Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৬ (শেষ পর্ব)
    http://bigyan.org.in...
  • বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প
    *********বাউণ্ডুলে পিঁপড়ের গল্প*******মহারাজ গল্প টল্প লেখেন না, যা দেখেন তাই। তা আমার সাথে সেদিন এক মক্কেলের মুলাকাত হয়েছিলো, নচ্ছারটা যদিও আমায় নানান কু কথা বলেছে, তাও বন্ধুত্বের খাতিরের ওর কথা গুলো বলে গেলাম। 'এই শোন একটা গাড়ি আসছে বুঝলি একটু চমকাবি ...
  • ১৯৪৬, এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বছর
    সদ্য তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে।ফ্যাসিস্ট বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছে।পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগসন্ধিক্ষণ।পৃথিবী জুড়ে সব মানুষের বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। যারা যারা যুদ্ধে নিজের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তারাও এই বিভৎসতার শেষে হাপ ছেড়ে বেঁচেছে।সারা পৃথিবীর ...
  • যৌননির্যাতন সম্পর্কে কিছু কথা যা আমি বলতে চাই
    মিডিয়া ট্রায়ালের পর শুরু হয়েছে এক নতুন ফেনোমেনন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল। সবার কী সুন্দর বিচার, ফাঁসি, জেল, সব কিছুর নিদান দিয়ে দেন। নির্ভয়া কান্ডের পর গোটা ফেসবুক জুড়ে ফাঁসির জন্য কী প্রচণ্ড চিৎকার। শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, একটা গোটা জাত ফাঁসি চায়, ...
  • ডারউইন
    মশাদের জগতে একটা বেশ মজার ঘটনা ঘটে চলেছে। ধরুন প্রথম যখন মশা মারবার জন্যে মানুষ কোন কীটনাশক আবিষ্কার করলো। সেই সময় যত মশা ছিলো তার মধ্যে ৯৫% এর ওপর এই কীটনাশক কাজ করে। বাকি ৫% এর ওপর করে না। এবার কীটনাশক আবিষ্কারের আগে এই ৫%কে সেই ৯৫% এর সাথে প্রতিযোগীতা ...
  • রংচুগালা: বিপন্ন আদিবাসী উৎসব
    [ওই ছ্যাড়া তুই কই যাস, কালা গেঞ্জি গতরে?/ছেমড়ি তুই চিন্তা করিস না, আয়া পড়ুম দুপুরে/ হা রে রে, হা রে রে, হা রে রে…ভাবানুবাদ, গারো লোকসংগীত “রে রে”।]কিছুদিন আগে গারো (মান্দি) আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং আলাপচারিতায় জানাচ্ছিলেন, প্রায় ১২৫ বছর আগে গারোরা আদি ...
  • মুক্ত বাজার
    নরেন্দ্র মোদী নিশ্চয় খুশি হয়েছেন। হওয়ারই কথা। প্রধানমন্ত্রী’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ভারতবর্ষের ১০০ জন ধনকুবের’দের ক্রমাঙ্কে টানা দশ বছর শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন। গত বছরে, রেকর্ড হারে, ৬৭% সম্পত্তি বাড়িয়ে, আজ তিনি ৩৮০০ কোটি ডলারের মালিক। ...
  • আমরহস্য
    শহরে একজন বড় পীরের মাজার আছে তা আপনি জেনে থাকবেন, পীরের নাম শাহজালাল, আদি নিবাস ইয়ামন দেশ। তিনি এস্থলে এসেছিলেন এবং নানাবিদ লৌকিক অলৌকিক কাজকর্ম করে অত্র অঞ্চলে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। গত হয়েছেন তিনি অনেক আগেই, কিন্তু তার মাজার এখনো জাগ্রত। প্রতিদিন দূর ...
  • সিনেমার ডায়লগ নিয়ে দু চার কথা
    সাইলেন্ট সিনেমার যুগে বাস্টার কিটন বা চার্লি চ্যাপ্লিনের ম্যানারিজমের একটা বিশেষ আকর্ষন ছিল যেটা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। চোখে মুখের অভিব্যক্তি সংলাপের অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা করত। আর্লি সিনেমাতে ডায়লগ ছিল কমিক স্ট্রীপের মত। ইন্টারটাইটেল হিসাবে ...
  • সিঁদুর খেলা - অন্য চোখে
    সত্তরের দশকের উত্তর কলকাতার প্রান্তসীমায় তখনো মধ্যবিত্ততার ভরা জোয়ার. পুজোরা সব বারোয়ারি. তবু তখনো পুজোরা কর্পোরেট দুনিয়ার দাক্ষিণ্য পায় নি. পাড়ার লোকের অর্থ সাহায্যেই মা দুর্গা সেজে ওঠেন তখনো. প্যান্ডাল হপিং তখন শুরু হয়ে গেছে. পুজোর সময় তখনই মহঃ আলি ...

সেই পলাশের তিন পাত

Sarit Chatterjee

সেই পলাশের তিন পাত
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির এক রাতে পোয়াতি পেঁপেগাছটার বড় মায়া হল। ওর পায়ের কাছেই সদ্য অঙ্কুরিত এক অচেনা গাছের চারা তার প্রথম তিনটে কচি পাতা নিয়ে ঝড়ের দাপটে প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। সর্বশক্তি দিয়ে সেদিন পেঁপেগাছটা হাত বাড়িয়ে ঝুঁকে পড়েছিল, বলেছিল, ভয় পাস নে রে খোকন, আমি আছি তো! আর সারা রাত তার আঁচলের আড়ালে ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল পলাশের কচি পাতাগুলো।

লাল মাটি, গুড় জাল দেওয়া গন্ধ, দামাল গন্ধেশ্বরী। বুধু সারেঙ হারমোনিয়াম বাজাতো। সেদিন ছোপধরা দাঁত বার করে একবার বলেছিল বটে, হেই মেস্টর, তু কি পাগল হই গিলি? সব দিয়া দিবি তো ফুরায়ে যাবি যে।

ত্রিদিব ভাদুড়ি গা করেন নি। ওর জহুরির চোখ তখন উত্তেজনায় জ্বলছিল।

আগে বলা হত অর্কেস্ট্রা পিট। এই প্রসেনিয়ামকেও যে এভাবে ব্যবহার করা যায় তিনি সত্যিই জানতেন না। অবাক চোখে সেদিন তিনি শুধু দেখেছিলেন একরত্তি ওই ছেলেটাকে। সৌরদীপ দত্ত। বাপ সাবড়াকোণের আইটিআইতে ভর্তি করে দিলেও কোনো লাভ হয় নি। ওর মন প্রাণ সবই ছিল কেবল মাত্র থিয়েটার।

গোটা দৃশ্যটা ছিল ওরই আইডিয়া। কার্টেন লাইনের সামনে, ডাঊন-লেফ্ট-এ পাঁচ-বাই-দুইয়ের একটা তক্তার ওপর চট পাতা। তার ওপর কয়েক বালতি আধ-ভেজা মাটি। কোদাল হাতে বাপের কবর খুঁড়ছে ছেলেটা। উল্টো দিকের ফার্স্ট উইংগস্ থেকে আড়াআড়ি একটা প্রোফাইলে ধরা কয়েক মুহূর্ত। কোদালের টানে কাদা মাটি ছিটকে পড়ছে প্রথম সারিতে বসা দর্শকের পায়ের কাছে।
ভাদুড়ি স্যর সেদিনই ঠিক করেছিলেন নিজে হাতে তৈরি করবেন এই ছেলেটাকে।

কাজ চলছিল। ছেলেটা এরই মধ্যে বারবার প্রমাণ করেছে যে ত্রিদিব মাস্টার ভুল করেন নি। কিন্তু কয়েক বছর পর ও-হেনরির একটা নাটকের বর্ণান্তরণ করার সময় মারাত্মক এক ভুল করে ফেললেন অভিজ্ঞ সেই নাট্যকার। হয়ত ইচ্ছাকৃতই ছিল সে ভুল। স্বপ্নভঙ্গের তেতো স্বাদটা অনেকদিন থেকেই অসহ্য হয়ে উঠছিল। ফলে, অবিলম্বেই ক্ষমতাসীন দলের চক্ষুশূল হয়ে উঠল বাঁকুড়ার এই নাট্যগোষ্ঠী। কলকাতায় অডিটোরিয়াম পাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। তারপর, প্রায় দু'বছর কেটে গেছে আজ এই অজ্ঞাতবাসে। এখানে বিশটা শো হলেও কেউ পাত্তা দেয় না। সংস্কৃতির ধারক, বাহক - সবই যে কলকাতা।

সময়টা খারাপ যাচ্ছে। দলের মনোবল ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। রিহার্সাল ছেড়ে মাঝেমাঝেই কলকাতায় মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছেন ত্রিদিব। এদিকে, ততদিনে বেশ নাম করেছে সৌরদীপ। নতুন নাটকের প্রস্তুতি শেষ কিন্তু গন্তব্য তো সেই কলকাতা! আর বাঁকুড়া? সেটা যেন ঠিক কোথায়! বাঁকড়ি আবার থ্যাটার করে! যে করে হোক কলকাতায় জাস্ট দুটো শো চাই। ব্যস! সৌরদীপ অবশ্য আজকাল মাঝেমধ্যে কলকাতার একটা ক্লাবের হয়ে কাজ করছে। ত্রিদিব নিজেই বলেছিলেন, কর, কর! অনেক কিছু শিখতে পারবি ওখানে।

একদিন, হঠাৎ সৌরদীপ বলল যে অ্যাকাডেমিতে পরপর চারটে শো ও পাইয়ে দিতে পারবে, কিন্তু -- !
- কিন্তু কী রে বেটা? সহাস্যে প্রশ্ন করলেন ভাদুড়ি স্যর। পয়সা কড়ি বাদে যা চায় আমরা রাজি। বলে ফেল!
- ভাদুড়িদা, নির্দেশনা আমাকেই করতে দিতে হবে। ওদের সাথে তেমনটাই কথা হয়েছে, কথাগুলো বলে আজ কিন্তু চোখ নামাল না সৌরদীপ।

ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ শুধু ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন আধ-বুড়ো, প্রেসারের রুগী মানুষটা। তারপর যখন ইন্দ্রাণী বাচ্চু সজল, সব এক এক করে সৌরদীপকেই সমর্থন করল, কেন জানি খুব একটা আর অবাক হলেন না তিনি। প্রায় বিশ বছরের সঙ্গী তিরিশ ইঞ্চি উঁচু কাঠের চেয়ারটা থেকে নেমে ওর কাঁধে হাত রেখে শুধু বললেন, বেশ তো! আমি জানি তুই ভালই কাজ করবি!
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল সৌরদীপ। রিহার্সাল রুম জুড়ে তখন এক অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ। ত্রিদিব আরো কিছু হয়ত বলতেন কিন্তু কেন জানি সবার দিকে চেয়ে শুধু বললেন, ভাল থাকিস তোরা।

দরজার বাইরে এসে একবার বুক ভরে শ্বাস নিলেন ত্রিদিব ভাদুড়ি। শ্রাবণের শেষ। বাতাসে তিলের পুলি আর হয়ত প্রসেনিয়ামের সেই মাটির সোঁদা গন্ধ মিলে এক অপূর্ব আবহ সৃষ্টি করেছে।

বুধু সারেঙ এগিয়ে এলো। ছলছল চোখে বলল, কইছিলাম, বাপের কবর ফুঁড়ি বার হব!
- ও আমার চেয়েও ভাল কাজ করবে। তুই দেখে নিস বুধু।
- তুই মানুষ নস রে মেস্টর! মাথা নেড়ে সারেঙ বলে। তারপর, কাঁপা হাতে একটা বিড়ি ধরায়। বলে, এখন কী করবি?
- জানি না রে বুধু। ক'দিন যাক। এখন তো হাতে অঢেল সময়।
- তু যাবি মেস্টর? যাবি মুদের গেরাম?

ভিজতে ভিজতে পাশাপাশি হাঁটছে দুই বন্ধু। দূরে, বিশাল এক পলাশগাছ বসন্তের অপেক্ষায় মাথা উঁচু করে মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে।

একা।

---------//---------


Avatar: d

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বাঃ
Avatar: সিকি

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বাঃ।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: সেই পলাশের তিন পাত

সরিতবাবু,

গল্পটা দারুণ হয়েছে !

তবে এটা শুধু গল্প নয় ! এরকম ঘটনা হয়েছে ! - নাট্যদলের ক্ষেত্রে প্রায়শই এই জিনিশ হয়েছে ! নাম বলে লাভ নেই !

দলের নেতা ও সচরাচর পরিচালকও বটে - একাগ্রভাবে দলের উন্নতি ও জনপ্রিয় করতে করতে ভুলেই যান - তারও পায়ের তলায় ঘাস গজিয়ে যায় ! - তখন নতুনের প্রতি আবাহনের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই রীতি !

মনোজ


Avatar: ranjan roy

Re: সেই পলাশের তিন পাত

আমি হতবাক।
কী কষ্টের লেখা! কী সুন্দর করে লেখা! মনোজ যা বললেন সব সত্যি, আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু তাকে এভাবে ফুটিয়ে তোলা! কব্জির জোর আছে।
Avatar: Titir

Re: সেই পলাশের তিন পাত

অসম্ভব ভালো লাগল।
Avatar: T

Re: সেই পলাশের তিন পাত

ভালো লাগল।
Avatar: π

Re: সেই পলাশের তিন পাত

বেশ।
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: সেই পলাশের তিন পাত

সবাইকে ধন্যবাদ। মনোজবাবু ও তিতির, আপনাদের কমেন্ট পড়ে খুব ভাল লাগল।
হ্যাঁ, সবটাই স্বাভাবিক। পলাশকে আমি দোষী সাব্যস্ত করি নি। শুধু পেঁপেগাছদের কষ্টটা তুলে ধরতে চেয়েছি। শুধু যদি, কোনোক্রমে দু'জনেই পাশাপাশি থাকতে পারতো!
সরিৎ



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন