Animesh Baidya RSS feed

ani143eb@yahoo.co.in
Animesh Baidyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম
    পর্ব ১: আমরাভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে ...
  • ঔদ্ধত্যের খতিয়ান
    সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো ...
  • ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...
    ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪
    আম তেলবিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯
    আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…। '.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র) https://www.youtube....
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শৈশবঃ কয়েক ফালি রোদ আর আমার না পাওয়া গভীর অন্ধকার

Animesh Baidya

রহস্যের সঙ্গে ভালো থাকার একটা সম্পর্ক আছে বলেই মনে হয়। রহস্য, কৌতুহল জীবনকে রঙীন করে তোলে। তাই হয়তো শৈশব এতো প্রিয় সময়। যতো বড় হয়েছি সব ততো ফর্মুলায় বসে গিয়েছে আর হারিয়ে গিয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। আজ একটু শৈশব যাপন করা যাক।

ছোটবেলায় গোটা পৃথিবীটাই ছিল রহস্যে মোড়া। বাড়ির মধ্যে সব থেকে রহস্যের ছিলো টেলিভিশন বস্তুটা। ছবি কী ভাবে আকাশে ভেসে ভেসে এসে টিভির মধ্যে ঢোকে!! অ্যান্টেনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম কতো দিন। দেখার চেষ্টা করতাম ছবি ভেসে আসতে দেখা যায় কি না। আরেকটা জিনিস হতো, আমি বিশ্বাস করতাম টিভির মানুষেরাও আসলে আমাদের দেখতে পায়। বাড়ির বড়রা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ওই ধারণাটা বেমালুম ভুল। কিন্তু তবু বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হতো না। আশেপাশে কেউ না থাকলেই টিভির লোকগুলোকে একা একা জিভ বের করে ভ্যাঙাতাম, চোখ কটমট করে তাকাতাম।

ছোটবেলায় বাসে করে কোথাও যাওয়ার হলে আমার সব থেকে লোভনীয় জায়গাটা ছিলো ড্রাইভারের পাশে। কী ভাবে গোটা বাসটা সে চালিয়ে নিয়ে যায়। তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড জুড়ে রহস্য। কখন কোথায় হাত দিলো, কোনটা ধরে টানলো, কোথায় চাপ দিয়ে হর্ন দিলো। আমি অপলক হয়ে দেখতাম। ওই যন্ত্রপাতিগুলো গেটাটাই ছিলো রহস্যের আধার আমার কাছে। হয়তো বাকি সকলের মতোই।

তুমুল কৌতুহল ছিল প্লেনের উপরে। কী ভাবে একটা জিনিস এতোগুলো মানুষ নিয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারে! তুমুল আকর্ষণ ছিল প্যারাস্যুট জিনিসটার উপরে। আমরা তখন চার তলার উপরে একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম। প্লাস্টিক চার কোণা করে কেটে তার চার প্রান্তে সুঁতো বেঁধে তৈরি করতাম প্যারাস্যুট। তারপরে তা ছেড়ে দিতাম চার তলার ব্যালকনি থেকে। অপলকে তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে আর মনে মনে ভাবতাম ওই প্যারাস্যুটে যেন আমি নিজেই সওয়ার।

মানুষখেকো গাছ নিয়ে ছিল তুমুল কৌতুহল আর রহস্য। এমন গাছ কি সত্যিই আছে? আমাদের স্কুলের পরে যে পুকুরটা তার ওপারে কি এমন গাছ থাকতে পারে? তারা কি ডালপালা দিয়ে জড়িয়ে ধরে গাছের পেটের মধ্যে নিয়ে নেয় মানুষকে? নাকি কেবল রক্ত শুষে নিয়ে ছেড়ে দেয়? আমাদের স্কুলের মাঠের পাশে একগাদা লজ্জাবতী গাছ ছিলো। তুমুল কৌতুহল আর রহস্য ছিলো সেই গাছের পাতাদের নিয়ে। এগুলোই কি খুব বড় হয়ে গেলে মানুষখেকো গাছ হয়ে যায়? ওমন পাতার মধ্যে ঢুকিয়ে নেয় মানুষদের।

এমন হাজার কৌতুহল, হাজার প্রশ্ন দিয়ে ঘেরা ছিলো শৈশব, আমার ছোটবেলা। হয়তো আমাদের সকলেরই ছোটবেলা। আজ মনে হয়, যতো ক্রমশ হারিয়ে গিয়েছে রহস্য আর প্রশ্ন, ততো ফিকে হয়ে গিয়েছে জীবনটা, স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে জীবনের কঙ্কাল।

সব শেষে একটাই কথা। সেই অর্থে অভাবের সংসার ছিলো না আমাদের। ভারতবর্ষের হাজারো শিশুর থেকে অনেক অনেক আরামে বড় হয়েছি আমি। ওই হাজারো শিশুর রোজকার যে কৌতুহল এবং প্রশ্ন তা আমার দিকে ছুটে আসেনি কোনও দিন। পৃথিবীর কঠিনতম সেই প্রশ্ন-

এতো এতো খিদে কেন পায় আমাদের?

আগামী শিশুর গোটা শৈশব জুড়ে অন্তহীন রহস্য, অন্তহীন প্রশ্ন থাকুক। শুধু এই রহস্য আর প্রশ্নটা বাদে।

257 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: মনোজ

Re: শৈশবঃ কয়েক ফালি রোদ আর আমার না পাওয়া গভীর অন্ধকার

অনিমেষবাবু,

ঐ কয়েক ফালি রোদের জন্যেই তো জগতের যত আবিস্কার ! যত আশ্চর্য লেখা ! প্রমিথিউস যখন স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে নিয়ে এলো - তখন থেকেই মানুষের মনে শুধু ঐ আলোটুকু পাবার জন্যে কী আকুতি !

এক সময় আমরাও বিশ্বাস করতাম রেডিওর ভেতরে বসে শিল্পীরা গান গায় । একটা সিনেমাও দেখে ছিলাম টেলিভিশনের ভেতর থেকে দৈত্য বেরিয়ে এসে ঘরের ভেতর পায়চারি করছে । আবার একটা বাস্কেটবল টিম টি ভি থেকে বের হয়ে এসে ঘরের মধ্যে খেলছে !
আবার ডিজনিতে গিয়ে দেখি - মানুষ ছোট্ট হয়ে পাখির মত তারের ওপর চলছে ! - এরকম আশ্চর্য আশ্চর্য মজার ব্যাপার দেখে আমরা এই বয়েসেও খুব অবাক হয়ে ভাবি কি করে এটা হল !
আবার একটা সিনেমাতে দেখলাম - গাছের পাতা মানুষের মাথা থেকে মগজ খেয়ে নিচ্ছে ! এটা সত্যজিতের একটা গল্পও আছে !

যত দেখি তত অবাক হই ! কি করে এসব হয় !

মনোজ


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন