সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় RSS feed

আর কিছুদিন পরেই টিনকাল গিয়ে যৌবনকাল আসবে। :-)

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...
  • A room for Two
    Courtesy: American Beauty It was a room for two. No one else.They walked around the house with half-closed eyes of indolence and jolted upon each other. He recoiled in insecurity and then the skin of the woman, soft as a red rose, let out a perfume that ...
  • মিতাকে কেউ মারেনি
    ২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি- ২
    আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে বেঁধে রেখেছ তুমিমায়া নামক মোহিনী বিষে...অনেক দিন পরে আবার দেখা। সেই পরিচিত মুখের ফ্রেস্কো। তখন কলেজ স্ট্রিট মোড়ে সন্ধ্যে নামছে। আমি ছিলাম রাস্তার এপারে। সে ওপারে মোহিনিমোহনের সামনে। জিন্স টিশার্টের ওপর আবার নীল হাফ জ্যাকেট। দেখেই ...
  • লেখক, বই ও বইয়ের বিপণন
    কিছুদিন আগে বইয়ের বিপণন পন্থা ও নতুন লেখকদের নিয়ে একটা পোস্ট করেছিলাম। তারপর ফেসবুকে জনৈক ভদ্রলোকের একই বিষয় নিয়ে প্রায় ভাইরাল হওয়া একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। এই নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে বেশ কিছু মতামত পেয়েছি এবং কয়েকজন মেম্বার বেক্তিগত আক্রমণ করে আমায় মিন ...
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি আদিবাসী গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি
    The long narrow ramblings completely bewitch me....The silently chaotic past casts the spell... অতীত থমকে আছে;দেওয়ালে জমে আছে পলেস্তারার মত;অথবা জানলার শার্শিতে নিজের ছায়া রেখে গিয়েছে।এক পা দু পা এগিয়ে যাওয়া আসলে অতীত পর্যটন, সমস্ত জায়গার বর্তমান মলাট এক ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

এটা মূলত শাক্যর http://www.guruchandali.com/blog/2015/11/02/1446457988574.html এই লেখাটির একটি প্রত্যুত্তর। ওখানে লিখলেও হত, কিন্তু একটা আলাদা লেখা হিসেবেই থাক। লেখাটির শিরোনাম এইভাবে দেওয়া যেত, 'কেন মুসলিম মৌলবাদকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত', কিন্তু সেটা ঠিক পছন্দ হলনা। মুসলিম মৌলবাদকে হঠাৎ আলাদা করে বেশি গুরুত্ব দিতে যাব কেন? তার যতটুকু পাওনা গুরুত্ব, সেটাই সে পাক। বেশিও না কমও না। তাই শিরোনামটা অন্যরকমই থাক। যদিও, আগেই বলেছি, এটা শাক্যর লেখারই উত্তর।

শাক্যর লেখা, বস্তুত এর অনেকদিন আগে পড়া আজিজুল হকের একটা লেখার কথা মনে করিয়ে দেয়। হুবহু মনে নেই, হাতের কাছে তো নেইই। এইটুকু আবছা মনে আছে, সেখানে আজিজুল হক বলেছিলেন, ইসলামের লড়াইয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা একটা বড়ো অংশ। সম্ভবত তার পাশে দাঁড়াতেও বলেছিলেন ( না বলে থাকলে আজিজুলের কাছে অগ্রিম মাপ)। পাশে দাঁড়াতে বলুন বা না বলুন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার দৃষ্টিকোণটি সেখানে ছিল। আজিজুলের নামটি এখানে উল্লেখযোগ্য, কারণ আজিজুল সেকেন্ড সিসিই করুন আর সিপিএম, একজন বামপন্থী বলেই পরিচিত, এবং সে পরিচয় নিয়ে খুব তর্ক বোধহয় নেই। আজ আজিজুলের অবস্থান কী জানিনা, কিন্তু শাক্যর লেখা, ওই পুরাতন লেখাটির লিগ্যাসিই বহন করছে।

এই ধরণের আর্গুমেন্টের, মূলত দুটি অংশ।
১। ইসলামী মৌলবাদ আসলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার অংশ। এটা খুব গোদা বামপন্থী কয়েনেজ। একটু পোমো মোড়ক দিলে এইভাবে বলা যায়, ইসলামী ভাষ্য পশ্চিমী সভ্যতার বয়ানের প্রতিস্পর্ধী একটি অস্তিত্ব। আধুনিকতার একপেশে ভাষ্যের বিরুদ্ধে সে একটি জেহাদ, ইত্যাদি।

২। ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখলে, ইসলামী মৌলবাদ একটি প্রতিক্রিয়া। ভারত রাষ্ট্র হিসেবে এই উপমাহাদেশে কেন্দ্র, অতএব, হিন্দু মৌলবাদও আদপে কেন্দ্রীয় অবস্থানে, এবং অন্যান্য মৌলবাদগুলি তার স্যাটেলাইট। হিন্দুত্ব কারণ, এবং ইসলামী মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত তার ফলাফল।

এই দুটো আর্গুমেন্টেরই, বলাবাহুল্য, ফাঁক ফোকর প্রচুর। প্রথমত, খুব গোদা ভাষায়, ইসলামী মৌলবাদকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বলা যায় কিনাই সন্দেহ। পশ্চিমী ভাষ্যের প্রতিস্পর্ধী বলা তো দূরস্থান। একমাত্র ইরান এবং প্যালেস্তাইনে এই মডেল খানিক চললেও চলতে পারে। ইরান, যতই ফিল্ম মেকারদের জেলে পুরুক, আমেরিকা এবং পশ্চিমকে তারা শয়তান মনে করে, গোড়া থেকেই। এবং খোমেইনির উত্থান পশ্চিমকে, এবং একাধারে বামপন্থীদের কচুকাটা করার অঙ্গীকার নিয়ে। প্যালেস্তাইনের গপ্পোটাও সবারই জানা। সেখানে জেহাদ আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। কিন্তু এইটুকু বাদ দিলে, বাকি সর্বত্র ক্রুর থেকে ক্রুরতর মৌলবাদে জন্ম হয়েছে পশ্চিমের মদতে এবং স্থানীয় কন্ঠকে দমিয়ে দেবার উদ্দেশ্যে। এদিকে ইন্দোনেশিয়া। মাঝখানে তালিবান, ওদিকে সৌদি আরব, প্রতিটি মৌলবাদী শক্তিরই উত্থান মার্কিনী এবং আন্তর্জাতিক বহুজাতিকগুলির মদতে এবং তাদের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। ইরাককে টুকরো করার কথা আর বললামই না। প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এই কান্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সেদিন। তালিবান, আইসিস এদের উত্থানের জন্য এখনও কেউ চাননি, কিন্তু ও অর চাইবার কী আছে, সবই ওপেন সিক্রেট। কোথাও সোভিয়েতকে ঠেকানোর জন্য, কোথাও বেখটেল থেকে বোয়িং পর্যন্ত নানা বহুজাতিকের স্বার্থরক্ষা করার জন্য এই শক্তিগুলির উত্থান। এরা কেউ পশ্চিম-বিরোধী নয়। বরং সৌদির মতো শক্তিগুলি এখনও বন্ধু। তেলের স্বার্থে মৌলবাদ পশ্চিমের সন্তান। কেউ স্বীকৃত, কেউ জারজ।

ফলে মৌলবাদের পশ্চিম বিরোধিতা, আদতে একটি গল্পকথা। কিছু র‌্যাডিকালদের স্বকপোলকল্পনা। এই প্রতিটি মৌলবাদী শক্তির উত্থানেরই একটি নিজস্ব গতিপথ আছে। এর শুরু পশ্চিমী মদতে। এর শুরু গণতন্ত্রের কন্ঠরোধে। এবং তার সহজলভ্য হাতিয়ার ধর্ম ছাড়া আর কীইবা হতে পারে?

এ তো গেল প্রথমাংশ। ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী মৌলবাদও একেবারেই এই অক্ষের বাইরে নয়। বরং এই একই কক্ষপথের অংশ। তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানী জঙ্গীবাদ অনেক বেশি জড়িয়ে, যতটা সে জড়িয়ে আছে কাশ্মীরের সঙ্গে। একই ভাবে বাংলাদেশের মৌলবাদ বাবরির চেয়ে অনেক বেশি জড়িয়ে সেদেশে জামাতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং পাকপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে। এই কক্ষপথটিকে অস্বীকার করার মানে হল, বস্তুত একটি কল্পলোকের হায়ারার্কি নির্মাণ, যেখানে ভারত বসে আছে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে, এবং বাকি সবাই তার চারদিকে আবর্তন করছে। এরকম অদ্ভুত একটি প্রস্তাবনা বহুকাল আগেই কোপার্নিকাস বাতিল করেছেন, নতুন করে বাতিল করার কিছু নেই।

বলাবাহুল্য ভারতবর্ষের হিন্দুবাদী মৌলবাদী কাজকর্মেরও একটি নিজস্ব কক্ষপথ আছে। সেও তার নির্দিষ্ট ঘরানায় বেড়ে উঠেছে, এবং উঠছে। এ নিয়ে শাক্য ১০০% ঠিক, যে হিন্দুত্বের মৌলবাদ ইসলামী মৌলবাদের কেয়ার করেন। ভারতের মাটিতে ইসলামী মৌলবাদ থাক বা না থাক, হিন্দু মৌলবাদই আগ্রাসী শক্তি হিসেবে সামনে আসছে এবং আসবে। ইসলামী মৌলবাদের সেই জায়গা নেবার ক্ষমতা নেই। কিন্তু সমস্যা হল, মৌলবাদ, এই মুহূর্তে ঠিক আর রাজনৈতিক সীমানা মেনে চলছেনা। মৌলবাদেরও গ্লোবালাইজেশন হয়েছে, নিঃসন্দেহে। ভারতের মৌলবাদকে দেখা প্রয়োজন সামগ্রিক উপমহাদেশের প্রেক্ষিতে। এবং উপমহাদেশকে দেখা প্রয়োজন বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। সেটা দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের কেন্দ্র আলো করে হিন্দুত্বের মৌলবাদ বসে নেই। বরং গ্লোবাল দুনিয়ায় একই বৃন্তে দুটি কুসুম হয়ে এই দুটি মৌলবাদ একে অপরকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। ভারতে দাঙ্গা হলে মন্দির পুড়ছে পাকিস্তান-বাংলাদেশে। আইসিস কারো মুন্ডু কাটলে জবাবে দিল্লির কোনো হতভাগ্যের প্রাণ যাচ্ছে গরু খাবার অপরাধে। এই গ্লোবল দুনিয়ায় সবাই হাত-ধরাধরি করেই বাঁচছে, মৌলবাদও। দেশের বিচার করে আর "এই দেশে এইটি গুরুত্বপূর্ণ, ওই দেশে ওইটি" বলা যায়না। যেমন বলা যায়না সচল একটি বিদেশী সাইট, যেমন বলা যায়না, ফেসবুক একটি মার্কিন জমিদারি। আমরা সবাই এখন পাশাপাশি বাঁচছি। মরছেন আমাদের বন্ধুরাই।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 19 -- 38
Avatar: h

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

আঅর্রো কিসু বক্তভ্য ক্ষিলো কিন্তি এই বালের ফোনের কি প্যাদ অদ্রে হেপবার্নের সরু আগুলের জৈন্যো তৌরী
Avatar: :)

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

" আঅর্রো কিসু বক্তভ্য ক্ষিলো কিন্তি এই বালের ফোনের কি প্যাদ অদ্রে হেপবার্নের সরু আগুলের জৈন্যো তৌরী "

:-) এটা ভাটেশ এ তোলা হোক।
Avatar: s

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

'ধর্মের ল্যাটারাল স্প্রেড বাড়েনি"।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া? আংকোর ভাট?
----
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া যেমন বর্মা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া (বালি), লাওস, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড - এসব জায়গায় হিন্দু গোষ্ঠী ও সংস্কৃতি মূলত বানিজ্যের জন্য গড়ে উঠেছিল। ওখানকার খেমার রাজত্বে হিন্দু ধর্মকে মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীকালে ওখানে বৌদ্ধধর্মের প্রসার বাড়ে। ব্রিটিশ শাসনকালে প্রচুর হিন্দু শ্রমিককে ঐ সব দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এখনো ঐ সব দেশে মুসলমান ও বৌদ্ধরাই সংখ্যাধিক।

সম্রাট অশোক। অতীশ দীপংকর। বৌদ্ধধর্মের বিস্তার।
তবে ক্রুসেড বা জিহাদের দরকার পড়েনি।
--------
বৌদ্ধধর্মের বিস্তারে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে এবং হিন্দুদেরই মারা হয়েছে।
এখানে একটা কথা বলা দরকার। প্রথমত হিন্দু ধর্ম কোন স্ট্রাকচার্ড ধর্ম না। বিভিন্ন পৌত্তলিকা পূজায় বিশ্বাসী একটি প্যাগান সংস্কৃতি। এরকম সংস্কৃতি ইউরোপেও ছিল, মিশরেও ছিল। একদম নিশ্চিত নই, তবে মনে হয় এটা আর্য সভ্যতার সংস্কৃতি এবং আর্যরা যেখানেই গেছে এই প্যাগান ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করেছে। হিন্দু ধর্ম থেকে যে যে ধর্ম উদ্ভূত হয়েছে যেমন বৌদ্ধ, জৈন, শিখ ইত্যাদি এরা সকলেই পৌত্তলিকার বিরোধী, স্ট্রকচার্ড ধর্ম প্যাগান নয়, একজন নির্দিষ্ট ধর্মপ্রচারক আছেন, নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ আছে, নিয়মকানুন, রীতিনীতি সব নির্দিষ্ট ও সকলের জন্য প্রযোয্য। হিন্দু ধর্মে এই বেসিক ব্যাপারটাই নেই। আর আছে ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জাতিভেদ। এই ব্যাপারতা বোধহয় সব প্যাগান ধর্মেই আছে। রোম, মিশর সব জায়গাতেই রাজা, পুরোহিত, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক এই ভেদ দেখা যায়।
সুতরাং হিন্দু ধর্মের আইডেন্টিটিই সেরকম ভাবে গড়ে ওঠেনি, জতিভেদের কারনে বিভিন্ন গোষ্ঠী, গোষ্ঠীস্তরেই থেকে গেছে, অভিন্ন হিন্দু ধর্মের কনসেপ্ট তৈরি হয়নি। আর যেখানে সারা পৃথিবীতে প্যগান সভ্যতা সব ধংস হয়ে গেছে, হয় খ্রীষ্ঠান ধর্মের আক্রমনে নয়ত মুসলমান ধর্মের আক্রমণে, তখন এই ভারতে এই একটি প্যগান সভ্যতা টিঁকে আছে।
তাই আমার মনে হয় রাজনৈতিক তর্জা বাদে সমগ্র ভারতবর্ষের সব হিন্দু একসংগে 'রিলিজিয়াস ইনটলারেন্স' দেখাবে এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
Avatar: ranjan roy

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

১) এলসিএম এর কথা যা বুঝেছিঃ
পলিটিক্যাল ইসলাম শব্দবন্ধ মার্কিন ইডিওলগদের তৈরি, হয়ত সেই ক্ল্যাশেস অফ সিভিলাইজেশন থিওরি আর প্যান ইসলামের স্বপ্নের যুগলবন্দিতে। খুব ভুল তো মনে হচ্ছে না। সারা দুনিয়া জুড়ে মার্কিনিদের নিজস্ব এজেন্ডার ফলে ক্রমাগত বিভিন্ন ইসলামিক শক্তিগুলিকে মদদ দিয়ে (পড়োশি পাকিস্তান, ইরাকের বিরুদ্ধে ইরান, জর্ডান ও সৌদি আরব ইত্যাদি বা ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তো-নাসুশিয়েন গোষ্ঠী) এখন সারা দুনিয়ায় গণতন্ত্রের জন্যে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা কেমন "সাতশো চুহা খা কর বিল্লি হজ করনে চলি" র মত মনে হয়।
২) কিন্তু মার্কসবাদী ডিসকোর্সের সমস্যা অন্য।
আজ বিশ্বজুড়ে মার্কসবাদ সাময়িক হলেও পিছু হটছে। ষাটের দশকের শেষে যখন এশিয়ায় আমেরিকা ঠ্যাঙানি খাচ্ছিল ও ইউরোপ আম্রিকায় বামভাবাপন্ন ছাত্র আন্দোলনের বান ডেকেছিল ( কোহন-ব্যান্ডিট, রুডি ডুশ্চে ইত্যাদি), তখন মনে হয়েছিল স্বর্গের নিয়ন্তা ঈশ্বর মার্কসবাদী।
পেরেস্ত্রৈকা, পূর্ব ইউরোপের পতন, ভিয়েতনাম কাম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ, চিনে নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ, সদ্য মুক্ত আফ্রিকান দেশগুলোর অবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে তেলের রাজনীতিতে ভ্যাবাচাকা মার্ক্সিস্টরা বিশ্ববিপ্লবের ভরকেন্দ্র কোথায় হাতড়ে বেড়াচ্ছেন।
এই আন্তর-হতাশার থেকে প্যান ইসলামিজমের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ডিসকোর্স খুঁজে পাওয়াই শুধু নয়, ইসলামিক জীবনযাপনের মধ্যে সাম্যবাদী ধ্যানধার্রণা খুঁজে পাওয়া!!!!
( আমাদের প্রতিবাদী কবি তাতিনের পোস্ট ও কবিতা খেয়াল করুন)।
৩) ভয়ে ভয়ে আর একটা কথা। ঈশানের প্রবন্ধ আবার পড়লাম। সব যেন খাপে খাপে ঠিক ঠাক! ঠিক যেন এমনই ভাবছিলাম। লেখাটা আমাদের অধিকাংশের মাইন্ডসেটের সঙ্গে খাপে খাপ, পঞ্চার বাপ!
তাই খুব লাইক দিচ্ছি।
এই জায়গাটায় অস্বস্তি লাগছে। এটা ঈশানের অন্য লেখার মত আমাকে ডিস্টার্ব করছেনা, ভাবতে বাধ্য করছে না, যেন নুন একটু কম। বড্ড চেনা চেনা লাগছে, তাই অস্বস্তি।

Avatar: ranjan roy

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

"তাই আমার মনে হয় রাজনৈতিক তর্জা বাদে সমগ্র ভারতবর্ষের সব হিন্দু একসংগে 'রিলিজিয়াস ইনটলারেন্স' দেখাবে এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।"
--- s এর এই বক্তব্যে এখনও আস্থা হারাই নি। অধুনা ঘটে যাওয় কিছু ঘটনা (পক্ষে/বিপক্ষে) এই আস্থাকেই দৃঢ় করেছে।
Avatar: lcm

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

রঞ্জনদা,
এর অন্য দিক আছে। এক্দল পন্ডিত বলছেন পলিটিক্যাল ইসলাম - কোনো তৈরী করা শব্দবন্ধ নয়, কোনো ইম্পোর্টেড/এক্সপোর্টেড আইডিয়াও নয়। ইহা বাস্তব।

আরব দেশগুলোতে সুলতানিয়াত আর চলবে না, কিছু দেশে একটা গণতান্ত্রিক প্রসেসের চেষ্টা শুরু হচ্ছিল বহুদিন থেকেই। সেটা তো ভালো খবর - তাই তো? কিন্তু অনেকের মতে না, সব ক্ষেত্রে নয়।

১৯৮৫-তে সুদানের সিভিল সোসাইটি, মূলত কিছু প্রফেশনাল আর লেবার ইউনিয়ন মিলে জোটবেঁধে স্বৈরাচারী মিলিটারি শাসন ফেলে দিল। ১৯৮৬-তে ইলেক্শন হল, কিন্তু মাল্টি পার্টি সিস্টেমে এত বেশি পার্টি হওয়ায় এবং পরস্পরের মধ্যে খুচরো ঝামেলা বাড়তে বাড়তে গোষ্ঠী দ্বন্দ বিশ্রী জায়গায় চলে গেল। সেই থেকে ইসলামিক-মিলিটারি একটা সরকার টাইপের ব্যাপার চলছে। সুদানে ম্যান্ডেলা ছিল না। অনেকেই ম্যান্ডেলাকে আফ্রিকার মহাদেশের মুক্তির দূত বলে মনে করেন না, তাদের মতে আরো বেশি ম্যান্ডেলার দরকার ছিল আরব-আফ্রিকাতে।

আলজিরিয়া - সেখানেও আশির দশকে ডেমোক্রেটিক প্রসেস শুরু হল, ভোটও হল। কিন্তু ভোটে জিততে থাকল ইসলামিক পলিটিক্যাল পার্টি।
কিন্তু তাতে সমস্যাটা কিসের? একদল বলল ভাল তো, হয়ত পলিটিক্যাল ইসলাম দিয়েই শুরু হবে মডারেট ইসলাম - পলিটিক্স উইল ডাইলিউট রিলিজিয়াস পাওয়ার। আর একদল বলল, এটা বিপ্জ্জনক ট্রেন্ড, ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে ক্ষমতার দুই শীর্ষবিন্দু থাকে না, পলিটিক্যাল ইসলাম ইভেনচুয়ালি উইল বি রিলিজিয়াস পাওয়ার।

এই যুক্তিতে কোথাও রাজতন্ত্র, কোথাও মিলিটারিতন্ত্র কে মদত দেওয়া হল, এখনও হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে যে পলিটিক্যাল ইসলামের থেকে মোনার্কি বা মিলিটারি রুল নাকি বেটার। যেমন অনেকে এখন বলেন সাদ্দামের মিলিটারি রুলের আন্ডারে ইরাক বেটার ছিল।

'পলিটিক্যাল ইসলাম' এর সঙ্গে আর একটি শব্দবন্ধ আসে, 'পেট্রো-ইসলাম'। প্রথমটি কিভাবে এসেছে তা নিয়ে নানা মত থাকলেও, দ্বিতীয়টি যে পশ্চিমের প্রভাবে সে নিয়ে অনেকের কোনো সন্দেহ নেই।

Avatar: 0

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

"Religion - a medieval form of unreason" - রুশদি
Avatar: utpal mitra

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

ইসলাম এর সঙ্গে রাষ্ট্র জুড়ে ছিল।ইসলাম এর প্রচার শুধু ধর্মপ্রচার নয় সাম্রাজ্য বিস্তার ও বটে।এটাকে কি ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ বলব না?
Avatar: h

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

হ্যাঁ বলা যেতেই পারে। তাহলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বা পর্তুগীজ সাম্রাজ্যবাদ কেও খ্রীস্টীয় সাম্রাজ্যবাদ বলতে হয়, নর্মালি সেটা বলা হয় না। ইতিহাসের যে যুগবিভাগ আর সময়ের নামকরণ আছে তার ও একটা রাজনীতি রয়েছে। নলেজ এর যে ক্যাটেগোরি সমূহ আছে তার একটা রাজনীতি রয়েছে।
Avatar: h

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

বিষয় হল এগুলো নিয়ে গাঁটামো করে লাভ নেই। এতরকমের ইসলামিক রুলার ফ্যামিলি এখানে এশছে, সবার ধর্ম নিয়ে এনগেজমেন্ট একরকম না। আর শুধু রাজবংশ রাই ধর্ম প্রচারে নিজেরা ইনভল্ভ থেকেছে এমন না। সুলতানের পেট্রোনেজ ছাড়াও নানা ডিসপজিশন এর লোকেরা নানা ভাবে ইসলামের প্রচার করেছে। ইটন এর বই, মহম্মদ হাবিব এর লেখা দেখতে পারেন। প্রফেসনাল হিস্টরিয়ান দের পড়তে ইচ্ছে না করলে, শওকত আলি র অসামান্য উপন্যাস টি দেখতে পারেন। ১৯৮৩ তে বাংলাদেশে প্রকাশিত। নামটা প্রথম প্রত্যুষ হতে পারে নাও হতে পারে ভুলে গেছি।
Avatar: দ

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

উহ হনু!
ও বইটর নাম প্রদোষে প্রাকৃতজন।

Avatar: aranya

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

'সব নষ্টদের অধিকারে যাচ্ছে' - এমন একটা অনুভূতি হয় আজকাল
Avatar: robu

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

এই বইটা পড়তে চাই। প্রদোষে প্রাকৃতজন। কোথায় পাই?

Avatar: kc

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

পাঠিয়ে দেব।
Avatar: sosen

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

আমাকেও।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

Avatar: pi

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

প্রদোষে প্রাকৃতজন নিয়ে আলোচনা ও তার সমালোচনা ঃ
http://www.guruchandali.com/default/2013/03/28/1364437766160.html
Avatar: robu

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

এটা আগেই পড়েছি ঃ-) তখন থেকেই তো পড়তে চেয়েছিলাম ঃ-)
Avatar: Arpan

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

Avatar: aranya

Re: মৌলবাদকে গুরুত্ব দিন

'হয়তো সত্যিই আশা ছেড়ে দেওয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি আমরা। হয়তো সত্যিই মুক্তচিন্তার জন্য সম্ভ্রম তো দূর, ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও আর নেই কোথাও। হয়তো সত্যিই সর্বার্থে স্বাধীন মানবজাতি এক অলীক ধারণামাত্র। কিন্তু প্রতিরোধ আর স্বপ্নও তো মানুষেরই ইতিহাসে আছে। দেরি যথেষ্টই হয়ে গিয়েছে। তবুও, যাদের প্রাণ চলে যায়নি এখনও, তারা যদি উঠে না দাঁড়াই আজ, এই বেঁচে থাকাও মৃত্যুরই শামিল তবে।'

- শ্রীজাত

http://www.anandabazar.com/editorial/%E0%A6%9C-%E0%A6%87%E0%A7%9F-%E0%
A6%B0-%E0%A6%96-%E0%A6%B9%E0%A6%9A-%E0%A6%9B-%E0%A6%AD%E0%A7%9F-%E0%A6
%B0-%E0%A6%AC-%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%A3-1.233613


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 19 -- 38


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন