বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

Muhammad Sadequzzaman Sharif

মাজার সংস্কৃতি

মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় না। মাজার ভেদে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় মাজার সম্ভবত সিলেটের শাহজালালের মাজার। ওই মাজারের ব্যবসা দেখেই কিনা কে জানে, সিলেটে অলিতে গলিতে মাজার। চট্টগ্রামের অবস্থাও তেমনই। বায়জিদ বোস্তামির মাজার কে ঘিরে জমজমাট অবস্থা। আরেকটা ...
     ... পড়ুন Muhammad Sadequzzaman Sharifএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

bilkis mousumi

এখন সন্ধ্যা নামছে

মৌসুমী বিলকিস

মেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা দেওয়ার সময়। সূর্য এখন ডুবু ডুবু। কয়েকজন মেয়ে আদিগন্ত মাঠের দিকেও তাকিয়েছে। আখার মধ্যে কাঠের আগুন ফিকে হয়ে যায় যেমন, আকাশটাকে তেমনই মনে হয়েছে কারো কারো। আ! কেমন জ্বলছে কিন্তু তাপ উত্তাপ নেই। মেয়েরাও কেমন আগুন পেতেছে। এক চিলতে মাটির বারান্ ...
     ... পড়ুন bilkis mousumiএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শক্তি দত্তরায় করভৌমিক

ছবিমুড়া যাবেন?

অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। এখন ট্যুরিস্টস্পট, সরকারী থাকার ব্যবস্থা, যন্ত্র চালিত বোট। কিন্তু এসব আমার শোনা কথা। আমরা যখন গেছি ত্রিপুরার সিংহভাগ মানুষই নামও শোনেননি। আমাদের অভিযান কাহিনী শুনলে অবাক হবেন।

ত্রিপুরা অনতিউচ্চ পাহাড়, ঘনপিনদ্ধ জঙ্গল আর খরস্রোতা ছড়া মানে ...
     ... পড়ুন শক্তি দত্তরায় করভৌমিক এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

ফরিদা

বসন্তের রেশমপথ



https://s19.postimg.cc/5a9k95szz/MG_4147.jpg



-“আরে বরফ পড়ছে তো!”
-”বরফ? সে কী? বৃষ্টি তো!
-”আরে দেখ। সত্যি বরফ, জ্যাকেটে লেগে আছে”
- তাইতো!
আর তাই কিছুক্ষণ পরেই দুই-হাত পেতে ওই চোদ্দজনের নানান বয়সীরা শিশু হয়ে যায় বরফের কুচি হাতে ধরতে। আস্তে আস্তে বাড়ছিল সেই বরফকুচির প্রকোপ।

একটু আগেই ওরা নাথাং উপত্যকায় ঘুরছিল। মাঝখানের অনেকটা সমতল জায়গার প্রায় তিন দিক ঘেরা বরফ ঢাকা পাহাড়ে। একদিকের পাহাড় বরফ কিছুটা কম, তারই দেয়াল ঘেঁসে প্রায় গোটা পঞ্চাশ ঘরের ...
     ... পড়ুন ফরিদা এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Asish Das

ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য


ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। আইআইটি ক্যাম্পাসে এসে একবার শুধু চোখ বোলালেই আপনি দৃশ্যতই ব্যাপারটা অনুভব করতে পারবেন। মোটামুটি সব আইআইটি মিলিয়ে  প্রযুক্তিবিদ্যার বিভাগগুলিতে ছাত্রী সংখ্যা মোট আসনের ৮% মত। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আইআইটির সব মিলিয়ে ১০৫০০ আসনের মাত্র ৮ ...
     ... পড়ুন Asish Dasএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Abhijit Majumder

যে কথা ব্যাদে নাই

যে কথা ব্যাদে নাই

আমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন মাথা লাগাইয়া দিত। এই যেমন গণশার করসিল। যন্তু...জানোয়ার.... ওই মানে হাতের কাসে যা পাওয়া যায় আর কি। তারপর হইল কি, লোকজন ইস্যামত মাথা কাটতে আরম্ভ কইর্র্যা দিল। কারুর লাল মাথা কাটি সবুজ কইর্র্যা দিল, তো কাউরে মুকুলেই কাইট্যা করি দিল ক ...
     ... পড়ুন Abhijit Majumderএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

একলা বৈশাখের কবিতা

১ বৈশাখ ১৪২৫

পয়লা একলা - ঐ একই হলো, এমনিতেও পয়লা হলে সচরাচর একলা হয়। সে যাই হোক, সংক্রান্তি পেরিয়ে গেল, আজ কবিতার শুভ হালখাতা মহরৎ।

কবিতার ভৌগোলিক গন্ডী হয়না, কিন্তু সাহিত্যের ভূগোল কিছু থাকে তো। ক'দিন আগেই আলোচনা হচ্ছিল বাংলা সাহিত্যের কলকাতা-কেন্দ্রিকতা নিয়ে। সেই ভূগোলের সীমানা ভাঙার চেষ্টা করছি, আপাতত তার সামান্য ছোঁয়া এখানেও থাকবে। হুগলী কপোতাক্ষ আড়িয়াল খাঁ বুঢ়া লুঈ ছুঁয়ে সুদিন আসুক, নতুন বছরের কবিতা পড়ি আমরা।

এই পর্বে লিখছেন যশোধরা রায়চৌধুরী, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, মিঠুন ভৌমিক, সোমনাথ রায়, জারিফা জাহান, সায়ন কর ভৌমিক, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুমন মান্না।

প্রকাশিত হল নববর্ষ ১৪২৫ সংখ্যার প্রথম পর্বের কবিতাগুলি। খুব শিগ্গিরই বেরুবে আরো কবিতা, এই সংখ্যার পরের পর্বে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ছুঃ মন্তর ফুঃ

তন্বী হালদার

নতুন অফিসার জয়েন করার পর এই প্রথম আমার সঙ্গে তার চার চক্ষুর মিলন হল। মানে সাক্ষাৎ হল। তারপর থেকেই ভদ্রলোক আমার পেছনে কাঠি করা শুরু করলো। বিষয়টা ইউনিয়নের কানে তুললাম। কিন্তু সেখানে দেখলাম সবটাই ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’। আমি একজন বছর বিয়াল্লিশের গোলগাল ভদ্রমহিলা। বত্রিশ চৌত্রিশ সাইজের ব্লাউজ দেখলে দোকানেই বলে ফেলি বাবা একসময় এগুলো আমার গায়ে কি ঢিলা হত। মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করি ইস আবার যদি কখনও গায়ে হয়। আমি জানি বামফ্রন্টের ভারতবর্ষে সমাজতন্ত্র নিয়ে আসার মতো এ আমার ভ্রম স্বপ্ন। যাই হোক আমি জন্ম থেকেই প্রায় সকল সম্পর্কের মানুষের কাছ থেকে ল্যাং খেতে খেতে এখন আমি লেংরে লেংরে হাঁটি। সুতরাং অফিসার এহেন আচরণ করবে এটাই যেন স্বাভাবিক। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

স্টিফেন হকিঙের চিঠি

অমর মিত্র

শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মহাশয়,
আমার নাম নীলাভ। ডাক নাম নীল। আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে আপনার কাছে। হ্যাঁ, আগে বলে নিই, আমার বয়স চোদ্দো। ক্লাস এইট। আমার দাদার কুড়ি। ফিজিক্স পড়ে। দাদার জন্মদিনে দাদাকে একটি বই দিয়েছিল বাবা – এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম- সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। দাদার কাছ থেকে নিয়ে বইটা আমিও পড়েছি। সবটা ধরতে পারিনি , কিন্তু পড়তে খুব ভাল লেগেছে। বুঝিনি সবটা বলেই কিছু কিছু প্রশ্ন জেগেছে আপনার লেখা ওই বইটি নিয়ে, বলা যায় সময় নিয়ে। তা রাখছি।
১) বড় হতে কত সময় লাগে স্যার?
২) আমার কাছে সময় সবসময় কম মনে হয় কেন? কারোর কারোর কাছে যে সময় আর ফুরোয় না, যেমন অভিরূপ। তার কথা পরে বলছি। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শঙ্কু পাঁজার খোয়াবনামা

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

কিন্তু আজ আর শেষরক্ষা হল না। দানীবাবুর গলা থেকে সাঁই সাঁই আওয়াজ উঠছে। চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। গ্যাঁ গ্যাঁ করে কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না। পালঙ্কের একটা কাঠের ময়ূরের গলা শক্ত করে চেপে ধরলেন। শঙ্কু জল খাওয়াতে গেল, গলা দিয়ে নামল না। জলের গেলাস পাশের টেবিলে নামিয়ে রেখে শঙ্কু কর্তার মুখে ইনহেলারটা ধরল। প্রবল যন্ত্রণায় মাথা সরিয়ে নিলেন কর্তা। বোঝা গেল, নাকে লাগানোর ক্ষমতাটুকুও আর নেই।

শঙ্কু মোবাইল ফোন খুলল। দুর্বল সিগনাল দেখাচ্ছে। এই দুর্যোগ, তার মধ্যে আজকেই এমন বিপদে পড়তে হল?

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অথৈ

কেকে

“তোমাকে আমি ঠকাবো না।এটা জেনে রেখো” ।নাচো বলেছিলো।কথাটা বিশ্বাস করার অবশ্য কোন কারণ নেই।নাচো যেসব জিনিষ বিক্রি করে তার মধ্যে মিথ্যে কথাও একটা।না করলে ওর সংসার চলবেনা।শুধু একরকম জিনিষ বিক্রি করলে কারুরই সংসার চলেনা আজকালকার দিনে।নাচো মিথ্যে কথা বিক্রি করে, বেনামী বারুদ(অনেক আগে থেকে বলে কয়ে,অনেক দাম দিলে তবে পাবেন)বিক্রি করে,পুরোনো হাতফেরতা মণি-মানিক বিক্রি করে(পাতা ছেঁড়া হলুদ বই,রং ফিকে হয়ে যাওয়া ছবি,আর কি কি চান?)।নাচো পাতা বিক্রি করে।সরল ভালোমানুষ ন্যাকাচন্ডী পাতা নয়... যা পুড়িয়ে ধোঁয়া দিলে ভুত পালায় সেই পাতা।ভুতের উপদ্রব খুব আজকাল সর্বত্র।খারাপ স্বপ্নের ভুত, অস্বপ্নের ভুত, ভুতেরই বাড়বাড়ন্ত!
নাচো'র কাছ থেকে আমি পাতা কিনি।শুকনো রঙের, উনোবুনো গন্ধের পাতা।খারাপ স্বপ্নদের দূরে রাখতে লাগে।অস্বপ্নদেরও।
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

তৃতীয়া

দীপেন ভট্টাচার্য

বন্ধুত্বের একটা পর্যায় তুমি থেকে তুই-তে উত্তরিত হয়, আর কিছু বন্ধুত্ব তুমিতেই থেকে যায়, তাতে তার গাঢ়ত্ব কিছুমাত্রায় লঘু হয় না।

সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরের নানাবিধ বিপণনীর উজ্জ্বলতায় রকমারি জিনিস কিনছিলাম, কাঁধের ওপর একটা হাত পড়লে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি বাঙালি চেহারার লোক, আমার মতই বয়স হবে।

'অমল না? কী হল, চিনতে পারলে না, আমি হানিফ।'

স্মৃতি শক্তি আমার কোন সময়ই প্রখর ছিল না, আর আজ সময়ের অদৃশ্য আঘাতে সেই স্মৃতির আধার – আমার মস্তিষ্ক – আরো খণ্ডিত, আরও ভঙ্গুর। আমার চোখে কোন উজ্জ্বলতা না দেখে হানিফ বলল, 'আমি দুলাল, এবার চিনতে পারলে তো?' ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সহযাত্রী

মুরাদুল ইসলাম

এরপর আমার কেন জানি মনে হল তাকেও জিজ্ঞেস করা দরকার কোথায় যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
ভদ্রলোক বললেন, রশিদপুর। এখানে এই জগন্নাথপুরে আসছিলাম এক কাজে কিন্তু কাজটা হয় নাই। বাবা, আপনার বাড়ি কি এই জায়গায়?
জ্বি। আপনার বাড়ি?
আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
ভদ্রলোক নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলেন। কী করি, দেশের বাইরে যাচ্ছি কি না, ইত্যাদি। দেশের বাইরে যাবার প্রশ্নটা তিনি করলেন কারণ ভদ্রলোক জানেন জগন্নাথপুর একটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা।
তার প্রশ্নের কারণে আমাকেও প্রশ্ন করতে হল, আপনি এখানে এসেছিলেন কোথায়?
ভদ্রলোক বললেন, সে এক লম্বা কাহিনী। একটা গল্প বলি?
বললাম, বলেন। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

প্রজেক্ট, কুতুব মিনার ও নাকছাবি

জয়ন্তী অধিকারী

“পুরানা কেল্লায় তালাকি দরওয়াজা দেখেচ?" "না।" "হুমায়ুনের লাইব্রেরি,যেখানে উনি সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পট--সরি ,মারা যান?" "না"। "ইন্ডিয়া গেট?" "না।" (অস্পষ্ট কিড়মিড়কিড় আওয়াজ সহ )"ক্যানো ও ও? "কেননা,আমি কোনদিন দিল্লি যাই নি।" ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Simool Sen

আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা

শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ধর্ষণ, মতাদর্শগত ধর্ষণ, যার লক্ষ্য ছিল আসিফা যে যাযাবর মুসলিম সম্প্রদায়ের সন্তান, সেই বাকরওয়ালদের কাঠুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত করা। আধিপত্যকামী সংখ্যাগুরু যে ভাবে ধর্ষণকে ব্যবহার করে থাকে। সব সময়।

কারা করল এমন নৃশংস অত্যাচার? ঘটনাক্র ...
     ... পড়ুন Simool Senএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সিজনস অব বিট্রেয়াল – ষষ্ঠ পর্ব

দময়ন্তী

জামু ছেলেটা খায় খুব তৃপ্তি করে, যাই দেন সব চেটেপুটে খেয়ে নেয় শুধু মাছটা ছাড়া। মাছ দিলে কেমন যেন খিমচে খিমচে মাছ ছাড়ায় কাঁটা থেকে, খেয়াল করে দেখলে ওর অস্বাচ্ছন্দ্য নজরে পড়ে বৈকী। তা হিন্দী কথা যারা বলে, তারা অনেকেই মাছটাছ মোটে খায় না জানেন সরলা। কিন্তু এ ছেলে ঠিক নিরামিষাশি তো নয়। একদিন মাংস হয়েছিল, ইতস্তত করে জিগ্যেস করেছিলেন মাংস খাবে কিনা? শুনে মুখটা খুশিতে ঝলমলিয়ে উঠেছিল, খেয়েওছিল ভারী তৃপ্তি করে। মাংস খায় যখন নিশ্চিন্তেই মাছ দিয়েছিলেন সরলা। হয়ত ওদের কানপুরে মাছ পাওয়া যেত না, তাই খেতে শেখে নি ভাবেন আর চেষ্টা করেন ডাল তরকারি বেশি করে দিতে। মাছটা নাহয় আর দেবেন না ওকে, ভাবতে নিজের কাছেই মাথা হেঁট হয়ে যায় তবু না ভেবে পারেন না – ছেলেটা মাছ না খেলেও একটু সাশ্রয় হয় বৈকি। বাড়ির কথা কিছুই বলতে চায় না ছেলে, জিগ্যেস করলেই ওর চোখ মুখ কাঁদোকাঁদো হয়ে যায় আর খুব অস্থির হয়ে ওঠে, একদিন না খেয়েই দৌড়ে চলে গেছিল, তারপর থেকে খুব সাবধানে ওর সাথে গল্প করেন। ঝুনু টুনুকেও বলে দিয়েছেন বাড়ির কথা জিগ্যেস না করতে। তা বাদে কতশত গল্পও যে জানে ছেলে! দিল্লীতে থাকার সময় রোজ নাকি সকালে উঠে স্টেশানে চলে যেত, সেখানে গিয়ে ট্রেনে উঠে জায়গা রাখত। পাকিস্তান থেকে আসা ট্রেন ফিরতি যাবার জন্য ছাড়ত অনেক পরে – ততক্ষণ জামুরা দলবেঁধে উঠে জায়গা দখল করে বসে থাকত। পরে পাকিস্তানযাত্রী সব ‘রহিস আদমী’রা এলে তাদের কাছে পাঁচ টাকা করে নিয়ে সিট বিক্রি করে দিত।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

এক ট্রাঙ্ক গপ্পো

অভিজিৎ মজুমদার

কলকাতা টেলিফোন ভবন। ডালহৌসি স্কোয়ার, যাকে এখন বিবাদী বাগ বলা হয় সেইখানে লালদীঘির পাড়ে সুউচ্চ অট্টালিকা। তার সাত তলায় ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ। যে সময়ের কথা বলছি তখন কলকাতা থেকে দুবরাজপুর কথা বলতে হলেও ট্রাঙ্ক কল বুক করে অপেক্ষা করতে হত কখন টিলিফোনের ঘন্টি বাজবে। আবার কানেকশন লাগলেও শান্তি ছিল না, কেন না যান্ত্রিক গোলযোগে প্রায়ই লাইন কেটে যেত। সেইসব দূরবর্তী ফোন ও মনের কানেকশন জোড়ার কাজ যারা দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা করতেন তাঁদের পোষাকি নাম ছিল টেলিফোন অপারেটরস। কোনো এক অজ্ঞাতকারণবশত: তাঁরা সবাই ছিলেন মহিলা। যার মধ্যে আমার মা ছিলেন একজন। তাই সেইসব অপারেটররা সবাই ছিলেন আমার অমুক মাসি, তমুক মাসি। সংখ্যায় প্রায় তিনশো ছুঁই ছুঁই। অজস্র নাম আর তাঁদের জীবনের অজস্র গল্প। হাসি-কান্না-লড়াই। জয়ের গল্প। হারেরও। সেই সব গল্পই মায়ের মুখে শোনা। মায়ের তেত্তিরিশ বছরের চাকরি জীবনে, অর্থাৎ বিংশ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে টেলিফোন ভবনের ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জে কাজ করা মানুষীদের জীবনের সেই সব সিনেমাকে হার মানানো টুকরো-টাকরা সত্যি গল্প নিয়ে এই সিরিজঃ "এক ট্রাঙ্ক গল্প"। পাত্রপাত্রীদের নাম পরিবর্তিত।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

দলিত ও বিচারব্যবস্থা

প্রতিভা সরকার

যেটুকু বুঝেছি, বাবু ডঃ সুভাষ কাশিনাথ মহাজন ভার্সেস স্টেট অব মহারাষ্ট্র মামলাটি শুধু সুপ্রিম কোর্টের রুলিং নয়, নিজস্ব গতিপ্রকৃতির কারণেও খুব কৌতূহলদ্দীপক। দলিত চাকুরের কনফিডেনসিয়াল রিপোর্টে ভিত্তিহীন খারাপ কথা লেখার অপমান সহ্য করতে না পেরে দলিত মানুষটি যখন দলিত নিপীড়ন আইনের সাহায্যে মামলা দাখিল করতে চায় তখন তার বড় সাহেব সুভাষ মহাজন সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করে দিনের পর দিন। তখন মহাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অথচ তার কিন্তু আগাম জামিন পেতে কোন অসুবিধে হয়না। আগাম জামিনের প্রসঙ্গ মহাজনের আবেদনে ছিলই না, সে চেয়েছিল কেবল মামলা প্রত্যাহার। কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, শেষ অব্দি এই মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে আদালত আর্টিকেল ২১, যা কিনা ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলে, সেই ধারা বিচার করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে দুমদাম গ্রেপ্তারির আগে সবারই আগাম জামিনের অধিকার থাকা উচিৎ। সরকারের সরবরাহ করা তথ্য নাকি দেখিয়েছে দলিত ক্লেশ নিবারণী আইনেরও অনেক অপব্যবহার হয়। তাই সুপ্রিম কোর্টের মতে, প্রথমে দলিত অভিযোগের একটি প্রাথমিক তদন্ত জরুরী, তারপর এফ, আই,আর এবং চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে শেষে দরকার নিয়োগকর্তার অনুমতি। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুমতি আসবে পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট (SSP)কাছ থেকে। এরপর আদালতে মামলা উঠবে। ভারতীয় বিচারব্যবস্থা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনই জগদ্বিখ্যাত। এরপর সে খ্যাতি অন্য গ্রহেও পৌঁছবে এই আশঙ্কা কি সত্যিই অলৌকিক ?

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Muradul islam

হউল মাছের মজা

এইবার আমি যেই গল্পটি বলব আপনাকে তা কিন্তু আমার জীবনের না সরাসরি, তবে একেবারে আমার জীবনের না তাও বলা যায় না, বরং একরকম জীবনের সাথে সংযুক্ত বলা যায়; কিন্তু একেবারে নিজের গল্প যেমন, যেমন আমার ছেলেবেলার গল্প, আলোর ইস্কুলে যাবার গল্প, কিংবা কিংবা দূর দীঘির জলে ডুব নিয়ে পাতাল থেকে কীসব লতাগুল্ম ফল নিয়ে আসার গল্প, ঐসব যেমন আর কি একেবারে আমার নিজের জীবনের, এমন না কিন্তু গল্পটা, তাই অনুমতি প্রার্থনা করছি, গল্পটা কি বলব, মহাশয়?

হ্যা, কোন সমস্যা নেই। আপনি বলে যান।

আসলে হয়েছে কি, এটাও অনে ...
     ... পড়ুন Muradul islamএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Swarnendu Sil

আনন্দের বাজারে হাম্পটি ডাম্পটি

পথিকের প্রদর্শিত পথ সুজয়যুক্ত করতে আনন্দের বাজারে এখন হাম্পটি ডাম্পটি।

গতকাল ( ৬ই এপ্রিল, ২০১৮) যে দৈনিক দৈনিক না পড়লে আপনি পিছিয়ে পড়বেন তাঁরা আপনাকে এগিয়ে রাখতে জেনেভা থেকে নিয়ে এলেন হাম্পটি ডাম্পটি কে ( এখানে দেখুনঃঃ http://www.anandabazar.com/others/science/cern-discovers-humpty-dumpty-particle-at-lhcb-experiment-dgtl-1.782195?ref=hm-editorschoice )। লিংক খুললেই দেখবেন, প্রতিবেদনে সুজয় চক্রবর্তী লিখছেন: "ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাদের সাম্রাজ্যেও এ বার সেই ‘হাম্পটি ডাম্পটি কণা’র দেখা মিলল। ...
     ... পড়ুন Swarnendu Silএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Prosenjit Bose

কৃত্যা

কৃত্যা : তৃতীয় পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

[পাণ্ডবগণ অধোনেত্রে নীরব এবং ধৃতরাষ্ট্র অন্ধনেত্রে সরব -- এমন সময়ে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রাঞ্চল ধরে সজোরে টান দেন।]

প্রবল উল্লাসধ্বনির মাঝে প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। পৈশাচিক আমোদে সভা তখন মত্ত। আঁচল খসে যায়, কিন্তু দ্রৌপদীর স্কন্ধদেশ অনাবৃত হতে-হতেও যেন হয় না। কিন্তু সভার প্রত্যন্ত এক কোণ থেকে একটি মর্মান্তিক আর্তনাদ ওঠে, যা বিপুল হর্ষধ্বনির মাঝে কারুর শ্রুতিগোচর হয় না। মত্ত জনতা লক্ষই করে না, দুঃসহ নামক এক কৌরবভ্রাতা রক্তাক্ত দেহে সভাকক্ষে ...
     ... পড়ুন Prosenjit Boseএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অমিয়ভূষণঃ এক বিরল প্রজাতির লেখক

বিপুল দাস

অমিয়ভূষণ মজুমদারের জন্ম ১৯১৮ সালের ২২শে মার্চ। এ বছর তাঁর জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু এ কথাও আমাদের জানা এই বিরল প্রজাতির লেখকের জন্মশতবর্ষ সাহিত্যসংস্কৃতি জগতের প্রখর আলোর নীচে আসবে না। বিপণন কৌশলের অন্যতম শর্ত হয় সাধারণ্যে গ্রহণযোগ্যতা। প্রতিষ্ঠান তাই চায়। জনচিত্তজয়ী লেখমালা, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া ও অন্যান্য বিনোদনের জন্য প্রচারের পাদপ্রদীপের আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তাকে আরও মহিমা দান করে কৌশলী প্রতিষ্ঠান। ব্যতিক্রমী স্রষ্টার জন্য থাকে কিছু মননশীল পাঠক, ব্যতিক্রমী সৃষ্টির গৌরবকে তাঁরা অনুধাবন করতে পারে, সেই রচনাকে তাঁরা কুর্নিশ জানায়। এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে নগণ্য। কিন্তু কালোত্তীর্ণ মহৎ সৃষ্টির তাতে কিছু আসে যায় না। সেখানেই অমিয়ভূষণ সৃষ্টি আলাদা হয়ে গেছে চলাচলের নিরাপদ পথ থেকে। আর এক মজুমদার, কমলকুমারের মতই তাকেও বিদগ্ধ পাঠক এবং সমালোচক ‘লেখকদের লেখক’ হিসেবে গণ্য করেছেন। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা