Abhishek Mukherjee RSS feed

Abhishek Mukherjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - ত্রয়োদশ তথা অন্তিম ভাগ
    অবশেষে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অন্তিমভাগে এসে উপস্থিত হয়েছি। অন্তিমভাগ, কারণ এরপর আমাদের তৃতীয় পর্বে চলে যেতে হবে। লেখা কখনও শেষ হয় না। লেখা জোর করেই শেষ করতে হয়; সেসব আমরা আগেই আলোচনা করেছি।তবে গল্পগুলো শেষ করে যাওয়া প্রয়োজন কারণ এই পর্বের কিছু গল্প পরবর্তী ...
  • প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..
    'তারা' আসেন, বিলক্ষণ!ক্লাস নাইনযষ্ঠীর সন্ধ্যে। দুদিন আগে থেকে বাড়াবাড়ি জ্বর, ওষুধে একটু নেমেই আবার উর্ধপারা।সাথে তীব্র গলাব্যাথা, স্ট্রেপথ্রোট। আমি জ্বরে ঝিমিয়ে, মা পাশেই রান্নাঘরে গুড় জ্বাল দিচ্ছেন, দশমীর আপ্যায়ন-প্রস্তুতি, চিন্তিত বাবা বাইরের ...
  • জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান
    Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে, “…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন ...
  • 'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
    'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'ঝুমা সমাদ্দার।ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার ...
  • পাছে কবিতা না হয়...
    এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই ...
  • মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক
    আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় ...
  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?
    মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের ...
  • উন্নয়নের তলায় শহিদদের সমঝোতা
    আশা হয়, অনিতা দেবনাথরা বিরল বা ব্যতিক্রমী নন। কোচবিহার গ্রামপঞ্চায়েতের এই তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দলের বেআব্রু ভোট-লুঠ আর অগণতন্ত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই তামাশায় তাঁর তরফে কোনও উপস্থিতি থাকবে না। ভোট লড়লে অনিতা বখেরা পেতেন, সেলামি পেতেন, না-লড়ার জন্য ...
  • ইচ্ছাপত্র
    আমার ডায়াবেটিস নেই। শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে (যদি কখনো ধরা পড়েও বা, আমি আর প্যাথোলজিস্ট ছাড়া কাকপক্ষীতেও টের পাবে না বাওয়া হুঁ হুঁ! ) হ', ওজন কিঞ্চিত বেশী বটেক, ডাক্তারে বকা দিলে দুয়েক কেজি কমাইও বটে, কিঞ্চিত সম্মান না করলে চিকিচ্ছে করবে কেন!! (তারপর যে ...
  • হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    গরমের ছুটিটা বেশ মজা করে জাঁকিয়ে কাটানো যাবে ভেবে মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো সকাল থেকে। তার আগে বাবার হাত ধরে বাজার করতে যাওয়া। কিন্তু একি গঙ্গার ধারে এই বিশাল প্যান্ডেল...কি হবে এখানে? কেউ একজন সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে বলে গেল “মাষ্টারমশাই...বালীত...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খেলছে শচীন, বলছে লোকে

Abhishek Mukherjee

এটা গতকালই লিখব ভেবেছিলাম, তালেগোলে হয়ে উঠল না। মোদ্দা কথা হল, শচীন রিটায়ার করছেন, শেষের আগের টেস্টটা খোদ ইডেনে। ওঁরা - মিডিয়ার লোকজন - নানান্‌ কথা লিখবেন, প্রাক্তন ধারাভাষ্যকাররা বলবেন, সাহিত্যিকরা বলবেন, আর - আমরাও কিছু বলব।

এর কয়েকটা ঘটনা আজ ঘটে গেছে। কয়েকটা কাল ঘটবে, কয়েকটা হয়ত ঘটবেই না। বেশিটাই আনুমানিক। তবে ঐ, লিখতে তো ক্ষতি নেই!

***

বিষয়: ধোনি টস করতে গেলেন।
আনন্দবাজার: শেষ সিরিজ। ১৯৮ টেস্টের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও বিশ্বক্রিকেটের সবথেকে বর্ষীয়ান সদস্যের বুকও আজ ধুকপুক করছে। বুক চিরে হঠাৎই বেরিয়ে এল দীর্ঘশ্বাস। আজ যদি বিনোদটা পাশে থাকত...
আজকাল: প্যাভিলিয়নে বসে শচীনের নিশ্চয়ই আজ সৌরভের কথা মনে পড়ছে। এই টসটা তো ওরই করতে যাওয়ার কথা ছিল।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, টস হচ্ছে!
বঙ্কিমচন্দ্র: হে রাজন্‌! মুদ্রাস্ফালন একপ্রকার ক্রিয়া, যা দ্বারা কাহারা কাহাদিগের উদ্দেশ্যে চর্মগোলক প্রেরণ করিবে তাহা নির্ধারিত হইয়া থাকে।
আমরা: শচীন জানেন, টস জিতলে ব্যাটিং অবধারিত, তাই কমেন্টেটর আগে যার কাছে মাইক নিয়ে গেল তার ওপর নির্ভর করে প্যাডফ্যাড পরবেন। আর হ্যাঁ, হেলমেটটাও।

***

বিষয়: ভারত ফিল্ডিং করতে নামল।
আনন্দবাজার: নামার আগে একবার আকাশের দিকে তাকালেন সচিন। মনে পড়ল গাওস্করের মুখ, সেই প্যাডগুলো। চব্বিশ বছরের কেরিয়র নিমেষের মধ্যে চোখের সামনে সিনেমার ফ্ল্যাশব্যাকের মত ভেসে উঠল। কমেন্ট্র বক্সের দিকে তাকিয়ে একবার তাকালেন মুখ তুলে। ঐ তো সৌরভ, রাহুল – লক্ষ্মণটা কোথায় গেল? নিশ্চয়ই পেছনে বসে আছে? এই মাঠেই তো, এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেই, লক্ষ্মণ আর আমি, মোটে এগারো বছর আগে, ...
আজকাল: চির-উপেক্ষিত বাংলার শামিকে পাশে নিয়ে শচীন ইডেনে নামলেন।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, ভারত নেমে পড়েছে!
শরৎচন্দ্র: দেবদা, তুমি যাবে না মাঠে? ওদের চ্যালেঞ্জ নিতে বারণ করবে না?
আমরা: আগে ব্যাট পেলে ভাল হত, কিন্তু যাক্‌গে। অশ্বিন আর ওঝা ভরসা।

***

বিষয়: শামির মারাত্মক তৃতীয় স্পেল।
আনন্দবাজার: উইকেট পড়ছে না। স্যামুয়েলস-ব্রাভোর খেলায় হঠাৎ ভিভ-লয়েডের স্বাচ্ছন্দ্য। স্পিনাররা নাজেহাল, ম্যাচ নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রথম স্লিপ থেকে কোহ্‌লি ধোনির সঙ্গে গভীর আলোচনায় মগ্ন। এমন সময় সচিন এসে যোগ দিলেন, বললেন, “তুমি ভুলে যাচ্ছ মাহি, তোমার হাতে এমন একজন পেসার আছে, যে এই পিচ নিজের হাতের তালুর মত চেনে।”
আজকাল: ছাই দিয়ে আগুন চাপা যায় না, ধোনিবাবু। বাঙালি আর কত অবিচারের শিকার হবে?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, উইকেট পড়ছে!
অবনীন্দ্রনাথ: অম্‌নি সারা ইডেনে যত লোক, যত লোক ছিল সব একসঙ্গে বলে উঠল “ম-হ-ম্ম-দ শা-মি!”
আমরা: যাক্‌, অনেকদিন পর একটা ভাল পেসার এল।

***

বিষয়: চন্দরপলের ব্যাটিং।
আনন্দবাজার: ওঝার অ্যাপিল নস্যাৎ করে দিলেন আম্পায়ার। গ্যালারিতে চিৎকার উঠল। ভেসে এল টুকরো মন্তব্য – “আমরা তোমার আম্পায়ারিং দেখতে আসিনি, সচিনের ব্যাটিং দেখতে এসেছি।” বাংলা বোঝেন না, কিন্তু নিজের নাম শুনে ক্রিকেটের ঈশ্বরের মুখে দেখা দিল এক চিলতে হাসি। জায়েন্ট স্ক্রীনে তা দেখে ইডেন হাততালিতে ফেটে পড়ল।
আজকাল: এই কুৎসিত ব্যাটিং ক্রিকেটের কলঙ্ক। মনে পড়ে সৌরভের রাজকীয় কভার ড্রাইভ?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, চন্দরপল ব্যাট করছে!
লীলা মজুমদার: শচীন এসে বলল, তুমি এত রান করো, এইর’ম বাজে স্টান্স কেন? চন্দরপল্‌ ফিক্‌ করে হেসে বলল, “কী করব, ওব্বেস!” এই বলে টুক্‌ করে একটা কভার ড্রাইভ করে চার মারল। এই অনাছিষ্টি কাণ্ড দেখে সবাই মুখে কুলুপ এঁটে বসে রইল।
আমরা: এই লোকটা কোনওদিন কদর পেল না।

***

বিষয়: ইডেনের দর্শক।
আনন্দবাজার: যখনই তিনি আউটফিল্ডে যাচ্ছেন, ইডেন উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছে। এক বল-বয়কে অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে তাঁর বুক ধক্‌ করে উঠল - একদম অর্জুনের মত দেখতে না? সই করার সময় হাতটা একটু হলেও কেঁপে গেল কী?
আজকাল: তাঁর ছোটবাবুর শেষ টেস্ট, তিনি কি পারেন না এসে থাকতে? এই মাঠেই তো আজ থাকার কথা ছিল তাঁর।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, ইডেন হাততালি দিচ্ছে!
পরশুরাম: এক হতভম্ব দর্শক আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এক্সকিউজ মি প্রভু, আপনি কি ভিজেয় মার্চেন্টকে দেখেছেন?”
আমরা: কী রে, এখানে শচীনের লাস্ট ম্যাচ, আজও এত খালি সীট?

***

বিষয়: শচীনের উইকেটপ্রাপ্তি।
আনন্দবাজার: বল হাতে নিয়ে হঠাৎ মনে পড়ল বান্দ্রার সাহিত্য সহবাস কলোনীর সেই দিনগুলোর কথা। তখন তো তিনি জোরে বল করতেন। আজ, কেরিয়রের সায়াহ্নে এসে একান্ন সেঞ্চুরির মালিক পাঁচ ফুট চারকে লেগস্পিন করতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্য!
আজকাল: তাঁর ছোটবাবুর শেষ টেস্ট, তিনি কি পারেন না এসে থাকতে? আজ তো মাঠেই থাকার কথা ছিল তাঁর।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, ইডেন হাততালি দিচ্ছে!
উপেন্দ্রকিশোর: তোমরা বল করতে পারো? আমি একজন লোককে চিনতাম, সে সবরকমের বল করতে পারত। যেই সে ইডেনে একটা উইকেট নিল, অমনি সবার সে কি হাততালি!
আমরা: আর চারটে হলেই পঞ্চাশটা। হবে?

***

বিষয়: ভারতের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপ।
আনন্দবাজার: কমেন্ট্রি বক্সে বসে শাস্ত্রী লক্ষ্মণের কানে কানে বললেন, “শচীন এলে স্লটটা কিন্তু আমাকে ছেড়ে দিতে হবে।” মুহূর্তের জন্য থতমত খেয়ে গেলেন ৮,৭৮১ টেস্ট রানের মালিক। এই মাঠে তো তিনিই রাজত্ব করে এসেছেন বরাবর – আজ অন্যের হাতে মাইক ছেড়ে দিতে হবে?
আজকাল: সৌরভ মাঠে থাকলে আজ উইকেট ছুঁড়ে দিতেন শচীনের স্বার্থে। কিন্তু এই তরুণ তুর্কীর দল – এরা শুধু রান বোঝে। নতুন প্রজন্মকে এই শেখালেন আপনি, ধোনিবাবু?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, এরা এখনও ব্যাট করছে! সেই গাংচিলটা উড়েই চলেছে, উড়েই চলেছে, আরও, আরও...
রবীন্দ্রনাথ: শচীনের আগে ব্যাট করিতে আসা বড় বালাই। তাহাদের রানও করিতে হইবে, আবার তাড়াতাড়ি আউট হইয়া শচীনকে সুযোগও দিতে হইবে। এই দুইই করিতে পারে, এমন লোক তো বড় একটা দেখি না!
আমরা: টিকে যাক্‌; শচীন তো রইলই। হয়ে গেলে তো হয়েই গেল।

***

বিষয়: শচীন অবশেষে নামলেন।
আনন্দবাজার: একবার ঘুরে তাকালেন ড্রেসিংরুমের দিকে। আবার তিনি একা। আজ আর তিনি শ্রীকান্তের দলের ষোল বছরের বালক নন – তিনি আজ চল্লিশের প্রবীণ। বুক ফেটে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোল ভারতীয় ক্রিকেটের সিনিয়র সিটিজেনের। এই শহর মনে রাখবে তো তাঁকে?
আজকাল: আজ সৌরভ নেই। অচেনা তরুণবাহিনীর করতালির মধ্যে শচীন নামলেন ব্যাট করতে ইডেনে।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, শচীন নেমে পড়েছে!
সুকুমার রায়: আবার সে এসেছে ফিরিয়া।
আমরা: পঞ্চাশ করে দে বস্‌, তাহলেই হবে।

***

বিষয়: শচীন ব্যর্থ হলেন।
আনন্দবাজার: যাবতীয় সংযমের বাঁধ ভেঙে রাহুল দৌড়ে যাচ্ছিলেন সচিনকে সামলাতে; সৌরভ-লক্ষ্মণেরা মনে করালেন, তাঁদের মত রাহুলেরও দিন শেষ, ড্রেসিংরুমে ঢোকার রাস্তা চিরতরে বন্ধ। একমাত্র সানিই অবিচল। তিনি তো জানেন। উঠে এসে রাহুলের কাঁধে রাখলেন সহানুভূতির হাত।
আজকাল: শচীন আউট হতেই নেমে পড়লেন কোহ্‌লি। ভাবা যায়, শচীনের শেষ সিরিজ, ইডেনে খেলা, আর পাঁচে সৌরভ নেই? চ্যাপেলকে কোনওদিন ক্ষমা করবে ইডেন?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, শচীন আউট!
পূর্ণেন্দু পত্রী: ভেবেছ পালাবে গর্তে? হৃৎপিণ্ডের ভিতরে থাকে যে ঝর্ণা, দিতে হবে চান করতে।
আমরা: ঠিক আছে, সেকেন্ড ইনিংস আছে তো!

***

বিষয়: শচীন ছড়ালেন না, মোটামুটি গোটাচল্লিশ রান করে আউট হয়ে গেলেন।
আনন্দবাজার: কাম্বলি-আমরেরা আসতে পারেননি, কিন্তু সচিন বয়ে এনেছেন আচরেকর স্যারের কোচিংএ অনেক অনেকদিন কাটানোর স্মৃতি। আজ যদি আচরেকর-স্যার মাঠে থাকতেন! তাও সচিন ব্যাট তুলে জনতার করতালি গ্রহণ করলেন, মুখ তুলে একবার তাকালেন প্যাভিলিয়নের দিকে। “এই তাকানোটা আমি ভুলব না,” শিবরামকৃষ্ণণ চোখ মুছে হেডেনকে বললেন।
আজকাল: সম্মান জানাতে শিখলেন না, ধোনিবাবু? বেরিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানালেন না শচীনকে? সৌরভ-জমানায় ভাবা যেত এসব?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, শচীন আউট! কত করল?
বিভূতিভূষণ: শচীন তেন্ডুলকর আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইডেনে সেকালের অবসান হইয়া গেল।
আমরা: হাসি...

***

বিষয়: শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে শচীন সেঞ্চুরিই করে ছাড়লেন।
আনন্দবাজার: সচিন জানতেও পারলেন না, পুরোনো কলোনির বন্ধু, শিবাজি পার্কের মালি – সবাই আজ মানত করেছিলেন শতরানের জন্য। আকাশের তাকিয়ে ব্যাট তোলার পর সচিন ভাবলেন, ত্রিনিদাদে ঘুমিয়ে থাকা প্রিয় বন্ধু লারা জানতেও পারলেন না! যাক্‌, গিয়ে একটা এস-এম-এস ছেড়ে দিলেই হবে। কিন্তু ক্যালিস? ক্যালিস পারবে এতগুলো সেঞ্চুরি করতে?
আজকাল: আজকের দিনেও একবার সৌরভের কথা মনে পড়ছে না শচীনের? মনে পড়ছে না, তাঁর স্বর্ণযুগ এসেছিল সৌরভের হাত ধরে? নিছক তথ্যের কচকচানিতে ধোনি-ফ্লেচাররা অনেক কথা বলতে পারেন, কিন্তু সৌরভ ছাড়া শচীন শচীন হতেন?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, শচীন সেঞ্চুরি করেছে!
শরদিন্দু: মা, শীগ্‌গিরি এসো, শচীন হেলমেট খুলে তাতে তিনটে-পাঁচটা চুমু খাচ্ছে!
আমরা: কান্না...

***

বিষয়: খেলা শেষ। ভারত জিতল। শচীন শেষবারের মত বেরোলেন ইডেনের দর্শকের সামনে।
আনন্দবাজার: মাইক হাতে মাঠের মাঝখানে যাওয়ার আগে শাস্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল রোহিত শর্মার। রোহিত জিজ্ঞেস করলেন, “আমি পারব?” কান্না চেপে রেখে শাস্ত্রী সানির দিয়ে আঙুল দেখিয়ে ঢুকে গেলেন মাঠে। সচিনের বিদায়মুহূর্ত বলে কথা – সৌরভ-রাহুল-লক্ষ্মণ কারুরই চোখের জল বাঁধ মানছে না।
আজকাল: সেঞ্চুরি করলেন শচীন, ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব নিয়ে গেলেন ধোনি। ফ্লেচার-আমলে আর কী আশা করতে পারি আমরা?
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, ভারত জিতে গেছে!
অনিল ভৌমিক: ফ্রান্সিস কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিল খেয়াল নেই। হঠাৎ খেয়াল হল কে যেন ধাক্কা দিচ্ছে। হ্যারি। “ভারত জিতে গেছে,” ওপাশ থেকে মারিয়া বলে উঠল।
আমরা: হাসি, নস্টালজিয়া, আরও নানারকম...

***

বিষয়: সৌরভের প্রতিক্রিয়া।
আনন্দবাজার: “জীবদ্দশাতেই তো সব দিয়ে যেতে হল, বন্ধু,” দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলেন সৌরভ। আর কেউ শুনতে পেলেন না। দ্রাবিড়-লক্ষ্মণরা তো নিজেদের মধ্যে আলোচনাতেই মগ্ন। সানি-রবি নিচে। তিনি একা বসে রইলেন নিজের মাঠে।
আজকাল: শ্রীনিবাসনের চাপে পড়ে স্টার স্পোর্টস বাধ্য হল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সৌরভের হাত থেকে মাইক কেড়ে নিতে।
অজয় বসু (যদি বাঁচতেন): আকাশের বুক চিরে একটা গাংচিল উড়ে যাচ্ছে, তার দিগন্তবিস্তৃত পাখা মেলে – উড়ছে, উড়ছে, একি, সৌরভ কই!
সত্যজিৎ: সৌরভের হৃদয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলোর মত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, আর সেই ভগ্নস্তূপ থেকে একটা রক্ত হিম করা অশরীরী কন্ঠস্বর বলে উঠল – “অবসরের পরের অবস্থা আমি জানি!”

আমরা: শচীনকে আজ বাড়িতে ডিনারে ডাকবে বোধহয়।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: jhiki

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

উত্তাল!
Avatar: b

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

মহাভারত ইংরেজিতে লেখা। বাংলায় ট্রান্সলেট করতে হবে। নইলে দুধের সোয়াদঃ

http://ovshake.blogspot.in/2013/10/and-then-they-were-born.html
Avatar: Diptayan

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

উইকডে তে সকালে এসে এইসব লেখা পড়লে প্রডাক্টিভিটি গোল্লায় যাবে - টু গুড !
Avatar: অতনু

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

বীভৎস ... :D
Avatar: Vikram

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

জাস্ট অসা হয়েছে
Avatar: Reshmi

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

কালকেই ফেসবুকে পড়েছিলাম, অনেকদিন পর এরকম নিখাদ মজা পেলাম। আজকাল আর রবীন্দ্রনাথ আমার সব থেকে ভালো লেগেছে।
Avatar: ঐশিক

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

দারুন লাগলো !!!!!!!!!!!
Avatar: Tim

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

মহাভারতটাও একঘর। এঁকে তো কাল্টিভেট করতে হচ্চে! ঃ-)
Avatar: ঈশান

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

লেখা হয়নি। হেবি হয়েছে। আমাদের ভিকিদাদা এইরকম ইন্টারেস্টিং জিনিস লিখত একদা। কিন্তু সে এখন বখে গেছে।
Avatar: ব

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

আপনি কোথায় ছিলেন স্যার!! একদম খাপে খাপ পঞ্চুর বাপ!! ঃ)))))))))
Avatar: Rit

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

গোটা মহাভারতটা এঁকে দিয়ে লেখানো উচিত। আর ইংরেজীতেই।
Avatar: ব

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

কিন্তু তাতে ব্যাস দেব খচে কালচে হয়ে যেতেন যে?
Avatar: S

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

"অবসরের পরের অবস্থা আমি জানি!" এইটা একেবারে মানে যাকে কয় ফাটাফাটি।
Avatar: I

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

উফ্‌! ফাটাফাটি!
রাজদীপ সরদেশাই- লোকটার লেখা একদম সেরা জাতের অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট।
Avatar: kk

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

মহাভারতও পড়লাম। অসাধারণ তো !!!
Avatar: সুকি

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

খাসা হয়েছে - মন বলে আরো চাই চাই, অল্পতে হয়ে গেল শেষ!
Avatar: দ

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

দুর্ধর্ষ!
অজয় বসুটা স্লাইট একঘেয়ে লাগল। ওঁর আরো কিছু টিপিক্যাল বাচনভঙ্গী এলে ভাল লাগত।

মহাভারতটা বীভৎস ভাল।
Avatar: Ranjan Roy

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

আবার পড়লাম।
অবনীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, লীলা মজুমদার ও আজকাল।
অজয় বসুকে নিয়ে যেন ইচ্ছে করেই---!
Avatar: kumu

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

খুব আনন্দ পেলাম বিশেষতঃ মহাভারত পড়ে।পুরোটাই লিখুন না অন্তত পাশাখেলার জায়গাটা।
আর কুরুক্ষেত্রর আরম্ভটা।
আর, আচ্ছা থাক,
Avatar: Biplob Rahman

Re: খেলছে শচীন, বলছে লোকে

উরি বাপ্রে! লোক্টা লিখতেও পারে! :)

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন