Punyabrata Goon RSS feed

shramajibiswasthya@gmail.com
Punyabrata Goonএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম
    পর্ব ১: আমরাভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে ...
  • ঔদ্ধত্যের খতিয়ান
    সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো ...
  • ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...
    ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪
    আম তেলবিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯
    আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…। '.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র) https://www.youtube....
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

Punyabrata Goon

বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

যেসব কারণে মানুষ নিজের বাসভূমি থেকে উৎখাত হন, সেগুলো হল শিল্পোদ্যোগ, বাঁধ, রাস্তা, খনি, বিদ্যুৎ প্রকল্প, নতুন নতুন শহর, ইত্যাদি। উন্নয়নের নামে ১৯৫৫ থেকে ১৯৯০ সময়কালে আমাদের দেশে বিস্থাপিত হয়েছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ। ২০০৭-এর হিসেবে সে সময়ে মোট বিস্থাপিতের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১৩ লক্ষ অর্থাৎ ’৫৫-’৯০ এই ৩৫ বছরে যতজন বিস্থাপিত ছিলেন তার চেয়ে বেশী বিস্থাপিত ২০০৭-এ।

এই ২ কোটি ১৩ লক্ষ বিস্থাপিতের মধ্যে বাঁধের জন্য বিস্থাপিত ১ কোটি ৬৪ লক্ষ, খনির জন্য ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার, শিল্প কারখানার জন্য ১২ লক্ষ ৫০ হাজার আর অভয়ারণ্য ও জাতীয় পার্কের নামে ৬ লক্ষ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায় উন্নয়নের নামে বিস্থাপিতদের ৪০%-এর বেশী আদিবাসী মানুষ, যদিও ভারতের জনসংখ্যার মোটামুটি ৮.২% আদিবাসীরা।

নিজভূম থেকে উৎখাত হওয়া এই মানুষেরা যেন শরণার্থী, বাঁধ, জলাশয় বা রাজপথ যাঁদের বিস্থাপিত করেছে। এই অবস্থাটা কেবল তাঁদের জীবনে দুঃখজনক ও হঠাৎ করে বিপর্যয় ডেকে আনে তাই নয়, বিস্থাপন তাঁদের দরিদ্রতর করে, অর্থনৈতিক ভাবে ঝুঁকির মুখোমুখি করে, সামাজিক ভাবে ধ্বংস করে।

বিস্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরস্পর-জড়িত কতগুলো ঝুঁকি হল—ভূমিহীনতা, কর্মহীনতা, বাসস্থানের অভাব, প্রান্তিক হয়ে যাওয়া, খাদ্যের অভাব, রোগ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি, সামূহিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়া, সামাজিক অবক্ষয়, সামাজিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া, মানবাধিকার লংঘন।

বিস্থাপন বিস্থাপিতদের সামাজিক চাপ ও মানসিক আঘাতের শিকার করে। বিস্থাপিতরা যেখানে পুনর্বাসিত হন সেখানকার পরিবেশের কারণে তাঁরা রোগাক্রান্ত হন, বিশেষত ম্যালেরিয়ার মতো পরজীবীঘটিত ও পতঙ্গবাহিত রোগে। নিরাপদ পানীয় জল ও নিকাশী ব্যবস্থার অভাবে দীর্ঘস্থায়ী ডায়েরিয়া, আমাশার মহামারীর ঝুঁকি থেকে যায়। সমস্ত শরণার্থীদের মধ্যে আবার নবজাত, শিশু ও বৃদ্ধদের রোগাক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশী দেখা যায়।

স্বাস্থ্যের প্রসঙ্গে আসি—স্বাস্থ্য কেবল রোগ বা পঙ্গুত্ব না থাকা নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ভাবে ভালো থাকা।
আসুন দেখি কতটা সুস্থ আমাদের দেশের আদিবাসীরা। আমাদের কথা নয়, যোজনা কমিশনের দশম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা (২০০২-২০০৭) থেকে—‘আদিবাসীদের মধ্যে, বিশেষত তাঁদের শিশু ও মহিলাদের মধ্যে অপুষ্টির প্রাবল্য দেখা যায়, যার ফলে তাঁরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, তাঁদের রোগপ্রতিরোধ-ক্ষমতা কমে যায়, অনেক সময় মস্তিষ্কেরও স্থায়ী ক্ষতি হয়। বেশীর ভাগ আদিবাসী মহিলা রক্তাল্পতায় ভোগার জন্য ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা কিছুদিন ছাড়া সন্তানের জন্ম দেন তাঁদের কর্মক্ষমতা প্রভাবিত হয় ও রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আদিবাসী মহিলাদের পুষ্টির অবস্থা তাঁদের জননস্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে ও তাঁদের বাচ্চাদের জন্মের সময়কার ওজন কম হয়—এর ফলে বাচ্চাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা, বৃদ্ধি ও বিকাশ প্রভাবিত হয়। দেখা যায় আদিবাসীদের খাদ্যতালিকা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ ও সি, রাইবোফ্ল্যাভিন ও প্রাণিজ প্রোটিন কম থাকে।’

আদিবাসী মা ও শিশুরা কেমন আছেন, বোঝা যাবে নীচের সারণি থেকে। সারণির তথ্যগুলো জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা ২ ও ৩ থেকে সংগৃহীত।
সূচক আদিবাসী আদিবাসী অ-আদিবাসী
NFHS-2 NFHS-3 NFHS-3
বিবাহের সময় গড় বয়স (বছরে) ১৫.৮ ১৬.৩ ১৮.১
বিবাহের আইনী বয়স সম্পর্কে সচেতনতা (%) ৭.৫ ২২
ঊর্বরতার হার ৩.০৬ ৩.১২ ২.৬৮
প্রথম সন্তান জন্মের সময় গড় বয়স (বছরে) ১৮.৮ ১৯.১ ২০.৬
যাঁরা গর্ভাবস্থায় কোন প্রসব-পূর্ব যত্ন পাননি, তাঁদের অনুপাত (%) ৪৩.১ ৩৭.৮ ২২.৮
ঘরে প্রসব (%) ৮১.৮ ৮২.৩ ৪৯
প্রতি ১০০০ জীবিত শিশুজন্মে মৃত্যুর হার ৮৪.২ ৬২.১ ৫৭
কত মাস কেবল বুকের দুধ খাওয়ানো হয়? ২.৯ ৩.১ ১.৯
সমস্ত প্রাথমিক টীকা নেওয়া আছে (%) ২৬ ৩১.৩ ৫৩.৮
কোনও টীকা নেওয়া নেই (%) ১১.৫ ৪.৩


আদিবাসীদের স্বাস্থ্য ও বিস্থাপনের সম্পর্ক বুঝতে আসুন আমরা ছত্তিশগড়ের দিকে চোখ ফেরাই। ২০০০ সালে মধ্যপ্রদেশ থেকে সৃষ্ট ছত্তিশগড়, সেই রাজ্য মধ্যভারতে যে রাজ্যে আদিবাসী জনসংখ্যার অনুপাত সবচেয়ে বেশী। জনসংখ্যার ৩১.৮% হলেন আদিবাসীরা, ১১.৬% মানুষ তপশিলী জাতির। ভারতের মোট ভূমির ২১% বনাঞ্চল, ছত্তিশগড়ের ৪৪% ভূমি বনে। আদিবাসীদের অধিকাংশের বাস বনাঞ্চলে অবস্থিত গ্রামগুলোতে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্য ছত্তিসগড়। আছে লৌহ আকর, বক্সাইট, চূনাপাথর। এ ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেখানে টিনের আকর পাওয়া যায়। সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে সোনা, হীরে ও কোরান্ডামের ভান্ডার। এই খনিজ সম্পদগুলোর অধিকাংশই রয়েছে বনাঞ্চলে। খনি খোলা মানে বন কাটা, বন-গ্রাম থেকে আদিবাসীদের উৎখাত করা।

ছত্তিশগড়ের সবচেয়ে বড় শিল্পোদ্যোগ ছিল ভিলাই ইস্পাত কারখানা। ৯০-এর দশকের থেকে শিল্পায়নের বন্যা এসেছে। সম্প্রতি সরকার ৬০টির-ও বেশী কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে উৎপন্ন হবে ৫০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যদিও রাজ্যে প্রয়োজন মাত্র ৫০০০ মেগাওয়াট। ৪০টির-ও বেশী নতুন ইস্পাত কারখানা খোলার কাজ চলছে, স্থাপিত হচ্ছে বড় বড় সিমেন্ট কারখানা। কারখানার জন্য, কারখানার কাঁচামাল জোগাতে আদিবাসীরা উৎখাত হচ্ছেন। নদ-নদীগুলোর জল আদিবাসীদের সেচের কাজে না লেগে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে কারখানাগুলোর।

আসুন আমরা দেখি—ছত্তিশগড়ের আদিবাসীরা কেমন আছেন। ছত্তিশগড়ের আদিবাসীদের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসূচকের তুলনা আমরা এখনও জোগাড় করতে পারিনি, জোগাড় করতে পারিনি ছত্তিশগড়ের আদিবাসীদের সঙ্গে সে রাজ্যের অ-আদিবাসীদের তুলনা। কিন্তু ছত্তিশগড়ের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আদিবাসী ও সারা ভারতের মাত্র সাড়ে বারো ভাগের এক ভাগ আদিবাসী হওয়ায় আশাকরি সংগৃহীত তথ্যে আদিবাসী ও অ-আদিবাসীদের ফারাক বোঝাতে পারব।
প্রধান স্বাস্থ্য-সূচকগুলো
স্বাস্থ্য-সূচক ছত্তিশগড় ভারত
জন্ম হার ২৫.২ ২৫.০
মৃত্যুর হার ৮.৫ ৮.১
নবজাতকের মৃত্যু হার ৭০ ৬৩
জন্মের সময় আনুমানিক আয়ু (১৯৯১) ৬১.৪ ৫৭.৩
মায়েদের মৃত্যুর অনুপাত ৪৯৮ ৪০৬

সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো ছত্তিশগড়ের মানুষ কেমন পান দেখি।
গ্রাম ও শহরের ফারাক দেখতে পাব। আদিবাসীদের অধিকাংশ গ্রামে থাকেন।
বুনিয়াদী সুবিধা সব মিলিয়ে গ্রামে শহরে
বিদ্যুৎ পান ৩১.৮% ২৫.৪% ৬১.২%
নিরাপদ পানীয় জল পান ৫১.২% ৪৫.১% ৭৯.৬%
শৌচাগার ১০.৩% ৩.৩% ৪২.৪%
তিনটে সুবিধাই পান ৭.৬% ১.৫% ৩৫.৬%
কোনটাই পান না ৩৬.১% ৪১.৯% ৯.৬%

National Family Health Survey II, 1998-’99 & District level Household Survey, RCH, 2002-’03 থেকে পাওয়া তথ্যগুলো দেখুন—

ছত্তিশগড় ভারত
যেসব গর্ভবতী মহিলা গর্ভাবস্থায় যত্ন (Ante-Natal Care) পেয়েছেন তাঁদের শতকরা হার ৪১.৭ ৭৩.৪
কত শতাংশ প্রসব হাসপাতালে হয়েছে ২০.২ ৪০.৫
কত শতাংশ শিশু সব টীকা পেয়েছে ২১.৮ ৪২.০
এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার ৮০.৯ ৬৭.৬
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার ১২২.৭ ৯৪.৯

আমি যে পরিসংখ্যান তুলে ধরলাম তা ছত্তিশগড়ের, স্বাভাবিক সময়ের, অপারেশন গ্রীন হান্টের আগেকার। আজ আদিবাসীরা বিস্থাপনের ফলে কেমন আছেন জানতে আমাদের সালওয়া জুডুম-এর শরণার্থী শিবিরগুলোতে আদিবাসীদের অবস্থা জানতে হবে, যা জানা অসম্ভব।

এই প্রতিবেদন থেকে বলতে চাই আদিবাসীরা ভালো নেই। তাঁরা ভালো নেই কেন না তাঁরা তাঁদের জল-জঙ্গল-জমি থেকে বিস্থাপিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আদিবাসী এলাকায় মোবাইল ক্লিনিক পাঠিয়ে নয়, তাঁদের সুস্থ রাখতে পারে কেবল জল-জঙ্গল-জমির ওপর তাঁদের অধিকার।

এই উপস্থাপনা উৎসর্গ করছি সাথী ডা বিনায়ক সেনকে আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির লড়াই-এর পাশে যিনি আজীবন আছেন আর থাকতে গিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা অভিযোগে যিনি দন্ডিত, আদিবাসী শিক্ষিকা সোনি সোরিকে নিজেদের জল-জঙ্গল-জমির লড়াই লড়তে গিয়ে যিনি পুলিশী নির্যাতনের শিকার, এবং নিয়মগিরি আদিবাসীদের যাঁরা লড়াই করে আজও জল-জঙ্গল-জমির ওপর নিজেদের অধিকার বজায় রেখেছেন।

(USAID ও ভারত সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের অর্থানুকূল্যে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ কলকাতার সায়েন্স সিটির প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হল আদিবাসী স্বাস্থ্য নিয়ে এক সেমিনার। এলাহি আয়োজন, প্লেন ভাড়া দিয়ে বক্তাদের নিয়ে আসা, খাওয়া-দাওয়া, তারকাখচিত হোটেলে বক্তাদের থাকার আয়োজন। আদিবাসীরাও ছিলেন, সংগঠক NGO-র কাজের এলাকা থেকে তাঁদের আনা হয়েছিল আদিবাসী সংস্কৃতি পরিবেশন করতে, নীরব শ্রোতার ভূমিকা পালন করাতে, কতটা তাঁরা বুঝছিলেন জানি না কেন না অধিকাংশ বক্তা বলেছেন ইংরেজীতে, ডোনার এজেন্সি-র সাহেব প্রতিনিধি ছিলেন কিনা। আমার উপস্থাপনা যে সেশনে ছিল, তার বিষয়—আদিবাসীদের স্বাস্থ্যঃ অধিকার ও বাস্তব। পাঁচজন বক্তা, আমি এবং শহীদ হাসপাতালের ডা শৈবাল জানা বাদে কেউ অধিকারের ধারে-কাছেও যান নি, নিজ নিজ সংগঠনের ঢাক পেটানোই ছিল তাঁদের বলার উদ্দেশ্য।)




254 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: I

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

লেখায় প্রসাদগুণের অভাব। ফলে প্যামফ্লেটের মত লাগে।
Avatar: somenath

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

তথ্য সমৃদ্ধ লেখা । তবে তুলনা গুলো table আকারে দিলে দেখতে এবং বুঝতে ভালো হত ।
Avatar: kisholoy

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

দারুণ লাগলো লেখাটা। ডেটা সমেত এইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোকে তুলে ধরার খুবই প্রয়োজন। যারা বাস্তবে কাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাদের কাজে লাগবে। কপি পেস্ট করে রাখলাম ফর ফিউচার ইউস।
Avatar: sekhar

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। তবে ছত্রিশগড়ের আদিবাসীদের নিজ বাসভূমে থাকাকালীন স্বাস্হ্য-সূচকের সাথে বিস্হাপনের পর স্বাস্হ্য-সূচকের তুলনামূলক পরিসংখান পেলে তাদর স্বাস্হ্যর উপর বিস্হাপনের প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত।

Avatar: পুণ্যব্রত গুণ

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

লেখাতে আমার প্রসাদগুণ থাকে না ছোটবেলা থেকেই, কি করব বলুন।
মূল লেখায় টেবিল ছিল, পেস্ট করতে গিয়ে উড়ে গেছে।
আমি জানি বিস্থাপনের আগে ও পরে আদিবাসীদের স্বাস্থ্যের পরিসংখ্যান দিতে পারলে ভাল হত।পাইনি। জোগাড় করতে পারলে পরে আবার লিখব।
Avatar: h

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

ডঃ গুণ, প্রসাদের বিশেষ দরকার নাই। আপনার কাজের জন্য আপনাকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি এবং তাতে প্যাম্ফ্লেট এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করি।

জানার জন্য যে প্রশ্ন গুলো ছিল

ক - ২০০২-২০০৩ এর পরে কি স্বাস্থ্য সার্ভে হয় নি?
খ - ডিসপ্লেসমেন্ট যেখানে হয় নি, সেখানে(স্থান অর্থে) স্বাস্থ্যের আদিবাসীদের অবস্থা খুব ভালো হওয়ার কথা নয়, সেটা কে অ্যাড্রেস করতে কি অ্যাডভাইজ করেন সরকার কে বা সমাজকে।
গ - অনাদিবাসী ডিস্প্লেসড লোকেদের উপরে কি একই প্রভাব হয় নি? ধরুন শহরের নতুন বস্তি গুলো তে তো আর শুধু আদিবাসী আসছেন না? সে ব্যাপারে আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা যদি বলেন।


Avatar: পুণ্যব্রত গুণ

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

ক) উপস্থাপনার জন্য গত একমাস নেট ঘাঁটাঘাঁটি করে যতটা সাম্প্রতিক তথ্য পেয়েছিলাম তাই দিয়েছি।
খ) যেখানে বিস্থাপন হয়েছে বা হয়নি, কোনখানেই অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভাল না। সরকার সবার স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবে এটাই দাবী হওয়া উচিত।
গ) বিস্থাপনের প্রভাব আদিবাসী-অনাদিবাসী সবার ওপরই একই রকম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ভারতের বিস্থাপিতদের মধ্যে ৪০%আদিবাসী, যেখানে মোট জনসংখ্যায় তাঁদের অনুপাত ৮.২%।
Avatar: aranya

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

'ভারতের বিস্থাপিতদের মধ্যে ৪০%আদিবাসী, যেখানে মোট জনসংখ্যায় তাঁদের অনুপাত ৮.২%' - এইটা খুবই জরুরী কথা
Avatar: h

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

ডঃ গুণ, এর ই মধ্যে উত্তর দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
প্রশ্নানুযায়ী -
ক - এর উত্তর তাহলে খুঁজে দেখবো।
খ - আপনার দাবী যথার্থ্য এবং সমর্থনযোগ্য, সরকারের নীতি দিগভ্রান্ত সে নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নাই।
গ - সম্মত হলাম। তবে শহরে রোজগারের সন্ধানে যারা চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের কে ডিসপ্লেসমেন্ট এর হিসেবে ধরা হয় না সম্ভবত। ঠিক আছে আমি খুঁজে নেবো।

আবার ধন্যবাদ।
Avatar: π

Re: বিস্থাপন ও আদিবাসীদের স্বাস্থ্য

এই 'প্যাম্ফ্লেট' এর দৌলতে অনেক কিছু জানা হল। NFHS2 এর ডেটাতে তো ভয়ানক বৈষম্য। NFHS3 র ডেটা নিয়েও তুলনা দেখতে আগ্রহী।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন