সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লড়াকু ভীমরতি
    লড়াকু ভীমরতিঝুমা সমাদ্দার- কেমন লাগে ? এইবার ? পই পই করে বলেছিলুম , "ওরে ,আমায় জ্বালাসনি , আমায় জ্বালাসনি । রেগে গেলে কিন্তু আমি বাপের কুপুত্তুর ।" তা না, তেনারা নাকি আমায় টেষ্ট করে দেখবেন , আমি তাঁদের গাইদের গর্ভিনী করবার উপযুক্ত কি না !! হুঁঃ !! কী আমার ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # চার
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • ভূমিকম্পে বেরিয়ে আসে অজগর সাপ
    “আপনি কি স্বাধীনতা কী বুঝেন?”ভদ্রলোক আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটি করলেন।আমি বললাম, “বুঝব না কেন? স্বাধীনতা হচ্ছে নিজের মত থাকার বা কিছু করতে পারার সুযোগ।”ভদ্রলোক সামান্য হেসে ফেললেন। তিনি তার মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা কাঁচাপাকা দাড়ি হালকা চুলকাতে চুলকাতে ...
  • বিজাতীয় ভীমরতি
    বিজাতীয় ভীমরতি ( বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাবু' অবলম্বনে )ঝুমা সমাদ্দারজনমেজয় কহিলেন,হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলিযুগে রিয়্যালিটি শো নামে একপ্রকার জয়ঢাক পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। তাঁহারা কি প্রকার জয়ঢাক হইবেন এবং পৃথিবীতে আবির্ভুত হইয়া কি কার্য্য ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # তিন
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • সেনাবাহিনী ও মানবাধিকার
    বেশ কিছুদিন আগে গুরুচন্ডা৯ সাইটের একটা লেখার সূত্রে আলোচনা হচ্ছিল, সেনাবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে আমরা এত কিছু বলি, কিন্তু তারা নিজেরা কী পরিবেশে থাকেন, কী সমস্যার সামনে দাঁড়ান, তা কখনোই তেমনভাবে আলোচিত হয় না। সেনাবাহিনীতে (পুলিশ, বি এস এফ বা বিভিন্ন আধা ...
  • আমার আকাশ
    আমার আকাশঝুমা সমাদ্দারএক টুকরো আকাশ ছিল আমার । দূ..উ..রে , ওই যে মাঠ…. মাঠের ও পারে সেই যে গাছটা …. কি যেন নাম ছিল সে গাছটার ….কি জানি…. কোনো নাম ছিল কি গাছটার ? কোনোদিন জানতাম কি তার নাম ? ….না, জানতাম না বোধহয় । জানতে চাই-ই নি কোনো দিন…. ওটা তো আমার গাছ ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # দুই
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • অ-খাদ্য ভীমরতি
    অ-খাদ্য ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারযত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি ...
  • কারফিউ
    [এক-এগারোর (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) পর সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্ববধায়ক সরকার সারাদেশে বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করেছিল। এর দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছিল সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, দিনমজুরসহ সাধারণ জনতাকে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে সে সময়ের একটি ব্লগ নোট। ...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ১১)

Kaushik Ghosh

১১।

এক বার নক্ষত্রের পানে চেয়ে-একবার বেদনার পানে
অনেক কবিতা লিখে চলে গেল যুবকের দল।
পৃথিবীর পথে-পথে সুন্দরীরা মূর্খ সসম্মানে
শুনিল আধেক কথা;…...
…....তবু আহা, ইহাদেরি কানে
অনেক ঐশ্বর্য ঢেলে চলে গেলো যুবকের দল;
একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে-একবার বেদনার পানে।



অন্ধকার হয়ে গেছে। শীতকালের বেলা। সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই ঝুপ করে আলো মরে আসে। স্কুল থেকে ফিরেই চটির মাঠে ছুটেছিল গণেশ। আজ গণেশদের রয়্যাল ক্লাবের সাথে এথলেটিক ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ ছিল। প্রচণ্ড রাফ খে

আরও পড়ুন...

এক পশলা ভিড়

ফরিদা


যখন দেখি সারাগায়ে মাঝরাত্তির জন্মে গেছে
অলীক বেভুল ঘটনাহীন জন্মতিথি
টৈ টম্বুর উপচে গেছে মজা দিঘী ঝাঁঝি পানায়
অসম্পূর্ণ বাজার হল, সন্ধেবেলা ভাঙা বাজার
কেউ এল কি কেউ এলো না দোকানদারের কী এসে যায়
বাক্যবাণেও মরচে হল – সাধ কি ছিল এমন সাজার
আকন্ঠ রাত সারাগায়ের নামাবলী জন্ম দিচ্ছে চিল চিৎকার।


সে অপরূপ, দোষ কিছু নেই
সেই অসীমের একফালি মুখ চাঁদের মতো
তাই দেখতেই হাঘরের দল ছুটে আসছে
আন্ডা বাচ্চা ডেঁয়ো ঢাকনা গেরস্থালি সঙ্গে নিয়ে
বসছে বাজার

আরও পড়ুন...

সহ-বাস

অবন্তিকা পাল



এই মাঝরাতে গলির ভেতর জোরালো শব্দে একটা চার চাকা এসে থামলো l ভাবিত নই l কেননা এমন বহু চার চাকাই মাঝরাতে থামে l কার্যসিদ্ধি মূল উদ্দেশ্য l তিন্তিড়ি আজ রমণ করেছে বেপাড়ার হুলোর সাথে l গায়ে নীল ছোপ ছোপ l কোত্থেকে এলো কে জানে l এ পাড়া হোক বা বেপাড়া, অপশন সেই দুটোই l বিপ্লবের জন্য যৌনতা l অথবা যৌনতার জন্য বিপ্লব l

রবীন্দ্রসদনের সামনে ফুরফুরে ফোয়ারার নিচে আলো আর ছায়া মিলে বেশ কিছু খণ্ড দৃশ্যাবলী তৈরি করেছে l হরিনাথ খু

আরও পড়ুন...

নতুন কিছু তত্ত্ব পান

Animesh Baidya

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ- এই লেখা কেবলমাত্র খিল্লিবাজ আঁতেলদের জন্য।

আপনার জন্য নয়, অন্য পাঠকদের জ্ঞাতার্থে প্রথমেই জানিয়ে রাখি ‘পান’ শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহার করেছি। প্রথমত, জ্ঞান পিপাসু হয়ে তত্ত্ব পান করা, দ্বিতীয়ত, পাওয়া অর্থে পান এবং তৃতীয়ত, ইহা ইংরেজি PUN। এ বার মোদ্দা কথায় আসি। আমরা যারা পড়াশোনার গভীরে ঢুকি না, কিছু শুষ্ক তাত্ত্বিক শব্দ জানি এবং সুযোগ পেলেই সেই শব্দসমূহ প্রয়োগ করে আপ্লুত হই, তাদের কাছে এই তাত্ত্বিক শব্দগুলো বিভিন্ন রূপে ধরা দেয়। প্রতৃত অর্থ না বুঝলেও মাঝে মাঝে এমন

আরও পড়ুন...

তোমাকে ভাবাবোই ভাবাবো

অবন্তিকা পাল

ব্যাপারটা প্রথম চোখে পড়েছিল খবর কাগজের পাতাতেই। “সরকারি হাসপাতালে কাজ করা নার্সদের পোশাকের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে এ রাজ্যে। নার্সিং-গাউন পরা অবস্থায় নার্সদের দেখা যাবে না। এবার নার্সদের শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরে ডিউটি করতে দেখা যাবে।“
উদ্যোগ প্রশংসনীয়? নিঃসন্দেহ নই। ঠিক এইরকম এক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল বেশ কয়েক বছর আগে, শিক্ষিকাদের সালোয়ার কামিজ পরা নিয়ে। পুনরাবৃত্তি সেই একই ঘটনার, এবার, কিছুটা প্রগতিশীলতার মোড়কে।


যেমনটা ঘটে থাকে:

আমাদের রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠ

আরও পড়ুন...

ঘটি ভর্তি বাঙালনামা

Animesh Baidya

ঘটি-বাঙাল, মাচা-লোটা, চিঙড়ি-ইলিশ। আজকের বিশ্বায়িত ভুবন-ডাঙায় এই বাইনারি অপোজিসন ঠিক কতোটা প্রাসঙ্গিক তা জানা নেই। বাইনারি শব্দটি মনে এলেই কেমন যেন মনে হয় ‘নারী কর্তৃক’। মানে ‘BY নারী’। সে যাই হোক, না হেঁজিয়ে মূল কথায় আসি। ওই তিনটি বাইনারি অপোজিসন বছরের বাকি দিনগুলোতে কতোটা প্রাসঙ্গিক তা জানা নেই। তবে বছরের তিন চারটে দিন এবং তার আশেপাশের দিনগুলিতে ওই শব্দগুলোই হয়ে ওঠে বাঙালির প্রধান পরিচিতি। ঠিকই ধরেছেন। ফুটবল ডার্বি ম্যাচ কিংবা বড় ম্যাচের দিনগুলোর কথাই বলছি। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচ মান

আরও পড়ুন...

খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে

Sayantani Putatunda

পূর্বকথা---

বাড়িটা অনেক কালের পুরনো।ইঁটে ইঁটে শ্যাওলা জমে একটা অদ্ভুত ফ্যাকাশে অথচ বিষণ্ণ আস্তরণ তৈরি করেছে। কোন সময়ে ওটার রঙ হয়তো সাদা ছিল। এখন সবুজাভ। আদিম,অতিকায় জীবের মতো পড়ে থাকা বাড়িটাকে দেখলে প্রথম দর্শনেই ভয় হয়। মনে হয় কোনও অশুভশক্তির ছায়া বুঝি ওটার উপর ভর করেছে।
অতীতে এই বাড়িটা কোনো এক সাহেব খুব শখ করে তৈরি করেছিলেন। তখন এটা একটা ঝকঝকে তকতকে অট্টালিকা ছিল।কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহের সময় তিনি ও তাঁর গোটা পরিবারই বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বীভৎস ভাবে খুন হন।
তারপর থেকেই বাড়িটা পরি

আরও পড়ুন...

জোছনা করেছে আড়ি…

Biplob Rahman

০১. কবি শহীদ কাদরীর প্রথম প্রেমিকা, প্রথম স্ত্রী পিয়ারী বছর দশেক আগে এসেছিলেন ঢাকায়। বার্লিন প্রবাসী প্রায় ৬০ বছর বয়সী পিয়ারী এখনো দারুন সুন্দর, উজ্জল। ঢাকা ক্লাবের এক পার্টিতে কোনো এক সাংবাদিক বন্ধু পরিচয় করিয়ে দেন তার সঙ্গে।

পানপ্রীতি, সাংবাদিকতা, নাকি অন্য কোনো কারণে জানি না, কেনো যেনো দ্রুত বন্ধুত্ব হয় তার সঙ্গে। পিয়ারী নিমন্ত্রণ করেন একসন্ধ্যায় তাকে সময় দেবার।

ভূতের গলিতে তার এক ভাইয়ের ছোট্ট দোতলার ঘরের সোফায় আয়েশ করে বসি দুজনে। আমি পছন্দের রক্ত গোলাপ কলিরগুচ

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ১০)

Kaushik Ghosh

১০।

আমরা দুজন একটি গাঁয়ে থাকি
সেই আমাদের একটি মাত্র সুখ।
তাদের গাছে গায় যে দোয়েল পাখি
তাহার গানে আমার নাচে বুক।



শোভা বুঝতে পারছে ওর পেছনে জনা দুয়েক রয়েছে। সামনে আরও একজন ওকে ধরার জন্য ওঁত পেতে রয়েছে। ধরবে! তা চেষ্টা করে দেখুকই না একবার! শরীরে হাল্কা একটা মোচড় দিয়ে সামনের জনের দিকে তেড়ে গেল ও। ওকে তেড়ে যেতে দেখে সে একটু বেসামাল হয়ে পড়েছে। সেই সুযোগে সামনের মেয়েটাকে হাল্কা একটা ধাক্কা মেরে পেছনে ঘুরতে যেই যাবে অমনি পেছন থেকে দুজন এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর ঘাড়ে। এই

আরও পড়ুন...

যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব কিছু একটা)

Rana Alam

আমি বাচ্চাদের খুব ভালোবাসি,স্ট্যালিন কে যেরকম ক্রুশ্চেভ ভালোবাসতেন,ঠিক সেই রকম।আমার অভিজ্ঞতা বলে যে বাচ্চারা আদতে দুরকমের হয়,একদল বাচ্চা যারা অনায়াসে অন্যের কোলে উঠে পড়ে এবং বেশ শান্ত শিষ্ট থাকে।আরেকদল শিশু,যারা গর্ভাবস্থায় সানি দেওলের সিনেমা দেখে জন্মায়,তারা হাতের কাছে কাউকে পেলেই খামচে দেয়।আমার কপালে এই দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাই বেশী জুটেছে।আমার আবার একটি বদ অভ্যেস আছে,সেটি হল বাচ্চা দেখলেই তাকে সূযোগমত মুখ ভ্যাংচানো। এবং এই মুখ ভেংচে আমি এক ধরণের জাতিগত প্রতিশোধের তৃপ্তি অনুভব করে থাকি,বাঙাল কে

আরও পড়ুন...

জল জঙ্গল কথা ৪

SEPA

(৪)

বালিগঞ্জ থেকে ট্রেনে ক্যানিং আসার পথে দেখছিলাম এক অন্ধের হাত ধরে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছিলেন এক মহিলা। পোষাক-আসাকে বলা চলে ইনি ইসলাম ধর্মীয় সামাজিকভাবে। গাইছিলেন যা তা ভক্তিগীতির কাছাকাছি। একটা ছোট মাইক নিয়ে, পাশের ঝুলিতে বক্সের সাহায্যে ট্রেনের আওয়াজ ছাপিয়ে গাইছিলেন। দুটো বিষয় এখানে লক্ষ করার মতন। প্রথমত আমাদের দেশের ট্রেনে অন্ধেরা গাইবেন বা অন্ধজনের হাত ধরে কেউ গাইবেনই গাইবেন। আমার মৃত্যুর আগে অব্দি এর কোনো বদল বোধহয় দেখে যাওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মে গান গাওয়া সেই অর্থে নিষিদ

আরও পড়ুন...

চুপিসার

Sukanta Ghosh

চুপিসারে কেউ আসে না – নীরবে চলে আসার মাহাত্ম পাশের বাড়ির কালো বেড়ালটাও শিখে গেছে। আমার কোন পোষা গাছ নেই, আমার প্রিয় গাছে ফুল আসে, ফুল ঝরে যায়। বিষবৃক্ষের সাথে নিয়মিত সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ঘুম ভাঙা চোখ। বিষবৃক্ষে মিষ্টি ফল হয় – দশ মিনিট যায়, পনের মিনিট পরে আমি বৃক্ষ ভুলে যাই। বাড়ির সামনের গাছটায় লেগে আছে গত রাতের জল – অথচ ওই পাতা, যা আমাকে অনেক বিভক্ত করেছে, তা পিচ্ছিল হবারই কথা ছিল ।
বৃষ্টির শব্দ – চেতনা – ফোঁটা থেমে গিয়েছিল ভোর রাতের অনেক আগে। জলের পরেও সিল্ক এসেছে, আধভেজা দরজা গুডনাইট বলেছে,

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ৯ )

Kaushik Ghosh

৯।

তোমাকে দোহাই দিই,
একটা সাধারন মেয়ের গল্প লেখ তুমি।
বড়ো দুঃখ তার।
তারও স্বভাবের গভিরে
অসাধারন যদি কিছু তলিয়ে থাকে কোথাও
কেমন করে প্রমাণ করবে সে-
..............................……
আমরা বিকিয়ে যাই মরীচিকার দামে।



আজ রবিবার। স্কুলে যাওয়ার তাড়া নেই। ঘুম ভেঙে গেলেও তাই বিছানাতেই শুয়ে রইল কিরন। ছুটি আছে বলে কাল রাত্রে অনেক্ষন পড়েছে। রাতের বেলায় পড়তে খুব ভালো লাগে ওর। চারিদিক চুপচাপ; একটু কান পাতলে নিজের বুকের ধুকপুকুনিও শোনা যায় স্পষ্ট।মনঃসংযোগ ক

আরও পড়ুন...

অসভ্য চোখ(চলছে)

Sayantani Putatunda

৭.
--‘রোজ সকালে যদি আপনার একশো গ্রাম পায়খানা না হয়, তবে বুঝবেন সিস্টেম ক্লিয়ার হয়নি। পেটের ভিতরে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়—ভদ্রসমাজ নাকে রুমাল দেয়। তাই ব্যবহার করুন গন্ধরাজ চুড়ন...!’
‘গন্ধরাজ চুড়ন’ এর ক্যানভাসারের চিৎকারে রোজ সকালে ঘুম ভাঙে লাটুর। আর ঘুম ভাঙতেই মুড ডুম হয়ে যায়! যদি ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই কাউকে একশো গ্রাম পায়খানার ফান্ডা শুনতে হয়, তবে মেজাজের পিন্ডি চটকে যাওয়াই স্বাভাবিক! তার উপর সম্প্রতি তার মেজাজ একটা বিশেষ কারণেই খারাপ হয়ে আছে। মা ফসসা হতে চলেছেন। সেটা দুঃখের কথা

আরও পড়ুন...

মথি উদয়ের তারা

Kulada Roy

মথি উদয়ের তারা
------------------
কুলদা রায়

সন্ধ্যার আগে বৃষ্টি হয়েছে। এখনো জলের গন্ধ আসছে।
মফস্বলের ছোটো একটি শহরের একপ্রান্তে টিনের ঘর। তার বারান্দার বসে আছে মথি উদয় ও হারাধন। এই দুজনকে পণ্ডিত স্যার বিশেষ স্নেহ করেন। একা মানুষ তিনি। স্কুল শেষে তার বাড়িতে এ রকম দুটি-একটি ছেলেকে পড়ান।

পণ্ডিত স্যার আজ পড়াচ্ছিলেন ন্যায় দর্শন। বলছিলেন, উপনিষদের মাণ্ডুক্য উপনিষদ থেকে একটা শ্লোক–

অনিশ্চিতা যথা রজ্জুরন্ধকারে বিকল্পিতা।
সর্পধারাদিভির্ভাবৈস্তদ্বদাত্ম

আরও পড়ুন...

জল জঙ্গল কথা ৩

SEPA

(৩)

সিগমুণ্ড ফ্রয়েড বলতেন সাপের সঙ্গে পুরুষের যৌনতার নিবিড় সম্পর্ক আছে। সাপ লিঙ্গের চিহ্ন এবং যৌনতার আগ্রহর সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু পুরুষ কেন? সে ভাবনায় যাবার আগে একটা অন্য ঘটনা দিয়ে শুরু করি এই পর্ব। ৬৭ মিলিয়ন বছরের আগের একটি ফসিলের কথা এটি। পাওয়া গিয়েছে গুজরাতের থেকে। একটি সাপের ফসিল যা সদ্য ডিম ফুটে বেরোনো সৌরোপোডার ছানাকে গিলে খাচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক সৌরোপোডা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানো ডায়ানোসরদের মধ্যে সবচাইতে অতিকায়। নীল তিমি কিছুটা একে পাল্লা দিতে পারে। তার ছানা ডিম ফুটে বেরোনো অবস্থাতেও অন্ত

আরও পড়ুন...

অসভ্য চোখ(চলছে)

Sayantani Putatunda

৩.
--‘হ্যালো’?
--‘হ্যালো। পুঁটিরাম নার্সারী?’
ওপ্রান্ত থেকে এমন একটা অদ্ভুত নাম শুনে ব্যায়ামবীর রাবন, তথা বাবন ঘাবড়ে গেল। পুঁটিরাম নার্সারী! এমন নামের কোনও নার্সারী আছে নাকি! সে আমতা আমতা করে বলে—‘না...এটা তো নার্সারী নয়। আপনার বোধহয় ভুল হচ্ছে’।
--‘সে কি!’ ওপ্রান্ত থেকে ব্যথিত স্বর ভেসে আসে—‘এমন বলতে পারলেন আপনি? আমার ভুল হচ্ছে না! আপনারই ভুল হচ্ছে’।
তার চোখ প্রায় চড়াৎ করে চাঁদিতে উঠে পড়েছে। অনেকটা চোখওয়ালা নারকোলগুলো যেমন হয়, তেমনই চাঁদি ছুঁয়ে পিট্‌পিট্‌ করে তাকিয়ে থেকে সে ক

আরও পড়ুন...

অসভ্য চোখ

Sayantani Putatunda

একজোড়া চোখ!
একজোড়া চোখ নিয়ে এখন তল্লাট সরগরম! শুধু চোখ নয়, রীতিমত অসভ্য চোখ!
এই তো, কয়েকদিন আগেকার ঘটনা। মিত্তিরবাড়ির মায়াদিদি একেবারে বিদ্যা বালানের মত লাল গামছা পরে উ-লা-লা, উ-লা-লা করে গান গাইতে গাইতে ছান-টান করছিল। আর বেবো—স্টাইলে হেসে হেসে সাবান মাখছিল। এটাই এখনকার নিয়ম। সাবান মেখে ‘কি জিনিস বানিয়েছ গুরু’ হতে হলে সাবান কে সাবান নয়, এক টুকরো হৃত্বিক রোশন ভাবতে হবে! অতঃপর সাবানটাকে নিজের গায়ে না ঘষে সাবানের গায়ে লুটোপুটি খেতে হবে। তবেই ‘ফস্‌সা’ হওয়া যাবে!
যথারীতি মায়াদিদিও সেটাই ক

আরও পড়ুন...

কালী : একটি অনার্য অডিসি

শিবাংশু

কালী : একটি অনার্য অডিসি
-------------------------------

তব রূপং মহাকালো জগৎসংসারকারকঃ । মহাসংহারসময়ে কালঃ সর্ব্বং গ্রসিষ্যতি ।।
কলনাৎ সর্বভূতানাং মহাকাল প্রকীর্তিতঃ । মহাকালস্য কলনাৎ ত্বমাদ্যা কালিকা পয়া ।।
কালসংগ্রসনাৎ কালী সর্ব্বেবামাদিরূপিণী । কালত্বাদাদিভূত ত্বাদাদ্যা কালীতি গীয়তে ।।

---জগৎসংহারকারক মহাকাল তোমার একটি রূপমাত্র, এই মহাকাল মহাপ্রলয়ে সমুদয়পদার্থকে গ্রাস করিবেন । সর্ব্বভূতকে গ্রাস করেন বলিয়া তাঁহার নাম মহাকাল, তুমি মহাকালকে গ্রাস করো বলিয়া তোমার না

আরও পড়ুন...

টুকরো টাকরা

Tim

আজ দেখলাম মেঘে ঢাকা তারা। এমনিতে ঋত্বিক নিয়ে আমার কোন পুজোর বালাই নেই। তবু দেখতে গিয়ে খুঁতগুলোর থেকে ভালোদিকগুলোই বেশি করে চোখে পড়লো। আমার বেশ বিশ্বাসযোগ্য লাগলো এই বায়োপিক, যদি একে আদৌ বায়োপিক বলা যায়। শাশ্বতর অভিনয় ভালো লাগলো, কমলেশ্বরের পরিচালনা ও চিত্রনাট্য খুবই ভালো লাগলো, সঙ্গীত পরিচালনা (দেবজ্যোতি মিশ্র) খুব ঠিকঠাক। সবথেকে ভালো লাগলো পরিমিতিবোধ। যা পোর্ট্রেয়াল অফ ট্র্যাজেডিতে খুব দরকার।
বাবার কাছে শুনেছি, ঋত্বিক ঘটক নানুবাবুর বাজারে বাংলা খেয়ে পড়ে থাকতেন। সম্ভবত মৃত্যুর আগে আগেই কোন এ

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ৮)

Kaushik Ghosh

৮।

জানলা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়ার সাথে সাথে সিনেমার গানের কলিও ভেসে আসছে দূরাগত কোনো উৎস থেকে। খুব সম্ভবত রেডিও। রাগ আশ্রয়ী গান। গানের কথা গুলো বোঝবার চেষ্টা করল বিশ্বনাথ। কান খাড়া করে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো পায়ে পায়ে। ভালো করে বোঝবার আগেই হাওয়ার অভিমুখ পাল্টে গেল। বিরক্ত হয়ে ফিরে এসে খাটের ওপর বসল আবার। চাইলে টেবিলের ওপরে রাখা মার্ফির রেডিওটাতে স্টেশনটা ধরতেই পারত, কিন্তু ইচ্ছে হলনা।
সন্ধ্যের পরে তেমন কোনো কাজ থাকেনা ওর। সকালটা রেওয়াজ করে কেটে যায়। তারপর দিনের বেলাটা স্নান খাওয়া ইত্যা

আরও পড়ুন...

প্রেস জোকস- ০২

Biplob Rahman

[গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব। রীতিমত প্রাপ্তমনস্কদের জন্য রচনা।]

আমি বাংলার, বাংলা আমার
___________________
১৯৯৩-৯৪ সালের কথা। দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার চিত্রশিল্পী সেনবাবু পান-প্রিয়তার জন্য বিখ্যাত। পকেটে ৫০ টাকা থাকলে উনি বাংলা, ৫০০ টাকা থাকলে কেরু আর ৫,০০০ টাকা থাকলে ফরেন লি

আরও পড়ুন...

জল জঙ্গল কথা ২

SEPA

(২)

যখন হিমালয় পর্বত গড়ে উঠছিল, সেই টারশিয়ারি সময়ে, মানে আজ থেকে ৫৫ মিলিয়ন বছর আগে ভারত এশিয়াতে ধাক্কা মেরেছিল। ফলস্বরূপ উঠে দাঁড়িয়েছিল হিমালয়। সেই সময়েই ধাপে ধাপে তৈরী হয়েছে বেঙ্গল বেসিনটা। সেই বেসিনে তার কিছু সময় পরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের পলিতে গড়ে উঠেছে সুন্দরবন বেসিন। কেতাবের ভাষায় বললে,

"The Bengal Basin got filled up through the Tertiary marine geosynclinal and shelf sedimentation (>16km thick) followed by gradual progradation of the Quaternary Ganga - Brahmaputra delta

আরও পড়ুন...

প্রবাদ- প্রবচন

Ramkrishna Bhattacharya


“হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন”
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
***
প্রবাদ কাকে বলে, এ ব্যাপারে সবারই জানা আছে । ব্যাপারটা হলো, কেউ ঠিক এর সংজ্ঞা নির্দেশ করতে চাইবেন না ।
প্রবাদ বলতে, সাধারণত আমরা যা বুঝি- সেটা এত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা রকম বিচিত্র ভাষায় প্রকাশ হয়, তাদের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে কোনো একটা সাধারণ লক্ষণ খুঁজে পাওয়া বড় মুশকিল ।
অসংখ্য উৎসমুখ থেকে আসা, ক্ষীণ স্রোত ধারাতে প্রবাহিত হয়ে, যা কিছু একসঙ্গে মিশেছে- তাদের একের সঙ্গে অপরের কোনো মিল বা যোগাযোগ নেই ।
এগুলোই প্রবা

আরও পড়ুন...

দিল্লি শহর যাবার রাস্তা

Ranjan Roy

বোম্বা্ই মেলে চড়ে বসেছি। গন্তব্য–– পুণে শহরের কলেজ অফ এগ্রিকালচারাল ব্যাংকিং।
মাথায় নানান চিন্তা; অচেনা জায়গার অস্বস্তি, ঘরে ছেড়ে আসা বৌ–বাচ্চার ভাবনা, চিন্তার কি আর শেষ আছে? হাতের পেপারব্যাকে মন বসছে না।হঠাৎ চোখ গেল কয় জোড়া বিদেশি দম্পতির দিকে,– কটা রং, বেড়ালচোখো, নীলচোখো,তামাটেচুলো, কিন্তু সবাই খুব ফরসা। লালচে, ফ্যাটফেটে, হলদেটে–– নানান কিসিমের।

আমেরিকান? ইংরেজ? –– না, না, রাশিয়ান।সবাই ভিলাই ইস্পাত কারখানার স্টাফ।বর্ষশেষের ছুটিতে চলেছে গোয়ার সমুদ্রতীর, সপরিবারে

আরও পড়ুন...

ম্যাঙ্গালোরের চিঠি

মোহর

বৃষ্টি সে যেন এক গোধূলিরং শাড়ি পরা মেয়ে। চিনি না জানি না হঠাৎ হঠাৎ বাড়ি চলে আসে। আপাতত: আমি হচ্ছি যাকে বলে ঘরণী -গৃহিনী, তিনটি পোষ্য সমেত। অতিথি এলে পাদ্য - অর্ঘ্য না দিই, অন্তত: মুখের একটু মিষ্টি কথা, চোখে একটু আলতো হাসি, এসব তো করতেই হয় ! কিন্তু যাবার সময় সে অচেনা মেয়ে প্রশ্ন করে বসলো, আজকাল চাঁদের সঙ্গে তোমাকে দেখি না তো ?

দেখেছ! এত বড় খবরটা ও পায় নি!

সতর্কতা জারি হলো মাঝরাতে চাঁদের মৃত্যুতে
দু-একটা গুমখুন রোজ-ই হয়, হয়ে যেতে পারে
সাধারণভাবে তাই রাতমাখা নিষিদ্ধ হয়েছ

আরও পড়ুন...

জল-জঙ্গল কথা ১

SEPA



রাত তখন তিনটে হবে। একটা শীতের কাঁপন শরীরে। তরল আগুণও তার সব সামলাতে পারছে না। একটু সরে এলাম লঞ্চের সামনে। বসেছিলাম সারেঙের সামনের ডেককভারের উপর। নীচে, লঞ্চের খোলে তখন অন্তত ষোলোজন ঘুমোচ্ছে। একমাত্র একটা জেনারেটরের শব্দ আচ্ছন্ন করে রেখেছে চারপাশ। আলোটা জ্বলছিল। বড় ক্লান্ত একটা ফ্যাকাশে সাদাটে আলো। সেই আলোর বৃত্ত থেকে সরে এসে সামনের হালের দিকে যখন দাঁড়ালাম তখন দেখলাম জায়গাটা ভিজে ভিজে। শিশিরের শব্দ শুনতে পাইনি। জেনারেটরের আওয়াজে চাপা পড়ে গিয়েছে। পা-টা খালি ছিল। জোলো একটা ভাব পা দিয়ে উঠে

আরও পড়ুন...

এত খেয়ে তবু যদি নাহি ওঠে মনটা - ১৪ (পর্ব - মেমারী স্টেশনবাজার)

Sukanta Ghosh

বেশ কিছুদিন আগে খবরে কাগজে পড়লাম কলকাতার কোন এক প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন বিক্রেতা নাকি রসগোল্লা বানাবার মেশিন আমদানি করেছে বিদেশ থেকে! রসগোল্লা বানাবার মেশিন ! তায় আবার বিদেশ থেকে! খবরটা শুনে যথারীতি নিদারুণ দুঃখিত হলাম। এখানে দেশপ্রেম রিলেট করে একটা মাখো-মাখো বা ভারত এতোদিনে ইঞ্জিনিয়ারিংটাও শিখল না – এই নিয়ে তুল্যমূল্য আলোচনা একটা ফাঁদা যেতেই পারত। সেই দিকটায় এখন আর ঢুকছি না, কারণ এটা মূলত খাবার-দাবার নিয়ে আলোচনা। যদিও আমরা জানি খালি পেটে যেমন বিপ্লব হয় না, খালি পেটে তেমন দেশপ্রেমের আলোচনাও জমে না। স

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ৭)

Kaushik Ghosh

৭।

ছেলেটার বয়স হবে বছর দশেক,
পরের ঘরে মানুষ,
যেমন ভাঙা বেড়ার ধারে আগাছা-
মালির যত্ন নেই,
আছে আলোক বাতাস বৃষ্টি
পোকামাকড় ধুলো বালি-
কখনও ছাগলে দেয় মুড়িয়ে
কখনও মাড়িয়ে দেয় গরুতে,
তবু মরতে চায়না, শক্ত হয়ে ওঠে,
ডাঁটা হয় মোটা,
পাতা হয় চিকন সবুজ।।





ভোরের আলো ভালো করে ফোটেনি। বাড়িতে সবাই ঘুমোচ্ছে। এই সময়টাতেই পড়াশুনা ভালো হয়। ঘন্টা খানেক পর থেকে ধীরে ধীরে জেগে উঠতে থাকে বাড়িটা। বাড়িটার দেওয়ালে দেওয়ালে তখন অনেক অর্থহীন শব্ধ ধাক্

আরও পড়ুন...

প্রেস জোকস- ০১

Biplob Rahman

[গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব। রীতিমত প্রাপ্তমনস্কদের জন্য রচনা।]

ট্যাক্স ফ্রি
_______
বিখ্যাত ফটো সাংবাদিক মোহাম্মাদ আলম (কিছুদিন আগে প্রয়াত) ভাইয়ের ঘটনা। ১৯৭২-৭৩ সালে আলম ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী। পানপ্রিয় আলম ভাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাথে মস্কো সফর শেষে

আরও পড়ুন...

পরীপর্ব

Kulada Roy

কুলদা রায়

বাল্যকালে পরীরদের দেখেছি। সামনের রিজিয়া আপুদের বাসায়। ফরিদা আপুর বাসায়। আমেনা আপুদের বাসায়। তারা তিন বোন। আরেকটি বোন হয়েছিল। হামাগুড়ি দিত। জানালা দিয়ে আলোর রেখা দেখলে আবাক হয়ে চেয়ে থাকত। এই আলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দিত। বলত, আ আ আ। সবাই বলত রিজিয়াদের এই বোনটি সত্যি সত্যি পরীর মত ছিল। তাকে পরে একদিন তালতলায় পাওয়া গিয়েছিল। সায়েম কবিরাজ বলেছিল—এটা পরীদের কাজ। এই ছোটো শিশুটিকে পরীরা ঘর থেকে নিয়ে গিয়েছে। ফেলে রেখে গিয়েছে আমাদের পুকুর পাড়ের তালগাছটির নিচে। ওই তালগাছটির নিচে তখনো ছায়ার ম

আরও পড়ুন...

আমরা কাঠের বাড়িতে থাকি - ১

Sukanta Ghosh

আমরা কাঠের বাড়িতে থাকতাম – ফারখান্দা অন্য কাঠের বাড়িতে। আমার মনে হয় ও অন্যরকম ভাবে আমাকে কাছের ভাবত। আর স্বাভাবিক কাছের ভাবত সেই ইতালিয়ান ছেলেটাকে। কেউ কেউ বলে ফারখান্দা নাকি পাখি হতে চেয়েছিল – প্রোফেসর বলতেন ও নাকি নিজেও জানত না – অথচ আমার মনে হত ফারখান্দা কেবল একটি পরিপূর্ণ মেয়ে হতে চেয়েছিল। সে ওড়না ভালোবাসত, মেহেন্দী – মাথার টিপ – আমার দেশে যাবার সময় ফরমাশ – ও স্যামন ভালোবাসত লাইম জুস দিয়ে। বাকি সময়টাতে ইতালিয়ান ছেলেটার সাথে খুনসুটি। ফেসবুকে ক্রিশ্চিয়ানোর ছবি দেখি, কিন্তু একটাতেও ফারখা

আরও পড়ুন...

খেলছে শচীন, বলছে লোকে

Abhishek Mukherjee

এটা গতকালই লিখব ভেবেছিলাম, তালেগোলে হয়ে উঠল না। মোদ্দা কথা হল, শচীন রিটায়ার করছেন, শেষের আগের টেস্টটা খোদ ইডেনে। ওঁরা - মিডিয়ার লোকজন - নানান্‌ কথা লিখবেন, প্রাক্তন ধারাভাষ্যকাররা বলবেন, সাহিত্যিকরা বলবেন, আর - আমরাও কিছু বলব।

এর কয়েকটা ঘটনা আজ ঘটে গেছে। কয়েকটা কাল ঘটবে, কয়েকটা হয়ত ঘটবেই না। বেশিটাই আনুমানিক। তবে ঐ, লিখতে তো ক্ষতি নেই!

***

বিষয়: ধোনি টস করতে গেলেন।
আনন্দবাজার: শেষ সিরিজ। ১৯৮ টেস্টের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও বিশ্বক্রিকেটের সবথেকে বর্ষীয়ান সদস্যের

আরও পড়ুন...

তাই আমি শেফালির, কিছুতেই বকুলের নয় (পর্ব - ১০খ)

Sukanta Ghosh

অশোক যেমন বাপের চাকুরী পেয়েছিল তেমনই তার বউ করত তার মৃত স্বামীর থেকে পাওয়া চাকুরীটা। সরকারী চাকুরী করা ছেলের ভালো পাত্রী পাওয়াটাই চল ছিল তখন – তাই অশোক এক মেয়ে সমেত বিধবাকে বিয়ে করল কেন সেটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল গ্রামের জটলাগুলিতে, শিতের খামাড়ে বা রোদ পোয়ানো ছাদে। যাদের ব্রেন সুদূরপ্রসারী – যারা অন্ধের মাঝে কানা ছিল তারা ভাবে বার করল অশোকের এহেন আচরণের মূলে হল তার নিজের বাড়িতে তরুণ ঘটিত কমপ্লেক্সিটি।

কিন্তু উহারা অচিরেই ভুল প্রমানিত হল – বেগারস্‌ ক্যান নট বি চুজারস্‌ আপ্তবাক্য ভুল প্রমা

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব - ৬)

Kaushik Ghosh

৬।

… কারো বাঁশির মতন নাক ভালো লাগে,
কারো হরিণের মতন চাহনি নেশা ধরায়-
কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে,
ঝঞ্ঝাক্ষুদ্ধ সমুদ্রে জ্বলে ওঠেনা তাদের দৃপ্ত মুখ
ফসফরাসের মত


কলেজের গেট থেকে কলকল করতে করতে মেয়েরা বেরোচ্ছে। ছেলেরা তাদের পেছনে পেছনে; একটু তফাৎ রেখে। সুধা মেয়েদের ভিড়টাকে বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসছে কলেজের ভেতর থেকে। চেনা কারোর সাথে দেখা হলে দু-এক কথায় সময় নষ্ট হবে। এখন পড়াতে যাওয়া আছে পোড়ামাতলায়। একটা বাড়িতে দুই ভাই বোনকে পড়াতে হয়। স্কুলের নিচু ক্লাসে পড়ে দুজন

আরও পড়ুন...

pulish! ore pulish!

Ranjan Roy


পুলিশ ! ওরে পুলিশ!
(শেষ কিস্তি)
৩১ ডিসেম্বরের রাত। মাঝরাতে নববর্ষ বরণ। মোবাইলে নেমন্তন্ন পেয়ে গি্ন্নি ও বাচ্চাদের চোখ এড়িয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছেচি গজ্জুশেঠের হোটেলে।প্রায় সমবয়সী শেঠজি আমার বন্ধু।
জড়ো হয়েছি আমরা ক’জন, প্রায় জনাদশেক; কেউ ফক্কড়কবি বাবা নাগার্জুনের চেলা, তো কেউ কবি সম্মেলন আলো করা গোপালদাস নীরজের। তবে সবকটাই একলব্য–শিষ্য; গুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় নেই কিন্তু শিষ্য বটেক, খানিকটা বিদ্রোহী নাগাদের স্বঘোষিত কম্যান্ডারের মত।
একটা হলঘরের মেজেতে গদির ওপর বিছানা পাতা।হেলান দ

আরও পড়ুন...

তাই আমি শেফালির, কিছুতেই বকুলের নয় (পর্ব - ১০)

Sukanta Ghosh

বাঁশের তীর ধনুক দিয়ে পাখি মারার পর্যায়ের বয়সটা সবে শেষ করে মোড়লদের বাগানে নেউল কামারের তৈরী কাঠের ব্যাট নিয়ে ক্রিকেট খেলায় ঢুকেছি আর ঠিক তখনই প্রথম ঝটকাটা লাগল। সেই তখনও পর্যন্ত আমার মূল কৌতূহল সাধারণত খাদ্য বস্তুর ভিতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। আনন্দমার্গ স্কুল থেকে সুবল কাকা সাইকেলে করে বাড়ি নিয়ে আসার সময় খালের মিষ্টির দোকানে পেটা সন্দেশ আমার বরাদ্দ ছিল। তৎকালীন বয়েসে আমি বেশীর ভাগ ভাবনাটাই কেন্দ্রীভূত করেছিলাম এটা বের করার জন্য যে পেটা সন্দেশ এ্যাতো ভালো খেতে হয় কেন! জ্যাঠা কলকাতা থেকে হালখাতার সময় মহা

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব -৫)

Kaushik Ghosh

৫।

ওদের কথায় ধাঁধাঁ লাগে
তোমার কথা আমি বুঝি,
তোমার আকাশ, তোমার বাতাস
এই তো সবই সোজাসুজি!




বরাবরই খুব ভোরে ওঠা অভ্যেস সুবোধের। ছোটোবেলায় মা করিয়েছিলেন অভ্যেসটা। এগারো বছর বয়সে মা চলে গেলেন। অভ্যেসটা অবশ্য সঙ্গ ছাড়েনি। বাবার স্মৃতি প্রায় নেই বললেই চলে। তিন বছর বয়সেই পিতৃহীণ সুবোধ।

তা এ হেন একটা মানুষের শৈশব-কৈশোর যেরকম করুণ আর অযত্ন লালিত হওয়ার কথা , সুবোধের বেলায় তা ঘটেনি। না ঘটার পেছনে যে মানুষটা, তিনি মেজকাকা সমরেন্দ্রনাথ। বিষয় সম্পত্তি সব ম

আরও পড়ুন...

মুখ ও মুখোশ...

Biplob Rahman

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দয়ায় পাওয়া নয়
---------------------------------------------------
ছাত্র অবস্থায় আপনার কবিতা পড়ে আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম। সদ্য যুদ্ধ ফেরৎ কবি, আপনি ১৯৭১ এর বারুদের সৌরভ ছড়িয়ে লিখেছিলেন:

"আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছো বিপ্লবের সামনে
আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছো ইতিহাসের সামনে
হাতে দিয়েছো স্টেনগান
আঙ্গুল ভর্তি ট্রিগার
এখন আমার আর ফেরার কোনো পথ নেই…"

নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের কালে সামরিক জান্তা এরশাদের পুলিশ বাহিন

আরও পড়ুন...

নেফার নেশায়

I

বেশ নেশায় পড়ে গেছি। কেবল পাখির কথা মনে হচ্ছে। চেম্বারে রোগী বলছে বুক ধুপধাপ করছে-আমার মাথায় ঘুরছে অ্যাশি প্রিনিয়া। রেড স্কেলড মুনিয়া। ইকো করতে করতে মনে পড়ছে ওরিয়েন্টাল হোয়াইট আই। যদি আর একটু সময় নিয়ে ছবি নিতাম। যদি আর একটু কেয়ারফুল থাকতাম! অত হন্তদন্ত ভাব কোনো পাখিই পছন্দ করে না।সার্কল অফ ফিয়ার বলে একটা ব্যাপার আছে না ! আহা, যদি সেন্টার ওয়েটেড মিটারিং রাখতাম! কেন যে ম্যাট্রিক্স মিটারিং ব্যাভার করতে গেলাম! আহা, যদি ৮০-৪০০ থাকতো ! আর একটু সময় পেলে পাইড কিংফিশারের ছবি হত। ওটা কী ঈগল-লং লেগড না কমন

আরও পড়ুন...

কাঙালনামা ৬

Suddha Satya

।। রেল যাবে,সভ্যতা যাবে বুকের উপর দিয়ে ।।

দখলদারের সভ্যতা মানে গতি।মানে তুঙ্গ শক্তিমত্ততা। ইঁটের মাপ, দাঁতের ডাক্তারি, ওজন এবং স্থাপত্যের আশ্চর্য্য জ্যামিতি ছাপিয়ে সে চলে যায়। তার সময় নেই। তাকে একজীবনে অনেক কিছু করতে হবে, পেতে হবে। কে পরে থাকছে, কে অক্ষম, কে দুর্বল, কে সঙ্গ ছেড়ে দিল সে সব নিয়ে তার মাথা ঘামাবার সময় কই? সে জানে শুধু তাকে পেতে হবে। দেবার কথা নিয়ে মাথা সে ঘামাতে রাজী না। পেতে গেলে যে সামান্য দিতে হয় তাতেও তার কুন্ঠা, তার হিসেব, তার কার্পণ্য। কাজেই উইলিয়াম ভাবছিল নেটিভের সাহ

আরও পড়ুন...

সেই দিনের পর প্রতিদিন

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনি কি ভারতবর্ষে নারীর দুর্গতির এক ও একমাত্র কারণ খুব সহজে জানতে চান? আপনি কি নারীবাদ ও নারী-আন্দোলনের যথাযথ দিশার সন্ধান চান? আপনি কি কেবলমাত্র, সময় ও আগ্রহের অভাবে এসব কঠিন জিনিস খুঁজতে ও পড়তে পারেননা, এবং তজ্জনিত হতাশায় সন্ধ্যাবেলায় হয় রয়্যাল স্ট্যাগ নয়তো টিভি সিরিয়াল দেখে কালাতিপাত করেন?

হতাশার আর প্রয়োজন নেই। আক্ষেপেরও কোনো কারণ নেই। কুঁড়ে মদ্যপ বা সরলমতি সিরিয়ালপ্রিয়দের জন্য এইসব দুরূহ বিষয়ে এতদিন কোনো সহজপাঠ না থাকলেও, এখন সে অভাব মিটেছে। আপনার হতাশা ও অভাববোধের ওষুধ হিসেবে বাজ

আরও পড়ুন...

একটা অ-সমাপ্ত গল্প

Kaushik Ghosh

৪।

কোন হাটে তুই বিকোতে চাস ওরে আমার গান,
কোনখানে তোর স্থান?
পণ্ডিতেরা থাকেন যেথায় বিদ্যেরত্ন পাড়ায়,
নস্য উড়ে আকাশ জুড়ে, কাহার সাধ্য দাঁড়ায়,
চলছে সেথায় সূক্ষ্ম তর্ক সদাই দিবারাত্র
পাত্রাধার কি তৈল কিম্বা তৈলাধার কি পাত্র,
পুঁথিপত্র মেলাই আছে মোহধ্বান্তনাশন-
তারি মধ্যে একটি প্রান্তে পেতে চাস কি আসন?
গান তা শুনিয়া গুঞ্জরিয়া কহে
নহে, নহে, নহে।।




ঘরের জানলা দিয়ে সকালের রোদ আসছে। মেঝেতে ফরাসের ওপর বসে গলা সাধছে বিশ্বনাথ। দেশ রাগ। সাধ

আরও পড়ুন...