Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিজয় দিবস
    ১৬ ডিসেম্বর,১৯৭১ সালে আসলে কি হয়েছিল? পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল মিত্র বাহিনীর কাছে, মেজর জেনারেল জ্যাকব আত্মসমর্পণের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন,লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। মোটামুটি ১৬ ...
  • বুড়ু'র পাখপাখালী'রা
    বুড়ু'র পাখপাখালী'রাঝুমা সমাদ্দার।"জানিস, আজ এখানে আকাশ'টা কুয়াশার কাছে দশ গোল খেয়ে বসে আছে।" সক্কাল বেলাতেই ফোনের ওপারে বন্ধু।মনের জানালা খুলতেই স্পষ্ট ফুটে উঠল , সে দেশের ‎মেঘলা আকাশ,ঝিরঝিরে বৃষ্টি, পাগলা হাওয়ায় শিরশিরে শীত ।বাবা বলতেন - "অঘ্রানে ...
  • মুনির অপটিমা থেকে অভ্র: জয় বাংলা!
    শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে উদ্ভাবন করেন ‘মুনীর অপটিমা’ টাইপরাইটার। ছাপাখানার বাইরে সেই প্রথম প্রযুক্তির সূত্রে বাংলা পেল নতুন গতি। স্বাধীনতার পর ইলেকট্রনিক টাইপরাইটারেও যুক্ত হয় বাংলা। পরে আটের দশকে ‘বিজয়’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সম্ভব ...
  • সুইডেনে সুজি
    আঁতুরঘরের শিউলি সংখ্যায় প্রকাশিত এই গল্পটি রইল আজ ঃদি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল সুইডেনে সুজি#############পিও...
  • প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজঃ সর্বজয়া ভট্টাচার্য্যের অভিজ্ঞতাবিষয়ক একটি ছোট লেখা
    টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভারসিটির এক অধ্যাপক, সর্বজয়া ভট্টাচার্য্য একটি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর কলেজে শিক্ষকদের প্রশ্রয়ে অবাধে গণ-টোকাটুকি, শিক্ষকদের কোনও ভয়েস না থাকা, এবং সবথেকে বড় যেটা সমস্যা, শিক্ষক ও ছাত্রদের কোনও ইউনিয়ন না থাকার সমস্যা নিয়ে। এই পর্যন্ত নতুন ...
  • চিরতরে নির্বাসিত হবার তো কথাই ছিল, প্রিয় মণিময়, শ্রী রবিশঙ্কর বল
    "মহাপৃথিবীর ইতিহাস নাকি আসলে কতগুলি মেটাফরের ইতিহাস"। এসব আজকাল অচল হয়ে হয়ে গেছে, তবু মনে পড়ে, সে কতযুগ আগে বাক্যটি পড়ি প্রথমবার। কলেজে থাকতে। পত্রিকার নাম, বোধহয় রক্তকরবী। লেখার নাম ছিল মণিময় ও মেটাফর। মনে আছে, আমি পড়ে সিনহাকে পড়াই। আমরা দুজনেই তারপর ...
  • বাংলা ব্লগের অপশব্দসমূহ ~
    *সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: বাংলা ব্লগে অনেক সময়ই আমরা যে সব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করি, তা কখনো কখনো কিম্ভুদ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন ব্লগার বা সাধারণের কাছে এসব অপশব্দ পরিচিত নয়। এই চিন্তা থেকে এই নোটে বাংলা ব্লগের কিছু অপশব্দ তর্জমাসহ উপস্থাপন করা হচ্ছে। বলা ভালো, ...
  • অ্যাপ্রেজাল
    বছরের সেই সময়টা এসে গেল – যখন বসের সাথে বসে ফর্মালি ভাঁটাতে হবে সারা বছর কি ছড়িয়েছি এবং কি মণিমুক্ত কুড়িয়েছি। এ আলোচনা আমার চিরপরিচিত, আমি মোটামুটি চিরকাল বঞ্চিতদেরই দলে। তবে মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত থাকার জন্য বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে আমি ...
  • মিসেস গুপ্তা ও আকবর বাদশা
    এক পার্সি মেয়ে বিয়ে করলো হিন্দু ছেলেকে। গুলরুখ গুপ্তা তার নাম।লভ জিহাদ? হবেও বা। লভ তো চিরকালই জিহাদ।সে যাই হোক,নারীর ওপর অবদমনে কোন ধর্মই তো কম যায় না, তাই পার্সিদেরও এক অদ্ভুত নিয়ম আছে। ঘরের মেয়ে পরকে বিয়ে করলে সে স্বসম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ ...
  • সমবেত কুরুক্ষেত্রে
    "হে কৃষ্ণ, সখা,আমি কীভাবে আমারই স্বজনদের ওপরে অস্ত্র প্রয়োগ করবো? আমি কিছুতেই পারবো না।" গাণ্ডীব ফেলে দু'হাতে মুখ ঢেকে রথেই বসে পড়েছেন অর্জুন আর তখনই সেই অমোঘ উক্তিসমূহ...রণক্ষেত্...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

সেই পলাশের তিন পাত

Sarit Chatterjee

সেই পলাশের তিন পাত
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির এক রাতে পোয়াতি পেঁপেগাছটার বড় মায়া হল। ওর পায়ের কাছেই সদ্য অঙ্কুরিত এক অচেনা গাছের চারা তার প্রথম তিনটে কচি পাতা নিয়ে ঝড়ের দাপটে প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। সর্বশক্তি দিয়ে সেদিন পেঁপেগাছটা হাত বাড়িয়ে ঝুঁকে পড়েছিল, বলেছিল, ভয় পাস নে রে খোকন, আমি আছি তো! আর সারা রাত তার আঁচলের আড়ালে ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল পলাশের কচি পাতাগুলো।

লাল মাটি, গুড় জাল দেওয়া গন্ধ, দামাল গন্ধেশ্বরী। বুধু সারেঙ হারমোনিয়াম বাজাতো। সেদিন ছোপধরা দাঁত বার করে একবার বলেছিল বটে, হেই মেস্টর, তু কি পাগল হই গিলি? সব দিয়া দিবি তো ফুরায়ে যাবি যে।

ত্রিদিব ভাদুড়ি গা করেন নি। ওর জহুরির চোখ তখন উত্তেজনায় জ্বলছিল।

আগে বলা হত অর্কেস্ট্রা পিট। এই প্রসেনিয়ামকেও যে এভাবে ব্যবহার করা যায় তিনি সত্যিই জানতেন না। অবাক চোখে সেদিন তিনি শুধু দেখেছিলেন একরত্তি ওই ছেলেটাকে। সৌরদীপ দত্ত। বাপ সাবড়াকোণের আইটিআইতে ভর্তি করে দিলেও কোনো লাভ হয় নি। ওর মন প্রাণ সবই ছিল কেবল মাত্র থিয়েটার।

গোটা দৃশ্যটা ছিল ওরই আইডিয়া। কার্টেন লাইনের সামনে, ডাঊন-লেফ্ট-এ পাঁচ-বাই-দুইয়ের একটা তক্তার ওপর চট পাতা। তার ওপর কয়েক বালতি আধ-ভেজা মাটি। কোদাল হাতে বাপের কবর খুঁড়ছে ছেলেটা। উল্টো দিকের ফার্স্ট উইংগস্ থেকে আড়াআড়ি একটা প্রোফাইলে ধরা কয়েক মুহূর্ত। কোদালের টানে কাদা মাটি ছিটকে পড়ছে প্রথম সারিতে বসা দর্শকের পায়ের কাছে।
ভাদুড়ি স্যর সেদিনই ঠিক করেছিলেন নিজে হাতে তৈরি করবেন এই ছেলেটাকে।

কাজ চলছিল। ছেলেটা এরই মধ্যে বারবার প্রমাণ করেছে যে ত্রিদিব মাস্টার ভুল করেন নি। কিন্তু কয়েক বছর পর ও-হেনরির একটা নাটকের বর্ণান্তরণ করার সময় মারাত্মক এক ভুল করে ফেললেন অভিজ্ঞ সেই নাট্যকার। হয়ত ইচ্ছাকৃতই ছিল সে ভুল। স্বপ্নভঙ্গের তেতো স্বাদটা অনেকদিন থেকেই অসহ্য হয়ে উঠছিল। ফলে, অবিলম্বেই ক্ষমতাসীন দলের চক্ষুশূল হয়ে উঠল বাঁকুড়ার এই নাট্যগোষ্ঠী। কলকাতায় অডিটোরিয়াম পাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। তারপর, প্রায় দু'বছর কেটে গেছে আজ এই অজ্ঞাতবাসে। এখানে বিশটা শো হলেও কেউ পাত্তা দেয় না। সংস্কৃতির ধারক, বাহক - সবই যে কলকাতা।

সময়টা খারাপ যাচ্ছে। দলের মনোবল ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। রিহার্সাল ছেড়ে মাঝেমাঝেই কলকাতায় মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছেন ত্রিদিব। এদিকে, ততদিনে বেশ নাম করেছে সৌরদীপ। নতুন নাটকের প্রস্তুতি শেষ কিন্তু গন্তব্য তো সেই কলকাতা! আর বাঁকুড়া? সেটা যেন ঠিক কোথায়! বাঁকড়ি আবার থ্যাটার করে! যে করে হোক কলকাতায় জাস্ট দুটো শো চাই। ব্যস! সৌরদীপ অবশ্য আজকাল মাঝেমধ্যে কলকাতার একটা ক্লাবের হয়ে কাজ করছে। ত্রিদিব নিজেই বলেছিলেন, কর, কর! অনেক কিছু শিখতে পারবি ওখানে।

একদিন, হঠাৎ সৌরদীপ বলল যে অ্যাকাডেমিতে পরপর চারটে শো ও পাইয়ে দিতে পারবে, কিন্তু -- !
- কিন্তু কী রে বেটা? সহাস্যে প্রশ্ন করলেন ভাদুড়ি স্যর। পয়সা কড়ি বাদে যা চায় আমরা রাজি। বলে ফেল!
- ভাদুড়িদা, নির্দেশনা আমাকেই করতে দিতে হবে। ওদের সাথে তেমনটাই কথা হয়েছে, কথাগুলো বলে আজ কিন্তু চোখ নামাল না সৌরদীপ।

ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ শুধু ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন আধ-বুড়ো, প্রেসারের রুগী মানুষটা। তারপর যখন ইন্দ্রাণী বাচ্চু সজল, সব এক এক করে সৌরদীপকেই সমর্থন করল, কেন জানি খুব একটা আর অবাক হলেন না তিনি। প্রায় বিশ বছরের সঙ্গী তিরিশ ইঞ্চি উঁচু কাঠের চেয়ারটা থেকে নেমে ওর কাঁধে হাত রেখে শুধু বললেন, বেশ তো! আমি জানি তুই ভালই কাজ করবি!
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল সৌরদীপ। রিহার্সাল রুম জুড়ে তখন এক অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ। ত্রিদিব আরো কিছু হয়ত বলতেন কিন্তু কেন জানি সবার দিকে চেয়ে শুধু বললেন, ভাল থাকিস তোরা।

দরজার বাইরে এসে একবার বুক ভরে শ্বাস নিলেন ত্রিদিব ভাদুড়ি। শ্রাবণের শেষ। বাতাসে তিলের পুলি আর হয়ত প্রসেনিয়ামের সেই মাটির সোঁদা গন্ধ মিলে এক অপূর্ব আবহ সৃষ্টি করেছে।

বুধু সারেঙ এগিয়ে এলো। ছলছল চোখে বলল, কইছিলাম, বাপের কবর ফুঁড়ি বার হব!
- ও আমার চেয়েও ভাল কাজ করবে। তুই দেখে নিস বুধু।
- তুই মানুষ নস রে মেস্টর! মাথা নেড়ে সারেঙ বলে। তারপর, কাঁপা হাতে একটা বিড়ি ধরায়। বলে, এখন কী করবি?
- জানি না রে বুধু। ক'দিন যাক। এখন তো হাতে অঢেল সময়।
- তু যাবি মেস্টর? যাবি মুদের গেরাম?

ভিজতে ভিজতে পাশাপাশি হাঁটছে দুই বন্ধু। দূরে, বিশাল এক পলাশগাছ বসন্তের অপেক্ষায় মাথা উঁচু করে মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে।

একা।

---------//---------

শেয়ার করুন


Avatar: d

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বাঃ
Avatar: সিকি

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বাঃ।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: সেই পলাশের তিন পাত

সরিতবাবু,

গল্পটা দারুণ হয়েছে !

তবে এটা শুধু গল্প নয় ! এরকম ঘটনা হয়েছে ! - নাট্যদলের ক্ষেত্রে প্রায়শই এই জিনিশ হয়েছে ! নাম বলে লাভ নেই !

দলের নেতা ও সচরাচর পরিচালকও বটে - একাগ্রভাবে দলের উন্নতি ও জনপ্রিয় করতে করতে ভুলেই যান - তারও পায়ের তলায় ঘাস গজিয়ে যায় ! - তখন নতুনের প্রতি আবাহনের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই রীতি !

মনোজ


Avatar: ranjan roy

Re: সেই পলাশের তিন পাত

আমি হতবাক।
কী কষ্টের লেখা! কী সুন্দর করে লেখা! মনোজ যা বললেন সব সত্যি, আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু তাকে এভাবে ফুটিয়ে তোলা! কব্জির জোর আছে।
Avatar: Titir

Re: সেই পলাশের তিন পাত

অসম্ভব ভালো লাগল।
Avatar: T

Re: সেই পলাশের তিন পাত

ভালো লাগল।
Avatar: π

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বেশ।
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: সেই পলাশের তিন পাত

সবাইকে ধন্যবাদ। মনোজবাবু ও তিতির, আপনাদের কমেন্ট পড়ে খুব ভাল লাগল।
হ্যাঁ, সবটাই স্বাভাবিক। পলাশকে আমি দোষী সাব্যস্ত করি নি। শুধু পেঁপেগাছদের কষ্টটা তুলে ধরতে চেয়েছি। শুধু যদি, কোনোক্রমে দু'জনেই পাশাপাশি থাকতে পারতো!
সরিৎ



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন