ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব
    দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল।আরোরা সাহেব।সাল টা ১৯৯৩ / ৯৪।সদ্য বছর ৩ কলেজ ছেড়ে মাল্টিন্যাশনাল চাকরি, চরকির মত সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি। সকালে দিল্লী, বম্বে, মাদ্রাস (তখনো মুম্বাই / চেন্নাই হয় নি) গিয়ে রাতে ফিরে বাড়ির ভাত খাওয়া তখন এলি তেলি ব্যাপার আমার ...
  • মাজার সংস্কৃতি
    মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় ...
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

ফরিদা

দেশপ্রেম বটিকা হু হু করে বিকোয় – তুষারঝড়ে চাপা পড়ে শক্ত হয়ে যাওয়া জওয়ানদের শরীরের আড়ালে একজনের প্রাণ ধুকপুক করলে সারা দেশ একসঙ্গে প্রার্থনা করে। তখন আর আমাদের মাথায় থাকে না - কেন দুটো পাশাপাশি ঊনিশ-বিশ নিম্নবিত্ত দেশ তাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ খরচা করে ফেলে ঘেন্নার আগুনটা জিইয়ে রাখতে – কেন সেই আগুনে বলি দিতে হয় তরতাজা যুবকদের?

প্রেম টেম বাজে কথা, আসলে এই ঘেন্নাটার বেঁচে থাকা খুব দরকার – তাতে প্রতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ে। শতাংশের হিসেব সমানুপাতে বাড়ে। এই ঘেন্নাটা যতদিন জ্যন্ত থাকে ততদিন আর দেশের মুল্যবৃদ্ধির সূচক কেন নামছে না সেইসব প্রশ্ন কাগজের প্রথম পাতায় আসে না। ভেতরের পাতা পড়ার সময় আছে কার? যাদের সময় থাকে তাদের আর কিছু করার থাকে না বলেই সময় থাকে। তারা যে কী সব বিড়বিড় করে বলে যায় শোনা যায় না, শুনলেও অর্ধেক বোঝা যায় না – কিন্তু এই ঘেন্না টা – এই যে একজন শত্রু আছে ঘাড়ের পাশেই – দেশপ্রেম জাগ্রত ঠাকুর, তার পুজোয় একটু অন্যথা হলেই ঘর থেকে শিশুদের তুলে নিয়ে যাবে – বোঝা সহজ। বোঝানোও সহজ। এটা বোঝালে যাদের সবচেয়ে লাভ তারা এটা খুব ভালো বোঝে।

তাই দেশপ্রেম বটিকা হু হু করে বিকোয় – বিশ্বকাপ ফুটবলে সারা পাড়া মুড়ে দেওয়া হয় ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ইতালির পতাকায় – তাই নিয়ে মারপিট দেখেছি কলকাতায় থাকাকালীন। তাতে দেশপ্রেম অক্ষুণ্ণ থাকে – অন্তত গত বিশ্বকাপ ফুটবলেও থেকেছিল – কিন্তু ব্রাজিলের জায়গায় প্রতিবেশী দেশের নাম উচ্চারণে খড়্গহস্ত আড়াই থেকে অষ্ট আশী দৈনন্দিন ভারতবাসী – কেন? এত বড় দেশ – কে বা কারা কার নামে জয়ধ্বনি দিলে ফোসকা পড়ে কেন? এর উত্তর সহজ – ঐ যে এতে যদি সেই ঘেন্নাটা একটু টাল খেয়ে যায়।

তাই ঘেন্না বাঁচাতে হবে – তার জন্য সার জল দিতে হবে তো। দেওয়া হল। কীভাবে? বলছি।

দেবদেবীর পাঁচালি, ব্রতকথায় বছরে নিয়ম করে এই দেশের মানুষকে শোনানো হয়েছে গত কয়েক শতাব্দী ধরে সেইসব মাহাত্ম্যগুলি। খুব সাধারণ পরিবারের গল্প সেইসব। এক নিম্নবিত্ত মানুষ সংসারের নানান সমস্যায় জেরবার – শেষ অবধি কারুর কাছে শুনে সেই দেবতা বা দেবীর পুজো করার ফলে সেই সব সমস্যা মুহূর্তে উধাও তো বটেই – তার সঙ্গে প্রচুর বোনাস টোনাস জুটে একশা। এর পরের চ্যাপ্টারে আর কেউ একজন সেই দেবতা বা দেবীর পুজো করতে গিয়ে একটু ভুল করে ফেলে সমস্যা চতুর্গুণ বাড়িয়ে ফেলবেন – পরে ভুল টুল শুধরে তবে স্বস্তি – কিন্তু সে আর অত বড়োলোক হয় কিনা গল্প সেটা বলে না।

অন্য ধর্মেও এইসব চলে খুব – কত যে টিভি চ্যানেল এই করে খায় দায় তেল মাখে।

এতে ভয়টা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওই যে বিচ্যুতি হলেই সব গেল – এই ভয়। দেশপ্রেম বটিকা তো আর আকাশ থেকে পড়েনি, বাকি আর সবকিছুর মতো এও যেন বেদ এ ছিল। ধর্মবিশ্বাসের বটিকা বলে যাকে আমরা চিনতাম, এটার ভেতরে সেই ধর্মবিশ্বাসেরই লজেন্স – বাইরের মোড়কটা পরিবর্তিত হয়েছে প্যাকেজিং এর অঙ্গ হিসেবে। এতে এম এ, বি এ, এম বি এ, আই টি ওলা, চাকুরিজীবি যারা সকালে পাউরুটি বা পরোটা চিবোতে চিবোতে কাগজের প্রথম পাতাটাই পড়ার সময় পায় – বুঝতেও পারে সহজে। ইতিহাস বইতে পড়া দেশপ্রেমের সিলেবাসের সঙ্গে মিলে যায় সহজে যেন চায়ের মধ্যে মাপমতো চিনি।

ওষুধ এসে গেছে বাজারে – দেশপ্রেম বটিকা চটপট বিকোচ্ছে এই বাজারে – শুধু একটাই আশঙ্কা থেকে যায়। ওই ব্রতকথাগুলির দ্বিতীয় চ্যাপ্টারে যেটা ছিল – সেই যে- যে বা যারা এতটুকু বিচ্যুত হয়েছিল। সেইজন্যই আশঙ্কা। এই বটিকার মার্কেটিঙ কিন্তু আরো জমে যাবে যদি একটা এমন কেস পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক তো মজুত – তার ওপর ঋতুপরিবর্তনের মরশুম – জ্বর জ্বালা হওয়াই দস্তুর – এই সময়ে বহিঃশত্রুর নাম করে বলতে নেই কিছু একটা যদি লেগে যায়......

ভয় করে। কে জানে কোথায় আর কত বলি বাকি আছে – দেশপ্রেমের নামে।


শেয়ার করুন


Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

ফরিদা,

আপনার লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো । আপনি হিন্দু বা মুসলিম জানিনা । এও জানিনা - আপনি দেশপ্রেমী বা দেশদ্রোহী !- কিন্তু এ জানি - এই দেশপ্রেম বটিকা - এমন এক নেশার জিনিশ যে - একবার গেলালেই হল ! সেখানে ধর্ম - বুজরুকী সব কিছু মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে !

আমি তো এই জিনিসই দেখছি ১৯৬২ সাল থেকে । তখনো উঠেছিল -দেশপ্রেমের জোয়ার । আর তার ফলেই - সেই সময়কার সব শিল্পী-সাহিত্যিকদের দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল - দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ! - আর সেই সময়েই দেশপ্রেমীদের যত্র তত্র যার তার ওপর অত্যাচার করার অধিকার জন্মিয়ে গেছিল ! সে এশিয়ার মুক্তি সূর্যের সৈন্যরাই হোক - গেরুয়া-সন্তানরাই হোক !

সেই অধিকার কি চট করে হাতছাড়া করা যায় !

বিদেশে যখন থাকেন - তখন - ওআগ দ্য ট্যাগ - কথাটার মানে নিশ্চয় জানেন ! - দেশের সমস্যা-জর্জরিত মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর একান্ত চেস্টা ! কখনো ধর্মের নামে ! - জার্মানিতেও তো এই পদ্ধতি চালানো হয়েছিল ! অন্তিমে কিন্তু মানুষের সদিচ্ছাই জিতেছিল ! আশাই তো আমাদের সম্বল !

মনোজ
Avatar: i

Re: দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

বহুদিন পরে ফরিদা এলেন।
লেখা আর একটু বড় হোক না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন