ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পরীবালার দিনকাল
    ১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1
    আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। ...
  • আমার বাবা আজিজ মেহের
    আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ...
  • উপনিষদ মহারাজ
    একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)******************...
  • চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল
    চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর ...
  • আগরতলা নাকি বানভাসি
    আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো ...
  • ভূতের_গল্প
    পর্ব এক"মদন, বাবা আমার ঘরে আয়। আর গাছে গাছে খেলে না বাবা। এক্ষুনি ভোর হয়ে যাবে। সুয্যি ঠাকুর উঠল বলে।"মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে মদনভূত একটু থমকাল। তারপর নারকেলগাছটার মাথা থেকে সুড়ুৎ করে নেমে এল নীচে। মায়ের দিকে তাকিয়ে মুলোর মত বিরাট বিরাট দাঁত বার করে ...
  • এমাজনের পেঁপে
    একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা ...
  • ব্যক্তিগত হিরোশিমা ডে অথবা ফ্রেন্ডশিপ ডে
    ঘুম থেকে উঠেই দেখি পিতাশ্রী ও মাতাশ্রী হিরোশিমা ডে পালন করছে। পার্ল হারবারে কে বোমা ফেলেছিলো জানিনা কিন্তু মাতারাণী আলমারি খুলে শাড়ি টাড়ি পরে তৈরী। পিতাশ্রী হতাশ ও ভীত গলায় আমায় অনুযোগ করলেন, দেখ না আমি কিচ্ছু বলিনি খালি বলেছি এ বর্ষায় কেউ দই খায় তাতেই ...
  • মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্ল্যাং-2
    আমাদের এক্কাদোক্কা বেলায় সে অর্থে কোনো স্ল্যাং নেই। জাতীয় পতাকা উড়লে যেমন কোন সমস্যা নেই, দারিদ্র নেই। ডগডগে সিঁদুরের ক্যামোফ্লেজে যেমন সম্পর্কের শীতলতা নেই। বিজ্ঞাপনের ঢেউয়ে যেমন ভেসে নেই নিয়োগের লাশ।পাঁচমিশেলি কলোনির খোলা কন্ঠ থাকে। ভাষা থাকে। আর বাবু ...

ট্যামট্যামদের ভোট

ফরিদা

চৌমাথায় একটি নড়বড়ে প্যাকিঙ বাক্সের ওপর কোনোমতে দাঁড়িয়ে নিজেকে ব্যালান্স করতে করতে বক্তৃতা দিচ্ছেন জরি ননি। সামনে পাহারারত নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। নিয়মমত এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটপ্রচারের সাত দিনের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি স্ট্রীটকর্ণার মিটিং করতেই হবে বিরোধী প্রার্থীকে। প্রথম পাঁচদিন জরি ননি কাটালেন খেলাধুলো করে খেয়ে দেয়ে আয়েশ করে। আর মাঝে মাঝে হা হুতাশ করছেন
– আর ক-দিন বাকি – ওরে বাবা পাঁচ পাঁচটা মিটিং – কবে করব – আমার কী হবে। কী কুক্ষণে যে সেবার নৈহাটি বেড়াতে গিয়ে তিনমাসের জায়গায় ছ-শো বিয়াল্লিশ দিন কাটিয়ে ফিরলাম। আচ্ছা নিয়মকানুনের ফ্যাসাদ মাইরি এই বিপত্তির দেশে – নৈহাটিতে কত কী যে আছে দেখার – মাত্র তিন মাসে হয়? স্টেশন রোডে বাবুদার চায়ের দোকান, আহা ওখানে দিনে রাতে আঠারো ঘন্টায় কত যে রকমারী লোক – কত কথা। আর সেই বড়রাস্তায় বটগাছটা – কত রকমের পাখি, তেইশখানা কাক ছিল – সবকটার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল – ছেড়ে আসা সম্ভব, মাত্র তিন মাসে?
আর তার দরুণ আমাকে এবারের ভোটে বিরোধী প্রার্থী করে দেওয়া হল- ইয়ার্কি। ঈশ – আগে এই সম্ভাবনার কথা মাথায় আসেনি, নয়ত তিনমাসের মাথায় মাথায় ফিরে আবার চলে যাওয়া যেত।
তাই, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারের শেষ দু-দিনে পাঁচটি মিটিঙের শেষটিতে তার অবস্থা শোচনীয়। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তাতে অন্ততঃ আধঘন্টা বক্তৃতা দিতেই হবে – প্রথম দুটো মিটিঙে তাও গুছিয়ে কিছু একটা বলেছিলেন তিনি – মোটামুটি যে কেউ শুনেই বুঝতে পারছিল তাঁর আহ্বান। তিনি বলছিলেন –
“ভাইসকল, বন্ধুগণ এবং যাবতীয় আপামর মরণশীল, ক্ষমাশীল জীবিত মৃত এবং অজাত দেশবাসীগণ – আপনাদের সামনে এবারের নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছি – আমি – এই জরি ননি। আমি জানাতে চাই আমি আজ অবধি সারা জীবনে এবং আমার বিগত চুয়ান্ন জন্মেও কোনো কাজ করিনি। শুধু আমি কেন, আমার পরিবারের আমার বাবা, মা পিশেমশাই, বেঁটে ভগ্নিপোত, এরাও কোনোদিন কোনো কাজ করে ওঠেন নি। আমি খাই দাই বগল বাজাই। এই যে নির্বাচন কমিশন, চক্রান্ত করে আমাকে ভোটের প্রার্থী করে দিয়েছে আমি শুধু নৈহাটি বেড়াতে গিয়ে একটু বেশিক্ষণ কাটিয়েছিলাম বলে। আমাকে আপনারা একটিও ভোট দেবেন না। দেখুন যিনি ক্ষমতায় ছিলেন তিনি কী চমৎকার কাজ করেছেন। আজকাল বর্তমানে আমরা বছরে ৩৬৫ দিন শুধু কেন প্রতিদিনই সবাই কত আনন্দে থাকি। গাছে গাছে পাখিরা পর্যাপ্ত পোকা পায়। খোকারা ইস্কুলে বেলুন। আপনাদের আমার বিনীত অনুরোধ- আপনাদের কাছের প্রাণী কাজের প্রাণী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রি নোয়ি কেই পুনরায় নির্বাচিত করুন।“
ভোটের মিটিঙ বিরোধী প্রার্থী করছে কিনা সেটা দেখাই কাজ ভাগ্যিস এই ট্যামট্যাম রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের। এখন প্রার্থী যদি নিজে উলটো গাইতে থাকে তো নির্বাচন কমিশন নাচার।
প্রথম দুটো মিটিঙ এইভাবে কোনোমতে উতরে দিলেন জরি ননি। তখন তার প্যাকিঙ বাক্সটা নড়বড় করছিল না। একটু আধটু তুতলে গেলেন তবে সে তো স্বাভাবিক।
সে-দিন ওই দুটো মিটিঙের পর খিদে পেয়ে গেল বলে আর পারা গেল না। আসলে সন্ধের দিকে ওখানে বিরিয়ানির দোকান খোলে। জরি ননি মিটিঙের কাছে পৌছতে গিয়ে টুক করে রেস্তোরাঁতেই সেঁধিয়ে গেলেন এমন যে খেয়েদেয়ে সেখানেই দেদার ঘুম।
