রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

মারণী ফন্দি?

রৌহিন

মৃত্যুদন্ড থাকা উচিৎ কি উচিৎ নয় এ নিয়ে বিভিন্ন থ্রেডে আলোচনা চলছে। কিছু ধর্মান্ধ লোক স্বভাবতঃই কোন যুক্তি তর্কের ধার ধারেন না শুধু ভাবাবেগের বেগ আর গলার (প্রয়োজন হলে কবজি বা অস্ত্রেরও) জোরে সব কিছু প্রমাণ হয়ে গেছে মার্কা স্টেটমেন্ট ছাড়েন। তাদের কিছু বোঝাতে আর বিরক্ত লাগছে। কিন্তু সবাই তা নন। কিছু মানুষ যুক্তি দিয়েছেন – এবং তাদের সঙ্গে এই আলোচনাটা হওয়া জরুরী মনে করি। আলোচনায় ঢোকার আগে আমার বায়াসটুকু জানিয়ে রাখা জরুরী – আমি সামগ্রিকভাবে মৃত্যুদন্ডের বিরোধী – সে ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী হোক বা ইয়াকুব মেমন, নরেন মোদী হোক বা দারা সিং, আমিত শাহ বা মায়া কোদনানি। আবেগ যা-ই বলুক, সুস্থ মস্তিষ্কে কারো মৃত্যুদন্ড চাই না।
এখন আলোচনার সময়ে মৃত্যুদন্ডের সপক্ষে যে যুক্তিগুলি মূলতঃ উঠে এসেছে –
1. মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় বিরলতম অপরাধের ক্ষেত্রে, সেরকম একজন অপরাধীর শুধরে যাবার সম্ভাবনা আদৌ আছে কি? যদি না থাকে তবে রাষ্ট্রের পয়সায় (পড়ুন আমাদের ট্যাক্সের পয়সায়) দিনের পর দিন এরকম একটা অপরাধীকে কেন পোষা হবে?
2. মৃত্যুদন্ড না দিয়ে জেলে পুষলে (সশ্রম হলেও) তাকে সরকারী ভাবে জীবন জীবিকা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে – এতে তো একজন নিরপরাধ ব্যক্তি যে জীবিকার সুযোগ পায়নি সে ওই অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে কারণ তাহলে তার ভবিষ্যতের ব্যবস্থা সরকারই করে দেবেন।
3. মৃত্যুদন্ড না দিলে বিরলতম অপরাধের ক্ষেত্রে বিকল্প শাস্তিটা ঠিক কি হবে?
4. সঙ্ঘটিত অপরাধের যিনি বা যারা শিকার তিনি বা তাদের নিকটজনের আবেগের কোন মূল্য নেই? তাদের জায়গায় থাকলে, অর্থাৎ আমার কোন নিকটজন মারা গেলে (মুসলমানদের হাতে কথাটা উল্লেখ করলাম না – কেউ চাইলে পড়তেই পারেন) আমি এভাবে মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করতে পারতাম তো?
এ ছাড়া আরো কিছু খুচরো যুক্তি আছে তবে তাদের উত্তর এর মধ্যেই বলা হয়ে যাবে বলে মনে হয়। এছাড়া আর কোন আর্গুমেন্ট আমি মিস করে গিয়ে থাকলে সেটা পরবর্তী আলোচনায় উঠে আসতেই পারে। আপাততঃ ওই ওপরের প্রশ্নগুলোর জবাব দেবার চেষ্টা করি।
1. রাষ্ট্রের পয়সা, আমাদের ট্যাক্সের পয়সা (অতএব কষ্টার্জিত) যখন, তখন ভাবতে তো হবেই। তা ভাবা শুরু করার আগে কিছু তথ্য নেওয়া যাক?
ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি , দিল্লি ও ন্যাশনাল লিগাল এইড সার্ভিসেস অথরিটি সন ২০০০ থেকে ২০১৫ অবধি এই ১৫ বছরে ভারতে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এমন কেসগুলো নিয়ে তথ্য সংকলন করেছে। তার কিছু আলোকপাতঃ
 মোট ডেথ সেন্টেন্স = ১৬০০
ঝোলানো হয়েছে= ৪ জনকে; ধনঞ্জয়চ্যাটার্জি, আফজল গুরু ও আজমল কাসভ এবং ইয়াকুব মেমন।
 নিম্ন আদালত মৃত্যুদন্ড দিলেও সর্বোচ্চ আদালত কত কেসে প্রাণদন্ড বহাল রেখেছে?= ৫%।
 ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্য্যন্ত প্রাণদন্ডের ঘোষিত সাজা = ৩৮৫ জন। তারমধ্যে গরীব, অনুন্নত জাত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু অনুপাত=৭৫%।
 আতংকবাদী অভিযোগে প্রাণদন্ডের শাস্তিপ্রাপ্ত লোকের মধ্যে দলিত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অনুপাত= ৯৪%।
 গত দু'বছরে প্রাণদন্ডের শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম বার কোন অপরাধ করেছে= ৯০%। বাকি ১০% এর মধ্যে অধিকাংশই আগে কোন পেটি অফেন্সে শাস্তি পেয়েছে।
যাই হোক তা এই তথ্যের ভীত্তিতে (তথ্যসূত্র – রঞ্জন রায় – টই এবং সর্বজ্ঞ উইকিপিডিয়া এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই রিপোর্টটা - http://timesofindia.indiatimes.com/india/1455-death-penalties-awarded-
in-India-since-2001-Report/articleshow/18511664.cms
এবং আরো কিছু গুগল করা লিঙ্ক – খুঁজে নিন গে – কি ওয়ার্ড যেটা ব্যবহার করেছি সেটা হল Statistics of Death Penalty and Life Sentence in India) বলা যেতে পারে যে ২০০০ থেকে ২০১৫ অবধি মোট ১৬০০ – ৪ = ১৫৯৬ জনের পিছনে আমাদের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের পয়সা ঢালা হয়েছে। কত টাকা? আমরা থাকা খাওয়া জেল-কোর্ট যাতায়াত অন্যান্য খরচ ইত্যাদি সব মিলিয়ে একজন মৃত্যুদন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত আসামীর দৈনিক খরচ কি ৫০০/- টাকা ধরব? খুব কম পড়বে না আশা করি। (আরে মদনদার তো ডেথ সেন্টেন্স হয়নি আফটার অল) তাহলে হিসাবটা কি দাঁড়াল? বছরে 1596 x 500 x 365 = 291270000 অর্থাৎ কম বেশী বছরে ৩০ কোটি টাকা। এবার একটু অন্য দিকে তাকাই?
 আমার আপনার ট্যাক্সের পয়সায় Commonwealth Games 2010 – সুরেশ কালমাদি পকেটে পুরলেন 70000 কোটি
 আমার আপনার রক্ত জল করা পয়সায় সারদা ও অন্যান্য – কারা কারা যেন পকেটে পুরলেন 30000 কোটি (তথ্য অসম্পূর্ণ) – শোনা যায় উত্তরপ্রদেশে নাকি মুকুলবাবুর প্রাসাদোপম বাড়ি ও সম্পত্তি, সল্ট লেকে দিদির বেনামী – নিন্দুকেরা অবশ্য অনেক মিথ্যে কথা বলে
 এন টি সি কেলেঙ্কারী (শঙ্কর সিং বাঘেলা) – 709 কোটি
 আমার আপনার কষ্টের টাকায় টিকিট কেটে দেখা আই পি এল থেকে ললিত মোদী বসুন্ধরা রাজে মিলে নিয়ে নিলেন – 38000 কোটি (সারদার মতই এখানেও তথ্য অসম্পূর্ণ)। বেটিং কেলেঙ্কারি, ইন্ডিয়া সিমেন্ট কেলেঙ্কারী এসবের আলাদা হিসাব। শ্রীনি বাবু শোনা যায় ভিক্ষে দিতে হাজার টাকার নোট ব্যভার করেন।
না আর থাক। লিস্টি দিতে বসলে আসল কথাটা আমিই ভুলে যাব। আমার পয়েন্টটা ছিল খরচের অর্থটা নেহাতই অকিঞ্চিতকর (আমাদের সংসদে প্রতিদিন 150000 টাকা ক্যান্টিনে ভর্তুকি দেওয়া হয় – বছরে সাড়ে পাঁচ কোটি)। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সামান্য অর্থই বা খরচ করব কেন? করব, কারণ এই সন্ত্রাস হোক বা অন্য অপরাধ, কেউ স্বয়ম্ভূ নয় – আকাশ থেকে টপকে পড়া নয়, এবং পরাবিজ্ঞান যেভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করুক, জন্মগতও (জেনেটিক) নয় (বা আরেকভাবে বললে জন্মগতভাবে প্রত্যেকেই ক্রিমিনাল – ক্রাইমকে কিভাবে ডিফাইন করব তার ওপরে নির্ভর করছে)। সন্ত্রাস বা খুনের মত বড় মাপের অপরাধের জন্মদাতা এই সমাজ, এই রাষ্ট্র – আমরা সবাই তার অংশ, তার ভাগীদার। “খাওয়া না খাওয়ার পালা যদি চলে সারা বেলা কখন কি ঘটে যায় কিচ্ছু বলা যায় না”। এবং খালি পেটই একমাত্র কারণ নয় – কখনো বেশী খাওয়া বা বেশী আদরও অপরাধী তৈরী করে – আরো কত কারণে যে একজন সন্ত্রাসী তৈরী হয়! একটা দু বছরের শিশু দেখে তার মা’কে বাবাকে কেউ ত্রিশুলে তুলে নাচাচ্ছে – সে তখন কিছুই মানে বোঝে না, ছবিটা মনের মধ্যে ছেপে যায়। বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে কেন যে তার মধ্যে সবকিছুর প্রতি, যা কিছু সুস্থ সুন্দর তার প্রতি একটা অন্ধ আক্রোশ তৈরী হয় সে নিজেও জানেনা। কখনো কোন শিশু ছোটবেলা থেকেই দেখে তার বাবা কাকা দাদুরা মা কাকিমা দিদাদের কিরকম অবজ্ঞা অবহেলা করে থাকেন, তাদের মতামত নিয়ে হাসাহাসি করেন, বেশী “বাড়াবাড়ি” দেখলে “শাসন”ও করে দেন – বড় হয়ে সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না যে মেয়েটার শরীরের প্রতি তার লোভ, তাকে পেতে গেলে তার অনুমতি নেওয়া আদৌ জরুরী হবে কেন। অপরাধী তৈরী হয় আমার আপনারই মধ্য থেকে – সন্ত্রাসবাদীও। প্রত্যেক অপরাধের পিছনে এবং অপরাধীর পিছনে একটা ইতিহাস থাকে – তার দায় আমাদের। অপরাধের মনস্তত্ত্ব নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, অপরাধের ইতিহাস নিয়ে তার তুলনায় অনেক কম। এই যে অপরাধী, নৃশংস খুনী, সন্ত্রাসবাদী এরা, মানতে চাই বা না চাই, আমাদেরই মধ্যে কেউ কেউ। এদেরকে শোধরানোর জন্য শেষ অবধি চেষ্টা করে যাওয়া তাই আমাদেরই দায়িত্ব। আমাদেরই ট্যাক্সের পয়সায় সেটা হওয়া জরুরী। ভালো লাগুক চাই না লাগুক। দায়।
2. আচ্ছা ওই 1600 জন বাদে বাকি হাজার হাজার কয়েদীর তো মৃত্যুদন্ড হচ্ছে না – তা তাদের দেখেও তো লোকে উৎসাহিত হতে পারে অপরাধ করতে? যুক্তি তো সেই একই – বাইরে কিছু করে খেতে পারছিল না – অপরাধ করলে জেল – আর জেলে গেলেই জীবিকার নিশ্চিন্তি? নাকি আরো কোন যুক্তি আছে? থেকে থাকলে তা আমার মাথার ওপর দিয়ে গেছে। বেছে বেছে মোট অপরাধীদের মাত্র ০.১ শতাংশকে (সঠিক পরিসংখ্যান এই মুহুর্তে নেই আন্দাজে বললাম) দেখেই একজন “নিরপরাধ” উৎসাহ পাবে কেন, বুঝে ওঠা গেল না।
3. বিকল্প শাস্তি কি হবে তা এত স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা যাবে বলে মনে হয় না – কিন্তু আলোচনাটা চলুক না। এ নিয়ে আরো থ্রেডও খোলা যেতে পারে। যাবজ্জীবন হতে পারে – অথবা অন্য ধরণের কোন আইডিয়া। ভাবনা চলুক। বিকল্প প্রয়োজন এটা স্বীকৃত হোক। কারণ বর্তমান বিকল্প (মৃত্যুদন্ড) এই একবিংশ শতাব্দীতে কোন সভ্য দেশের অভিজ্ঞান হওয়াটা লজ্জাজনক। এখনও বিকল্প নিয়ে না ভাবলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না – আমরা তা ডিজার্ভও করব না।
4. এটা আগেই শাক্যজিত বলে দিয়েছে – আমি রিপীট করছি – যিনি ভিক্টিম তিনি বা তার পরিবারের এক্ষেত্রে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট রয়েছেই – বিচারের সময়ে তাকে বিবেচনায় আনা বিচার ব্যবস্থার মূল নীতির বিরোধি – ঠিক যে কারণে অভিযুক্তের ইন্টারেস্টও বিবেচনায় আসতে পারে না। বিচার, যে কোন বিচারই হয়ে থাকে (বা বলা যায় হওয়া উচিৎ) ফ্যাক্টস এন্ড ফিগারসের ভীত্তিতে – সংশ্লিষ্ট পক্ষদের আবেগকে যতটা সম্ভব দূরে রেখে – কারণ আবেগের ভীত্তিতে সম্পূর্ণ বিচার করা লজিকালি অসম্ভব। আমি বা আমার নিকট কেউ ভিক্টিম হলে আমি যে প্রতিক্রিয়া দেব, সেটা প্রতিক্রিয়াই, সেটা আমার সুস্থ মস্তিষ্কের মতামত নয়। আমি এখানে যা চাইছি তা নিরপেক্ষভাবে ভেবে চিন্তে – আবেগপ্রবণ অবস্থায় যা চাইব সেটার থেকে এটার গুরুত্ব বেশী হওয়াই স্বাভাবিক নয় কি? আরেকটা কথা – এটাও শাক্যই বলেছে যদিও – সব আত্মীয়ের প্রতিক্রিয়া কিন্তু এক হয় না। গ্রাহাম স্টেইনসের স্ত্রী এবং সোনিয়া গান্ধীর কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে – যারা যথাক্রমে দারা সিং এবং নলিনীর মার্সি পিটিশনে সই করেছিলেন। এখন এদুটোকে উদাহরণ হিসাবে বললেই কিছু অন্য আর্গুমেন্ট উঠে আসবে – একজনের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমী জীবনযাপন (যদিও মিসেস স্টেইনসের বৈধব্যপূর্ব ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রায় কারোই খুব একটা ধারণা আছে বলে মনে হয় না – পাদরির স্ত্রী বলেই তিনি ব্যতিক্রমী জীবন কাটাতেন এমনটা ভাবার কোন কারণ আছে কি না জানিনা) আর অন্যজনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা (বাধ্যবাধকতাও যদি হয়ে থাকে তাহলে যে রাজনীতি এই ধরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে তার প্রতি কিছু শ্রদ্ধা দেখানোই যেতে পারে, বাল ঠাকরের নিকটজনের সময় এই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা কিন্তু দেখা যায় নি)। কিন্তু আমার কাছে এই দুটো উদাহরণের একটা অন্য তাৎপর্য আছে। দুটো ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন তাদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত যাপনে বাইরের সমাজের প্রভাব খুব বেশী নয় – ফলে এই সিদ্ধান্তগুলি নেবার ক্ষেত্রে নিজের মত চিন্তা করার স্বাধীনতা তাঁরা পেয়েছেন। নিকটজনের প্রতিশোধের স্পৃহা বলে আমরা যখন চেঁচাই তখন ভুলে যাই যে “খুন কা বদলা খুন” কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সুস্থ মস্তিষ্কে চান না। এটা আসলে একটা সামাজিক নির্মাণ – তার আইডিয়া অব জাস্টিস। শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ মনে মনে প্রতিহিংসাপরায়ণ নন বলেই আমার বিশ্বাস। নিকটজন মারা গেলে (খুন, সন্ত্রাসের শিকার, দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, কারণ যা-ই হোক) অধিকাংশ মানুষই তার মৃত্যুর কারণের মৃত্যু নিয়ে নয় বরং সেই নিকটজনের অভাবে পরবর্তী দিনযাপন কেমন হবে, তা নিয়েই বেশি ভাবিত থাকেন। প্রতিশোধের ভাবনা প্রায় সর্বক্ষেত্রেই বাইরে থেকে জাগিয়ে তোলা হয় – কারণ আমাদের ইভেন্টের প্রয়োজন, ইস্যুর প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্র যখন বিচার সঙ্ঘটিত করবে, তখন সে সেই প্রতিশোধের ভাবনার দ্বারা চালিত হতে পারে কি? বিচারের উদ্দেশ্য কি প্রতিশোধ নেওয়া? আমাদের সংবিধান কিন্তু উলটো কথাই বলে আমি যতটুকু বুঝি। কারণ বিচার একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব – তাকে বিচারের সময়ে নৈর্ব্যক্তিক থাকতেই হবে, সেই জন্যই তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নইলে যে কোন খাপ পঞ্চায়েত বা জনতার আদালতেই বিচার হতে পারত। কারণ প্রতিটি বিচার কোন না কোন ভাবে একটি অবিচারের সৃষ্টি করে অন্য কারো প্রতি – তার মোকাবিলার জন্য ওই নৈর্ব্যক্তিকতার আবরণটা প্রয়োজন। এটা না থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই কথা উঠে যাবে। কারণ ওই নৈর্ব্যক্তিকতাই জনতার আদালত বা খাপ পঞ্চায়েত বা চন্ডীমন্ডপের থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করে দেয় – আবেগের বর্জন এবং বিশুদ্ধ যুক্তির ভাষায় বলা কথাই ওই বৃহত্তর অবিচারের দাবীকে সংযত করতে পারে।


Avatar: Arindam

Re: মারণী ফন্দি?

"স্মরণীয় তাঁরা বরণীয় তাঁরা তবু ও বাহির দ্বারে
আজি দুর্দিনে ফিরানু তাঁদের ব্যর্থ নমস্কারে।"
Avatar: AP

Re: মারণী ফন্দি?

খুব দরকারি লেখা।
Avatar: রৌহিন

Re: মারণী ফন্দি?

অরিন্দম একটু বুঝিয়ে বলবেন? অজ্ঞতা মাফ করবেন।
Avatar: পরেশ দেবনাথ

Re: মারণী ফন্দি?

অসাধারণ বিশ্লেষণ।"প্রাণের বদলা প্রাণ" আমাদের বর্বরতার পরিচায়ক।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন