শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

শিবাংশু

পরাণপ্রিয়, কেন এলে অবেলায়....
-------------------------------
'মনে এক রমণীর বসবাস সকল সময়।
তাকে ভালোবাসতেই হয়।
বাইরের সব ভালোবাসা
তাই ভাসা ভাসা।
তুমিও যখন এসো ঘরে
দেয়ালেই শুধু ছায়া পড়ে
ঘরের ভিতরে তুমি নেই।
যা বলি তোমাকে,
বলি সে-রমণীকেই। ' ( সঞ্জয় ভট্টাচার্য)
প্রতিটি রাগের অন্দরমহলেই হয়তো এক রমণীর বসবাস সকল সময়। হয়তো আমার মনে শুধু তার ছায়া পড়ে, ঘরের ভিতর সে আসেনা। তবুও আমার সকল গান.....
---------------------------------
এখন যেমন পিলু'কে নিয়ে পড়েছি। প্রশ্ন উঠতে পারে এতো এতো কুলীন রাগ থাকতে কেন পিলু? কারণটা হয়তো এই যে এই রাগটির ব্যঞ্জনা আমার মতো লঘুচরিত্র মানুষের মানসিকতার সঙ্গে বেশ মেলে। এর একটা শাস্ত্রবিরোধী চপলতা আছে, যে জন্য এই রাগে কখনও খেয়াল গাওয়া হয়না। সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ রাগ হওয়া সত্ত্বেও এ এক ইতরজনের প্রেয় সুর। এর শরীরী আবেদন প্রচ্ছন্ন থাকেনা। সেরিব্রাল স্থিরতার চাইতে চঞ্চল শৃঙ্গারমুখর আবেগ একে অধিক সার্থক করে তোলে। অওধের নওয়াবরা ঠুমরি নামক শৈলীটিকে বিকশিত করার আগে শাস্ত্রদেবতার দরবারে পিলু ছিলো একেবারে অন্ত্যজ অস্তিত্ব। মজার ব্যাপার হলো অন্য পরে কা কথা, টপ্পাও সম্ভবত পিলু'তে গাওয়া হতোনা। কারণ দেখছি বাংলা নাগরিক গানের যিনি ভগীরথ, সেই নিধুবাবু বহু জনপ্রিয় রাগে টপ্পাসহ নানা ধরনের গান বাঁধা সত্ত্বেও পিলুতে কোনও গান বাঁধেননি।
------------------------
পিলু কাফি ঠাটের অংশ। এই ঠাটের ভীমপলশ্রীর সঙ্গে তার মিল আছে। কিন্তু বেশি মিল আছে আর এক ম্যাজিক রাগ ভৈরবীর সঙ্গে। কোমল গান্ধার, কোমল ধৈবত আর কোমল নিষাদের বিভিন্ন ধরনের মিশ্রণ কীভাবে এক অন্যধরনের মায়া মানুষের কানে সৃষ্টি করে তা নিয়ে বহুকাল ধরেই ভাবছি। এই স্বরগুলির মধ্যে কী কানের ভিতর দিয়া মরমে পশে যাওয়ার কোনও অজানা ফর্মুলা রয়েছে? পণ্ডিতরা হয়তো বলতে পারবেন। কিন্তু যাঁরা শাস্ত্রীয় মার্গের সুরচর্চা থেকে অনেক দূরে, অর্থাৎ ইতরযানী শ্রমজীবী মানুষজন, তাঁদের সঙ্গীতচর্চার মধ্যে পিলুর সুর খুব সহজে জায়গা করে নিয়েছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের লোকসুর ও লোকগানের জঁরগুলি, যেমন হোরি, ফাগুয়া, চৈতা বা ভক্তিগীতি ও শৃঙ্গারগীতি, সবারই পিলুভিত্তিক সুরের প্রতি স্পষ্ট আনুগত্য দেখা যায়। পিলু'র সে অর্থে কোনও 'শুদ্ধ' রূপ নেই। তীব্র স্বর বা কোমল স্বর কীভাবে প্রয়োগ করা হবে সে নিয়ে পণ্ডিতেরা বিশেষ লাঠি ঘোরান না। প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো যাই গাওয়া বা বাজানো হোক না কেন, তা'কে শ্রুতিমধুর হতে হবে। আমার মতো ইতরশ্রোতারা তো প্রাথমিকভাবে সঙ্গীতের কাছে তাই চেয়ে থাকেন। তাই বোধ হয় প্রাজ্ঞ শ্রোতার কাছে এই সব রাগের বিশেষ কদর নেই, যেমন পিলু বা ভৈরবী। আমরা আম আদমিরা এই দুটি রাগের সঙ্গে মিলে মিশে জীবন কাটিয়ে দিই। কবি বলছেন, আমাদের জন্ম হয়েছিলো কোনও এক বসন্তের রাতে। সেই বসন্ত, যে ধুলোখেলার নেশায় ধরে রাখে ইতরযানী রুচি, যার বিপুল শারীরবৃত্ত যাপন ঘিরে থাকে সংখ্যালঘু মননবৃত্তের সেরিব্রাল জগৎ। এই দুই স্রোতের মিলনবিন্দুর অভিঘাত চিরকাল মানুষের মনে ভালোবাসার বীজপত্র অঙ্কুরিত করে যায়।
----------------------------------
'বঁধুর কাছে আসার বেলায় গানটি শুধু নিলেম গলায়
তারি গলার মাল্য করে করবো মূল্যবান....'

বাঙালিরা যখন গান কম্পোজ করেন, কয়েকটি বিশেষ রাগের প্রতি তাঁদের অধিক পক্ষপাত থাকে। বাংলা নাগরিক গান যাঁর হাতে জন্ম নেয়, সেই নিধুবাবু গানের সুর করার সময় যে রাগগুলির প্রতি অধিক নির্ভরশীল ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও দেখি মোটামুটি সেই সব রাগের ছায়া সুর করার সময় এসে পড়ে। এর মধ্যে প্রথম তালিকায় থাকে, ভৈরবী, খমাজ, বেহাগ, পুরিয়া, য়মন, কানড়া, কাফি। পরের তালিকায় ধরা যেতে পারে পরজ, ললিত, মালকোষ, তোড়ি, হামির, কেদার ইত্যাদি। এই লিস্টিটা রবীন্দ্র-পূর্ববর্তী প্রায় সব বাংলা সুরকারদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ভক্তিসঙ্গীত বা রঙিন গান, উভয়তঃ। পিলু এসে যুক্ত হয় প্রথম রবীন্দ্রনাথের রচনাতেই। পরবর্তীকালেও এই পক্ষপাতের ধারার ইতরবিশেষ হয়নি। কারণ এই সব রাগাশ্রয়ী সুরগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেহেতু মানুষ গানের কাছে প্রথমতঃ আশ্রয় খোঁজার জন্যই আসে, তাই চেনা গাছের ছায়াই অধিক কাম্য।
-------------------------
শুধু যে বাঙালি শ্রোতারাই এই সব সুরে স্বাচ্ছন্দ্য খোঁজে, তা নয়। এটা প্রায় সর্ব ভারতীয় ব্যাপার। শচীনকত্তা ছিলেন ভৈরবীর রাজা, পুত্রের ঝোঁক ছিলো খমাজে। পিলু'কে মাথায় করে রাখতেন ও পি নৈয়র। নৌশাদসাহেবেরও পিলুর প্রতি বেশ পক্ষপাত ছিলো। ও পি নৈয়র ১৯৫৪ সালে ' আরপার' ছবিতে শমশাদ বেগমকে দিয়ে গাইয়ে 'কভি আর কভি পার' গানটি সুপারডুপার হিট করেছিলেন। তার পর থেকে পিলুর উপর তাঁর হয়তো একটা দুর্বলতা জন্মায়। অবশ্য তিনি যে দেশের লোক, অর্থাৎ পঞ্জাব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের লোকগানে পিলুর বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যা হয়তো তাঁর কান'কে শৈশব থেকেই মজিয়েছিলো। তাই পিলুনির্ভর সুর তাঁর গানে ফিরে আসতো। এই নিয়ে কেউ একজন কটাক্ষ করায় তিনি বলেন পিলুর সুরের মধ্যে এতো রকম সম্ভাবনা আছে যে মানুষের সব রকম আবেগ, আকর্ষণ, আশ্লেষকে তা অবলীলায় ধরে রাখতে পারে। সে সময়ই প্রায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১৯৫৮ সালে বিভূতি মিত্র পরিচালিত 'ফাগুন' ছবিতে আট-ন'টি গানের সব গুলিই পিলু-আশ্রিত সুরে কম্পোজ করেছিলেন। সঙ্গে রাগ বসন্তের কিছু অনুষঙ্গ ছিলো। প্রায় সব গানই হিট হয়েছিলো, কয়েকটি সুপার হিট। সিনেমাটি অকিঞ্চিৎকর, কিন্তু গান গুলি আজও বেঁচে আছে। ' এক পরদেশি মেরা দিল লে গয়া', 'সুন জা পুকার', 'পিয়া পিয়া ন লাগে মোরা জিয়া', ইত্যাদি। সেই থেকে যে ট্র্যাডিশন শুরু হয়েছে আল্লা রাখা রহমান পর্যন্ত তার জয়যাত্রা অক্ষুণ্ণ।
----------------------------------
আমাদের চিরকালীন শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে প্রাচীনতম রেকর্ড পাচ্ছি ১৯০৮ সালে গাওয়া অচ্ছনবাইয়ের পিলু। তার পর কে নেই সেই তালিকায়? সুরের ঈশ্বরকোটী আবদুল করিম, বড়ে গুলাম, ভীমসেন ছাড়া ইন্দুবালা, সিদ্ধেশ্বরী দেবী, রসুলন বাই, বেগম আখতার, রোশনারা বেগম, প্রভা আত্রে, গিরিজা দেবী, শিপ্রা বসু এবং অজয় চক্রবর্তী সব্বাই আছেন। এতো গেলো কণ্ঠসঙ্গীতে। বাল্যকালে আমার প্রথম শোনা রাগ পিলু পণ্ডিত রবিশংকরের সেতারে, মিশ্র পিলু, সঙ্গে আল্লারাখা, চব্বিশ মিনিটের বাজনা, এই রাগটির সঙ্গে আমাকে চিরকালের জন্য বেঁধে ফেলে। পরে শুনি তাঁর আগে বাজানো দশ মিনিটের পিলু ঠুমরির রেকর্ডটি, সঙ্গতে চতুরলাল। আরো পরে অনুষ্কার সঙ্গে রঙ্গিলা পিলু। কিন্তু একটি স্মৃতিচারণে তিনি বলেছিলেন ইয়েহুদি মেনুহিনকে সম্মত করে তাঁর সঙ্গে যুগলবন্দির রেকর্ডটিই তাঁর বিশ্বজয়ের প্রথম সোপান। এখানেও রাগটি ছিলো পিলু। তাঁর গুরুভাই নিখিল বন্দোপাধ্যায় এবং অপরজন অফতাব-এ-সিতার বিলায়ত খান সাহেব বড়ো করে বাজিয়ে রাগ পিলু রেকর্ড করেছিলেন। এই বাজনাগুলি শুনলে বোঝা যায় এই সব গুরুরা তথাকথিত অল্পপ্রাণ পিলু রাগের মধ্যে কী সম্ভাবনা আবিষ্কার করেছিলেন। এছাড়া আমার চিরকালের প্রিয় পিলুর উপস্থাপনার লিস্টিতে আছেন পণ্ডিত বুধাদিত্য, পণ্ডিত শিবকুমার, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ, উস্তাদ শাহিদ পরভেজ, উস্তাদ রইস খান, উস্তাদ আসিফ আলি খান, পণ্ডিত ব্রিজ ভূষন কাবড়া এবং সরোদের দুই দেবতা উস্তাদ আলি আকবর ও উস্তাদ আমজাদ আলি।
-----------------------------------------
চিরকালের জন্য কোনও নির্জন দ্বীপে নির্বাসিত হলে উস্তাদ বড়ে গুলামের 'সঁইয়া বোলো তনিক মোহে রহিও ন জায়' অবশ্য সঙ্গে যাবে, তৎসহ তাঁর ঘরের আরেক দুর্লভ সঙ্গীত প্রতিভা গুলাম আলি সাহেবের গাওয়া সেই একই গান অন্য মেজাজে, তাও যাবে।
------------------------------
মানুষের আত্মা মানে কি তার ভিতরে নিরন্তর বেজে যাওয়া সুরের স্বরলিপি? সব শেষের যাত্রায় যাবার গান বেঁধেছিলেন আমাদের গুরু।
"পার হবো কি নাই হবো তার খবর কে রাখে,
দূরের হাওয়া ডাক দিলো এই সুরের পাগলাকে...."
ছাই হয়ে আবার মাটিতে মিলিয়ে যাবার আগে আমাদের ভিতরের গানগুলি আবার চরাচরের কাছে ফিরে যায়। সেটাই কি পুনর্জন্ম?
---------------------------------
অগণ্য, অসংখ্য পিলুর জাদু বিভিন্ন দৈবী জাদুকরদের শিল্পকাজ থেকে কয়েকটির লিং এখানে রাখছি । নিতান্ত অগোছালো, অবিন্যস্ত লিস্টি।।। কিন্তু কখন নির্জনে আমাদের এই কাদামাটির পৃথিবী থেকে তুলে একটু উপরে ধরে রাখে কিছুক্ষণ। স্বর্গ আর কোথায় থাকতে পারে?
হমীনস্ত, হমীনস্ত....
------------------------------------

উস্তাদ বড়ে ঘুলাম আলি খানঃ

https://www.youtube.com/watch?v=7h1-E-HGdj8
https://www.youtube.com/watch?v=JXTUTP_z6ck
পণ্ডিত রবিশংকরঃ
https://www.youtube.com/watch?v=rbgI1TMHVKM
উস্তাদ আলি আকবর খানঃ
https://www.youtube.com/watch?v=3Fm3UNofVy4
পণ্ডিত ভীমসেন জোশিঃ
https://www.youtube.com/watch?v=lo2Bt9uXDG0
ইন্দুবালাঃ
https://www.youtube.com/watch?v=DqkDZewbwtc
পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ
https://www.youtube.com/watch?v=BNAH-JLBGKc
পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়াঃ
https://www.youtube.com/watch?v=Wcd0pVnIJZs
রসুলন বাইঃ
https://www.youtube.com/watch?v=l3ZcJzPaNG8
কৌশিকী চক্রবর্তীঃ
https://www.youtube.com/watch?v=Uh83_5I_oV0
উস্তাদ বিলায়ত খানঃ
https://www.youtube.com/watch?v=wpowZ3AuZ80
পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়ঃ
https://www.youtube.com/watch?v=YZNS0yYlfqQ
উস্তাদ রইস খানঃ
https://www.youtube.com/watch?v=toAba-iPqa8
উস্তাদ ঘুলাম আলিঃ
https://www.youtube.com/watch?v=FmxdJGFLjFI
শিপ্রা বসুঃ
https://www.youtube.com/watch?v=xnAJUq3t8nU




Avatar: শিবাংশু

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

এঁরাও থাকুন কয়েকজন....,
---------------------------
পিয়া ভোলো অভিমান ( বেগম আখতার)

https://www.youtube.com/watch?v=DCmnbP96s7U

আমার শ্যামপাখি মনফাঁদে (রামকুমার চট্টোপাধ্যায়)

https://www.youtube.com/watch?v=wJLbbWF_4L0

পরাণপ্রিয়, কেন এলে অবেলায় (সুকুমার মিত্র)

https://www.youtube.com/watch?v=COKiw41PQ_k
-------------
চন্দন কা পলনা, রেশম কি ডোরি
https://youtu.be/Vuy5hftWOHg

অবকে বরস ভেজো

https://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=f8Lp2A9ErA
c


ঢুঁড়ো ঢুঁড়ো রে সাজনা
https://youtu.be/FJFq5znkbSo

যাইয়ে আপ কঁহা জায়েঙ্গে
https://youtu.be/AajHv7NIp9g

কভি আর, কভি পার
https://youtu.be/DJFwNErOujc

নদীয়াঁ কিনারে হেরাই
https://youtu.be/fljowz-aSPg

পিয়া পিয়া ন লাগে মোরা জিয়া

https://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=3A6AH6Pw-h
U


সুরমাই অঁখিয়োঁ মেঁ

https://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=V5qMS-K8eY
Y

Avatar: quark

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

বেশ লাগলো! নতুন কিছু বলার ক্ষ্যামতা নেই, লিস্টে একটা যোগ দিয়ে যাই


https://www.youtube.com/watch?v=hpVvfPKyjLM
Avatar: ঈশান

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

আহা। কেউ লিং না দিলে বড়ে গুলাম আলি আর শোনা হয়না। সভ্যতার অভিশাপ আর কি। আগে লোকে কষ্ট করে ক্যাসেট কিনে চালিয়ে বাড়িতে এমনিই শুনত। রিওয়াইন্ড ফরোয়ার্ড করে করে। এখন চাদ্দিকে ইউটিউব থইথই করছে, হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। তবু শোনা হয়না। বেদনা খুঁচিয়ে তোলার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে গেলাম। :-)
Avatar: ranjan roy

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

হমীনস্ত্‌! হমীনস্ত্‌! ওয়া হমীনস্ত্‌!

বুধাদিত্য দিয়ে শোনা শুরু করলাম। প্রথম যৌবনে ওর বাড়িতে সামনে বসে সুরবাহারে শোনা স্মৃতি ফিরে এল।

সারাদিন এই লিংগুলো নিয়েই কেটে যাবে।

শিবাংশু,
কবে রিটায়ার করে কোলকাতায় স্থায়ী ভাবে আসছেন? অপেক্ষায় আছি।
Avatar: শিবাংশু

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

quark, ঈশান, রঞ্জন,

অনেক ধন্যবাদ।

ঈশান ঠিকই বলেছেন। আয়োজনের প্রাচুর্যে আবেগের স্রোত শুকিয়ে যায়। প্রথম যখন চাকরিতে ঢুকি, একটা এলপি রেকর্ড কিনতে বেতনের শতকরা দশভাগ চলে যেতো প্রতি মাসে। কিন্তু সে 'বিলাসিতা'কে বাহুল্যবোধ করিনি কখনও। একমাসে ভীমসেন কিনে পরের মাসের দিকে তাকিয়ে থাকতুম জর্জদার নতুন এলপিটা কতোক্ষণে তুলে আনতে পারবো। এখন সব কিছুই এতো সুলভ, তবু সময় দিতে পারাটা বিলাসিতা হয়ে গেছে।

রঞ্জন,
আমিও অপেক্ষা করছি। যে সব সুসময়ের অপেক্ষায় আমাদের দিন যায়, কথা বেড়ে ওঠে।
Avatar: pi

Re: তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

জমিয়ে রেখেছি।

আর এই যোগানের প্রাচুর্যের যুগে শোনার অভ্যেস চলে যাওয়া খুব সত্যি, থেকে থেকেই মনে হয়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন