ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কম্প্যানি কোম্পানি কনফারেন্স
    নব্বই এর দশকে “শাসো কি জরুরত হ্যা জ্যায়সে...” এবং “ইয়ে কালে কালে আঁখে...” এই দুই যুগান্তকারী ঢেঊয়ের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে আমাদের সাথে পরিচয় হয় ‘ক্যালোরি’ নামক জিনিসটির। তবে সেই ক্ষণে ক্যালোরির অর্থ আমাদের কাছে নিতান্তই আক্ষরিক ছিল – শক্তির একক হিসাবে। আরো ...
  • দ্বন্দ্বসমাস ও কবির মুকুট
    শুদ্ধ সঙ্গীতের ভাষা মানে শুধু সুরের ভাষা। যেসব প্রাকৃতিক শব্দ থেকে মানুষের মনে সুরের ধারণা তৈরি হয়েছিলো, যেমন বিভিন্ন পশুপাখির ডাক, তা একান্ত ভাবে সুরের পর্দানির্ভর অনুভূতি। সৃষ্টি হবার পর বহুদিন পর্যন্ত সুর'কে কথার ভার বহন করতে হয়নি। আদিম সুরের ধারাটিকে ...
  • বাৎসরিক লটারী
    মূল গল্প – শার্লি জ্যাকসনভাবানুবাদ- ঋতম ঘোষাল "Absurdity is what I like most in life, and there's humor in struggling in ignorance. If you saw a man repeatedly running into a wall until he was a bloody pulp, after a while it would make you laugh because ...
  • যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব ভুলে গেছি)
    নিজের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে আমার কোনোকালেই সংশয় ছিলনা। বাথরুম থেকে ক্যান্টিন, সর্বত্রই আমার রাসভনন্দিত কন্ঠের অবাধ বিচরণ ছিল।প্রখর আত্মবিশ্বাসে মৌলিক সুরে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতুম।তবে যেদিন ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে বেনারস থেকে আগত আমার সহপাঠীটি আমার গানের ...
  • রেজারেকশান
    রেজারেকশানসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পব্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে বাসু এতক্ষণ একা একা বসে অনেককিছুই ভাবছিল। আজ লেনিনের জন্মদিন। একটা সময় ছিল ওঁর নাম শুনলেও উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দিত। আজ অবশ্য চারদিকে শোনা যায় কত লক্ষ মানুষের নাকি নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-১মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাধারণ মানুষ বাস ধরার জন্যে ছোটে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে ফাস্ট বোলার নিমেষে ছুটে আসে সামনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের পেছনের তিনটে উইকেটকে ফেলে দিতে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাইকেল চালানো মেয়েটার হাতে প্রথম ...
  • আমিঃ গুরমেহর কৌর
    দিল্লি ইউনিভার্সিটির শান্তিকামী ছাত্রী গুরমেহর কৌরের ওপর কুৎসিত অনলাইন আক্রমণ চালিয়েছিল বিজেপি এবং এবিভিপির পয়সা দিয়ে পোষা ট্রোলের দল। উপর্যুপরি আঘাতের অভিঘাত সইতে না পেরে গুরমেহর চলে গিয়েছিল সবার চোখের আড়ালে, কিছুদিনের জন্য। আস্তে আস্তে সে স্বাভাবিক ...
  • মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হেফাজতে ইসলামের একের পর এক মৌলবাদি দাবীর সামনে ক্রমাগত আত্মসমর্পণ করছেন। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক শুধু তীব্রই হচ্ছে না, তা সংখ্যাগুরু আধিপত্যর দিকে এক বিপজ্জনক বাঁক নিচ্ছে। ভারতে মোদি সরকারের রাষ্ট্র সমর্থিত ...
  • নববর্ষ কথা
    খ্রিস্টীয় ৬২২ সালে হজরত মহম্মদ মক্কা থেকে ইয়াথ্রিব বা মদিনায় যান। সেই বছর থেকে শুরু হয় ইসলামিক বর্ষপঞ্জী ‘হিজরি’। হিজরি সন ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। হিজরি ৯৬৩-র মহরম মাসকে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস ধরে শুরু হয় ‘ তারিখ ই ইলাহি’, যে ...
  • পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কেমন আছেন ?
    মুসলিমদের কাজকর্মের চালচিত্রপশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অবস্থা শীর্ষক যে খসড়া রিপোর্টটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে আমরা দেখেছি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে গরিষ্ঠ অংশটি, গোটা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দিন মজুর হিসেবে জীবিকা অর্জন করতে বাধ্য হন। ৪৭.০৪ শতাংশ মানুষ ...

ধুলোবেলা

Suman Manna


আমি চারপাশ থেকে জড়ো করি চুল দড়িদাড়া ভিটভিটে আলো জ্বলা সন্ধে লাল ঝুটি চাওয়া পাখিরূপ দীর্ঘসুত্রতা। নিজের কাছ থেকে নিভে যেতে চাই আমি অনেক দূর থেকে মেল ট্রেনখানি আসে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে, জানো?

এমনিতে ঘাসফড়িং দেখি আমি ওড়াউড়ি করে। কখনো কখনো অন্য পোকামাকড় দেখে ভাবি এরাও ঘাসফড়িং হতে পারত। আমি দেখি সরু সরু নীল সুতো কখনো আড়াআড়ি কখনো বা লম্বালম্বি ভাবে সরে সরে যায়। বাক্স বাক্স ঘরে বাক্স জমা হতে হতে মানুষজন মহানন্দে বাক্স রহস্যের সিনেমা দেখে ফেলে। আমি সিনেমাটা দেখি না তবে নিজের বাক্স নজরে রাখি। নিজের বলতে বাক্স ছাড়া কিছু নেই আমার। এমন কিছু আছে যা হয়ত জানিনা – বা যতটা জানি ততটা আমার নেই। সেদিন বলে দিলে বলে জানা রইল আমার সবুজ কালো চেককাটা জামাটা নাকি চমৎকার, তারপর থেকে ওটি আমার বলে মেনে নিই।

কলে জল আসে। আমি জল ভরি – প্রথমে খাবার জলের বালতি, তারপার রান্নার বালতি তারপরে চানের আর শেষ বালতিটি থাকে জামা কাপড় ধোয়াধুয়ির জন্য। এই চারটে বালতির লাইন পরে সকাল পাঁচটার আগেই। খাবার জল ভরার সময়ে রাস্তার কলতলায় কেউ সাবান ঘষলে বড় আস্বস্তি হয় আমার। ফেনাটেনা জলে পড়ে যেতে পারে। জানি কেউ আমার কথা শোনে না। শুনলেও আমি সকালে ঠিক কথা বলতে চাইনা। মনে হয় খাবার জলের বালতি ভরা হচ্ছে দেখে কেউ যদি সাবান মাখা থামিয়ে দেয় তার ওপর আমি কৃতজ্ঞ থাকব।

আমি রাস্তায় চান করতেও পারিনা। এজমালি বাড়ির কলে জল আসেনা আজকাল। তবু এক খাঁ খাঁ করা চৌবাচ্চায় অশিতিপর বুড়ির মতো একটা তুবড়ে ছোটো হয়ে যাওয়া বালতি থাকে। ওই বালতিটি আবার ফুটোও। আমি জানি। শ্যাওলা পড়া মেঝেতে কিছু যায় আসে না। দেয়ালের একটা পেরেক আর দড়ি দিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থাওয়ালা দরজা আমার যথেষ্ট মনে হয়। সাবান কেস সহ সাবান আর মগ আমার নিজস্ব। চানের পর সবকিছু গিয়ে রাখা থাকবে সিঁড়ির তলার ঘরখানিতে।

নেহাৎ বাজারে না গেলে জিনিসপত্রগুলো নিজে থেকে চলে আসেনা তাই নিয়ে আসি। বেলা করেই যাই – দেখে শুনে নিতে পারলে বেশ সস্তায় হয়ে যায়। এই মাসে আলু বারো টাকা কেজির দর আমি আরামসে সাড়ে আটটাকায় পেয়ে যাই।

তবু ভ্রম হয়। বুকের ওপর চাপ চাপ মাটি ফেলে রাতারাতি বুজিয়ে দেয় পুকুরটা। সাধু সজ্জন চলে এসে টেসে হেসে গেয়ে মাত করে দিল বলে। কাল থেকেই লাল শালুটালু দিয়ে মুড়ে দেবে জায়গাটা। ঠিক কোথায় যে চুলকানিটা ছিল আসলে সেটা ধরা পড়লো না সেটাই দুঃখের।

পাখিদের ছাতা মাথায় উড়তে দেখেছি কি? ছাতার পাখিও ওসব নেয়টেয় না, যদ্দুর জানি। তবে পোষাক পড়া পোষা সাপ ভল্লুক মীরজাফর দেখে থাকি। তাদের আমি এককথায় চায়ের পাশে বিস্কুট দিই। যেসব ঝুলবারান্দায় ঠাস করে খবরের কাগজ পড়ে সকাল সকাল, যেসব কাগজওয়ালারা ফাঁকা রাস্তায় সাইকেল চালাতে চালাতেই রবার ব্যান্ডের আংটি পরিয়ে দেয় আর ছুঁড়ে দেয় আর পরক্ষণেই একটু টলে যাওয়া সাইকেল সোজা করে হুশ করে বেড়িয়ে গেছে – তার সেই রংচটা হলদে গেঞ্জিটা মনে থাকে, তার মুখ কখনো দেখিনি।

যার মুখ দেখে দেখে বেলা যায় তার আবার আর কিছু মনে নেই। কী বা সে রান্না চাপাল আজ - কেমন আছে – কোথায় আছে – তার সেই ফুল্গাছগুলো কি বাঁচল একটাও – যা ভুলো মন ছিল – কিন্তু শখ ছিল যে কত – কী ছটফটেই না ছিল তখন। তুবড়ি একটা।

...............



Avatar: siki

Re: ধুলোবেলা

আরিসসাবাস!

তারপর?
Avatar: kumu

Re: ধুলোবেলা

কী সুন্দর!
Avatar: শুদ্ধ

Re: ধুলোবেলা

বাহ!
Avatar: শিবাংশু

Re: ধুলোবেলা

যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে ... বাহ,
Avatar: pharida

Re: ধুলোবেলা

থ্যাঙ্কুস.............. দিল খুশ :)
Avatar: san

Re: ধুলোবেলা

রক্তমাংসই বটে।
Avatar: পটলা

Re: ধুলোবেলা

তাপ্পর?
Avatar: dd

Re: ধুলোবেলা

"যার মুখ দেখে দেখে বেলা যায় তার আবার আর কিছু মনে নেই। কী বা সে রান্না চাপাল আজ - কেমন আছে – কোথায় আছে – তার সেই ফুল্গাছগুলো কি বাঁচল একটাও – যা ভুলো মন ছিল – কিন্তু শখ ছিল যে কত – কী ছটফটেই না ছিল তখন। তুবড়ি একটা।"। ..... একটা দাগ রাখার মতন শেষ ক লাইন।
Avatar: nina

Re: ধুলোবেলা

উফ!! বড্ড সুন্দর----
Avatar: kk

Re: ধুলোবেলা

বড় ভালো হয়েছে। ফরিদা এত কম লেখে কেন?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন