সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

স্বাদ

একক



সামাজিকতা মেটার পরে, যে ঘরটায় কোনোদিন থাকতে চাইনি সেখানেই জায়গা হলো । একটামাত্র খুপরি জানলা । দেয়ালের দিকে মুখ করে ছবির দিকে তাকিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে । এই জামাটাই । ছবিতেও । সেই ধর্মতলার দোকান থেকে এনেছিলুম , ঠিকঠাক ফিটিং হতো তখন , কিন্তু দিনদিন শুকিয়ে কেমন হাড়সর্বস্ব হয়ে গেলেন মানুষটা । এখনো দেখছি সেইরকম । জেগে আছে পিঠের ডানা দুটো । পাশে গিয়ে দাঁড়াতে একবার দেখে বললেন : খাওয়া শেষ করতে পেরেছিলে ?

বললুম : না । গলায় আটকে গেলো তো ।
হাসলেন : আমার ও তো তাই , জলের গেলাস অবধি হাত

আরও পড়ুন...

অন্নময়

একক

ভিজে ঝাপসা হয়ে জ্যোতি ঘরে ঢোকে । ভুক্তান ইশারায় জুতো খুলতে বলে । জ্যোতি হেঁটে যায় সোফা অবধি । সাদা বেডকভার জড়ানো সোফায় থেবড়ে বসে টেনে টেনে চামড়ার মত জুতো ও মোজাজোড়া খুলে ঘরের মেঝেতে ছুঁড়ে দেয় । ভুক্তান নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে । লেখাটা শেষ করতে হবে । কালকেই জমা দেওয়ার শেষ দিন । অগ্রীম টাকা নিয়েছে তারওপর । পিরিয়ড ড্রামার বরাত বলে কথা ।

"মনময়ের ক্ষুধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছিল অথচ ঘরে দুইটি বাসী রুটি ভিন্ন কিছুই নাই " - এই অবধি লিখে ভুক্তান থেমে যায় । ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে

: রু

আরও পড়ুন...

ঢেঁকি

Sarit Chatterjee

ঢেঁকি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সামনের বাড়িটার জানলা দিয়ে টিভিটা দেখা যাওয়ায় ওর খুব সুবিধা হয়েছে। সাড়ে সাতটা বাজলেই 'গোয়েন্দা গিন্নি'র জন্য ছটফট করে ওঠে ওর মনটা। আহা! রবার্ট ব্লেক বা ফেলু মিত্তির কোথায় লাগে এই পরমা মিত্তিরের কাছে!

আজও সবে ও বেশ আয়েশ করে জাঁতি আর সুপুরিক'টা নিয়ে বসেছিল; হঠাৎ নাকে অগুরু সেন্ট-এর গন্ধটা ধক করে এসে লাগল। ভুরুজোড়া অনিচ্ছা সত্তেও কুঁচকে উঠল ওর।
যা সন্দেহ করেছিল ঠিক তাই! গায়ে আদ্দিরের গিলে করা ফিনফিনে পাঞ্জাবি, কোঁচানো ধুতির কোঁচার ফুল হ

আরও পড়ুন...

হু ওয়াজ নজরুল ?

Sushovan Patra

- হু ওয়াজ নজরুল মামমাম?
- সাচ অ্যা শেম তাতাই! ইউ ডোন্ট ইভেন নো নজরুল তাতাই? হি ওয়াজে গ্রেট বেঙ্গলি পোয়েট, রাইটার অ্যান্ড মিউজিসিয়ান। উই অল রেড হিস পোয়েম ইন আওয়ার চাইল্ডহুড।
দিল্লী মেট্রো তে আড়ি পেতে শোনা এই কথোপকথনের মত, গত পাঁচ বছরে আরও গণ্ডা খানেক উদাহরণে ঋদ্ধ হয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, দিল্লীর কনটেম্পোরারি বাঙালি বাপ-মা’রা কদাচিৎ ব্যতিক্রম ছাড়া আর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন না। আজকাল তো শুনছি কলকাতাতেও বলেন না। গ্লোবালাইজেশনের দুনিয়ায় ক্লাস টু’র বাচ্চা'দের ইংরেজিতে ঢেকুর তোলাটাও ন

আরও পড়ুন...

কবিরা খড়া বজার মেঁ

শিবাংশু

কবিরা খড়া বজার মেঁ, মাঁগে সবকা খ্যয়ের ।
না কাহুসে দোস্তি, না কাহুসে ব্যয়ের ।।

('বজার' মানে মানে এই সমাজবিশ্ব। কবির সেখানে দাঁড়িয়ে সবার মঙ্গল কামনা করছে। তার সঙ্গে কারও বন্ধুতা নেই, শত্রুতাও নেই কারও সঙ্গে।)
ছোটবেলায় পড়া কবিরের অনেক দোহার থেকে এই দোহাটি আলাদা করে মনে থেকে গিয়েছিলো। নির্গুণ ভূমাদর্শনের সব কথা এই কটা শব্দের মধ্যে ধরে ফেলা কবিরের পক্ষেই সম্ভব। বয়সের বিভিন্ন স্তরে এই শব্দনির্মাণটি বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
---------------------------------
প্রাতিষ

আরও পড়ুন...

নীলকরের দালালী

Debabrata Chakrabarty


আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রেজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হতে চলেছে । চুক্তি চাষ কথাটি যেহেতু সিঙ্গুর ,নন্দীগ্রাম পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বিপদজনক সেহেতু এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পার্টিসিপেটারি ফার্মিং - অংশগ্রহণ মূলক চাষ । আনন্দবাজারের এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে শাসকের পালটি খাওয়া শুরু ,তাও এমন এক ভদ্রলোকের হাত ধরে যিনি বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত কৃষক বিরোধী কাজকর্মের পাণ্ডা ছিলেন । আদিবাসি জমি ,খাস জমির চরিত্র বদল করে হাজার হাজার একর জমি উনি উত্তর

আরও পড়ুন...

নীলকরের দালালী

Debabrata Chakrabarty


আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রেজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে রাজ্যে চুক্তি চাষ শুরু হতে চলেছে । চুক্তি চাষ কথাটি যেহেতু সিঙ্গুর ,নন্দীগ্রাম পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বিপদজনক সেহেতু এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পার্টিসিপেটারি ফার্মিং - অংশগ্রহণ মূলক চাষ । আনন্দবাজারের এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে শাসকের পালটি খাওয়া শুরু ,তাও এমন এক ভদ্রলোকের হাত ধরে যিনি বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত কৃষক বিরোধী কাজকর্মের পাণ্ডা ছিলেন । আদিবাসি জমি ,খাস জমির চরিত্র বদল করে হাজার হাজার একর জমি উনি উত্তর

আরও পড়ুন...

নীলকরের দালালী

Debabrata Chakrabarty


( ইস্যু অনেক ,কিছু গুরুত্বপুর্ন ,কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন তবে যে ইস্যুর সাথে কোটী কোটি মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত আমার মতে সেই ইস্যুর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া এক ধরনের জ্ঞাত অজ্ঞাত চক্রান্ত ,নিচের প্রবন্ধটি সেই রকমের একটি ইস্যু বিষয়ক । আমাদের রাজ্যের কৃষি বিপণন কে পুঁজিবাদী বৃহৎ কর্পোরেট দুনিয়ার কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বিষয়ে । পড়ুন ,পড়ান জনমত সৃষ্টি করুন অবশ্যই যদি গুরুত্বপুর্ন ইস্যু বলে মনে হয় )

আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,শ্যামের নাম ‘ কানাই ‘ রেখে রে

আরও পড়ুন...

ভোঁ কাট্টা

Prativa Sarker

আজ অটোর জানালা দিয়ে রাজাবাজারের মোড়ে দেখি আকাশের অনেক উঁচুতে চৌকো গোল নানা রঙিন ছোপ।

ঘুড়ি !

নাকি হৃদয়ের কথা যা কোনদিন কেউ শুধোল না!

সে যাই হোক, ছোটবেলাটা ছুট্টে এলো কোথা থেকে এই ঘিঞ্জি ভিড় ঠেলেও! তার মাথায় এখনো রিবন বাঁধা, হাঁটু ঝুল ফ্রক। মনে করিয়ে দিল ডানপিটে মেয়েটাকে যে একগাদা ছেলের সঙ্গে পাশাপাশি দুটো বড় গাছে ঘুড়ির সুতো পেঁচাচ্ছে। ঘুরিয়েই যাচ্ছে।
তেতলার হাতে এরারুট বা গদের আঠা। ওই আঠা ন্যাকরায় নিয়ে পেঁচানো সুতোয় লাগাতে হবে। আর সাগরের হাতে হামানদিস্তায় পেষা ফটো

আরও পড়ুন...

সিঙ্গুর -- একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া

Somnath Roy

সিঙ্গুরের ঘটনাপুঞ্জ তার বৃত্ত সম্পূর্ণ করলো এই সপ্তাহে। এইখানে বৃত্ত লিখতে তবুও একটু বাঁধছে, কারণ, গত দশ বছর আগে কোনও ভাবেই ভাবতে পারিনি যে শেষটা এইখানে হবে। প্রথমে তো বেশ ভালোই লাগছিল, অফিসে কম্পিউটার আর প্রাথমিকে ইংরেজি বর্জনকারী সিপিএম অবশেষে রাজ্যে ইন্ডাস্ট্রি আনা নিয়ে সিরিয়াসলি কিছুটা এগোচ্ছে দেখে। চাকরি বাকরি বাড়বে, ক্যাশ ফ্লো বাড়বে, অর্গানাইজড লেবার ক্লাস তৈরি হবে--- ইত্যাদি মিলিয়ে সে বেশ ভালো ব্যাপার মনে হচ্ছিল। তারপর সেই ফোর্থ ইয়ার থেকে জেনেছি কোর জব করতে হলে বাড়ি ছাড়তে হবে, এই শিল্পা

আরও পড়ুন...

মৃত্যুভয়, পাপক্ষয়

Sarit Chatterjee

মৃত্যুভয়, পাপক্ষয়
সরিৎ চট্টোপাধ্যায়

কাপালিকের তন্ত্রে মেশে রক্তের নেশা, তার খড়্গ আর ভাল
মহাডামরির জিভের মতো লাল; অপেক্ষায়
হাড়িকাঠে পিছমোড়া করে বাঁধা মানব-শিশু। শিশু হত্যা, হালাল।

অষ্টমীর অঞ্জলি দিচ্ছে পেট-মোটা ডাক্তার
সেই সুগারটা দিলি তো মা, দেখিস হার্ট কিডনি দুটো যেন ভালো থাকে
মাইরি বলছি, পুষিয়ে দেব, এই ডেঙ্গুর সিজনটুকু যাক।

আমলা মন্ত্রী শিল্পপতি মরিয়া হয়ে এক সারিতে খাড়া
তদন্তের হাত থেকে জাস্ট এবারটা বাঁচিয়ে দাও, ট্রিনিটি বাপেরা!
নিখাদ

আরও পড়ুন...

উগ্র প্রাদেশিকতা কর্ণাটক তামিলনাড়ু জুড়ে

souvik ghoshal

উগ্র জাতিয়তাবাদের বিপদ ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। দুটো বিশ্বযুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ নাৎসীবাদের উত্থানের মধ্যে এই উগ্রতার সমস্যা আমরা দেখেছি। উগ্র প্রাদেশিকতাবাদও যে কতটা সমস্যাজনক হতে পারে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর পরিস্থিতি তা আমাদের দেখাচ্ছে। এর আগে মহারাষ্ট্রে আমরা শিবসেনা বা মহারাষ্ট্রের নবনির্মাণ সেনার দ্বারা এরকম ঘটনা দেখেছি। সেখানে বিহার থেকে চাকরীর পরীক্ষা দিতে যাওয়া যুবকদের মারাত্মক হেনস্থার কথা অনেকেই মনে করতে পারবেন। রাজনৈতিকভাবে উগ্র প্রাদেশিকতাকে ব্যবহার করার একটা প্রবণতা, সহজে গরম বক্তৃতা দিয়ে রা

আরও পড়ুন...

ঈশ্বর, মৃত্যু ও অপেক্ষা

Sumeru Mukhopadhyay

বেশ। মৃত্যু এখন তাড়া করেছে। তার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই। তাই আমার পিছনে, আর সে কেবল দৌড়ে বেড়ায়। হোঁচট খায়, আমি ঘাড় না ঘুরিয়ে টের পাই। ইচ্ছে হলে আমানবিক হাসি। মৃত্যুর ব্যপারে আমি নিষ্ঠুর, হয়ত আরও নিষ্ঠুর হতে চাই। আমি আবার পালিয়ে বাঁচি। ধর্মের জল গাইয়ে না লাগিয়ে আমি হাঁটি মত্যুর পেতে রাখা ইঁটের ওপর, টালমাটাল সীমান্ত গান্ধী, যেমন সন্ধ্যার সহজাত আখ্যান। এখনও সময় পেলে ভাবি, মৃত্যু কেন দৌড়ায়, এই যে অকিঞ্চিৎকর, এই অনবরত দীর্ঘশ্বাস ক্লান্তিকর মনে হয়। বাতি লাল হলে জেব্রা বরাবর মৃত্যুকে রাস্তা পেরতে দেখি। আমি দ

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

[গ] বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে কী বোঝায়

এপর্যন্ত পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বলতে বসে আমি স্রেফ ভূগোল আর ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কেন? বিজ্ঞান নিয়ে এখন অবধি একটাও কথা তো পাড়িনি। বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বিজ্ঞান-বোধ হয় নাকি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান যা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত—এই সব কথা তো বলছি না। বিজ্ঞান মানে সব কিছুকে যুক্তি তর্ক করে বিচার বিশ্লেষণ করে তবে গ্রহণ করতে হবে—সেই সব পুরনো কাসুন্দির কথা তুলছি না তো? ধান ভানতে বসে শিবের গীত গাইছি কেন?

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # এক

Ashoke Mukhopadhyay

ফেসবুকে বছর দুয়েক আগে একটা খবর পড়ে চমকে উঠেছিলাম। বিহারের একটি গ্রামে বাবা-মা তাদের দুই যমজ কন্যার একজনকে পুড়িয়ে মেরেছে আর একজনকে সুস্থ করে তোলার অভিপ্রায়ে। সন্তানদুটি দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগছিল। কিছুতেই ভালো হচ্ছিল না। শেষে তারা নিরুপায় হয়ে এক তান্ত্রিক বাবার কাছে যায়। সে পরামর্শ দেয়, ভগবান নাকি কোনো কারণে সেই বাবা-মার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে এদের ফেরত চাইছে। তাই ওরা ভালো হচ্ছে না। হবেও না। অন্তত একজনকে ভগবানের কাছে ফেরত দিতে হবে। তাহলেই একমাত্র অপর সন্তানটি সুস্থ হয়ে উঠবে। তারপরেই একদিন বড় সড় আয়োজন ক

আরও পড়ুন...

ইছাপুর

Pragati Chattopadhyay

ইছাপুর একধরণের স্থানিক উপস্থিতি, যা ছিল ছোটবেলার পাশে, তাকে আলগা ভাবে বেড় দিয়ে। খুব একটা নিশ্চিত, শক্তপোক্ত নয়... দু'চারটে মেঠো ডাল, কঞ্চির একটা এলোঝেলো বাঁধন। তার মধ্যেই ইছাপুর ছিল।

মানে,এখন নেই। ইছাপুর কখনো অনন্ত হয়না।
অথচ, একসময় দমদম জং থেকে স্টেশন পেরিয়ে পেরিয়ে,বেলঘরিয়া-আগরপাড়া-সোদপুর-খড়দা...
টিটাগড়-ব্যারাকপুর-পলতা পেরিয়ে ইছাপুর একটি সরল সত্যের মত থাকত, যার কেন্দ্রে একটি সূক্ষ্ম পারিবারিক কোড। বালিকাদের কাছে সেই বিধি এক রকম, বড়োদের কাছে এক রকম।
এক একটি মফস্বলী স্টেশন

আরও পড়ুন...

তেলতেলে সংবাদ

Sushovan Patra

কে.সি নাগের অঙ্ক তো নয় যেন গব্বর সিং’র জুলুম। অনুশীলনীর তিরিশ,একত্রিশের অঙ্কগুলো তো কষার জন্য নয় বরং অঙ্কের টিউশনে যৌবনের প্রেস্টিজ কে ছড়িয়ে ছাপ্পান্ন করার জন্যই লেখা। বাজার থেকে একটু চা-পাতা কিনতে যাবেন অর্ধেক আসাম চা-পাতার সাথে দার্জিলিং চা-পাতা, ভেজাল চা-পাতা মিশিয়ে কে.সি নাগ আপনাকে লাভ-ক্ষতির হিসেব করতে বসিয়ে দেবেন। স্নান করতে গিয়ে দেখবেন কে.সি নাগ চৌবাচ্চা তে একটা বড় আর একটা ছোট ফুটো করে দিয়ে চলে গেছেন। এবার পাটীগণিতের মাথা খেয়ে স্নান করবেন না, জল ধরবেন-জল ভরবেন? দুনিয়ায় একমাত্র কে.সি নাগের

আরও পড়ুন...

কেক-বিস্কুট বনাম ইউরিয়া মেশানো মুড়ি

Gautam Mistri

ব্রেকফাস্ট টেবিলে যুদ্ধ ঃ

বিগত শতাব্দীর সাতের দশকে একবার “দ্যাশের” বাড়িতে গেছিলাম। মানে, এখনকার বাংলাদেশের পিরোজপুরে। সারাদিন খেয়া নৌকায় সফর করে বাড়ি পৌঁছতে সন্ধ্যা নামল। কোলকাতার আদবকায়দায় অভ্যস্ত নাতিনাতনির জন্য দিদিমাকে অনেক ভেবেচিন্তে খাবারের বন্দোবস্ত করে রাখতে হয়েছিলো। নমুনা পাওয়া গেল ব্রেকফাস্টের সময়। কাঁসার বাটিতে চা আর কলাই করা থালায় হলদেটে বিভিন্ন আকারের শক্ত আটার বিস্কুট। সেই বিস্কুটের দোকান উনি কোথায় খুঁজে পেলেন বা সেই আশ্চর্য বিস্কুট কোন বেকারিতে তৈরি হয়েছিল সেটা জিজ্ঞ

আরও পড়ুন...

রিলায়েন্স-জিও: জালিয়াতি না প্রযুক্তিবিপ্লব?

Asish Das

রিলায়েন্স জিও মার্কেটে আসার পর থেকেই চারদিকে সাড়া পড়ে গেছে। বহুদিন ধরে বদ্ধ জলার মত স্থির থাকা ইন্ডিয়ান টেলিকম মার্কেটে জিও-র আবির্ভাব প্রায় ছোটখাটো সুনামি বললে অত্যুক্তি হবে না। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রায় ৫০% কম রেটে কিভাবে রিলায়েন্স এত ডাটা এত মানুষকে প্রোভাইড করবে সেটা নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল। তার উপর রয়েছে আনলিমিটেড ফ্রি ভয়েস কল! শুনতেও অবাস্তব লাগে। এরমধ্যে নরেন্দ্র মোদী জিও-এর প্রায় ব্র‍্যান্ড আইকন হয়ে গিয়ে এতে কিছু রাজনৈতিক মশলাও মিশিয়ে দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক লাভের জন্য বা নেহাতই ভারতীয় সুলভ সং

আরও পড়ুন...

ফোর-ফোর-টু

সুকান্ত ঘোষ

আমরা প্রফেশনাল জীবনে কতটা ‘স্বাধীন’, তার কবল থেকে আমাদের ‘মুক্তি’র সংজ্ঞা কি ইত্যাদি ইত্যাদি চর্বিত চর্বণ আলোচনার প্রায় শেষের দিকে এসে সেদিন হঠাৎ করে কয়েক বছর আগে পড়া জনাথন উইলসন-এর (মূলত ক্রীড়া সাংবাদিক) একটি লেখার কথা মনে পড়ে গেল। আপাত দৃষ্টিতে আমাদের শুরুর আলোচনার সাথে ফুটবলের কোন সম্পর্ক ছিল না - কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল – আমার মাথার মধ্যে ‘মুক্তি’ কথাটি গাঁথল এবং তার সাথে প্রফেশনাল জুড়ে থাকার জন্য মনটা হঠ করে ফুটবল-ফুটবল করে আনচান করে উঠল!

জনাথনের ততদিনে বেশ নামডাক হয়ে গেছে ফুট

আরও পড়ুন...

সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

রৌহিন

সিঙ্গুরের রায় বেরোনোর পর থেকে চারদিকে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের জমির অধিগ্রহন অবৈধ ছিল এবং হাজার একর জমিই তার মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে আগামী বারো সপ্তাহের মধ্যে। পক্ষে, বিপক্ষে, এখন যারা পক্ষে আছেন তাদের মধ্যে কয়জন ডিগবাজি খেয়েছেন, সত্যিই এই রায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করল না লাভ – এসব নানা প্রশ্নে, নানা দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, নানা পথে আলোচনা চলেছে।। আমি এই আলোচনায় বেশী অংশ নিই নি – কারণ আমার কিছু ভাবার ছিল। ইন্সট্যান্ট রিয়াকশন দিতে পারিনি। নিজেকে জাস্টিফাই করার দরকার হয়েছিল।

আরও পড়ুন...