সিডেন্টালি, ক্ষেতমজুর আর দিনমজুর দের একটা অংশকে একটা ট্রেনিং সেন্টার করে ট্রেনিং দেওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেটা র প্রসেসে 'আর্বিট্রারিনেস' ছিল, স্টেকহোল্ডার নির্ণয় টা সিপিএম সহ যেকোনো সরকারের বাবার জমিদারী অর্থাৎ কর্পোরেট মিটিং না যে ঘোসনা করলেই লোকে স্টেকহোল্ডার হয়ে গেল।ঃ-))) আমি এই পোগ্গামে অথবা পোজেক্টে স্টেকহোল্ডার কেন, কারণ আমার বাবা বলেছেঃ-))))))))))))))))

যেটা উচিত ছিল, ১৮৯৪ এর আইনের ক্ষেত মজুর দিন মজুরের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনি আনার পরে একটি সিল্প আনা, তখন দেরীর জন্য সবাই চলে গেল বললে হবে না, আর পালিয়ে গেলেও হবে না;-) প্লাস, প্যাকেজ জিনিসটা ডিপেন করে 'লোকেসন' এবং ইন্সিডেন্টালি, 'জমির চরিত্র পরিবর্তনের' উপরে, মানে মার্কেট রেট সংজ্ঞা অনুযায়ী। তো পুরুলিয়া যে কারণে কলকাতা থেকে ৩০ কিমি দূরে, ঠিক সেই চক্রান্তমূলক কারণে দিল্লী কলকাতার কাছেও না। এখন দাম বাড়ানোর আরেকটা সাংঘাতিক লেজিটিমেট উপায় ছিল, সেটা হল, সিল্প সিল্প হবে করে স্পেকুলেসন করিয়ে জমির দাম বাড়ানো, যে পদ্ধতি সত্যম / মেটাস ইত্যাদি কেস এ হায়েদ্রাবাদে হয়েছিল, আর এখন অবশ্য সেটাই হচ্ছে, ইন ফ্যাক্ট 'আমরা' শিল্প করবো বল্লেই জায়গার দাম বাড়বে, তাতে একাধারে সিল্পায়ন ও ল্যান্ড শার্কায়ন ও হবে, ট্রেডিং উইথ প্রিভিলেজ্ড ইন্ফো একটা বড় ব্যাবসা। বৈদিক ভিলেজ কেস এ এটাই হয়েছিল।

তবে এগুলো কোন ইসু না, এগুলো ভুল ঠিক, সিল্প বনাম কিসি ভেবে কি হবে, ইসু তো একটাই সেটা হল রায় ও তার পাঠ। বি এম ডাব্লিউ আশার আগে অব্দি রায় পড়ুন। সেটা সরসিজ আর আমি করেছি, অর্পণ এখনো করে নি ;-)
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

কবি বলেছেন " আশায় বাঁচে চাষা"। কিন্তু বদ্যি দের সম্পর্কে কিছু বলেন নি।অথচ ..... ঃ)))
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

বুঝলাম, হানুমেশোর আর নতুন কিসুই বলার নেই, কিছু গোল গোল ঘোরা ছাড়া, ইন ফ্যাক্ট আমিও তাই করে চলেছি, বাকি থাকল রায়দান মেড ইজি ভার্সন বাই দাশগুপ্তা এন্ড দাশগুপ্তা, সেও না হয় করে নেওয়া যাবে। ঃ)
Avatar: dc

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

স্টেকহোল্ডার অ্যানালিসিস ইত্যাদি ঠিকমতো করা হয়নি সে ব্যাপারে একমত। সেজন্যই কমপেনসেশান প্যাকেজও ঠিকমতো তৈরি করা যায়নি, যদিও সাধারন প্র্যাক্টিস হলো একটা বেসলাইন প্যাকেজ বানানো আর তারপর জনতা সেটাকে আন্দোলন/নেগোসিয়েশান করে অ্যামাউন্ট বাড়াবে। যাগ্গে, এখন সবাই মার্ভিনের রোল প্লে করছে (এটা ব্রতীন বাবুর জন্য)।
Avatar: h

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ইকি রে বাবা দাম কেন বাড়ে কমে, মার্কেট তত্ত্ব অনুযায়ী, সেই টে বুঝতে না পেরে চেচাইছিশ কেনে?

ফিক্স্ড প্রাইশ তো মার্কেট প্রন্থীদের পসন্দ না, ইনফ্যাক্ট দেয়ার লর্ডশিপস আরেকটি কাজ করেছেন, কমপেনসেশন সম্পর্কে কোন টার্ম্স অফ রেফারেন্স দেন নি, মানে এটা নতুন কথা হিসেবেও প্রায় তিন বার বললাম, রায় পাঠের আগে স্বাভাবিক ভাবেই অসম্ভব ছিল ;-)))))))))))))

মানে কি হিংসুটি কি হিংসুটি, নিজে পড়ে নি, বদ্যি দের হিংসে। অসংখ্য রায় রয়েছে এ বিষয়ে, পড়ুন ও পড়ান। তবে রায়দান নিজ দায়িত্ত্বে করবেন।
Avatar: h

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

* কমপেনসেশন সম্পর্কে কোন টার্ম্স অফ রেফারেন্স দেন নি, যদিও কম্পেন্সেশন কে স্কোপের বাইরে রাখা হয় নি।
Avatar: Arpan

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ওটা বুঝেছি কাকা। প্রশ্নটা ছিল ১৮ লাখ একর পিছু এইটা কি কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব মেপে বেরিয়েছিল?

(সে যাক, সবই ট্রেড সিক্রেট ছিল একদা)
Avatar: h

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

সম্পূর্ণ আর্বিট্রারি, সেই জন্যেই তো টার্ম্স অফ রেফারেন্স প্রয়োজন ছিল, যাতে দাম নির্নয় কি করে হবে বোঝা যায়। একর প্রতি ১৮ লাখ টাও সর্বোচ্চ ছিল, তাই কেন ভ্যারিয়েশন হয়েছিল, তার তাত্ত্বিক দিকটা মার্কেট ইকোনোমি , রাস্তার পাশে ইত্যাদি আমরা জানি, কিন্তু এগজ্যাক্টলি জানতে গেলে, বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী আর আমলা দের বিরুদ্ধে আলাদা করে মামলা করা উচিত, প্রয়োজনে ক্রিমিনাল। আর ভবিষ্যতে এ পাপ আটকানোর উপায় ছিল টার্ম্স অফ রেফারেন্স সেটার অসম্পূর্ণতার কথাই বলা হয়েছে মাত্র। 'যেহেতু রাষ্ট্রপতির এই রূপ প্রতীতি হইয়াছে' দিয়ে যে কোন অধিগ্রহণ এর নোটিস শুরু হয়। ইনফ্যাক্ট ভাষায় ক্ষমতার আস্ফালন নিয়েও মামলা করা উচিত, পদ্ধতি ও প্রকরণ ই যখন মূল বিষয়, অধিগৃহীত জমিতে প্রাইভেট শিল্প স্থাপনের নীতি তে অর্পণের আপত্তি নেই মনে হচ্ছে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন