Sakyajit Bhattacharya RSS feed

Sakyajit Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিষয় জিকেসিআইইটি - এপর্যন্ত
    নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি (প্রকাশঃ 26 July 2018 08:30:34 IST)আজব খবর -১ ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ ...
  • "নাহলে রেপ করে বডি বিছিয়ে দিতাম.."
    গত পরশু অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন, মালদা জিকেসিআইইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বাইকবাহিনী এসে শাসিয়ে যায়। তারপর আজকের খবর অনুযায়ী তাদেরকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মারধর করছে বিজেপির সমর্থক ...
  • উত্তর
    [ মূল গল্প --- Answer, লেখক --- Fredric Brown। ষাট-সত্তর দশকের মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক, কল্পবিজ্ঞান অণুগল্পের জাদুকর। ] ......সার্কিটের শেষ সংযোগটা ড্বর এভ সোনা দিয়ে ঝালাই করে জুড়ে দিলেন, এবং সেটা করলেন বেশ একটা উৎসবের মেজাজেই । ডজনখানেক দূরদর্শন ...
  • জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং জুতো
    কাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট দেখছি, কিছু ছবি মূলত, যার মূল কথা হলো জুতো পায়ে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো মোটেও ঠিক নয়। ওতে দেশের অসম্মান হয়। এর আগে এরকমটা শুনিনি। মানে ছোটবেলায়, অর্থাৎ কিনা যখন আমি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক ছিলাম এবং যুদ্ধে-ফুদ্ধে ...
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...
  • সারে জঁহা সে আচ্ছা
    আচ্ছা স্যার, আপনি মালয়েশিয়া বা বোর্ণিওর জঙ্গল দেখেছেন? অথবা অ্যামাজনের জঙ্গল? নিজের চোখে না দেখলেও , নিদেনপক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পাতায়? একজন বনগাঁর লোকের হাতে যখন সে ম্যাগাজিন পৌঁছে যেত, তখন আপনি তো স্যার কলকাতার ছেলে - হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতেন ...
  • ট্রেন লেট্ আছে!
    আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা ! দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ...
  • একটা নতুন গান
    আসমানী জহরত (The 0ne Rupee Film Project)-এর কাজ যখন চলছে দেবদীপ-এর মোমবাতি গানটা তখন অলরেডি রেকর্ড হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। গানটা প্রথম শুনেছিলাম ২০১১-র লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সম্ভবত। সামনাসামনি। তো, সেই গানের একটা আনপ্লাগড লাইভ ভার্শন আমরা পার্টি ...
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

Sakyajit Bhattacharya

রোজিকে পালাতেই হত। চোদ্দ বছরের বিবাহিত জীবনে নর্মান তাকে শুধুই শারিরীক অত্যাচার করেনি। ধর্ষণ করা, কয়েকটা দাঁত ফেলে দেওয়া (যার একটা আবার রোজি গিলেও ফেলেছিল) অথবা কিডনি নষ্ট করে দেওয়া বা একবার লাথি মেরে গর্ভপাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না নর্মানের অত্যাচার। নর্মান ধীরে ধীরে তাকে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে এটাই রোজির নিয়তি। কারণ সে একটা মেয়ে। তার শক্তি নেই এই অত্যাচার কেটে বেরোবার। এই মানসিক নিষ্ক্রিয়তা পুরোপুরি চেপে বসবার আগেই রোজ ড্যানিয়েলসকে পালাতে হত। নাহলে সে একদিন শরীরে এবং মনে বিকলাংগ হয়ে যেত।


আর নর্মান? নর্মান ড্যানিয়েলস একজন করাপ্ট পুলিশ অফিসার। তার সংকট আসলে তার পৌরুষের সংকট। অপরাধপ্রবণতাকে সেই পৌরুষ পুলিশ, আইনরক্ষক এবং রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে ভিন্ডিকেট করে। একজন হলেও-হতে-পারে-অপরাধী মেয়ে যখন নর্মানকে ঠাট্টা করেছিল, নর্মান রাগে অন্ধ হয়ে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করেছিল এবং তারপর বেদম মেরেছিল। কারণ নর্মানের মনে হয়েছিল মেয়েটা তার পুরুষসত্বাকে ব্যংগ করছে। রোজির ওপর অত্যাচার করে নর্মানের ক্যাথারসিস হত, যেটা নাকি প্রায় অর্গাজমের সমান। এবং নর্মানের এই ক্রোধ শুধুই মহিলাদের প্রতি সীমাবদ্ধ ছিল না। বাড়তে বাড়তে এই হিংসা একসময় তার অভিমুখ ছড়িয়ে দিয়েছিল কালো মানুষ, সমকামী এবং শারিরীকভাবে অশক্ত মানুষের দিকেও। খুব স্বাভাবিকভাবেই। নর্মান আসলে ফ্যাসিস্ট, আর তার ফ্যাসিবাদের প্রথম প্রকাশ হয় তার স্ত্রী-র উপর। সে যখন রোজিকে আদর করে, ম্যান্সপ্লেইন করে কেন রোজির বাইরে বেরনো উচিত নয়, কেন কালো মানুষ দেখলেই মানিব্যাগ সামলানো উচিত, তখন রোজি ভয়ে কুঁকড়ে যেত। নর্মানের ক্রোধ তার কাছে যত না ভয়ের, তার থেকে বেশি ভয়ের ছিল নর্মানের ঠাণ্ডা গলায় বোঝানো। এবং নর্মানের নৈঃশব্দ। যা আসলে শুধুই নর্মানের নয়। আধিপত্য কায়েমের উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীর প্রতিটা পুরুষের প্রধানতম হাতিয়ার।


রোজি পালিয়ে যায় একটি বড় শহরে। সেখানে সে নিজের মত করে আস্তে আস্তে জীবনটাকে গড়ে তুলছিল। কিন্তু প্রতিমুহূর্তে সে বুঝতে পারত, নর্মান তাকে ট্র্যাক করবেই। যত দিন যাচ্ছিল, রোজির ষষ্ঠ-ইন্দ্রিয় তত বেশি করে অনুভব করতে পারছিল যে নর্মান এগিয়ে আসছে। কাছে, এবং আরো কাছে।

স্টিফেন কিং ১৯৯৫ সালে ‘রোজ ম্যাডার’ নামের এই হরর উপন্যাসটি লিখেছিলেন। স্টিফেন কিং-এর লেখা যেমন হয়, কোনওকালেই এলিট বিদগ্ধ সাহিত্যমহলে পাতে দেবার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়না। এই উপন্যাসটিও হয়নি। যদিও বেস্টসেলার হয়েছিল, কিং-এর অন্যান্য অনেক উপন্যাসের মতই। এবং হররের অন্তরালে একটি তথাকথিত নন-আঁতেল উপন্যাস লিখে স্টিফেন কিং পুরুষতন্ত্রের পেন্টুল খুলে দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই কুলীন লেখক নন বলে এই উপন্যাসের পুনঃপাঠ সম্ভবত আর হবে না। গোটা উপন্যাস আসলে বিধ্বস্ত সংকটাপন্ন পুরুষ এবং তার অন্তর্লীন হিংসার একটা ইস্তাহার, এবং সেই ইস্তাহারের বিরুদ্ধে এক অসম লিংগ-যুদ্ধের পাঠ। স্টিফেন কিং এই হিংসার ভাষ্য নির্মাণ করতে গিয়ে ক্ষমতার বর্গগুলিকে এক জায়গায় মিলিয়ে দেন। সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পুলিশের হিংসা এবং নারীর বিরুদ্ধে পুরুষের হিংসাতে একসময়ে কোনও তফাত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।


নর্মান রোজিকে খুঁজে বার করেছিল ঠিকই। এরপর এক দীর্ঘ যুদ্ধ চলে। সেই যুদ্ধে নর্মান ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল গার্ট্রুড নামক এক নারীর কাছে। কিন্তু তাতে নর্মান সংকটে পড়েনি। সে অনেক বেশি বিধ্বস্ত হয়েছিল যখন সেই মেয়েটি নর্মানের ওপর বসে পড়ে হিসি করে দেয়। নর্মান আতংকে চিৎকার করে উঠেছিল। কারণ দশকের পর দশক ধরে সযত্নে লালিত তার ক্ষমতার নিজস্ব নির্মাণটি নোংরা জলে ভিজে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। ধ্বসে গিয়েছিল তার পৌরুষ।


গল্পের শেষে রোজি নিস্তার পেয়েছিল। কিভাবে, তা বলব না। হররের সব কিছু বলে দিতে নেই। শুধু যুদ্ধ যখন সমাপ্ত হয়েছিল, একটি মেয়ে, এই যুদ্ধে সে রোজির কমরেড ছিল, সে রোজিকে একটা ছোট্ট শিশি দিয়ে বলেছিল রোজির প্রেমিক বিলকে যেন সেই শিশির তরল এক ফোঁটা খাইয়ে দেয়। তাহলে বিল ভুলে যাবে সেই যুদ্ধের রাত্রে কি ঘটেছিল। রোজি যখন সপ্রশ্ন চোখে তাকিয়েছিল, মেয়েটি বলেছিল, “ভেবো না। এটা মেয়েদের নিজস্ব ব্যাপার”। সত্যিই তাই। এই বিশ্বের সমস্ত হিংসা আর যুদ্ধের ইতিবৃত্ত পুরুষেরা ভুলে গেছে। আর ভুলে গেছে বলেই বারবার নতুন হিংসায় জড়িয়ে পরেছে নতুন উদ্যমে। কিন্তু মেয়েরা মনে রাখে। তারা সেই যুদ্ধের ক্ষতকে বাঁচিয়ে রাখে প্রবাদ, উপকথা, লোকগানের মধ্যে দিয়ে। কারণ যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয় তারাই সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের নিজস্ব্ব ব্যাপার আর কি!


রোজির বয়েস বেড়েছিল কালের নিয়মে। কিন্তু মাঝে মাঝেই সে মনের মধ্যে এক ভয়াবহ দুর্দমনীয় ক্রোধ অনুভব করত। কখনও মনে হত বিলের মাথাটা ফাটিয়ে ঘিলু বার করে আনে। কখনও মনে হত তার সহকর্মীর মুখটা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলে। এই ক্রোধকে সে ভয় পেত, আবার একই সংগে একে সযত্নে পুষে গেছে সারা জীবন ধরে। প্রখ্যাত লিংগতত্ববিদ জুডিথ বাটলারের ‘রেজ এন্ড গ্রিফ’ বিষয়ক বক্তব্য মনে পড়ছে? সেই রাগকে রোজি একটি গাছের মধ্যে সঞ্চালন করে দিয়েছিল। গাছটা দিনে দিনে বেড়ে উঠছিল। তার ফল ছিল বিষাক্ত ক্রোধে নীল। যে কেউ খেলেই মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নিজের ওইটুকু সত্বাকে মারতে না দিয়ে, ওইটুকু রাগকে লালন করে গিয়েছিল রোজি। এই সভ্যতার ইতিহাসে মেয়েদের এই ক্রোধটুকুই থেকে যায়। সবকিছু সহ্য করে, সমস্ত কিছুকে ভুলে যাবার ভান করে গিলে নিয়ে হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের ওইটুকু অবশেষ রয়েই যায়। এই পৃথিবীর নর্মান আর বিলেরা কখনও যার হদিশ পায়নি ।


Rose Madder, Stephen King, Viking, 1995.



শেয়ার করুন


Avatar: প্রতিভা সরকার

Re: গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

স্টিফেন কিং এর কোন উপন্যাস পড়ার জন্য কখনো এত আগ্রহ অনুভব করিনি যতটা করছি এই উপন্যাসটা পড়বার জন্য। এই লেখাটার জন্যই। চমৎকার লাগলো !
সাবলীল আর গভীর লেখা।
Avatar: হে হে

Re: গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

স্টিভেন কিং এর স্যাডিজম ও প্যারানর্মাল গার্বেজে ভারাক্রান্ত কেতাব পড়ার থেকে পড়ার থেকে দুয়েকটা ভাঙ্গা দাঁত খেয়ে ফেলা কম কষ্টকর ব্যাপার।
Avatar: হে হে

Re: গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

স্টিভেন কিং এর স্যাডিজম ও প্যারানর্মাল গার্বেজে ভারাক্রান্ত কেতাব পড়ার থেকে পড়ার থেকে দুয়েকটা ভাঙ্গা দাঁত খেয়ে ফেলা কম কষ্টকর ব্যাপার।
Avatar: অনামী

Re: গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

ম্যান্সপ্লেইন - এর একটা বাংলা প্রতিশব্দ দরকার।
Avatar: শাক্যজিৎ

Re: গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

নেই। অনেক খুঁজেছি। বাংলায় অর্থবহভাবে লিখতে গেলে মনে হয় ১০টা শব্দের নিচে হবে না


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন