সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে গরু: দেশ কোনদিকে? # পর্ব - ৩

Ashoke Mukhopadhyay

গরুমোষ আর দেবাসুর!

এই সব প্রশ্ন ধরে আর সামান্য কিছুটা এগোলেই আমরা আলোচ্য সমস্যার একেবারে মূলে পৌঁছে যেতে পারব এবং সমাধানেরও কিঞ্চিত হদিশ হয়ত পেয়ে যাব।

এবার সেই কথা।

সকলেই জানেন, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে বৌদ্ধ খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্মগুলির মতো কেন্দ্রীয় শাস্ত্র গ্রন্থ, অনুশাসন, আচারবিধি, (এক বা বহু বচনে) নির্দিষ্ট দেবতা বা দেবমণ্ডলি, সামাজিক রীতি—কোনো কিছুই নেই। নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যাকে জনজাতীয় ধর্ম (tribal religion) বলা হয়, তার মতোই এর সমস্ত প্রকরণই প্রকটভাবে আঞ্চ

আরও পড়ুন...

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে গরু: দেশ কোনদিকে? # পর্ব - ২

Ashoke Mukhopadhyay

সংবিধান, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও খাদ্য নির্বাচনের অধিকার

সেকালের এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে এসে এবার আমরা এখানে আধুনিক কালের প্রেক্ষিতে কিছু নতুন যুক্তি তর্ক হাজির করব শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের ভেবে দেখবার জন্য। আমাদের প্রথম প্রশ্ন ধর্মনিরপেক্ষতা (secularism)-এর মাপকাঠিতে একজন সাধারণ নাগরিকের খাদ্য বিষয়ে সাংবিধানিক অধিকার কতখানি সুরক্ষিত সেই সম্পর্কে। ভারতের সংবিধান নাকি ভারত রাষ্ট্রকে একটা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার নির্দেশ দেয়। এই ব্যাপারে শুধু কংগ্রেস বা গান্ধীবাদীরা নন, বেশিরভাগ বামপন্থী দ

আরও পড়ুন...

ক্যেয়া ইয়ে ক্ষীর হ্যায়?

সুকান্ত ঘোষ

ঘুরে ফিরে আবার সেই সরস্বতী পূজো চলে এলো। ইস্কুল জীবন শেষ হবার পর বিশেষ একটা মাথা ঘামাই নি কবে বা কিভাবে সরস্বতী পূজা হবে সেই সব নিয়ে। পূজো বিষয়ে আমার জীবনের রেফারেন্স পয়েন্ট ছিল বলতে গিয়ে দূর্গা পূজা। দেশে কবে ফিরব এবং দেশ থেকে কবে আবার বিদেশে ফিরে যাব, কেনাকাটা কবে হবে, কার সাথে দেখা হবে – সেই সবই মাপা হত সপ্তমী বা দশমীর দিন থেকে। এর প্রধান কারণ ছিল আমার বাড়িতে দূর্গা পূজো হওয়া। ওই এক সময় গেলে সবার সাথে দেখা – বৃহত্তর পরিবারের আরো বিস্তৃত আত্মীয় পরিজনের সাথে দেখা করতে গেলে তার থেকে ভালো সুযোগ আ

আরও পড়ুন...

উটের পাকস্থলী

Soumit Deb

বর্তমানে গোয়েন্দাকাল চলছে। একের পর এক ছবি হচ্চে। ডিরেক্টর ওয়াইস বদলে যাচ্ছে সত্যান্বেষীদের অ্যাটায়ার, স্যাটায়ার বা তুখোড় রাফটাফানিসম। রোম্যান্টিকও বটে। কিন্তু কাল বড় বিচিত্র বস্তু। সেই নিয়মেই কয়েকবছর বাদে উঠে যাবে রজনী সেন রোডের বাড়িখানার কপিরাইট। সব্বাই লাইসেন্সপ্রাপ্ত হবেন থার্টি টু কোল্টের। সেই অদূর ভবিষ্যতের কিছু ছবির নাম ও গল্প ক্যামন হতে পারে সেইটে নিয়ে, জাস্ট ভাঁট বকতে বকতে কয়েকটা কাল্পনিক সিদ্ধান্তে আসা গ্যাছে। ইহার সহিত বাস্তবের কোনো মিল ছিলোনা,নেই, থাকবেও না। তা সত্ত্বেও কেউ কোনো মিল

আরও পড়ুন...

কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, শহীদ কাদরী

Kulada Roy

বছর দশেক আগে জ্যামাইকা সেন্টার দিয়ে একটু সন্ধ্যারাত করে বাসায় ফিরতাম। সাবওয়ে থেকে বেরিয়ে পারসনস বুলেভার্ডে পা রাখলেই খুব পুরনো কবরখানা। আর গীর্জার উঁচু শীর্ষদেশে এই সময় চাঁদ ঝুকে পড়ত। একটা হাওয়া এসে পাক খেয়ে নিচে নামত, আবার একটু উপরে উঠে বাক খেয়ে ডানে চলে যেত। বেশ একটা আলো-আধার রেশমি চাদরের মতো চোখের নামনে বিছিয়ে যেত। বোঝা যেত কেউ কোথাও নেই। দূরে একটা এম্বুলেন্স যাচ্ছে।

একটু ঘোর কেটে গেলেই দেখা যেত, একজন বয়স্ক মোটাসোটা লোক ভোজবাজির মতো সাইড ওয়াকে দাঁড়িয়ে আছেন। দুহাত ঠেলাগাড়ির উপরে রাখা।

আরও পড়ুন...

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে গরু: দেশ কোনদিকে? # পর্ব - ১

Ashoke Mukhopadhyay

প্রচারক। শাস্ত্র বলে গরু আমাদের মাতা।
বিবেকানন্দ। হ্যাঁ, গরু যে আমাদের মা, তা আমি বিলক্ষণ বুঝেছি—তা না হলে এমন সব
কৃতি সন্তান আর কে প্রসব করবেন?
[“স্বামী-শিষ্য-সংবাদ”; স্বামীজীর বাণী ও রচনা, ৯ম খণ্ড]

ভারতেও “নাসা”!

আপনারা ভাবছেন, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে নাসা (NASA) নামক যে সংস্থাটি মহাকাশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সাথে সংযুক্ত, তারা বুঝি আমাদের দেশেও কোনো শাখা খুলছে বলে আ

আরও পড়ুন...

জি.এস.টি খায় না মাথায় দেয়

Sushovan Patra

ঐ জোকসটা পড়েছেন? ঐ যে, ম্যাডাম তাঁর ছাত্র কে জিজ্ঞেস করছেন "বল ২ আর ২ যোগ করলে কত হয়?" অমনি ছাত্র নিঃসংকোচে উত্তর দিচ্ছে ৯.৫। উত্তর শুনে ম্যাডাম যখন ছাত্রের জ্ঞানের দীপ্ত বিচ্ছুরণে বিরক্ত হয়ে বেত্রাঘাতে উদ্যত, তখন সেই ছাত্র কাঁচুমাচু হয়ে হিসেব কষছে "২+২=৪ +VAT+সার্ভিস ট্যাক্স+হাইয়ার এডুকেশন সেস+স্বচ্ছ ভারত সেস+কৃষি কল্যাণ সেস+এক্সাইস ডিউটি করলে ওটা রাউন্ড ফিগারে ৯.৫'ই হবে।" ছাত্রের উত্তর শুনে সেই ম্যাডাম, সেই যে অজ্ঞান হয়েছিলেন, গত পরশুই তাঁর জ্ঞান ফিরেছে; মোট চারজন অর্থমন্ত্রী আর দুই সংসদের এক

আরও পড়ুন...

ধর্ষণ ফর্ষণ সোশাল ফোশাল

অবন্তিকা

এক দেশে এক প্রকাশক ছিলেন। সে তো কত দেশেই থাকেন। এতে আর আশ্চর্য কী? বিস্ময়ের এইই যে, তিনি আমার বন্ধু ছিলেন। সেও তো কতই থাকেন। কত শত। বন্ধুও আবার হরেক কিসিমের হন। যেমন ধরুণ, একদল সেক্স অ্যান্ড সেক্সচুয়ালিটির চর্চা করেন, অন্যদল সেক্স বলতে বোঝেন পানু। আবার, একপক্ষ আর্ট ফর আর্ট'স সেক-এর জন্য গলা ফাটান, অপরপক্ষ বিশ্বাস করেন শিল্পের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব, এবং এই দ্বিতীয় পক্ষকে আবার প্রথম পক্ষেরা সোশাল-ফোশাল বলে গালি দ্যান। আমাদের এমন নানান মানুষের সাথে শান্তি ও অশান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ঘটে। দুর্দি

আরও পড়ুন...

“আপনাকে বলছি স্যার” – ফিরে দেখা (৩)

Salil Biswas

“আপনাকে বলছি স্যার” – ফিরে দেখা (৩)
হালিসহর সভা

সেই সভায় আলোচনার বিবরণ। প্রায় সম্পাদনা না করে। এটা তৃতীয় ও শেষ অংশ।
ওখানে বলা হয়নি এরকম কয়েকটা কথা এখানে যোগ করেছি।

এই ভোকেশানাল ট্রেনিং ব্যাপারটা, যেটা ভোকেশানাল শিক্ষা, এটা তো নিশ্চিত ভাবে শিক্ষাকে সংকুচিত করে। এবিষয়ে হেনরি জিরু-র কিছু মন্তব্য অবশ্যই প্রনিধাণযোগ্য। (Henry A. Giroux : On Critical Pegagogy (Critical Pedagogy Today Series). Bloomsbury, London; New Delhi.) এছাড়া আরও বিভিন্ন জায়গাতে এনিয়ে আলোচনা আছে।
তা

আরও পড়ুন...

সেই পলাশের তিন পাত

Sarit Chatterjee

সেই পলাশের তিন পাত
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির এক রাতে পোয়াতি পেঁপেগাছটার বড় মায়া হল। ওর পায়ের কাছেই সদ্য অঙ্কুরিত এক অচেনা গাছের চারা তার প্রথম তিনটে কচি পাতা নিয়ে ঝড়ের দাপটে প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। সর্বশক্তি দিয়ে সেদিন পেঁপেগাছটা হাত বাড়িয়ে ঝুঁকে পড়েছিল, বলেছিল, ভয় পাস নে রে খোকন, আমি আছি তো! আর সারা রাত তার আঁচলের আড়ালে ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল পলাশের কচি পাতাগুলো।

লাল মাটি, গুড় জাল দেওয়া গন্ধ, দামাল গন্ধেশ্বরী। বুধু সারেঙ হারমোনিয়াম বাজাতো। সেদিন ছোপ

আরও পড়ুন...

রোজ রোজ

Prativa Sarker

মেয়েছেলেরা বেশি রাত করে বাইরে থাকবে না। ওটা পুরুষের একচেটিয়া। লক্ষ্মীর স্বামী রোজ দেড় রাতে টলোমলো হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। ওকে চুল ধরে টেনে ওঠায়। সোয়ামির জন্য যত রাতই হোক জেগে বসে থাকতে হয় ওর বারোভাতারি মা শেখায়নি ?
ধুপধাপ মারের চোটে বস্তি জেগে যায়। কিন্তু কেউ এগোয় না। বাবুরাও তো কারো ঘরেলু মামলায় দখল নেয় না।

লক্ষ্মী তাই পা টেনে টেনে আমার ঘর মোছে, বাসন মাজা সাবান কাটা আঙুলে ঢুকে গেলে আঃ উঃ করে। আমারও কষ্ট হয়, কিন্তু ওর চোয়াড়ে বর এই সৌখিন ফ্ল্যাটে চড়াও হলে সম্মান যাবে এই ভয়ে চুপ থাকি।আরও পড়ুন...

আমার মা সিরাজী বিটি~

বিপ্লব রহমান

সেদিন ছুটির দিনে সকালে আমার ৭৪ বছর বয়সী মা’র ঘরটা গুছিয়ে দিচ্ছিলাম। বাসার সকলে যে যার কাজে ব্যস্ত। বিছানার চাদর-বালিশের কাভার বদলে দেয়া, ঘরের মেঝে পরিস্কার ইত্যাদি।

মা তখন বাথরুমে। দরজা ভেড়ানো। আটকা পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় তার দরজায় ছিটকিনি তোলা নিষেধ। সেখান থেকেই কথা হলো দু-একটি। জানালেন স্নান করবেন না। আজ নাকি শরীরটা তেমন ভালো নেই। ইত্যাদি। এরপর ঘন্টা দুয়েক পর আমি চা করে নিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখি তখনো তিনি বাথরুমে। স্নান করারও কোনো শব্দ নেই।

আমি যতোবারই ডাকি ওনাকে, উনি সাড়া দেন,

আরও পড়ুন...

লাল

Soumyadeep Bandyopadhyay

লাল
১)
শীতের ব্লেডে ফালাফালা হচ্ছিল শহর ় মাঝে মাঝে এক একটা অপসৃয়মান গাড়ীর হেডলাইট চুমু খেয়ে যাচ্ছিল হিম ল্যাম্পপোস্ট গোড়া ়তখন শুখা করোটির মত মেঘেরা চষে খাচ্ছিল এদিক ওদিক ় ফাঁকা রাস্তায় ঝুল খাচ্ছিল একলা আলোর সারি ় ভয়ে পালাতে গিয়ে অসভ্য তারের নাবালক আঙ্গুলের ফাঁকে আটকে যাচ্ছিল চাঁদের পোশাক ় এমন সময় সবাই ওম জড়িয়ে ঘুম যায় ় দু একজন ছাড়া ়
এমন অপ্রত্যাশিত সময়ে কিছুটা ঠান্ডা হত্যাকান্ড ঘটছিল বড় রাস্তার ঠিক পাশের সমান্তরাল জমিটাতে ় ডি কে অন্ধকার

আরও পড়ুন...

মার

Manash Nath

প্রথম ধাক্কাতেই বয়েসটা টের পেলো সে! যদিও হুব্বা সেও কম ছিল না এককালে। মাঠের হাতাহতি গুলো ছাড়া কলেজের অলিন্দে আর তার জের টেনে রাস্তায় দিনে রাতে কম ঘুঁসোঘুসি করেনি সে। মেরেছে মারও খেয়েছে। মার না খেলে মার দেওয়া যায় না। সুযোগ সবারই আসে আর দম ধরে রাখতে পারলে জিতে আসাও যায়। বাইকওয়ালা ছেলেদুটোর সাথে রাস্তার ঝামেলাটা অন্যদিকে টার্ন নিতে পারে এটা তার সিক্সথ সেন্স বলছিল! ছেলেদুটো মদ খেয়ে ছিল আর এক্ষেত্রে চল্লিশ প্লাস একজনের চেপে যাওয়াই ভাল কিন্তু ওই যে হুব্বা!!
বাইক থেকে নেমে আসা ছেলেটার প্রথম ধাক্কাত

আরও পড়ুন...

সুখী গৃহকোণ!

Sinjini Sengupta

একটা পরিবারে ধরা যাক বাবা, মা এবং বাচ্চা তিনজনেরই জ্বর হয়েছে। পরিবারটি মোটামুটি স্বচ্ছল, কাজের মাসি পিসি সবই আছে। আজকাল এমনিতেও আর আলাদা করে বাজার করার দরকার পড়ে না, মোবাইলে দু চারটে বোতাম টিপে দিলেই স্যাট করে বাড়ির দরজায় তরিতরকারি মায় মাছের ঝোল বা রেশমি কাবাব সবই পৌঁছে যায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই। অসুখ করলে ডাক্তার দেখানো হয়, ওষুধও পড়ে নিয়মিত। তা, এ হেন একটা পরিস্থিতিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই কি দেখা যাবে? দেখা যাবে যে, তিনজনেই শুয়ে বসে কাতরাচ্ছে, জ্বরে যেমন হয় আর কি। আর তারপর বাবাটিকে অনতিবিলম্বেই দে

আরও পড়ুন...

বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনের অগ্রতাপস―ডিরোজিও # পাঁচ

Ashoke Mukhopadhyay

।। ৭ ।।
মৃত্যুতেও ডিরোজিও তাঁর এই উচ্চগ্রাম মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে গেছেন। ১৯ ডিসেম্বর ১৮৩১ তিনি ধর্মতলা অ্যাকাডেমি স্কুলে গেলেন বার্ষিক পরীক্ষা নিতে। সেখানেই তিনি দিলেন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের শেষ ভাষণ। আশা প্রকাশ করে গেলেন শেষবারের মতো, ড্রামন্ডের এই বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মতোই এক দিন আসবে—
When man to man the world o’er
Shall brothers be, and a’ that.

সেখান থেকে ফিরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুরারোগ্য কলেরায় আক্রান্ত হন। আসলে সেই সময় সারা কলকাতা জুড়েই কলেরা এক মহামারীর রূপ নিয়ে

আরও পড়ুন...

প্যাসেজ টু সাউথ এশিয়া (পর্ব-২)

Maskwaith Ahsan

কে আর এদের পিতা হতে চায়!

স্বর্গ থেকে গান্ধীজী এসেছেন নতুন দিল্লীতে। ভারতের সমাজ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে তাকে। তাই এই সরজমিন পরিদর্শন। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও নেহেরু এসেছেন। যেমন জোর করে জিন্নাহকে পাঠানো হয়েছে পাকিস্তান পরিদর্শনে। নেহেরু-জিন্নাহ দুজনেই দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে রাজী ছিলেন না। কারণ হেভেনে দক্ষিণ এশীয়দের আচার আচরণ দেখেই উনারা বুঝতে পেরেছেন প্রতিবেদনের ফলাফল কী হবে। তবুও বাপুজী যেহেতু অ-উপশমযোগ্য আশাবাদের রোগী; তার নির্দেশেই দুজনকে দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে হয়েছে। গান্ধীজ

আরও পড়ুন...

মমতার ফেডারালইজম প্রসঙ্গে

souvik ghoshal

মমতা ফেডারেল স্ট্রাকচার নিয়ে উচ্চকিত কিছু কথা বলেছেন। চারটি বাদে অন্যান্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থাকার দরকার নেই বলেছেন। অনেকেই শুধু ফেডারালইজম এর এই নয়া ধাঁচাটা সমর্থন করছেন তাই নয়, বঙ্গে মাতরম বলে মমতাকে অগ্নিশ্রাবী বিপ্লবী হিসেবে দেখাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে কয়েকতা কথা বলা আবশ্যক। মার্কিন ধাঁচের ফেডারাল স্ট্রাকচার অনেকটাই এরকম। অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ কেন্দ্রের, বাকীগুলো মূলত রাজ্যের। দেশজোড়া এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক আবশ্যকতা অবশ্যই আছে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে এটাও মাথায় রাখার মমতা ৮৪ থেকে ২০১১ একব

আরও পড়ুন...

বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনের অগ্রতাপস―ডিরোজিও # চার

Ashoke Mukhopadhyay

।। ৬ ।।
ডিরোজিওর এই সমস্ত মতাদর্শগত সাফল্যের পেছনে মৌল উৎসগুলি কী কী? তিনি কি প্রচলিত বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো রকম ঈশ্বরের ধারণায় বিশ্বাস করতেন? অথবা, তিনি কি পুরোপুরি নাস্তিক ছিলেন? তাঁর কি সুনির্দিষ্ট কোনো দার্শনিক বোধ তৈরি হয়েছিল? নাকি, তিনি যখন যা মনে হত সেই মতো বলতেন বা আচরণ করতেন? তাঁর ছাত্রদের কাছেই বা তাঁর মতাদর্শগত বার্তা ঠিক কী ধরনের ছিল? খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি তাঁর মনোভাব ঠিক কী ধরনের ছিল? ভারতের খ্রিস্টান মিশনারিরাই বা তাঁর সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করত?

এবার সেই সব প্রশ্নে

আরও পড়ুন...

ক্রমাগত মন্তাজ: ক্যামেরা ও এক প্রবীণ শিশু

শিবাংশু

দৃশ্য ১. একটি আট বছরের বালক প্রথম সিনেমা দেখতে গেছে। বাবার সাইকেলের সামনে বসে ফেরার সময় অসংখ্য প্রশ্ন করে যায় তারাপদকে নিয়ে। কেন সে ফিরে যায়। সে যায়ই বা কোথায়, ফেরেই বা কোথায়? বালক তখনও পথের পাঁচালি দেখেনি।
দৃশ্য ২. বাবা মা আলোচনা করছেন। সত্যজিৎ না তপন, কে দর্শককে বেশি কাছে টেনে নিতে পারেন। বালক বোঝেনা, কেন মা ক্ষুধিত পাষাণ আর ঝিন্দের বন্দীর জাদুর কাছে এতো নিবেদিত। তাঁরা কিছু আগে মহানগর দেখে এসে নীরবে মুগ্ধ হয়ে বসে আছেন। না, মহানগরকে নিয়ে কোনও প্রশ্ন নয়। কিন্তু মা বলেন, সত্যজিৎ দর্

আরও পড়ুন...

পতিতোদ্ধারিণী পূর্বে

dj ghosh

পূর্ব কলকাতার জলাভূমি নিয়ে কেউ কেউ নড়ে চড়ে বসেছেন বা বসবেন ভাবছেন l বস্তুটি খায় না মাথায় দেয়, সে জানার আগ্রহ বাঙ্গালী তথা কলকাতাবাসীকে কখনো ব্যতিব্যস্ত করেছে এমন নয় l এই এলাকার মূলবাসী যাঁরা তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে কেমন একটি অদ্বিতীয় ঐতিহ্যের তাঁরা ধারক-বাহক l/

এরই মধ্যে আবার নানান আজগুবি লেখা দেখি, ভূল লেখা দেখি, সামান্য কিছু তথ্যের উপর নিত্য নতুন তত্ত্ব অনর্গল বেরোচ্ছে l যাঁরা লিখছেন তাঁরা ভালো জানেন না, যাঁরা রিভিউ করছেন তাঁরাও জানেন না l অথচ বিষয়বস্ত্ত রমনীয়, অতএব দে ছেপে l ১৯৮৬ স

আরও পড়ুন...

প্যাসেজ টু সাউথ এশিয়া (পর্ব-১)

Maskwaith Ahsan

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু

হেভেনে দক্ষিণ এশীয় নাগরিকেরা নরক রচনা করায় সিদ্ধান্ত হয় ভারতীয় উপমহাদেশের নেতারা পুরো দক্ষিণ এশিয়া ঘুরে এই জনপদের মানুষের নৈতিক বিচ্যুতির কারণ অনুসন্ধান করবেন। দেবদাসের গান্ধীজীর সঙ্গে ভারতে যাবার কথা থাকলেও তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশে যাবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গান্ধীজী মুচকি হেসে দেবুদাকে বলেন, মুখ ফুটে বললেই হয় আমার সঙ্গে সময় কাটাতে বোরিং লাগে। শুধু নীতিকথা বলি বলে।
দেবুদা লাজুক হেসে বলেন, কী যে বলেন বাপু! আমি ঢাকাটা ঘুরেই দিল্লীতে আপনার সঙ্গে যোগ দেবো। আরও পড়ুন...

বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনের অগ্রতাপস―ডিরোজিও # তিন

Ashoke Mukhopadhyay

।। ৪ ।।
একটা বেশ বড় সাফল্য এল। হিন্দু রক্ষণশীল মাতব্বররা দারুণ উল্লসিত হয়ে এবার আর একটা আক্রমণ হানল। অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন-এর সভা তো আগেই কলেজের বাইরে চলে গেছে। কলেজে তখন শুধু রাধাকান্ত দেবের ধর্মসভার অধিবেশন বসে। এবার ফতোয়া এল, কলেজের ছেলেরা যেন কলেজের বাইরেও সেই সভার আলোচনায় যোগদান না করে। করলে তারা কলেজের কর্তাব্যক্তিদের “বিরাগ ভাজন” হবে। সেই মর্মে নোটিশও পড়ে গেল। কিন্তু ছেলেদের তাতেও নিরস্ত করা গেল না। ডিরোজিওর আকর্ষণ তখন শক্তিশালী চুম্বকের মতো কলকাতার নতুন আলোকপ্রাপ্ত ছাত্রদের টানছে।

আরও পড়ুন...

গোলাপ সুন্দরী অথবা বিস্মৃতির আখ্যান

Sakyajit Bhattacharya

রোজিকে পালাতেই হত। চোদ্দ বছরের বিবাহিত জীবনে নর্মান তাকে শুধুই শারিরীক অত্যাচার করেনি। ধর্ষণ করা, কয়েকটা দাঁত ফেলে দেওয়া (যার একটা আবার রোজি গিলেও ফেলেছিল) অথবা কিডনি নষ্ট করে দেওয়া বা একবার লাথি মেরে গর্ভপাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না নর্মানের অত্যাচার। নর্মান ধীরে ধীরে তাকে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে এটাই রোজির নিয়তি। কারণ সে একটা মেয়ে। তার শক্তি নেই এই অত্যাচার কেটে বেরোবার। এই মানসিক নিষ্ক্রিয়তা পুরোপুরি চেপে বসবার আগেই রোজ ড্যানিয়েলসকে পালাতে হত। নাহলে সে একদিন শরীরে এবং মনে বিকলাংগ হয়ে যেত।
<

আরও পড়ুন...

যে শহরে আমি বেমানান

সুকান্ত ঘোষ

আমি তখন নিজের শহর খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমার শহরে একটা নদী থাকবে, অসংখ্য গাছ, বৃষ্টিভেজা পাখিরা জানালার কার্ণিশে এসে বসবে, রোদ ঝলমলে দিনে নদীর পাশ দিয়ে হাঁটতে বেড়ানো যাবে আর তৃষ্ণা পেলে ঢেউ খেলানো জলের দিকে মুখ করে বসানো চেয়ারের একটা কফির দোকান থেকে নিয়ে নেওয়া যাবে পছন্দের কাগজের কাপ – আরো অনেক কিছু – শহর আমাকে নষ্টালজিক করে তুলবে –

নষ্টালজিক কাকে বলে? আমার তো কোন শহর ছিল না কোন দিন – তাহলে শহর কি করে আমাকে ফিরিয়ে দেবে নষ্টালজিয়া? আমি ঠিক জানি না – নাকি আমি প্রকৃত অর্থে জানিই না যে নষ্টালজিয়া

আরও পড়ুন...

গুলাবো

একক



গদ গদ করে বৃষ্টি হচ্ছে । ব্যালকনির দরজা খোলা ।জল গড়িয়ে ঢুকছে ঘরে । প্রথমে রেখা তারপর একটা সাউথ আমেরিকার ম্যাপ তারপর লম্বা জিবেগজা হয়ে জলগুলো বুকসেলফের দিকে এগিয়ে যায় । একপাটি ওল্টানো জুতোকে ধরে ফ্যালে । পাশে ছাড়া মোজাটা ভিজে গ্যালো । তারপর চিৎ হয়ে পরে থাকা উৎপলকুমার । বইমেলা । শিঞ্জিনী এনে দিয়েছিলো । শিঞ্জিনী পিঙ্ক টপ পরেছিলো । এইতো সেদিনও । ওহ আবার চাপিয়ে দেওয়া হিংসা ।

না থাক । পারলপেটের জার থেকে মুড়ি নিয়ে মুখে ফেলে তুতুন। মিয়ে গ্যাছে । বৃষ্টি হচ্ছে গদ গদ করে । তেতো লাগে খুব

আরও পড়ুন...

বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনের অগ্রতাপস―ডিরোজিও # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

।। ৩ ।।
“Truth is the goal; reason is thy way.” কত সহজেই এই কথাটা বলতে পেরেছিলেন সতের বছরের এক কিশোর শিক্ষক প্রায় তাঁর সমবয়সী ছাত্রদের কাছে। শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে। অনুচ্চ কণ্ঠে। ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি এসে যোগ দিলেন এই কলেজের চতুর্থ শিক্ষক হিসাবে। হিন্দু কলেজে ডিরোজিওর অভিমন্যূ-ভূমিকা এই ভাবেই শুরু হয়েছিল। শুনতে আজ আশ্চর্য লাগলেও দরজা বন্ধ করেই এসব কথা সেদিন বলতে হত। চার বছরের মাথায় এটাই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় মাতব্বরদের একটা বড় অভিযোগ হয়ে উঠ্ববে। তারা দাবি জানাবে দরজা খুলে ক্লাশ নেবার জন্

আরও পড়ুন...

হারানো-প্রাপ্তি

অনিকেত পথিক

মুখবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া মানে তো আসলে একরকমের শেষ হয়ে যাওয়া। একটা জিনিসের সঙ্গে, একটা মানুষের সঙ্গে, একটা জীবনের সঙ্গে আমাদের চলাটা ফুরিয়ে যাওয়া। দেখতে গেলে আদি-অন্তহীন এক ফুরিয়ে যাওয়ার মধ্যেই আমরা বাঁচি, প্রতি মুহুর্তই অনবরত ফুরিয়ে যায়, কোনো মুহুর্তই তার আগের-পরের মুহুর্তের মত নয়। কিন্তু যে ফুরোনো হঠাৎ আসে, খবর না দিয়ে আসে, অসময়ে আসে, তাকেই আমরা হারিয়ে যাওয়া বলি। ব্যাগ খুলে দেখি খাপটা পড়ে আছে, কলমটা নেই, সকালে বেরোবার আগে দেখি একপায়ের মোজা নেই, দিনের শেষে কানে হাত দিয়ে দেখি একটা দুল নেই। আ

আরও পড়ুন...

আলো-অন্ধকারে যাই ( purano lekhaa; sa`mraxaNer jonye tolaa)

Ranjan Roy

আলো-অন্ধকারে যাই ============================
( এটি নেহাতই গপ্পো; এখানে যদি কোন ঘটনা বা কারো নাম দেখে আপনাদের পরিচিত কাউকে মনে পড়ে তো জানবেন তা নেহাৎই কাকতালীয়।)

এক
----
ট্রেন একটা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অনেকক্ষণ থেমে আছে। কিন্তু হরিদাস পালের চোখে যেন আঠা লেগে আছে, খুলতেই চাইছে না। এসি-থ্রির কোমল ঠান্ডায় শেষরাতের জম্পেশ ঘুম আর কি কি সব আহ্লাদী স্বপ্ন! ও আরেকবার কম্বলটা ভাল করে টেনে নিল। কিন্তু কামরার মধ্যে আলো বড় বেশি, আর লোকজনের কথাবার্তা যেন বেড়েই চলেছে। এই সাতসকালে কেন যে

আরও পড়ুন...

অজ্ঞ ক্রীড়া-মূর্খের চোখে দীপা কর্মকার

Asish Das

নাহ বলতে কোন দ্বিধা নেই একসপ্তা আগেও দীপা কর্মকারের নামটা আমি শুনিনি। সেই ২০১৪ গ্লাসগো কমনওয়েলথে ব্রোঞ্জ পাবার পর হয়তো একটু মাতামাতি হয়েছিল হয়তো। কিন্তু একে জিমন্যাস্ট তাও আবার ত্রিপুরার, এতদিন কার মনে থাকবে বাওয়া? ভুল বুঝবেন না। আমার এই অজ্ঞতায় আমি যে লজ্জিত তা স্বীকার করতে কোন দ্বিধা নেই। তাই আর নতুন করে কমেন্টে “এতদিন মনে পড়েনি, এখন হুজুগে পড়ে নাচানাচি করছে” বলার কোন মানে নেই। নোবেল না পেলে বাঙালি অমর্ত্য সেন, এমনকি রবীন্দ্রনাথকেও মনে রাখত কিনা সন্দেহ।
যাই হোক। নিউজফিডে নামটা খুব ঘুরছে দে

আরও পড়ুন...

বাংলামেইল টোয়েন্টিফোরডটকম-এ মধ্যরাতের অশ্বারোহী

Maskwaith Ahsan


টুডে নিউজ৭১ ডট কম নামের একটি অনলাইন পত্রিকা প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-কে নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর মিথ্যা খবর প্রকাশ করে। এরকম কিছু ওয়েব পোর্টাল রয়েছে যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্যাং-এর প্ররোচনায় "গুজব" প্রচার করে। বলাই বাহুল্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের গ্যাং-গুলো নিজেদের অশ্লীল উদ্দেশ্য সাধনে ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এরকম নৈতিকতা বর্জিত পোর্টালগুলো চালায়।

টুডে নিউজ৭১ ডট কম সেরকমই একটি নৈতিকতা বর্জিত ওয়েব পোর্টাল; তথ্য উপদেষ্টা জয় সম্পর্কে তাদের প্রকাশিত খ

আরও পড়ুন...

বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনের অগ্রতাপস―ডিরোজিও # এক

Ashoke Mukhopadhyay

রাতের আকাশে ক্ষণস্থায়ী এক উল্কার মতো বাংলার সমাজে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-৩১), সূত্রপাত করেছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দের প্রথম পাদে এই পরিচিত বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষের মাটিতেই এক বিরাট সম্ভাবনাময় মুক্তবুদ্ধি আন্দোলনের। আর তার ঊর্মিমালা সেদিন সমসাময়িক ঐতিহ্যবাদী ও সনাতনপন্থী চিন্তাধারার মেদ-মেদুর শরীরে প্রবল আঘাত করেছিল। সেই অভিঘাতের কাহিনি স্মরণ করলে এটা খুব বিস্ময়ের যে আমরা একশ বছর যেতে না যেতে তাঁকে প্রায় ভুলেই গেছি। রাম মোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৪) বা ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের (১৮২০-

আরও পড়ুন...

মার্চ করে চলে যাওয়া একদল কাঠবিড়ালি ও খয়েরি ঘাসফড়িং

Muradul islam

রোদ পড়ে গেছে। সূর্য এখন আস্তে আস্তে রঙ বদলাবে। তারপর মিলিয়ে যাবে। কাঠবিড়ালিদের সূর্য চন্দ্র ইত্যাদি নিয়ে বোধহয় কোনও আদিখ্যেতা নেই। মানুষের আছে। তেরাব আলী বারান্দায় বসে ভাবেন। ইদানীং তাঁর হাতে নতুন কাজ আসছে না। কাজ না থাকলে তার হাঁসফাঁস লাগে। তখন তিনি কবিতা লেখেন। অথবা গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে বসে থাকেন বেশিরভাগ সময়।

এসময় কাঠবিড়ালিরা তাঁর চিন্তার অধিকাংশ জুড়ে থাকে। তিনি কাঠবিড়ালি সম্প্রদায়ের সাথে মানুষের মিল খুঁজেন। বেশিরভাগ সময়ে হতাশ হন। তাঁর বারান্দার পাশের লম্বা গাছটিতে

আরও পড়ুন...

বৃহন্নলা, ছিন্ন করো ছদ্মবেশ’

Debabrata Chakrabarty


৪৫ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ । ১৯৭১এর ৫-৬ আগস্টে ময়দানে যদিও কেউ নাকি তার রক্তাক্ত দেহ পরে থাকতে দেখেছিল ,মাথা কেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ম্যানহোলে প্রমাণ লোপের চেষ্টায় । অধ্যাপক দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি (শেল্টার) থেকে ৭১-এর চৌঠা অগস্ট রাত সাড়ে-এগারোটা নাগাদ সরোজ দত্তকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রুণু-দেবী-তারাপদ’রা সেই থেকে পুলিশের খাতায় অথবা সরকারী মতে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি এখনো নিখোঁজ । তিনি সেই কতিপয় বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম যার তীক্ষ্ণ অনন্য স্বর শাসকদের কাছে আতঙ্ক -ভেঙ্গে চুরমার করে মধ

আরও পড়ুন...

আবেশের মৃত্যুরহস্যঃ একটি সত্য উদ্ঘাটনের প্রচেষ্টা

বাজে খবর

আবেশ কেন মারা গেলো? - এই জ্বলন্ত প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে গোটা বঙ্গসমাজ। আবেশের মৃত্যুতে সামগ্রিক বাঙ্গালী জাতির চেতনা জাগ্রত হয়েছে - সামাজিক কাঠামোর প্রতিটি ইঞ্চি বিশ্লেষণ করে নাগরিক সমাজ একের পর এক বৈপ্লবিক দলিল পেশ করছে। আমরা নিজেদের চিনছি, জানছি - আবেশ কেন মারা গেলো, আর কি কি করলে আবেশ মারা যেতো না। আসুন, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হওয়া সমস্ত দলিল কে এক করে আমরা একটা কারনের লিস্ট বানাই।


আবেশ মারা গেছে কারন সে আইনত প্রাপ্তবয়স্কের তকমা পাওয়ার আগেই নেশা করতো। দু মিনিট নীরবতা সেই সমস্ত

আরও পড়ুন...

তিলোয়ার অস্ত্র

Prativa Sarker

ভোরবেলা ঘরের দরজা খুলতেই প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ! পা যেন পিছলে গেল হলুদ পেছল আধা-তরলের ওপর ! কি ভয়ংকর ! এ তো মানুষের মল।!

আমার খুব ছোটবেলার ঘটনা। মনে আছে পাশের বাড়ির কাকিমার চিলচিৎকারে মা ছুটে গিয়েছিলেন টিউকলের পাশে জিগা গাছের নীচ দিয়ে।
সবে তখন সূর্য উঠছে। সেই অল্প আলোতেই সদ্য ঘুম ভাঙা ছোট্ট আমি মায়ের পেছন পেছন না গিয়ে বোকার মতো উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম দূরে ধূসর আকাশের গায়ে মহাকাল পর্বতের আবছা নীল রেখা।

ব্যাপারটা হয়েছিল কি, তখন ওদিকে প্রায় বাড়িতে খাটা পায়খানা। বাড়ির চৌহদ্দি যেখা

আরও পড়ুন...

রাজেন্দ্রলাল মিত্র: উনিশ শতকের ভারতবিদ্যা পথিক # পঞ্চম পর্ব

Ashoke Mukhopadhyay

[এবছর ২৬ জুলাই ২০১৬ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মৃত্যুর একশ পঁচিশ তম বছর সূচিত হচ্ছে। উনিশ শতকের ভারতের এই অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রকে আমরা আজ ভুলে গেলেও তাঁর জীবনের কর্ম ও সাধনাকে যতটুকু স্মরণ করব সেই অনুপাতে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্য করতে ইচ্ছে হবে। সেই তাগিদ থেকেই এই রচনার জন্ম। ধাপে ধাপে কয়েকটি ক্রমে আমরা চেষ্টা করেছি স্মরণ করার ছলে এই মহৎ মানুষটিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের কিছু ভাগ অন্তত ফিরিয়ে দিতে। এবারে সূত্রোল্লেখ সহ পঞ্চম বা শেষ পর্ব।]

।। ৮ ।।
এই সমস্ত দিক থেকে বিচার করলে আমরা রাজেন্দ্রলা

আরও পড়ুন...

মহাশ্বেতার প্রয়াণ কিন্তু ‘বীরসার মরণ নাই, উলগুলানের শেষ নাই’

souvik ghoshal

চলে গেলেন মহাশ্বেতা দেবী। নব্বই বছর বয়েসে বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম লেখিকার জীবনাবসান হল। শুধু সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, নিম্নবর্গের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করা এক অবিস্মরণীয় সমাজকর্মী এবং প্রতিবাদী রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবেও উত্তরকাল তাঁকে মনে রাখবে।
মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম হয়েছিল ১৪ জানুয়ারী, ১৯২৬ এ। বাড়িতে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বাবা মণীশ ঘটক ছিলেন সেকালের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, যিনি লিখতেন যুবনাশ্ব ছদ্মনামে আর আলোড়ন ফেলেছিলেন ‘পটলডাঙার পাঁচালি’ নামক কালজয়ী রচনার মধ্যে দিয়ে। সম্পাদনা করতেন বর্ত

আরও পড়ুন...

ডন কিহোটে, অথবা ছায়াবাজি

Sarit Chatterjee

ডন কিহোটে, অথবা ছায়াবাজি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় (ছোটগল্প)

শিয়ালদা স্টেশন। বছর পনেরোর সেই ছেলেটা একরকম প্রায় টলতে টলতেই কারশেডে দাঁড়ানো লালগোলা প্যাসেঞ্জারের খালি কামরাটায় উঠে মেঝেতেই শুয়ে পড়ল। রেলপুলিশের হাতে যাত্রীরা ওকে তুলে দেওয়ার সময় দেখা গেল ওর শরীরের প্রায় অর্ধেক আগুনে পুড়ে ঝলসে গেছে।

রাত বারোটার কিছু পরে এনআরএসের বার্ন ওয়ার্ডে সার্জারীর পিজি সমীর মাইতি যখন ওকে দেখে, তখনও ও অজ্ঞান। মেডিকো-লিগাল কেস। প্রায় পঁয়তাল্লিশ পারসেন্ট বার্ন। তবে সেকেন্ড ডিগ্রী; ইনফেক্

আরও পড়ুন...

নুড়ি , থুড়ি , গাঁজাখুরি

Soumyadeep Bandyopadhyay

সন্ধ্যে নামবে নামবে করছে , বর্ষার এই সময় টা আকাশ দেখার জন্য আদর্শ | দিনের শেষ আলোর রঙিন ফলা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে আকাশকে , সেই রক্ত লাল চুইঁয়ে পড়েছে নদীর জলে , আনমনে ভেসে থাকা নৌকা গুলোর গায়ে | নদীর ধারটা অদ্ভূত | শহরের মাঝে, তবুও একদম ই শহর নয় | সামনের কাদা জমিতে ঘাসের মাথা নাড়া , স্রোতের অপেক্ষায় এ শহরে আটকে থাকা পানা ঝোপ | দূরে ওপাশে তিন রকম ভাষায় নাম চমকাচ্ছে হাওড়া, ব্রিজের ওপরে হালকা বেগুনী আলো জ্বলবে জ্বলবে প্রায় | উত্তর প্রদেশীয় অভিবাসী দের ভিড় প্রচুর এখানে | শিব মন্দিরের ধাপে নিশ্চিন্ত

আরও পড়ুন...

বিতানকে...

Sinjini Sengupta

আজকে অনেক, অনেকদিন পড়ে হঠাৎ করেই তোকে স্বপ্নে দেখলাম - কেন, কে জানে! তোকে কি মিস করছিলাম? কি জানি, আলাদা করে বুঝতে পারিনি তো একবারও। তুই আছিস, থাকবি, এরকমই তো হওয়ার কথা… আলাদা করে কবে, কখন, কেন, এসব কিছু ভাবতে বসিনি তো কখনই! কিন্তু আজকে যেরকম আচমকা হানা দিলি পুরো স্বপ্নটা জুড়ে… কি প্ল্যান বলত, তোর?

কি দেখলাম, জানিস? দেখলাম… না না দাঁড়া, প্রথমে শুনলাম, ফোনে, যে তোর নাকি অসুখ করেছে। খুব সিরিয়াস, হসপিটালে ভর্তি। বোধ হয় মৌমিতা বলল। আর তারপর আমি গেলাম তোকে দেখতে - যেন পাশেই থাকি, এপাড়া থেকে

আরও পড়ুন...

রাজেন্দ্রলাল মিত্র: উনিশ শতকের ভারতবিদ্যা পথিক # চতুর্থ পর্ব

Ashoke Mukhopadhyay

[এবছর ২৬ জুলাই ২০১৬ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মৃত্যুর একশ পঁচিশ তম বছর সূচিত হচ্ছে। উনিশ শতকের ভারতের এই অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রকে আমরা আজ ভুলে গেলেও তাঁর জীবনের কর্ম ও সাধনাকে যতটুকু স্মরণ করব সেই অনুপাতে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্য করতে ইচ্ছে হবে। সেই তাগিদ থেকেই এই রচনার জন্ম। ধাপে ধাপে কয়েকটি ক্রমে আমরা চেষ্টা করছি স্মরণ করার ফাঁকে ফাঁকে এই মহৎ মানুষটিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের কিছু ভাগ অন্তত ফিরিয়ে দিতে। এবারে চতুর্থ পর্ব। সূত্রোল্লেখ পঞ্চম বা শেষ পর্বে থাকবে।]

।। ৬ ।।
উপরোক্ত গ্রন্থ কয়টির

আরও পড়ুন...