সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

বাঘ

Prakalpa Bhattacharya

একদা যে বাঘটির গলায় হাড় ফুটিয়াছিল, আজ তাহার গলায় পুণরায় হাড় ফুটিল। পূর্ব অভিজ্ঞতা তিক্ত হইবার কারণে সারস পক্ষী পুণর্বার সেই হাড় বাহির করিতে রাজী হইল না। যন্ত্রণায় ছটফট করিতে করিতে বাঘ সম্মুখের ডাক্তারখানায় যাইল। টোকেন লহিয়া এক ঘটিকা প্রতীক্ষা করিবার পর ডাক্তার তাহার রক্তচাপ, শারীরিক উষ্ণতা ইত্যাদি মাপিয়া কহিলেন, গলার জন্য তাহাকে ইএনটি বিশারদ দেখাইতে হইবে। সন্ধানও বাতলাইয়া দিলেন। তাহার পর নিজ ফীস গুনিয়া লহিলেন।
উক্ত হাসপাতালে যাইয়া বাঘ দিশাহারা হইয়া পড়িল। সুন্দরী অভ্যর্থিকা তাহার ঠিকুজি কুষ্

আরও পড়ুন...

অমল ও বইওয়ালা (নো অফেন্স মেন্ট!)

Prakalpa Bhattacharya


বইওআলা। বই -- বই -- ভালো বই!

অমল। বইওআলা, বইওআলা, ও বইওআলা!

বইওআলা। ডাকছ কেন? বই কিনবে?

অমল। কেন কিনব! আমি তো ই-বুক পড়ি।

বইওআলা। কেমন ছেলে তুমি। কিনবে না তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন?

অমল। আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতুম তো অন্য ব্যবসা করতুম।

বইওআলা। অন্য ব্যবসা!

অমল। হাঁ। তুমি যে কত হাঁক পেড়েও কিছু বিক্রী করতে পারছ না তা দেখে আমার মন খারাপ লাগছে।

বইওআলা। (বইর ব্যাগ নামাইয়া) বাবা, তুমি কি বিজনেস কনসাল্ট্যান্ট?
আরও পড়ুন...

দল্লী-রাজহরার মেশিনীকরণ-বিরোধী আন্দোলন

Punyabrata Goon

(যে সব অভিনব আন্দোলনের জন্য দল্লী-রাজহরা শ্রমিক আন্দোলনের দিল্লী হয়ে উঠেছিল সেগুলোর অন্যতম—লোহাখনির মেশিনীকরণ-বিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের তীব্র শেষ পর্যায়ে আমি ছিলাম সেখানে। প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট লিখেছি মতপ্রকাশ পত্রিকার জন্য। বড় লেখা লিখেছি অনীক-এ। অনুষ্টুপ-এর সংঘর্ষ ও নির্মাণ, অভিমুখ পত্রিকার শঙ্কর গুহ নিয়োগী স্মরণ সংখ্যায় মেশিনীকরণ-বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লেখাদুটো আমারই। আবার ১৯৯৪-এ ছত্তিশগড় মাইন্স শ্রমিক সংঘের নিয়োগী-পরবর্তী নেতৃত্ব আন্দোলনের সঙ্গে বেইমানি করে যখন দল্লী খনিকে পূর্ণ মেশিনীকরণের

আরও পড়ুন...

যৎকিঞ্চিত ... (২০ তম পর্ব)

Rana Alam

আমার সাথে শাহরুখ খানের খান দুয়েক মিল আছে।আরে এতে ভুরু কোঁচকানোর কি আছে ?তাও তো বলিনি যে অনুব্রতের সাথে মিল আছে।ইয়ে,আমি আর অনুব্রত ওজন-তুতো ভাই।যাকগে,এবার শাহরুখ খানের কথা কই।

এক নম্বর মিলঃ- শাহরুখ ওর জন্মদিনের পার্টিতে আমাকে নেমন্তন্ন করেনা।আমিও আমার জন্মদিনে শাহরুখ খানকে নেমন্তন্ন করিনা।

দু নম্বর মিলঃ- আমি আর শাহরুখ খান,দুজনেই তোতলা।একজন কিরণ বলতে ‘ক’-এ আটকায় আর আমি সায়ন্তিকা বলতে ‘স’-এ আটকাই।

এতক্ষণ যে পুরনো জোকস ঝেড়ে গেলাম আর আপনারাও আমাকে ক্ষমা ঘেন্না করে দিলেন তার

আরও পড়ুন...

কিছু লেখা

সুকান্ত ঘোষ

১।
সাদা বকেদের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাই
বকের সাথে চেনাশুনা নেই মানুষের
তবুও কারো কারো গায়ের গন্ধে সরে না ওরা
জানি না ফেরার সময় হয়ে এলে
ঠিক কতখানি ক্লান্ত হওয়া প্রয়োজন
তোমরা কি ফিরে যাবে না?
তুমি তবে ঘাসে এসো, এখানে শিশির নেই
এখানে নেই অপেক্ষা
আমি ফিরে যাব লাল রঙ পিছু ফেলে
ক্রমশঃ ধূসর হয়ে আসবে চারিদিক
সাদা বকের ভিতর ক্লান্ত মানুষ, তৃপ্ত মানুষ
গায়ের গন্ধ ঠিক চিনে নেবে ওরা

২।
পুরো দিন কাটিয়ে সন্ধ্যা বেলায় হতাশ লাগে
আরো একটা দিন কাটিয়ে দি

আরও পড়ুন...

ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী

Rajat Subhra Banerjee

ব্যাঙ্গমা কয়, “ব্যাঙ্গমী,
ডিঙ্কা ঝিকা ল্যাঙ্গমী,
লিচির পিচির বঞ্চনা,
লেপ্তো বুও পঞ্চোনা,
কুঁচকি কুচুর কিচ কিশিং,
হাঁচ্ছি মাছি পুঁচকি চিং?”

বাংলা করে, অর্থটা –
“ব্যাঙ্গমী গো, গর্তটা,
শাবল দিয়ে গোল করে
নিম বেগুনের ঝোল ভরে,
আস্ত দু’খান ছাগ ফেলে,
মাচিস মেরে আগ জ্বেলে,
কোদাল দিয়ে মাঠ কেটে
যেমনি নিলুম খাট পেতে,
ওমনি কেন ডান দিকে
দেখছি কেবল ঠানদি কে?”

ব্যাঙ্গমী কয়, “ব্যাঙ্গমা,
চাকুম চুকুম চ্যাঙ্গমা,
ক্যাঁচর ম্যাচর পাঁচকু

আরও পড়ুন...

যতকিঞ্চিত...(১৯তম পর্ব)

Rana Alam

বাড়িতে বড্ড আরশোলা বেড়েছে। আমি এমনিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী।কিন্তু আমার দিক থেকে প্রতিরোধের আশংকা না থাকাতে হতভাগাদের সংখ্যা বেড়ে অ্যামন দশা দাঁড়িয়েছে যে বাড়িতে হয় আমি থাকবো নাহয় আরশোলা থাকবে। আর আরশোলাদের সর্বত্র অবাধ গতি এবং কিচ্ছুতে অরুচি নেই।সেদিন বই এর তাক থেকে একটা কবিতার বই নামাতে গিয়ে দেখি বই এর পাশ দিয়ে আরশোলা বেরোচ্ছে।আরশোলাদের মধ্যে এ ব্যাটা নিশ্চয় সাহিত্য প্রেমিক।তাই ক্ষমা করে দিলুম।যেদিন দেখলাম এডুকেশনাল স্ট্যাটিসটিকসের বই এর মাঝেও ব্যাটারা উঁকি দিচ্ছে,সেদিনও কিছু মনে করিন

আরও পড়ুন...

মন ও মানবী

অবন্তিকা

বৃহস্পতি দি l আমার রান্নাঘর সামলায় l বয়স সাঁইতিরিশ-আটতিরিশ হবে l সঠিক হিসেব তো ওদের মা বাবাও রাখেন নি l দেখে ওইরকমই মনে হয় l কিশোরীবেলায় বিয়ে l তারপর পুত্রসন্তান l তিন বছরের মাথায় বেকার মদ্যপ ‘স্বামী’কে কাঁচকলা দেখিয়ে ব্যাক টু দ্য ভিটে মাটি l বাবা মারা যাবার আগে নিজের ভাগের একটা ঘর লিখিয়ে নিয়ে এখন ছেলেসমেত সেখানেই থাকে l রান্না করে, বাসন মাজে l নিজে নাম সই ছাড়া বিশেষ কিছু জানে না, কিন্তু ক্লাস এইটের ছেলে ইশকুল কামাই করলে বাড়ি ফিরে তুমুল ঠ্যাঙায় আর বলে- "বাপের মতো হবি তো চাবকে চামড়া খুলে নেবো" l

আরও পড়ুন...

ভোট দেবেন কেন?

NAPM

ভোট দেবেন কেন?
প্রার্থীদের হাতে তুলে দিন আপনার-আমার দাবিসনদ


লোকসভার ভোট একেবারে ঘাড়ের ওপর এসে গেছে। ভোটের বাজার সরগরম । বেড়েছে প্রচারের খরচ,রং-ঢং জাঁকজমক।বেড়েছে গালিগালাজ,ভয়-লোভ দেখানো,ধর্ম আর জাতপাতের ভাগাভাগি এবং হিংসা।এ সব গণতন্ত্রের কলঙ্ক।গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে চাই নির্ভয়ে,স্বাধীনভাবে ভোট দেবার অধিকার।তবে সেটাই গণতন্ত্র নয়,গণতন্ত্র মানে দেশের প্রতিটি মানুষের সমান সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার।এ দেশের সংবিধান ও আইন সেই অধিকার আমাদের কাগজে-কলমে দিয়েছে বটে কিন্তু বাস্তবে তা প্রত

আরও পড়ুন...

ইসকুলের সমস্যা এবং একটি অপদার্থের প্রয়াস...

Rana Alam

বর্তমানে ৬ কোটির বেশি শিশু শ্রমিক ভারতে কৃষি,শিল্প আর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।প্রতি তিনটি শিশু শ্রমিকের মধ্যে দুটি শিশু শ্রমিক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়।পঞ্চাশ শতাংশের বেশী শিশু যৌন হেনস্থার শিকার হয়।The Child Labor Act of 1986 নামের একটা ভাঁটের আইন আছে বটে,তবে তা নেহাতই কাগজে কলমে।

চাইল্ড লেবার বা শিশু শ্রমিক নিয়ে পাতার পর পাতা বকে যাওয়া যায়,তবে তা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সেমিনার কক্ষে পারফিউম চর্চিত লোকেরা যথেষ্ট করে থাকেন।তাদের দলে ভিড়তে গেলে অমুক কমিটি বা তমুক আকাদেমি’র একখানা শ

আরও পড়ুন...

ঝাল মেটাচ্ছি

অবন্তিকা

দ্যাখো পথঘাট এখনো তেমনই আছে
বড়জোর দুটো সেতু বা উড়ালপুল
পুলিশবিহীন সিগনালে ক্যাকোফোনি
বোম মারবার অধিকারে মশগুল -
বরং তোমার দেশ বদলাও ভাইয়া !

দ্যাখো সবুজেরা মিলিয়ে যাচ্ছে অথচ
নীল সাদা রঙে শহর মানানসই
বিনা নোটিসের অবরোধ ছিল, থাকবে
চাকরি হচ্ছে, বেকার কমছে কই -
বরং তোমার দেশ বদলাও ভাইয়া !

আকছার ঘটে দুর্নীতি আর হত্যা
যেমন ঘটতো ওদেরও সময়কালে
নারীধর্ষণ শিশু মৃত্যুর কড়চা
উলু খাগড়ার প্রাণ যায় বেখেয়ালে -
বরং তোমার দেশ বদলাও ভাইয়া !

আরও পড়ুন...

প্রসঙ্গ মিড ডে মিল

Rana Alam




ক্লাস সেভেনের সুচরিতা মাঝি।বাবা অন্যত্র থাকেন।হত দরিদ্র সংসার।সেদিন দুপুরে মিড ডে মিলের পর ছুটি চাইলো।আমি ছুটি দেবোনা।সুচরিতা খুব ঠান্ডা মেয়ে।তবে সেদিন অবুঝের মত জেদ ধরলো যে সে যাবেই।আমি রেগে যাচ্ছিলাম।তবে জেদ ধরাতে যেতে দিতে বাধ্য হলাম।আমার স্কুলের এক নন টিচিং স্টাফ,মদন বাবু আমাকে অফিসের জানালা দিয়ে তাকাতে ইশারা করলেন।তাকিয়ে দেখলাম যে সুচরিতা তপ্ত রোদে পিঠে ছেঁড়া বই এর ব্যাগ আর হাতে ভাতের থালাটা নিয়ে কম পক্ষে দুকিলোমিটার দূরে বাড়ির দিকে হাঁটছে।বুঝলাম।মদন বাবু জানালেন যে সুচরিতা ম

আরও পড়ুন...

চৈত্র সেল

Animesh Baidya

এই লেখাটি কোনও ভাবেই আমার অতি প্রিয় এবং একটি অসামান্য কবিতাকে নষ্ট করার জন্য নয়। কারও তেমনটা মনে হতেই পারে। তাঁদের কাছে নতশিরে ক্ষমা চাই। আসলে আজকের চৈত্র সেলের বাজারের মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় দেখছিলাম ক্রেতা এবং বিক্রেতার 'জীবনের আনন্দ'। এই লাইনগুলো মাথায় ঘুরছিল। ক্ষমা করবেন জীবনানন্দ দাশ। আপনার অতীব সুন্দর একটি কবিতাকে আশ্রয় করে এই অর্থহীন চ্যাংড়ামোর জন্য।

আবার আসিব ফিরে, চৈত্র সেলের ভীড়ে, গড়িয়াহাটায়
হয়তো ক্রেতা নয়, হয়তো বা দোকানের মালিকের বেশে
হয়তো পণ্যের ঝাঁক হয়ে এই চৈ

আরও পড়ুন...

চেনা ওবেলিস্ক আর ধুলোট মৃত্তিকা

শিবাংশু

ফাগুনের শুরু হতেই.......
----------------------------

আবার বছর ত্রিশ পরে
তার কথা লেখা হয় যদি,

আবার বছর ত্রিশ পরে................

একটা বিয়ের আমন্ত্রণপত্র ছাপা হয়েছিলো ঠিক তিরিশ বছর আগে । শুরুতে ছিলো প্রিয় কবির এই কবিতাংশটি , " সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছি, কোনও এক বসন্তের রাতে...." ;
যাঁরা বুঝেছিলেন, তাঁরা জানতে চাননি, কেন এই কবিতাটি এলো । বাকি কিছু লোকজন হয়তো ভেবেছিলেন এই সব কবিটবির কারবারই আলাদা, না বোঝাই ভালো । অল্প কয়েকজন বয়স্য জানতে চেয়েছিলো, " এই সব

আরও পড়ুন...

আবিষ্কার

Abhishek Mukherjee

অর্কদীপ্ত কহিল, “কেন, মহারাজ?”

মহারাজ প্রত্যুত্তরে যকৃৎ ও পাকস্থলীর মধ্যবর্তী কোনও অঞ্চল হইতে “ঘুঃ” শব্দ উচ্চারণ করিলেন। অর্কদীপ্ত স্তম্ভিত হইয়া গেল। এরূপ শব্দ সে কখনও শুনে নাই। বস্তুতঃ, রাজবংশে এইরূপ শব্দোচ্চারণের রীতি আছে কিনা, তাহাও তাহার অবগত নহে।

মহারাজ পুনরায় পাদচারণায় রত হইলেন। অর্কদীপ্ত ক্রমেই অধৈর্য হইয়া উঠিতেছিল। মহারাজকে একই প্রশ্ন বারংবার করিলে তিনি অবধারিত বিরক্ত হইবেন; অন্যদিকে, দেবতারা কেন কুপিত, আর সে বিষয়ে তাহাকে কেন মহারাজ গুপ্তমন্ত্রণায় আহ্বান করিয়াছেন, তাহাও

আরও পড়ুন...

জুজু

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

১।
২০১৪ সালের মার্চ। টেক্সাসের অধিবাসী পঞ্চান্ন বছরের এক ব্যক্তি নিজের মেয়ের ঘরে একটি তরুণ যুবককে আবিষ্কার করে গুলি করে মেরে ফেললেন। ছেলেটির নাম জোহরান ম্যাককরমিক। বয়স ১৭।
খবরে প্রকাশ, মেয়েটির ভাই মেয়েটির ঘরে শুভরাত্রি বলতে গিয়ে খাটের তলায় দুখানা পা আবিষ্কার করে। বাবাকে খবর দেবার পরে, তিনি মেয়ের কাছে জানতে চান, ছেলেটিকে সে চেনে কিনা। মেয়ে অস্বীকার করে। বাবা প্রথমে পুলিশে ফোন করেন। তারপর ঘরে ঢুকলে ছেলেটি তার হাত নাড়ায় (বিপজ্জনকভাবে)। বাবা ভয় পেয়ে গুলি চালিয়ে দেন। ছেলেটি প্রায় তৎক্ষণাৎ মা

আরও পড়ুন...

ফেলে আসা দিনগুলো - 2

Sambuddha Acharyya

সুড়ঙ্গ
------------------------------------------------------------------------------------------

আমাদের স্কুলের পাঁচিলে একটা সুড়ঙ্গ ছিল। অনেক ছোটবেলায়, যখন সদ্য স্কুলে ভর্তি হয়েছি, তখন উঁচু ক্লাসের কিছু ছেলে বলেছিল যে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে অদূরে পালচৌধুরী বাড়ির নিচে যাওয়া যায়, যেখানে গুপ্তধন আছে। দেখতে সেটা একটা গর্ত বই আর কিছু নয়, যেভাবে পুরনো ইঁটের পাঁচিল ধসে গর্ত হয়। কিন্তু ছোটবেলার সেই মায়াবী দিনগুলোতে সেই গর্ত ই হয়ে যেত সুড়ঙ্গ, কালো,অন্ধকার মাকড়সার ঝুলে ভরা একটা পথ, যে পথে মশাল নিয়ে

আরও পড়ুন...

ফেলে আসা দিনগুলো

Sambuddha Acharyya

কালবৈশাখী

অনেক অনেকদিন হয়ে গেল, কিন্তু সেরকম ঝড় আর দেখলাম না। সেই সব অদ্ভুত, সারা আকাশ কালো করা, নারকেলগাছ নুইয়ে, মাটিতে ঠেকানো ঝড়। অনেকদিন আগে যখন সাইকেল করে চূর্ণী নদীর ধারে সিগারেট খেতে যেতাম, যখন বৈশাখ মাসের শেষ, যখন সারা দুপুরের গরমে সেঁকতে থাকা রানাঘাট শহরতলি পড়ন্ত বিকেলের আলোয় কমলা-হলুদ রং মাখত, যখন পিচে ঢাকা ধুসর রাস্তায় খালি পা ঠেকানো যেত না, যখন চূর্নির ধারের ছোট ছোট ঝোপের পাশে সাইকেল স্ত্য্যান্ড করার সময় বুনো গন্ধ ভেসে আসত, ঠিক তখনি অনেক দূরে, চুর্নী যেখানে বাঁক নিয়ে বাঁদিক

আরও পড়ুন...

এখন …..

Rajat Subhra Banerjee

পোষাক জীর্ণ, প্রাসাদ ভগ্ন,
বাকবিতণ্ডা অসংলগ্ন,
তবুও শুনছি, অগ্রগমন চিত্ত খুলছে,

শিউরে উঠছে জগদ্ধাত্রী,
মরিচ মারছে পাত্র পাত্রী,
জাতির জনক নিদ্রামগ্ন, নিত্য ঢুলছে।

শিল্প বুঝছে পুঁজির সুখ কী,
গর্তে ঢুকছে গরীব দুঃখী,
মধ্যবিত্ত তিন ফসলের সত্তা তুলছে,

বিবেক জড়িয়ে লোহার বর্ম,
সংজ্ঞাবিহীন ধর্ম কর্ম,
গিন্নী কেবল খাইয়ে যাচ্ছে, কত্তা ফুলছে।

পাঁচটা মুরগি, একটা পালছে,
ভিক্ষু দেখলে মদ্য ঢালছে,
আত্মা তাতেই সমাজসেবার পুণ্যে দুলছে,
আরও পড়ুন...