ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাৎসরিক লটারী
    মূল গল্প – শার্লি জ্যাকসনভাবানুবাদ- ঋতম ঘোষাল "Absurdity is what I like most in life, and there's humor in struggling in ignorance. If you saw a man repeatedly running into a wall until he was a bloody pulp, after a while it would make you laugh because ...
  • যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব ভুলে গেছি)
    নিজের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে আমার কোনোকালেই সংশয় ছিলনা। বাথরুম থেকে ক্যান্টিন, সর্বত্রই আমার রাসভনন্দিত কন্ঠের অবাধ বিচরণ ছিল।প্রখর আত্মবিশ্বাসে মৌলিক সুরে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতুম।তবে যেদিন ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে বেনারস থেকে আগত আমার সহপাঠীটি আমার গানের ...
  • রেজারেকশান
    রেজারেকশানসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পব্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে বাসু এতক্ষণ একা একা বসে অনেককিছুই ভাবছিল। আজ লেনিনের জন্মদিন। একটা সময় ছিল ওঁর নাম শুনলেও উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দিত। আজ অবশ্য চারদিকে শোনা যায় কত লক্ষ মানুষের নাকি নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-১মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাধারণ মানুষ বাস ধরার জন্যে ছোটে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে ফাস্ট বোলার নিমেষে ছুটে আসে সামনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের পেছনের তিনটে উইকেটকে ফেলে দিতে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাইকেল চালানো মেয়েটার হাতে প্রথম ...
  • আমিঃ গুরমেহর কৌর
    দিল্লি ইউনিভার্সিটির শান্তিকামী ছাত্রী গুরমেহর কৌরের ওপর কুৎসিত অনলাইন আক্রমণ চালিয়েছিল বিজেপি এবং এবিভিপির পয়সা দিয়ে পোষা ট্রোলের দল। উপর্যুপরি আঘাতের অভিঘাত সইতে না পেরে গুরমেহর চলে গিয়েছিল সবার চোখের আড়ালে, কিছুদিনের জন্য। আস্তে আস্তে সে স্বাভাবিক ...
  • মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হেফাজতে ইসলামের একের পর এক মৌলবাদি দাবীর সামনে ক্রমাগত আত্মসমর্পণ করছেন। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক শুধু তীব্রই হচ্ছে না, তা সংখ্যাগুরু আধিপত্যর দিকে এক বিপজ্জনক বাঁক নিচ্ছে। ভারতে মোদি সরকারের রাষ্ট্র সমর্থিত ...
  • নববর্ষ কথা
    খ্রিস্টীয় ৬২২ সালে হজরত মহম্মদ মক্কা থেকে ইয়াথ্রিব বা মদিনায় যান। সেই বছর থেকে শুরু হয় ইসলামিক বর্ষপঞ্জী ‘হিজরি’। হিজরি সন ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। হিজরি ৯৬৩-র মহরম মাসকে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস ধরে শুরু হয় ‘ তারিখ ই ইলাহি’, যে ...
  • পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কেমন আছেন ?
    মুসলিমদের কাজকর্মের চালচিত্রপশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অবস্থা শীর্ষক যে খসড়া রিপোর্টটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে আমরা দেখেছি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে গরিষ্ঠ অংশটি, গোটা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দিন মজুর হিসেবে জীবিকা অর্জন করতে বাধ্য হন। ৪৭.০৪ শতাংশ মানুষ ...
  • ধর্মনিরপেক্ষতাঃ তোষণের রাজনীতি?
    না, অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না। নিরপেক্ষ বলে কিছু হয় না। পক্ষ নিতে হবে বললে একটু কেমন কেমন শোনাচ্ছে – এ মা ছি ছি? তাহলে ওর একটা ভদ্র নাম দিন – বলুন অবস্থান। এবারে একটু ভালো লাগছে তো? তাহলে অবস্থান নিতেই হবে কেন, সেই বিষয়ে আলোচনায় আসি।মানুষ হিসাবে আমার ...
  • শত্রু যুদ্ধে জয়লাভ করলেও লড়তে হবে
    মালদা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুকুরিয়া থানার অন্তগর্ত গোবরজনা এলাকায় অবস্থিত গোবরজনার প্রাচীন কালী মন্দির। অষ্টাদশ শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির বিরুদ্ধে লড়বার সময়ে এক রাতে ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরাণী কালিন্দ্রী নদী দিয়ে নৌকা করে ডাকাতি করতে ...

বাকিটা সবাই জানে...

ফরিদা


এক ছিল রাণী, তার মালখানায় মাল ছিল, ঘেউখানায় ভুকুল ছিল। তার শিক্ষামন্ত্রী ছিল ব্যর্থ। রাণীমাকে তার ভাইপোরা দিদি বলে ডাকতো।

রাণী একদিন খেয়াল করলেন তার অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু স্কুল কলেজে পড়াশোনা হচ্ছে। রাণী দেখলেন বিপদ – কত চেষ্টা করে জেলায় জেলায় প্রচুর চেষ্টায় ডকে তুলে দিলেন লাখ লাখ কলেজ আর তারই নাকের ডগায় এ হেন বিষফোঁড়া? অ্যাঁ - লোকে বলবে কি? তার অকুতোভয় সৈনিক আরাষণ্ড – জলের জগ নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবাদী শিক্ষিকার দিকে। তার প্রিয় যুব সেনাপতি বঙ্কুদেশ একা অসীমসাহসে মাত্র পঞ্চাশ সহযোদ্ধা নিয়ে শতবর্ষ পুরনো ল্যাবোরটরির যন্ত্রপাতি কুশলতার সঙ্গে ধুলো করে দিয়েছেন।

আর তার নিজের খাসতালুকে বিশ্ববিদ্যালয়? পড়াশুনো? মামার বাড়ির আবদার? খবরদার...।

রাণী দুঃখে থাকেন, তেলা মাথায় তেল দিতে এলে কুপরিবহণ মন্ত্রী বদনের বদনায় লাথ মারেন। বদন হাসপাতালে।

দুঃখ কি তার একটা? ওদিকে এক কর্মবীর বাঙালি ব্যবসায়ী, মারো দাঁ কোম্পানি বানিয়ে করে খাচ্ছিল, মাস গেলে মোটা টাকা আসত , সইল না। তারা মাসোহারা বন্ধ করেছে, শুধু তাই নয় – পরশ্রীকাতর কিছু লোক তার পিছনে পড়েছে। আরে বাবা, না হয় সে লোকের থেকে টাকা নিয়েই তো দেবে নাকি? নোট তো আর ছাপেনি। আর দিয়েছে কাকে – রাণীকে আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোকে – এরাই তো দেখবে যাতে দেশে আর কোনো গরীব না থাকে – সবাই যেন ভোট ফুরোলেই ফুরিয়ে যায়। আর গরীবের কথা তো টাটকা বলে কিছু হয় না – বাসী হলে তাও বা মুখে দেওয়া যায়।

যাক সে কথা, রাণী কিছু কবিতা লিখলেন – সবাই কত কিনল বাহবা দিল – নোবেল ওলা রা দেখলই না। রাণী ছবি আঁকলেন – কত লোক কাড়াকাড়ি মারামারি করে ওজন করে টাকা দিয়ে কিনে নিল – তাই নিয়েও কথা চলছে।

রাণীর মন খারাপের কারণ কি একটা?

কিন্তু একদিন একটা উপায় হল।

সেদিন রাণী ঘাসফুলের গোড়ায় সার টার দিচ্ছিলেন। বলতে নেই শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে সেই ফুল এখন মহীরুহ। তখন রাণীর চটির ফিতে ছিঁড়ে গেল হঠাৎ। রাণী নিচু হয়ে চটি তুলতে গেলেন দেখলেন কী যেন একটা কিলবিল করছে পায়ের কাছে। পিছিয়ে গেলেন তিনি – এ কী? সাপ নাকি? নাকি ম্যাও?
তখন হঠাৎ শুনলেন সেই কিলবিলে প্রাণীটা কিচকিচ করে বল্ল – আমি ছবিজিত। আমাকে দয়া করুন।

রাণী বললেন – ওখানে কি করছ?
ছবি – আমি ওখানেই থাকি
রাণী – কেন?
ছবি – আজ্ঞে কাজকামে জুত নাই, শরীলে বল নাই, পেটে তেমন বিদ্যা নাই, চুরিতেও বুদ্ধি নাই – লোকে বল্ল কেন্নো হয়ে রাণীর পায়ে ঘুরলে হিল্লে হবে। তাই এক বছর ধরে ছিচরণে পড়ে আছি।
রাণী – কি কাণ্ড – খাও কি?
ছবি – আজ্ঞে, পায়ের ধুলো –
রাণী – আহা বাছা রে – চাকরি করবি?
ছবি – যা কাজ বলবেন। আপনার চটি পালিশের কাজ হলে তো খুব ভালো।
রাণী – আরে তা নয় তার জন্য অন্য লোক আছে, তুই , তুই বরং, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবি?
ছবি – শিশি? আলমারিতে থাকতে হবে?
রাণী – ওই হল – আসবি যাবি চেয়ারে বসবি, পয়সাও পাবি
ছবি – কিন্তু্‌, আমি, মানে...।
রাণী – মানে কি? শিগগির বল
ছবি – আমি বসব বা দাঁড়াবো কি করে – আমার তো শিরদাঁড়া নেই।
রাণী – সে আমি জানি – সে আমি দেখেই বুঝেছি, সেইজন্যই তো চাকরি দিলাম তোকে। এই দেখছিস এত বড় ঘাসফুল – সোজা দাঁড়িয়ে আছে – কি করে বল? বল
ছবি – আমি কি ওসব জানি, জানলে তো লোকে শিক্ষিত বলবে
রাণী – কাঠি, কাঠি দিয়েই সিধে থাকে সব। মারোদাঁ থেকে ভাইপো - সবাই এই কাঠিতেই সোজা। তোকেও দেব, কদিনে দেখবি দু পায়ে গটগট করে হাঁটবি। কিন্তু আমার সামনে এলেই কাঠি কিন্তু দড়ি হয়ে নেতিয়ে যাবে, মনে রাখিস।

ছবিজিত তো হাতে চাঁদ পেল। মিনমিন করে বল্ল – কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজটা কি?
রাণী – কাজ করার হলে কি তোকে রাখি – কিছু করবি না, তাহলেই হবে। কাজ করলেই চাকরি নট কিন্তু।

ছবিজিত পরের দিন থেকেই বহাল – আসে, চেয়ারে বসে, চা খায়, বাড়ি যায়। পেন্সিলে মাঝে মাঝে ঘাসফুল আঁকে। কাটাকুটি খেলে নিজে নিজে। যেদিন জেতে খুব খুশি হয়, আর হেরে গেলে দুঃখে এক ঘন্টা চা খায় খায় না।

এইসব দিব্যি চলছিল। একদিন পর পর তিন দান হেরে গিয়ে মেজাজ খারাপ। কদিন আগেই এক উটকো উৎপাত গেছে, ছেলেপিলে কে কাকে কী যেন করেছে, একে ওকে বলে সে আপদ বিদায় করেছে সে। আবার কদিন পরে বেয়ারা ফের এসে বল্ল ছাত্ররা দেখা করতে এসেছে।

ছবিজিত রেগে কাঁই। মামার বাড়ি, আমার কাজ নাই বুঝি? দিন রাত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলতে হবে? ইল্লি আর কি। আমার শালা মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল অবস্থা, নিজের কাছে নিজেই কাটাকুটি খেলায় হারছি - শেষবার তো কাটা নিয়েও হেরেছি – এখন উনি এলেন – ছাত্তররা দেখা করতে এসেছে – কি করব – তোপ ফেলব নাকি?

আবার খেলায় ডুবে গেল সে। আবার হারছে। চা পর্যন্ত খাচ্ছে না। চুল খাড়া – গোঁফগুলো ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে।

রাত হল। ছবিজিত বল্ল - নাঃ বাড়ি যাই। মাত্র এক বছরের চেষ্টায় কাটাকুটি খেলাটা রপ্ত হয়েছে বলে ভেবেছিল আবার সব হাতের বাইরে যেতে চলেছে।

আরে বাইরে ষাঁড়ের মতো চেঁচায় কে? গভীর মনোযোগে সে কাটাকুটি খেলছিল বলে শুনতে পায় নি, উঁকি মেরে দেখে তাজ্জব ব্যাপার।

গভীর রাত হয়ে গেছে আর ছেলেপিলেদের যেন বাড়ি ঘর দোর বলে আর কিছু নেই দরজা জুড়ে বসে ছেলেপিলে গান গায়...

গান... ছবিজিতের কাঠি শিরদাঁড়াতেও ভয়ের স্রোত খেলে গেল। সে ঠিক জানে – ফার্স্টবুকে পড়েছিল – গান মানে বন্দুক...। কাঁপতে কাঁপতে ফোন করল সে নগরপালকে…….


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 2 -- 21
Avatar: a

Re: বাকিটা সবাই জানে...

খুব রুচিহীন লাগল। ভদ্রলোক বিক্কলেজে ভালৈ কাজ করে গেছিলেন।
Avatar: jhiki

Re: বাকিটা সবাই জানে...

একথাটা বিক্কলেজের অনেক বর্তমান বা সদ্য প্রাক্তন ছাত্রদেরও ফেবুতে লিখতে দেখছি। তাদের দাবী মূলতঃ অ চ -র জন্যই বি ই কলেজে শান্তি ফিরে এসেছে (এগুলো আমার দার্বী নই,আমি এব্যাপারে কোন দাবীদাওয়া নেই)।
Avatar: jhiki

Re: বাকিটা সবাই জানে...

#দাবী
#নয়
Avatar: sch

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ভালো লাগলো ফরিদা। নির্মেদ লেখা। বি ই কলেজের জিনিস অনেক সময় যাদবপুরে চলে না - দুটো তো এক জায়গা নয়। তাই। তাতে খারাপ ভালোর প্রশ্ন নেই - চলে না এইটুকুই
Avatar: ফরিদা

Re: বাকিটা সবাই জানে...

sch,থ্যান্কু।
a, লেখাটায় ছাত্ররা আর অফিস বেয়াড়া ছড়া কোনো মানুষ চরিত্রই রাখিনি। এরা ছাড়া "ভদ্রলোক" বলে কেউ নেই তো লেখাতে। জীবজন্তুর গল্প অনেকের "রুচিহীন" লাগে। আমি নিরুপায়।
Avatar: তথাগত

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ভাল লাগল ফরিদা। অ চ বি ই কলেজে কী করেছেন সে প্রশ্ন এখানে অবান্তর। হাজারটা ভাল কাজও একটা নক্কারজনক কাজের অজুহাত হতে পারেনা। তাছাড়া শিক্ষাবিদ বা গবেষক হিসেবে তো অ চ’র কোন নামডাক আছে বলে জানিনা। হাজার সার্চ করেও ওনার হাতে গোনা কয়েকটা গবেষণাপত্রই খুঁজে পেলাম। অপরদিকে বি ই কলেজের ডিরেক্টর অজয় রায় কিন্তু গবেষণা ক্ষেত্রে বেশ নামডাকওয়ালা ব্যক্তি। তাই ভাবি, নিতান্ত দলদাস না হলে অ চ’র মত অপোগন্ড উপাচার্য হয় কি করে? এ তো অনিলায়নকেও হার মানায়।
Avatar: ন্যাড়া

Re: বাকিটা সবাই জানে...

লাস্ট লাইনে এসে ফাটিয়ে দিয়েছ। গল্পের কী বাঁধুনি মাইরি!
Avatar: de

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ফাটাফাটি! ফরিদা!
Avatar: ন্যাড়া

Re: বাকিটা সবাই জানে...

বাদশাহী আংটিতে সিরিজটা যেন কী ছিল -

joker মানে সঙ, song মানে গান, gun মানে কামান, come on মানে আইস, I saw মানে আমি দেখিয়াছিলাম ইত্যাদি। কিন্তু joker দিয়ে কি শুরু হত?
Avatar: lcm

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ওটা ছিল বোধহয়, Horn মানে শিং, Sing মানে গান....
বনবিহারীবাবু
Avatar: d

Re: বাকিটা সবাই জানে...

জোকার ছিল না মনে হয়।
steal মানে হরণ, horn মানে শিং, sing মানে গান, gun মানে কামান। Come On আইস , I saw আমি দেখিয়াছিলাম।
Avatar: blank

Re: বাকিটা সবাই জানে...

দারুন
Avatar: ন্যাড়া

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ঠিক, ঠিক।
Avatar: janoik beings

Re: বাকিটা সবাই জানে...

বি ই কলেজে উনার জন্য শান্তি ফিরেছে?

অন্য কারোর সাথে গুলিয়েছেন আপনারা।
Avatar: T

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ইনি বিইকলেজে শান্তি ফিরিয়েছেন! ইনি বিই কলেজের কোন প্রশাসনিক পদে ছিলেন নাকি? যাঁরা জানেন একটু যদি বলে দেন।
Avatar: sch

Re: বাকিটা সবাই জানে...

2009 এর মার্চ থেকে অজয় রায় বি ই কলেজের ভিসি হিসেবে আছেন। বিভিন্ন এক্স বি ই কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের থেকে খবর নিয়ে যা জানতাম পারলাম তাতে শুনলাম অশান্তি থেকে শান্তিতে ফেরানো এনার আমলেই হয়েছে। অভিজিত বি ই কলেজের ভি সি কোনোদিনই ছিলেন না।

পারলে অজয় রায়ের Cv টা একটু দেখে নেবেন
"Bachelor’s degree from Bengal Engineering College, Shibpur, followed by M.Tech and Ph.D from Electronics and Electrical Communication Engineering Department of IIT Kharagpur. He joined IIT Kharagpur as a Faculty in 1980."

তা সে যাকগে - যদি স্টুডেন্ট শাসনের জন্য ভি সি লাগে তাহলে তো কলকাতা পুলিশের গাণ্ডু দমন শাখার কোনো কমিশনারকেই ভি শি করে দেওয়া যেত।
Avatar: sch

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ও; সরি ওটা গুণ্ডা দমন শাখা হবে
Avatar: cb

Re: বাকিটা সবাই জানে...

ধ্যাৎ এটা কিন্তু ইচ্ছে করে মাইরি :P
Avatar: E না C

Re: বাকিটা সবাই জানে...

বেসু এবং শান্তি ফেরানো ইত্যাদি নিয়ে লেখা হচ্ছে। মৌন থাকলে সম্মতি জানানো হয়। আমি দু বছর বেসুর একটি প্রশাসনিক পদে ছিলাম। কিছুটা মানিয়ে নিতে না পারায়, কিছুটা অনোন্যপায় হয়ে, কিছূটা শিক্ষকতার টানে অধ্যাপনায় ফিরে আসি।
যে সময়টার কথা হচ্ছে (২০০৪-২০০৮) তখন উপাচার্য ছিলেন নিখিন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। এনার কাজ কর্ম দখলে বোঝা যেত কেন রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন "অতএব যাদের উচিত ছিল জেলের দারোগা বা ড্রিল সার্জেণ্ট্‌ বা ভূতের ওঝা হওয়া তাদের কোনোমতেই উচিত হয় না ছাত্রদিগকে মানুষ করিবার ভার লওয়া।" এই ভদ্রলোক পঠন পাঠন গবেষণার কিচ্ছু বুঝতেন না। বেসুতে আসার আগে তিনি ছিলেন CESC র GM (HRD)। তিনি জানতেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলেক তল্পিবাহক হতে পারলেই কেল্লা ফতে। ছাত্ররা সব মেনে নেয় কিন্তু পক্ষপাতিত্ব মানতে চায় না। একদল বুঝে গেল ‘আমাদের সাতখুন মাফ’, অন্যদল বুঝল ‘এই ভিসির কাছে সুবিচারের আশা নেই’। অতএব ঝামেলা বাড়তেই থাকলো। একজন ছাত্রর মৃত্যু হল। কিন্তু ভিসির হেলদোল নেই। ছাত্রমৃত্যর পর সব ছাত্র অনুশোচনায় এক হল। যখন সবাই এক হয়ে কাজ করতে চাইল ভিসি ছাত্রসংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দিলেন। ছাত্ররা ছয় জন শিক্ষকের কাছে সাত বস্তা হকি ষ্টিক লাঠি ইত্যাদি জমা দিল। ভিসি ছাত্র সংসদ অচল করে নিজের কোটারি গড়তে উদ্যোগী হলেন।
পরবর্তী বছরে ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রদের নিয়ে, এবং পি জি ছাত্রদের সহায়তায় একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠণ আবার তাদের ইউনিট গঠন করল। পুনঃ পুনঃ ছাত্র সংঘর্ষে পঠন পাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হল। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর স্থগিত হয়ে গেল। ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিস ক্যাম্প বসানো হল। ছাত্রদের ক্যাম্পাসের বাইরে পেটানো হল। ক্যাম্পাস থেকে ছাপ্পান্ন জন ছাত্রকে একরাত্রে অ্যারেস্ট করা হল। আমি এবং আমার সহকর্মী ড: অমিত রায়চৌধুরী থানায় গেলাম বেল নিতে। ছাত্রদের নন-বেলেবেল চার্জ দিয়ে হাজতে পোরা হল। ২০০৮ সালে ছাত্র নির্বাচন হল এবং ছাত্র সংগঠনটির ভরাডুবি হল।
২০০৮ এ ভিসির মেয়াদ সমাপ্ত হলে শিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশে নিখিল ব্যানার্জীকে ছ’মাস এক্সটেনশন দেওয়া হল। ইতোমধ্যে নন্দীগ্রাম ঘটে গেছে, কি হয় কি হয় ভাব। ২০০৯ এর পয়লা মার্চ প্রফ অজয় রায় ভি সি হলেন। ভিসির দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হল। ভিসি হস্টেলে, মাঠে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাণে ছাত্রদের পাশে। সব ছাত্রদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল সংহতি। রাজ্যে ঘটে গেল লোকসভা নির্বাচন এবং বাতাসে পরিবর্তনের গন্ধ। বাইরে থেকে ছাত্রদের উপর ছড়ি ঘোরানো কমে এল। ফিরে এল শান্তি।
অভিজিত চক্রবর্তী আমার সহকর্মী। একদিন ছাত্রবিবাদের সময় ইলেক্ট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ভিতর পুলিশ ঢুকে আসে এবং নাক গলাতে চায়। শিক্ষক শিক্ষিকারা বাধা দেন। পুলিশ উপাচার্যর নির্দেশ নিয়ে ভেতরে ঢোকে এবং ইন্টারোগেশন ক্যাম্প বসায়। শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্রদের সঙ্গে থাকেন শেষ অবধি। সেদিন অধ্যাপক চক্রবর্তীও ছাত্রদের সাথে ছিলেন। এছাড়া কখনও ওনাকে দেখেছি বলে মনে পরছে না। উনি একজন পশুপ্রেমী মানুষ। এব্যাপারে শিবপুর ক্যাম্পাসে ওনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

রবীন্দ্রনাথ দিয়েই শেষ করি “ছাত্রদের ভার তাঁরাই লইবার অধিকারী যাঁরা নিজের চেয়ে বয়সে অল্প, জ্ঞানে অপ্রবীণ ও ক্ষমতায় দুর্বলকেও সহজেই শ্রদ্ধা করিতে পারেন; যাঁরা জানেন, শক্তস্য ভূষণং ক্ষমা; যাঁরা ছাত্রকেও মিত্র বলিয়া গ্রহণ করিতে কুণ্ঠিত হন না”।

"ছাত্রেরা গড়িয়া উঠিতেছে; ভাবের আলোকে, রসের বর্ষণে তাদের প্রাণকোরকের গোপন মর্মস্থলে বিকাশবেদনা কাজ করিতেছে। প্রকাশ তাদের মধ্যে থামিয়া যায় নাই; তাদের মধ্যে পরিপূর্ণতার ব্যঞ্জনা। সেইজন্যই, সৎগুরু ইহাদিগকে শ্রদ্ধা করেন, প্রেমের সহিত কাছে আহ্বান করেন, ক্ষমার সহিত ইহাদের অপরাধ মার্জনা করেন এবং ধৈর্যের সহিত ইহাদের চিত্তবৃত্তিকে ঊর্ধ্বের দিকে উদ্‌ঘাটন করিতে থাকেন। ইহাদের মধ্যে পূর্ণমনুষ্যত্বের মহিমা প্রভাতের অরুণরেখার মতো অসীম সম্ভাব্যতার গৌরবে উজ্জ্বল; সেই গৌরবের দীপ্তি যাদের চোখে পড়ে না, যারা নিজের বিদ্যা পদ বা জাতির অভিমানে ইহাদিগকে পদে পদে অবজ্ঞা করিতে উদ্যত, তারা গুরুপদের অযোগ্য। ছাত্রদিগকে যারা স্বভাবতই শ্রদ্ধা করিতে না পারে ছাত্রদের নিকট হইতে ভক্তি তারা সহজে পাইতে পারিবে না। কাজেই ভক্তি জোর করিয়া আদায় করিবার জন্য তারাই রাজদরবারে কড়া আইন ও চাপরাশওয়ালা পেয়াদার দরবার করিয়া থাকে।"


Avatar: E না C

Re: বাকিটা সবাই জানে...

Prof Sukata Das has posted something similar in a different thread

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 2 -- 21


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন