সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...

স্কটিশ ক্যাফে

Ritwik Kumar Layek

স্কটিশ ক্যাফে
*******************************
(১)
মহাযুদ্ধের ক্ষত তখনও ইউরোপের শরীরে শুকোয়নি, তার মধ্যেই বেজে উঠল আরো একটা যুদ্ধের দামামা। শক্তি বাড়িয়ে হিটলার তখন ইউরোপের সম্রাট হবার উচ্চাকাঙ্খা পোষণ করছে। কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যাবে নয়-দশ কোটি মানুষ। কিন্তু সেই মহামৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি একটা আলোর রেখাও ছিল। দুই যুদ্ধের সমসাময়িক সময়্টা সমস্ত দিক থেকেই ইওরোপে আইকনিক। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে উর্বরতম সময়। গোটিঙ্গেনে তখন গাউসের সোনার তরী সোনার ফসলে ভরে ঊঠেছে। কেম্ব্রিজ-ইকোল পলিটেকনিক-কোপেনহেগেন-

আরও পড়ুন...

তুমি নিজে ঝরে গেছো

শিবাংশু

.....এখন সকলে বোঝে, মেঘমালা ভিতরে জটিল
পুঞ্জীভূত বাষ্পময়, তবুও দৃশ্যত শান্ত, শ্বেত,
বৃষ্টির নিমিত্ত ছিলো, এখনও রয়েছে, চিরকাল.... (বিনয়)

পঁচিশে বৈশাখ এখন একা আসেনা। অথবা একজন মাত্র মানুষের স্মৃতি নয় তা। রাজেন্দ্র চোলের মন্দির বা রাগ য়মনকল্যাণের মতো তা বহুদিন ধরে গড়ে উঠেছে তিলে তিলে। যে সব মানুষগুলি রবীন্দ্রছায়ার আশ্রয়ে থেকে, একের পর এক ইঁট গেঁথে, বাঙালির তথাকথিত সাংস্কৃতিক সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন, পঁচিশে বৈশাখে তাঁরাও ফিরে আসেন। মৌন, উজ্জ্বল, অশরীর, স্মৃতির মুখ হয়ে।

ধরা য

আরও পড়ুন...

বাস্তার আছে বাস্তারেই...

Sushovan Patra

কৈশোরে 'দেবদাসী'। বয়:সন্ধি পেরিয়ে যৌবনারম্ভে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের হাত ধরে আত্মোৎসর্গের 'পবিত্রতা' অর্জন। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, বিহারের বহু প্রত্যন্ত গ্রামে প্রচলিত এই প্রথার পোশাকি নাম -'উদিতুমবুভাদু।' রীতি অনুযায়ী নিচু-জাতের কোনও ‘ভূমিদাস’ বিয়ে করলেই, তাঁর নতুন স্ত্রী'কে ফুলশয্যার রাতে পৌঁছে দিতে হয় উঁচু-জাতের ‘ভূস্বামীর’ কোঠায়। তারপর সম্ভোগের মাধ্যমে নিচু-জাতের বৌ'কে ‘পবিত্র’ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব অবশ্য 'ভূদেব'রই। দলিত-আদিবাসী পুরুষরা ভূস্বামীদের জমিতে শ্রম দেবে, আর তাঁদের পরিব

আরও পড়ুন...

পল্টন

Binary

পোলিওমাইলাইটিসের এফেক্ট-টা পল্টনের শরীরে এমন কিছু মারাত্মক নয়। ছয়মাস বয়সে ওর পোলিও জ্বর হয়েছিলো সেটা বাবা-মা-দিদিমার মুখে অনেক শুনেছে। তারপরে সারা জীবনের জন্য অবশিষ্ট প্রভাব বলতে একটা কমজোরি আর দৈর্ঘ্যে সামান্য খাটো ডান পা। খুব ছোটবেলার স্কুল জীবনে খেলাধুলো প্রায় বন্ধ-ই ছিল পল্টনের। ঐ কমজোরি পায়ের জন্য। দশ-বারো বছর বয়সে , পালঙ্ক-আলু জীবনে অভস্ত্য হতে হতে শরীরের ওজন-ও বেড়ে গেছিলো সাধারণের চেয়ে অনেক গুন। শেষে ওর বাবা ওকে ধরে নিয়ে গিয়ে , পাড়ার 'স্বাস্থ্য ও শক্তি' ব্যায়ামাগারে ভর্তি করে দেয়। সেখানে

আরও পড়ুন...

অনন্ত লেকের জলে চাঁদ পড়ে আছে

Sakyajit Bhattacharya


তারপর একদিন আমরা জেগে উঠি দীর্ঘ নিদ্রার পর। রূপকথার মতো, নারীর মতো, প্রেমের মতো সেইসব প্রথম ভোরের আলোয় সত্যের মুখ দেখা যায়। সেই অনাস্বাদিত ভোরবেলায় আমি ফিরে আসি গন্তব্য ছেড়ে, লাস্ট ট্রেন মিস করে নিজের শিকড়ের কাছে। সে আমার নিজস্ব মাকন্দো। আমার দক্ষিণ কলকাতা। প্রথম প্রেমের মত যাকে লুকিয়ে রাখতে হয় টেস্টপেপারের পাতার ভাঁজে। সেই প্রেম তাত্বিকতার খবর রাখে না। তা ছিল নিতান্তই সমর্পণ। তাতে সরলতা ছিল।



আমরা যারা গদার বর্ণিত মার্ক্স ও কোকাকোলার সন্তান, তাদের নব্বই দশকের প্রেমে তুমু

আরও পড়ুন...

raag darabaari ( Hindi theke anubaad)

Ranjan Roy

রাগ দরবারী
============== শ্রীলাল শুক্লা

[ কিছুদিন আগে গত হয়েছেন হিন্দি সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক শ্রীলাল শুক্লা। তীক্ষ্ণ ব্যংগাত্মক দৃষ্টি আর সুগভীর জীবনবোধ তাঁর উপন্যাসগুলোয় আলাদা স্বাদ এনেছে। স্বাধীনতাপরবর্তী উত্তরভারতে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় তাঁর রচনার বিষয়। তাঁর চলার পথ আলাদা। চাবুক চালিয়েছেন কিন্তু মুখে লেগে আছে হাসিটি। ১৯৬৮তে প্রকাশিত তাঁর "রাগ দরবারী" উপন্যাসটি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত। ১৯৯১ এর মধ্যেই দশম সংস্করণ জনপ্রিয়তার বিরল উদাহরণ।

আরও পড়ুন...

২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ঃ বাঙালির মৃত্যু

Debabrata Chakrabarty


২০ সে জুন ১৯৪৭ বাঙলার লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বাঙলা ভাগের পরিকল্পনা গৃহীত হয় । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ রোধে বাঙলার যে শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৪ দশকের ব্যবধানে বাঙলার সেই শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ দেশভাগের পূর্বে ধর্মের ভিত্তিতে প্রদেশকে ভাগ করার পক্ষে সংবদ্ধ আন্দোলন চালায় এবং প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে বাঙলা ভাগ মেনে নেয় । সেই অর্থে আজকে ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিবসের সূত্রপাত বটে কিন্তু একই সাথে নেহেরু ,প্যাটেল ,জমিদার শ্রেণী , মারোয়াড়ী লবি’র ক্ষুদ্র

আরও পড়ুন...

অনিশ্চিত

Tathagata Dasmjumder


কার্যকারণ সম্পর্ক জিনিসটা বেশ মজার। ধোঁয়া দেখলেই আমরা আগুনের অস্তিত্ব বুঝি, ভোরে উঠে রাস্তাঘাট ভিজে দেখলে আমরা আগের রাতের বৃষ্টি হয়েছিল কিনা মনে করার চেষ্টা করি, এ সবই কার্যকারণ সম্পর্কেরই খেলা। এবারে হয়েছে কি যে এই কার্যকারণ সম্পর্কের আইডিয়াটাকে আরেকটু বিস্তৃত করে যদি পদার্থবিদ্যার আঙ্গিনায় নিয়ে আসা যায়, তাহলে কি হবে? লাপ্লাস (যাঁর আবিষ্কৃত নানান সুত্র ও আঙ্কিক পদ্ধতি ছাত্রজীবনে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি করেছে) ঠিক এই কাজটাই করলেন, মোদ্যা কথায় তিনি যা বললেন, তা হল এই, সকল বস্তু ও জীব আদতে পরমা

আরও পড়ুন...

যখন ভাল ছিলাম

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

আচ্ছা, দুরদর্শনের সেই লোগোটার কথা সবার মনে আছে কি? সেই যে এবড়ো-খেবড়ো পাতার মত দুটো জিনিস ঘুরতে ঘুরতে ক্রমে মসৃণ হয়ে গোল লোগোটা তৈরি হত অার ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতো "সারে জাঁহাসে অাচ্ছা" -র সেই অদ্ভুত টিউন? শুধু তিনটে চ্যানেল অাসতো তখন টিভিতে - DD1, DD2 অার DD7. প্রতি রবিবার বিকেল চারটেয় DD7 -এ দেখা দিতেন উত্তম-সুচিত্রা অার দাদু-ঠাকুমারা এসে বসতেন টিভির সামনে। মোবাইল তখনো সাম্রাজ্যবিস্তার করেনি, ফেসবুক তখন প্রায় science-fiction -এর পর্যায়ে পড়ে, Reality Show -এর কথা তখনো বাঙালি শোনেনি। তখন কালবৈশাখী হ

আরও পড়ুন...

ভুল

Tathagata Dasmjumder


১৯২৪ সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্লাস নিচ্ছেন এক তরুণ অধ্যাপক। বিষয় কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, কেন র্যালী জিনসের (Rayleigh-Jeans) তত্ত্ব চড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালীর অতিবেগুনী অংশে কেন কাজ করেনা (এই তত্ত্ব বলে যে তাপমাত্রা বাড়লে কিভাবে তার থেকে বিকিরিত তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণের শক্তি ও কম্পাঙ্ক কিকরে পরিবর্তিত হবে)।
হঠাৎ এক ছাত্র বলে উঠল
-স্যার এখানটায় একটু ভুল আছে
তরুণ প্রোফেসরটি একটু থমকে গেলেন, তাঁর অঙ্কে ভুল? কিছুদিন আগেই রেকর্ড নম্বর নিয়ে পাশ করেছে সে।
-কি ভুল বল
-আপনি যেভাবে দেখাচ্

আরও পড়ুন...

জীবনই অভিজ্ঞতা

Ramkrishna Bhattacharya





আলী সায়েব বিশ্বাস করতেন, তাঁর জীবনে –

“এমন কোনো বাণী নেই, এমন কোনো message নেই, যা না বললে- এই সোনার বঙ্গভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সর্বোপরি আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সর্বসমক্ষে কোনো কিছু বলতে বড়ই লজ্জা বোধ করি । হয়, সত্য গোপন করতে হয়-নয় ডাহা মিথ্যে কথা কইতে হয় ।”

মুজতবা আলী
প্রচার বিমুখ আলী সায়েব কেন এইরকম লিখেছিলেন- সেটা এখন আর জানার উপায় নেই। হতে পারে, তিনি নিজের সম্বন্ধে জানাতে চান নি বা কিছু একটা অভিমান ছিল – যেটা আমরা জানি না। এই জ্ঞান সমৃদ

আরও পড়ুন...

দেশে - বিদেশে

Ramkrishna Bhattacharya

“দেশে বিদেশে”

+++++++

রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল

++++++++++

বাংলা সাহিত্যে খোশগল্প, মজলিসী এবং আড্ডা রসের একটি ধারা ছিল, কিন্তু খোশগল্প, আলী সাহেবের রচনায় শিল্পসুষমামণ্ডিত হয়ে দিল্ তর্ করা যে খুশবাই এনে দিয়েছিলেন- বাংলা সাহিত্যের কুতুব মিনার “ দেশে বিদেশে” র মাধ্যমে, তা ভগীরথের শিবের জটার থেকে গঙ্গা আনার মতই তুলনীয়।


মুজতবা আলী
রসসাহিত্যের ধারা যখন ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে- ঠিক তখনই “দেশ” পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে এই লেখাটির আবির্ভাব। সাহিত

আরও পড়ুন...

চা বাগানের হালহকিকৎ নিয়ে একটা লেখা

পিনাকী মিত্র

প্রথমেই ডিসক্লেমার দিয়ে নিই, কারণ এটা যদিও আমার ব্লগে তুলছি, কিন্তু লেখাটা আমার নয়। আমার বন্ধু, চা বাগানের অ্যাকটিভিস্ট, শমীক চক্রবর্তীর। ওর ফেসবুক ওয়াল থেকে ওর অনুমতিসহ লেখাটা হুবহু তুলে দিচ্ছি, কারণ আমার মনে হয় লেখাটা চা বাগানের এখনকার সমস্যাকে বোঝার জন্য খুব জরুরী একটা লেখা। আমি নিজে এর আগে কখনো ব্লগে লিখিনি, তাই এইভাবে অন্যের লেখা তুলে দেওয়াটা ব্লগ-সংস্কৃতির সঙ্গে হয়তো ঠিক যায় না, কিন্তু বিষয়টার গুরুত্বের কারণে সে নিয়ে বেশী ভাবলাম না।

***********************************************

আরও পড়ুন...

আজি এলো হেমন্তের দিন......

শিবাংশু

'.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র)
---------------------------
বাবার কাছে গল্প শুনেছি। সাতচল্লিশ-আটচল্লিশে সেন্ট পলস কলেজে পড়াকালীন তিনি সেখানে ছাত্রসংগঠনের সাংস্কৃতিক সচিব ছিলেন। সেই সময় ভবানীপুরের দীর্ঘ সুদর্শন ছেলেটি, যে গল্প লেখে ( দেশ পত্রিকাতে ইতোমধ্যে তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়ে গেছে) আর আবাল্য বন্ধু 'গায়ক' সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চাপে এদিকওদিক গান গেয়ে বেড়ায়, তার কাছ

আরও পড়ুন...

পরনিন্দা পরচর্চা ও ভাষার জন্ম

Tathagata Dasmjumder


পিনপিসি খুব নিন্দনীয় জিনিস, পিএনপিসি যে করে তার পেছনে আমরা পিএনপিসি করে থাকি যে ওমুক খুব পিএনপিসি করে। ভারতীয় সোপ অপেরাগুলি মূলত পিএনপিসির আখড়া বলে শিক্ষিত সমাজের চক্ষুশূল ( যদিও দুর্জনে ও টিআরপি বলে যে অনেকেই আড়ালে দেখে থাকেন)। পিএনপিসি না থাকলে, পরচর্চা না হলে আদর্শ সমাজ গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগবেনা এই দাবী অনেকেই করেন। কিন্তু, পিএনপিসি কি সত্যিই এত খারাপ?
১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ রবিন ডানবারের একটি বই প্রকাশিত হয়, নাম "Grooming, Gossip and the Evolution of Language"। তাঁর মতে শিম্

আরও পড়ুন...

ভীষ্ম বধ (শেষ পাঁচ দিন)

dd

ভীষ্ম বধ (শেষ পাঁচ দিন)
*******************************
কী হল গত পাঁচ দিনে? নামকরা রথীদের মধ্যে নিহত হলেন পান্ডব পক্ষের বিরাটপুত্র উত্তর ও শংখ, সাত্যকির দশ পুত্র আর কৌরব পক্ষে দুর্য্যোধনের সাত ভাই এবং নিষদ রাজ কেতুমান। কলিংগরাজ শ্রুতায়ুর দুই ছেলেও।

শংখ আর কেতুমান বাদ দিলে বাকী সবাই শুধু পিতৃ/ভ্রাতৃ পরিচয়েই বিখ্যাত - যোদ্ধা হিসেবে নন।

প্রথম দিনে কৌরবপক্ষের সার্বিক জয় হলেও আরো তিনদিন পান্ডবেরাই বেশী শত্রুক্ষয়ে সমর্থ হয়েছিলেন।আর একদিন বলা যায় সমান সমান। কিন্তু অনেক বেশী

আরও পড়ুন...

ডঃ শৈবাল জানা, শ্রীনিবাসন ও অলিভ রিডলেরা

Prativa Sarker

ডঃ শৈবাল জানা, শ্রী নিবাসন আর মেরিনা বিচের অলিভ রিডলেরা ।

এক বন্ধু চড়ুইপাখি হারিয়ে যাওয়ায় কষ্ট পেয়ে পোস্ট করেছিলেন। আমি মন্তব্য করি যে এত আলো আর দূষণের জন্য জানালার পাশের দেবদারু গাছে চড়ুই কলোনির দখল নিয়েছে দাঁড়কাকেরা। অনেক নির্ঘুম রাতের শেষে ঠিক ঝরণার মত বাজতে শুনেছি চড়ুইএর কলস্বর, এখন শুধুই কর্কশতা।
অমনি ভেসে এল একটি তির্যক মন্তব্য ----ডঃ শৈবাল জানা গ্রেপ্তার হয়েছেন জানেন ? তার প্রতিবাদ করেছেন তো ?
আমি লিখলাম----গ্রেপ্তারের খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গেই করেছি ।
উনি ----অ, তাহলে ত

আরও পড়ুন...

ঋত্বিকচরিত অথবা মিশন মুদ্রারাক্ষস

শিবাংশু

".... Film is not made, film is built. আমি চিত্রপরিচালক নই, আমি চিত্রস্রষ্টা। চিত্র সৃষ্টি করে একজন-সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন চিত্র সৃষ্টি করে, তাঁরা (নিছক) চিত্রপরিচালক নন।" (ঋত্বিক ঘটক)
----------------------
তিনি যতোদিন বেঁচে ছিলেন, ততোদিন ব্যক্তি ঋত্বিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও স্রষ্টা ঋত্বিক সেভাবে আগ্রহীদের উপযুক্ত মনস্কতা আকর্ষণ করেননি। ঋত্বিককে কেন্দ্র করে মনস্তত্ত্ব, নন্দনতত্ত্ব, চিত্রনির্মাণ ইত্যাদি নানা বিষয়ের উদ্দীপক চর্চা শুরু হয়েছে একটু ধীরে। কিন্তু যখন তা শুরু হয়েছে, তখন থে

আরও পড়ুন...

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ২)

মাহফুজ আলম

কিছুদিন আগে যখন অনির্দিষ্টকাল যাবত স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের গরমের ছুটি চলছিল তখন আমার পরিচিত শিক্ষক শুভময় দা একটি শিক্ষকদের বৃত্তে পোস্ট করেছিলেন যে যেহেতু শিক্ষকদের আসতেই হচ্ছে অতএব মর্নিং এও যদি ক্লাস করানোর অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে পড়াশুনোটা হয়। বেশ কিছু ‘শিক্ষক’ শুভময় দা কে কার্যত ‘বুলি’ করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরিয়ে দেওয়া হয়। আরও দু-একজন এই সকালে ক্লাস করানোর কথা তুলেছিলেন, তারাও বাকি শিক্ষকদের বিদ্রূপ এবং তাচ্ছিল্যের শিকার হোন।
সরকারী সাহায্যপোষিত স্কুলগুলোতে গড়পড়তা স্কুল হয় ২২০-২৩০ দিন।

আরও পড়ুন...

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

মাহফুজ আলম

বাঙালি হিসেে্বে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষা নিয়ে গভীর আবেগ রয়েছে আমার। আগাম এটুকু বলে রাখাটা জরুরী।
কদিন আগে একটি প্রিন্ট মিডিয়াতে জনৈক বাঙালি শিশুশিল্পীর সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। সেখানে তার মা জানাচ্ছেন যে তার কন্যাটি বাংলা পড়তে পারেনা। আমার জ্ঞানলাভ হল যে কলকেতাতে অ্যামন ইস্কুলও আছে যেখানে পড়লে বাঙ্গালির ছেলে মেয়েরা বাংলা পড়তে পারেনা।
এখন আমি সেকেলে লোক। বাংলা মাধ্যম ইস্কুলে পড়ে পাশ করা। কাজেই আমার চোখে বাঙালি হয়ে বাংলা পড়তে না পারাটা খুব গর্বের বিষয় নয় আর কি। যাদের কাছে গর্বের বিষয়

আরও পড়ুন...

কোন কোন মৃত্যু পাহাড়ের চেয়েও ভারী ...............

Debabrata Chakrabarty


শহীদ হলেন প্রবাদপ্রতিম কুর্দ কম্যান্ডার ‘ আবু লয়লা ‘ । সিরিয়ায় আইসিসের রাজধানী ‘ রাক্কা ‘ প্রদেশ মুক্ত করার লড়াই শুরু হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে । প্রায় ৩০০০০ কুর্দ এবং বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী নিয়ে গড়া SDF ২০১৪ সাল থেকে দখল করে রাখা ‘ রাক্কা ‘ শহর আইসিসের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার নির্ণায়ক লড়াই শুরু করেছে বিভিন্ন দিক থেকে । এই লড়াইয়ে সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ “ মানবিজ “ শহর থেকে আইসিস নির্মূল করার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন 'প্রবাদ প্রতিম 'কুর্দ কম্যান্ডার ‘ আবু ল

আরও পড়ুন...

সে যেন মোর রেঞ্জে আসে না

Sumeru Mukhopadhyay

যা নিশ্চয় হাতে থাকে, তাই যদি পেন্সিল হয়, রাতভোর দাপাদাপিওন্তে পেন্সিলকেই এখন মনে হচ্ছে পার্টিশন। ১৯০০- ১৯৪৭। এই লেখার তাই শুরু নেই সেই অর্থে যদিও একটি সংক্ষিপ্ত ফোনে মাহবুবুর রহমান জানায় সে কলকাতায়, চাঁদের হাটে এসে উঠেছে। আর মোল্লা এখনও ভিসা পায় নাই। আমি বোধহয় ভোরবেলাতেই এসে ঘুমিয়েছি। ফোন তো ঘুমধ্যেই এসেছে। তাই ঘুমঘোর জিপিএস বর্জিত অজ্ঞাত চাঁদের হাটটি সরসুনা বাজার পেরিয়ে কোন এক ক্ষুদিরাম পল্লীতে বুঝতেই আমি বেশ কিছু গাড়িঘোড়া বদল করে ফেলি, আমি পৌঁছলাম সেখানে সাড়ে সাতটায়, সামনে মৌসুমিদি। বলে চলেছেন

আরও পড়ুন...

ভীষ্ম পর্ব (প্রথম পাঁচ দিন)

dd

ভীষ্ম পর্ব

প্রাককথন
********************

ভীষ্মকে সেনাপতি করেই তো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু। তবে শুরুর আগেও কিছু শুরু থাকে। যেমন ভীষ্ম পর্বের আগে উদ্যোগ পর্ব।

রাজনৈতিক অবস্থান কেমন ছিলো দুই যুযুধান শিবিরে সে নিয়ে আর বিশদে লিখছি না। তবে খুব গোদা ভাবে লিখতে গেলে সমস্ত পুর্ব, উত্তর,আর উত্তর পশ্চিম ভারত ছিলো কৌরব পক্ষে। আর মোটামুটি ভাবে মধ্য আর পশ্চিম ভারত ছিলো পান্ডব পক্ষে। মহাভারতের যুদ্ধে দক্ষিন ভারতের ভূমিকা খুব গুরুত্বপুর্ণ ছিলো না। এক পান্ড্য রাজ(বর্তমানের মাদুর

আরও পড়ুন...

দুর্বোধ্য চিকিৎসা নিদানপত্র

Gautam Mistri

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ডাক্তারের চেম্বারে গাদাগাদি করে বসে থেকে, কড়কড়ে পাঁচশ টাকা খসিয়ে হাতে রইলো একখানা কাগজ। এ কাগজ যেমন তেমন কাগজ নয়, স্পেশালিষ্ট ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, অ্যাবস্ট্রাকট আর্ট। কিছুটি বোঝার উপায় নেই। বোঝার দরকারও নেই। বুঝিয়ে দেবে ওষুধের দোকানের সেলসম্যান। ডাক্তারের দুর্বোধ্য লেখা কেমন অবলীলায় পাঠোদ্ধার করে ফেলে এ দেশের ওষুধের দোকানের সেলসম্যানরা। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা মুঠিফোন দিয়ে শ্যামনগর থেকে সিঙ্গাপুরের সমুদ্রতরণীর শয়নকক্ষে থাকার ব্যাবস্থ্যা পাকা করে ফেলছি, কিন্তু প্রেসক্

আরও পড়ুন...

মহিষাসুরমর্দিনী

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

শব্দটা হঠাৎ কানে যেতেই বাবুসোনা বুঝে গেছিল ব্যাপারটা। আর তাই অন্য সবাই চমকে উঠলেও সে চমকায়নি। ছুঁচে সুতো পরাতে পরাতে কাজ না থামিয়েই জিভ দিয়ে চুকচুক করে একটা আওয়াজ করে কেবল বলেছিল, 'আবার গেল একটা!'
অবশ্য ঠিক করে বিশ্লেষণ করে দেখলে বোঝা যায় এই শব্দে বাবুসোনার আশ্চর্য হবার মত কিছুই ছিল না। শোক পাবার তো নয়ই। এর আগে জীবনে আরো তিন-তিনবার শব্দটা শুনেছে সে। ঠিক এই এক প্রাবল্য, এক কম্পাঙ্ক, একই স্থায়িত্ব। সেই একই উৎস থেকে সেই একইভাবে ভেসে এল ক্লান্তিহীন সেই একঘেয়ে শব্দ। কিছুটা যেন চাপা বিস্ফোরণের মত।

আরও পড়ুন...