এবার অবস্থা এমন যে শেষ দিনে তিন তিনটে মিটিঙ।
শেষ মিটিঙের আগে তাঁর গলা বসে গেল, প্যাকিঙ বাক্স নড়বড়ে, পাঞ্জাবীর পিছন থেকে টিনিটিনের ছবিওলা পোস্টার দেখা যাচ্ছে – তাও নিয়মের কড়াকড়ি তিনি বলতে উঠলেন -
“ভাইসকল, খরগোশপোষা, বন্ধুবেবুনগণ এবং যাবতীয় কাঠিবাজ ফাঁকিবাজ ফেরেববাজ দেশবাসীটাটকাগণ – গণ আন্দোলন, চিকিৎসা সঙ্কট ও তেলেপোকারা, আপনাদের সামনে পিছনে, সোজাসুজি, পোকায় ধরা সুজি, হালুয়া টাইট হয়ে এবারের নির্বাচনে বলির পাঁঠা সাড়ে বত্রিশ বাহান্ন হয়ে বেঁকে দাঁড়িয়েছি – আমি – এই জরি ননি নুনের খনি তুতানখামেনের মেজোমামির নাতনির অধস্তন ঊনকোটি বিয়াল্লিশ নম্বর উপপাদ্য। আমি জানাতে চাই আমি আজ অবধি সারা জীবনে এবং আমার বিগত চুয়ান্ন জন্মেও কোনো কাজ করিনি। শুধু আমি কেন, আমার পরিবারের আমার বাবা, মা খুড়শ্যালক, চশমা, বেগুনি, শুঁয়োপোকা, খাতা পেন্সিল, দেয়ালে আটকানো চ্যুইংগামটাও কোনো কাজ করেনি। করবেও না। আমি আপনাদের দেখলেই ভ্যাঙাবো, সামনে মাইক ধরলে কুলকুচি করব। যা খুশি করুন, ভোট দিলে আমি কিছুতেই আপনাদের সঙ্গে আর কথা বলব না। শুধু সেই বিটকেল গান গাইব – শুধু তাই না, আমি কবিতাও লিখব। আর সেসব মুখস্থ করাব – এই বলে রাখলুম কিন্তু...”
আরো বলতেন, কিন্তু বাধা পড়ল।
রি নোয়ি কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি সময়ের আগেই তার মিটিঙগুলো করে ফেলে বেশ ফুরফুরে হয়ে এই দু-দিন তার বিরোধী প্রার্থীর মিটিঙে দলভারী করছিলেন। তিনি আর থাকতে পারলেন না। শেষ কথাগুলো শুনে – একটা বিরাট পালকের ডগায় নস্যি নিয়ে জরি ননির সামনে ধরাতেই তার হাঁচি শুরু হল। সেই ফাঁকে রি নয়ি বলতে শুরু করেছেন –
“ইল্লি আর কি... ইনি মশাই হিট্টি মিট্টি নৈহাটি করে বেরাবেন আর খেতে মরব আমি এই রি নয়ি। গত পাঁচ বছরে আমি সব মিলিয়ে আট মাসের বেশি ছুটি পাই নি – আর ইনি এলেন কিনা আমাকে দিয়ে আবার কাজ করানর ফরমাশ নিয়ে। এই আপনাদের ঠেলায় – এই আপনাদের রাজ্যের কাজ করতে করতে কী অবস্থা আমার – দেখে দয়া হয় না আপনাদের – আমার বৌ আজ পৌনে তিন মাস হল আমার সঙ্গে সিনেমা যান নি। আমার ছেলেরা আমাকে দেখলেই বক দেখায়। আমার বকটা অবধি আমাকে মাছ ধরে দেয় না আজকাল। আমি কী অপরাধ করেছি বলুন? কতদিন তেহট্ট গিয়ে যাত্রা দেখিনি। কতদিন হল শালপাতা চেটে আলুকাবলি খাইনি – আপনাদের দয়া মায়া নেই শরীর?......
কান্নায় গলা বুজে এল তার... যারা শুনছিল তারা মনের দুঃখে আরো একটা করে আইসক্রীম কিনে ফেলল।

“এবারের মতো নির্বাচনী প্রচার অভিযান শেষ হল বলে” ঘোষণা করেই – টুক করে একটা অটো ধরে কেটে পড়ল নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী হাতিবল।




Avatar: ফরিদা

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

:)
Avatar: dd

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

বাঃ
Avatar: kumu

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

চমৎকার।চমৎকার।
Avatar: ranjan roy

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

ফরিদা জিন্দাবাদ!
Avatar: b

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

ফরিদা।.... শেয়ার করতে পারি? ফেবু পেগ-এ?
Avatar: de

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

দারুণ!!
Avatar: b

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

*পেজ। ধুসস।
Avatar: On behalf of Farida

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

b, অবশ্যই।
Avatar: d

Re: ট্যামট্যামদের ভোট

খিক


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন