সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...

জন্মদিন মৃত্যুদিন ও কতিপয় বিবাহবার্ষিকী

Sumeru Mukhopadhyay

জন্মদিন মৃত্যুদিন ও কতিপয় বিবাহবার্ষিকী বাদ দিতে পারলে দাঁড়িয়ে থাকবে সাদামাটা গাছ। সে গাছে পাতা নেই, আপেল গাছ থেকে ফুল ঝরছে আমাদের বাহান্ন নম্বর ইস্তান হেগিউত বাড়ির মাথায়। তার ঢালু চুল বেয়ে গড়িয়ে আসা আহ্লাদ দেখতে দেখতে বাস উঠে পড়ে পাহাড়ে। নরমাফার জঙ্গলে আঁকাবাঁকা রেল লাইন ধরে সোজা গেলেই সুইজারল্যান্ড। চোপড়া-যোহরদের রাজ। সেই সব পাতাকুড়ানোর বেলা, আমাদের ট্রেন শিশুতীর্থ হয়ে কখনও এসে থামবে, তাই অপেক্ষা থাকে; আর নিরাশ না করে বৃষ্টিও নেমে আসে ঝুপ করে। সায়ন্তনীর জন্মদিন , বুদাপেস্টের বাড়িতে, রান্নাবান

আরও পড়ুন...

পান, চুম্বন ও নানাবিধ

সুকান্ত ঘোষ

ভাবছিলাম যে এই খাবারদাবার গল্পে ‘চুমু’ খাওয়াটাকে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত হবে কিনা ! ‘চুমু’ বিষয়টাকে আলোচনায় নিয়ে এলে কোথায় থামতে হবে সেটাই একটা দার্শনিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ অন্য খাবারের মত ইহা পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছয় না, পাবলিকের মতে বুকের বাঁদিক ঘেঁষেই নাকি আটকে যায়। কোলষ্টেরলের মত এটাও নাকি হৃদয়ের দূর্বলতার কারণ হিসাবে দেখা যেতে পারে - ফারাকটা হল টাইম স্কেলের, চুমু যৌবনবেলার উপসর্গ হলে কোলষ্টেরল প্রৌঢ়ত্বের। তো যাই হোক, চুমু খাওয়া বিষয়ে আর একটু বিশদ এই বলার যে, উহা একটা ছোঁয়াছে রোগের মত।
<

আরও পড়ুন...

পশ্চিমবঙ্গের সরকারী চিকিৎসাঃ পরিষেবা ঘোষণা ও বাস্তব

Punyabrata Goon

স্বাস্থ্য মানে কেবল চিকিৎসা-পরিষেবা নয়, কিন্তু এই আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা-পরিষেবা, বিশেষত সরকারী চিকিৎসা পরিষেবাতেই সীমিত। তৃণমূল সরকারের তিন বছর পার হয়ে গেল, এই তিন বছরে চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার, অনেক ঘোষণা করেছে। তিন বছর পর ঘুরে দেখাই যায়—কি ছিল পদক্ষেপগুলো আর কতটাই বা সুফল পাচ্ছেন মানুষ। লিখছেন ডা পুণ্যব্রত গুণ।

২০১১-এ ৩৪ বছরের পুরোনো বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর নতুন তৃণমূল সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ

আরও পড়ুন...

নিষিদ্ধ প্রেমের ইস্তেহার ও তদনুরূপ কিছু আবেগতাড়িত প্রিয় জীবনের প্রলেপ অথবা প্রলাপমাত্র (৩)

অবন্তিকা

“আগামী শনিবার পদ্মদিদির বিয়ে l হরিহরপুরের অনেকটা ভেতরে, একটা ছোট গ্রামে l ছেলেটার নাম পল্টু l ভ্যান চালায় আর বাজারে সবজি বিলি করে l পল্টুর মা খুব দাপুটে l মা জগদম্বা গোছের একটা ব্যাপার l পূর্ণিমা অমাবস্যায় ভর টর হয় l নিদান দেয় l মা আর দিদুন পদ্মদিদির দিদি জামাইবাবুর সাথে দেখতে গিয়েছিল পল্টুকে l ফিরে এসে গল্প বলেছে আমাদের l মোদ্দা কথা কারোরই তেমন অপছন্দ হয়নি l এই সম্বন্ধটা পদ্মদিদির ভাই সনাতন ঠিক করেছে l বাবা যখন পদ্মদিদিকে গ্রামের বাড়িতে ফেরত দিতে গেল, সেই সময় l পদ্মদিদি কিন্তু একটুও কাঁদেনি সেব

আরও পড়ুন...

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা — ২

Shubhojoy Mitra

সতেরো আঠেরোর শতকে ইউরোপে প্রচলিত ছিল এক Enlightenment দ্বারা প্রভাবিত ধর্ম নিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা যার এক প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুখস্থ বিদ্যা। এই ব্যবস্থার দ্বারা দুই রকম ছাত্র তৈরী শুরু হতে লাগলো: যারা শিক্ষকের দ্বারা শিখানো না না প্রকারের জ্ঞান ও কৌশল ভালো মনে রাখতে পারত এবং যারা তা পারত না। প্রথম ধরনের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্টস, sciences, লজিক, ইত্যাদি নিয়ে পড়তে যেত। দ্বিতীয় শ্রেণী ছাত্রদের একটাই অপশন ছিল — মনে আছে ছোটবেলায় না পড়লে মাটি কাটার গল্প শুনতে হত? — অনেকটা সেই রকম। এর আগে সাধারণ

আরও পড়ুন...

আলোকপ্রাপ্তির কবিতামালা

Somnath Roy

(৫)
শার্ঙ্গক পক্ষীর স্তব
========

(“এই পঞ্চদশ দিনের মধ্যে তত্রস্থ সমস্ত জীবজন্তুই সেই প্রচণ্ডানলে দগ্ধ হইল; কেবল অশ্বসেন, ময় ও চারিটি শার্ঙ্গক রক্ষা পাইয়াছিল”)

প্রণম্য অগ্নি তুমি পিতৃমাতৃঘাতী, তবু
তোমাকেই স্তুতি করি কারণ বাঁচতে চাই আরও
স্বর্গমর্তব্যাপী তোমার যশোকীর্তি স্মারক
দেখে যেতে পারি যেন অধম দাসের চোখে প্রভু

প্রণম্য অগ্নি তুমি, আমরা তো পক্ষীশাবক
এতদিন এই বনে গাছে ও গুহায় বেড়ে উঠি
কীটভূক, উঞ্ছবৃত্তি শস্যদানা খাব বলে খুঁটি
কিম্বা ফলট

আরও পড়ুন...

ডিটেক্‌টিভ বেওমকেশ বাকশি! (স্পয়লর আছে)

Abhishek Mukherjee

বেওমকেশ বাকশির সহিত আমার প্রথম পরিচয় হইয়াছিল বোধকরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমনরূমে।

পয়সার আমার টানাটানি থাকার কথা ছিল না, কিন্তু পিতৃদেব যে শুধু দ্বিতীয়বার দার পরিগ্রহ করিলেন তাহাই নহে, উপরন্তু চাকরি হইতে বিতাড়িত হইলেন। তিনি ঠিক কী করিতেন জানা নাই, কিন্তু শুনিয়াছি আফিম-কোকেন জাতীয় নিষিদ্ধ বস্তু লইয়া নানাবিধ পরীক্ষানিরীক্ষা করিতেন।

স্থির করিয়াছিলাম, কৌমার্যব্রত অবলম্বন করিয়া সাহিত্যচর্চায় জীবন অতিবাহিত করিব, কিন্তু সে গুড়ে বালুকাকণা। পিতৃদেব একদিন বেবাক নিরুদ্দেশ হইলেন।

কিন্তু

আরও পড়ুন...

নিষিদ্ধ প্রেমের ইস্তেহার ও তদনুরূপ কিছু আবেগতাড়িত প্রিয় জীবনের প্রলেপ অথবা প্রলাপমাত্র (২)

অবন্তিকা

“নাগরদোলাটা ঘুরছিল l খুব জোরে, গোল গোল l ঠিক যেমন পৃথিবী তার অক্ষের চারদিকে ঘোরে l এমনি নাগরদোলার মতো দেখতে না যদিও l খেলনা এরোপ্লেন l সুভাষ ময়দানে ক্রিসমাসের ছুটিতে বিরাট মেলা বসত l আমি, দাদা, আর পদ্মদিদি মিলে গেছিলাম সেবার l একটা চ্যাংড়া মতো ছেলে আরো চার-পাঁচটা বাচ্চাকে চাপিয়ে বোঁ করে ঘুরিয়ে দিল l পদ্মদিদি আমার চেয়ে বারো বছরের বড় আর দাদা পাঁচ l আমি তখন ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়ালে আপার কেজিতে পড়ি l প্লেনের ঘোরাটা আসতে থেকে জোরে হয়ে যাচ্ছিল, তারপর আরও জোরে l আমি খুব ভয় পেলাম, বললাম- দাদা আমায় বাঁচ

আরও পড়ুন...

নিষিদ্ধ প্রেমের ইস্তেহার ও তদনুরূপ কিছু আবেগতাড়িত প্রিয় জীবনের প্রলেপ অথবা প্রলাপমাত্র (১)

অবন্তিকা

“অক্ষত সকালগুলো আমরা কখনও ভুলিনা যা ক্ষতগুলোকে জিইয়ে রাখে l অথচ এভাবেও বলা যেতে পারতো- চল্ সবাই মিলে বাড়ির কাজে হাত লাগাই, কেন মা একা কষ্ট করবে দিনের পর দিন- কিন্তু বলা হয়নি l ভোর পাঁচটায় পায়ে একটা লাথির মতো আঘাত এলো l ঘুমের ঘোরে আমার নাইটি উঠে যেতো থাই পর্যন্ত l একা ঘরে শুতাম তাই ঢেকে রাখার অভ্যেস গড়ে ওঠেনি l আপাতত আমার একা শোয়া বারণ l খবরের কাগজে পড়া তুলিকা দাস-কাণ্ডের মতো আমিও আমার মা এমনকি দিদুনকে মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে পারি, কারণ আমার প্রেমিক আমার চেয়ে বয়সে অনেকটা বড় আর তার বাড়ি

আরও পড়ুন...

স্মৃতির ঝুলি -২

Bimochan Bhattacharya

আমার স্কুলবেলাটা মানিকতলায় কেটেছে।অনেক বন্ধু ছিল আমার ওখানে। আর উত্তর কলকাতার কিছু টিপিকাল নামের বন্ধুও ছিল। একজনের নাম ছিল গুয়ে অথচ তার ভাল নাম ছিল শুভজিত। কিন্তু সবাই গুয়ে বলেই ডাকতো এমন কি ওর বাবাও ওকে গুয়ে বলে ডাকতেন। কিন্তু আজ বলবো বাচ্চুর কথা। অনেকগুলো বাচ্চু ছিল আমাদের দলে।ছোট বাচ্চু, ননী বাচ্চু, নাটা বাচ্চু, গেঁড়ে বাচ্চু আর টেকো বাচ্চু। কাল টেকো বাচ্চুর সংগে দেখা হল অনেক অনেক দিন পর। ওকে টেকো বলে ডাকতে গিয়ে দেখলাম আমার নিজের টাক এখন ওর থেকে বেশী। শুধু বাচ্চু বলতে ও আবার রেগে গেল। বললো- ক

আরও পড়ুন...