ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...
  • দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ
    আউটলুকের প্রাক্তন এডিটর, কৃষ্ণ প্রসাদ গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭) একটি লেখা (https://www.faceboo...

এক পশলা ভিড়

ফরিদা


যখন দেখি সারাগায়ে মাঝরাত্তির জন্মে গেছে
অলীক বেভুল ঘটনাহীন জন্মতিথি
টৈ টম্বুর উপচে গেছে মজা দিঘী ঝাঁঝি পানায়
অসম্পূর্ণ বাজার হল, সন্ধেবেলা ভাঙা বাজার
কেউ এল কি কেউ এলো না দোকানদারের কী এসে যায়
বাক্যবাণেও মরচে হল – সাধ কি ছিল এমন সাজার
আকন্ঠ রাত সারাগায়ের নামাবলী জন্ম দিচ্ছে চিল চিৎকার।


সে অপরূপ, দোষ কিছু নেই
সেই অসীমের একফালি মুখ চাঁদের মতো
তাই দেখতেই হাঘরের দল ছুটে আসছে
আন্ডা বাচ্চা ডেঁয়ো ঢাকনা গেরস্থালি সঙ্গে নিয়ে
বসছে বাজার - কী গজল্লা, কলঙ্ক প্রায়।


তাও ভাগ্যিস সব পাড়াতে দরজা দেওয়া রাত্রি থাকে
জল্পনা হয় বৃত্তান্তের খুঁটিনাটির অন্য কথা
পড়তে পড়তে কখন যেন ঘুম এসেছে জানলা দিয়ে
আলো জ্বলছে আর তাছাড়া ঘরের কোনো ছিরি ছাঁদটাই
পাচ্ছ না আর – আলো ফুটলে বহির্মুখী আস্তে আস্তে
অস্ত যাবে সে অচেনাও – আগে বরং তাকেই লিখি।


অনাসৃষ্টি গরম জামার মতোই তুমি স্বস্তি খোঁজো
তেপান্তরে লিটার লিটার সীল করা হায় জলের বোতল
বাক্স বাক্স ওষুধ ঠাসা এই জীবনের তুচ্ছতাকে আঁকড়ে ধরে
পার পাবে কি? হারাও তুমি বাক্সবন্দী – তাও কি বোঝো?


কি অনর্থক খড়ি উঠছে দেওয়াল জুড়ে
ছবি আসছে – ভেঙে যাচ্ছে অন্য ছবির সম্ভবনায়
খাতায় শুধু তোমার নামে কাটাকুটি
পিছল রাস্তা হাতড়ালো এক অন্য সময়।

দু এক পশলা ভিড় লাগছে স্কুলের মাঠে সামিয়ানা
শিশির দিয়ে মুখ ভেজাতে সকাল সকাল রোদ্দুর
নেমে আসছে - কিছুক্ষণের পরেই জানি আসবে তুমি
ফোন অপেক্ষা যাক ফিরে যাক এখন থেকে দূর দূর।


যখন তখন যায় বিষিয়ে
তেষ্টার জল গলায় ব্যথা
পুড়িয়ে দেওয়া চিঠিপত্তর
পদ্য লেখা অঙ্কখাতা।

ঘোর বাস্তব ঢেকির পাড়ে
পড়ছে লাথি টাক ডুমা ডুম
তাই কি তুমি গান শোনালে
যন্ত্রণাতে এক ফালি ঘুম?


চুরি যায় সকাল সকাল
লুকনো সময় কাঁইবিচি
আজ কলে শব্দ আসেনি
তোমাকে লেখার মিছিমিছি।






তোমার আলো রঙীন হল
আমার সন্ধে নামল ধীরে
যখন জায়গা জুড়ে থাকা
জাহাজ ছাড়ছে অনেক ভিড়ে

তখন জলের ফেনায় যেন
আমি শব্দ মিশতে দেখি
অনেক তুচ্ছতর ধোঁয়া
নিছক চারপাশ ধারবাকি

তোমার নিজের কাছে আসা
আমার লেখা অন্য খাতার
সেই ছাই গাদাতেও দেখি
ফের উড়াল দেওয়া পাতা।



Avatar: সে

Re: এক পশলা ভিড়

মনখারাপের বিকেলে এই কবিতাগুচ্ছ পড়লাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন