সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় RSS feed

আর কিছুদিন পরেই টিনকাল গিয়ে যৌবনকাল আসবে। :-)

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...
  • A room for Two
    Courtesy: American Beauty It was a room for two. No one else.They walked around the house with half-closed eyes of indolence and jolted upon each other. He recoiled in insecurity and then the skin of the woman, soft as a red rose, let out a perfume that ...
  • মিতাকে কেউ মারেনি
    ২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি- ২
    আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে বেঁধে রেখেছ তুমিমায়া নামক মোহিনী বিষে...অনেক দিন পরে আবার দেখা। সেই পরিচিত মুখের ফ্রেস্কো। তখন কলেজ স্ট্রিট মোড়ে সন্ধ্যে নামছে। আমি ছিলাম রাস্তার এপারে। সে ওপারে মোহিনিমোহনের সামনে। জিন্স টিশার্টের ওপর আবার নীল হাফ জ্যাকেট। দেখেই ...
  • লেখক, বই ও বইয়ের বিপণন
    কিছুদিন আগে বইয়ের বিপণন পন্থা ও নতুন লেখকদের নিয়ে একটা পোস্ট করেছিলাম। তারপর ফেসবুকে জনৈক ভদ্রলোকের একই বিষয় নিয়ে প্রায় ভাইরাল হওয়া একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। এই নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে বেশ কিছু মতামত পেয়েছি এবং কয়েকজন মেম্বার বেক্তিগত আক্রমণ করে আমায় মিন ...
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি আদিবাসী গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি
    The long narrow ramblings completely bewitch me....The silently chaotic past casts the spell... অতীত থমকে আছে;দেওয়ালে জমে আছে পলেস্তারার মত;অথবা জানলার শার্শিতে নিজের ছায়া রেখে গিয়েছে।এক পা দু পা এগিয়ে যাওয়া আসলে অতীত পর্যটন, সমস্ত জায়গার বর্তমান মলাট এক ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

ঈশান

গুরু, শুরুর দিন থেকে ধরলে বছর বারো বছর মত হল। অনেক রাস্তা টাস্তা হাঁটা হয়েছে, আমরা একই সঙ্গে নেটে এবং প্রকাশনা জগতে পা ফেলেছি। এখন আর শুরুর দিকের টলমল নেই, নেট এবং প্রকাশনায় গুরুর মোটামুটি একটা ব্র‌্যান্ড ভ্যালু হয়েছে। খুব বড়ো কিছু না, আবার খুব ছোটোও কিছু না। গুরুর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনা আছে, সেটা জানানোর, এবং আলোচনায় ফেলার জন্যই এই পোস্ট। অনেক গুলো কথা একসঙ্গে বলা হয়েছে, একটু ধৈর্য্য ধরে জনতা যদি পড়েন তো বাধিত হব। এছাড়াও খুব তাড়াতাড়ি করে লিখছি, কিছু ভুলভ্রান্তি অনবধানে হয়ে যেতে পারে, সে জন্য আগাম মার্জনা।
প্রথমে গুরু কিভাবে বই ছাপে, এবং কেন ছাপে, সে নিয়ে দুই লাইন। প্রথম থেকেই আমাদের বই করার উদ্দেশ্যটা ছিল, সস্তা এবং পুষ্টিকর, যে কারণে চটি বই নামক ধারণাটির জন্ম। চটি নামটা একদম ইচ্ছাকৃতভাবেই দেওয়া হয়েছিল। চটি মানে স্রেফ সরু না, ‘চটি’ বলতেই বাঙালির অবচেতনে একটা বটতলার অনুষঙ্গ চলে আসে। ছাপা ও বাঁধাই সহ সেই অনুষঙ্গটা খুঁচিয়ে তোলার জন্যই বইয়ের নাম চটি। সচেতনভাবেই। বস্তুত মলয় রায়চৌধুরির একটা বইয়ের ভূমিকায় এরকম লেখাও হয়েছিল, ‘লেখক চেয়েছিলেন একটি বটতলার বই, আমরা ছেপেছি চটি’। বলাবাহুল্য উদ্ধৃতিটা হুবহু না, এখন আর খুঁজে বার করে দেখতে ইচ্ছে করছেনা, কিন্তু বিষয়টা এটাই। পুষ্টিকর জিনিস ছাপব, পাঠক লুফে নেবে, কিন্তু দামেও বেশি হবেনা, এই ছিল লক্ষ্য। লক্ষ্যটা এক অর্থে খানিকটা রাজনৈতিকও। একদিকে বাংলা ভাষার কোনো পাঠক নেই, কেউ পড়েনা, এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনে আসছি। অন্যদিকে বইয়ের দাম অসম্ভব রকম বেড়ে চলেছে। দুটো একসঙ্গে হওয়া মুশকিল। বই লোকে না পড়লে বেশি দামী বই আরোই পড়বেনা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এটা ঘটে চলেছে। কারণ, প্রকাশকের দিকের লক্ষ্যটা থাকছে, যেহেতু পাঠকসংখ্যা কম, তাই কোনোক্রমে তিরিশ (বা চল্লিশ বা একশ)টা বই বেচেই যেন প্রফিট করে নেওয়া যায়। অতএব দাম হু হু বাড়ছে। এবং বালবাহুল্য পাঠক সংখ্যাও কমে আসছে। বলাবাহুল্য এটা একটা স্বল্পমেয়াদি লাভের আত্মঘাতী ধারণা। শর্টকাটের ধারণা। সেটার বিশদে পরে আসছি। কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের একটা স্টেটমেন্ট দেবার ছিল। যার মূল পয়েন্ট দুটোঃ ১)বইয়ের পাঠক এখনও আছে। ২)কম দামে বই করা যায়। লোকে কেনে। পাঠক সংখ্যা তাতে কমে না, বাড়ে। কারণ লোকে কাগজের কোয়ালিটি পড়েনা, বই পড়ে। বাঁধাই ধুয়ে জল খায়না, ছাপা অক্ষর পড়ে।
তা, এই স্টেটমেন্টটা আমরা রেখেছি। তাতে নানারকম সমস্যা হয়েছে। অন্তত একটি বড়ো পুস্তক চেন, আমদের বই রাখেননি। কারণ, একটা বইয়ের দাম যদি মিনিমাম তিনশো (বা চারশো ব পাঁচশো) টাকা না হয়, তাহলে তাঁদের প্রফিট মার্জিন বিশেষ থাকেনা। লার্জ স্কেলে অল্প প্রফিটে জিনিসপত্র বেচলে কেন শেষপর্যন্ত বেশি প্রফিট হবেনা, এই যুক্তিজাল তাঁদের মাথায় নেই। তো, এটা জেনেই খেলতে নামা হয়েছিল। কিছু বিকল্প আউটলেট ভাবা হয়েছে এবং হচ্ছে। তার মধ্যে বইমেলাটা সবাই জানেন, কিন্তু আরও বেশ কিছু আউটলেট, তালিকায় জমা হচ্ছে। সেসব যথাসময়ে ও স্থানে প্রকাশ্য।
তা, এই সমস্যাটা আমাদের জানা ছিল। কিন্তু খুব সাম্প্রতিককালে আরও কিছু সমস্যা দেখা গেল, যেগুলো আগে থেকে ভাবা যায়নি। সমস্যাটার ফোকাল পয়েন্ট একটাই। যে, গুরুর জনপ্রিয়তাকে অনেকেই তাঁদের নিজেদের মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এর গোটা দুই তিন উদাহরণ আছে। শেষ থেকে শুরু করা যাক। আমাদের বইপত্রের জনপ্রিয়তা, যেকোনো কারণেই হোক, ভালো। কারণ বলতে লেখক আছেন, লেখার মান আছে, আমাদের প্রচার আছে, এবং অবশ্যই পাঠকের বিশ্বাস আছে, যে আমরা যা করি বেছেই করি। বই গছিয়ে দেবার জন্য করিনা। ফলে অনেকেই এসে বাঞ্চে বই নিয়ে যান। এবং বইপত্র শেষ হয়ে যায়, পাবলিসিটিও হয়। তা, সাম্প্রতিককালে দেখা গেল, এক লেখকের এরকম কিছু বই আমাদের বিপণনে জনপ্রিয় হবার পর, একটি তুলনামূলক ভাবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান, তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে ফেলল, যে, তারা তাঁর রচনাবলী ছাপবে। সে খুবই আনন্দের কথা। কিন্তু সঙ্গে সাবক্লজ এই, যে, তাঁর আর কোনো লেখা, এমনকি যেগুলো আমরা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করে ফেলেছি, সেগুলোও আমরা আর ছাপতে পারবনা। ফলে, বস্তুত জিনিসটা দাঁড়াবে এই, যে, বিপণনটি আমরা করলাম, কিন্তু এরপরে আগ্রহী পাঠককে পাঁচগুণ দাম দিয়ে সেই বই কিনতে হবে অন্য প্রকাশনা থেকে। পাঠকসংখ্যা নিশ্চয়ই বিপণনের কারণে কিছু বাড়বে। কিন্তু আমরা যে উদ্দেশ্যে বইটি ছাপছিলাম, উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হবে। এটা আমরা আটকাতে পারিনি, কারণ আমরা কোনো লেখকের কোনোরকম স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হোক, এই চুক্তি করিনা। কিন্তু বই প্রিন্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে ন্যূনতম শর্তাবলী আরোপ করার কথাই ভাবা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি (কালানুক্রমিকভাবে সেটা অবশ্য আরও আগে ঘটেছে) আরও বিস্ময়কর। আমাদের কাছে একটি পত্রিকা ‘অন্য যৌনতা’র একটি লেখা ছাপবে বলে অনুমতি চেয়েছিল, আমরা বলেছিলাম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলে ছাপতে পারেন। কার্যত দেখা গেল এক গাদা লেখা ছেপে বসে আছেন, এবং কোনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার নেই। এটা ছিল একটা পত্রিকা, এবং তারপর, আরও বিস্ময়কর, যে, একজন নামী প্রকাশক, সেটাকে বই বানিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিলেন। তাঁরা অনুমতি চাননি, আমাদের জানানও নি। হয়তো ইনফর্মেশন ছিলনা, তাও হতে পারে, জানা নেই। তা, আমরা জানার পর আপত্তি জানিয়ে এসেছি। বইটা ছাপা হয়েছে বলেও শুনিনি। হয়তো অসদুদ্যেশ্য কিছু ছিলনা, শুধুই যোগাযোগের অভাব ছিল। সেটা আমাদের জানা নেই। কিন্তু আমাদের দিক থেকে ঘটনাটা হল, যে, আমরা একটি উদ্যোগ নেব, দীর্ঘদিন পরিশ্রম করব, কম দামে পাঠকের হাতে তুলে দেব, আর সেটাকে বিনা আয়াসে মলাটে বেঁধে কেউ তিনগুণ দামে বিক্রি করার উদ্যোগ নিচ্ছেন, বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি ছাড়া, এতে করে ‘সস্তায় চটি বই’ কনসেপ্টটি চূড়ান্ত ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমরা হচ্ছি।
এইগুলো আমার দিক থেকে মনে হছে, অন্য কিছু না, শর্টকাটের প্রসেস। ‘বইয়ের বিক্রি হয়না’, অভিযোগটা যে জায়গা থেকে আসে। বইয়ের দাম প্রচুর বাড়িয়ে চট করে লাভ করে নেবার ধারণাটা যে জায়গা থেকে আসে। এবং অন্য উদ্যোগের ফল থেকে ঝট করে লাভ করে নেবার ইচ্ছেটা(কখনও অনৈতিকভাবেই) যেখান থেকে আসে। প্রচুর পাবলিকেশন হলে সমস্যা নেই। যত বই ছাপা হয়, তত ভালো। কিন্তু ছাপার এবং স্বল্পমেয়াদি লাভ করার বাসনায় পাঠকসংখ্যা কমিয়ে বাংলা বইয়ের অন্তর্জলী যাত্রার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হচ্ছে। কেউ বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছনোর কষ্টসাধ্য কাজটা করছেননা। গুরু এত বছর ধরে যে নেট ওয়ার্কটার পিছনে সময় দিয়ে যাচ্ছে। উল্টোদিকে তৈরি নেটওয়ার্কটা ব্যবহার করে পুশ সেল টেল করে ঝটিতি কর্ম সমাধা করছেন। যেটুকু পাঠকবেস তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে, অত্ঃপর কামড়াকামড়ি হবে। এর বাইরে যে বিরাট আন এক্সপ্লোরড এলাকা পড়ে আছে, সেদিকে কোনো নজরই নেই কারো।
আমরা এই শর্টকাটের পদ্ধতিটা কখনও নিইনি। এই বারো বছর ধরে আমরা লড়ে গেছি। শূন্য থেকে শুরু করে। আজ পর্যন্ত অন্য জায়গা থেকে যেকটি লেখা আমরা নিয়েছি, প্রতিটি, অনুমতিসাপেক্ষে। এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার সমেত। একটিও ব্যতিক্রম নেই। জয়া মিত্রের একটি অনুবাদ লেখা আমরা প্রকাশ করেছিলাম। আমেরিকান প্রকাশকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে (আসলে ডলারে কিনতে হয়েছিল), দেরি হওয়ায় জয়াদিকে দুঃখ দিয়ে আমরা বই প্রকাশ গোটা একবছর পিছিয়ে দিই। ফলে আমাদের দিক থেকে এই শর্টকাটটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য না। লেখার অনুমতি নেওয়া, সৌজন্য স্বীকার, নেটে হোক বা বইয়ে, আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যেদুটো উদাহরণ দিলাম, তার বাইরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব ঘটেছে। সেটা কাম্য না। আমরা নিজেরা এগুলো মেনে চলি, অন্যরাও মেনে চলবেন, প্রত্যাশা করি। যেকোনো জায়গায়, এর অন্যথা হলে, আমরা যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেব।
তো, এইগুলো হল বাহ্যিক সমস্যা। আভ্যন্তরীন কিছু গপ্পোও আছে। কিছু সমস্যা, কিন্তু পরিকল্পনা। মূলত যেগুলোর জন্য এই লম্বা এবং বোরিং লেখার অবতারণা। প্রথমে সমস্যাটা বলি। সেটা গুরুর মডেল সংক্রান্ত। মডেল বলতে চটি বই, ইত্যাদি, যেটা আগেই ব্যাখ্যা করলাম। আমরা বইয়ের দাম কম, খুবই কম রাখি। নীতিগতভাবেই। ফলে বইয়ের বিক্রি খুবই ভালো হলেও, আমাদের মেরেকেটে টাকাটা উঠে আসে। কখনও সামান্য কিছু লসও হয়, কিন্তু সেটা অ্যাবসর্ব করে নেওয়া যায়। এগুলোর কোনোটাই কোনো সমস্যা না, কারণ আমরা প্রফিটের জন্য এই খেলায় নামিনি। সমস্যা এই, যে, এইভাবে চললে আমাদের টাইটেলের সংখ্যা প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছেনা। প্রাথমিক বিনিয়োগ কম থাকায়, যেটুকু রোল করছে, সেটা থেকেই পরের বই ছাপতে হচ্ছে, এবং আমরা বছরে চার-পাঁচ-ছয় এর বেশি বই ছেপে উঠতে পারছিনা। শুরুর দিকে, এটা কোনো সমস্যা ছিলনা। ছাপার জন্য অত বই ছিলনা। কিন্তু এখন তো ঠিক শুরুর ফেজ না। প্রকাশযোগ্য বইয়ের সংখ্যা দেখি ভালই। কিন্তু অত বই ছেপে উঠতে পারিনা। ফলে ক্ষতিটা পাঠকেরই হয়। এই হচ্ছে সমস্যা।
সমস্যা সমাধানের একটা উপায় হতে পারে, ঝট করে বইয়ের দাম বাড়ানো। সেটা করতে চাইনা একেবারেই। নীতিগতভাবে চটি বই শুরু করার লক্ষ্য একটাই ছিল, কম দামে সস্তা বই পাঠকের কাছে পৌঁছনো। সেটা থেকে সরে ‘দামী’ প্রকাশক হবার কোনো মানে নেই। সেটা ভাবাও হচ্ছেনা। পরিবর্তে আরেকটা উপায় ভাবা হচ্ছে। যদি বইয়ের স্পনসরশিপ নেওয়া যায়। ব্যক্তি করুন বা প্রতিষ্ঠান( যদিও কেন কোনো প্রতিষ্ঠান এটা করবেন, জানা নেই, কিন্তু তবুও, বলা তো যায়না)। অফিশিয়ালি সেটার নাম দেওয়া যায় "বই দত্তক নেওয়া"। মডেলটা এরকমঃ যাঁরা প্রোজেক্টটায় আগ্রহী, হাত তুললেন। আমরা সম্ভাব্য বইয়ের নাম বা তালিকা তাঁদের কাছে উপস্থিত করলাম। এবার সেখান থেকে বেছে নিয়ে (যদি পছন্দ হয়)একটি বইয়ের আংশিক বা সম্পূর্ণ খরচ আগ্রহীদের মধ্যে থেকে কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান বহন করলেন। বইতে তাঁদের নাম দেওয়া হল। লেখকও কিছু টাকা পেলেন, বইয়ের দামও সস্তা রাখা হল। বলাবাহুল্য টাকাটা দত্তকদাতা ফেরত পাবেননা। ওটা বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে রোল করবে। এক্সক্লুসিভলি।
দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাপারেও সাহায্য চাইব। সেটি আর্থিক নয়। একটা গুরুচন্ডালি লেখক-পাঠক সমবায় তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। তেমন কিছু না, একটি মেলিং লিস্ট। সেখানে যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা বইগুলি নিয়ে নানা প্রোমোশানে একটু সাহায্য করবেন। টুকটাক আর কি। এটাও বেশ জরুরি কাজ, কিন্তু খুব বেশি পরিশ্রম নেই। কেউ আগ্রহী থাকলে জানাবেন।
আমার/আমাদের দিক থেকে মডেল এটাই। চটি পাঠকের কাছে পৌঁছনোর একটা পন্থা। পাঠকসংখ্যা বাড়ানো, পাঠকের কাছে বই নিয়ে যাওয়া, এই আমাদের ঘোষিত অবস্থান। চটি একটা উপায়। চটি ছাপব, দরকার হলে অন্য পন্থাও নেব। কিন্তু পাঠকের বেস বাড়ানোর অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে সরছিনা। বিষয়টায় আগ্রহী হলে জানান। অন্য কোনো মতামত থাকলেও অবশ্যই জানান। সেই জন্যই এই লেখা জনারণ্যে প্রকাশ করা। কীভাবে কী করা হয়, ভাবা হয়, ভাবা হচ্ছে, এই নিয়ে নানা স্পেকুলেশন, প্রচার, অপপ্রচার নানাদিকে হচ্ছে। আমাদের দিক থেকে পরিষ্কার ভাবে জানানো হল। কোনো প্রশ্ন করার থাকলে এখানেই করে ফেলুন। অন্য কোনো স্পেকুলেশনে কান দেবেননা। নানা জায়গায় নানা কথাবার্তা হয়, সেসব আমাদের কানেও আসে। কিন্তু ওতে গুরুত্ব দেবেননা। আমরাও দিইনা। যাকে বলে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মাপ করে দিই। :-)

পুঃ যাঁরা যোগাযোগ করতে আগ্রহী, guruchandali@gmail.com এ একটা মেইল ঠুকে রাখতে পারেন। এখানে জানালে বা মেসেজ করলেও হবে।

পুঃ পুঃ ভবিষ্যতে গুরুর একটি নোটিসবোর্ড ব্লগ হবে। এখনও নেই, লেখাটাতেও প্রচুর 'আমি', আমি ' আছে, ঠিক নৈর্ব্যক্তিক নোটিস না। তাই ব্যক্তিগত ব্লগেই থাক। কিন্তু আহ্বানটা গুরুর দিক থেকেই।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22] [23] [24] [25]   এই পাতায় আছে 476 -- 495
Avatar: ঋত্বিকের মতো

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

একককে যে কিছু শুনতে হল না নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত, সেটা ভালো।
Avatar: ঋত্বিকের মতো

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

একককে যে কিছু শুনতে হল না নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত, সেটা ভালো।
Avatar: b

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

কেন কেন? ব্যক্তি হনু কম হনু কিসে? উনি সব সময়ে ন্যাজ বার করতে ন্যাজ্জা পান বলেই কি এই হেনস্তা?
Avatar: dc

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

কিন্তু কমরেড একক, চন্দ্রবিন্দু না দিয়ে কি ঠিক হলো?
Avatar: ছেনো

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

তাতিনবাবু নিজের অ্যানার্কিপনা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর দেখছি .. কিন্তু ওতে ওই অ্যামবুশ মার্কেটিং এরই সুবিধা হবে না কি ?
Avatar: pi

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

একক তো নিজের নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত কোন দাবি রাখেনি। ঋতর আর কোন কথা নিয়ে বলারও নেই কিছু।

আর শ্চ, তাতিন এই কথাগুলো কি সিরিয়াসলি বলে যে সিরিয়াসলি নিয়ে রিআক্ট করব ? নইলে আপনি বলেন বলে রিআক্ট করি, অন্যে সেই কথা বললে নয়, এমন কিছু নয়।
Avatar: Tim

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

তাতিনকে,

১) প্রতিযোগিতা নিয়ে তো কিছু বলার নেই। একই বাজারে তো নানাবিধ বিরিয়ানি চেইন আছে, পাবলিশিং এর বাজারেও তা থাকবেই। বরং পুশ সেলিং অনেক বড়ো সমস্যা। ভেবে দ্যাখ, স্রেফ চেনাশুনোর জন্য যদি ক্রেতার বাজেটের বেশিটাই ট্র্যাশে ব্যয় হয় তাহলে কি ভালো হবে? আখেরে ভালো বই কেনা বেশি হলে লং রানে ভালো বই করতে চাওয়া লোকেদের লাভ। সেদিক থেকে গুরু ও লিরিকাল পরষ্পরের শত্রু হওয়ার কথা ছিলো না।
২) হতেই পারে। এই বিষয়ে লিরিকাল ব্যাখ্যা দিলে খুশি হবো।
৩) দল ভাঙানো? আমার তো বাপু এই ব্যাপারটা বেশ মজার লাগছে। একটা নতুন প্রতিষ্ঠান সব সময়ই চাইবে লোকবল বাড়ুক। তারা অনেককেই অ্যাপ্রোচ করবে, যেহেতু যত বেশি লোক হয় ততই ভলান্টিয়ার/পাঠক বাড়ে। এর মধ্যে গুরুর লোকেদের যাদের অ্যাপ্রোচ করা হয়েছে তারা তো অনেকেই বন্ধু মানুষ। বন্ধুদের বন্ধুরা তো বলতেই পারে। যারা সেখানে শ্রম/সময় দিতে রাজি তারা যাবে, স্বেচ্ছায় যাবে। এর পুরো দায়িত্ব লিরিকালের না। লি দেখিয়ে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গেছে, সিস্টার কনসার্ন ভেবে ভুল করে চলে গেছি, এইগুলো হাস্যকর অজুহাত।শুনে মনে হয় ডে কেয়ারের গল্প।


Avatar: Tim

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

আমার পোস্টের ৩ নম্বর পয়েন্টের শেষ লাইনটা ভলান্টিয়ারদের উদ্দেশ্যে না, বইমেলায় লিরিকাল্র্র স্টলে যাওয়া নিয়ে এইসব পাই লিখেছে, সেই প্রেক্ষিতে।
যাই হোক, বক্তব্য হলো যে যার নিজের দায়িত্বেই করছে যা করছে।
Avatar: Ekak

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

কন্সিউমেবল গুডস এর মডেল নন কন্সিউমেবল এ চলেনা । পুশ সেল কন্সিউমেবল এ হয় । বাড়িতে পরার ঘরোয়া শাড়ি - রুমাল -ফতুয়া - পাপোষ -ধূপকাঠি -আচার এগুলো হলো পুশ সেলের স্বর্গ । বই যদি ডিরেক্টরি জাতীয় কিছু হয় তাহলেও কন্সিউমেবল । কিন্তু সাহিত্য -প্রবন্ধ এসব নন -কসিউমেবল । এগুলো কেও পুশ সেল করে মার্কেট ধরতে পারেনি , তাই পুল স্ট্রাটেজি নিয়ে চলে । একশো পিস ছাপিয়ে ষাট পিস পুশ সেল , ওই করে কোনদিন প্রকাশনা ব্যবসা দাঁড়াবেনা । মাঝখান থেকে এপাথি তৈরী হবে । লেখক-পাঠক সম্পর্ক খারাপ হবে ।

পুশ সেল এর মার্কেটিং কে ফেল মাড়ানোর উপায় হলো , দাম পরে দিচ্ছি বলে বইটা নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া । যেভাবে একসময় রমরম করে বেড়ে ওঠা বাঙালি বৌদিদের শাড়ি পুশসেল ব্যবসা লাটে উঠেছে । দাম কম হলে খুচরো নেই বলো , বেশি হলে ধারে চাও । আস্তে আস্তে ধার জমবে । তারপর , বই এর প্রকাশক তো আর শাড়ির মহাজন নয় , দুটো এডিশন ও টানতে পারবেনা , চাটি বাটি গুটিয়ে যাবে ।
Avatar: Atoz

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

যাকে বলে মাথায় চাঁটি আরকি। ঃ-)
Avatar: Pi

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

টিম আমি এরকম কিছু বলিনি।ভুল বুঝেছ।
Avatar: Tim

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

হ্যাঁ হতে পারে। একসাথে এত পোস্ট গুলিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
Avatar:  সেকি!

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

এককের লেখা পড়ে তো তাঁর অবস্থানটি নিরপেক্ষ বলেই দাবি মনে হচ্ছে। ব্যক্তিগত স্টেক গুলি না জানা অবধি সেটা ছদ্ম কিনা কিভাবে বিচার হবে? এককের তো ঘোষিত কোন পক্ষ দেখা যাচ্ছে না, যেমনটি পিনাকি তাতিন বা রঞ্জন রায়ের রয়েছে। নাকি একক লিরি-র তরফে/বিপক্ষে কথা বলছে/বলবে এরকম কোনো স্বতঃসিদ্ধ সবার জানা, যেটা ঋতর ক্ষেত্রে জানা ছিলনা? আমি আরো ভাবলাম ঋত-র কেসের প্রতিবাদ দেখে ব্যক্তিগত স্টেক বিচারের অনুশীলন বন্ধ করা হল। যেটাকে গুড জেসচার বলা যায়।
Avatar: rabaahuta

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

ঋত'র অবস্থান গুচপন্থীদের পক্ষপাতদুষ্ট মনে হয়েছে, প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ থেকে হারানো খিল্লীর প্রতি আকর্ষনকে আপত্তিযোগ্য মনে হয়েছে, গুচপন্থীরা রৈরৈ করে উঠেছে। এককের অবস্থান গুচপন্থীদের (অন্তত) নৈর্ব্যক্তিক বলে মানতে অসুবিধে হচ্ছে না, তারা চুপচাপ আছে।
ভিন্নমত থাকলে বলা হোক না, প্রকৃত নিরপেক্ষ বা বিরুদ্ধ, কেউ তো কারো লেখা থামাচ্ছেনা। ভুবনের ভার কেবলই গুরুর ওপর দিয়ে দিলে কেমন করে চলবে।
ব্যাক্তিগত স্টেক বিচারের অনুশীলন, আমি তো বাপু বন্ধ করিনি। যদিও ব্যক্তিগত স্টেক বিচারে আমি নিজেও কেস খেতে পারি, লিরির একটি বইয়ের যথাসাধ্য ফেবু শেয়ার ও ব্যক্তিগত স্তরে প্রচার আমি করেছি, এখনো সুযোগ পেলে করছি।
Avatar: ঈশান

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

কেস তো অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। যা হোক,

১। তাতিনের অবস্থানকে এনডোর্স বা সমর্থন করার কোনো জায়গাই নেই। পরিষ্কার লিখে দিলাম।

২। এককের পোস্ট সম্পর্কে। বাংলা ভাষায় সবচেয়ে প্রমিনেন্ট পাবলিকেশন হয়ে ওঠার নিচে গুরুর কোনো গোল সেট করা নেই। হবে কী হবেনা, সে অন্য কথা, কিন্তু গোল ওর চেয়ে নিচে না। ফলে কে কোথায় কোন দিকে গেল, ছটা বই পুশ সেল করা হল কী হলনা, ও নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো মানে নেই। ঘামাচ্ছিও না। গুরুর ব্র্যান্ডিং টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এইটুকু আশঙ্কায় যেটুকু রিঅ্যাক্ট করার করেছি। ৯ ইত্যাদি না থাকলে তাও করতাম না।

৩। টিম লিখছে দেখে ভালো লাগছে। অন্যদের ক্ষেত্রেও আরেকবার বলি, গুরুতে কাউকে লিখতে না বলার কোনো প্রশ্নই নেই। খোলা পাতা আছে, লিখুন, লেখা পছন্দ না হলে গাল নিশ্চয়ই পাড়ব, সে আলাদা কথা।

নির্ঘাত অনেক কিছু বাদ গেল, সে পরে হবে।
Avatar: Ekak

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

পুশ সেল নিয়ে পোস্ট টা ইন জেনেরাল পুশ সেল সম্পর্কিত কথা উঠেছিল তাই , টিম আর শঙ্খর পোস্ট থেকে । পুশ সেল করে সিরিয়াল বই বিক্রি বা , পুশ সেল করে সিরিয়াস লেভেলে বই বিক্রি কোনোটাই হয়না এটুকুই বক্তব্য ছিল । এটা এই পেজ এর আলোচ্য বিষয় নয়, কথাপ্রসঙ্গে এসেছে ।
Avatar: কান্তি

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

পাই, এই বিষয়ের সব লেখালেখি/ মতামত ধৈর্য ধরে পড়ার পর মনে হোল আমার সংখিপ্ত বক্তব্যটাএখানে রাখাই ভাল।আমার না জানা অনেক কথাই জানলাম। বইমেলায় আবার অনেক কাল পরে দেখা হওয়া বিষয়ে তোমার ফেসবুকে মন্তব্য পড়ে আমার অজ্ঞতা ভরা উচ্ছাস তোমাকে দুঃখ্য দিয়েছে বলে আমিও গভীর ভাবে দুঃখ্য পেয়েছি। তবে আমার মনে হয়, এই শ্বাস বন্ধ করা সাময়িক ধোঁয়াটে পরিস্থিতি বইমেলার পরই কেটে যাবে।যাঁরা প্রায় নেশাগ্রস্তের মত নানা পথে/ বিপথে পা রেখেছেন তাঁরা নিজেদের নানা মোহের বিচ্যুতি গুলোর সঠিক চেহারাটা বুঝতে পারবেন এবং নিজেদের সুধরে নেবার চেষ্টা কোরবেন। সুতরাং আমরা, এই গুরুর নীরব/সরব রবাহুত/অনাহুত সদস্যরা যারা এক সুক্ষ ভালোবাসার জালে জড়িয়ে গিয়েছি তারাই এর প্রাণভোমরা হোয়ে রয়ে যাব, এ বিশ্বাস আমার আছে।
কান্তিদা।
Avatar: রবাহুত

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

আমি কিন্তু কিছু করিনি।
Avatar: Ishan

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

এখানেই নতুন আপডেটটা দিয়ে দিই। অনেকগুলো বই বেরোচ্ছে। প্রথম বইটা মলয় রায়চৌধুরীর। আমরা বেছে বই করি। মলয় রায়চৌধুরির তিনটি বই প্রকাশ করেছি । প্রতিটিই নরম গদ্যপদ্যের ত্বকে যেন শিরীষ কাগজের আক্রমণ। প্রতিটি বইই প্রবল ভাবে আলোচিত এবং হবার পরে, এবার বাছছেন লেখক নিজে। বইয়ের নাম 'মলয় রায়চৌধুরী, নিজের বাছাই'। লেখকের নিজের হাতে বেছে নেওয়া গদ্য ও পদ্যের সংকলন। তাঁর বিচারে যেগুলি সর্বাগ্রে থাকে, শুধু সেগুলি নিয়েই।

দ্বিতীয় যে বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে শীঘ্রই, তাও মোলায়েম বাঙলা গদ্যভাষা নয়। গুরুচন্ডালি প্রকাশ করতে চলেছে অজিত রায়ের বই 'বাংলা স্ল্যাং, সমুচয় ঠিকুজিকুষ্ঠি' । দুই মলাটের ভিতরে বাংলা স্ল্যাং এর আগা ও গোড়া। তালিকা ও ইতিবৃত্ত। এবং অতি অবশ্যই স্ল্যাং অভিধান। অজিত রায়ের গদ্য ভাষা অদ্ভুতুড়ে। তৎসম, স্ল্যাং আর বাংলা-বিহারের চলিত শব্দের এক অদ্ভুত খিচুড়ি। এই খিচুড়ি ভাষায় তিনি লিখেছেন স্ল্যাং এর উপাখ্যান। স্ল্যাংকে শুধু অপভাষা বা শুধু খিস্তি , এর কোনোটাই বলা যায়না, বলেছেন লেখক। তাহলে স্ল্যাং কী? বাংলা স্ল্যাং কী কী? জানতে হলে বইটি পড়া অবশ্যপাঠ্য।

তৃতীয় বইটি অন্য ঘরানার। স্বাস্থ্যব্যবস্থা আর জনস্বাস্থ্য নিয়ে গুরু এর আগেও বই প্রকাশ করেছে। নানা লেখা বেরিয়েছে গুরুর পাতায়। পুণ্যব্রত গুণ লিখেছেন গুরুর খেরোর খাতায়। স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিজেই যে গভীর অসুখে আক্রান্ত এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা যদিও জনবৃত্তে আলাদা করে তেমন নজরে পড়েনা। ক্রমাগত ভেঙে পড়া অসুস্থ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যবচ্ছেদ এবং রোগনির্ণয়ের প্রচেষ্টায় পুণ্যব্রত গুণেরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হতে চলেছে একটি বিশদ গ্রন্থ। 'স্বাস্থ্য অব্যবস্থা'। উদ্যোগে 'সারা বাংলা সবার জন্য স্বাস্থ্য কমিটি' এবং গুরুচন্ডালি।

এছাড়াও পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে 'লা জবাব দিল্লি', 'খেরোবাসনা', 'মিছিলে বাদল সরকার' এবং 'আমার ৭০' এর ।

বই গুলি খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হতে চলেছে। যাঁরা দত্তক বা অন্য কোনো ভাবে সাহায্যে আগ্রহী, দ্রুত যোগাযোগ করলে ভালো হয়।

Avatar: পাই

Re: গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

আপডেটঃ

খুব শিজ্ঞিরি, এই মাসেই প্রকাশিত হতে চলেছে এই দুটি বই। কেউ বইগুলির আংশিক দত্তক নিতে আগ্রহী হলে মেইল বা মেসেজ করতে পারেন।


স্বাস্থ্য (অ)ব্যবস্থা ঃ সম্পাদনা পুণ্যব্রত গুণ
--------------------------------
স্বাস্থ্য ভারতীয়দের মৌলিক অধিকার নয়। তদুপরি '৪৭ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে কল্যাণকর ভূমিকা পালন করার উদ্যোগ ছিল, রাষ্ট্র তার থেকে সরে আসছে গত শতকের নব্বই-এর দশকের শুরু থেকে। স্বাস্থ্য এখন মূলত পণ্য, পুঁজির চারণক্ষেত্র এবং মৃগয়াভূমি।
এই অদ্ভুত ব্যবস্থায় নাগরিকের ক্ষোভ মেটাতে রাষ্ট্রের কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেই, পরিবর্তে আছে কেবল একের পর এক ফাঁপা ঘোষণা। আর স্বাস্থ্যকর্মীদের, বিশেষ করে চিকিৎসকদের জনগণের রোষের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। যেন একমাত্র তাঁদের দোষেই মানুষ যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন না।
এই সংকলনে লিখেছেন চিকিৎসকরা, জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মীরা, নীতিনির্ধারকরা।।।।যাতে বাস্তবটাকে বোঝা যায়, এবং সেই অনুযায়ী চলার পথ ঠিক করা যায়।


সর্ষেদানায়, ইচ্ছেডানায় - অচল সিকির মোটরসাইকেল ডায়রি
--------------------------------------
ভ্রমণকাহিনি, কিন্তু শুধুই ভ্রমণকাহিনি নয়। এ বইতে আছে এক নেশার গপ্পো, যে নেশা অন্যদেরও নেশা ধরিয়ে দিতে পারে। জীবনে একটানা একশো কিলোমিটারের ওপর গাড়িই চালায় নি যে আগে কোনওদিন - সে হঠাৎ একদিন পথের নেশায় ভোররাতে বেরিয়ে পড়ল, ঘুরে এল তার স্বপ্নের গন্তব্য। তার পরে আবার, এবং আবারও।
এ বই শুধু স্বপ্নপূরণের গল্প নয়, এ বইয়ে ধরা আছে নিজের সামনে নিজের রাখা চ্যালেঞ্জের কথা, আর তাকে জিতে আসার কথা। এ বইতে আছে আরও বড় স্বপ্ন দেখার গল্প। পাঠককে স্বপ্ন দেখার নেশা ধরিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট।
--------------------------------------------



মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22] [23] [24] [25]   এই পাতায় আছে 476 -- 495


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন