ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিসর্জন
    বিসর্জনঝুমা সমাদ্দারপড়ে রইল রাফখাতার শেষ পৃষ্ঠার এলোমেলো আঁকিবুকি... হলুদ প্লাস্টিকের ঝুটো দুল... চুলের তেলের গন্ধওয়ালা মাথার বালিশ...বেলতলার লাল কাঁকুড়ে পথ ... পড়ে রইল স্কুল ... আমগাছের নীচের বাঁধানো বেদী... পড়ে রইল হাসি-গল্প- ঝগড়া- খুনসুটি... বেগুনী ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৩
    http://bigyan.org.in...
  • বেতারে ‘অপারেশন সার্চলাইট'
    #MyStory #WarCrime #Joy71 #FFবিপ্লব রহমান, ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কারফিউ জারি করে বিদ্রোহ দমন করার নামে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর সামরিক অভিধা ছিল— ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে মুক্তিকামী ...
  • জ্যামিতি: পর্ব ২
    http://bigyan.org.in...
  • আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না...
    আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইট...
  • চড়াই ঠাকুমা
    আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম ...
  • মানবজনম
    পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকামাহর প্রসবকাল আসন্ন, তাই তাকে আর খাদ্যসংগ্রহে যেতে হয়না। গোষ্ঠীবদ্ধ জীব হওয়ার এই একটা বড় সুবিধা, তার ওপর আবার মাহ দলপতির সঙ্গিনী, তাই আগত শিশু এবং শিশুর মায়ের খাদ্যাভাব হয়না। একটা পাথরের ছায়ায় ...
  • বিজেপি আর এস এস : হিন্দুত্বের রাজনীতি হিন্দুত্বের নেটওয়ার্ক
    হিন্দু মহাসভা আর এস এস জনসঙ্ঘ বিজেপি - হিন্দুত্ববাদ ও তার ইতিহাস------------৩ অক্টোবর ২০১৪, বিজয়া দশমীর দিনটাতে একটা বিশেষ ঘটনা ঘটল। সেদিন বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর দূরদর্শনের মতো সরকারী প্রচারমাধ্যমে ‘জাতির উদ্দেশে’ ...
  • তাজপুরের এলিয়েন
    এক ফেসবুক বন্ধু সদ্য তাজপুর গিয়ে এক অদ্ভুতদর্শন প্রাণী দেখেছিল, তারই কথায় এই লেখার অবতারনা।ছোটবেলায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন তো? জানেন কি তার সাথে পঁয়তাল্লিশ কোটি বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। চলুন আগে একটু তাজপুর ঘুরে আসি।একটু এলিট বাঙালী ...
  • গান-ভাষী
    গান-ভাষীঝুমা সমাদ্দারকানের পেছনে এক ঝলক ঠান্ডা ঠান্ডা মিষ্টি গন্ধের হাওয়ার ঝাপটা । হাল্কা …. শুকনো… মিহি ধুলো ওড়ানো । 'লছমনন্ ঝুউলা’... 'লছমনন্ ঝুউলা’... বলে গেল হাওয়াটা , তিন্নির কানে কানে, ফিস ফিস করে । কেমন সুন্দর নাম ! উচ্চারণ করলেই যেন বাজনা বাজে ! ...

দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

ফরিদা

দেশপ্রেম বটিকা হু হু করে বিকোয় – তুষারঝড়ে চাপা পড়ে শক্ত হয়ে যাওয়া জওয়ানদের শরীরের আড়ালে একজনের প্রাণ ধুকপুক করলে সারা দেশ একসঙ্গে প্রার্থনা করে। তখন আর আমাদের মাথায় থাকে না - কেন দুটো পাশাপাশি ঊনিশ-বিশ নিম্নবিত্ত দেশ তাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ খরচা করে ফেলে ঘেন্নার আগুনটা জিইয়ে রাখতে – কেন সেই আগুনে বলি দিতে হয় তরতাজা যুবকদের?

প্রেম টেম বাজে কথা, আসলে এই ঘেন্নাটার বেঁচে থাকা খুব দরকার – তাতে প্রতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ে। শতাংশের হিসেব সমানুপাতে বাড়ে। এই ঘেন্নাটা যতদিন জ্যন্ত থাকে ততদিন আর দেশের মুল্যবৃদ্ধির সূচক কেন নামছে না সেইসব প্রশ্ন কাগজের প্রথম পাতায় আসে না। ভেতরের পাতা পড়ার সময় আছে কার? যাদের সময় থাকে তাদের আর কিছু করার থাকে না বলেই সময় থাকে। তারা যে কী সব বিড়বিড় করে বলে যায় শোনা যায় না, শুনলেও অর্ধেক বোঝা যায় না – কিন্তু এই ঘেন্না টা – এই যে একজন শত্রু আছে ঘাড়ের পাশেই – দেশপ্রেম জাগ্রত ঠাকুর, তার পুজোয় একটু অন্যথা হলেই ঘর থেকে শিশুদের তুলে নিয়ে যাবে – বোঝা সহজ। বোঝানোও সহজ। এটা বোঝালে যাদের সবচেয়ে লাভ তারা এটা খুব ভালো বোঝে।

তাই দেশপ্রেম বটিকা হু হু করে বিকোয় – বিশ্বকাপ ফুটবলে সারা পাড়া মুড়ে দেওয়া হয় ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ইতালির পতাকায় – তাই নিয়ে মারপিট দেখেছি কলকাতায় থাকাকালীন। তাতে দেশপ্রেম অক্ষুণ্ণ থাকে – অন্তত গত বিশ্বকাপ ফুটবলেও থেকেছিল – কিন্তু ব্রাজিলের জায়গায় প্রতিবেশী দেশের নাম উচ্চারণে খড়্গহস্ত আড়াই থেকে অষ্ট আশী দৈনন্দিন ভারতবাসী – কেন? এত বড় দেশ – কে বা কারা কার নামে জয়ধ্বনি দিলে ফোসকা পড়ে কেন? এর উত্তর সহজ – ঐ যে এতে যদি সেই ঘেন্নাটা একটু টাল খেয়ে যায়।

তাই ঘেন্না বাঁচাতে হবে – তার জন্য সার জল দিতে হবে তো। দেওয়া হল। কীভাবে? বলছি।

দেবদেবীর পাঁচালি, ব্রতকথায় বছরে নিয়ম করে এই দেশের মানুষকে শোনানো হয়েছে গত কয়েক শতাব্দী ধরে সেইসব মাহাত্ম্যগুলি। খুব সাধারণ পরিবারের গল্প সেইসব। এক নিম্নবিত্ত মানুষ সংসারের নানান সমস্যায় জেরবার – শেষ অবধি কারুর কাছে শুনে সেই দেবতা বা দেবীর পুজো করার ফলে সেই সব সমস্যা মুহূর্তে উধাও তো বটেই – তার সঙ্গে প্রচুর বোনাস টোনাস জুটে একশা। এর পরের চ্যাপ্টারে আর কেউ একজন সেই দেবতা বা দেবীর পুজো করতে গিয়ে একটু ভুল করে ফেলে সমস্যা চতুর্গুণ বাড়িয়ে ফেলবেন – পরে ভুল টুল শুধরে তবে স্বস্তি – কিন্তু সে আর অত বড়োলোক হয় কিনা গল্প সেটা বলে না।

অন্য ধর্মেও এইসব চলে খুব – কত যে টিভি চ্যানেল এই করে খায় দায় তেল মাখে।

এতে ভয়টা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওই যে বিচ্যুতি হলেই সব গেল – এই ভয়। দেশপ্রেম বটিকা তো আর আকাশ থেকে পড়েনি, বাকি আর সবকিছুর মতো এও যেন বেদ এ ছিল। ধর্মবিশ্বাসের বটিকা বলে যাকে আমরা চিনতাম, এটার ভেতরে সেই ধর্মবিশ্বাসেরই লজেন্স – বাইরের মোড়কটা পরিবর্তিত হয়েছে প্যাকেজিং এর অঙ্গ হিসেবে। এতে এম এ, বি এ, এম বি এ, আই টি ওলা, চাকুরিজীবি যারা সকালে পাউরুটি বা পরোটা চিবোতে চিবোতে কাগজের প্রথম পাতাটাই পড়ার সময় পায় – বুঝতেও পারে সহজে। ইতিহাস বইতে পড়া দেশপ্রেমের সিলেবাসের সঙ্গে মিলে যায় সহজে যেন চায়ের মধ্যে মাপমতো চিনি।

ওষুধ এসে গেছে বাজারে – দেশপ্রেম বটিকা চটপট বিকোচ্ছে এই বাজারে – শুধু একটাই আশঙ্কা থেকে যায়। ওই ব্রতকথাগুলির দ্বিতীয় চ্যাপ্টারে যেটা ছিল – সেই যে- যে বা যারা এতটুকু বিচ্যুত হয়েছিল। সেইজন্যই আশঙ্কা। এই বটিকার মার্কেটিঙ কিন্তু আরো জমে যাবে যদি একটা এমন কেস পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক তো মজুত – তার ওপর ঋতুপরিবর্তনের মরশুম – জ্বর জ্বালা হওয়াই দস্তুর – এই সময়ে বহিঃশত্রুর নাম করে বলতে নেই কিছু একটা যদি লেগে যায়......

ভয় করে। কে জানে কোথায় আর কত বলি বাকি আছে – দেশপ্রেমের নামে।



Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

ফরিদা,

আপনার লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো । আপনি হিন্দু বা মুসলিম জানিনা । এও জানিনা - আপনি দেশপ্রেমী বা দেশদ্রোহী !- কিন্তু এ জানি - এই দেশপ্রেম বটিকা - এমন এক নেশার জিনিশ যে - একবার গেলালেই হল ! সেখানে ধর্ম - বুজরুকী সব কিছু মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে !

আমি তো এই জিনিসই দেখছি ১৯৬২ সাল থেকে । তখনো উঠেছিল -দেশপ্রেমের জোয়ার । আর তার ফলেই - সেই সময়কার সব শিল্পী-সাহিত্যিকদের দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল - দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ! - আর সেই সময়েই দেশপ্রেমীদের যত্র তত্র যার তার ওপর অত্যাচার করার অধিকার জন্মিয়ে গেছিল ! সে এশিয়ার মুক্তি সূর্যের সৈন্যরাই হোক - গেরুয়া-সন্তানরাই হোক !

সেই অধিকার কি চট করে হাতছাড়া করা যায় !

বিদেশে যখন থাকেন - তখন - ওআগ দ্য ট্যাগ - কথাটার মানে নিশ্চয় জানেন ! - দেশের সমস্যা-জর্জরিত মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর একান্ত চেস্টা ! কখনো ধর্মের নামে ! - জার্মানিতেও তো এই পদ্ধতি চালানো হয়েছিল ! অন্তিমে কিন্তু মানুষের সদিচ্ছাই জিতেছিল ! আশাই তো আমাদের সম্বল !

মনোজ
Avatar: i

Re: দেশপ্রেম বটিকা অথবা নয়া অ্যান্টিবায়োটিক

বহুদিন পরে ফরিদা এলেন।
লেখা আর একটু বড় হোক না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন